টপিকঃ ইদানীং....

লেখালেখি করতে আসলে কি লাগে ? লেখার সাবজেক্ট লাগে, লেখা সাজাতে পারার ক্ষমতা লাগে, আর সবচেয়ে বড় কথা, লেখার ইচ্ছে থাকতে হয়। প্রথমটা আছে, অহরহই মেলা কিছু ঘটে, দ্বিতীয়টা একসময় সম্ভবত ছিল, এখন সেটা নেই আর। লিখতে গেলে একটু পরে তাল হারিয়ে ফেলি। আর লেখার ইচ্ছে ? করে মাঝে মাঝে, লিখতে বসলে আর সেই ইচ্ছেটা থাকে না ইদানীং।


বাড়িতে গেলাম কিছুদিন আগে, সাথে এবার আশিফকে নিয়ে গেলাম। তো লঞ্চে করে যাবো, আশিফ কখনো আগে লঞ্চ দেখেও নাই, পেপার পত্রিকায় পড়েশুনে সে বুঝতে পেরেছে এইটা আসলে সুবিধার জিনিস না। ধরে নাড়াচাড়া করলেও উল্টিয়ে ডুবে যেতে পারে এরকম একটা ধারনা তার হয়ে গেছে। যাইহোক, বড় ভাইদের কাছে পচানী খাওয়ার পর শেষমেষ রাজী হল লঞ্চে যেতে। পরের দিন, সদরঘাটে গিয়ে দাড়ালাম লঞ্চের সামনে, সুরভী-৭ এর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে কইলাম, আমরা এইটায় যাবো। আশিফ খানিক্ষন চিন্তিত মুখে দাড়িয়ে কইলো, এইটা লঞ্চ না আর কিছু ? শিপ কইলেও তো দোষের কিছু হবে না দেখি।
কি আর করা, ইদানীং লঞ্চগুলাও শিপের মত বড় হয়ে গেছে।



লঞ্চে বসে আছি দুইজন, আমার এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে ঘুমানোর সমস্যা, এদিকে আশিফের ইঞ্জিনের হালকা ভাইব্রেশন ঠিক সহ্য না হওয়াতে সেও জেগে বসে আছে। খানিক্ষন এদিক সেদিক করে দুজনে মিলে ডিসিশন নিলাম, মুভি দেখবো। দুইজনে মিলে Imitation Game দেখা শুরু করলাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশরা কেমনে জার্মানদের ১২টা বাজাইছিলো ইনিগমার পাজল ব্রেক করে সেইটার উপর মুভি। তো আমরা মনোযোগ দিয়ে মুভি দেখতেছি (মুভিটা আসলেও ভাল, রিকমেন্ডেড) হঠাৎ আশিফ জিগেষ করলো, আচ্ছা ভাই, এই যে কচ্ছে "হেইল হিটলার হেইল হিটলার" এইটার মানে কি ?
জার্মানী যাই নাই কোনদিন, জার্মানের দাতভাঙা ভাষা নিয়াও কোন আইডিয়া নাই। ওয়েবে দরকার হইলে ট্রান্সলেটর দিয়া পার পাইয়া গেছি। হেইল হিটলারের আসল মানে কি নিজেই কনফিউজ হয়া গেলাম।

খানিক্ষন চিন্তা করে উদাস ভঙ্গিতে উত্তর দিলাম, জার্মানীতে ওরা কইতো "হেইল হিটলার, আর আমরা আমাদের দেশে কই "জয় বঙ্গবন্ধু, মানে একই আর কি"
ইদানীং, থিওরীটিকাল্যী বুঝানোর থেকে এক্সামপল দিলে পোলাপাইন তাড়াতাড়ি বুঝে জিনিসটা আরেকবার প্রমাণ হইলো আর কি।



বাই দ্যা ওয়ে, ইমিটেশন গেমের মুভিতে একটা পার্টে দেখায়  কেমনে ইনিগমা কোড ব্রেক করার আইডিয়া মাথায় আসে ওই বেটার। সারকাস্টিকলি, আইডিয়াটা পাইছিল এক জার্মান সোল্জারের কারনে। বেচারা যদি জানতো যে তার গার্লফ্রেন্ডের প্রতি তার অগাধ ভালবাসার কারনেই তারা ওয়ার্ল্ডওয়্যারে বাশ খেয়ে গেছে, অবশ্য এই সিক্রেট বের হইছে ৫০ বছর পর। বেচারার মনে হয় কপাল ভাল, অতদিন বেচে থাকার কথা না।
ইদানীং ক্রিপ্টোগ্রাফী নিয়া পড়াশুনা করার শখ হইছে। কেউ পারলে কয়েকটা বই রিকমেন্ড কইরেন তো। কিন্ডেলটা পড়েই আছে। জাভাস্ক্রিপ্টের উপরে বই পড়া শুরু করে আপাতত পজ হয়ে আছে।


আমি মানুষ হিসেবে ঠিক সুবিধার না। দুইদিন পর পর নতুন নতুন মেয়ের উপর ক্রাশ খাওয়ার রেকর্ড আছে সেই ছোটবেলা থেকে। শুরুটা হইছিল মনে হয় এমা ওয়াটসনকে দিয়া। তারপর যে কতজনের উপর খাইলাম। সর্বশেষ ক্রাশটা খাইলাম এলি গোল্ডিং এর উপর। মেয়েটা এত্ত কিউট করে কথা হয় শুনলেই আমি পুরা গলে যাই অবস্থা। আর গানগুলাও কত্ত সুন্দর!!!  thumbs_up
সেইদিন  ডাইভারজেন্ট দেখতে বসছিলাম। কাহিনির প্রোগ্রেস দেইখা চরম বিরক্ত হয়া গেছি, এদিকে ঘুমও আসে না, বিরক্ত হইয়া সেই অখাদ্যই দেখতেছি, হঠাৎ দেখি এলি গোল্ডিং এর Hanging On বাজতেছে মুভির মধ্যে। সেই চরম অখাদ্য টাইপের মুভি মূহুর্তের মধ্যে আমার কাছে মোটামুটি বার্গারের মত টেস্টি হয়া গেল।
পুনশ্চ: ইদানীং বৃটিশ একসেন্ট শিখারও খায়েশ হইছে। আম্রিকান ইংলিশ একটা ইংলিশ হইলো!  ghusi



গ্যাজেটের ব্যাপারে আমি সেইরকম ক্রিটিক। অতিমাত্রায় খুতখুত না করে আমি কোন জিনিস ঠিক কিনতে পারি না। সেই খুতখুত পার হওয়ার পর যে সমস্যাটা শুরু হয় সেইটা হচ্ছে টাকা। যাইহোক, গত ডিসেম্বরে হুট কইরা একগাদা টাকা হাতে চলে আসলো, আর সাথে সাথে আমার মাথাও আউলায়ে গেল। খটাখট করে একটার পর একটা গ্যাজেট কিনা শুরু করলাম। প্রথমেই কিনলাম একটা ২২ ইঞ্চি মনিটর। কিনা দেখি মনিটের এই মাথা থেইকা ওই মাথা দেখতে গেলে পুরা মাথা ঘুরায়ে তাকাইতে হয়। একদিন ইউজ কইরা আবার ল্যাপটপের মনিটরেই ফিরে গেলাম। দুইদিন পর আবার মনিটরে।
ইদানীং ল্যাপটপের স্ক্রীনে তাকাইলে মনে হয় আদিকালের 800x640 রেজুলেশনের ডিসপ্লে দেখতেছি। কি যন্ত্রনা!


কিন্ডেল কেনার খায়েশ ছিল, সেইটাও কিনলাম, বন্ধুবর সুদূর জার্মানী থেইকা কিন্ডেল আর একপিস গেমিং মাউস কিনা পাঠায়ে দিল আমারে। তারপর যা হওয়ার তাই হইলো, মাউসটা এখনও কাজেই লাগে, ফীচারগুলা ঠিকই ইউজ করা হয়। কিন্তু কিন্ডেল ? প্রথম কয়দিন প্রবল উৎসাহে পড়াশুনা শুরু কইরা দিলাম, বাসে বইসা পড়ি, ঘুমাইতে গিয়া পড়ি, বাথরুমের অবস্থা ভাল হইলে মনে হয় ওইখানে গিয়াও পড়াশুনা শুরু কইরা দিতাম।
ইদানীং ব্যাগেই থাকে। ঘুম থেকে উঠে কাজ করতে বইসা যাই। এত পইড়া কি হবে জীবনে ???


টাকা আরো থেকে যাওয়ায় শখের ডিএস্লারও কিনা ফালাইলাম। কিনার পরেরদিনই আমার খালাতো ভাই সেইটা নিয়া লাফাইতে লাফাইতে ভার্সিটি গেল। সন্ধ্যায় বাসায় এসে দেখি লেন্সের উপরে ফ্রিঙ্গারপ্রিন্ট। পাশের রুমেই থাকা খালতো ভাইরে স্কাইপে নক দিলাম:
"লেন্সের উপরে ফীঙ্গারপ্রিন্ট"
পাশ থেকে খালাত ভাইয়ের সোজা উত্তর, "স্যরি ভাইয়া, এক মেয়ে ছবি দেখতে নিসিল, লেন্সের উপরে হাত দিয়ে ধরেছে, বুঝইতো, দেখতে সুন্দরী"
আমি আর কিছু কইলাম না। সুন্দরী মেয়ের মাথায় বুদ্ধি একটু কম থাকে, নতুন কোন তত্ত্ব না।
আমার ডিএস্লার কেনার সুবাদে আমার খালাত ভাইরে সেই রাতে কমসে কম ১২টা মেয়ে এ্যাড রিকোয়েষ্ট পাঠাইছে।
আমি ওইদিন বসে বসে আমার ফোনের ছবি তুলে কাটাইছি।  #NerdLife  isee


যাইহোক, ইদানীং আসলে আবিস্কার করলাম, টাকা কম থাকাই ভাল। টাকার প্রতি আকর্ষন কম থাকে, শান্তিতে থাকা যায়। যত টেকা তত অশান্তি। জাতি, শান্তিতে থাকতে চাইলে হাতে টাকা আসা মাত্রই খরচ করে ফেলেন। জীবন দুইদিনের, আর বাংলাদেশে থাকলে কালকে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরবেন কিনা সেইটারও গ্যারান্টি নাই। 


যাইহোক, একটা জবে এপ্লাই করবো, তো সিভি দিতে হবে। বইসা বইসা সিভি বানাইলাম। বানানো শেষ কইরা ফ্রেন্ডরে কইলাম একটু দেইখা দে। ফ্রেন্ড দেইখা কইলো, সবই ঠিক আছে কিন্তু ছবিটা পারলে চেঞ্জ কর। টাই পইরা ছবি দে।


এখন সিভির লাইগা টাই পইড়া ছবি তুলতে যাইতে হইবে, এইটাই বাকি আছিল জীবনে মনে হয় দেখার। hmm


ইদানীং সবকিছুই এত উল্টাপাল্টা ক্যানে ?

Re: ইদানীং....

thumbs_up খালাত ভাই তো wink একদিনে ১২ জন রে পটায় ফেলল wink।  তুমি কয়টাকে পটালে?  tongue

Re: ইদানীং....

সকালে ঘুম থেকে উঠি, মাঝে মাঝে পড়তে বসি। এরপর অফিসে যাই। অফিস থেকে সন্ধায় ফিরে মাঝে মাঝে রান্না করি। এরপর পড়তে বসি বা সিনেমা দেখি। এরপর ঘুমাই। সেটা রাত ৯ টার সময়ও হতে পারে আবার রাত ২ টার সময়ও হতে পারে। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠি। এইতো এভাবেই চলছে। তবে ইদানিং এর সাথে যুক্ত হয়েছে লুমিয়া ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করা। মাঝে মাঝে গুগলে এমনও লিখতে হচ্ছে যে "How to change device name on nokia lumia 520"  roll

Re: ইদানীং....

মেহেদী৮৩ লিখেছেন:

এখন সিভির লাইগা টাই পইড়া ছবি তুলতে যাইতে হইবে, এইটাই বাকি আছিল জীবনে মনে হয় দেখার। hmm


সিভি না বায়োডাটা? kidding বিয়া কত্তেছেন নাকি? hehe

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (০২-০২-২০১৫ ০৮:০৭)

Re: ইদানীং....

ছায়ামানব লিখেছেন:
মেহেদী৮৩ লিখেছেন:

এখন সিভির লাইগা টাই পইড়া ছবি তুলতে যাইতে হইবে, এইটাই বাকি আছিল জীবনে মনে হয় দেখার। hmm


সিভি না ? kidding বিয়া কত্তেছেন নাকি? hehe



বিয়াড্যটা

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

Re: ইদানীং....

বাহ, সুন্দর করে সাজিয়ে লিখেছেন  clap
মাসে অন্তত এরকম একটা লেখা আপনার কাছ থেকে চাই।

IMDb; Phone: OnePlus 8T; PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: ইদানীং....

বোরহান লিখেছেন:

বাহ, সুন্দর করে সাজিয়ে লিখেছেন  clap
মাসে অন্তত এরকম একটা লেখা আপনার কাছ থেকে চাই।

আমি  ওওওওওও চাই

jahidul raju

Re: ইদানীং....

কনফেশন ভালা হইছে! tongue

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (০২-০২-২০১৫ ১১:১৬)

Re: ইদানীং....

কিন্ডলে নিয়ে একই রকম অনুভুতি। পেপার টেকনোলজি প্রথম কয়দিন ভাল্লাগে -- তারপর নিরামিষ। কতদিন ধরে কিন্ডলেটা ড্রয়ারে পড়ে আছে ... ...

এয়ার ক্রাশ ইনভেস্টিগেশন সিরিজটা কি ভুলেই গেলেন?

১০

Re: ইদানীং....

আপনার লেখার হাত ভাল ! নিয়মিত লেখলে একটা কেউকেটা গোছের লেখক হয়ে যেতেন।  smile

১১

Re: ইদানীং....

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

এয়ার ক্রাশ ইনভেস্টিগেশন সিরিজটা কি ভুলেই গেলেন?


সিজন ১৩ দেখা শেষ করছিলাম সেই কবে। তারপর নতুন কিছু আসে না দেখে, সেকেন্ড ওয়ার্লড ওয়্যারের বিভিন্ন ডকুমেন্টারী দেখা শুরু করলাম। ইনিগমা, বিসমার্ক, ইয়ামাটো, হ্যান ত্যান। কালকে রাত্রে কি মনে হওয়ায় সার্চ দিয়া দেখি সিজন ১৪ শুরু হইয়া গেছে। লাফায়ে লাফায়ে দেড়খানা পর্ব দেখলাম। এপিসোড দুই তে  সেই "নিকি লাউডা" নিয়ে কাহিনি।

ইদানীং মনে হয়, দেখার প্রচুর জিনিস আছে, কিন্তু লাইফটা আসলেই অনেক ছোট্ট। sad

১২

Re: ইদানীং....

ভাল, বরাবরের মতই উপভোগ্য লেখা smile

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত