২১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১৯-০৩-২০১৫ ০৭:৪৫)

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

সম্পুর্ন অফটপিক:

আমি ইন্টারনেট মিডিয়ার যে কমিউনিকেশনের শক্তি সেটা থেকে কেন নিজেকে বঞ্চিত করবো। আমার মতামত, বিশ্বাস পরিচিত সার্কেলে শেয়ার করার জন্য কেন প্রস্তর যুগে যাব? মিডিয়ার এবং সফটওয়্যারের সার্ভিস আমি যদি পয়সা দিয়ে ক্রয় করি, তাহলে কেন সেটা আমার প্রাইভেসী রক্ষা করবে না? বিনামূল্যে গছিয়ে দিয়েই বা কেন অনৈতীক সুযোগ নেবে (সেই রূপসী রাক্ষসীর মত -- যে কিনা মিথ্যা রূপে ভুলিয়ে রাজার বউ হলেও আসল উদ্দেশ্য ছিল হাতিশাল, ঘোড়াশাল সাবাড় করা)।

আমার পরিচিত সার্কেলে আমি একটা বিষয় শেয়ার করতে চাই। সেটাতে আরেকজনের সফটওয়্যার কেন বিনা অনুমতিতে নাক গলাবে? স্বীকার করছি, প্রাইভেসী সেটিং দিলে সেটা সেই গ্রুপ অব পিপলই দেখে --- অন্তত আপাতদৃষ্টিতে তা-ই মনে হয়। কিন্তু তলে তলে সেই তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে।

বলা হতে পারে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় এটার দরকার আছে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ মনিটরে এটা দরকার। কিন্তু করতেছে তো কিছু সফটওয়্যার কোম্পানি। নিরাপত্তা সংস্থা যেমন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে সেখান থেকে, অন্য কেউও করতে পারে -- আর সেটাই বড় হুমকী।

দ্বিতীয়ত, ব্যাপারটা আরেকটু বড় সার্কেলে চিন্তা করি যদি: গুপ্তচরবৃত্তি আদিতম দুইটি পেশার একটি। এটার সুযোগ সন্ত্রাসীরা গ্রহণ করে (সেটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী হতে পারে), কিংবা প্রতিপক্ষ থেকে নিজেকে রক্ষার প্রস্তুতিতেও ব্যবহার হতে পারে। গুপ্তচরগণ নিজ দেশে হিরো, আর অন্য/বিপক্ষ দেশে জঘন্যতম অপরাধী। আপনি কোন পক্ষে - সেটার উপর নির্ভর করছে এটা ভাল না খারাপ ;-) ।

আমার কাছে যেটা নিতান্তই নিরপরাধ ও নিষ্কলুস, নিরাপদ তথ্য -- অন্যে জানলে ক্ষতি নাই -- সেটাই কিন্তু ম্যানিপুলেট করে আমাকে চাপে ফেলা হতে পারে। ব্যবসায়ীরা সেটার সুযোগ নিয়ে পুশ মার্কেটিং করবে -- আমি যেটা বুঝি: পুশ মার্কেটিং হল ফুসলিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিষ ক্রয় করানো। আমার ইমোশনাল/পছন্দের দূর্বলতাকে কাজে লাগানো। অনেক ক্ষেত্রেই সেটা সফল ব্যবসায়ীর মূলমন্ত্র হলেও কিছু ক্ষেত্রে সেটা অনৈতীক এবং ক্ষতিকারক। AI রোবট বা প্রোগ্রাম আমার পছন্দ বুঝে সার্ভিস দিলে সেটা অবশ্যই ভাল, কিন্তু সেই তথ্য অন্যে ব্যবহার করে আমার উপর অনৈতীক সুযোগ নেবে কেন?

আমি কোন কোন তথ্য অন্যকে জানতে দিতে চাচ্ছি সেটার চয়েস আমার হাতেই থাকা আমার জন্য স্বস্তিকর।

আবার, আমি নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই কখন কোথায় যাচ্ছি জানিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নিজের মত করে না জানিয়ে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করতেই পারে আমার। মোবাইল বন্ধ করে যেতে পারি। কিন্তু সেই মোবাইল বন্ধ দেখালেও কি আসলেই বন্ধ? সব মোবাইলে কি ব্যাটারী খোলার অপশন আছে?  isee

আমি তো অপরাধী নই। তবুও আমার প্রতিদিনের মুভমেন্ট কেন আমি না চাইলেও মনিটর করা হবে? এক লোক মোবাইল কোম্পানির কাছে নিজের জিওট্যাগ রেকর্ড চেয়েছিলো (সম্ভবত জার্মানির ঘটনা)। মোবাইল কোম্পানি বলেছে - আপনার নিরাপত্তার স্বার্থে এটা দেয়া যাবে না। কেস করে কেস জিতে সেই রেকর্ড পেতে হয়েছে সেই লোককে --- ৬ মাসের তথ্য দেখে জানা গেল প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর পর পড়ে প্রায় ২০০বার করে লোকেশন রেকর্ড করা হয়েছিল।
বিষয়টাকে অনেকভাবে দেখা যেতে পারে:
লোকটা যদি কখনো হারিয়ে যেত, তাহলে অবশ্যই সেই তথ্য উপকারী তথ্য হত -- তার মুভমেন্ট প্যাটার্ন যাচাই করে, সর্বশেষ অবস্থান জেনে ... ... ... (যদি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দেয়)। কিন্তু সেই তথ্য উনি নিজে চাইলে দেবে না কেন?
বিষয়টা হয়তো ভাল, যে ঐ তথ্য তারা কাউকে দেয় না (মামলা জিতে তারপর নিতে হয়)। তাহলে ঐ তথ্য রেকর্ড করারই বা দরকার কী? আর ঐ তথ্য যে অন্য কেউ অন্য কোনো উপায়ে নিয়ে লোকটার ক্ষতি করবে না তার গ্যারান্টি নাই। গ্যারান্টি অনেক কিছুরই নাই -- কিন্তু এটা তো জেনে বুঝে করা। আর জেনে বুঝে তথ্য রেকর্ড করা এবং সংরক্ষণ করাটা নিশ্চয়ই বিনা খরচে হয় না --- তাহলে এই খরচ করার পেছনে মোটিভ কী? ঘটনা কি প্যাঁচ খাচ্ছে না?

মোদ্দা কথা আমার তথ্য খরচা করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে মানেই, এই তথ্যের জন্য কেউ মূল্য দিচ্ছে। কেন দিচ্ছে? নিশ্চয়ই এটার সুযোগ গ্রহণ করবে।
সন্দেহ নাই -- এই তথ্য ভাল কাজে, উপকারে লাগাতে পারে। আমরা এপিডেমিক ডেটা, রোগের উৎস, ছড়ানোর কারণ ইত্যাদি বের করতে সাবজেক্টদেরকে ক্লোজ মনিটর করি। কিন্তু এই ডেটা যে ভুল জায়গায় চলে যাবে না সেটার গ্যারান্টি নাই -- অতীত ইতিহাস বলে এই ডেটা ভুল জায়গায় গিয়েছে।

কিছুদিন আগে জার্মানির সাথে ইউএসএ'র সম্পর্ক খুব শীতল হল -- কারণ তেমন সিরিয়াস (!) কিছুই না। সিআইএ বা অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক এঞ্জেলা মার্কেলের ফোন ট্যাপ করা হয়েছিলো - সেটা আবার ধরা খাইছে জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। ...................................... নাহ্ আমি অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, ওবামা, ক্যামেরন বা সেরকম কেউ না, তাইলে আর মাথা ব্যাথা কেন। ওনারা + বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিকিউরড ফোন ব্যবহার করবে ... ... ... চমৎকার সলিউশন: ব্ল্যাকবেরি। কিন্তু ব্ল্যাকবেরি সার্ভিসও তো বন্ধ। ওনারা নিশ্চয়ই ফোনে পেট্রোল বোম মারার আলাপ করে না ... ... (অবশ্য ওয়েপন অব মাস ডিস্ট্রাকশনের আলাপ থাকতে পারে ;-) )

যাক, আমি বাথরুমে বসে কেমনে ত্যাগ করি, সেটা হয়তো অন্যদের মতই। নতুনত্বের কিছু নাই। তারপরেও কেউ যদি সেখানে ক্যামেরা লাগায় রাখে আমার অস্বস্তি লাগবে --- কিচ্ছু করার নাই।

আমার কাপড় পাল্টানোর ঘরে ক্যামেরা লাগায় নতুন কিছুই দেখবেন না। আর সকল আম-জনতার মত আমারও একই মেশিনপত্র আছে। কিন্তু আমি অস্বস্তি ফিল করবো।

আর যেই কাজটা প্রায় সকলেই করে, যেটা ছাড়া আমাদের অস্তিত্বই থাকতো না -- সেটাই ক্যামেরায় ধারণ করে ছাড়লে সেটাকে নীলছবি বলা হয়। করাটা দোষের নয় -- কিন্তু এখানে সুক্ষ্ণ বর্ডার আছে, সামাজিক নর্ম আছে। সেই নর্ম যদি ভাঙ্গা হয় তাহলে সেটা ক্ষতিকর না হলেও সমর্থনযোগ্য না। (ডাক্তারদের শিখতেই হবে, অন্যদেরও বংশ রক্ষার্থে শিখতে হবে)

আমি প্রেমপত্র টাইপ করতে গিয়ে কী কী বিশেষন ব্যবহার করছি; কী কী ভাবে তেল মারছি সেটা কেউ উঁকি দিয়ে দেখলে কোনো ক্ষতি নাই --- কিন্তু আমার অস্বস্তি লাগবে।  কিংবা এনএসএ কী দিয়ে মাইক্রোসফট দেখলেও কোনো ক্ষতি নাই --- কিন্তু আমার অস্বস্তি লাগবে। আপনি যদি দেখেন -- আমি আপনাকে "যাঃ দুষ্টু" বলবো  tongue

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২২

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

সো, এইটা মাইক্রোসফটই শুধু করছে না, এ্যাপলও করতেই পারে :-)
আমরা কোন খরচের বিনিময়ে জিমেইল ইউজ করছি, তার কাছে আমার মেইলের সমস্ত তথ্য থাকতেই পারে। কেউ না কেউ আমার সেই গোপন তথ্য জানতেই পারে। জিমেইলকেও কোন পয়সা দিচ্ছি না আমরা।
নিক্সের ক্ষেত্রে কথাটা বেমানান, এদের জিনিসপত্র বেশীরভাগই ওপেন ঘরানার। সো এই ধরনের ব্রীচ হওয়ার চান্স কম।

কথা হচ্ছে, কোন না কোন ভাবে আমাদেরকে রিলায়েবিলি নিয়ে ভুগতে হচ্ছেই। তাই না ? ইনফ্যাক্ট, আমি *যদি* ইন্টারনেটে কানেক্টেড থাকি, তাহলে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ইনফরমেশনগুলো থাকার সম্ভাবনা অনলাইন ভল্টগুলোতেই। জিমেইল, ফ্লীকার এইসব জায়গাতেই।

আর "কেউ যদি আপনার ঘরে ক্যামেরা লাগিয়ে রাখেই..........." ওয়েল! সবাইই অস্বস্তি বোধ করবে, কিন্তু কথা হচ্ছে, "ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে এই নিশ্চয়তাটা তো আগে পেতে হবে" নাহলে, সত্যি সত্যি বাথরুম করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ওপেন সোর্সের দোহাই দিয়ে খোলা জায়গায় এইসব করা যাবে না।  tongue

Rest apart, NSA has been doing their job very well. We're all well informed about that.
& আমাদের অনেকেই সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না। NSA বললে তারা NASA ই মনে করবে।  lol

২৩

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

ভাল উদ্যোগ। তবে এর পেছনে ঠিক কি ব্যবসায়িক কারণ রয়েছে, তা নিয়ে কিন্চিত চিন্তিত। দেখা যাবে অ্যাপলের IOS এর মত রেস্ট্রিকশন দিয়ে বসে আছে কিনা.... (উইন্ডোজ ফোনেতো সম্ভবত বাইরের অ্যাপস ইন্সটলের সুবিধা নেই, রাইট?)   neutral

আর যারা পচানোর, তারা পচাবেই, যাদের দরকার তারা ব্যবহার করবেই। তবে মনেহয়না লিনাক্স ইউজারদের এখানে টেনে আনার কোন দরকার ছিল।  hmm
(আমাকে আবার লিনাক্স/ওপেন সোর্স প্রেমিক/সৈনিক ভেবে বসবেন না। এমনিতেও এখানে একজনের হাবভাব দেখে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, মনেহয়না ওদিকে জীবনে আর পা বাড়াবো  donttell )


প্রাইভেসী নিয়ে সম্ভবত বাংলাদেশের মানুষের তেমন মাথা-ব্যাথা নেই। থাকলে পাইরেটেড সফটও্য়্যার ব্যবহার করত না। অবশ্য মাথা-ব্যাথা থাকারও তেমন একটা কারণ নেই, এমনিতেও অনলাইন বিষয়ক সুযোগ সুবিধাতে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে, একেতো ইন্টারনেটের বেহাল দশা তারওপর অনলাইনে কেনা-কাটা করারও তেমন একটা সুযোগ নেই, ক্রেডিট কার্ড আছেই বা কতজনের হাতে।  roll

আর এমনিতেও, সেন্সেটিভ প্রাইভেট ডাটাতো আপনি অবশ্যই অনলাইনে বা অনলাইন এনাবলড পিসিতে রাখবেন না, তাই নয় কি?  kidding

"Monsters are merely those which cross a certain line. Customs, laws, justice, taboos--They cross those lines, fully aware that they exist."

২৪

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

কোরাকোরা লিখেছেন:

উইন্ডোজ ফোনেতো সম্ভবত বাইরের অ্যাপস ইন্সটলের সুবিধা নেই, রাইট?


নট এ্যা চান্স! sad এমনকি মডেল স্পেসেফিক করা থাকে। ১ গিগা RAM এর জন্য এ্যাপ বানালে সেটা ৫১২ ram ডিভাইসে চলবে না, ওরা ৫১২ এর জন্য আলাদা করে অপটিমাইজ করে বানালেই কেবল চলবে। গুড নিউজ অতটুকুই সবাই ৫১২ এর জন্য অপটিমাইজ করে বানায়।

কোরাকোরা লিখেছেন:

আর এমনিতেও, সেন্সেটিভ প্রাইভেট ডাটাতো আপনি অবশ্যই অনলাইনে বা অনলাইন এনাবলড পিসিতে রাখবেন না, তাই নয় কি?

রাখে না। ইনফ্যাক্ট, রেলওয়েতে গিয়েছিলাম ওদের নেটওয়ার্কিং সেকশনে, কমিনিকেশন করার জন্য ওরা সম্পূর্ন সিকিউর আলাদা একটা চ্যানেল ইউজ করে। সরাসরি ইন্টারনেটে ওরা কানেক্ট করতে পারে না ( নিষেধ)

২৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১৯-০৩-২০১৫ ২১:৪০)

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

ছেড়ে দিন শামীম ভাই। শুধুই বেগাড় খাটুনী। করপোরেশন এবং সরকার যা চায় তা পাবেই। পৃথিবীর মত ওভার পপুলেটেড একটা গ্রহে ব্যাক্তি স্বাধীনত ধরে রাখা সম্ভব নয়। লিনাক্স নিলেই কি সব সমাধান হয়ে যাবে? একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম কখনই নিছিদ্র ভাবে লেখা সম্ভব নয়। তত্ত্বীয় ভাবে কম্পিউটার=টুরিংম্যাশিন হলেও বাস্তবে তা নয়। যেকোন বড় মাপের প্রোগ্রামই ননডিটারমিনেস্টিক। অতএব আপনার নিছিদ্র লিনাক্সকে ইনফিলট্রেট করাও শুধুই সময়ের ব্যাপার।


মানব জাতীর জন্য জ্ঞান হিসেবে লিনাক্স কার্নেল হল মুকুটের মনি। যা মুক্ত এবং সহজলভ্য। অথচ আমাদের ৭ বিলিওন মানুষের মধ্যে কজন সেই জ্ঞান আহরন করছে বলে মনে করেন? নাম্বারটা দুনিয়ায় কজন এস্ট্রোনাট আছে তারচেয়ে খুব একটা বেশী হবে না। খোজ নিয়ে দেখুন দুনিয়ার এই গুটি কয়েক গুরুদের সেরা জনেরা এনএসএ/গুগল/মাইক্রোসফ্টের জন্যই কাজ করে। আপনার কি মনে হয়না আপানার নিজের করা সিকিউরিটি সিস্টেম তারা ওভাররুল করতে পারবে? আচ্ছা না হয় ধরে নিলাম ওএস নিছিদ্রই। কিন্তু ওএসএর বাইরে আছে হাজারো এপস্, অনলাইন সার্ভিসেস, হার্ডওয়ার, আইএসপি... পদে পদে গর্ত! কটা বুজাবেন? আর এসবই যদি করনে তাহলে জীবনটা উপভোগ করবেন কখন?


তাছাড়া এই টপিকে এসব আলোচনা করার কোন কারন দেখিনা। উইন্ডোজ মোটেও ফ্রী(আমি দামের কথাই বলছি) করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে চুরি করলে শাস্তি দেয়া হবেনা। ওটার দাম আগের মতই আছে শুধু বলা হয়েছে আপনি চুরি করে আনলেও একই সার্ভিস দেয়া হবে। এর আসল উদেশ্যে হল যারা চুরিচামারী করবে তাদেরকেও লাইনে আনা। আর যারা পয়সা দেবে তারা এমনিতেই দেবে। এধরনের কাজ এখানে অনেক যায়গায়ই করা হয়.... কদিন আগে নেভাডার ভ্যালি অব ফায়ার স্টেট পার্কে গেলাম, এরিয়ায় ঢুকার মুখে প্রায় জনমানব বিহীন যায়গায় ছোট্ট একটা যাত্রিছাউনি। পাশে মেইল বক্সের মত একটা খুটি এবং সাইনবোর্ডে লেখা আছে এরিয়ায় ডুকতে বাধ্যতামুলক ফী দশডলার। ইনস্ট্রাকশনে লেখা আছে ওখান থেকে একটা এনভেলপ নিয়ে ভেতরে দশটাকা ভরে, নামঠিকানা এবং গাড়ির ইনফো লিখে মেইল বক্সে ফেলে দিতে। আর এনভেলপের উপরের অংশটা ছিড়ে নিজের কাছে রশিদ হিসেবে রাখতে। আমার বন্ধু বলল টাকা ভর্তি এনভেলপটা  মেইল বক্সে না ফেলে নিজের কাছে রাখলেই তো পরি। রশিদতো আছেই। হুমম... lol যা হোক এলাকাটা ভাল ছিল মনমেজাজও ভাল ছিল এনভেলপটা বক্সেই ফেললাম। দিনশেষে ফেরার সময় ওখান আবার একটু বসেছিলাম। দেখলাম এক পার্ক কর্মী এসে বক্স থেকে এনভেলপ কালেক্ট করছে। অবাক হয়ে দেখলাম ছোট বক্স প্রায়পুরোটাই ভর্তি। এখানদিয়ে যত জন গেছে আমার মনেহয়না কেউ পয়সা না দিয়ে গেছে! যদিও কেউ চাইলেই পয়সা না দিয়ে যেতে পারে, তবুও পার্কটা ফ্রী নয় কারন বাধ্যতামুলক ফী দশটাকা লেখা আছে।

http://s15.postimg.org/qwgdev53f/screenshot_229.png
এই হল সেই বক্স। স্ট্রিটভিও থেকে দেয়া

২৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (২০-০৩-২০১৫ ১০:৩৩)

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

আসলে যেটা যার পার্সোনাল চয়েস। বিবৃতি আকারে প্রতিটার আসল বৈশিষ্ট বলে দিয়ে যার যার পার্সোনাল জাজমেন্টের উপর ভরসা করাটাই শ্রেয়। ১৯৯১ সালে প্রথম কম্পিউটার ব্যবহারের পরে আমি বহুদিন শুধুমাত্র উইন্ডোজ ব্যবহার করেছি। যদিও গত ৮ বছরে ব্যবহার হয়তো সব মিলিয়ে ৭ দিনও হবে না, তারপরেও আমি এখনও অনেককে (কলিগ, ছাত্র) উইন্ডোজের প্রবলেম সলভ করে দেই।

সমস্যা হইল মানসিকতার। আমরা সামনে দিয়ে মাছি যাইতে দেই না, কিন্তু পেছন দিয়ে হাতি চলে যায়। সেই হাতিও যখন চোখের সামনে চলে আসলো, তখন সেটা আর যেতে দেই কিভাবে?  hehe এটাই হল প্রাইভেসী ইস্যূ ... ... ...

পার্সোনালি কিছু ঝুট ঝামেলা এড়ানোর এবং নিজের মনের কাছে পরিষ্কার থাকার জন্য GNU/লিনাক্স বেসড ওএস ব্যবহার করি।
ঝুট ঝামেলা হল -- খুচরা ভাইরাস, এবং এজন্য এন্টিভাইরাস দিয়ে সিস্টেমকে অযথা লোডেড করতে হচ্ছে না। নিশ্চিন্তে যে কোনো ছাত্রের পেনড্রাইভ ল্যাপি/পিসিতে লাগাতে পারছি। আমি যখন দেশে ফিরে মাস্টারিতে ঢুকলাম - অফিস থেকে যেই পিসি দিয়েছিলো সেটাতে এক্সপি দেয়া ছিল (এখনও বেশিরভাগ পিসিতে তাই চলে!!)। একদিন আমি একটা নির্দিষ্ট পরীক্ষা নিতে পারিনি শুধু এই খুচরা ঝামেলার কারনে -- পিসি শুধু রিস্টার্ট হচ্ছিল‌ো ---  প্রায় আধাঘন্টা আগে এসেও পরীক্ষার প্রশ্ন প্রিন্ট করাতে পারিনি; স্টার্ট না হলে কপি করে যে অন্য পিসিতে নেব সেটারও উপায় ছিল না। যা হোক, সিস্টেমের লোকজন এসে পরে সেটাকে ঠিক করেছিলো (হার্ডডিস্ক নিয়ে অন্য পিসিতে স্লেভ করে ... ... )। তখনও আমি GNU/লিনাক্সে অনেক নতুনই বলা যায় -- পরদিন ওদের অনুমতি নিয়ে পার্টিশন করে উবুন্টু দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম। এর বেশ কিছুদিন পর নতুন ভাল পিসি পেলাম যখন, তখন ওদের বলে সম্পুর্ন হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করে (এক্সপি, পাইরেটেড) শুধু GNU/লিনাক্স বেসড সিস্টেম চালাই। অন্তত কখনো আর ভাইরাস জনিত সমস্যায় পড়িনি। যা হয়েছে - তা হল আমার নেটওয়র্ক, প্রিন্টার ইত্যাদি নিজেকেই সেটাপ করতে হয় -- আইটি'র লোকজনকে বললে পারেনা। ঠিক একই কারণে (=নিশ্চিন্তে যে কোনো পেন ড্রাইভ ব্যবহার) নিজের নেটবুকে (বেচে দিয়েছি পরে) লাইসেন্স করা উইন্ডোজ থাকা সত্ত্বেও আরেক পার্টিশনে প্রথমে উবুন্টু-ইউনিটি, পরে নপিক্স চালাতাম। লাইসেন্স করা এক্স পি থাকার কারণে এটা কিন্তু আমাকে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছিলো -- অবশ্য ওটা চয়েস করার কারণ ছিলো ওটার মডেল আর কীবোর্ড - না হলে ১০ হাজার টাকা কমে অন্য মডেল কেনা যেত। আমার চুরি হয়ে যাওয়া জাপানি ল্যাপটপটাতেও একই কারণে (ঝুট ঝামেলা এড়ানো) মিন্ট চালাতাম - সেটা পার্টিশন করে মিন্ট দিতে ম্যালা হ্যাপা হয়েছিলো।

নিজের মনের কাছে পরিষ্কার থাকাটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকারী চাকুরী না করার পেছনে (২১তম বিসিএস) এটা বেশ বড় একটা কারণ। যদিও প্রথমবার উবুন্টু ইনস্টল করেছিলাম জাপানে বাসার পিসিতে পাইরেসিজনিত কারণে পুলিশ টুলিশের হাতে ধরা খাওয়ার ভয়ে। কিন্তু পরে এটার মজা বোঝার পর, আর ছাড়তে পারিনি। লাইসেন্স সহ উইন্ডোজ কেনা বিরাট কোনো ব্যাপার না -- আর এখন তো সেটাও নাকি পয়সা দেয়া লাগে না। আগে সমস্যা ছিল, পে করার উপায় নিয়ে, বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড সহজলভ্য হওয়ায় সেটাও কিছুটা সহজ হয়েছে। ক্রয়ক্ষমতার বাইরে আমার ব্যবহার্য অন্য সফটওয়্যারগুলোরও বিকল্প আছে। অফিস --- লিব্রে অফিস, ক্যাড -- লিব্রে ক্যাড, ব্লেন্ডার, ছবি এডিটিং - গিম্প, ইঙ্কস্কেপ ... ... এগুলো বেশি ব্যবহার করতে হয়। কাজেই আমি যেই সিস্টেমই চালাই না কেন এই সফটওয়্যারগুলোই থাকবে। কিন্তু পদে পদে আতঙ্ক আর টেনশন নিয়ে পেনড্রাইভ আর নেটে কানেক্ট করার মত উত্তেজনা এই বয়সে সহ্য হবে না --- এন্টিভাইরাসগুলোও কিনতে হয়, তাছাড়া আমার পূর্ব ও বর্তমান অভিজ্ঞতায় এগুলো খুবই বিরক্তিকর - মেশিন স্লো করে দেয়, প্রতিবার পেনড্রাইভ চেক করে ৫-১০ মিনিট ধরে, অন্য পিসির ভাইরাসের কল্যানে হাইড হয়ে যাওয়া ফোল্ডারগুলো দেখা যায় না (যা GNU/লিনাক্স মেশিনে দেখা যায়) ... ... ম্যালা ঝামেলা।

আমি সেরকম হাইফাই গেম খেলিনা - সেই বয়সও নাই, অবসরও নাই। যতটুক অবসর পাই, ফোরাম ব্লগ, মুখবই ইত্যাদিতে ব্যয় হয়ে যায় ... ... কাজেই আমার বেশ চলে যাচ্ছে।

==
শেষ যে বিষয়টা বলতে হচ্ছে:

ভাল'র প্রকারভেদ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে -- একেকজনের কাছে ভাল একেকরকম। আমারগুলো আপনার সাথে মিলবে বা মিলতেই হবে এমন কোনো কথা নাই। হয়তো আরো ভাল অপশন আপনার জানা আছে।

  • আমি বা বউ ফল কিনলে সেই ইউনিমার্ট কিংবা জাহাঙ্গির গেট-শাহীন কলেজ-আনন্দ বেকারীরর পাশের মার্কেট থেকে কিনি -- দাম আসলেই আকাশচূম্বী, ৩-৫ গুন বেশি। কিন্তু তারপরেও সেগুলো কিনি, কারণ ওগুলোতে ফর্মালিন, কীটনাশক এবং কেমিকেলস নাই এটাতে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। বাসায় রেখে দিলে ওগুলোতে পিঁপড়া, পোকামাকড় ধরে; নরম হয়ে পঁচে যায়। রাস্তার পাশে অনেক ফলওয়ালাও হয়তো ভাল ফল বিক্রয় করে। মাঝে মাঝে সেগুলো থেকেও কিনে আনি, তবে শর্ত হচ্ছে সেখানে মাছি ভন ভন করছে, ফলের মধ্যে পোকা খাওয়া দাগ আছে ইত্যাদি। মাঝে মাঝে কিনি অর্থ হল, সবসময় সেইসব রাস্তা দিয়ে যাওয়া হয় না, আর ওরাও সবসময় নির্দিষ্ট জায়গায় থাকে না।

  • বউয়ের কসমেটিকস সব বাছা। দেশি দুয়েকটা সস্তা কিন্তু দূষ্প্রাপ্য ব্র্যান্ড কিংবা বাইরের দামী ব্রান্ড --- কারণ তেনার সেনসেটিভ স্কিনে অন্য কিছু স্যূট করে না - র্যাশ ওঠে। বাচ্চাকেও দামী ব্রান্ডের ডায়াপার দিয়েছিলাম -- কারণ কয়েকরকম ব্রান্ড পরিয়ে দেখেছি, এটাতেই সে ভাল থাকতো।

  • আবার আমাদের কাপড়চোপড় খুবই ত্যানাত্যানা। সুতি কাপড় পড়ার চেষ্টা করি -- সেটা যতই খারাপ দেখাক। মেইনটেইন করা যথেষ্ট কষ্টকর, ধুয়ে আয়রণ না করলে সেটা সেই ত্যানা-ত্যানা হয়ে থাকে; তারপরেও সেগুলো ব্যবহার করি: কারণ, চামড়ার জন্য এগুলো স্বস্তিদায়ক। কিছু ক্ষেত্রে সুতি কাপড়ের দাম বেশি নেয় -- ধোয়া বাসায়, আয়রন করানোর লন্ড্রি খরচ এগুলোর বেশ বেশি।

  • বাসার মেঝে দুদিন পর পর সাবান পানি + ডেটল দিয়ে মোছাই। এতে মাসে কিছুটা খরচ বেশি হয়।

  • আত্মীয় স্বজনের সার্কেলে এসব কারণে আমাদের বেশ নাম/বদনাম হয়েছে -- সব কিছুতেই আমাদের বাড়াবাড়ি, টাকা খরচার ফুটানি মারা! ঘটনা কিছুটা সত্য তো বটেই --- তবে আসলে, বেশি টাকা খরচ করতে পার্সোনালি কখনই খুব আরাম আনন্দ লাগে না, এই টাকা জমালে হয়তো এই কয় বছরে নিজের বাড়ি না হলেও একটা ভাল গাড়ি হয়ে যেত। কিন্তু নিজেদের এবং পরবর্তী বংশধরদের সুস্থতা যদি না থাকে তাহলে এসব চকচকে জিনিষ দিয়ে করবো কী!

শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভাল থাকা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক ভাবে গ্লানিমুক্ত শক্তিশালী থাকার জন্য বেশ কিছু আপাত ঝামেলা স্বীকার করেও GNU/লিনাক্স ব্যবহার করা হয়তো সেটারই একটা বহিঃপ্রকাশ।

আমি বর্তমানে FOSSBDএর প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তা সত্ত্বেও কাউকেই কিন্তু সরাসরি পুশ/ প্ররোচিত করছি না -- করে থাকলে সেটার জন্য দূঃখ প্রকাশ করলাম। নিজের ভাল পাগলেও বোঝে। কাজেই আপনার কোন সফটওয়্যারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে ভাল হবে সেটা আপনি আমার চেয়ে অনেক ভালভাবে বুঝতে পারেন - কাজেই চাহিদা অনুযায়ী সেটাই ব্যবহার করবেন। তবে, ... ... ... শিক্ষকতা করি বিধায়, ছাত্রদেরকে পরামর্শ দেয়া আমার নৈতীক দায়িত্ব -- কিছু ক্ষেত্রে তাই আমার ক্যাপাসিটি অনুযায়ী পরামর্শ দেই, থিসিস লিখতে লিব্রে অফিস ব্যবহারে বাধ্যও করি (GNU/লিনাক্স না কিন্তু)।

পাঠক, আপনি আমার ছাত্র নন কিন্তু -- কাজেই নো হার্ড ফিলিংস।  hug

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৭

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

ওয়েল, গতকালের নিউজ অনুযায়ী windows 10 এর ফ্রী লাইসেন্স তারাই পাবেন যারা জেনুইন windows 7 বা 8 এর ব্যবহারকারী। অন্যরাও ফুল ভার্সন ব্যবহার করতে পারবেন তবে লাইসেন্স কি পাবেন না।

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

২৮

Re: উইন্ডোজ তো ফ্রি করে দিল! লিনাক্স ইউজাররা পঁচাবে কেমনে?

নতুন করে তর্ক শুরু করতে চাচ্ছি না তবে আইটি'র সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে উইন্ডোজ, লিনাক্স (জিএনইউ/লিনাক্স ghusi ), ম্যাক সবগুলোরই দরকার হয়। ই্উজাররা উইন্ডোজ নির্ভর এবং নিয়ন্ত্রনের করা সহজ এইকারণে উইন্ডোজ সার্ভার ব্যবহার করতে হয়, ডিজাইনারদের জন্য ম্যাক আর নিজস্ব এক্সপেরিমেন্ট এবং ট্রাবলশুটিং এর জন্য লিনাক্স এর যে কোন ভ্যারিয়েন্ট, বিশেষ করে লিনাক্স মিন্ট।

অফিসে এক ডিজাইনারের পোর্টেবল হার্ডডিস্কে সমস্যা করছে গত বুধবার থেকে। ম্যাক বা উইন্ডোজ থেকে পাচ্ছে না, কিন্তু মিন্ট থেকে ঠিকই পাচ্ছে big_smile আপাতত ডাটা কপি করছি। স্পীড যদিও কম। এই কারণেই লিনাক্স বেশী ভালো পাই। দু:সময়ের সাথী dancing