সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মূর্শেদ (২৩-০৩-২০১৫ ২১:০১)

টপিকঃ পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে দেশের নাগরিকরা

আমি যখন পাসপোর্ট করেছিলাম তখন ৮০০ টাকা দিতে হয়েছিলো পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরকে। তিনি বাসায় এসে ভেরিফাই করে যাওয়ার পথে বলে উনাকে কিছু দিয়ে বিদায় দিতে। আমি বলছি কত দিতে হবে? উনাকে ৫০০ টাকা দেয়ার পরেও উনি ১০০০ টাকার নিচে কিছুতেই ভেরিফাই করবেন না। পরে অনেক অনুরোধে ৮০০ টাকায় রাজি হয়েছে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন মানে যে কি ভোগান্তি সেটা পাসপোর্টধারীরা বুঝে।
.........................

http://www.dainikazadi.org/details2.php … page_id=18

পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট

পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া দেশের নাগরিকরা এবার পাসপোর্ট পাবেন। পত্রিকায় এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংক্রান্ত বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে কয়েক মাস সময় লাগবে এমন বলা হয়েছে। এই কয়েক মাসে যদি কোন গন্ডগোল কেউ না পাকায় তা হলে আমরা ধরে নিতে পারি যে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া দেশের মানুষ পাসপোর্ট পাবেন।

জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হয়। তবে বৈঠকে উপস্থিত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা ভেরিফিকেশন বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি দেন। তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে তাদের আপত্তি জানিয়ে চিঠিও দেন বলে জানা গেছে। তারা বলেছেন এতে অসৎ লোকেরাও পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট তৈরির পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়।

পুলিশ বলেছেন ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট হলে অসৎ লোকেরা পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। এই অসৎ লোক কারা সেটা পরিষ্কার হয়ে যাওয়া দরকার। বস্তুত দেশের প্রতিটি মানুষ পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রাখে। তিনি অপরাধী কিনা কিংবা দুশ্চরিত্রবান কিনা কিংবা সামাজিকভাবে চিহ্নিত বড়ো কোন অসৎ কাজে জড়িত কিনা সেটা কিন্তু দ্বিতীয় বিবেচনা অর্থাৎ সেকেন্ডারী বিবেচনার বিষয়। লোকটি অপরাধী কিনা কিংবা দেশের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্রে জড়িত আছে তেমন প্রমাণ হাতে থাকলে তার পাসপোর্ট আটক করা যেতে পারে। বিদেশে পালাবার সুযোগ বন্ধ করে দেয়ার যেমনটি প্রতিটি সরকার করে আসছেন বিরোধী দলীয় নেতাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু পাসপোর্ট তাকে দিতেই হবে যদি তিনি পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। আমরা জানি না পৃথিবীর কোন কোন দেশে পাসপোর্ট পাবার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন দরকার হয়। পুলিশের কর্মকর্তারা ভেরিফিকেশনের পক্ষে বলেছেন। ভেরিফিকেশন তুলে নিলে দুষ্টু লোকেরা পাসপোর্ট পেয়ে যাবে। তাহলে আমরা বিনীতভাবে প্রশ্ন রাখতে পারি এই যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা যারা এদেশের বাসিন্দা নয়; যারা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পালিয়ে এসেছেন তারা কেমন করে বাংলাদেশের নাগরিক হলো এবং পাসপোর্ট পেল। এই পাসপোর্ট নিয়ে তারা হাজারে হাজারে মধ্যপ্রাচ্যসহ আরো নানা দেশে চলে গেছে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ে। এটা কার গাফিলতি এক্ষেত্রে কী পুলিশ ভেরিফিকেশন যথাযথভাবে করা হয়েছিল নাকি প্রশাসনকে তারা কোন না কোনভাবে বশ করেছিল। আমরা জানি না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তার কাছে এই নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন কিনা। এটা হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক কোন দুর্বলতার যোগ থাকতে পারে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা যদি বাংলাদেশী পাসপোর্ট পেতে পারে নানা ছলচাতুরীর কৌশলে এবং প্রশাসনিক প্রশ্রয়ে তাহলে এদেশের মানুষের অপরাধটি কোথায়।

যে কোন দেশের মানুষ তিনি কি সৎ না অসৎ জাতীয় পরিচয় পত্র পাবার ক্ষেত্রে এটা কোন ইস্যু হতে পারে না। অথচ দেশের সকল মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন সৎ/অসৎ নির্বিশেষে এই পরিচয়পত্র নিয়ে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রটি ব্যবহার করেন। এই জায়গায় যদি সৎ অসৎ বাছাই-এর বিষয়টি তোলা না হয় তাহলে কেন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সৎ/অসৎ এর বিষয়টি পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা তুললেন সেটা সরকারকে বুঝতে হবে ভেতরের রহস্যটি কী।

পাসপোর্ট কিন্তু কোন ব্যক্তির চারিত্রিক সনদপত্র নয়। বরং এটা জাতীয় পরিচয়পত্রেরই একটা অংশ। তাহলে কেন পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে দেশের মানুষকে হয়রানি করা। পুলিশ ভেরিফিকেশন মানে পুলিশের যাচাইকরণ। পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত পরিচিত। পাসপোর্ট যারা করেছেন তারা জানেন পুলিশ ভেরিফিকেশন কী জিনিস। ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হয় পাসপোর্ট প্রার্থীদের। পাসপোর্ট তৈরির অন্যান্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আটকে থাকে পুরো প্রক্রিয়া বা কার্যক্রম। এটা এক প্রকার নির্যাতন। কেন একটা স্বাধীন দেশে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য কোন নাগরিককে এমন নির্যাতনের শিকার হতে হবে।

যদি একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার অধিকার থাকে, যদি তাদের ভোটাধিকার থাকে তবে তার বিনা শর্তে পাসপোর্ট পাওয়ারও অধিকার রয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ২০১২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেরিফিকেশনের নামে পুলিশী হয়রানি বিশেষ করে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র দেশে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট দেয়ার প্রস্তাব করেছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি তখন এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলো পুলিশ একটি সরকারি এজেন্সি। এ রকম আরো অনেক সরকারি এজেন্সী রয়েছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সব দেশকে ভালোমতে পরিচালনা করার জন্য সরকারি প্রয়োজনে এই এজেন্সিগুলো নানা অভিজ্ঞতার মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই এজেন্সিগুলো রাষ্ট্র, সরকারের সেবক যেমন তেমনি যে জনগণ সরকার নির্বাচিত করে তাদেরও সেবক। এই এজেন্সিগুলোর কাজ হলো জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দেয়া, জনগণকে হয়রানি করার অধিকার তাদের নেই। তবে কেন তারা এই সুযোগ পায়। সরকারের কোন প্রশ্রয় পায় বলে তাদের জনস্বার্থ বিরোধী এই ক্ষমতা প্রদর্শন। এই এজেন্সিগুলোকে জনগণ সেবক হিসাবে দেখতে চায়। এদের খবরদারি যতই কমবে ততই দেশে পারস্পরিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে। দায়িত্বটা কিন্তু সরকারের। এজেন্সিগুলোকে জনসেবার দিকে ধাবিত করার নৈতিক তাগিদ দেখাতে হবে সরকারকে।

Re: পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে দেশের নাগরিকরা

আমি গত নভেম্বরে পাসপোর্ট করেছি। কোন পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়নি। এ্যাপ্লাই করার ৩ সপ্তাহ পরে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি। ব্যংকে ৩০০০ টাকা ফি দেওয়া বাদে এক পয়সাও এক্সট্রা খরচ করতে হয়নি আমার।

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে দেশের নাগরিকরা

ভাল খবর মানুষ তাহলে ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে।

সত্য কাজে কেউ নয় রাজি  সবি দেখি তানানা

Re: পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে দেশের নাগরিকরা

বোরহান লিখেছেন:

আমি গত নভেম্বরে পাসপোর্ট করেছি। কোন পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়নি। এ্যাপ্লাই করার ৩ সপ্তাহ পরে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি।


গ্রেট!!! এইটা কি অলরেডী সবজায়গাতে এপ্লিকেবল হয়ে গেছে ?

Re: পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে দেশের নাগরিকরা

মেহেদী৮৩ লিখেছেন:

গ্রেট!!! এইটা কি অলরেডী সবজায়গাতে এপ্লিকেবল হয়ে গেছে ?

খুব সম্ভবত হয়ে গেছে। কারণ গতমাসে আমার এক বন্ধু পাসপোর্ট করেছে ভেরিফিকেশন ছাড়াই।

ইমরান তুষার'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে দেশের নাগরিকরা

আমি গতমাসে পাসপোর্ট পেয়েছি, পুলিশ ভেরিফিকেশনে ১৫০০ টাকা গচ্চা গেছে!

Re: পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট পাবে দেশের নাগরিকরা

নিয়াজ মূর্শেদ লিখেছেন:

জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হয়। তবে বৈঠকে উপস্থিত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা ভেরিফিকেশন বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি দেন। তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে তাদের আপত্তি জানিয়ে চিঠিও দেন বলে জানা গেছে। তারা বলেছেন এতে অসৎ লোকেরাও পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট তৈরির পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়।

পুলিশ প্রশাসন তো রাজি হবেই না।এতে উনাদের আয় রোজগারের একটা সোর্স কমে গেল যে smile

অন্যের কাছ থেকে যে ব্যবহার প্রত্যশা করেন আগে নিজে সে আচরন করুন।

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত