সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Moonstruck (২০-১২-২০১৪ ১৮:৫৬)

টপিকঃ বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : বৈশিষ্ট্য

লেখাটার শুরুতে কিছু কথা বলে নেই। খুব বেশি বড় লেখার অভ্যাস আমার নেই তাই বানান, বাক্য গঠন ও বিরাম চিহ্নের ভুলগুলো নিজ গুনে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

১৭ শতকের আগে ইতিহাসে, বিজ্ঞান একটি পৃথক শাখা হিসেবে স্বীকৃত ছিল না. এটা মূলত জাদুকর, বর্ষপঞ্জি প্রস্তুতকারক, যাজক, দার্শনিক, চিকিত্সক, বা কারিগরদের কাজ হিসাবে পরিগণিত হত।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান 'প্রাকৃতিক দর্শন' এর চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। যা ছিল একরকমের যুক্তি নির্ভর বিশ্বাস ও নীতিশাস্ত্র।
পরবর্তীতে পরীক্ষা, সলিড ইমপিরিকল বেস, জীবন মানের উন্নতি - বিজ্ঞানের এই সব ক্ষেত্রগুলো ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে।
বিজ্ঞান আসলে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্ব-সামঞ্জস্যপূর্ণ শৃঙ্খলার স্ব-আরোপিত নিয়মের ব্যবস্থায় শুধুমাত্র মানুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও নির্ধারিত  একটি মানবিক প্রচেষ্টা। সেই অর্থে "বিজ্ঞান আসলে তাই যা বিজ্ঞানীরা করেন"। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃতিকে যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।
বিজ্ঞানীরা এক অর্থে নিজেরাই নিজেদের কর্তৃপক্ষ। তাদের করা কাজের সফলতা আর ব্যর্থতা থেকেই তাদের নিজস্ব রায় অর্জিত হয়। তারপরও তাদের কাজ সবসময়ই সন্দেহ ও স্থগিত হবার সম্ভাবনায় থাকে। পরবর্তী সময়ের বিজ্ঞানীদের কাছে  এর অন্যান্য পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের পথ খোলা রয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিজ্ঞান

সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পেয়েছে। বিজ্ঞান সংস্থা গঠিত হয়েছে এবং এর অনুশীলনকারীদের  জন্য পূর্ণমাত্রায় কাজ করার সুযোগ তৈরী হয়েছে। পদার্থবিদ জন জিম্যানের ভাষায় "বিজ্ঞান সর্বজনীন"।

পদ্ধতি হিসেবে বিজ্ঞান

পদ্ধতির মত বিষয়ে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, শ্রেণীবিভাগ এবং পরিমাপের মত বিষয় জড়িত থাকে। তবে প্রায়শই এতে অনেক বুদ্ধিবৃত্তি অনুমান জড়িত থাকে যা সবসময়ই যাচাইযোগ্য হতে হয়। বেশিরভাগ পরীক্ষাই বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণের সমন্বয়ে সংঘটিত হয়। হাইপোথিসিসকে নানা রকম পরীক্ষার মাধ্যমে থিওরিস ও ল'সে রুপ দেয়া হয়। এটা আসলে একটা অগ্রসরমান প্রক্রিয়া যার ফলে আরও নতুন নতুন পর্যবেক্ষন, পরীক্ষা ও থিওরির দ্বার খুলে যায়। যে কোন থিওরি আসলে সবসময় ট্রায়ালে থাকে কেননা প্রমাণের উপস্থিতিতে তার খণ্ডিত হবার বা সংশোধিত হবার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

ক্রমবর্ধমান জ্ঞান হিসাবে বিজ্ঞান

ক্রমবর্ধমান জ্ঞানের বৈশিষ্ট্যই বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় শক্তি ও স্বতন্ত্রতা। এখানে গৃহিত সকল জ্ঞান সবসময়ই রিপিটেবল পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য। বিজ্ঞানের সময়ক্রম সবসময়ই তার পৃষ্ঠপোষক বা সমাজের প্রভাশালী মহলের প্রয়োজন বা দৃষ্টিকোনকেই অনুসরণ করে এসেছে। পুরোহিতদের হাতে বর্ষপঞ্জি নির্মাণ জ্যোতির্বিদ্যার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ১৮ শতকের টেক্সটাইলের শিল্পের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে রসায়ন আজকের রুপ পেয়েছে।

ধারনা এবং মনোভাবের উৎস হিসাবে বিজ্ঞান

বিজ্ঞান মহাবিশ্ব এবং মানুষের প্রতি ধারনা এবং মনোভাবের একটি শক্তিশালী উৎস।  কখনও কখনও বিজ্ঞানের এই ধরনের প্রভাব তার কার্যত যাচাইযোগ্য তত্ত্ব বহির্ভূত। সংক্ষেপে এটি মানুষের ওয়ার্ল্ডভিউ গঠনের একটি খুব শক্তিশালী উপাদান। বিবর্তন তত্ত্ব যেমন প্রকৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করার সুযোগ তৈরী করেছে তেমনি একইভাবে কোপার্নিকাসের তত্ত্ব মহাবিশ্বের কেন্দ্রে নিজেদের স্থাপনের ধারণা বাতিল করতে মানুষকে সাহায্য করেছে।  নিউটনীয় বলবিজ্ঞান যে ধারণা দিয়েছে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের অনিশ্চয়তা নীতি তাকে আরও সুদূরপ্রসারী করেছে।

সামাজিক কার্যকলাপ হিসাবে বিজ্ঞান

প্রায়ই বিজ্ঞান সামাজিক চাহিদা প্রেক্ষিতে অগ্রসর হয়। সুতরাং শিল্প বিপ্লবের চাহিদা প্রেক্ষিতে তাপগতিবিদ্যা বিজ্ঞান অগ্রসর হয়েছে। প্রচলিত বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়ত একটা বৈজ্ঞানিক আগ্রহের ফোকাল পয়েন্ট গঠন করতে পারে, তবে তার অগ্রগতি সাধারণ অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত চাহিদা ও শর্তাবলীকেই অনুসরণ করে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধারণ মানুষের পছন্দেই প্রভাবিত হয়। তবে কোন ডেসপোটিক রাষ্ট্র চাইলে বিজ্ঞানকে গুটি কয় মানুষের প্রভাবাধীন রহস্যময় কিছু বলে গোপন রাখা সম্ভব। বিজ্ঞান ও সমাজ পারস্পরিক দ্বিপথ প্রক্রিয়ায় একে অন্যকে প্রভাবিত করে। এর ফলে বিজ্ঞান নিজেকে ইতিহাসে ধরে রাখা ও বারবার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে।

...ক্রমশ প্রকাশ্য...

Eat, drink and be happy

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (২০-১২-২০১৪ ১৩:০৮)

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : বৈশিষ্ট্য

আমার মনে হচ্ছে স্কুলের সমাজ-বিজ্ঞান বই এর ভেতরে ঢুকে গেছি!   whats_the_matter

যাক একটা প্রশ্ন ছিল!  কঠিন কঠিন কিছু শব্দ কিছু বুঝলেও কিছু কিছু বুঝি নাই! তার মধ্যে একটা হইল
"সলিড ইমপিরিকল বেস" এটা কি! 
"কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান" এটা কি?
"ডেসপোটিক রাষ্ট্র" কি?


আমি বুঝি কম তাই প্রশ্ন করতেছি, বিরক্ত বোধ করলে লাভ নাই! উত্তর চাই!  tongue_smile

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Moonstruck (২০-১২-২০১৪ ১৩:৫৩)

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : বৈশিষ্ট্য

Jol Kona লিখেছেন:

আমার মনে হচ্ছে স্কুলের সমাজ-বিজ্ঞান বই এর ভেতরে ঢুকে গেছি!   whats_the_matter

আমি দুঃখিত এর চেয়ে সাদাসিদে ভাষায় লেখায় আমার কম্ম নয়। যাই হোক বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক ও বৈজ্ঞানিক শব্দাবলীর পরিভাষা নাই বললেই চলে (যখন উচ্চমাধ্যমিকে ছিলাম তখন বিচিত্র সব শব্দ মনে রাখতে রীতিমত হিমসিম খেতাম)। আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের নামে গুতাগুতি আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অর্জনেই ভাষার প্রতি সকল দায়-দায়িত্ব শেষ করে ফেলি। বাংলায় জ্ঞান চর্চার মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করায় আমাদের কোন আগ্রহ নেই।

Jol Kona লিখেছেন:

যাক একটা প্রশ্ন ছিল!  কঠিন কঠিন কিছু শব্দ কিছু বুঝলেও কিছু কিছু বুঝি নাই! তার মধ্যে একটা হইল
"সলিড ইমপিরিকল বেস" এটা কি! 
"কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান" এটা কি?
"ডেসপোটিক রাষ্ট্র" কি?

মানুষকে বুঝানোর ক্ষমতা আমার খুবই কম। তাও চেষ্টা করা যাক।

ইমপিরিকল মানে হচ্ছে যা তত্ত্বের চাইতে পর্যবেক্ষন ও পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল। এখন সলিড ইমপিরিকল বেস হচ্ছে এমন একটা একটা দৃঢ় উপায় যার থেকে আরও নতুন কিছু সহজেই বানানো যায় যেটা কিনা সহজেই কোথাও প্রয়োগ করা যাবে কেননা এটা নিবিড় পর্যবেক্ষন ও পরীক্ষা থেকে পাওয়া।

কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা যা ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ এবং বিশ্বতত্ত্বমূলক ঘটনা যেমন মহা বিস্ফোরণ বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করা যায়। পদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ধারণা পাবার জন্য জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। (উইকিপিডিয়া থেকেই দিলাম কারণ এর চেয়ে সহজে আমার পক্ষে লেখা সম্ভব ছিল না)

ডেসপটিক রাষ্ট্র হচ্ছে একধরনের স্বৈরাচারী ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাষ্ট্র। যেখানে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খার কোন মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন ঘটে না।

Jol Kona লিখেছেন:

আমি বুঝি কম তাই প্রশ্ন করতেছি, বিরক্ত বোধ করলে লাভ নাই! উত্তর চাই!  tongue_smile

আমিও বুঝাতে পারি কম, তাই বিরক্ত বোধ করলে লাভ নাই। চেষ্টা করলাম জানি না কতটুকু সফল হলাম।

Eat, drink and be happy

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (২০-১২-২০১৪ ১৪:৩৭)

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : বৈশিষ্ট্য

Moonstruck লিখেছেন:

[
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা যা ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ এবং বিশ্বতত্ত্বমূলক ঘটনা যেমন মহা বিস্ফোরণ বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করা যায়। পদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ধারণা পাবার জন্য জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। (উইকিপিডিয়া থেকেই দিলাম কারণ এর চেয়ে সহজে আমার পক্ষে লেখা সম্ভব ছিল না)

আমার মনে হয় একটু সংশোধনের প্রয়োজন আছে ---  কোয়ান্টাম মেকানিকস্ মূলতঃ অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা (ন্যানো স্কেলে মানে এক মিটারের এক বিলিয়ন ভাগের একভাগ = ন্যানোমিটার; অর্থাৎ অনু, পরমানু) নিয়ে কাজ করে। এই ক্ষুদ্র স্কেলে কণা এবং শক্তি এবং তাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিষয়গুলো সাধারণ বলবিদ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কিন্তু কোয়ান্টামের তত্ত্ব ব্যবহার করে সাধারণ বলবিদ্যার সূত্রগুলো ভালভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।  smile

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : বৈশিষ্ট্য

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

আমার মনে হয় একটু সংশোধনের প্রয়োজন আছে ---  কোয়ান্টাম মেকানিকস্ মূলতঃ অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা (ন্যানো স্কেলে মানে এক মিটারের এক বিলিয়ন ভাগের একভাগ = ন্যানোমিটার; অর্থাৎ অনু, পরমানু) নিয়ে কাজ করে। এই ক্ষুদ্র স্কেলে কণা এবং শক্তি এবং তাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিষয়গুলো সাধারণ বলবিদ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কিন্তু কোয়ান্টামের তত্ত্ব ব্যবহার করে সাধারণ বলবিদ্যার সূত্রগুলো ভালভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।  smile

ধন্যবাদ সংশোধন করে দেয়ার জন্য। বেশি সহজ করতে গিয়ে মূল বিষয়টাই বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল।

Eat, drink and be happy

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (২০-১২-২০১৪ ১৪:৪৩)

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : বৈশিষ্ট্য

isee isee  thinking thinking
মোটামুটি বুঝছি! তবে এটা ভাল মত বুঝছি!

বাংলাদেশ ডেসপোটিক রাষ্ট্রের পরিণত হয়ে যাচ্ছে!  ghusi

পরিবেশ আঙ্কেল!  big_smile থ্যাঙ্কু!  tongue_smile