টপিকঃ ছাতু

ছাতু
গ্রামীণ ঐতিহ্য ও খেলা নিয়ে অনেক পোস্ট লিখেছিলাম ও লিখে যাচ্ছি। এবার ভাবলাম গ্রামীণ উপাদেয় খাদ্য নিয়ে কিছু  লিখি। গ্রামীণ জীবনে কত উপাদেয় খাদ্য  ভোজন করে যে নিজেকে বার বার তৃপ্ত হয়েছি তার ইয়ত্ত নেই। সেই সব স্মৃতি থেকে খাদ্য নিয়ে কিছু লিখার প্রয়াস। এর আগে গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় একটি খাদ্য “সিধল”   নিয়ে লিখেছিলাম ।“সিধল” নিয়ে লিখাটা একটু পিছনে গিয়ে পড়ে নিন। আজ গ্রামের মানুষের জনপ্রিয় খাদ্য ছাতু নিয়ে দু কলম লিখে ফেলি।
তো আসুন গ্রামের ছাতু কি ভাবে তৈরি হয় তা প্রথমে দেখে নিই।
>> উপাদান:
১। যব
২।গম
৩।বুট
৪। চাউল
(অনেকে ভুট্টাও মিক্স করে থাকেন।)
>> তৈরির প্রক্রিয়া:
কি পরিমাণ ছাতু আপনার প্রয়োজন তা আগে নির্ধারণ করে নিতে হবে। সেই অনুসারে ৪ টি উপাদান আলাদা আলাদা পরিমাণ নিয়ে নিতে হবে। তবে ১ কেজি ছাতুর জন্য এই উপকরণ গুলি এমন হলে ভাল হয়।
>>যবঃগমঃবুটঃচাউল= ৪০০ : ২০০ :২০০  :২০০ গ্রাম বা কম বেশি করায় যায়।তবে যবের পরিমাণ বেশি রাখা উত্তম।
উপকরণ গুলি ভাল ভাবে পানিতে ধুয়ে উত্তম রুপে রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে। এর পর সেগুলি উত্তম রুপে কড়াইয়ে আলাদা আলাদা করে ভেজে নিতে হবে। ভাজা উপকরণ গুলি( বুটের খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে বা খোসা ছাড়া বুট ব্যবহার করতে হবে) এবার একত্রে মিশ্রণ করে সেগুলি ঢেঁকিতে (গ্রামে আগে ঢেঁকিতেই সব কিছু ভাঙ্গা হত)বা মেশিনে ভেঙ্গে আটায় পরিণত করে নিতে হবে।
আর এই আটার মিশ্রণ কেই বলা হয় ছাতু।
>>সতর্কতাঃ এই ছাতুকে সংরক্ষণ করতে ভেঙ্গে আবারো একটু রোদে ভাল ভাবে শুকিয়ে কাচের / টিনের বোয়েমে বদ্ধ করে রেখে দিতে হবে। তা হলে অনেক দিন এগুলি ভাল থাকে। তবে মাঝে মাঝে রোদে দিলে ভাল হয়।
>> খাবেন যে ভাবেঃ এই ছাতু খাবার গ্রামীণ পদ্ধতি ২টি।
১।মিষ্টি দিয়েঃ গুড় বা চিনি, ছাতু ও পানি মিশিয়ে মণ্ড করে বা ঝোল/গুলিয়ে  আরামসে খাওয়া যায়।
২। ঝাল দিয়েঃ মরিচের ভর্তা , লবণ,ছাতু ও পানি মিশিয়ে মণ্ড করে বা ঝোল/গুলিয়ে আরামসে খাওয়া যায়। 
>> পুষ্টি গুনঃ ছাতুর পুষ্টি গুন যে ব্যপক তা গ্রামের মানুষের মুখেই শোনা যায়। (তাঁরা বিশ্বাস করেন ছাতু পাকস্থলী ঠান্ডা রাখা ও শরীরকে রোগমুক্ত রাখার জন্য অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য) কিন্তু আসলেই কি এর পুষ্টি গুন এত। তবে আসুন জেনে নিই ছাতুর পুষ্টি গুন।
!সাধারনত গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং তৃষ্ণা দূর করতে ছাতু বেশ উপকার দেয়।
! সহজে হজম হয়,
! শক্তি ও পুষ্টি বৃদ্ধি করে,
! খিদে বাড়িয়ে দেয় এবং
! শরীরের জ্বালা পোড়া কমিয়ে দেয়।
!বিজ্ঞানীদের মতে, ছাতু  দূর্বল এবং অসুস্থ মানুষের জন্য আদর্শ পথ্য।
!আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে,  ছাতু  সহজে হজম হয়, শরীর ঠান্ডা করে, বল ও পুষ্টি বৃদ্ধি করে, শুক্র বৃদ্ধি করে, শ্রান্তি, দেহের ঘাম, শরীরের দাহ (জ্বালা) কফ ও পিত্ত নাশ করে, খিদে বাড়িয়ে দেয়, সারক (মল ও প্রস্রাব নিঃসরণ করে), বায়ু নিঃসরণ করে।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: ছাতু

ছাতু খাই মাঝে মাঝে

সুন্দর পোষ্ট ধন্যবাদ আপনাকে

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর