টপিকঃ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ও ঠাকুরমার ঝুলি(প্রথম প্রকাশ: ১৯০৭)

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

ঠাকুরমার ঝুলি(প্রথম প্রকাশ: ১৯০৭)


http://www.bdmonitor.net/blog/bloggeruploadedimage/gmakas/1419453026.jpg

ছোটতে দাদা-দাদি/নানা-নানি বা বাবা-মার কাছে ঠাকুরমার ঝুলির রাক্ষস-খোক্কস এর গল্প আমরা কে না শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু এর লেখক বা সংকলক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সম্পর্কে আমাদের জানা খুব কম। আজ তাকে নিয়ে অল্প কিছু কথা।



দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
জন্ম: ১৫ এপ্রিল ১৮৭৭ (২ বৈশাখ ১২৮৪) 

মৃত্যু: ৩০ মার্চ ১৯৫৬ (১৬ চৈত্র ১৩৬৩ )

১৯০৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে দক্ষিণারঞ্জনের লেখা ও সংগৃহীত রূপকথা কলকাতার কিছু পত্রিকায় ছাপা হয়। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র পাণ্ডুলিপির প্রকাশক না পেয়ে নিজের অর্থেই প্রকাশে উদ্যোগী হন দক্ষিণারঞ্জন। এ সময় দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে যোগাযোগ ঘটে তাঁর। পরে দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্যোগেই সেকালের বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভট্টাচার্য অ্যান্ড সন্স থেকে ১৯০৭ সালে গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয় ‘ঠাকুরমার ঝুলি’।
>>জন্মও শিক্ষা জীবন:

http://www.bdmonitor.net/blog/bloggeruploadedimage/gmakas/1419453084.jpg

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতার নাম কুসুমময়ী ও পিতার নাম রমদারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
>> ১৮৮৭ সালে দশ বছর বয়সে তাঁকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেওয়া হয় ঢাকার কিশোরীমোহন হাইস্কুলে। পরে ১৮৯৩ সালে, কিশোরীমোহন হাইস্কুল থেকে দক্ষিণারঞ্জণকে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয়। এ দুটি স্কুলে থাকার সময় পড়ালেখায় ভালো করতে না পারায় তাঁর পিতা টাঙ্গাইলে বাসরত বোন (দক্ষিণারঞ্জনের পিসী) রাজলক্ষ্মী চৌধুরানীর কাছে রেখে টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী হাইস্কুলে ভর্তি করে দেন। এই স্কুলের বোর্ডিং-এ থেকে তিনি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। কিন্তু পিতার হঠাৎ সিদ্ধান্তে টাঙ্গাইল ছেড়ে ১৮৯৭ সালে বহরমপুর হাইস্কুলে তাকে দশম শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। এই স্কুল থেকেই ১৮৯৮ সালে প্রথম বিভাগে তিনি এনট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এন্ট্রান্স পাসের পর দক্ষিণারঞ্জনকে বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে এফ এ ক্লাসে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু তিনি পড়ালেখা শেষ করেননি।
>>সাহিত্য:
মা বা আহুতি (১৯০৮),
ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৯),
আর্যনারী (প্রথম ভাগ ১৯০৮, দ্বিতীয় ভাগ ১৯১০),
চারু ও হারু (১৯১২),
দাদামশায়ের থলে (১৯১৩),
খোকাখুকুরখেলা (১৯০৯),
আমাল বই (১৯১২),
সরল চন্ডী (১৯১৭),
পুবারকথা (১৯১৮),
ফার্স্ট বয় (১৯২৭),
উৎপল ও রবি (১৯২৮),
কিশোরদেরমন (১৯৩৩),
কর্মের মূর্তি (১৯৩৩),
বাংলার সোনার ছেলে (১৯৩৫),
সবুজ লেখা (১৯৩৮),
চিরদিনের রূপকথা (১৯৪৭),
আশীর্বাদ ওআশীর্বাণী (১৯৪৮) ইত্যাদি।
>>‘চারু ও হারু’সম্ভবতঃ বাংলা ভাষায় প্রথম কিশোরদের জন্য উপন্যাস।
>>এছাড়া ১৯০১ সালে তিনি ‘সুধা’ নামে একটি মাসিক সাময়িক পত্রিকা নিজ সম্পাদনায় প্রকাশ করেন।
*** দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ছবি আঁকতেন, ঠাকুরমার ঝুলি’র ছবিগুলো তাঁর আঁকা। এছাড়াও বাসগৃহে কাঠের উপর খোদাই কর্মে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার পরবর্তিতে কোন এক সময়(জানা যায়নি) কোলকাতায় স্থায়ী হন এবং তাঁর
কোলকাতার নিজস্ব ভবন ‘সাহিত্যভবন’-এ ১৯৫৬ সালে মারা যান।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ও ঠাকুরমার ঝুলি(প্রথম প্রকাশ: ১৯০৭)

চমৎকার শেয়ার

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ও ঠাকুরমার ঝুলি(প্রথম প্রকাশ: ১৯০৭)

চমৎকার হয়েছে।

jahidul raju

Re: দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ও ঠাকুরমার ঝুলি(প্রথম প্রকাশ: ১৯০৭)

উনার আকাঁ কিছু ইলাস্ট্রেশান যদি শেয়ার করতেন..আর চমৎকার পোস্ট..ধন্যবাদ

" DoN't FoLlOw mE, i'M lOsT tOo "