সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ত্বোহা (১৯-০২-২০১৫ ০৮:০৪)

টপিকঃ ISIS এর সাথে জীবন যাপন

গতকাল বিকেলে আইএস এর পঞ্চাশটার মতো গাড়ি লিবিয়ার সিরত শহর জুড়ে র‌্যালি করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই আইএস সিরত দখল করে নিয়েছে এটা শুনছিলাম। কিন্তু তখন পর্যন্ত ওরা শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখল নিয়েই চুপচাপ ছিল। আজই প্রথমবারের মতো নিজেদের অস্তিত্ব প্রদর্শন করল। সমুদ্রের পাড়ের রাস্তাটা দিয়ে (চার নম্বর ছবিটা, যেটা আমাদের বাসা থেকে তিন-চারশ মিটার দূরে) র‌্যালিটা যাওয়ার সময় আমাদের বাসা থেকে দেখা যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু প্যারেডটা যে এই বিশাল আকারের, সেটা তখন বুঝতে পারিনি। এখন ছবিগুলো দেখেই মাথা ঘুরছে! আগামী দিনগুলো কাটাবো কিভাবে, সেটা ভেবেই কূল পাচ্ছি না।

গত প্রায় দেড়-দুই বছর ধরেই সিরত আনসার আশ্‌শারীয়ার অধীনে ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সিরত আনঅফিশিয়ালি একেবারে সরাসরি দায়েশ তথা ইসলামিক স্টেটের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আইএসরা গত বৃহস্পতিবার প্রথম সিরতের প্রধান রেডিও স্টেশন দখল করে নেয়। এবং সেখান থেকে নিয়মিত সিরতের মানুষকে সকল অনৈসলামিক কর্মকান্ড পরিহার করে ইসলামিক স্টেটের খলিফা আবুবকর আল বাগদাদীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার আহ্বান জানাতে থাকে।

এরপর তারা ধীরে ধীরে সবগুলো ইনস্টিটিউশন তারা দখল করে নিতে থাকে। গত বুধবার থেকে সিরতের পাসপোর্ট অফিসও (জাওয়াজাত) আইএস এর দখলে। তারা সিরতের ওয়াগাদুগো কনফারেন্স সেন্টারও (সেক্রেটারিয়েট কম্প্লেক্স)  দখলে নিয়েছে এবং সেখানের ভবনগুলোর উপর স্নাইপার মোতায়েন করেছে। গতকাল রাতে তারা সিরত ইউনিভার্সিটি দখল করে নিয়েছে এবং শোনা যাচ্ছে সিরত মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মাত্র কয়েকদিন আগে আইএস সিরতের ট্রাফিকের প্রধানকে হত্যা করেছিল এবং হত্যা করা হবে এরকম ট্রাফিক অফিসারদের একটা লিস্ট প্রকাশ করেছে। আর গত শুক্রবার প্রকাশিত একটা ভিডিওতে দেখা গেছে সিরতের ২১ জন মিসরীয় খ্রিস্টানকে জবাই করে তাদের লাশের উপর মাথাগুলো সাজিয়ে রেখেছে আইএস এর জঙ্গিরা।

আইএস এর ভয়ে গত কয়েকদিনে সিরতের বেশ কিছু অমুসলমান বিদেশী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশীও আছে। গতকালও একজন বাংলাদেশী হিন্দু মুসলমান হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এম্বাসী থেকে আমাকে সিরতের অমুসলমান বাংলাদেশীদের একটা তালিক তৈরি করে পাঠাতে অনুরোধ করার পর খোঁজ খবর নিতে গিয়ে দেখছি, বাকি যেসব হিন্দু আছে, তাদের অনেকেও মুসলমান হয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। একজন মুসলমানের কাছে এরচেয়ে অপমানজনক সংবাদ আর কি হতে পারে! যেই ধর্মটা মানুষের গ্রহণ করার কথা ছিল মুগ্ধ হয়ে, স্বেচ্ছায়, দলে-দলে; সেই ধর্মটাই এখন মানুষ গ্রহণ করছে চাপে পড়ে, গর্দান হারানোর ভয়ে!

বিঃদ্রঃ উপরের লেখার মধ্যে কোন ফ্লো না থাকার কারণে দুঃখিত। আসলে লেখাগুলো আমার গত কয়েকদিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কালেকশন।

https://pbs.twimg.com/media/B-Ju-MaCUAAnpy5.jpg:large

https://pbs.twimg.com/media/B-Jvm3mCMAADH6W.jpg:large

https://pbs.twimg.com/media/B-JvsQ-CEAAezQT.jpg:large

https://pbs.twimg.com/media/B-JvzEzCQAAPvK8.jpg:large

https://pbs.twimg.com/media/B-Jv4f7CQAA4Mel.jpg:large

https://pbs.twimg.com/media/B-JvJK3CUAAJ327.jpg:large

https://www.facebook.com/tohamh
মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা
সিরত - লিবিয়া

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

এধরণের ঘটনাগুলো শুনে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু কী আর বলব। এদেশেও তো আমরা খুব একটা ভালো নেই। আইএস প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে আর এদেশের জঙ্গীরা গোপনে এটাই পার্থক্য sad
পৃথিবীতে শান্তি আসুক। আল্লাহতায়ালা সমস্ত পথভ্রষ্টকে হেদায়াত দান করুন এই দোয়া করি...

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

আইএসআইএস তো ইবোলার মতোই ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে......কিন্তু আমার মাথায় ঢোকেনা......এই জামানায় এত্তো বড় একটা সন্ত্রাসী গোষ্ঠি কিভাবে এতো স্বল্প সময়ে তৈরী হয়ে এতো বড় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে.....কারা আছে এর পিছনে......ওদের নেতাটা কে?
আমার মতে সাদ্দাম আর গাদ্দাফির প্রেতাত্মা ইরাক আর লিবিয়ার জনগনকে শিক্ষা দিচ্ছে ......

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রাশেদুল ইসলাম (১৯-০২-২০১৫ ১৪:৪২)

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

উইকিপিডিয়া থেকে

ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট (সংক্ষেপে আইসিল) ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকারী একটি সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী। এছাড়াও তারা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল, মিশরের সিনাই উপদ্বীপ এবং মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় রয়েছে। আরবিতে এর নাম আদ দাওলাহ আল ইসলামিয়া ফি আল ইরাক ওয়াশ শাম। এছাড়াও এই দল ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া বা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড আল শাম (সংক্ষেপে আইসিস) নামেও পরিচিত। ২০১৪ সালের জুনে দলটি তাদের নাম বদলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) রাখে। তবে মুসলিম বিশ্বে এই নতুন নাম ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়।

জাতিসংঘ আইসিলকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করেছে এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিরুদ্ধে জাতিগত হত্যাকান্ডের অভিযোগ আরোপ করেছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ভারত ও রাশিয়া আইসিলকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছে। আইসিলের বিরুদ্ধে ৬০টির বেশি দেশ (!!!!!!!) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধরত।

১৯৯৯ সালে এই গোষ্ঠী জামাত আল তাওহিদ ওয়াল জিহাদ নামে আত্মপ্রকাশ করে, পরে ২০০৪ সালে তা তানজিম কাইদাত আল জিহাদ ফি বিলাদ আল রাফিদাইন বা সাধারণভাবে আল কায়েদা ইরাক (একিউআই) নামে নাম বদল করে। এসময় তারা আল কায়েদার সাথে তাদের মৈত্রী জানান দেয়। ২০০৩ ইরাক আক্রমণের পর তারা যুদ্ধে অংশ নেয়। ২০০৬ সালে আইসিল আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী মুজাহিদিন শুরা কাউন্সিলের সাথে যোগ দেয় এবং পরে তারা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক (আইএসআই) নামক ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেয়। আইএসআই ইরাকের আল আনবার, নিনেভেহ, কিরকুক ও অন্যান্য স্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লাভ করে। তবে ২০০৮ সাল নাগাদ তাদের আত্মঘাতি হামলাসহ অন্যান্য সহিংসতার কারণে সুন্নি ইরাকি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে তাদের নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টির হয়।

এই দল আবু বকর আল-বাগদাদীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণভাবে বেড়ে উঠে। সিরিয়ান গৃহযুদ্ধে অংশ নেয়ার পর তারা সিরিয়ার সুন্নি অধ্যুষিত বিরাট অংশে তাদের আধিপত্য কায়েম করে। সিরিয়ায় সম্প্রসারণের পর ২০১৩ সালের এপ্রিলে দলের নাম বদলে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট রাখা হয়। এসময় আল বাগদাদী সিরিয়া ভিত্তিক গোষ্ঠী আল নুসরা ফ্রন্টের সাথে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আল কায়েদার সাথে আইসিলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তবে আট মাস ক্ষমতাকেন্দ্রিক লড়াইয়ের পর আল কায়েদা তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে।

২০১৪ সালের ২৯ জুন আইসিল খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়  lol2 lol2 এবং আবু বকর আল-বাগদাদীকে খলিফা ঘোষণা করা হয়। খিলাফত ঘোষণার পর তারা বিশ্বব্যপী মুসলিমদের উপর ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তৃত্ব দাবি করে। আইসিল ঘোষিত খিলাফত ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে বিনাবিচারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, শিরচ্ছেদ ও আগুনে পুড়িয়ে প্রতিপক্ষ ও বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশ ইত্যাদি।

আমি একটা বিষয় কিছুতেই বুঝতে পারি না, হাতের মাথায় ইসরাইলকে রেখে তোরা আপন ভাইদের সম্পত্তি দখল করে বেড়াস কেন? পারলে ওদের বিরুদ্ধ্যে যুদ্ধ কর। আর না পারলে আমাদের পথ থেকে সরে দাঁড়া। এমনেই হাজারটা সমস্যার মাঝে দিন কাটে।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মূর্শেদ (১৯-০২-২০১৫ ২২:৩৫)

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

ত্বোহা লিখেছেন:

আইএস এর ভয়ে গত কয়েকদিনে সিরতের বেশ কিছু অমুসলমান বিদেশী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশীও আছে। গতকালও একজন বাংলাদেশী হিন্দু মুসলমান হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এম্বাসী থেকে আমাকে সিরতের অমুসলমান বাংলাদেশীদের একটা তালিক তৈরি করে পাঠাতে অনুরোধ করার পর খোঁজ খবর নিতে গিয়ে দেখছি, বাকি যেসব হিন্দু আছে, তাদের অনেকেও মুসলমান হয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। একজন মুসলমানের কাছে এরচেয়ে অপমানজনক সংবাদ আর কি হতে পারে! যেই ধর্মটা মানুষের গ্রহণ করার কথা ছিল মুগ্ধ হয়ে, স্বেচ্ছায়, দলে-দলে; সেই ধর্মটাই এখন মানুষ গ্রহণ করছে চাপে পড়ে, গর্দান হারানোর ভয়ে!

আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ কিন্তু বিভিন্ন চাপে পড়েই 'বিদেশী' ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। আরব বনিক, আফগান মুঘলেরা বিভিন্ন সময় হিন্দু, বৌদ্ধদের জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশের অঞ্চল ছিলো বৌদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চল। আরবেরা ব্যাবসা বানিজ্য করতে রুট হিসেবে চট্রগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে এই অঞ্চলে ঢুকে কিন্তু আরবের ইসলামের সাথে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপক সাংঘর্ষিক হওয়ায় বেশি আকৃষ্ট করতে পারে নি। একসময় দিল্লী থেকে পারস্য সুফীরা এই অঞ্চলে এসে সুফীবাদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের বিস্তার ঘটায়। আমাদের এই উপমহাদেশে আরবের ইসলামের চেয়ে সুফী ইসলামের প্রতি মানুষের টান বেশি। আরবের ইসলাম যারা আক্ষরিক অর্থে পালন করতে গিয়েছে তাঁরা অনেকেই হয়ে গেছে জঙ্গী।

মুহাম্মদ (সাঃ) কি আসলেই নবী ছিলেন নাকি স্বঘোষিত নবী হয়ে আরব জাহান শাসন করেছেন সেটা আমরা কেউই জানি না। উনি যদি সত্যিই নবী হন তবে উনি নিশ্চয়ই উনার অনুসারীদের বলেন নাই এইভাবে মানুষ হত্যা করতে। যারা এসব করছে তাঁরা কিন্তু এটা বিশ্বাস করেই করছে যে নবী যেভাবে বিভিন্ন রাজ্য দখল করেছিলো সেভাবে তারাও করছে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে শুধু চেয়ে চেয়ে এদের কর্মকান্ড দেখা ছাড়া সাধারন মুসলমানের করার কিছু নেই। শুধু খবর পড়বে আর বলবে এটা ইসলাম না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মনকে বুঝ দিতে আমরা হয়তো এটা বললাম কিন্তু আমরা আসলে নিজেরাও জানি না কে ঠিক আর কে বেঠিক। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই যেনো করার নেই।

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

আইসিস নিয়ে কিচ্ছু বলার নেই। দুনিয়ার সব মোড়ল দেশ গুলো ওদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভাবে যুদ্ধ করছে মাসের পর মাস। অথচ ওরা একের পর এক শহর দখল করে চলছে! ঝকঝকে গাড়ির বহর দিয়ে রেলী করছে!! পার্শবর্তী ক্ষমতাশালী (!) দেশ ইরান, তুরস্ক, সৌদি... সহ ইউএস, ইউকে.... সব্বাই প্রানপনে যুদ্ধ করে চলছে!! surprised আমি ধিক্কার জানাই এসব দেশের অক্ষমতাকে এবং বাহবা দেই আইসিস এর বীরত্বকে  hmm ইরান, তুরস্ক, সৌদি এদের সেনাবল কি কম? সবাই মিলে ওরা কি পারেনা কয়েক দিনের মধ্যে আইসিস কে নিশ্চিহ্ন করে দিতে? যদি নাই পারে তাহলে সারেন্ডার করে দিক। আইসিসই বরং ভাল। সারভাইবাল অফ ফিটেস্ট।

চুলোয় যাক! হাতি-ঘোড়া যেখানে তল যাচ্ছে... আমরা আমজনতা পিপড়ে হয়ে জল মাপার কোন ফয়দা দেখিনা। এর চেয়ে, ত্বোহা ভাই, আপনার অবস্থা বলুন। ওখানেই থাকবেন না অন্য কোথাও মুভ হবেন? আপনার বাসার তিনশ মিটারের মধ্যে দিয়ে বহর যাচ্ছে এটা তামশার কথা নয়। অকর্মা জোট বাহিনী প্লেন থেকে বোমা ফেলবে... সেটা আইসিসের রেলীতে না পরে আপনার বাসায় পড়বে worried
উপায় থাকলে ব্যাকপ্যাক কাধে এক্ষুনি বেড়িয়ে পড়ুন।

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

সদস্য_১ লিখেছেন:

এর চেয়ে, ত্বোহা ভাই, আপনার অবস্থা বলুন। ওখানেই থাকবেন না অন্য কোথাও মুভ হবেন? আপনার বাসার তিনশ মিটারের মধ্যে দিয়ে বহর যাচ্ছে এটা তামশার কথা নয়। অকর্মা জোট বাহিনী প্লেন থেকে বোমা ফেলবে... সেটা আইসিসের রেলীতে না পরে আপনার বাসায় পড়বে

আমাদের গত প্রায় এক বছর ধরে আনসার আল শারীয়ার অধীনে বাস করার অভিজ্ঞতা আছে। এরাও ইসলামপন্থী জঙ্গী হলেও আইএস এর মতো এতো উগ্রপন্থী না। সাধারণ মানুষদের সাথে এদের ব্যবহার খুবই ভালো। এই পর্যন্ত এরা কোন নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেছে, লুটপাট করেছে এরকম অভিযোগ শোনা যায় নাই। বরং সাধারণ মানুষদের মধ্যে যদি কোন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে, তাহলে ওদের কাছে গেলে ওরা সেটার ন্যায়পূর্ণ মীমাংসাই করে দেয়।

কিন্তু এই এরাই দুই মাস আগে সিরতে এক মিসরী খ্রিস্টান ডাক্তার এবং তার স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছে। ওদের এগারো বছর বয়সী মেয়েকে তুলে নিয়ে দুই পরে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে। তবে রেপ করে নাই, টাকা পয়সাও কিছু নেয় নাই। এর আগেও বেশ কিছু খ্রিস্টানকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে। এদের কারণে শহরে কোন পুলিশ, ট্রাফিক দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এরা ট্রাফিকের গাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়। অথচ নিজেরাও রাস্তাঘাটের নিরাপত্তায় থাকে না। ফলে শহরের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি খুবই খারাপ, শহর একা একা নিজের মতো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলে। এরা অপরাধ যেন না হয় সেই ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয় না, কিন্তু অপরাধ হয়ে যাওয়ার পরে শাস্তি দেয়। নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলে তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে গুলি করে লাশ ফেলে রাখে।

এখন আইএসের আচরণ ঠিক কিরকম হবে বুঝতে পারছি না। আনসার আল শারীয়াদের একাংশের তাও চেহারা দেখা যেতো, এদের তো মুখটাও ঢাকা! আর এদের ম্যাগাজিন পড়লাম আজকে, সেখানে বলছে, জাপান সরকার ওদের কন্ডিশন না মেনে ক্রুসেডারদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে, তাই পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যেকোন জাপানীজ ওদের টার্গেট। এই দৃষ্টিভঙ্গিটাই সবচেয়ে ভয়াবহ। বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা যেরকম উল্টাপাল্টা বক্তব্য দেওয়াতে এক্সপার্ট, কেউ যদি আইএস বিরোধী এমন কোন বক্তব্য দেয়, যাতে আইএস ক্ষেপে উঠে, তাহলেই আমরা শেষ! এছাড়া বম্বিংয়ের ভয় তো আছেই। এর গাদ্দাফীর সময় ন্যাটোর বম্বিংয়ের সময় চোখ বন্ধ করে ঘুমাতাম - ওদের টার্গেট ছিল একেবারেই প্রিসাইজড। কিন্তু এবার কারা হামলা করবে কে জানে!

https://www.facebook.com/tohamh
মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা
সিরত - লিবিয়া

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

ওদের সাথে নাহয় আপোস করে চললেন। কিন্তু ক্রসফায়ারের কি করবেন?

বর্তমান পরিস্থিতে আইসিস বা অন্য জঙ্গি গ্রুপের চেয়ে বড় হুমকি আমি মনে করি যৌথ বাহিনী। ওদের মধ্যে কোন সমঝোতা নেই। বিতিচ্ছিরি অবস্থা। কে কোথায় কখন এটাক শুরু করে দেবে টেরও পাবনেনা। আইসিস একটা শহরে গিয়ে ঘাটি গাড়ে, দুদিন পর ওখানে বোমা হামলা শুরুহয় আর আইসিসের লোকজন ঐ শহরের ধনসম্পদ একত্র করে অন্য শহরে চলে যায়। ওদের কিছুই হয়না মাঝ থেকে শহরটা গুড়িয়ে যায়। একের পর এক ঐতিয্যবাহী শহর ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে...

তাই সম্ভব হলে সময় থাকতে অন্য দিকে চলে যাওয়াই ভাল।

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

সাদ্দাম-গাদ্দাফী-আসাদ......এরা ছিলো একেকটা খুটির মতো.....যার জোরে ওই অঞ্চলে অন্যকেউ দাদাগিরী করতে সাহস পেতোনা........এখন তাদের বদলে যারা নুপুংসকরা হঠাৎ করেই পাওয়া ক্ষমতায় এসেছে.......তাদের ক্ষমতা নেই সেই বেয়াড়া বেদুইন যুদ্ধবাজদের ঠেকানোর.....। জোটবাহিনীরা কেউই সম্মুখযুদ্ধে সেনা দিবেনা.....তারা সবাই দায়সারা বোম্বিং করেই ওদের বদলে একের পর একেকটা শহর ধুলিৎসাত করবে.....।

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

১০

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

সবগুলো একি মডেলের নিউ গাড়ি দেখছি !

আরো একটি শহর বোম্বিং করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্টার (?) কাজে নিয়োজিত যৌথবাহিনী sad

কাপুরুষ আইএস, পারলে ইসরাইলে গিয়ে আগে খিলাফত প্রতিষ্টার করে দেখা ।

১১

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

সেলিম রাজ লিখেছেন:

সবগুলো একি মডেলের নিউ গাড়ি দেখছি !

এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় রহস্য। আমি লিবিয়ার বিদ্রোহ শুরু থেকে দেখেছি। মানুষ যতই বলুক ওটা আমেরিকার প্ল্যান করা, আমি তা মানি না। আমেরিকা অবশ্যই পরে বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিয়ে ম্যানিপিউলেট করেছে, কিন্তু এর শুরুটা হয়েছিল আক্ষরিক অর্থেই বিদ্রোহ হিসেবে। তখন দেখেছি বিদ্রোহীরা কেউ খালি পায়ে, কেউ স্যান্ডেল পরে যুদ্ধ করছে। কেউ পরে আছে আর্মির ড্রেস, আবার কেউ ছেঁড়া শার্ট, কেউ জাস্ট স্যান্ডো গেঞ্জি। কেউ চালাচ্ছে টয়োটা হাইলাক্স, কেউ বা তার ভাঙ্গাচোরা ড্যাটসান পিকআপ নিয়েই বেরিয়ে পড়েছে। একটা সত্যিকারের বিদ্রোহের চরিত্র যেরকম হওয়ার কথা, সেরকমই। কমিটমেন্টের অভাব নেই, কিন্তু কো-অর্ডিনেশনের অভাব, শৃঙ্খলার অভাব, একেকটা গ্রুপের চরিত্র একেক রকম।

কিন্তু আইএসের অবস্থা আমি কিছুতেই মেলাতে পারি না। এতো বড় একটা সুসজ্জিত বাহিনী, লেটেস্ট মডেলের চকচকে সব গাড়ি, প্রতিটা গ্রুপের সাথে কয়েকটা করে হাই ডেফিনেশন মুভি ক্যামেরা। এতো বড় বাহিনী চালানোর মতো অর্থনৈতিক সাপোর্ট এরা পায় কোথা থেকে? এই বিশাল গাড়ির বহরই বা কোথা থেকে আসে? লিবিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হচ্ছে মিসরাতী বাহিনী। তারাই গাদ্দাফীকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। তারা নিয়মিত কাতার এবং তুর্কি থেকে সাহায্য পাচ্ছে। অথচ তাদের গাড়িগুলো এখনও একেকটা একেকরকম। কোনটা নতুন, কোনটা পুরানো, বিশৃঙ্খল।

কোন একটা/একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্রের সাপোর্ট ছাড়া আইএস এর অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব না।

https://www.facebook.com/tohamh
মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা
সিরত - লিবিয়া

১২

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

ব্যাপারটা আপাত দৃশ্টিতে ওরকম মনে হলেও আসলে তা নয়। অন্তত এখন পর্যন্ত কোন দেশের সাপোর্টের প্রমান পাওয়া যায়নি। বলাহয় ওদের টাকার আধা উৎস হল ৩টা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ থেকে মাসহারা আদায়। গ্যাসবিল ইলেক্ট্রিসিটি বিলের মত আইসিস বিল! এতএব ওদের ইনকামও বড় মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির মত। এই টাকার জন্য সবাইকে রিসিট দেয়া হয়। কারেন্ট বিল না দিলে লাইন কেটে দেবে আর আইসিস বিল না দিলে জীবনের লাইন কাটা হয়ে যাবে। অতএব কেউ মিস করেনা।

আর বাকি অর্ধেক আসে তেল বিক্রিটাকা থেকে। এখন তাদের দখলে আছে পাচটা তেলক্ষেত্র একেটা ফিল্ডে ৬০/৭০ টা করে কুপ। ২৫ হাজার + ব্যারেল প্রতি দিন!! অনেক টাকা... টাকাই টাকা!

১৩

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

সদস্য_১ লিখেছেন:

এখন তাদের দখলে আছে পাচটা তেলক্ষেত্র একেটা ফিল্ডে ৬০/৭০ টা করে কুপ। ২৫ হাজার + ব্যারেল প্রতি দিন!! অনেক টাকা... টাকাই টাকা!

এই তেলের গ্রাহক কারা ?

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ত্বোহা (২১-০২-২০১৫ ১৯:১৮)

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

কোন দেশের সাপোর্টের প্রমাণ না পাওয়ার দুইটা কারণ থাকতে পারে - এক. আসলেই কোন দেশের সাপোর্ট নাই, অথবা দুই. যাদের সাপোর্ট আছে তারা যদি সিআইএ আর মোসাদের মতো ইন্টেলিজেন্স দিয়ে করায়, তাহলে প্রমাণ পাওয়ার কোন কারণ নাই।

আমি বরং লক্ষণগুলো বলি। ন্যাটোর বিমান হামলা আমরা ২০১১ সালের আট মাস ধরে প্রত্যক্ষ করেছি। ওরা যেখানে মারতে চায়, একেবারে ঠিক সেখানেই মারতে পারে, একচুলও এদিক-সেদিক হয় না। সিরত থেকে ব্রেগা যাওয়ার পথে প্রচন্ড স্পীডে ছুটতে থাকা ল্যান্ডক্রুজার জীপেও ন্যাটো একেবারে জীপের উপরেই মারতে পারত। এমনকি, গাদ্দাফী যেদিন ধরা খায়, সেদিন গাদ্দাফীর সামনের এবং পেছনের দুইটা গাড়িতেই ন্যাটো বোমা মেরেছে, শুধু গাদ্দাফীরটাতে মারে নাই, যেন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে না পড়ে। কিন্তু আইএস এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কীরকম? যৌথবাহিনী এতোদিন ধরে বিমান হামলা করছে, এখন পর্যন্ত তাদের কোন ক্ষতি তো করতে পারেই নাই, বরং প্রায়ই শোনা যায়, আইএস মনে করে ভুলে (!) ইরাকী বাহিনীর উপর বিমান হামলা করেছে। অথবা ইরাকী/সিরিয়ান লিবারেশন ফোর্স মনে করে আইএসকে অস্ত্র বিমান থেকে অস্ত্র দিয়েছে। সিরিয়াসলি?

গত বছর ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইল এতো বড় একটা আগ্রাসন চালালো, তার বিরুদ্ধে আইএস কোন অ্যাকশন নিল না; ইসরইলের বর্ডার ঘেঁষা সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের দখলে থাকা সত্বেও। বরং তারা বলেছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আগে বরং তারা হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। কারণ হামাস সত্যিকারের মুসলমান না।

এখন পর্যন্ত আইএস কাদেরকে হত্যা করেছে? বিপুল সংখ্যক মুসলমানদেরকে (এর মধ্যে একটা বড় অংশ যদিও শিয়া, যাদেরকে ওরা মুসলমানই মনে করে না)। আর অমুসলমানদের মধ্যে যাদেরকে হত্যা করেছে তাদের বেশিরভাগই সাংবাদিক, নয়তো সাধারণ খ্রিস্টান ওয়ার্কার। এ পর্যন্ত ঠিক কয়জন আমেরিকান/ব্রিটিশ আর্মিকে হত্যা করেছে তারা বলতে পারবেন?

তাদের কর্মকান্ডের ফলাফল এখন পর্যন্ত কী? একটা বড় অঞ্চল তাদের হস্তগত হয়েছে, যেখানকার ভেতরের মানুষের মনোভাব কি আমরা জানি না। শুধু সিরত দখল করার পর থেকে দেখছি, সিরতের নব্বই ভাগ মানুষই এদেরকে দেখতে পারেনা। না গাদ্দাফীপন্থীরা, না বিদ্রোহীরা, না ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা যারা আনসার আল শারীয়াকে কিছুটা পছন্দ করত। এছাড়া তাদের অর্জন কি? দুনিয়াতে ইসলামোফোবিয়া বিশাল আকারে ছড়িয়ে দেওয়া। গত বছর ফিলিস্তিনের পক্ষে যে বিশ্বজনমত তৈরি হয়েছিল, সেটাকে ধূলিস্যাত করে দেওয়া।

এদের আয় মূলত বিভিন্ন বন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়, ব্যাংক লুট এবং তেল বিক্রি। তেল কোথায় বিক্রি করে? তুর্কির মাধ্যমে চোরবাজারে সস্তায় বিভিন্ন পশ্চিমা কোম্পানীর  কাছে। লাভটা কাদের? তুর্কির এবং ঐ পশ্চিমা কোম্পানীগুলোর।

https://www.facebook.com/tohamh
মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা
সিরত - লিবিয়া

১৫

Re: ISIS এর সাথে জীবন যাপন

হুমম... হতে পারে। পশ্চিমারা তাদের প্রয়োজনে নিচে নামতে নামতে নরক পর্যন্ত যেতে পারে তাতে কোন সন্দেহ নেই। মানুষ তো! কিন্তু এর প্রতিকার কি? মানে এটা আমেরিকা করছে এর সপক্ষে প্রমান না পাওয়া গেলে তো একশানও নেয়া যাবেনা।

ইলিয়াস লিখেছেন:
সদস্য_১ লিখেছেন:

এখন তাদের দখলে আছে পাচটা তেলক্ষেত্র একেটা ফিল্ডে ৬০/৭০ টা করে কুপ। ২৫ হাজার + ব্যারেল প্রতি দিন!! অনেক টাকা... টাকাই টাকা!

এই তেলের গ্রাহক কারা ?

চোরা বাজারীর ভায়া হয়ে ভাল মানুষ। আমি আপনি সবাই।  sad