টপিকঃ ইতিহাস ও সাহিত্য( অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান) পর্ব--- ৩

ইতিহাস ও সাহিত্য( অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান) পর্ব--- ৩


http://www.bdmonitor.net/blog/bloggeruploadedimage/gmakas/1416327779.jpg

বেশ কিছু আগের কথা অনেকের হয়তো মনে থাকবে। ৫ম শ্রেণীর বাংলা বই এ তাকে নিয়ে একটা প্রবন্ধ ছিল। শিরনাম মনে নেই কিন্তু তাকে নিয়ে বেশ কিছু তথ্য ছিল। তাকে নিয়ে প্রবন্ধটা পরে বাদ দেওয়া হয়। যেমন বাদ দেওয়া হয় কাল-মানিক(পেলে) কে নিয়ে প্রবন্ধটা। বর্তমানে যেমন ঢুকানো হয়েছে প্রথম এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহিম এর নাম। এমন কিছু বিখ্যাত মানুষের জীবনী এমন অদল বদল চলবে—আর তা আধুনিকতারই দাবি। অজানা অনেক কিছু যুক্ত যেমন  হবে তেমনি যানা অনেক বিষয় বাদ পড়বে। আর তা নতুনদের কাছে পৌঁছে দেবে অন্য কেও। আজ আসুন সেই অনেকদিন আগে পড়া বাঙালি এক পণ্ডিত সম্পর্কে জানি।
তিনি আমাদের অতি পরিচিত পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর।
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলেন একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত যিনি পাল সাম্রজ্যের আমলে( দশম- একাদশ শতকের) অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পন্ডিত এবং  একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু  , দার্শনিক, বৌদ্ধধর্মপ্রচারক ছিলেন।  তখন সমৃদ্ধ পাল সাম্রাজ্যের আমল।

>>জন্ম ও শৈশবঃ 
>মহামহোপাধ্যায় সতীশ্চন্দ্র বিদ্যাভূষণ ও রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতানুসারে পালযুগে মগধের পূর্ব সীমান্তবর্তী  প্রদেশ অঙ্গদেশের পূর্ব প্রান্তের সামন্তরাজ্য সহোর, যা অধুনা ভাগলপুর নামে পরিচিত, তার রাজধানী বিক্রমপুরীতে সামন্ত রাজা কল্যাণশ্রীর ঔরসে রাণী প্রভাবতী দেবীর গর্ভে ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে অতীশ দীপঙ্করের জন্ম হয়। 
> কিন্তু কিছু ঐতিহাসিকের মতে  দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮০  খ্রিস্টাব্দে  বাংলাদেশের ঢাকার  বর্তমানে  মুন্সিগঞ্জ জেলার  বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
অতীশ দীপঙ্করের বাসস্থান এখনও ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ নামে পরিচিত। ছোটবেলায় তাঁর নাম ছিল আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ। তিন ভাইয়ের মধ্যে অতীশ ছিলেন দ্বিতীয়। তার অপর দুই ভাইয়ের  নাম ছিল--- পদ্মগর্ভ ও  শ্রীগর্ভ।
>>শিক্ষাদীক্ষা ও বিয়েঃ
>মা রাণী প্রভাবতী দেবীর  কাছে এবং স্থানীয় বজ্রাসন বিহারে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন।
>তিন বছরবয়সে সংস্কৃত ভাষায় পড়তে শেখা ও ১০ বছর নাগাদ বৌদ্ধ ও অবৌদ্ধ শাস্ত্রের পার্থক্য বুঝতে পারার বিরল প্রতিভা প্রদর্শন করেন তিনি।
>অতীশ খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেন। কথিত আছে তার পাঁচ স্ত্রীর  গর্ভে মোট ৯টি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তবে পুন্যশ্রী নামে একটি পুত্রের নামই শুধু জানা যায়।
> সে সময়ের প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অবধূত জেতারির কাছে তিনি পাঁচটি অপ্রধান বিজ্ঞানে বিদ্যালাভ করেন।
>মহাবৈয়াকরণ বৌদ্ধ পণ্ডিত জেত্রির পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নালন্দায় শাস্ত্র শিক্ষা করতে যান। ১২ বছর বয়সে নালন্দায় আচার্য বোধিভদ্র তাঁকে শ্রমণ রূপে দীক্ষা দেন এবং তখন থেকে তাঁর নাম হয় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
>১২ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বোধিভদ্রের গুরুদেব অবধূতিপাদের নিকট সর্ব শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করেন।অবদূতীপাদ রাজগৃহের দক্ষিণে সাতটি পর্বত ঘেরা নির্জন পরিবেশে বসবাস করতেন।  অতীশ সেখানে ১২-১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বাস করেন।
>তিনি ১৮ থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত চুরাশী সিদ্ধাচার্যের অন্যতম ও বিক্রমশীলা বিহারের উত্তর দ্বারের দ্বার পন্ডিত নারোপা/ নাঙপাদ এর কাছে তন্ত্র শাস্ত্র শিক্ষালাভের জন্য শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এখানে তিনি ত্রিপিটক ভৈবাষিক দর্শন ও তান্ত্রিক শাস্ত্রে অসাধারণ পান্ডিত্য অর্জন করেন।

>ওদন্তপুরী বিহারের জ্ঞানী ভীক্ষু রাহুল গুপ্ত তাকে “গুহ্যজ্ঞান ব্রজ” পদবীতে ভূষিত করেন। তিনি ওদন্তপুরী বিহারের মহাসঙ্ঘিকাচার্য শীল রক্ষিত তাকে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা দেন। এ সময় মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে তিনি একজন প্রখ্যাত নৈয়ায়িক ব্রাহ্মণকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করলে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পরে। তখন আচার্য শীলরক্ষিত তাকে ‘শ্রীজ্ঞান’ উপাধি প্রদান করেন এবং তাঁর নতুন হয় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
> এরপর ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্য তিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গমন করেন এবং সেখানে প্রখ্যাত পন্ডিত রাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ শাস্ত্রের আধ্যাত্নিক গুহ্যাবিদ্যায় শিক্ষা গ্রহণ করে ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন।
>একত্রিশ বছর বয়সে ধ্যান  শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি মগধের জ্ঞানবৃদ্ধ আচার্য ধর্মরক্ষিতের কাছে যান। ধর্মরক্ষিত তার বোধিসত্বের ব্রতে সাফল্য দেখে তাকে ভিক্ষুধর্মের শ্রেষ্ঠ উপাধি দেন।
>এরপর ১০১১ সালে তিনি ১২৫জন অনুগামী ভিক্ষুসহ এক সওদাগরী জাহাজে মালয়দেশের সুবর্ণদ্বীপে যান এবং সেখানে প্রখ্যাত আচার্য ধর্মকীর্তির কাছে ১২ বছর বৌদ্ধশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি বহু পন্ডিতব্যক্তিকে যুক্তি- তর্কে পরাজিত করে ক্রমেই একজন অপ্রতিদ্বন্দী পন্ডিত হয়ে উঠেন।
>ফেরার পরে কিছু দিন শ্রীলংকায় অবস্থান করে ১০২৫ খ্রিস্টাব্দে ৪৪ বছর বয়সে তিনি আবার ভারতবর্ষে ফিরে আসেন।এ সময় বজ্রাসন মহাবোধি বিহারে (বর্তমান বৌদ্ধগয়া) আয়োজিত সংবর্ধনায় তার অসামান্য পান্ডিত্যের জন্য ‘ধর্মপাল’ উপাধি দেওয়া হয়।

>দেশে ফিরলে  সে সময়  পালরাজ প্রথম মহীপাল তাকে বিক্রমশিলা (ভাগলপুর, বিহার) মহাবিহারের আচার্য পদে নিযুক্ত করেন।
>এর পর বিক্রমশিলাসহ ওদন্তপুরী ও সোমপুর বিহারে দীপঙ্কর ১৫ বছর অধ্যাপক ও আচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। সোমপুর বিহারে অবস্থানকালেই তিনি 'মধ্যমকরত্নপ্রদীপ' গ্রন্থের অনুবাদ করেন বলে কথিত হয়। এ সময় মহীপালের পুত্র ন্যায়পালের সঙ্গে কলচুরীরাজ লক্ষমীকর্ণের যে যুদ্ধ হয়, দীপঙ্করের মধ্যস্থতায় তার অবসান ঘটে এবং দুই রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয়। 
> তার গুরুদের  মধ্যে ১২জনের নাম পাওয়া যায়-
জ্ঞানশ্রী মিত্র,
দ্বিতীয় কুশালি,
জেতারি,
কৃষ্ণপাদ/বাল্যাচার্য,
দ্বিতীয় অবধূতিপা,
ডোম্বিপা,
বিদ্যাকোকিল,
মহিজ্ঞানবোধি,
নারোপা,
পন্ডিত মহাজন, ভূত
কোটিপা,
মহাপন্ডিত দানশ্রী,
প্রজ্ঞাভদ্র,
বোধিভদ্র প্রমুখ।
>> তিব্বত ভ্রমণ আমন্ত্রণঃ
গুজ রাজ্যের দ্বিতীয় রাজা হ্লা-লামা  কয়েক জন ভিক্ষুর হাতে প্রচুর স্বর্ণ উপঢৌকন দিয়ে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বত ভ্রমনের আমন্ত্রন জানালে দীপঙ্কর সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে নিরাশ না হয়ে ব্যাং-ছুব-য়ে-শেস'-ওদ সীমান্ত অঞ্চলে সোনা সংগ্রহের জন্য গেলে কারাখানী খানাতের শাসক তাঁকে বন্দী করেন ও প্রচুর সোনা মুক্তিপণ হিসেবে দাবী করেন। হ্লা-লামা তাঁর পুত্র চ্যান-চাব জ্ঞানপ্রভকে মুক্তিপণ দিতে বারণ করেন এবং ঐ অর্থ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বতে আনানোর জন্য ব্যয় করতে বলেন। চ্যান-চাব জ্ঞানপ্রভ রাজ্যের রাজা হয়ে গুং-থং-পা নামে এক বৌদ্ধ উপাসককে ও আরো কয়েক জন অনুগামীকে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বতে আনানোর দায়িত্ব দেন। এরা নেপালের পথে বিক্রমশীলা বিহারে উপস্থিত হন এবং দীপঙ্করের সাথে সাক্ষাৎ করে সমস্ত সোনা নিবেদন করে ভূতপূর্ব রাজা হ্লা-লামা  '-ওদের বন্দী হওয়ার কাহিনী ও তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করলে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অভিভূত হন।
আঠারো মাস পরে ১০৪০/১০৪১ খৃস্টাব্দে বিহারের সমস্ত দায়িত্বভার লাঘব করে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান তিব্বত যাত্রার জন্য প্রস্তুত হন। তিনি বারো জন সহযাত্রী নিয়ে প্রথমে বুদ্ধগয়া হয়ে নেপালের রাজধানীতে উপস্থিত হলে নেপালের  রাজা অনন্তকীর্তি তাঁকে সম্বর্ধনা দেন। নেপালের রাজপুত্র পথপ্রভা তাঁর কাছ থেকে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণ করেন এবং নেপালরাজের আগ্রহে এক বছর সেখানে কাটান।
এরপর নেপাল অতিক্রম করে থুঙ বিহারে এলে তাঁর সঙ্গী র্গ্যা- লো-ত্সা-বা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-সেং-গে ( ওয়াইলি :rgya lo tsA ba brtson 'grus seng ge ) অসুস্থ হয়ে মারা যান।
১০৪২ খৃস্টাব্দে তিব্বতের পশ্চিম প্রান্তের ডংরী প্রদেশে পৌছন। সেখানে পৌছলে ল্হা-লামা-ব্যাং-ছুব-ওদ এক রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজন করে তাঁকে থোলিং বিহারে নিয়ে যান। এখানে দীপঙ্কর তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ বোধিপথপ্রদীপ রচনা করেন।
১০৪৪ খৃস্টাব্দে তিনি পুরঙে, ১০৪৭ খৃস্টাব্দে সম-য়ে বৌদ্ধ বিহার ও ১০৫০ খৃস্টাব্দে বে- এ-বাতে উপস্থিত হন।
তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার  দীপঙ্কর তিব্বতের বিভিন্ন অংশে ভ্রমণ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। তিনি তিব্বতী বৌদ্ধধর্মে প্রবিষ্ট তান্ত্রিক পন্থার অপসারণের চেষ্টা করে বিশুদ্ধ মহাযান মতবাদের প্রচার করেন। বোধিপথপ্রদীপ রচনাকে ভিত্তি করে  তিব্বতে ব্কা'-গ্দাম্স নামে এক ধর্ম সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়।

তিব্বতবাসী তাকে বুদ্ধের পরেই শ্রেষ্ঠ গুরু হিসেবে সম্মান ও  পূজা করে এবং মহাপ্রভু (জোবো ছেনপো) হিসেবে মান্য করে। তিব্বতের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ক্ষমতার অধিকারী লামারা নিজেদের দীপঙ্করের শিষ্য এবং উত্তরাধিকারী বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিব্বতের ধর্ম ও সংস্কৃতিতে দীপঙ্করের প্রভাব আজও বিদ্যমান।
তিব্বতে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তিনি তিব্বতের একটি নদীতে বাঁধ দিয়ে বন্যা প্রতিরোধের মাধ্যমে জনহিতকর কাজেও অংশগ্রহণ করেন।
সাহিত্যঃ
অতীশ দীপঙ্কর দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন। তিব্বতের ধর্ম, রাজনীতি, জীবনী,
“স্তোত্রনামা, ত্যঞ্জুর”  নামে বিশাল এক শাস্ত্র গ্রন্থ সঙ্কলন করেন। বৌদ্ধ শাস্ত্র, চিকিৎসা বিদ্যা এবং কারিগরি বিদ্যা বিষয়ে তিব্বতি ভাষায় অনেক গ্রন্থ রচনা করেন বলে তিব্বতিরা তাকে 'অতীশ' উপাধিতে ভূষিত করে।  অতীশ দীপঙ্কর অনেক সংস্কৃত এবং পালি বই তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং তিনি তিব্বতে বহু প্রাচীন সংস্কৃত পুঁথি আবিষ্কার করেন এবং নিজ হাতে সেগুলির প্রতিলিপি করে বাংলায় পাঠান।তিনি তিব্বতের ধর্ম, ইতিহাস, রাজকাহিনী, জীবনীগ্রন্থ, ও স্তোত্রনামা লেখেন। তাঁর মূল সংস্কৃত রচনাগুলি বর্তমানে বিলুপ্ত। তিনি তাঞ্জুর’ নামের বিশাল তিব্বতি শাস্ত্রগ্রন্থ সংকলন করেছিলেন। এই মহাগ্রন্থে দীপঙ্করের ৭৯টি গ্রন্থের তিব্বতি অনুবাদ আছে।
মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এবং ইতালির বিখ্যাত গবেষক গ্যুসেপ তুচ্চি দীপঙ্করের অনেক বই আবিষ্কার করেন।
দীপঙ্করের রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে---
বোধি পথ প্রদীপ,
চর্যা সংগ্রহ প্রদীপ,
সত্য দ্বয়াবতার,
মধ্যমোপদেশ,
সংগ্রহগর্ভ,
হৃদয়নিশ্চিন্ত,
বোধি সত্ত্ব মণ্যাবলী,
বোধিসত্ত্ব কর্মাদি মার্গাবতার,
শরণা গতাদেশ,
মহযান পথসাধন বর্ণসংগ্রহ শুভার্থ সমুচ্চয়োপদেশ,
দশকুশল কর্মোপদেশ,
কর্মবিভঙ্গ,
সমাধি সম্ভব পরিবর্ত,
লোকোত্তর সপ্ত কবিধি,
গুহ্য ক্রিয়াকর্ম,
চিত্তোৎপাদসম্বর বিধিকর্ম,
শিক্ষাসমুচ্চয় অভিসময় ও
বিমল রত্নলেখনা উল্লেখযোগ্য।

>>দেহত্যাগঃ
১৩ বছর তিব্বতে বাস করার পর ১০৫৪ সালে বাহাত্তর বছর বয়সে তিব্বতের লাসা নগরীর অদূরে ঞেথাং বিহারে অতীশ দীপঙ্কর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সুদীর্ঘ ১৩ বছর তিব্বতে অবস্থানের পর দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৭৩ বছর বয়সে তিব্বতের লাসা নগরের  কাছে লেথান পল্লীতে ১০৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ নভেম্বর দেহত্যাগ করেন। তার সমাধিস্থল লেথান তিব্বতিদের তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৮ সালের ২৮ জুন দীপঙ্করের পবিত্র চিতাভস্ম চীন  থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় আনা হয়  এবং তা বর্তমানে ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে সংরক্ষিত আছে।
>>>আজ ১৮ নভেম্বর তার মৃত্যু দিন, এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি না থাকলেও এটাকেই তার অনুমাননির্ভর মৃত্যু দিন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

>>>অতীশ দীপঙ্করের এই স্বাতন্ত্র্যসূচক প্রতিকৃতি।  

http://www.bdmonitor.net/blog/bloggeruploadedimage/gmakas/1416328018.jpg

তিব্বতের কদম্পা আশ্রম থেকে উম্ভূত যা ক্রনস সংগ্রহশালা ১৯৩৩ সালে নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটান মিউজিয়াম আর্ট কে উপহার দেয়। এই গ্রাফিক চিত্রণে দেখা যাচ্ছে অতীশ দীপঙ্কর তার বাম হাতে তাল পাতার একটি দীর্ঘ, পাতলা পাণ্ডুলিপি যা সম্ভবত অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ তিনি লিখেছেন এবং তিনি তার ডান হাত দিয়ে শিক্ষণ এর অঙ্গভঙ্গি করছেন তা প্রতীকায়িত করে।
>>>অতীশ দীপঙ্করের জন্ম ভিটাঃ    

http://www.bdmonitor.net/blog/bloggeruploadedimage/gmakas/1416328044.jpg

সুত্রঃ ব্লগ, সাইট, ফেসবুক,উইকিপিডিয়া।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ