৪১

Re: আচিল হলে কি করবো?

পদ্ধতি নম্বর এক

১। পানের বোটা মাঝ খান থেকে ভেংগে তার মাঝে চুল লাগাতে হবে। এবার রাতে ঘুমানোর আগে চুন আর পানের বোটা আচিলের উপর কিছুক্ষন ঘষে লাগিয়ে দিলে সকালে উঠে দেখবো আচিল পরে গিয়েছে। তবে এতে একটা সমস্যা আছে- আচিলের স্থানে একটা দাগ চিহ্ন থেকে যেতে পারে।

কাল রাতে প্রয়োগ করিলাম, সকালে উঠে হতাশ হলাম  sad মনে করেছিলাম একা একাই পরে যাবে কিন্তু যায় নাই। উল্টো শুকনা চুন দাড়ি মোছ থেকে তুলতে গিয়ে দুই তিনটা টান খেতে হয়েছে  tongue

সকালেই দেখেছিলাম আগের মতো আচিল এর কালার ছিলো না, সাদা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিলো। অফিসে এসে এই মাত্র আচিল ধরে টানাহেচরা করাতে দেখি ব্যাটা উঠে এসেছে, যদিও বেশ কিছু রক্ত বাহির হয়েছে  neutral মনে হয় দুইবার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলেই এমনিতেই উঠে যেত  big_smile

সুতরাং পরিশেষে বলতে হচ্ছে- চুন আর পানের বোটা আচিল তুলতে কাজ করে  hehe তবে আফসোস, বাকিপদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করবার সুযোগ পেলাম না  tongue

আমাকে কোথাও পাবেন না।

৪২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৭-১০-২০১৪ ২০:১৮)

Re: আচিল হলে কি করবো?

amilee.2008 লিখেছেন:

যাক, আপনি থুজার সম্পর্কে যা তথ্য দিয়েছে তাতে থুজার চো দ্দ গুষ্টি উদ্ধার হয়ে গেছে...
হোমিওপ্যাথি কখোনো বলেনি, থুজা গাছ তাদের সম্পত্তি (মানে পেটেন্ট),
আর আপনার দেওয়া থুজার বহুমূখী প্রতিভার দস্তাবেজে,

আমারও বক্তব্য সেটাই। অতএব, থুজা-কে হোমীওপ্যাথিক ঔষধ বলা বাদ দিন, কেউ যদি বলেনও তার ভুল শুধরে দিন।

amilee.2008 লিখেছেন:

কোথাও পেলাম না, প্রাচীন কাল থেকেই আচিলের জন্য হোমিওপ্যাথিক স্টাইলে থুজাকে ব্যবহার করে আসছেন,  shame shame

"হোমিওপ্যাথিক স্টাইলে" আবার কি বস্তু? ও আচ্ছা, থুজার একটি মলিকিউল এক গামলা পানিতে চুবিয়ে ওই পানি মহাবিশ্বের সমস্ত জলকণার সাথে মিশিয়ে থিওরিটিকালী ইমপসিবল ডাইলিউশন এ্যাচীভ করে (এ্যাভোগেড্রো মশাই, কবরের মধ্যে কেঁদে উঠবেন না প্লীজ) জলের "মেমরী" কার্ড ব্যবহার করার নাম দিয়ে শেষমেষ কিছুই না করে মায়াজমা-ফায়াজমার কেচ্ছা ফেঁদে স্রেফ ডিস্টিল্ড ওয়াটার বেচে রোগীর পকেট কাটার কথা বলছেন? lol তা ঠিক। এর কৃতিত্ব হোমিওপ্যাথীর একারই! এ ব্যাপারে একমত!  hehe

amilee.2008 লিখেছেন:

সুর, বাক্য, ছন্দ দিয়ে গান তৈরি হয়, আর তা বহু প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে।
রবীন্দ্র সংগীতও সুর, বাক্য, ছন্দ চাড়া আর কিছু নয়,
তবুও তার কৃতিত্ত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই পায় তাই নয় কি? thumbs_up

তা বটে। তাই স্বীকার করেছিলাম - থুজা এবং প্রাকৃতিক উৎস হতে প্রাপ্ত অন্যান্য উপকারী পদার্থের ব্যাপারে হোমীও, ন্যাচারো প্রভৃতি অল্টারনেটিভ মেডিসিনের বড় কৃতিত্ব হলো - তারা এ ধরণের ঔষধীগুণ সম্পন্ন বস্তু সহজলভ্য করেছে, সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এর কৃতিত্ব হোমিওপ্যাথীর অবশ্যই ন্যায্যভাবেই প্রাপ্য।

তবে থুজা গাছটি হোমিওপ্যাথরা সৃষ্টিও করেন নি, এর উপকারী বিষয় সম্পর্কে প্রথম আবিষ্কারও তাঁরা করেন নি।

amilee.2008 লিখেছেন:

ডায়াবেটিস রোগীদের ইঞ্জেকশনের ইনসুলিন আসতো শুকর জবাই করে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নির্গত করে ।
ইনসুলিন, শুকর অগ্ন্যাশয় থেকে আসতো,

তাহলে কি শুকরের অগ্ন্যাশয় কি এ্যলোপ্যাথি সিস্টেমের বাপের সম্পত্তি? না মোটেই না, শুকরের অগ্ন্যাশয় তাদের বাপের সম্পত্তি না হলেও যেহেতু ইনসুলিন তারা নিঃসৃত করে ব্যবহার করছেন তাই তার কৃতিত্ত্ব তারা পায়। অথচ মানুষ শুকর কে সেই পাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছেন।

আমারও বক্তব্য সেটাই। তবে পরবর্তী অংশটি আপনি কোট করলে পুরো বক্তব্য বোঝা যেতো। প্রাকৃতিক সোর্স থেকে শুরু হলেও পরে নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তিতে ইনসুলিন তৈরীর পদ্ধতি ডেভেলপ করেছে আধুনিক মেডিসিন। পোস্ট বেশি বড় হয়ে যাচ্ছিলো দেখে আমিও খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করেছিলাম, তবে কিছু ব্যাকগ্রাউণ্ড তথ্য এখন উল্লেখ করা যেতে পারে।

১৯২১ সালে ক্যানাডীয়ান ডঃ ফ্রেডরীক ব্যাণ্টিং ও তাঁর ছাত্র ডঃ চার্লস বেস্ট প্রথম ইনসুলিন আবিষ্কার করেন। তার আগে ১৮ শতাব্দীতে মানুষ জানতে পেরেছিলো ডায়াবেটিসের পেছনে অগ্ন্যাশয়ের কিছু একটা ভূমিকা আছে - ১৮ শতাব্দীর শেষদিকে জার্মান ও রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা কুকুরের ওপর গবেষণায় দেখিয়েছিলেন প্যাংকৃয়াস রিমুভ করলে কুকুরটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। ১৯২১ সালে তারা ইনসুলিন আবিষ্কার করার পর, ১৯২২ সালে কুকুর থেকে নেয়া ইনসুলিন টরোন্টোর এক ১৪ বছরের ডায়াবেটিক বালকের দেহে প্রয়োগ করে প্রথম ইনসুলিন থেরাপী করেন ডঃ ব্যাণ্টিং ও ম্যাকলিওড। মানবদেহের ওপর ইনসুলিনের প্রথম এক্সপেরিমেণ্টটি সফল ছিলো। বলা হয়, টীনেজ ছেলেটি  সিভিয়ার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় মৃত্যুশয্যায় ছিলো। কিন্তু ইনসুলিন থেরাপী পেতে থাকার পরে বালকটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হয়। এই এক্সপেরিমেণ্ট আরো রোগীর ওপর প্রয়োগ করে একই ধরণের সফলতা পাওয়া যায়। ১৯২৩ সালে ব্যাণ্টিং ও ম্যাকলিওড চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জেতেন।

প্রথম দিকে ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসার জন্য গরু, শূকরের অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিংড়ে বের করা হতো। তবে, এসব প্রাণীর ইনসুলিনের রাসায়নিক কাঠামো মানুষ থেকে কিছুটা ভিন্ন। ফলে ওই ইনসুলিন নিলে অনেক রোগীর দেহে এ্যালার্জী সৃষ্টি হতো, অন্য প্রাণীর ইনসুলিন মূল জায়গামতো পৌঁছানোর আগেই রোগীর ইম্যিউনসিস্টেম তা ধ্বংস করে ফেলতো - ফলাফল শূন্য। তাছাড়া, ডায়াবিটিস রোগীর সংখ্যার তুলনায় ইনসুলিনের প্রাণীজ উৎসের পরিমাণ খুবই সীমিত ছিলো। রোগীদের খুব সামান্য ভগ্নাংশই ইনসুলিন নেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতেন, আর ওই সৌভাগ্যবানদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আবার এ্যালার্জীক রিয়েকশনের কারণে ওই বস্তুটির সুফল পেতেন না। এই ছিলো বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের অবস্থা।

তবে যে অংশটি আপনি কোট করেন নি তা হলোঃ এরপরে কি হয়েছিলো? ১৯৫৫ সাল নাগাদ ব্যাপক গবেষণা করে ইনসুলিনের মলিকিউলার স্ট্রাকচার, ফিজিকাল ও কেমিকেল বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি পুরোপুরিভাবে উদঘাটন করে ফেলা হয়। নীচে ইনসুলিনের কম্পিউটার মডেলঃ
http://i.imgur.com/3HsYqll.jpg

বিস্তর গবেষণার পর এখন হিউম্যান ইনসুলিনের এ্যানালগ (হিউমালগ) তৈরী হয় ল্যাবরেটরীতে - রিকম্বিন্যাণ্ট ডিএনএ টেকনোলজীর বদৌলতে। জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার ভেতর মানুষের ইনসুলিন জীন প্রবেশ করানো হয়। ব্যাকটেরিয়াটি তারপর থেকে হিউম্যান ইনসুলিন নির্গত করতে থাকে।
৬০-এর দশকে প্রথম এই প্রযুক্তি ডেভেলপ করে মানুষ, ৭০-এর দশক জুড়ে এই ডিএনএ টেকনলজীর উন্নয়ন ও গবেষণা চলতে থাকে। ১৯৮০ সালে ল্যাবরেটরীতে প্রথম মানুষের ইনসুলিন তৈরী করতে সক্ষম হন গবেষকরা। সবশেষে ১৯৮২ সালে এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা তৈরী ইনসুলিন ক্লিনিকাল ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়ে দেয় বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরগুলো।

এই ওয়েবসাইটে E. coli ব্যাকটেরিয়াকে দিয়ে মানুষের ইনসুলিন তৈরীর প্রক্রিয়া খুব সহজে চমৎকার এ্যানিমেশন দ্বারা বোঝানো হয়েছে।

যা হোক, এখানে বড় মাপে যে প্রবণতাটি লক্ষ্যনীয়ঃ ২০-এর দশকে মলিকিউলটি আবিষ্কারের পর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ইনসুলিন ব্যবহার করে চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরী করে ফেলেছে মানুষ। মলিকিউলটির ওপর বেসিক ফিজিওকেমিকাল গবেষণা শেষ করতে প্রায় ৩ দশক লেগে যায়। অতঃপর ডিএনএ প্রযুক্তির আবির্ভাবের প্রায় সাথে সাথে ইনসুলিন তৈরীতে তা প্রয়োগ করা আরম্ভ করে। আবারও মাত্র ২ দশকের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ ঘটিয়ে ইনসুলিন থেরাপী তৈরী করে ফেলে গবেষকরা! ব্যাণ্টিংয়ের কুকুর থেকে, শূকর হয়ে ইণ্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেডের lab-grown জেনেটিকালী এঞ্জিনিয়ার্ড হিউম্যান ইনসুলিনে পৌঁছতে আধুনিক মেডিসিনের সময় লেগেছে মাত্র ৬০ বছর! ১৯২১ সালে যেসব লক্ষ লক্ষ শিশু জন্ম নিয়েছিলো, ওদের জন্মকালে "ইনসুলিন" শব্দটিও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয় নি। ওই শিশুরাই যখন পূর্ণ বয়সে পৌঁছেছে, তারা একটি দুরুহ রোগ ম্যানেজ করার জন্য শক্তিশালী একটি হাতিয়ার পেয়েছে, অকাল মৃত্যু প্রতিরোধের মোক্ষম উপায় পেয়ে গিয়েছে। Within the span of a single human lifetime, we have taken control of a disease which had remained unmanageable, uncontrollable for thousands of years!

এখন এমনকি কষ্ট করে দিনে কয়েকবার ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেবারও দরকার নেই - ভুলে ডোজ মিস করারও ভয় নেই। আছে ইনসুলিন পাম্প - এই মেশিন নিজে থেকেই ২৪ ঘণ্টা আপনার রক্তের শুগার লেভেল পরিমাপ করতে থাকবে, এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই মতো ইনসুলিন রিলিজ করে আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ সর্বদা স্টেবল রাখবে। জেগে থাকুন বা ঘুমান, শুয়ে থাকুন বা জগিং করুন - এই মেকানিকাল ফেরেশতা আপনার ব্লাড শুগার ম্যানেজ করে যাবে 24*7

এছাড়া মাত্র ৩/৪ মাস আগে FDA এপ্রুভাল পেয়ে গিয়েছে প্রথম ইনসুলিন ইনহেলার Afrezza - এটা খুবই তাড়াতাড়ি ব্লাড সুগার নিয়ণ্ত্রণ করতে পারে। আগামী বছর (২০১৫) সানোফী-এ্যাভেন্টিস Afrezza মার্কেটে নিয়ে আসছে। সম্ভবতঃ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইনসুলিন ইনজেকশন অতীতের বস্তু হয়ে যাবে।

আরো একটা ইনসুলিন ডিসপেন্সিং টেকনলজী দেখেছিলাম বিদেশেঃ পেট/থাই/বাহুর চামড়ার সাথে ডিভাইসটার মুখ চেপে ধরতে হয়, ডিভাইসটি তখন ইনসুলিন গ্যাস রিলিজ করে, আর খুব সম্ভবতঃ সাকশন প্রেশারের মাধ্যমে ত্বকের আণুবীক্ষণিক ছিদ্র দিয়ে ইনসুলিন প্রবেশ করিয়ে দেয় শরীরের ভেতরে - মোটেও ব্যথা বা অস্বস্তি লাগে না। তবে এটা সম্পর্কে গুগল করে তেমন কিছু পেলাম না - সম্ভবতঃ প্রযুক্তিটা খুব একটা ব্যবহৃত হয় না।  thinking

অফকোর্স, ডায়াবিটিস মোটামুটি কন্ট্রোল করা সম্ভব হলেও এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকী আছে। গত মাসে একটা রিসার্চের ব্যাপারে পড়লাম যেখানে ব্লাড শুগার রেগুলেট করার আরেকটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে মেডিকাল গবেষকরা - এটা কার্যকর প্রমাণিত হলে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় আরো একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যোগ হবে।

এছাড়া আছে স্টেম সেল টেকনলজী - রোগী নিজের ইনসুলিন নিজেই তৈরী করতে পারবে। ইতিমধ্যেই টাইপ১ ডায়াবিটিস রোগীর অগ্ন্যাশয়ে স্টেম সেল ইমপ্ল্যান্ট করে ইনসুলিন তৈরীর ব্যাপারে গবেষণা চলছে কয়েক বছর যাবৎ। এছাড়া ভবিষ্যৎে আসছে ন্যানোমেডিসিন - এই নতুন মেডিকেল টেকনলজী যে কোথায় নিয়ে যাবে তা এখন চিন্তা করাও কষ্ট।

গত শতাব্দীতে ডায়াবিটিস ছিলো এক ভয়ানক বিভীষীকা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বর্তমান শতাব্দীতে ওই রোগটিকে "মৃত্যু পরোয়ানা" থেকে নামিয়ে এনেছে "গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা"-র পর্যায়ে। আগামী শতাব্দীর মেডিসিন হয়তো সমস্যাটা সলভ করেই ফেলবে, বা অন্ততঃ minor inconvenience-এর কাতারে নামিয়ে আনবে এটা নিশ্চিৎ।

ডায়াবিটিস চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনো মেডিকাল ওয়েবসাইটে ঢুৃঁ মারুন; দেখবেন বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতির বর্ণনা আছে, বিভিন্ন হাইপোগ্লাইসেমিক ঔষধের ব্যাপারে তথ্য আছে, বিভিন্ন ধরণের ইনসুলিন প্রযুক্তির বিবরণ আছে। সব কিছুরই খোলামেলা আলোচনা করা হয়েছে - কোন ঔষধ/পদ্ধতির সুফল কি বলা হয়েছে, কুফল কি, ক্ষতি কি সবকিছুই বলে দেয়া হয়েছে। ঔষধটি শরীরের কোথায় কোথায় যাচ্ছে, কোথায় গিয়ে কি কি কাজ করছে, কতক্ষণ শরীরের ভেতর থাকে, কিভাবে শরীর থেকে নির্গত হচ্ছে ইত্যাদি সমস্ত মৌলিক ইনফরমেশন আপনার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে... knowledge is power - একজন গ্রাহক হিসাবে সমস্ত তথ্য আপনার নখদর্পনে তুলে দিয়েছে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান। আপনার ডাক্তারের এক্সপার্ট নলেজ আছে ত‌ো বটেই; ড্রাগ ডোজিং, ফলোআপ ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয় মূলতঃ তিনিই পরিচালনা করবেন। কিন্তু শরীরে ঠিক কি বস্তু ঢোকাচ্ছেন, তার ফলে কি কি ফায়দা পাবেন, এবং কি কি ক্ষতিকর প্রভাব হতে পারে ইত্যাদি সমস্ত তথ্যই আপনার নাগালের মধ্যে আছে। কি পরিস্থিতিতে তা ফেইল করতে পারে বা প্রভাব কমে যেতে পারে, কি পরিস্থিতিতে তা প্রয়োগ করা নিষেধ সব তথ্যই আপনার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আপনি চাইলে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কোনো থেরাপী রিফিউজ করতে পারেন, আপনার চিকিৎসক তা পাল্টে বিকল্প কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি দিতে বাধ্য।

যুগ পালটে গেছে, আগের মতো ডাক্তারবাবু কি দিলো না দিলো চোখ বুঁজে টপ করে গিলে ফেলবেন বা গ্লুপগ্লুপ করে পান করবেন - সে দিন এখন আর নেই। তথ্যপ্রযুক্তির যুগের একজন শিক্ষিত সেবাগ্রহীতা হিসাবে নিজের রোগবালাই ও তার চিকিৎসা সম্পর্কে সামান্য পড়াশোনা করে অবগত হওয়া আপনার নৈতিক দায়িত্বর মধ্যেই পড়ে। চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানলাভ করে আপনি এমনকি আপনার ডাক্তারকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেন - ঠিক কি কারণে চিকিৎসক কোনো নির্দিষ্ট ঔষধ প্রেসক্রাইব করছেন তা ব্যাখ্যা করতে আপনার নিকট বাধ্য। আধুনিক সভ্যতায় আমাদের বিশাল ব্যাপৃত scientific enterprise-এর গোড়ায় একটাই মূলনীতিঃ question everything!

information is power: মডার্ণ মেডিসিন এই ক্ষমতা, এই empowerment আপনার হাতে তুলে দিয়েছে - কোনো তথ্যই গোপন করার অবকাশ নেই, পুরো ব্যাপারটাই স্বচ্ছ - ইংরেজীতে বলে full disclosure আপনার নিকট পেশ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ঔষধ/ডিভাইসের বাক্সের মধ্যে লীফলেট/বুকলেট থাকে যাতে ঔষধ বা বস্তুটির প্রয়োগ পদ্ধতি, বেনিফিট, সাইড ইফেক্ট ইত্যাদি সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ থাকে। ওটা যদি পড়ে বুঝতে অসুবিধা হয় তবে ইনটারনেটে অসংখ্য পেশেন্ট-অরিয়েন্টেড মেডিকেল ওয়েবসাইটে সহজ ভাষায় ওগুলোর কার্যকারীতার সরল বর্ণনা পাবেন। আপনি একটি সেবা গ্রহণ করছেন - আর এই সেবা সংক্রান্ত সকল তথ্য খোলামেলাভাবে আপনার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেউ চাইলেই কোনো তথ্য গোপন করতে পারবে না। এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে।

knowledge is power - স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্যলাভ আপনার মৌলিক অধিকার - এটা কোনো স্পেশাল ফেভারও না, বা কেউ দয়া করে আপনাকে তথ্যগুলো দিচ্ছে না। এটাই আইন - কোনো ঔষধ/থেরাপী বাজারে আনার পূর্বশর্তই হলো বস্তুটি সম্পর্কে গবেষনালব্ধ সমস্ত তথ্য উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করতে হবে। প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার আছে ঔষধ/পদ্ধতির কার্যকারণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের। অতীতে কিছু কিছু কোম্পানী ধানাইপানাই করে তথ্য গোপন করেছেও - কিন্তু তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফাইন করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

পক্ষান্তরে, হোমিওপ্যাথী কোথায় আছে এই ২০১৪ সালে? বিখ্যাৎ হোমিও "চিকিৎসক" রাজেশ শাহ-র নাম শুনলাম কিছুদিন আগে। শাহ-বাবুর ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় হোমীওপ্যাথীর ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করতে ঢুঁ মারলাম - নিজেই পড়ে দেখুন এখানে lol2 পেইজের প্রথম আদ্ধেক জুড়ে রোগ সংক্রান্ত কিছু প্রাথমিক তথ্য ডাইরেক্ট কপিপেস্ট মেরে দিয়েছে - যা দুনিয়ার যেকোনো ডায়াবেটিস ক্লিনিকের লীফলেটে পাবেন। big_smile

যাকগে, আমি উৎসাহী ছিলাম হোমীও চিকিৎসা নিয়ে। ডায়াবেটিস নির্মূলে হোমিও কিউর সংক্রান্ত অংশটুকু পড়ে বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিলো এটা একজন প্র্যাকটিশনারের লেখা। ভাসাভাসা হাবিজাবি আলতুফালতু কথাবার্তা দিয়ে পুরো পেইজ ভরে ফেলেছে। ২/৩বার স্ক্যান করে একটাও ঔষধের নাম পেলাম না, একটাও ডেফিনিট থেরাপী বা চিকিৎসাপদ্ধতিরও বিন্দুমাত্র উল্লেখ পেলাম না যা দিয়ে রোগী অন্ততঃ সামান্য হিন্টস পাবে যে এই তথাকথিত হোমীওপ্যাথীক চিকিৎসা পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে। রীতিমত রামভুদাই বা হদ্দবেকুব না হলে ওয়েবসাইটটা পড়ে ওই হোমিওপ্যাথিস্টের কাছে ডায়াবিটিস চিকিৎসার জন্য কেউ যাবে বলে কল্পনা করতেও ব্যর্থ হচ্ছি... but... you know... http://i.imgur.com/NBJxPHe.gif

যাকগে, ফক্কড় বাদ দিয়ে আরেকটু সিরিয়াস রিসোর্স খুঁজি... বৃটিশ হোমীও এ্যাসোসিয়েশনের ডায়াবেটিস ট্রীটমেণ্ট পেইজে গেলাম। যাক, এদের এখানে অন্ততঃ কিছু স্পেসিফিক ঔষধের নাম দেখছি।  clap

প্রথমেই লক্ষ্য করলাম - মাত্র ৪ প্যারাগ্রাফেই ওদের ডায়াবেটিস ট্রীটমেন্ট খতম! surprised

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা প্রয়োজনঃ ডায়াবেটিস একটা ব্যাপক মাল্টি-সিস্টেম, মাল্টি-অর্গান ডিজিজ - পায়ের পাতা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত শরীরের এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যাকে ডায়াবিটিস এফেক্ট করে না। শরীরের ওপর শুধুমাত্র এই একটা রোগের বিভিন্ন প্রভাব নিয়েই হাজার পৃষ্ঠার ঢাউস ঢাউস বই আছে অসংখ্য। চোখের ওপর ডায়াবিটিসের প্রভাব নিয়ে কয়েক শত পেইজের অজস্র বই আছে, তেমনি আছে হার্ট, কিডনী, লিভার ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর ইফেক্ট নিয়ে গবেষণালব্ধ অগুণতি বই। বইপত্র ছাড়াও সাইন্স জার্নালে প্রকাশিত কয়েক লক্ষ্ রিসার্চ পেপার আছে। শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রিলেটেড সাইন্টিফিক বইপুস্তক-জার্ণাল দিয়েই মাঝারী আয়তনের একটা লাইব্রেরী কানায় কানায় ভরে ফেলা সম্ভব।

এহেন প্রেক্ষাপটে একটি অথোরিটি সাইটে মাত্র গুটিকয় প্যারাগ্রাফ দেখে কিঞ্চিৎ অবাকই হলাম। যাহোক, ৪টি প্যারাগ্রাফ পড়ে ফেললাম। প্রথম ২ প্যারাগ্রাফই খরচ করেছে চূদূরভুদুর মার্কা সাধারণ জ্ঞান বিতরণ করতে।  waiting

অবশেষে ৩য় প্যারাগ্রাফে এসে প্রথম সলিড একটা কিছু পেলাম  yahooyahoo yahoo সরাসরি তুলে দিলাম, নিজেই পড়ে দেখুনঃ

ড্রাগ #১:

The remedy Syzygium (Jambol seeds) has a reputation for a specific effect on diabetes, and can be given in mother tincture, three drops daily in water. I cannot claim much success with this, but a veterinary colleague has reported excellent results in dogs.

Syzygium? সিযিগিয়াম??? ওয়াও! surprised এটা তো মনে হচ্ছে কোনো সিযিয়াম, ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম, পোলোনিয়ামের দফারফা করা জগৎবিখ্যাৎ তেজষ্ক্রিয় নিউক্লিয়ার সাইন্টিস্ট ডঃ এ.জে. আব্দুল জলিল রজনীকান্ত চাক নরিস কমল হাসান ভ্যান ড্যাম দেড় ইঞ্চি আবিষ্কৃত ধোলাইখালী ঔষধ! ওহ! সো এক্সাইটিং! yahoo

ওয়েইট... ব্র্যাকেটে লিখেছে Jambol seeds... ডব্লিউটিএফ ইজ আ জাম্বোল?
http://i.imgur.com/wBTpLEz.jpg

ইহা আবার কি মহার্ঘ্য বস্তুরে বাবা??

গুগল করতেই পেয়ে গেলামঃ
http://i.imgur.com/TDpIYwQ.jpg
http://i.imgur.com/A0I5R8F.gif http://i.imgur.com/A0I5R8F.gif
মানে, ইহা আর কিছুই না - আমাদের কালাজামের বিচী!

বাই দি ওয়ে, খেয়াল করে দেখুন - ডায়াবেটিসের হোমীও চিকিৎসার নাম্বার #১ "ঔষধ" নিয়ে ব্যাটা নিজেই সন্দিহান - "has a reputation for a specific effect"  roll
নিজেই সরল স্বীকার করে নিচ্ছেঃ "I cannot claim much success with this"  mad
কিন্তু আবার লিখেছে, কোন এক পশু চিকিৎসক বন্ধুর কাছ থেকে শুনেছে কুকুরের ওপর নাকি জামবীচি কাজ করেঃ "but a veterinary colleague has reported excellent results in dogs"

এ পর্যন্ত যত রোগী সরল বিশ্বাসে হাজার হাজার টাকা হোমিও-বাটপাড়-দের পকেটে তুলে দিয়ে জম্বুবান ভগিচগিয়াম তথা জামবিচীর গুঁড়া কিনেছেন, তাদের কথা ভেবে... http://i.imgur.com/i9GYSY5.gifhttp://i.imgur.com/i9GYSY5.gif

এহেম... এহেম... বৃটিশ চিকিচ্ছকমশাই পরের প্যারাগ্রাফে লিখেছেন তাদের বাইবেল Materia Medica-তে নাকি ডায়াবিটিসের অ-নে-ক অ-নে-ক অ-নে-ক "remedy" (শব্দটা খেয়াল করুন - treatment বা চিকিৎসা নয়, লিখেছে "উপশম") লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র একটাই তিনি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করার যোগ্য মনে করেছেন। নাম শুনে ভেটকী খাইয়েন না... "উপশম" নাম্বার #২ হলোঃ Uranium nitricum  surprised
yahoo চলুন, সবাই মিলে ফুকুশিমা চেরনোবিলে গিয়ে নাচানাচি করি! জীবনেও আর ডায়াবেটিসফেটিস হবে না! (বাইঁচা থাকলে আর কী  kidding hehe )

সিরিয়াসলী?! ইউরেনিয়াম? ইউরেনিয়াম!?!? ইউরেনিয়াম!!!???  sick

হোলী ফুচুক! হোওওওলী মাদার-অব-গড ফুচুক! dontsee dontsee dontsee ব্লাড শুগার কন্ট্রোল করতে ইউরেনিয়াম খেতে বলছে!?!?!

শুধুমাত্র একটা ফেসপাম ইমো দিয়ে বর্তমান রিয়েকশন বোঝানো যাবে না, তাই ৩টা দিলাম (১টা ফাও):
http://i.imgur.com/5LwtNRA.gif
http://i.imgur.com/HrhhlX4.gif
http://i.imgur.com/OmVqFj6.gif
http://i.imgur.com/uzQJOgd.jpg

যাকগে, বৃটিশ হোমিও এ্যাসোসিয়েশন তাদের ওয়েবসাইটে ডায়াবিটিস চিকিৎসায় রেকমেণ্ড করে না এমন নাম্বার #৩ ড্রাগটি হলো Phloridzin - এটা আপেল গাছের শেকড়ে পাওয়া যায়। এটাও নাকি উপশম হিসাবে কাজ করে বলে তাদের চোথাবইয়ে লিখেছে (মানে, সে নিজেও জানে না)

ডায়াবিটিস চিকিৎসার মূল থীম হলোঃ ব্লাড শুগার কন্ট্রোল করা। মূল কাজে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ব্রিটিশ হোমিও তারপর শুরু করেছে ডায়াবেটিসের বিভিন্ন সিম্পটম উপশম করার ধানাইপানাই.... http://i.imgur.com/NBJxPHe.gif ওগুলো উল্লেখ করে আর সময় নষ্ট না করি...

বাই দি ওয়ে, এই ইউরেনিয়াম সেই ইউরেনিয়াম কিনা সন্দেহ আছে। তা হলে মোহাং এল বারাদেই আইসা সবগুলারে বাইন্ধা নিয়ে যাইতো, আর বিন লাদেন ও কিম জং ইল-রাই সব দুনিয়ার সব হোমিওপ্যাথী খেয়ে ফেলতো। তবুও, এ যুগে ইউরেনিয়াম নাইট্রিকাম কোথায় পাওয়া যাবে সার্চ করতে প্রথমেই একটা অনলাইন শপ পেলাম। তবে পেইজের শুরুতেই লিখে রেখেছেঃ

Please remember though, this homeopathy materia medica is provided for information only, with no guarantee of accuracy; it is not intended as a substitute for medical advice, nor as a claim for the effectiveness of Uranium Nitricum in treating any of the symptoms below. If symptoms persist, seek professional medical advice - minor symptoms can often be a sign of a more serious underlying condition. Homeopathic remedies are very dilute, and while the homeopathic remedy may be beneficial, the raw product may be harmful.

roll ভাইরে! যামু কই! ঔষধ বেচতেছে, কিন্তু আবার FDA-র ঠেঙ্গানীর ভয়ে বলতেছে এই ঔষধে কাজ করে কি না জানে না, আবার অসুখ না সারলে সত্যিকারের প্রফেশনাল মেডিকাল সাহায্য নিতে উপদেশও দিচ্ছে  ghusi

গুগলে টপ রেংকিং পাওয়া আরেকটি হোমিও ডায়াবেটিস কিউর সাইট - এখানেও যথারিতী একটাও ট্রিটমেন্টের নাম উল্লেখ না করে পেইজ ভরিয়ে ফেলেছে।  lol কিছুদিন আগের "হোমিওপ্যাথী পেইনকিলার থেকে ভালো" শীর্ষক গো+এষণা-র কথা মনে পড়ে যাচ্ছে (যেখানে প্রচুর ভুজুংভাজুং মারার পর দেখা যায় ঔষধের নামই নাই) tongue

এখানে আবার "পার্মানেন্ট কিউর"-ও পেলাম! ৪০০০ বছর ধরে নাকি ইহা ব্যবহার করে কোনো ঔষধ ছাড়াই শুধুমাত্র এক ম্যাজিক কাঠ (আমার কথা না, লিখেছে "miraculous wood")-এর তেল খেয়ে খেয়ে নাকি ডায়াবিটিসের চিরকালীন মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে! (তবে ওই ঔষধ পেতে হলে নগদ কড়ি ছাড়তে হবে)

এগুলো সবই গুগলের সার্চ রেজাল্টের প্রথম ৪/৫-টা লিংক। ওয়াও! ওয়াও! এই অবস্থা! আমি তো এতোদিন হোমিওপ্যাথী সম্পর্কে বলতে গেলে বরং তুলনামূলক উঁচু ধারণাই পোষণ করতাম। লিয়াকত ভাইয়ের খোঁচা না খেলে এসব সাইটে ঢুঁ মারার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য কোনোটাই হতো না।

আপনি নিজেই যাচাই করে দেখুন। "ডায়াবেটিস চিকিৎসা" দিয়ে গুগল সার্চ করে রোগীদের জন্য তৈরী মেডিকেল ওয়েবসাইট-গুলোতে গেলে কি মানের তথ্য পান, আর এসব হোমীও সাইটে কি কি পান। এর পরেও কি আর কিছু ব্যাখ্যা করার থাকে?  whats_the_matter

amilee.2008 লিখেছেন:

একটি শাখা দুড়দাড় করে আগিয়ে যাচ্ছে, ভিক্টোরিয়ান খোলস ছেড়ে এখন স্পেইজএইজে প্রবেশ করছে, ন্যানোমেডিসিনের যুগান্তকারী বিপ্লবের দরজায় কড়া নাড়ছে। আর অন্যটি? ডাইনোসরের মতো স্থবির হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে আছে।

হুম! জৈব সার আর রাসায়নিক সারের, কাজে পার্থক্যতো থাকবেই, কার অগ্রগতী বেশি, ভাই! সেটা সবাই জানে
জৈব সারের আর কদর কোথায়??, সবই তো রাসায়নিক সারের গোগ্রাসে।

BT বেগুন, ফলপ্রসু, কিন্তু... কিছু কথা কিছু থেকেই যায় তাইনা।

দাদা, নলেজ একটু আপডেট করে নিন। "জৈব সার ভালো" এই ধারণা সেকেলে হয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। অর্গানিক ফুড ইন্ডাস্ট্রীর মার্কেটিং কোম্পানীগুলো কিছু প্রচার করলেই টপ করে বিশ্বাস করে বসা ঠিক নয়।

কয়েক দশক আগে অর্গানিক ফার্মিং বিপ্লব বলে খুব হৈচৈ করে প্রচার করেছিলো মাল্টিন্যাশনাল ফার্মিং করপোরেশনগুলো। ওই হানিমূন পিরিয়ড শেষ হয়ে যাবার পরে ধীরে ধীরে অপ্রিয় সত্য বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন সেক্টর থেকে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ অর্গানিক ফুড প্রশ্নের মুখ‌োমুখি হচ্ছে। অর্গানিক/জৈব সার কেমিকেল ফার্টিলাইজার থেকে উপকারী বা কম ক্ষতিকর বলে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় নি, বরং এদের মধ্যে গুণগত কোনো পার্থক্য নেই বলে একটি এগ্রিকালচারাল রিসার্চ পাবলিশ হয়েছিলো এই বছরের প্রথম দিকে। এছাড়া, কয়েক বছর ধরে অর্গানিক ফার্মের ফল/সব্জী আর সনাতন পদ্ধতিতে ফলানো ফসলের মধ্যে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায় নি বলে বেশ কিছু নিউট্রিশন গবেষণায় জানা গেছে - অর্গানিক ফল/সব্জীতে বেশি পুষ্টি থাকে না, তার পরিমাণ রেগুলার ফসলের মতোই। এছাড়া, আরেকটা গবেষণা বলছে অর্গানিক সার পরিবেশের জন্য কেমিকেল সারের মতোই ক্ষতিকর।

"প্রাকৃতিক সবকিছুই ভালো আর কৃত্রিম সবকিছুই খারাপ" - এটা অতি সরল ধারণা। যতই আমাদের জ্ঞান বাড়ছে, আমরা দেখছি প্রকৃতিতে absolute black and absolute white বলে কিছু নেই - আছে বিভিন্ন শেডের ধুসর রঙ। কোনোটা একটু ভালো বা ক্ষতিকর, কোনোটা কম ভালো বা কম ক্ষতিকর - ১০০% ন্যাচারাল বা ভালো অথবা ১০০% খারাপ বলে কিছু নেই।

শাকসব্জী, ফলমূল খেলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে - প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। আমাদের জ্ঞান যতই গভীরে প্রবেশ করছে (এক্ষেত্রে মলিকিউলার বায়োলজী, ইম্যিউনোলজী) প্রচুর আশ্চর্য্য করার মতো তথ্য জানা যাচ্ছে। কাটিং এজ রিসার্চে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন unsettling facts - শাকসব্জী/ফল এগুলো আসলে আমাদের দেহকোষগুলোকে হত্যা করতে চায়। এদের সাথে লড়াই করে আমাদের ইম্যিউন সিস্টেম আরো শাণিত হয়। অনেকটা - সৈন্যরা যেভাবে রেগুলার ট্রেনিং করার মাধ্যমে ভালো যোদ্ধা হয়, আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাও অনবরত সংগ্রাম করে ফিট থাকে।

ক্যান্সারকে ভাবা হতো একটা উটকো অসুখ - বহিরাগত কিছু একটা হঠাৎ আক্রান্ত করে আমাদের। ভাবা হতো - ক্যান্সার আমাদের দেহের কোষগুলোর জেনেটিক বাগ। এখন বেরিয়ে আসছে, ক্যান্সার আসলে সে অর্থে হার্ডওয়্যার ফল্ট না, বরং একটা ফীচার। ক্যান্সার ছাড়া প্রাণীদের জন্মই হতো না। গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের মধ্যে বেড়ে উঠতে থাকা ভ্রুণ - এটা একটা বহুল পরিচিত ইমেজ। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য বলা হয় অনেক সময়। এখন আমরা যতই গভীরে প্রবেশ করছি, একের পর এক বেরিয়ে আসছে অনেক unsettling, unbelievable তথ্য।
পুরো ভ্রুণ (embryo)-টাই একটা জ্বলজ্যান্ত, লিভিং বৃদিং প্রচণ্ড এ্যাগ্রেসিভ ক্যান্সার পিণ্ড - ও নিজে এবং শুধুই নিজে টিকে থাকতে চায়। সামনে যা কিছুই পড়ুক, তেড়েফুঁড়ে ধ্বংস করে গ্রাস করে নিতে চায়। এই প্রচণ্ড রকমে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার ভ্রুণ সুযোগ পাওয়া মাত্র নিজের মাকেও খতম করে ফেলবে। ইনফ্যাক্ট, আমরা এতদিন যে বস্তুটিকে ভ্রুণের সুরক্ষার জন্য বলে মনে করে এসেছি - এখন তার রোল 360 ডিগ্রী রিভার্স হয়ে গেছে। আমরা ভেবে এসেছিলাম - গর্ভের ভ্রুণকে বাইরের পরিবেশ থেকে রক্ষা করে প্লাসেন্টা।

কিন্তু এখন আমাদের আন্ডারস্ট্যাণ্ডিং আমূল পালটে যাচ্ছে - প্লাসেন্টা ভ্রুণ-কে রক্ষা করে সাধারণভাবে তা ঠিক আছে, কিন্তু তার প্রধান দায়িত্ব হলো ওই জীবন্ত প্রচণ্ড আগ্রাসী ক্যান্সারপিণ্ড থেকে মায়ের শরীর রক্ষা করা! প্লাসেণ্টা একটা containment cell - সোজা বাংলায়ঃ একটা সুরক্ষিত জেলখানা। আক্ষরিক অর্থে নিশ্ছিদ্র জেলের মধ্যে ভ্রুণটিকে বেড়ে উঠতে দেয় মায়ের শরীর। মায়ের শরীর ও তার ইম্যিউন সিস্টেম খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে প্ল্যাসেণ্টা দিয়ে কি কি প্রবেশ করছে, আর কি কি বেরিয়ে আসছে। মূলতঃ ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক - মায়ের শরীর থেকে লিকুইড ফর্মে পুষ্টিদ্রব্য প্ল্যাসেণ্টাল ব্যারিয়ার ক্রস করে ভেতরে ভ্রুণের দেহে প্রবেশ করে। অনেকটা বাক্সবন্দী করে দুধকলা দিয়ে বিষাক্ত সাপ পোষা - সুযোগ পাওয়া মাত্র যে সাপ মালিককে ছোবল মারবে। প্ল্যাসেণ্টার সুরক্ষিত ওয়ালে যদি তিল পরিমাণ ছিদ্র পাওয়া যায় - তবেই হয়েছে! ওই ভ্রুণটি ক্যান্সারের মতো মায়ের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত কিছু ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে। ও ব্যাটা নিজে তো মরবেই, তার মাকেও শেষ করবে।

আমাদের জীবনটা শুরুই হয় ক্যান্সার স্টেইজ দিয়ে। ক্যান্সারের মতো আগ্রাসী, বিধ্বংসী না হলে বহু দূর অতীতে আমাদের পূর্বসূরীরা ভ্রুণাবস্থাতেই খতম হয়ে যেতো।

আরো একটা startling fact হলোঃ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্লাসেণ্টা যে কয়েকটি প্রোটিন দিয়ে তৈরী, তা এসেছে কয়েক প্রজাতীর ভাইরাস থেকে। আনুমানিক ১.৫ থেকে সোয়া ২ বিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরী কোনো প্রাণীদের ভাইরাস সংক্রমিত করে ছিলো - ওই ভাইরাল ডিএনএ আমাদের জীনে জেঁকে বসে ঢুকে পড়েছে। পর্যায়ক্রমে এরকম অসংখ্য ভাইরাসের ফসিল আমাদের জীনে সংরক্ষিত আছে - জীনোমিক গবেষণায় তা বেরিয়ে আসছে। প্ল্যাসেনটার প্রধান গাঠনিক প্রোটিন sct-1, sct-2 এগুলোর জেনেটিক কোডের স্রষ্টা হলো একাধিক ভাইরাস। কোটী কোটী বছর আগে এসব ভাইরাসগুলো যদি না আমাদের পূর্বসূরী প্রাণীদের সংক্রমিত না করতো, তবে আর যাই হোক অন্ততঃ আমরা স্তন্যপায়ী প্রাণীরা আজ পৃথিবীতে থাকতাম না।

আমাদের জীবনের প্রতিমুহুর্ত হলো অনবরত, নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম। সে আপনি আপেলে কামড় দিন, বা গর্ভবতী হোন।

মডার্ণ মেডিকাল/বায়োলজীকাল রিসার্চ এসব গূঢ় তথ্যগুলো বের করে আনছে। আধুনিক বিজ্ঞানের এসকল শাখার পাশাপাশি হোমীও শব্দ উচ্চারণ করাটাই রীতিমত এ্যাবসার্ড শোনায়....  hmm

স্পেইস ট্রাভেলের যুগেও কেউ যদি গরুর গাড়ী অপেক্ষাকৃত পরিবেশবান্ধব, প্রাকৃতিক বলে গুণগান করতে চায় করুন, কোনো ক্ষতি নেই। তবে তাই বলে গরুর গাড়ী একমাত্র ও শ্রেষ্ঠ যোগাযোগ মাধ্যম মনে করে আবার পিছিয়ে পড়ে থাকারও যুক্তি নেই।

জৈব সার মাত্রেই ভালো না। কেমিকেল ফার্টিলাইজার মাত্রেই খারাপ না। সবকিছুরই ভালো ও খারাপ উভয় প্রভাবই রয়েছে।

তেমনি মেইনস্ট্রিম মেডিসিনও সকল সমালোচনার উর্ধ্বে, একমাত্র আল্টিমেট ট্রুথ এমন কিছু মোটেই না। এরও প্রচুর সীমাবদ্ধতা আছে। ব্যর্থতাও আছে অনেক। তবে ব্যর্থতার চেয়ে সফলতার পাল্লা ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। মেইনস্ট্রিম মেডিসিনের কার্যকারীতা নিয়ে এখন আর কেউ সন্দেহ করে না। প্রশ্ন ওঠে ঠিকই - তবে তা কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা ঔষধ নিয়ে, পুরো সাইন্সটাকে জেনারেলী কেউ প্রশ্ন করে না।

হোমিওপ্যাথী যদি সত্যিই মোটের ওপর কার্যকরী হতো তবে সারা দুনিয়ার মানুষ পুরো বিষয়টা নিয়েই সন্দেহ, তাচ্ছিল্য করতো না। আঁচিল, পেটব্যাথা, অম্বল, গ্যাস, কাটাছেড়া, বমি, জ্বর ইত্যাদি হোমিও, ন্যাচারো বা হার্বালে যদি ভালোভাবে সারায় তবে তো ভালোই।

তবে কোন সাইন্স আপনাকে আমাকে জন্মের আগ থেকেই আগলে রেখে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত রক্ষা করে চলেছে তা দয়া করে ভুলে যাবেন না। আপনি/আমি গর্ভে থাকাকালীন শিশু ও মায়ের শারিরীক সুরক্ষা কার বদৌলতে হয়েছিলো, ভূমিষ্ঠ হবার পরপর একগাদা টীকা, ভ্যাক্সিন কোথা থেকে এসে আপনাকে সারা জীবনের জন্য ভয়ানক জীবাণুদের থেকে সুরক্ষাবর্ম দিয়েছিলো, কৈশোর ও তরুণ জীবনে বিভিন্ন শারিরীক সমস্যার সমাধান করেছে কোনটা, পড়ন্ত জীবনে বিভিন্ন রোগবালাই  যেমন ডায়াবিটিস, ব্লাড প্রেশার, কিংবা হৃদরোগ থেকে রক্ষা করেছে কোন সূত্র হতে প্রাপ্ত ঔষধ/সার্জারী... ক্যান্সারের ছোবল থেকে কোন কিমো/রেডিওথেরাপী বা সার্জারী রোগীকে রক্ষা করেছে, বা একদম নির্মূল করতে না পারলেও অন্ততঃ কয়েকটা বছর আয়ু বাড়িয়ে দিয়েছে - কিংবা শেষমেষ ক্যান্সারের সাথে লড়াইয়ে পরাজিত হলেও টার্মিনাল রোগীদের জীবনের শেষ মুহুর্তগুলোর যাতনা লাঘব করে দিচ্ছে কোন বিজ্ঞান? এসব ভুলে গেলে নিজেরই ক্ষতি...

Calm... like a bomb.

৪৩

Re: আচিল হলে কি করবো?

ব্রাসুদার কমেন্ট পড়লাম। রেপু দিতে পারলাম না বলে খারাপ লাগছে sad
জানি এরপরেও amilee ভাই হোমিওপ্যাথি নিয়ে লাফালাফি করবেন কারণ উনি যে যুক্তি বোঝেন না এটা তো পুরোনো কথা kidding

Since I've got an Awesome signature, I don't have to write Awesome posts...

৪৪

Re: আচিল হলে কি করবো?

১. মনে পড়লো, ছোটবেলায় ছোট বোনের আচিল হয়েছিল। চুল দিয়ে কয়েকদিন বেঁধে রাখার পর সেটি এমনিতেই খসে যায়।

২. ব্রাশু ভাই ফাটিয়ে দিয়েছেন।  big_smile

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

৪৫

Re: আচিল হলে কি করবো?

দুঃখিত, অনেকগুলো অফটপিক হয়ে গেছে। পলাশ ভাইয়ের আঁচিল সমস্যা ব্যতীত অন্যান্য পোস্টগুলো আলাদা টপিকে সরিয়ে নেয়া যাবে কি?

Calm... like a bomb.

৪৬

Re: আচিল হলে কি করবো?

আমার ছোট ভাইয়ের ঠোঁটের কোণায় একটা আচিল হইছিল । অনেক দিন সে কষ্ট পেয়েছে। অনেক ঔষধও খেয়েছে। ডাক্তার অপারেশন করতে বলছিল । শেষ পর্যন্ত সে যখন সেলুনে যায় তখন নাপিত ম্যাচের কাটি জ্বালিয়ে আচিলে ধরে আচিলটা পুড়িয়ে দেয়। সেই যে ভাল হলো সে আচিল আর উঠেনি। এখনো ভাল আছে সে।

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

৪৭

Re: আচিল হলে কি করবো?

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

আমার ছোট ভাইয়ের ঠোঁটের কোণায় একটা আচিল হইছিল । অনেক দিন সে কষ্ট পেয়েছে। অনেক ঔষধও খেয়েছে। ডাক্তার অপারেশন করতে বলছিল । শেষ পর্যন্ত সে যখন সেলুনে যায় তখন নাপিত ম্যাচের কাটি জ্বালিয়ে আচিলে ধরে আচিলটা পুড়িয়ে দেয়। সেই যে ভাল হলো সে আচিল আর উঠেনি। এখনো ভাল আছে সে।

তাহলে বলতেই হয়- আমি যেই তিনটি পদ্ধতি বলেছি তা কাজ করে  surprised প্রথমটা তো আমি নিজেই পরীক্ষা করেছি। দুই নম্বরটা ছবি আপার ভাইজান আর তিননম্বরটা গৌতম ভাই  big_smile

ব্রাশু ভাই যদিও আচিল নিয়ে আলোচনা হতে গিয়ে হোমপ্যাথি আর এলোপ্যাথি নিয়ে একটা যুদ্ধ লেগেগিয়েছে তবুও একটা পোষ্ট অন্যটার সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই এখান থেকে যদি কিছু কেটে অন্যত্য সরানো হয় তাহলে মনে হয় ভালো হবে না (নিজস্ব মতামত) তারথেকে এডমিন / মডুরা যদি আচিল আর হোমিওপ্যাথি আর এলোপ্যাথি রিলেটেড কোন শিরোনাম পরিবর্তন করে লিখে দেন মনে হয় ভালো হবে  big_smile

আমাকে কোথাও পাবেন না।

৪৮

Re: আচিল হলে কি করবো?

ি আমার আচিল অপারেশন করেও ঠিক হলো না্িখেন যে কি করবো।

৪৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মেহেদী হাসান (২১-১১-২০১৪ ১২:৪৫)

Re: আচিল হলে কি করবো?

অফ অফ দ্যা অফটপিক: মেট্রিকুলেশন পাশের শেষে আমার একবার বেশ জ্বর হয়.......রাত্রিকালিন জ্বর হতো......মিডিয়াম টাইপের জ্বর লাইক...১০২-১০৩.......সাথে সাথে কুচকিতে প্রায় অদৃশ্য এক গ্লান্ড ব্যাথা সাথে নিয়ে একটু বড় হয়ে দৃশ্যমান হয়। আমাদের বরিশালের সবচেয়ে বড় হোমিপ্যাথিক ডাক্তার বাপজানের দোস্ত হওয়ায় বাপজান তার দোস্তকেই স্বরণ করলেন সবার আগে......। আর উনিও বিপুল উদ্যোগে তার আমাদের বাসায় এসে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে দিলেন ভয়াবহ তিতকুটে কিছু অষুধ খেতে দিয়ে। তার ফাইনাল আইডেন্টিফিকেশনে আমাকে টাইফয়েডের রোগী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

কিন্তু সপ্তাহ বাদে উপকারতো ভালো.....জ্বরের মাত্রা আরো বাড়ার পাশাপাশি কুচকির ব্যাথাটাও বেড়ে গিয়েছিলো......এক রাতে রেকডর্েড ১০৫+ জ্বরে আমি অচেতন হলে বাসার সবার সচেতনাটা ফিরে আসে......। যথারিতী  আসল ডাক্তারের কাছে গেলে এক সাজর্ন গ্লান্ড ইনফেকশন আইডন্টিফাই করে অপারেশন করেন আর সেটা টেষ্ট করান.......পরিশেষে আমি টাইফয়েড থেকে টিবি রোগিতে পরিনত হই..... sad যথারীতি ৯মাস ঔষধ সেবনের লুপ শেষে মুক্তি পাই... big_smile)

অনটপিক.... পল্লু ভাইজান.....আপ্নার সাকসেস হিষ্ট্রোরিতেতো আমিও ইন্সপায়াড হয়া গ্যালাম.....কিন্তু সমস্যা হলো, আমার বহুদিন পুরোনো একটা আচিল আছে......ঠিক পিঠের মধ্যিখানে.......দেখিনা হাত দিয়ে ভালো করে ধরতেও পারিনা.........বুদ্ধি দ্যান..... sad

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

৫০

Re: আচিল হলে কি করবো?

আঁচিল সারানোর একটা বাংলা মেথড আছে। সেইটা হল চুন+সোডা। ব্যাপারটা কিছুই না, রাসায়নিক বিক্রিয়া করে ঐ অংশটাকে ঝরিয়ে ফেলে। তবে সাবধানতার জন্য প্রথমে একটা কাগজ নিন। এরপর আঁচিলের মাপ অনুযায়ী ফুটো করে ওখানে কাগজটা বসান। অন্য একটি পাত্রে অল্প একটু চুন+সোডা মিশ্রিত করে পানের বোঁটা দিয়ে নিয়ে আঁচিলের উপর হাল্কা করে দিয়ে দিন। ১০মিনিট পর তুলে ফেলুন। পড়ে যাবে। smile

@ব্রাসু ভাই: ফাটায় ফেলছেন smile

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD

৫১

Re: আচিল হলে কি করবো?

থুজা খাবার নিয়ম কি আমাকে কেউ কি একটু বলে দিবেন।

৫২

Re: আচিল হলে কি করবো?

আচিল দূর করার অন্যতম একটি সহজ পথ হচ্ছে লেজার ট্রিটমেন্ট। এর মাধ্যমে আপনি অতি সহজে আচিল দূর রকতে পারেন। তবে যেনতেন লেজার ক্লিনিকে জাবেন না। নেটে খুজে বাংলাদেশের শীর্ষ জনপ্রিয়ো ক্লিনিক বেছে নিবেন। আপনার সুবিধার্থে http://lasermedicalbd.com/index.htm  লিংকটি দেয়া হলো। লিংকটি ব্যবহার করতে পারেন কারণ এটি বেশ জনপ্রিয়ো ও বিশ্বস্ত।

৫৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন riazkhan520 (১৯-০৮-২০১৬ ০০:৩৯)

Re: আচিল হলে কি করবো?

আপনি যদি হোমপ্যাথি ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ সেবন করেন সেটা অবশ্য ভাল হবে। এটা একটু দেরিতে কাজ করলেও চিরতরে মুছে যাবে।
তবে আমার কাছে একটি দারুন idea আছে আপনি ওই আচিল টাকে মহিলাদের একটা বড় সরো চুল নিয়ে সেটাকে দিয়ে আচিল টাকে পেচিয়ে ফেলুন । একটু ব্যাথা করবে কিন্তু ৩ থেকে ৪ দিনের মাথায় আচিলটা automatic পড়ে যাবে এবং শুকিয়ে যাবে।

চেষ্টা করে দেখুন ।