টপিকঃ ওষুধপত্তর: এন্টিবায়োটিক

ওষুধপত্তর নিয়ে আমার জ্ঞান শূন্যের কোঠায়। ইনফ্যাক্ট জ্বর হলে কি অষুধ খেতে হয় সেটা পর্যন্ত ফোন করে শুনা লাগে আমার, নিজের কখনোই মনে থাকে না। তারউপরে, কোন বেলা, খাওয়ার আগে পরে বিশাল হিসেব নিকেশ পাকাতে হয়।
সবকিছু মিলিয়ে ওষুধপত্তর জিনিসটার উপরই আমার একপ্রকার বিতৃষ্ণা কাজ করে।

আর সেই বিতৃষ্ণা সবচাইতে বেশী এন্টিবায়োটিকের উপরে। বাজে একটা জিনিস। একবার খাওয়া শুরু করলে সেটা কোর্স শেষ করতেই হবে, না হলে কাজ করবে না। ২০১০ এর দিকে একবার মারাত্মক জ্বরে পড়লাম। ৭দিন এন্টিবায়োটিক খেতে হবে, আগে জানলে এন্টিবায়োটিক খেতাম না, জ্বরের ঘোরে আম্মা খাইয়ে দিলো, তারপর পালা করে ৭দিন খাওয়ালো। ৭দিন পর জ্বর শেষ হয়ে গেল কিন্তু আমার উঠে দাড়ানোর ক্ষমতা রইলো না। আরো ৭দিন শুয়ে থেকে শেষমেষ গায়ে একটু শক্তি ফিরেছিল।

যাইহোক, প্রশ্নগুলো সিলি হতে পারে, কিন্তু আমি উত্তরটা ঠিক জানিনা, জানলেও ভুলে গেছি।


- এই যে এন্টিবায়োটিক, এটা একবার শুরু করলে ফুল কোর্স শেষ করতেই হবে এইরকম বাধ্যবাধকতা কেন ?

- নিয়মমাফিক খেতে হবে, সকালে- রাতে। সকালের টা দেরী করলে সমস্যা কি ? 

- ৭দিনের মধ্যে এক বেলাও যদি বাদ যায়, আবার নতুন করে কোর্স শুরু করতে হয় ক্যানো ?

- এন্টিবায়োটিক, শরীরের রোগ-প্রতিরোধ করতে সাহায্য করার কথা। সেক্ষেত্রে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার সাথে এটার রিলেশন কিভাবে ?

-  কি কি ক্ষেত্রে কিংবা কোন কোন ক্ষেত্র বাদে এন্টিবায়োটিক ব্যাবহৃত হয় ?


পিএস: বাড়ি যাওয়ার আগে ডাক্তার এন্টিবায়োটিক দিয়েছিল। একবেলা মিস গেছে। (ঘুমিয়ে গেছিলাম)  ghusi

Re: ওষুধপত্তর: এন্টিবায়োটিক

আমি কোর্স কমপ্লিট না করে অফ করে দিয়েছি এরকম রেকর্ডই বেশি, ম্যাক্সিমামই খেয়েছি জ্বরের কারনে, দুদিন খেয়ে নগদে বাদ, শরীরের বারোটা না বাজানো পর্যন্ত এটা থামে না, তবে এখনো কোন ঝালেমা হয় নাই। বিটিডব্লিউ প্রশ্নগুলোর উত্তর আমারও জানা দরকার।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-১০-২০১৪ ১৬:২২)

Re: ওষুধপত্তর: এন্টিবায়োটিক

এই যে এন্টিবায়োটিক, এটা একবার শুরু করলে ফুল কোর্স শেষ করতেই হবে এইরকম বাধ্যবাধকতা কেন ?

এ্যান্টিবায়োটিক আর কিছুই না - কেমিকেল পয়জন। জীবানু যেমন ব্যাকটেরিয়া, ফাঙাস, প্রোটোযোয়া ইত্যাদির জন্য সাক্ষাৎ বিষ। জীবাণুরা শুধু বসে বসে মার খাবে তা হবে না - এক পর্যায়ে ওরাও নিজের শারীরিক কার্যক্রম পাল্টে দিয়ে এই কেমিকেলের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স গ্রো করতে পারে। এ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে ফোরামে বেশ কয়েকবার বিশদ আলোচনা হয়েছে - এই মুহুর্তে খুৃজতে ইচ্ছা হচ্ছে না। তবে সর্বশেষ তপু ভাই এখানে লিখেছেন।

নিয়মমাফিক খেতে হবে, সকালে- রাতে। সকালের টা দেরী করলে সমস্যা কি ?

প্রতিটি ড্রাগ মলিকিউলের নিজস্ব হাফ লাইফ আছে। নির্দিষ্ট সময় (সাধারণতঃ ৪-৮ ঘন্টা) পর ড্রাগটির কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যায়, প্লাজমা কন্সেন্ট্রেশন খুব নিম্ন মাত্রায় নেমে আসে কিংবা শরীর থেকে উধাও হয়ে যায়। এই বিশেষ জাতের ঔষধ সেবনের সময় বডিকে ফুলটাইম এ্যান্টিবায়োটিক কাভারেজের মধ্যে রাখতে হয়। এর মধ্যে ছেদ পড়লে অনেক জীবাণু রেজিস্ট্যান্স তৈরী করে ফেলতে পারে। তাই ওদের অনবরত দৌড়ের ওপর রাখতে হয়।

৭দিনের মধ্যে এক বেলাও যদি বাদ যায়, আবার নতুন করে কোর্স শুরু করতে হয় ক্যানো ?

#২ দেখুন। ১ বেলা মিস হলে বড় কোনো সমস্যা নয়, পরের বেলা একটু হাইডোজে নিলে অনেক সময় কাজ হয়ে যায়। তবে অনেকসময় যদি মিস হয় তাহলে পুনরায় কোর্স শুরু করতে হবে।
টিবির ক্ষেত্রে এটা খুব বেশি জরুরী ছিলো - ১টা ডোজ যদি মিস হয় তবে পুনরায় কেঁচে গণ্ডুষ করতে হতো।

এন্টিবায়োটিক, শরীরের রোগ-প্রতিরোধ করতে সাহায্য করার কথা। সেক্ষেত্রে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার সাথে এটার রিলেশন কিভাবে ?

রোগ হলে তো শরীর এমনিতেই দুর্বল হয়, আপনি এ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করলেও দুর্বল হবে। শারিরীক মাল্টি-সিস্টেম দুর্বলতা একটা বিশাল ব্যাপার - শুধুমাত্র একটা মলিকিউলের ওপর দায় ফেলা সম্ভব না। দুর্বলবোধের পেছনে শরীরের বিভিন্ন সিস্টেম যুক্ত থাকে। ড্রাগ একটা প্রভাবক হতে পারে, কিন্তু কখনোই একমাত্র কারণ হতে পারে না। সুস্থ, সবল অবস্থায় এ্যান্টিবায়োটিক খেলেই যে দুর্বল হয়ে যাবেন তা কিন্তু নয়... বরং আমার কাছে সাইকোলজীকাল মনে হচ্ছে। অসুখের সময় মানুষ ভালনারেবল থাকে - তাই হয়তো ট্যাবলেট গেলার সময় প্রত্যাশা বেশি থাকে - তখন কোনো ডিসকমফোর্ট হলে তার দোষ হয়তো ঔষধের ওপরই গিয়ে পড়ে।

তবে সব ড্রাগেরই মূল কাজের পাশাপাশি অনেক অনভিপ্রেত প্রতিক্রিয়া হয়। যেমন Ciprofloxacin আমাদের দেশে সচরাচর ব্যবহার করা হয়। এর একটি সাইড ইফেক্ট হলো মুখের রূচি চলে যায়, মুখে একটা মেটালিক টেইস্ট থাকে। পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকবেই - কোনটা বেশি জরুরী তা রোগীকেই ঠিক করতে হবে। ক্ষণস্থায়ী ডিসকমফোর্ট নাকি গুরুতর ক্ষতি থেকে জীবন রক্ষা? ৩/৪ দিন  দুর্বলতা অনুভব করা ভালো, নাকি তার ভয়ে প্রচণ্ড অসুখে চিকিৎসা না করে মাল্টি-অর্গ্যান ফেইলিউর ডেভেলপ করে চিরতরে কোনো কিছুই অনুভব না করা শ্রেয়? যাকগে, প্রতিটি ড্রাগের সাথে লিটারেচার দেয়া হয় যাতে সকল সাইডইফেক্ট বর্ণিত থাকে। পারফেক্ট হতো যদি ঔষধগুলো শুধুমাত্র যে কাজের জন্য প্রয়োগ করা হয় শুধু সে কাজটাই করতো, অন্য কোনো দিকে প্রভাব না ফেলতো... but we are not living in a perfect world

কি কি ক্ষেত্রে কিংবা কোন কোন ক্ষেত্র বাদে এন্টিবায়োটিক ব্যাবহৃত হয় ?

এটা চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন।
তবে আমাদের দেশে এ্যাবিউজ হয় প্রচুর। রোগীদের খুশি করার জন্য ডাক্তাররা চাপে থাকেন, অনর্থক ঔষধ প্রেসক্রাইব করতে হয়। নিজের আত্মীয়দের মধ্যেই দেখেছি - সাধারণ সর্দি-জ্বরে ডাক্তার প্রথমদিকে হয়তো কোনো ঔষধ দেয় নি। "কি ব্যাপার? কোনো এ্যান্টিবায়োটিক দিলেন না?" রোগী এমনভাব করে যেন তাকে ইচ্ছা করে ডাক্তার সুস্থ হতে দিচ্ছে না.... অতঃপর বিন্দুমাত্র দরকার না থাকার পরেও....  donttell এই অবস্থা বারবার রিপিট হতে হতে এক পর্যায়ে ডাক্তার তরিকা শিখে যায় - রোগী ঘরে পা ফেলার আগেই প্রেসক্রিপশনে অর্ধেক ড্রাগ লেখা হয়ে যায়  sad

Calm... like a bomb.

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১০-১০-২০১৪ ১৪:৪৯)

Re: ওষুধপত্তর: এন্টিবায়োটিক

এন্টিবায়োটিক নিয়ে সচলায়তনে একটি পোস্ট পড়েছিলাম বহু আগে
সম্পর্কিত:
সুপারবাগ: নরকের কীট
ইবোলা ভাইরাস বিষয়ক
ব্যাকটেরিয়া সর্বশক্তিমান!