সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (০২-০১-২০১৫ ১৬:০৬)

টপিকঃ পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

অফিস ছুটি বেশ কয়েকদিন। যদিও ছুটিটা নামকাওয়াস্তে - কারণ বাসায় বসে বসে অফিসের কাজই করতে হচ্ছে অবিরত (পরীক্ষার খাতা দেখা)। বাচ্চার স্কুলও বন্ধ -- এক মাসেরও বেশি লম্বা ছুটিতে বাসায় থেকে থেকে ওরও খারাপ লাগে। তাই ঠিক করলাম একটু বাইরে থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসা যাক। ১লা জানুয়ারী দিনটা মেঘলা হলেও তেমন ঠান্ডা ছিলো না, বরং ঘুরাঘুরি করার জন্য দারুন একটা না-গরম, না-ঠান্ডা আবহাওয়া ছিল। রেডি হয়ে বের হতে হতে বিকাল। বাসার গেট থেকে বেরুতেই রিকশা পেলাম। সেটাতে করে গেলাম চারুকলা ইনস্টিটিউট। মেয়ে তো রিকশায় উঠে মা-কে বলছে, "জানো ওটার পাশে মিউজিয়াম আছে, তোমাকে দেখাবো"। মা তো অবাক, ও জানলো কি করে! কারণ গত ডিসেম্বরেই ওদের স্কুল থেকে মিউজিয়ামে নিয়ে এসেছিলো; তো সেদিন আমি ওখান থেকে ওকে নিয়ে চারুকলার বাইরে দিয়ে দেখিয়ে নিয়ে এসেছিলাম, আর এবার যাওয়ার সময় বলেছিলাম।
https://lh4.googleusercontent.com/-Xp6C7Hvt5sk/VKY6KpDoNCI/AAAAAAAADoY/2fbV93njyXQ/w735-h551-no/IMG_2052.JPG
চারুকলার সামনে নেমেই চুড়িওয়ালা মহিলার শ-দুয়েক টাকার বিক্রি হল (থ্যাংকস টু মাই ওয়াইফ)। শহরে এপার্টমেন্টে থাকা বাচ্চারা অনেকটা ফার্মের খাঁচায় বড় হওয়া মুরগীর মত। এতটুকু প্রকৃতি, গাছপালা, ছাড়া-কুকুর পেয়ে সে অভিভূত। হৈ হৈ করে দৌড়ে বেড়াতে লাগলো এদিক থেকে সেদিক। একটা পাথর দেখে চিৎকার -- বাবা বাবা দেখো একটা পাথর!! উপরের ছবিটা চরুকলা ইনস্টিটিউটের দক্ষিন দেয়াল ঘেষে থাকা একটা বাচ্চাদের অংকন শেখানোর স্কুল। বউ মহা খুশি, কারণ তাঁর কাপড়ের রঙের সাথে ম্যাচ করা রঙে দেয়াল টইটুম্বুর। ছাদের উপরে বড়ই গাছ, আর পেছনে কলা গাছ সব মিলিয়ে দৃশ্যটা বেশ চমৎকার লাগছিলো।

https://lh4.googleusercontent.com/-XJzzzzQkKHw/VKY6LnhwWBI/AAAAAAAADog/txXhuTz6fJ4/w735-h551-no/IMG_2057.JPG
জানিনা কে এই নোটিশটা লাগিয়েছে, কেন লাগিয়েছে। তবে এটা দেখলেই এর গোড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার একটা ইচ্ছা জেগে উঠবে মানুষের -- এই ভেবে যে "বাপরে! দশ টাকা দেয়া লাগবে --- কি না কি!" যা হোক, দাঁড়িয়ে বানানটা ঠিক নাই wink

https://lh5.googleusercontent.com/-zsfd817QoOc/VKY6NM2vA7I/AAAAAAAADoo/3Cv6nO8tNFQ/w735-h551-no/IMG_2061.JPG
মেয়ে পোজ দেয়া শিখেছে বেশ ভালই!

https://lh3.googleusercontent.com/-DkfHEMFRXU8/VKY6OgdkSsI/AAAAAAAADow/UxVK8_Lgi9I/w413-h551-no/IMG_2062.JPG
ইয়ে, এটার ব্যাখ্যা ট্যাখ্যা নিজের মত বুঝে নেন। মেয়েকে খালি বলেছি একজন মা এক হাতে কলস আরেক হাতে বাচ্চাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

https://lh3.googleusercontent.com/-1y9gyXD_w4s/VKY6PmJXaYI/AAAAAAAADo4/4R5NuXmXK-Y/w735-h551-no/IMG_2071.JPG
ক্ষুদিপানা, কচুরীপানা তুলে নিয়ে মেয়ের হাতে দিলাম। দাড়ির মত শেকড় দেখিয়ে বলেছি যে আমাদের টবে যেই গাছগুলো আছে ওগুলোরও নিচে মাটিতে এমন শেকড় আছে।

https://lh6.googleusercontent.com/-gVpz8HVmkfo/VKY6ROlkFII/AAAAAAAADpA/e3_Zon647KI/w735-h551-no/IMG_2072.JPG
ছবি তুলতে কোনো আপত্তি নাই ...

https://lh5.googleusercontent.com/-seo5jX8dnKw/VKY6SV7qNVI/AAAAAAAADpI/MxBy-1_xYeI/w735-h551-no/IMG_2076.JPG
বের হতেই চাচ্ছিলো না। জোর করেই বের করতে হল। এরপর বউয়ের পরিকল্পনা ছিল সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে ঢুকবে। কিন্তু আমার মনে হল, মেয়ের ভাল লেগেছে গাছপালা -- ঐ লাইব্রেরীতে সে হয়তো মজা পাবে না। তাই রাস্তা পার হয়ে অন্যপাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকলাম। ঢুকেই মনে হল খাবারের স্ট্রিট-মার্কেটে ঢুকেছি। গাছপালা আছে ঠিকই কিন্তু দুইপাশে অনেকগুলো স্ট্রিটফুডের দোকান। ওগুলো খেয়েও মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকে -- এই বিষয়টা আমাকে মানুষের সক্ষমতা সম্পর্কে বেশ ভাবায়।

https://lh5.googleusercontent.com/-jD2fL9vm81c/VKY6T0XAK2I/AAAAAAAADpU/ufP3K79qZzc/w735-h551-no/IMG_2078.JPG
হাঁটতে হাঁটতে পেছনে বউ গজর গজর করছে --- "এই মানুষটার রুচি আর ভাল হল না। কোথায় লাইব্রেরী যাব, তা না ধুলা বালুর মধ্যে নিয়ে এসেছে"। আমি একটু কনফিউজড (কারণ বউ তো আমিই পছন্দ করেছিলাম, আর আমাকে পছন্দ করেছিলো ও) আর না শোনার ভান করে হন হন করে সামনে আগাতে থাকলাম। কারণ মাঝে স্বাধীনতা স্তম্ভতে কখনো যাইনি; অন্যেরা গিয়ে ছবি দেয়, নেটে ছবি দেখি, কিন্তু নিজে কখনো যাইনি। আজ দেখেই যাব। ওয়াকওয়ে ছেড়ে ধুলাবালি, ছোট ওয়াল- এসবের উপর দিয়ে হাঁটতে পেরে মেয়ে মহা খুশি। এমন করতে করতে সামনে একটা শিখা জ্বলছে এমন জায়গায় পৌঁছুলাম। ডানে তাকাতেই চমৎকার চত্বর, গাছগুলো সাইজ মত কাটা। পরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখলে বিদেশ মনে হবে। তবে আমরা তো আর সভ্য হইনি, তাই এসব জায়গায় মোটরসাইকেল তুলে দেই ডাঁটে।

https://lh5.googleusercontent.com/-s0x-HqS5ydU/VKY6UqXxDuI/AAAAAAAADpY/O0V5siJnEJs/w735-h551-no/IMG_2094.JPG
কাঙ্খিত স্বাধীনতা স্তম্ভে পৌঁছে সকলের মন নিমেষেই ভাল হয়ে গেল। অসাধারণ একটা দৃশ্য! যদিও নিচে মানুষজন, মটরসাইকেল, সাইকেল আর ঠোঙ্গা দিয়ে ময়লা করে ফেলেছে, কিন্তু ঢাকা শহরে এমন ভাবে চোখের সামনে খোলা আকাশ + দিগন্তে গাছ ইদানিং কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তার উপর আকাশে মেঘের সাজটাও অদ্ভুদ সুন্দর লাগছিলো।
মেয়ে অবশ্য ক্লান্ত, আমার বা ওর মায়ের শরীরে হেলান দেয়ার চেষ্টা করছে, তাই কোলে নিলাম। ব্যাগে ওর খাদ্য (বিরাটাকার চকলেট) ছিলো। পাশে বসে সেগুলো খেয়ে আবার ফুল চার্জে চাঙ্গা হয়ে গেল। এই ফাঁকে আমি অদ্ভুদ সুন্দর আকাশে আলোছায়াগুলো ক্যামেরায় ধরার চেষ্টা করতে লাগলাম।

https://lh5.googleusercontent.com/-kuHvUc1iEUM/VKY6VaAC_1I/AAAAAAAADpk/7VNJ2Z1R8cs/w735-h551-no/IMG_2095.JPG

https://lh3.googleusercontent.com/-1qEAT_V2hTU/VKY6WaQUSXI/AAAAAAAADpo/Idgq-Xcdjac/w735-h551-no/IMG_2115.JPG
উপরের দৃশ্যটা দেখে ভুলবেন না। ক্যামেরার চোখ একটু নিচু করে তুলতেই এমন দেখাবে। পরিচ্ছন্ন থাকলে অবশ্য এটাও অসাধারণ একটা দৃশ্য হত।

https://lh4.googleusercontent.com/-E6ywhc9Mwlo/VKY6XqZ4GmI/AAAAAAAADp0/oAyy2NbSZIs/w735-h551-no/IMG_2116.JPG

https://lh5.googleusercontent.com/-uNHTYChMqJA/VKY6YLt_pcI/AAAAAAAADp4/oGqD-cNDP5o/w735-h551-no/IMG_2121.JPG
আকাশ দেখার বিলাসিতা।

https://lh6.googleusercontent.com/-ASE8SzeGWY0/VKY6Zh3ikuI/AAAAAAAADqA/M8h7f_J5KsE/w735-h551-no/IMG_2122.JPG
ক্যামেরায় চোখে দেখা সৌন্দর্য আর রঙ ধরা যায় না। এরকম সময়ে ভাল ক্যামেরার জন্য আফসোস লাগে কিছুটা।

https://lh4.googleusercontent.com/-oq2-GB_Ns7I/VKY6gR_FwUI/AAAAAAAADqs/EqQa3l0UP4U/w735-h551-no/IMG_2133.JPG

সভ্য হওয়ার আগেই সভ্যতা চাপিয়ে দিলে যা হয় আর কি! এখানে কিছুদুর পর পর স্থানের স্থাপত্যের সাথে মানানসই ডিজাইনে ওয়েস্ট বিন দেয়া উচিত বলে মনে হয়। আর প্রতি ঘন্টায় যদি ময়লা কুড়ানো টোকাই নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে এটা অসাধারণ সুন্দর একটা জায়গা হতে পারে। পরিচ্ছন্ন জায়গা দেখলে এমনিতেই বাকীরা সেটাতে ময়লা-ঠোঙ্গা ইত্যাদি ফেলতে দ্বিধা বোধ করবে, ডাস্টবিন খুঁজে ময়লা ফেলবে। ফলে পরবর্তীতে পরিচ্ছন্ন কর্মীগণ অন্য কাজেও সময় দিতে পারবেন।
https://lh4.googleusercontent.com/-hS15QiDska4/VKY6bBtOGFI/AAAAAAAADqI/NBUDg1GICFY/w735-h551-no/IMG_2124.JPG

https://lh6.googleusercontent.com/-GNkP2JSKkJQ/VKY6cteiZeI/AAAAAAAADqQ/jhNkFaVB95I/w735-h551-no/IMG_2126.JPG

https://lh6.googleusercontent.com/-au9hmDMCdj4/VKY6dgoXeHI/AAAAAAAADqY/icX7g7AYYko/w413-h551-no/IMG_2127.JPG

https://lh4.googleusercontent.com/-G5sMunL8jLY/VKY6fSnZONI/AAAAAAAADqg/bOB5MXFP3_4/w735-h551-no/IMG_2128.JPG
শুধু ময়লাই না, জায়গায় জায়গায় ছাই দেখে বোঝা যাচ্ছে শীতে এখানে আগুনও জ্বালিয়েছে!!

https://lh4.googleusercontent.com/-R3BUMiDSZhk/VKY6hJaPDRI/AAAAAAAADqw/PwfVdqkfquc/w413-h551-no/IMG_2139.JPG
ফেরত আসার সময়ে দুয়েকটা ছবি না তুললেই না। মুশকিল হল যখনই নীলিয়াকে পেছনে শিশুপার্ক দেখালাম, ও বলে "যেতে চাই"; ভেতরে মানুষ গিজগিজ করছে, প্রতিটা রাইডের সামনে লম্বা লাইন দেখে আমার ওখানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো না, কিন্তু যার জন্য বেড়াতে বের হওয়া সে-ই যখন আগ্রহী তখন আর কী করা! প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। কাজেই অন্যপাশ দিয়ে (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের /রমনার গেটের দিকে) বের হয়ে একটা রিকশা চড়ে সময় আর এনার্জি সংরক্ষণ করে দ্রুত শিশুপার্কে আসলাম।

https://lh4.googleusercontent.com/-wtymEE51miM/VKY6iRDZTHI/AAAAAAAADq8/l05dQiChnSc/w735-h551-no/IMG_2143.JPG
লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে যখন নীলিয়া আর ওর মা রাইডে চড়ছিলো, আমি তখন একটা ছাউনির মধ্যে বসে বসে অপেক্ষায় পপকর্ন চিবাচ্ছিলাম। একসময় ফোন দিয়ে বলে, যে নীলিয়া ট্রেনে চড়বেই - তাই ওরা লাইনে দাঁড়িয়েছে। লাইন এ্যাতটাই লম্বা যে ওদের সুযোগ আসার আগে অন্তত ৬-৭ রাউন্ড পার হয়ে যাবে। আমিও ওপাশে গেলাম। তারপর ওর মা বললো, "তোমার নিশ্চয়ই আমার মত হাইটফোবিয়া নাই -- তাহলে যাও - আমি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি তুমি মেয়েকে নাগরদোলায় চড়াও"। নাগরদোলায় চড়ার আগ পর্যন্ত ভালই ছিলাম। তারপর উচ্চতার ব্যাপারটা ভুলে থাকার জন্য মেয়েকে দুরে অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে আলো ছড়ানো স্বাধীনতা স্তম্ভ দেখাচ্ছিলাম। মেয়ে তো ভয় পাওয়ার মত বড় হয়নি, কাজেই ও আমাকে মাঝে মাঝে অভয় দিচ্ছিলো!!
ওখান থেকে আসার পরও অনেক সময় লাগবে ট্রেনে উঠতে। তাই ওকে নিয়ে নিচু জায়গাটায় (শুকনা পুকুরের মত) নামলাম, উঠলাম; একজায়গায় বসে পপকর্ন খাওয়ালাম। যা হোক অপেক্ষার পালা শেষে একসময় ওরা ট্রেনেও ঘুরে এল। ওর মায়ের সামনে লাইনে যেই হুজুর দাঁড়িয়ে ছিল, লাইন শেষ হওয়ার আগে আগে তার দলবল - বোরখাপড়া মহিলা, আন্ডা-বাচ্চার দল, আল্ট্রা-মডার্ন পোশাকের ছেলে মেয়ের দল মিলে গোটা ১৫ জন যোগ দিয়েছিলো!!
ট্রেন থেকে নামার পর বললাম "চলো পেছন দিক থেকে আলোকজ্জ্বল স্তম্ভটা দেখে তারপর বের হই"। যাওয়ার পথে দোলনা, ঢেকি (সী-সঅ), স্লিপার দেখে ওগুলোতে ওঠার কোর্সও কমপ্লিট করলো নীলিয়া! তারপর আরো একটা টিকিট থাকাতে আর লাইন না থাকাতে ফুলের মত ঘুরে যে রাইডটা সেটাতে উঠলো (এটা আজ ২য় বার); হয়তো "আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী" (মেরি গো-রাউন্ড) রাইডটাতেও আবার উঠতে মন চাচ্ছিলো। কিন্তু আমরা বের হয়ে আসলাম।
https://lh5.googleusercontent.com/-UBR3wCiDFSg/VKY6jQ8e8TI/AAAAAAAADrA/h8hT_XyqAf0/w735-h551-no/IMG_2146.JPG

ভ্রমন শেষ করলাম খাওয়া দাওয়া দিয়ে। গেট থেকে বের হয়ে বেশ খানিকটা প্রাকৃতিক ফুটপাথ (মানে হাঁটার সময় খানা-খন্দ, ভেজা, ধুলা সব মিলিয়ে মনে হবে প্রাকৃতিক পাহাড় পর্বত দিয়ে হাঁটছেন) হেঁটে শাহবাগে এসে রিকশা নিয়ে বাসার কাছের জিনজিয়ান। রিকশায় মোটামুটি অবসন্ন হয়ে আমার ঘাড়ে মাথা ছেড়ে ঘুমালেও, এখানে এসেই নীলিয়া এদের বাচ্চাদের খেলার সেকশনে মহানন্দে আরেক দফা খেলাধুলা করলো। এমনকি খাওয়া দাওয়া শেষেও বের হওয়ার আগে মিনিট দশেক খেলার পর মোটামুটি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বের হয়ে এসেছিলো।
https://lh6.googleusercontent.com/-WmX8SKErwyI/VKY6kqai33I/AAAAAAAADrI/6lfcwjriHis/w735-h551-no/IMG_2152.JPG

সব মিলিয়ে নীলিয়ার জন্য দিনটা স্মরনীয় হয়ে থাকবে মনে হয়। কারণ ভোরে উঠে রাত থেকে আকাশ ফর্সা হয়ে সকাল হওয়া দেখেছে (অবশ্য ভোরে উঠেছিলো কাশতে কাশতে); তারপর যতক্ষন পেরেছে কার্টুন দেখে ড্রইংরুমেই ঘুমিয়েছিলো দুপুর পর্যন্ত। তারপরে তো ফ্রেশ হয়ে এই ঘোরাঘুরি।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

চমৎকার, অসাধারণ, প্রাণবন্ত একটা ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন দাদা +

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

দারুন ঘোরাঘুরি করলেনতো শামীম ভাই !

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

চমৎকার, অসাধারণ, প্রাণবন্ত একটা ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন দাদা +

ধন্যবাদ। আপনার ভ্রমণকাহিনীগুলো পড়ি ঠিকই, কিন্তু এরকম উৎসাহমূলক মন্তব্য করা হয়ে উঠে না।  সম্ভবত শামীম নিক ত্যাগ করার সাথে সাথে অভ্যাসটিতেও লাগাম পড়িয়েছি।  worried

ইলিয়াস লিখেছেন:

দারুন ঘোরাঘুরি করলেনতো শামীম ভাই !

আসলে পেশাগত কাজে (ইঞ্জিনিয়ারিং-কনসালটেন্সি) আমাকে প্রায়ই ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে ঘোরাঘুরি করতে হয়। কিন্তু কষ্ট লাগে মেয়েটার জন্য। দূর্দান্ত প্রকৃতির মাঝে থাকার আনন্দটা সে বেশ মিস করে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।  hug

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

আজ দুই দুইটা চমৎকার ভ্রমণকাহিনী পড়ার পরে শুধু মনে হচ্ছে যে এই প্লেসগুলোর কিছু ছবি আমিও দিয়ে দেই wink । আমাকে দিয়ে টপিক তো আর লেখা হবে না, তাই চিন্তা করছি আপনাদের টপিকেই হামলা চালাবো।  tongue বর্ণনা এবং ছবি, দুটোই দারুন হয়েছে।  thumbs_up

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

ছবিসহ বর্ণনা দারুণ হয়েছে  clap

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

পোজ দেয়া দেখেই বোঝা যায়, বাপকা বেটি  clap

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

অসাধারন বনর্না............প্রায় প্রতিদিনের আড্ডার সাধারন জায়গাটাকে আপ্নি অসাধারন বানিয়ে ছাড়লেন। তবে আমরা সবাই আরেকটু সভ্য হলে হয়তো জায়গাটা আসলেই পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘোরার জায়গা হতো, অথচ সন্ধ্যা নামলেই এই স্বাধীনতার স্তম্বের নিজেরই আর কোন স্বাধীনতা থাকেনা......।

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

চমৎকার লাগলো ভ্রমণকাহিনী; কিন্তু কথা হল একটাও সেলফি নাই কেন? kidding

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

পোজ দেয়া দেখেই বোঝা যায়, বাপকা বেটি  clap

এন্ড চাচাকা ভাতিজী tongue

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

১০

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

পোজ দেয়া দেখেই বোঝা যায়, বাপকা বেটি  clap

পোজ দেয়ার ক্ষেত্রে বাপের মত কীর্তিমান না হলেই বোধহয় ভাল hehe। সেই লিমিটেড রিসোর্স বা ফিল্মের আমলে ভেংচি কাটা বা অদ্ভুদ মুখভঙ্গি করে ছবি তোলার ব্যাপারটা বেশি এক্সাইটিং ছিল -- এখন তো এরকম ছবি উঠলে সাথে সাথেই ক্যামেরার মেমরি থেকে ডিলিট করে ফেলা যায়। hmm

মেহেদী হাসান লিখেছেন:

অসাধারন বনর্না............প্রায় প্রতিদিনের আড্ডার সাধারন জায়গাটাকে আপ্নি অসাধারন বানিয়ে ছাড়লেন......।

blushing

ছায়ামানব লিখেছেন:

চমৎকার লাগলো ভ্রমণকাহিনী; কিন্তু কথা হল একটাও সেলফি নাই কেন? kidding

পুরাতন প্রজন্ম বলেই বোধহয় তেমন কোনো চাহিদা ফিল করি নাই ... ... ছবিগুলো অন্যকে দেখানোর জন্য বা শেয়ার করার জন্য তোলা হয়; সব ছবি জুড়ে যদি শুধু আমি আর আমি থাকি তাহলে নিশ্চয়ই দর্শকের ততটা ভাল লাগবে না। দুয়েকটা ছবিতে চিপা-চুপা দিয়ে নিজের অংশবিশেষ মাঝে মাঝে দেখানোর উদ্দেশ্য হল যে আসলেই আমি ছিলাম সেটা বুঝানো। তবে, সঙ্গীদের সকলের মনে একই মনোভাব কাজ করে না --- খালি নিজের ছবি তুলতে চায়  roll । আরেকটা ব্যাপার হল, নিজে আসলে দৃষ্টিকটু রকমের বেঢপ সাইজ ধারণ করেছি -- কাজেই যত কম ছবি তোলা যায় ততই কম লজ্জা লাগে।  dontsee

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

অনেকদিন পরে আমেরিকান চপস্যুয়ের মতো কুড়মুড়ে, উপভোগ্য ও চমৎকার বর্ণনাসহ লেখা পড়লাম!  clap শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ! গরীবের কেম্রা-র ছবিও ভালোই হয়েছে।  big_smile

Calm... like a bomb.

১২

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

অনেক সুন্দর একটি লেখা লিখেছেন  thumbs_up

আসলেই ঢাকাতে ১০ ফিট পরপর একটি ওয়েস্ট বিন রাখা দরকার। তাহলে মানুষ আর প্যাকেট গুলো মাটিতে ফেলতো না।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৩

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

আমারও ঘুরতে মুন চাইতাছে ভাই। কেন যে ছবিগুলো দেখলাম। প্রথমে ফেবুতে, তার পরে ব্লগে আর এখানে দেখলাম। বেশ জমপেশ খানাপিনাও ছিলো big_smile
মজাই মজা thumbs_up

হে আল্লাহ, তুমি সকলের মঙ্গল কর; তোমার রহমতের আশ্রয়ে আশ্রিত কর..... আমীন
সঠিক পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন এবং আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটিকে সুরক্ষিত রাখুন

কাজী আলী নূর'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

কাজী আলী নূর লিখেছেন:

বেশ জমপেশ খানাপিনাও ছিলো big_smile
মজাই মজা thumbs_up

তেইশ ছবিতে একটা খাওয়া, পড়লো চোখে আগে,
কাজী সাহেব সামলে চলুন, বিয়ার বয়স লাগে ... ...
আস্ত খাসী খাবেন সেথায়, নিজের জীবন দিয়ে,
বলবো সবে দাওয়াত খেয়ে, আজকে কাজীর বিয়ে।  hehe

ছড়াবাজ'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

দারুণ! দারুণ!! দারুণ!!!

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

হাঁটতে হাঁটতে পেছনে বউ গজর গজর করছে --- "এই মানুষটার রুচি আর ভাল হল না। কোথায় লাইব্রেরী যাব, তা না ধুলা বালুর মধ্যে নিয়ে এসেছে"। আমি একটু কনফিউজড (কারণ বউ তো আমিই পছন্দ করেছিলাম, আর আমাকে পছন্দ করেছিলো ও) আর না শোনার ভান করে হন হন করে সামনে আগাতে থাকলাম।

http://forum.projanmo.com/topic46172.html  hehe

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৬

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

খুব সুন্দর একটা পোস্ট। মনে হয়েছে আমি নিজে সেখানে উপস্থিত। কিছু ব্যাপার আছে যেগুলি শুধু লিখে বর্ণনা করা যায়না। এক কথায় দারুণ। ভাল লাগলো বেশ।

Only when the last tree has died and the last river has been poisoned and the last fish has been caught will we realize that we cannot eat money.

১৭

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

ছড়াবাজ লিখেছেন:
কাজী আলী নূর লিখেছেন:

বেশ জমপেশ খানাপিনাও ছিলো big_smile
মজাই মজা thumbs_up

তেইশ ছবিতে একটা খাওয়া, পড়লো চোখে আগে,
কাজী সাহেব সামলে চলুন, বিয়ার বয়স লাগে ... ...
আস্ত খাসী খাবেন সেথায়, নিজের জীবন দিয়ে,
বলবো সবে দাওয়াত খেয়ে, আজকে কাজীর বিয়ে।  hehe

ছি ছি মৃত কাজীকে আবরও মাইরা খাইতে চায়।
বলেছি তো সব ছবি তিন বার করে দেখা হয়েছে tongue
আর সুন্দর এই ঘোরাঘুরির ছবিগুলোর জন্যই আমার নিজেরও ঘুরতে ইচ্ছে হচ্ছে। mail

হে আল্লাহ, তুমি সকলের মঙ্গল কর; তোমার রহমতের আশ্রয়ে আশ্রিত কর..... আমীন
সঠিক পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন এবং আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটিকে সুরক্ষিত রাখুন

কাজী আলী নূর'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

invarbrass লিখেছেন:

অনেকদিন পরে আমেরিকান চপস্যুয়ের মতো কুড়মুড়ে, উপভোগ্য ও চমৎকার বর্ণনাসহ লেখা পড়লাম!  clap শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ! গরীবের কেম্রা-র ছবিও ভালোই হয়েছে।  big_smile

চপস্যুয়ে -- আহা খিদা পেয়ে যাচ্ছে। মোবাইল ফোনেরটার মত হতদরিদ্র না হলেও হালজামানার ডিএসএল ক্রেজে এটাকে গরীবের কেম্রা বলা যায় বটে (Canon IXUS 240 HS)।

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

আসলেই ঢাকাতে ১০ ফিট পরপর একটি ওয়েস্ট বিন রাখা দরকার। তাহলে মানুষ আর প্যাকেট গুলো মাটিতে ফেলতো না।

বনানীতে কামাল আতাতূর্ক এভিনিউয়ে এরকম বিন দিয়েছে -- সম্ভবত ১০০ ফুট পর পর। দেখা যাক - ঐ সম্ভাব্য এক্সপেরিমেন্ট সফল হলে হয়তো অন্য জায়গাগুলোতেও বসাবে। কিংবা এমন করা যায়, একদিন ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক হাতে লম্বা চিমটা আর ওয়েস্ট ব্যাগ নিয়ে সমান্তরালে হেঁটে হেঁটে পুরা জায়গাটা - কিংবা একাংশ পরিস্কার করলাম। এতে যদি পরিষ্কার আর অপরিস্কারের কনট্রাস্টটা সকলে বুঝতে পারে তাহলেও সচেতনতা বাড়বে। এরকম কোনো ইভেন্ট আয়োজন করা যায় কি? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংসদ নামে একটা সংগঠনের সাথে আমার কিছুটা পরিচয় আছে -- এটা নিয়ে তাঁদের একটা গুতা দিবো নাকি?

কাজী আলী নূর লিখেছেন:

আমারও ঘুরতে মুন চাইতাছে ভাই। কেন যে ছবিগুলো দেখলাম।

আপনি কোথায় আছেন? ফ্রী থাকলে ঘুরতে পারেন যে কোন সময়েই। পরবর্তীতে আমাদেরকে সচিত্র বর্ণনা করে জানালে ... যদিও সেটা জরুরী না।

ছড়াবাজ লিখেছেন:

তেইশ ছবিতে একটা খাওয়া, পড়লো চোখে আগে,

উনি খাঁটি বাঙালী - এ বিষয়ে নিঃসন্দেহ হতে পারেন এবার।

আরণ্যক লিখেছেন:

দারুণ! দারুণ!! দারুণ!!!

হে হে। পছন্দের ঐ বিষয়টা বেশ ভাল একটা ঝগড়া কিলার  big_smile

ইকরাম লিখেছেন:

খুব সুন্দর একটা পোস্ট। মনে হয়েছে আমি নিজে সেখানে উপস্থিত। কিছু ব্যাপার আছে যেগুলি শুধু লিখে বর্ণনা করা যায়না। এক কথায় দারুণ। ভাল লাগলো বেশ।

আহ্। পাঠকের কাছাকাছি পৌঁছুতে পারলে সেই লেখা স্বার্থক।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

ছবি ও বর্ননা দুটোই ভাল হয়েছে।  thumbs_up প্রথমদিনের মত পুরো বছরটাই ভ্রমনময় হোক!

২০

Re: পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

অনেক সুন্দর একটি লেখা লিখেছেন  thumbs_up

আসলেই ঢাকাতে ১০ ফিট পরপর একটি ওয়েস্ট বিন রাখা দরকার। তাহলে মানুষ আর প্যাকেট গুলো মাটিতে ফেলতো না।


ওয়েস্ট বিন রাখলেও  কিছু মানুষ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবে এটা বদ অভ্যাস ,চারুকলার উল্টো দিকের ডাস্টবিনের ভিতর থেকে বাইরে ময়লার পরিমান বেশি ।

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো