সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন gmakas (২৯-০৯-২০১৪ ১২:৩৪)

টপিকঃ চিরায়ত কবি ও কবিতা প্রথম পর্ব

চিরায়ত কবি ও কবিতা প্রথম পর্ব

সামনে ২৮( ২৮শে সেপ্টেম্বর) তারিখ ভুলে যাওয়া নীতিবাদী সাহিত্য সাধক/বঙ্গ মুসলিম সাহিত্য কবি/ মুসলমি ঐতহ্যি ও ইতিহাসের  নিতিমূলক কবি/ সাহিত্যবিশারদ /আধ্যাত্মিক কবি/ সূফী ভাবাপন্ন লেখক ইত্যাদি নামে ভূষিত কবি শেখ ফজলল করিম এর ৭৮তম মৃত্যু বার্ষিকী।
ছোটতে মনে হয় ৪র্থ কি ৫ম শ্রেণিতে  বিখ্যাত কবিতা “স্বর্গ ও নরক” দিয়ে শেখ ফজলল করিম এর সঙ্গে পরিচয় ঘটে আমার। তার পরে এই এতো এতো বছর পর তাকে নিয়ে জানার আগ্রহ হতে তাকে নিয়ে লিখছি এবং এমন করে চিরায়ত কবিতা গুলির লেখকে নিয়ে চলবে এই লিখা।   

শুরুর কথা:
সাহিত্য-শিল্পের ক্রমবিকাশের ইতিহাস মূলত অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার ধারাবাহিক সমন্বয়ের ইতিহাস। আমরা প্রায়শ এ সত্যর কাছ হতে বিস্মৃত হতে চাই। সাহিত্য, শিল্প বা সংস্কৃতির এমন কোন শাখা নেই যা ঐতিহ্য ছাড়া বাঁচাতে পারে। যুগে যুগে সাহিত্যে যে ব্যাপক বিবর্তন ঘটেছে তা মূলত অতীত ঐতিহ্যকে অবলম্বন করেই নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে। এমনই এক বিস্মৃত প্রায় কবি শেখ ফজলল করিম।
জন্ম: 
লুপ্ত গৌরব ও অতীত ঐতিহ্য নিয়ে মুষ্টিমেয় যে কজন মুসলমান লেখক বাংলা  সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন তাদরে মধ্যে শেখ ফজলল করিম অন্যতম । তিনি বাংলাদেশেরে একজন সফল খ্যাতনামা কবি ও গদ্য রচয়িতা । নীতিবাদী সাহিত্য সাধক শেখ ফজলল করিমের জন্ম বাংলা ১২৮৯ সালের ৩০ চৈত্র (ইতিহাস গবেষক সমর পালের মতে ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ এপ্রিল/২৮ সেপ্টেম্বর'১৮৮২ ) সোমবার রাত্রি শেষে (মঙ্গলবার) তৎকালীন রংপুর জেলার বা  বর্তমান লালমনির হাট জেলার  কালীগঞ্জ থানার কাকিনা গ্রামে। এই গ্রামেই তিনি লালিতপালিত হন এবং ,মৃত্যুর পরে এই গ্রামই তাঁর সারাজীবনের স্থায়ী ঠিকানা।


পিতা মাতা:
তার দাদা ছিলেন জশমতউল্লা সরদার।তিনি স্থানীয় জমিদারী এস্টেটের কর্মচারী ছিলেন। তাঁর পিতা আমীনউল্লা সরদার কাকিনার। তিনিও বাবার পথ ধরে স্থানীয় জমিদারী এস্টেটের কর্মচারীর চাকরি নিয়েছিলেন। তাঁর মাতার নাম কোকিলা বিবি। শেখ ফজলল করিম ---আমীনউল্লা ও কোকিলা বিবির দ্বিতীয় সন্তান।তার পারিবারিক ডাক নাম ছিল মোনা। গ্রামের লোকজন তাকে ডাকত ‘কবি সাইব’ বলে।


শৈশব ও পড়াশুনা:
ফজলল করিমদের পরিবার ছিল একান্নবর্তী। মানে আত্মীয়-পরিজন মিলে এক বিশাল পরিবার। বনেদি পরিবারের বাড়ির আদল যেমন হয়, তেমনি ছিল ফজলল করিমের পৈত্রিক বাড়ি। সেই বাড়ির প্রশস্ত কাছারি ঘরের মাঝামাঝি একটি বিরাট সেক্রেটারিয়েট টেবিল ছিল। তাতে থাকত সৌখিন দোয়াতদানি ও পাখার নানারকম কলম। তখনকার দিনে পাখার কলমে লেখার প্রচলন ছিল। এই বিরাট টেবিলেই, ঝকঝকে লণ্ঠনের আলোয় পড়াশোনা করতেন শেখ ফজলল করিম। লিখতেনও এখানেই। রাত বারটা পর্যন্ত বিরামহীন লেখাপড়া চলত। ( তার মৃত্যুর পরও বহু বছর টেবিলটি সেই নির্দিষ্ট স্থানেই ছিল, ছিল হারিকেনটিও) ফজলল করিমের পড়াশোনা শুরু হয় বাসাতে। আর বয়স ৩-৪ হতে না হতেই তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে স্কুলে চলে যেতেন।পরে তাকে মধ্যভকাকিনা ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনি  প্রতি বছর বাৎসরিক পরীক্ষায় পুরস্কার পেতেন।ফজলল করিমের ইংরেজি ও বাংলা হাতের লেখা খুব সুন্দর ছিল। এ জন্য তিনি কাকিনার রায়বাহাদুরের কাছ থেকে একবার শীতবস্ত্র পারিতোষিক হিসেবে লাভ করেছিলেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। কাকিনা স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় শেখ ফজলল করিম বিয়ে করেন। তখন তার বয়স ছিল তের বছর। স্ত্রীর নাম মোসাম্মাৎ বসিরন নেসা খাতুন। তার দুই পুত্রসন্তান হয়েছিল। তার প্রথম ছেলে মাত্র তিনদিন বেঁচেছিল। এর কয়েক বছর পরে দ্বিতীয় পুত্র মতিয়র রহমানের জন্ম হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে তাকে রংপুর জেলা স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এরপর কিছুদিন তিনি ঘরেই শিক্ষাগ্রহণ করেন। পরে আবার ভর্তি হন কাকিনা স্কুলে। সেখান থেকেই ১৮৯৯ সালে মাইনর পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। মাইনর পাসের পর তিনি পুনরায় রংপুর জেলা স্কুলে ভর্তি হন। প্রথমে তার ইচ্ছে ছিল ডাক্তারি পড়ার। সে জন্য তিনি কাকিনা গভর্নমেন্ট ডিসপেনসারির ডাক্তার সদাচরণ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের অধীনে পড়তেও শুরু করেন। ডাক্তারখানায় অনুশীলনও করতেন। কলকাতার কম্বেল স্কুলে পড়তে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন কলকাতায় প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার বাবা তাকে আর কলকাতায় যাওয়ার অনুমতি দেননি। তিনি বিলাতে ব্যারিস্টারি পড়তেও যেতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সে আশাও পূর্ণ হয়নি তার। সরদার ফজলল করিম পড়তে খুব ভালোবাসতেন। প্রায়ই এমন হত, পড়তে পড়তে তিনি রাত পার করে দিতেন। কখনও কখনও রাতে ২-১ ঘণ্টা ঘুমাতেন। কোন কোন রাত বিনা-ঘুমেই পার করে দিতেন। আর প্রচুর পত্রিকা পড়তেন। পত্রিকা অবশ্য শুধু খবরের জন্যই পড়তেন না, পড়তেন নতুন নতুন শব্দ শেখার জন্য। বেশি পড়তেন সাহিত্য পত্রিকা । রংপুর জেলা স্কুলে পড়ালেখায় মন বসাতে না পেরে তখন তিনি প্রচুর এবং বিভিন্ন রকমের বই পড়তে শুরু করেন। পড়াশোনা ছাড়ার পর পড়াশোনা, জ্ঞান চর্চা, সংবাদপত্র পাঠে তিনি অনেক সময় ব্যয় করতেন। এ সময় আধ্যাত্মিক ও সাহিত্য-চিন্তা তাকে গভীরভাবে দোলা দিতে-থাকে। সাহিত্য চর্চার সুবিধার্থে তিনি নানা পত্রপত্রিকা, পুস্তক সংগ্রহ করতেন। সে সমস্ত সংগ্রহ নিয়ে তিন ১৮৯৬ সালে নিজ বাড়িতেই করিম আহমদিয়া লাইব্রেরী নামে একটি ব্যক্তিগত পাঠাগার তৈরি করেন। এভাবে সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে তিনি অনেক ঠাট্টা উপহাসের শিকার হন কিন্তু প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তির কারণে দূর্বার গতিতে চলতে থাকে তার সাহিত্য চর্চা।



স্ত্রী ও সন্তান:
কাকিনা স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় শেখ ফজলল করিম বিয়ে করেন। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর।পার্শ্ববর্তী বিনবিনা গ্রামের গনি মোহাম্মদ সর্দারের মেয়ে বসিরন নেছা খাতুনের সাথে বিয়ে হয় কবির।  তার দুই পুত্রসন্তান হয়েছিল। তার প্রথম ছেলে মাত্র তিনদিন বেঁচেছিল। এর কয়েক বছর পরে দ্বিতীয় পুত্র মতিয়র রহমানের জন্ম । বেঁচে যাওয়া পুত্রের সন্তানরাই (মতিয়র রহমান এর সন্তানরা) এখন তার উত্তর পুরুষ।

তার সাহিত্য ও সাহিত্য রচনা:
ইসলামরে সৌন্দর্য বোধ থেকইে তার মনে নীতিবাদ প্রভাব বিস্তার করে । তার রচনায় সর্বত্র সূফী ভাবাপন্ন একটি নীতি জ্ঞান সম্পন্ন মনরে পরিচয় সুস্পষ্ট । মুসলিম জাতীয় ঐতিহ্যেরে প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল অপরসিম । এই সম্মানবোধ থেকেই তিনি মুসলমান পীর দরবেশের জীবনী গ্রন্থ লেখয় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন । ঊন-বিংশ শতাব্দীতে যে সব মুসলমান লেখক সৃষ্টিধর্মী সাহিত্যেরে ক্ষেত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন , তাঁদের মধ্যে শেখ ফজলল করিমের নাম অগ্রগণ্য বললে অত্যুক্তি হয় না । সৃষ্টিধর্মী লেখক হওয়া সত্ত্বেও সাহিত্যে সৃষ্টির ক্ষেত্রে  তিনি প্রেরণা লাভ করছেনে ইসলামের ইতিহাস ঐতিহ্য ও ধর্ম নীতি থেকে । বাংলা সাহিত্যে  মুসলমানদের ভূমিকা সমর্পকে আলোচনা করতে গিয়ে কবি শামসুর রাহমান বলেন----- এরা প্রথার বিরুদ্ধে নিশান ওড়ান নি বটে কিন্ত শুভ-বাদী বক্তব্য পেশ করছেনে খোলামেলা ভাবে ।
শেখ ফজলল করিম বাঙ্গালী মুসলমানদের বাংলা ভাষা বিরোধিতা প্রসঙ্গে তার বক্তব্য অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তুলে ধরেছিলেন । শেখ ফজলল করমিরে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতি তার প্রমাণ-------
“ একদল সেকেলে গোঁড়া মুসলমান আছে , তাহারা বাঙ্গালা শিক্ষার পক্ষ পাতি নহেন । তাহারা উর্দুতে আলাপ করনে , পার্শিতে পত্র লেখেন অথচ বাংলাদেশের ভাত না খাইলে তাহাদের জীবন ধারণ করা চলে না । কিন্তু ভাবিয়া দেখিলে তাহারাও বোধহয় বুঝিতে পারিবেন , যে দেশের পনের আনা লোক উর্দু , ফার্সির ধার ধারে না , মায়ের পেট হইতে পড়িয়াই দেশের মুসলমান বাংলা বলতে আরম্ভ করে , সে দশেরে মুসলমানদের বাংলা না শিখিলে পরিণাম কি হইবে ।“ এই অত্যান্তিক প্রয়োজনে ফজলল করিম বাংলা ভাষার চর্চা করে গেছেনে । 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর (১৮৮০-১৯৩১) নেতৃত্বে যে নবতর সাহিত্য প্রচেষ্টার উন্মেষ এ দেশে ঘটেছিল তার সার্থক ধারক ও বাহক ছিলেন শেখ ফজলল করিম। শেখ ফজলল করিমের পরিচিতি মূলত একজন কবি হিসেবে আমরা দেখি। তিনি কবিতা ছাড়াও লিখেছেন অসংখ্য প্রবন্ধ, নাট্যকাব্য, জীবনী-গ্রন্থ,  ইতিহাস গবেষণামূলক নিবন্ধ, সমাজ গঠনমূলক তত্ত্বকথা, গল্প, শিশুতোষ সাহিত্য, নীতিকথা, চরিত-গ্রন্থ এবং বিভিন্ন সমালোচনামূলক রচনা। সাহিত্যের সব শাখায় ছিল তার প্রবল পদচারণ।
তিনি ছিলেন সূফী ভাবাপন্ন লেখক। সূফীবাদের প্রভাব এসেছিল পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে। বংশানুক্রমে তারা ছিলেন চিশতিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত পীরদের মুরিদ। স্বভাব কবি হলেও সূফী ভাবধারা-পুষ্ট পীরবাদ তার আন্তরিক সমর্থন লাভ করেছিল। সে- কারণেই দেখা যায়

>>‘পথ ও পাথেয়’র (১৯১৩) ভূমিকা বা মুখবন্ধে তিনি লিখেছেন : ‘ক্ষুধা যেমন অকাট্য হইয়া দু’নিরীক্ষ, বিধাতাও তেমনি সত্য অন্তরঙ্গ হইয়া দুর্দশ। তাহাকে অনুভব করিবার, হৃদয়ে ধরিবার জন্য জীবন ধারাটিকে কিরূপে সজ্জিত করিতে হইবে মানুষ মাত্রেরই তাহা শিক্ষা করা উচিত। এই শিক্ষা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত শিক্ষকের আশ্রয় লইতে হয়। ... এ পথের গাইড-গুরু ব্যতীত পথচলা সাধারণত অসম্ভব।’

>> ‘পথ ও পাথেয়’তে শেখ ফজলল করিম বিভিন্ন মহাপুরুষের জীবন নীতি ও ধর্মনিষ্ঠার নানা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।

>>অল্প বয়স থেকেই তার কবিত্ব শক্তির বিকাশ ঘটে। ‘সরল পদ্য বিকাশ’ তার ১১-১৫ বছর বয়সের রচনা। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। একে তিনি স্বভাব কবি-তার উপরে তার গৃহশিক্ষক
ছিলেন যোগ্যতম ব্যক্তি ‘রংপুর দিক প্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক হর শঙ্কর মৈত্রেয়। শিক্ষা এবং প্রতিভার
আলোয় যারা আলোকিত তাদের জন্য বয়স তেমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। কাজী নজরুল
ইসলামের বেলাতে এটা আমরা দেখেছি- তার বাল্য রচনা সে সাক্ষ্যই দেয়। যা হোক- উনবিংশ শতাব্দীর
শেষভাগে শেখ ফজলল করিম সাহিত্য চর্চা আরম্ভ করেন।

>>কবির স্বর্গ ও নরক নামে কালজয়ী কবিতাটি ১৩২১ বঙ্গাব্দের আষাঢ় সংখ্যা ভারতবর্ষে প্রকাশিত হয়েছিল।‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক?’ বিখ্যাত কবিতার কবি হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে তিনি আজও পরিচিত।
স্বর্গ ও নরক
কবি শেখ ফজলল করিমের
( ভারতবর্ষ , আষাঢ় ১৩২১ )
কোথায় স্বর্গ ? কোথায় নরক ? কে বলে তা বহুদূর ?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গনরক মানুষেতে সুরাসুর ।
রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায় গো লয় ,
আত্মগ্লানীর নরক অনলে তখনি পুরিতে হয় ।
প্রীতিপ্রেমের পুণ্য বাঁধনে মিলি যবে পরস্পরে ,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে ।


>>কবির এই কবিতাটি ‘বঙ্গবাণী’ ও ‘মালঞ্চ’ নামে দু’টি স্কুল পাঠ্যপুস্তকেও গৃহীত হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সিলেবাসে ম্যাট্রিক ক্লাসের জন্য তাঁর কবিতা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।


>> ১৯০০ খ্রি. প্রকাশিত হয় তার ‘তৃষ্ণা’ কাব্য। এ কাব্য গ্রন্থে মহর্ষি মনসুরের একটি কবিতার (উর্দু অনুবাদ থেকে) বঙ্গানুবাদসহ মোট সতেরোটি গীতি কবিতা স্থান পায়।

>> তিনি পবিত্র কোরান শরীফের বিভিন্ন সূরার কাব্যানুবাদও করেন। একটি অনুবাদে তিনি লিখেছেন-

শাহান শাহ্ হে রাজ অধিরাজ
নিখিল জগৎ পিতা,
রাজারে করেছ দিনের ভিখারি
ভিখারিরে রাজে বৃত।
যারে খুশি তুমি কর হতমান
যারে খুশি কর গৌরব দান
নিখিলের যত মঙ্গল শুভ
তব হাতে সঞ্চিত।

>>ইসলামের প্রচার থেকে শুরু করে মক্কা বিজয় পর্যন্ত ঘটনাবলী নিয়ে ফজলল করিম লেখেন ‘পরিত্রাণ’ কাব্য (১৯০৩)।

>>তিনি যেমন ছিলেন মুসলমানদের দুর্দশার জন্য  কাতর , সেই সঙ্গে মাতৃভাষার অনাদরের জন্যও তিনি  দুঃখ প্রকাশ করেছেন :

কি পাপে দারুণ বিধি তোমার কপালে
লিখেছিলা হেন দুঃখ বল বঙ্গভাষা,
অনাহারে, অবহেলে,- পরিচর্যাভাবে
জীর্ণাশীর্ণা হারায়েছে সকল ভরসা।
হতভাগ্য বাঙ্গালীর অদৃষ্টের দোষে
তুমি মা কাঙ্গালী আজ আপনার দেশে।

>>মনে হয় বাংলা ভাষার কলঙ্ক মোচনের জন্য তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গে পত্রিকা সম্পাদনাও করেছেন। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি সাধনের উদ্দেশ্যে ‘বাসনা’ (১৩১৫ বঙ্গাব্দে/ ১৯০৮ সালের মে মাসে।) একটি উচ্চাঙ্গের মাসিকপত্রিকা সম্পাদনা করেন। ‘বাসনা’ পত্রিকাটি দু’বছর চালু ছিল। এই পত্রিকায় হামেদ আলী, শেখ রেয়াজ উদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিম উদ্দীন আহমদ (রংপুরের প্রথম মুসলিম গ্র্যাজুয়েট) এবং আরো অনেক স্বনাম খ্যাত ব্যক্তির লেখা প্রকাশিত হতো। ওই সময় ‘বাসনা’ পত্রিকাটি ছিল পূর্ববঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাসিক পত্রিকা।

>>এছাড়াও ‘জমজম’, ‘কল্লোলিনী’ (এক ফর্মা ছাপা হয়) এবং হাতে লেখা পত্রিকা ‘রত্নপ্রদীপ’ নিয়মিত
সম্পাদনা করেন।
>>নীতি এবং ধর্মগ্রন্থ রচনায় নিখিল ভারতব্যাপী প্রতিযোগিতায় শ্রীভারত ধর্ম মহামলের কাছ থেকে তিনি মেডেল পুরস্কার পেয়েছিলেন আর সেইসঙ্গে ভূষিত হয়েছিলেন নীতিভূষণ উপাধিতেও।
>>বাংলা ভাষায় তার অসাধারণ দক্ষতা ছিল। গদ্য এবং পদ্য দুটোতেই তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। তাছাড়া সাধু এবং কথ্য বাংলা গদ্যের দুটি রীতিই তার হাতে মধুরতা লাভ করেছে।

>>তার রচিত ‘বিবি রহিমা’ (১৯১৮)  সম্পর্কে ‘দেশ’ পত্রিকা লিখেছিল- ‘আমরা আগ্রহ সহকারে বইখানি পড়িয়াছি এবং প্রকৃতপক্ষেই পড়িয়া আনন্দ লাভ করিয়াছি।
>> বার্ষিক সওগাত এর সম্পাদক এম নাসিরুদ্দিন বলেছেন –  শেখ ফজলল করিমের ভাষা প্রাঞ্জল ও মধুর ,তিনি একজন সুকবি ও সুলেখক ।
এটিই তিনি (‘বিবি রহিমা’ )এক ধরনের আদর্শবাদ প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এই আদর্শবাদের স্বরূপ আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস স্থাপন এবং স্বামীর প্রতি শর্তহীন নিষ্ঠা ও আনুগত্য প্রকাশ।
‘অন্ধকার! মাঝে মাঝে ঝোঁপের  ফাঁকে ফাঁকে চাঁদের আলো পড়ছে। রহিমা সেই আবছায়ায় তন্ন তন্ন করে হারানো ধন খুঁজে বেড়াতে লাগলেন। আলো-ছায়ার কল্প কুহকে কতবার তার মনুষ্য ভ্রম হতে লাগল। কতবার ‘পেয়েছি’ ‘ পেয়েছি’ বলে চীৎকার করে উঠলেন,
কিন্তু কোথায় কি ? সে বনে মানুষ কোথায়! বেদনার তপ্তনিঃশ্বাস বহন করে বনের বাতাসও যেন গরম হয়ে  উঠল।’---‘বিবি রহিমা’ (১৯১৮)

>>বলা যেতে পারে ‘রাজর্ষি এবরাহীম’ (১৯২৪) ফজলল করিমের শ্রেষ্ঠ রচনা। কারণ শুধু রাজর্ষি এবরাহীমের কাহিনী নয়- বইয়ের দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি অংশজুড়ে রয়েছে তপস্বী আদহামের
কাহিনী এবং সেই কাহিনীই অধিক তর চিত্তাকর্ষক। বইটির ভাষা ললিত, মধুর ও বেগবান, সাংগীতিক
ব্যঞ্জনাও ভাবাবেগময়তা এর বৈশিষ্ট্য।
>>লাইলী মজনু (১৯০৪) শেখ ফজলল করিমের লেখা উপন্যাস।
>>এছাড়া চিন্তার চাষ (নীতিকথা; ১৯১৬)।
>>হারুন-অর-রশিদের গল্প (১৯১৬)
>>সোনার বাতি (১৯১৮) তার শিশুতোষ গ্রন্থ।
>>‘কান্তনামা’ নামে একটি পুঁথিও তিনি সম্পাদন করেছিলেন।
>>তিনি ওমর খৈয়ামেরও বাংলা অনুবাদ করেছিলেন।
>>সুধাকর, ভারতবর্ষ, সওগাত , বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্যভপত্রিকা, আরতি, কম্পতারু শিশু সাথী, মোসলেম
ভারত ,মাসিক মোহাম্মদী, বসুমতী ইত্যাদি পত্রপত্রিকায় শেখ ফজলল করিমের অসংখ্য কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, উপন্যাস, অনুবাদ প্রকাশিত হয়। সমকালীন মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে তার অবস্থান ছিল প্রথম সারিতে।

একনজরে তার সাহিত্য সম্ভারঃ  

>>কাব্যগ্রন্থ
সরল পদ্য বিকাশ (১৮৯৩),
তৃষ্ণা (১৯০০),
পরিত্রাণ কাব্য (১৯০৪),
ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি (১৯১১),
গাঁথা (১৯১৩)
>>উপন্যাস
লায়লী মজনু (১৯০৪)

>>গদ্যগ্রন্থ
মানসিংহ (১৯০৩),
মহর্ষি হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির (র) জীবন-চরিত (১৯১৪),
চিন্তার চাষ (নীতিকথা, ১৯১৬),
বিবি রহিমা (জীবনী, ১৯১৮),
পথ ও পাথেয় (১৯১৮),
রাজর্ষি এবরাহীম (জীবনী, ১৯২৫),
বিবি খাদিজা (জীবনী, ১৯২৭),
বিবি ফাতেমা (জীবনী, ১৯২৭)
ভগ্নবীণা বা ইসলাম চিত্র, (১৯০৪),
আফগানিস্থানের ইতিহাস,
>>শিশুতোষ গ্রন্থ
হারুন-অর-রশিদের গল্প (১৯১৬)
সোনার বাতি (১৯১৮) তার
শেখ ফজলল করিমের প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত গ্রন্থের তালিকা অনুযায়ী আনুমানিক ৫৮টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে।

কর্মজীবন:
সাহিত্যের প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহের কারণে কর্মজীবন ফজলল করিমকে তেমন ভাবে আকর্ষণ করতে পারে নি। তবে যানা যায় কবি শেখ ফজলল করিম ১৯০১ থেকে ১৯০২ সাল পর্যন্ত পাট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স এমভি কোম্পানিতে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। স্বাধীনচেতা ফজলল করিম কোম্পানির মন জুগিয়ে কাজ করতে না পারায় চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ত্রিশের দশকে শেখ ফজলল করিম ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ছোটবেলাতেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আয়ত্ত করেছিলেন যা তিনি কাজে লাগাতেন গ্রামের দরিদ্র মানুষের সেবায়। তিনি বাড়িতে বসেই দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করতেন। কর্মজীবনে তিনি মুন্সি মেহেরুল্লাহর (১৮৬১-১৯০৭) অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ পেয়েছিলেন। সাহিত্য সৃষ্টি, প্রকাশনা ও সাধনার ও প্রচণ্ড ইচ্ছা এবং আগ্রহ থেকে  শেখ ফজলল করিম কাকিনায় নিজবাড়িতে তার পীর সাহেব হজরত মওলানা মহম্মদ শাহ সাহাব উদ্দীনের নামানুসারে তৎকালীন প্রায় দেড় হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘সাহাবিয়া প্রিন্টিং ওয়ার্কস’।
পুরুস্কার ও সম্মাননা: 
>বাসনা সম্পাদনার সময় রোমিও-জুলিয়েট সম্পর্কিত তার একটি কবিতা পাঠ করে তৎকালীন হিন্দু সাহিত্যিকেরা তাকে বাংলার শেক্সপিয়র আখ্যা দেন।
>পথ ও পাথেয় গ্রন্থের জন্য তিনি রৌপ্য-পদক লাভ করেন। (১৩৩১ বঙ্গাব্দে খিদিরপুর মাইকেল লাইব্রেরি থেকে মধুস্মৃতি কবিতার জন্য তিনি রৌপ্য-পদক পান।)
> নদীয়ার ‘সাহিত্যসভা’ তাকে সাহিত্য বিশারদ (১৩২৩)
>চিন্তার চাষ গ্রন্থের জন্য তিনি নীতিভূষণ, কাশ্মীর শ্রীভারত ধর্ম মহামন্ডল তাকে রৌপ্যপদকে ভূষিত করে এবং তাকে দেওয়া হয় নীতিভূষণ উপাধি।
>এ ছাড়া তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে কাব্য ভূষণ, সাহিত্যরণ, বিদ্যাবিনোদ, কাব্যরত্নাকর(১৩২৪)  ইত্যাদি উপাধিত ও সম্মানে ভূষিত করে।
মৃত্যু ও চিরশায়িতঃ
বিরল প্রতিভাধর এই কবি ১৮৮২ সালের ৯ এপ্রিল রংপুরের কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং মাত্র
৫৩ বছর বয়সে ১৯৩৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ন্যাস রোগে মধ্য রাতে কাকিনায় নিজ বাড়ীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাড়ীর সম্মুখে  কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
যে ভাবে যাবেন: 
কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কাকিনা মৌজায় শেখ ফজলল করিমের বাড়ী অবস্থিত।যা ‘কবি বাড়ী’ নামে বহুল পরিচিত।লালমনিরহাট সদর হতে অথবা কালীগঞ্জ উপজেলা সদর হতে সড়কপথে কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ী ও কবর দেখতে যাওয়া যায়। কালীগঞ্জ উপজেলা সদর হতে সড়কপথে এর দুরত্ব ১০ কিমি।
দর্শনিয় যা কিছু:
এখানে যাওয়ার প্রথম আকর্ষণ কবির কবর-গ্রাহ। কবির  পাকা করা কবরের  গায়ে লেখা আছে  কবির অমর গাঁথা শ্লোকটি ----
“ কোথায় স্বর্গ,কোথায় নরক ?
কে বলে তা’ বহুদূর ?
মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক,
মানুষেতে সুরাসুর।”
তার সামনেই বিশাল বাড়ি ও একটি  কাচারী ঘর। প্রশস্ত বারান্দায় সৌখিন কাঠের কারু কাজ। কাচারী ঘরের চাল জুড়ে রয়েছে মনোহরী ফুলের বাগান। নজর কাড়া এ বাড়িটি কবি শেখ ফজলল করিমের। পাশের দোচালা দুই রুমের ঘরের একটিতে  এককোনে আছে একটি কাচের শোকেস।  ভিতরে রয়েছে কবির ব্যবহৃত টুপি, দাড়ি, দোয়াত-কলম, ছোট্ট কোরআন শরিফ, ম্যাগনিফাইং গ্লাস ও কিছু বোতাম।

বর্তমান অবস্থা:
শিশুদের নিয়ে লিখেছেন অনেক লেখা। কবির লেখা কবিতা ও গল্প বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে ঠাঁই পেলেও তার স্মৃতি আজ অনেকটাই পেছনে পড়ে রয়েছে। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য লালমনিরহাট পৌরসভাধীন খোর্দ্দসাপটানা মৌজায় কালেক্টরেট মাঠের পূর্ব পাশে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় কবি শেখ ফজলল করিম শিশুনিকেতন ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
এ ছাড়া
কবির জন্মভূমি,গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের ধারে কবির স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই “শেখ ফজলল করিম স্মৃতিস্তম্ভ”টি নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক কাজী ফরিদ আহম্মেদ ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে। তাঁরই উদ্যোগে কবিবাড়ির জরাজীর্ণতার কিছুটা সংস্কার করেছিলেন। কবির সমাধিটিও সেই সময় পাকা করে তার গায়ে লেখা হয়েছিল কবির অমর গাঁথা শ্লোকটি ----
“ কোথায় স্বর্গ,কোথায় নরক ?
কে বলে তা’ বহুদূর ?
মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক,
মানুষেতে সুরাসুর।”

সংস্কারের ২ যুগ অতিক্রম হতে চলেছে।জীর্ণ-শীর্ণ হয়েছে কবির কবর ও বাড়িটি।  এলাকার অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। কিন্তু, উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিতে। ধ্বংসের মুখে কবি-বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার এখনই সময়। কবির ব্যবহৃত আসবাবপত্র,চেয়ার,টেবিল,পাণবাটা,খাট,সর্বোপরি কাঠের নির্মিত দ্বিতল ঘরটি। যে ঘরে কবির জীবন কাটিয়েছেন। সৃষ্টি করেছেন তাঁর অনবৈধ্য রচনা ভাণ্ডার। বাড়িটিতে কবির অনেক স্মৃতি বর্তমানে অনাদরে অযত্নে হারিয়ে যেতে বসেছে। আগামী প্রজন্মের কাছে কবিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এসব সংরক্ষণ করা আশু প্রয়োজন।
এ ছাড়াও তাঁর রচনা সৃষ্টির যথার্থ স্বীকৃতি পেয়ে কবির রচিত অর্ধ শতাধিক কাব্য,ও গদ্য,পদ্য গ্রন্থ মুদ্রিত হলেও প্রকাশিত হয়নি তার রচনাবলী। এ গুলো উদ্ধার করে আগামী প্রজন্মের কাছে কবিকে তুলে ধরতে হলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বর্তমান প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর সাহিত্যকে সামগ্রিক ভাবে আরও পরিচিতি লাভের জন্য প্রয়োজন কবির ‘জীবন ও আদর্শ’ নিয়ে গবেষণা করা। একজন অসম্ভব,অসাধারণ কবিকে, কবির রচনাবলীর সাথে বর্তমান প্রজন্মের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। কবির রচনাবলী সংগ্রহ করে কবিকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে  । তা’হলে কবিকে শত শত বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
কবির ‘জন্ম-মৃত্যু’ দিবস দু’টিও পালন হয়না । নীরবে-নিভৃতে চলে যায় ৯ এপ্রিল-‘জন্মদিন’ কিংবা ২৮ সেপ্টেম্বর-‘মৃত্যু বার্ষিকী।

একটি সংবাদ দিয়ে শেষ করব কবিকে নিয়ে লিখা-------------
কবি শেখ ফজলল করিমের  গ্রামের বাড়ির বেহাল দশা(কালীগঞ্জ -লালমনিরহাট সংবাদদাতা)
সরকারি উদ্যোগের অভাব, অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কার না হওয়ায় কবি শেখ ফজলল করিমের
স্মৃতি বিজড়িত গ্রামের বাড়িটি অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নিভৃত পল্লী গাঁয়ে সাহিত্য,
কাহিনী উপন্যাস প্রবন্ধসহ গদ্য রচনার একমাত্র স্থান ছিল লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার
কাকিনা গ্রাম। ফজলল করিমের গ্রামের বাড়ি। গতকাল শনিবার কবি বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, কবি শেখ ফজলল করিমের কবরের ঠিক সামনেই একটি বিরাট কাচারী ঘর। প্রশস্ত বারান্দায় সৌখিন কাঠের কারু
কাজ। কাচারী ঘরের চাল জুড়ে রয়েছে মনোহরী ফুলের বাগান। নজর কাড়া এ বাড়িটি কবি শেখ ফজলল করিমের। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই ভাঙা দরজা, ভাঙা চৌকাঠ দেখেই বুঝা যায় কতটা অযত্ন আর অবহেলায় রয়েছে কবির বাড়িটি। সৌখিন কারু কাজ করা কাঠগুলো উঁইপোকার অত্যাচারে খসে খসে পড়ছে। ঘরটির এককোনে আছে একটি কাচের শোকেস। শোকেসের কাচগুলো ফেটে চৌচির। ভিতরে রয়েছে কবির ব্যবহৃত টুপি, দাড়ি, দোয়াত-কলম, ছোট্ট কোরআন শরিফ, ম্যাগনিফাইং গ্লাস ও কিছু
বোতাম। সবমিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়িটি'র বর্তমান বেহাল দশাই
প্রতীয়তমান হয়েছে। কবি বাড়ির বর্তমান রক্ষক কবির অন্যতম দৌহিদ্র ওয়াহিদুন্নবী বলেন, কবির
স্মৃতি ধরে রাখতে যত্ন করছেন কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সংস্কার করতে পারছি না। কবির
স্মৃতি ধরে রাখতে তাই সরকারি ভাবে কবি বাড়িটি সংস্কার করার জোরদাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

>>>আমরাও চাই সংস্কার হোক কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি। সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন বলে আমরা আশা ব্যক্ত করি। 
   

সুত্র—অনলাইন বিভিন্ন পত্রিকা, উইকিপিডিয়া, তার জিবনি গ্রন্থ, রংপুরের স্থানিয় পত্রিকা ও বিভিন্ন নিবন্ধন।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: চিরায়ত কবি ও কবিতা প্রথম পর্ব

তারঁ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানলাম

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: চিরায়ত কবি ও কবিতা প্রথম পর্ব

gmakas লেখাটি কি আপনার নিজের ? নিজের না হলে যেখান হতে কপি করেছেন সুত্র হিসেবে সেখানকার লিংক যোগ করে দিন।

আপনাকে ২৪ ঘন্টা সময় দেয়া হলো। এর মধ্যে সুত্র যোগ করতে ব্যর্থ হলে লেখাটি ট্রাশে চলে যাবে।

Re: চিরায়ত কবি ও কবিতা প্রথম পর্ব

হা আমি লিখেছি। আর প্রায় ১০ টা পত্রিকা। ওইকিপিডিয়া, বিভিন্ন নিবনবন্ধন ও তাকে নিয়ে লিখিত জিবনি গ্রন্থের সাহান্টার নিয়েছি। তাই কোন নির্দিষ্ট সোরস আমি উল্লেখ করি নি। আপ্নি খোজ নিয়ে দেখিতে পারেন।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ