সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Moonstruck (২৬-১২-২০১৪ ১৪:২০)

টপিকঃ বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : প্রাচীন বিজ্ঞান

প্রাগৈতিহাসিক বিজ্ঞানের পথ ছেড়ে আজ আমরা প্রাচীন বিজ্ঞানের সন্ধানে হাঁটব।

মেসোপটেমীয় এবং মিশরীয় বিজ্ঞান

মেসোপটেমিয়ার(ইরাক) অ্যাসিরীয় এবং ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় এবং মিশরে (৩০০০ খ্রীঃপূঃ - ১০০০ খ্রীঃপূঃ) বিজ্ঞানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়। লিখন/লেখালেখি ছিল তার মধ্যে একটি। এই সময়কার প্রাপ্ত লিখিত নথি তখনকার সময়ের গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা চর্চা, ক্যালেন্ডার তৈরির মত বিষয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের সত্যতা নিরূপণের সাহায্য করে। এই সময় নদীকেন্দ্রীক চীনা ও সিন্ধু সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল। মেসোপটেমিয়রা সংখ্যার সাহায্যে হিসাব-নিকাশ করতে পারত।

http://s17.postimg.org/3r5ilihgf/Picture1.jpg

তারা কিউনিফর্ম লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে, মিশরীয়রা ব্যবহার করত হায়ারোগ্লিফিক। ৮০০ খ্রীঃপূঃ এই লেখালেখি আরও উন্নত রূপ পায় ফনেসিয়ানদের((ফিলিস্তিন, লেবানন, সাইপ্রাসের উপকূলীয় একটি সেমিটিক সভ্যতা) বের করা আলফাবেটিক লিখন পদ্ধতির ফলে।

http://s1.postimg.org/glgn3pfgf/Picture2.jpg

প্রচলিত গণিত

মেসোপটেমিয়দের উন্নত সংখ্যা ব্যবস্থা ছিল সেক্সাগেসিমাল বা ৬০ ভিত্তিক। আজকের সময় ও কৌণিক পরিমাপেও সেটার ব্যবহার বজায় আছে। জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক পর্যবেক্ষণ  বর্ষপঞ্জী তৈরির (যা প্রায় আজকের বর্ষপঞ্জীর সমতুল্য) অন্যতম নিয়ামক ছিল। মিশরের পিরামিড তৈরি তখনকার জ্যামিতির বাস্তব ব্যবহারের প্রমান।
নিচের উদাহরণে তাদের দক্ষতার নমুনা পাওয়া যাবে।

● ব্যাবিলনীয়দের সংখ্যা ব্যবস্থায় নামতা এবং ভগ্নাংশ ছিল।
● মিশরীয়রা কঠিন জিনিসের(যেমন - পিরামিড) আয়তন বের করতে জানত। তারা বৃত্তের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে পারত। তারা পাইকে (৩.১৪.....) জানত পরিধি এবং ব্যাসের একটি অনুপাত হিসাবে যা বৃত্তের এলাকা নিরূপণ করতে পারে।

জ্যোতির্বিদ্যা

ব্যাবিলনীয় এবং মিশরীয়রা মূলত গণিত ও বিজ্ঞানকে তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে ব্যবহার করেছে। যদিও এতে পরবর্তী সময়ের বিজ্ঞান হয়ে উঠার অনেক নিদর্শন ছিল যা গ্রীক ও অন্যান্য সভ্যতা ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করেছে। ব্যাবলনীয়রা দারুণভাবে জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতকে কাজে লাগিয়েছে যদিও কৃষি ও ধর্মীয় কাজের জন্য বর্ষপঞ্জী নির্মাণই প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। তারা গ্রহ এবং তারাদের মধ্যেকার পার্থক্য বের করেছিল। তাদের কাজের প্রয়োজনে তৈরি যোডিয়াক পরবর্তী সময়ে (প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক) জ্যোতিষবিদ্যায় ব্যবহার শুরু হয়।  এভাবেই প্রকৃত বিজ্ঞান যার সত্যিকার অর্থেই ভবিষ্যৎ বানী করার ক্ষমতা আছে ( গ্রহণ, চন্দ্রকলা, নতুন চাঁদ ) এর সাথে জ্যোতিষবিদ্যার মত ছদ্ম-বিজ্ঞান মিশে যায়। এ রকম ভবিষ্যৎ বানী পাওয়ার পেছনে ছিল অ্যারিথমেটিক প্রগেসনের মত গাণিতিক মডেলের অবদান। গ্রীকরা এক ধরণের জ্যামিতিক মডেলের সহায়তা নিত। নীল/নাইল নদের জোয়ারের এবং বন্যার পূর্বাভাস মিশরীয়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মেডিসিন ও রসায়ন

এ-দুটোর ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন কিন্তু জাদু, প্রার্থনা, এক্সরসিজমের মত বিষয় এতটা জড়িত ছিল এখানে বাস্তব বিজ্ঞানকে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। যদিও সেই ব্যবস্থার নিরাময়ের কার্যকারিতা ছিল বলতে হবে। মিশরীয়রা যে চমৎকার ধাতুর কাজ, রং ও কোন কিছুকে চকচকে করে তুলত জানত তা তুতেনখামুনের সমাধিতে প্রাপ্ত জিনিসই সাক্ষ্য দেয়। স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, টিন, সীসা, পারদ এবং তাদের যৌগগুলো তখনকার কাজে বেশি ব্যবহার করা হত।ব্যবহারিক কাজের জন্য এক ধরণের ট্রায়াল এন্ড ইরর পদ্ধতির রসায়ন গড়ে উঠেছিল যাতে নানান প্রক্রিয়ায় পটাশ, অ্যামোনিয়া, অ্যালকোহল ইত্যাদি ব্যবহার করা হত।

...ক্রমশ প্রকাশ্য...

Eat, drink and be happy

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (২৬-১২-২০১৪ ২১:২৮)

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : প্রাচীন বিজ্ঞান

মিশরীয়দের আগেও হায়ারোগ্লিফিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন ছিল
যেমন

http://2.bp.blogspot.com/-GAAbaVbPFUs/Ts_0O63oNfI/AAAAAAAAAAw/4Ox-CvGKrcc/s1600/jiahn+symbols.gif
চিনের হেনান প্রদেশে পাওয়া, কচ্ছপ শেলে লেখা জিয়াহু (Jiahu) সিম্বল খ্রীঃপূঃ ৬৬০০

http://s15.postimg.org/vtkap4bd7/screenshot_199.png
টারটেরিয়া টেবলেট খ্রীঃপূঃ ৫৩০০