সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৮-০৬-২০১৪ ০৯:৫৯)

টপিকঃ বালিকণায় মহাবিশ্ব

To see a world in a grain of sand
And a heaven in a wild flower,
Hold infinity in the palm of your hand,
And eternity in an hour.
— Auguries of Innocence by William Blake (1757—1827)

ক্ষুদ্র বালুকণায় মহাবিশ্ব - The universe in a grain of sand...
http://i.imgur.com/WbTnIWS.jpg
চন্দ্রালোকে সাগরপাড়ে
কল্পনা করুন…

ভরা পূর্ণিমার গহীন রাতে কোনো এক নিঝুম সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে আছেন একাকী…

মুখ তুলে ওপরের পানে তাকাতেই দৃষ্টিগোচর হয় অসীম আকাশের নীল চাদরে খচিত মুক্তোকণার মত অগুনতি নক্ষত্ররাজী।

আকাশভরা সূর্য্যতারা…
নিযুত কোটি তারকাদের ভীড়ে হারিয়ে যেতে চাইছে আপনার উদাস মন। আপনার সমস্ত দেহসত্বা যা দিয়ে গঠিত—প্রতিটি পরমাণুর জন্ম হয়েছিলো ওই অগুনতি নক্ষ্যত্রগুলোর অগ্নিগর্ভে। We are made of stardust, literally.

Every atom in your body was forged in the furnace of a fiery star! হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরে নাম না জানা অগুনতি মুমুর্ষু নক্ষত্রগুলোর মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তের ক্রুদ্ধ শেষ চিৎকার — ভয়াল সুপারনোভার বিস্ফোরক বারুদে রচিত হয়েছিলো আপনার জন্মঠিকুজি…

For you to live, a million stars had to die… The birth of your being can be traced back to the final death throes of a thousand dying stars!

জন্মদাত্রী অগুণতি নক্ষত্রবীথির খুব ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশই আপনি দেখতে পারছেন। যারা মরে গিয়ে আপনার জন্মলাভের সুযোগ তৈরী করে গিয়েছিলো, তাদের বিশাল অংশই আপনার দৃষ্টির অগোচরে রয়ে যাবে চিরকাল। ভাবতেই নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হতে থাকে…

অনুভব করুন… পদতলে শীতল বালিয়াড়ি।

পায়ের বুড়ো আঙ্গুলটা বেলেমাটির নরোম চাদরে ডুবিয়ে দিয়ে অনুভব করুন প্রতিটি বালিকণা।

স্বতন্ত্রভাবে।

Go ahead… উবু হয়ে তুলে নিন একমুঠো বালি হাত ভর্তি করে।

হাতের তেলোয় খামচে ধরে রাখা বালির স্তূপটির দিকে লক্ষ্য করুন। অনুভব করতে পারছেন ঝুড়োঝুড়ো বালি? রুপোলী চাঁদের আলোয় চিকচিক করে হাসতে থাকা প্রতিটি বালিকণা আলাদা করে চিনতে পারছেন? আপনার হাতের মুঠোয় কয়টি বালিকণা আছে গুণে বের করতে পারবেন? খুব তুচ্ছ কাজ মনে হচ্ছে কি?

প্রতিটি বালিকণাকে মনে করুন একটি করে তারকা… আকাশের সূর্য্যের মতো প্রখর নক্ষত্র বলে ভাবুন বালুর প্রতিটি কণাকে। এই নিঃসীম মহাবিশ্বে কতগুলো তারা আছে? হাতটা হঠাৎ ভারী লাগতে শুরু করলো কি?

যে সাগরতীরে দাঁড়িয়ে আছেন তার পানে দৃষ্টি প্রসারিত করুন। ডানে তাকান। বাঁয়ে তাকান। এই নির্দিষ্ট সমুদ্রতটটিতে ঠিক কয়টি বালিকণা আছে আঁচ করতে পারেন? নিঃসন্দেহে অবিশ্বাস্য সংখ্যক বেলেকণা!

এবার ভাবুন পৃথিবীর সমস্ত সাগরপাড়ের কথা… এবং ভাবুন প্রতিটি বালিকণার কথা যারা তিলে তিলে গড়ে তুলেছে ওই সব সমুদ্রতীরগুলো… এবং ভাবুন তিন-চতুর্থাংশ জলজ এই পৃথিবীর সমস্ত মহাসমুদ্রগুলোর অতল গভীরে ঘুমিয়ে থাকা বালিকণাদের কথা… এবং ভাবুন তপ্ত দিগন্ত বিস্তৃত মরুভূমির ধু ধু বালিয়াড়ির কথা…

পৃথিবীর বুকে প্রতিটি বালিকণার বিপরীতে একটি করে তারা আছে এই মহাবিশ্বে! For every grain of sand on this earth, there is a star in this universe!

…and you are standing on this planet revolving around one star…

…one grain of sand…

http://i.imgur.com/3fXu99H.jpg

ভাবনার সুতো ছিঁড়ে যেতে খেয়াল করলেন, হাতে ধরে রাখা বালির স্তূপ প্রায় পুরোটাই হারিয়ে গেছে। হয় ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেছে, নয়তো আঙ্গুলের ফাঁক গলে ঝরে পড়েছে।

খুব সামান্য সংখ্যক কিছু বালির কণাই অবশিষ্ট আছে হাতের তেলোয়…

…and there are more atoms in those grains of sand than there are stars in the known universe…

…and there are possibly more universes than there are grains of sand on earth, each with more stars than grains of sand on its earth…

http://i.imgur.com/7q9oWVk.jpg

পূর্বে ব্লগে প্রকাশিতঃ The universe in a grain of sand

Calm... like a bomb.

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

পুরাই মাথা নষ্ট হবার মত অবস্থা ! এসব নিয়ে ভাবতে গেলে চার পাশের জগত সংসার, জাপিত-জীবন সবকিছু তুচ্ছ মনে হয় । নিজের ক্ষুদ্রতা প্রকটতর হয়ে উঠে !এককালে এসব নিয়ে খুবই ভাবতাম ব্রাসু দা । দৃশ্যমান আকাশের বিখ্যাত নক্ষত্র মণ্ডলী, রাশিমালা  গ্রহ ইত্যাদির সাথে বাল্যকাল থেকেই জানাশোনা । গ্রামের পরিষ্কার আকাশে সুনসান রাতে নদীর ধারে চিত হয়ে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখার মজাই আলাদা !

আপনার চিন্তাকরস্‌ক টপিকের জন্য ধন্যবাদ !
আর অনেকদিনের বাদে ফোরামে পদার্পণের জন্য .........কি দিমু ভাইবা পাইতাছিনা !

জানি আছো হাত-ছোঁয়া নাগালে
তবুও কী দুর্লঙ্ঘ দূরে!

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

উপস্থাপনাটা মারাত্মক হয়েছে দাদা  thumbs_up

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৮-০৬-২০১৪ ১১:০২)

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

উপস্থাপনাটা মারাত্মক হয়েছে দাদা  thumbs_up

ধন্যবাদ সারোয়ার ভাই!  thumbs_up

জামিল মণ্ডল লিখেছেন:

পুরাই মাথা নষ্ট হবার মত অবস্থা ! এসব নিয়ে ভাবতে গেলে চার পাশের জগত সংসার, জাপিত-জীবন সবকিছু তুচ্ছ মনে হয় । নিজের ক্ষুদ্রতা প্রকটতর হয়ে উঠে !এককালে এসব নিয়ে খুবই ভাবতাম ব্রাসু দা । দৃশ্যমান আকাশের বিখ্যাত নক্ষত্র মণ্ডলী, রাশিমালা  গ্রহ ইত্যাদির সাথে বাল্যকাল থেকেই জানাশোনা । গ্রামের পরিষ্কার আকাশে সুনসান রাতে নদীর ধারে চিত হয়ে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখার মজাই আলাদা !

একদম ঠিক! শহরের আলোকদূষণের কারণে সপ্তর্ষিমণ্ডল ও অল্প কিছু উজ্বল তারা বাদ দিলে প্রায় কিছুই দেখা যায় না  sad
ছোটোবেলায় আমিও স্টারগেজিং-এর ভক্ত ছিলাম love যদিও এতসব ব্যাকগ্রাউণ্ড তথ্য মোটেই জানতাম না kidding
ঈদানীং রাতের আকাশের দিকে তাকালে মাঝে মধ্যে কিছু উড়ো চিন্তা মাথায় আসে... "ওপাশ" থেকে আমার দিকে কে তাকিয়ে আছে? ওর টেলিস্কোপটা কি আমাদের চাইতে বড়?  roll

আপনার ক্ষুদ্রতা প্রকট করার জন্য একটা ফটো (খুব সম্ভবতঃ আগেই দেখেছেন ছবিটা):
http://i.imgur.com/cn22pSz.jpg
২০০৩-এর শেষে অধুনা-বিলুপ্ত হাবল টেলিস্কোপের তোলা আল্ট্রা ডীপ ফিল্ড (HUDF) ছবি। আজ পর্যন্ত মানুষের তোলা সবচাইতে সুন্দর, awe inspiring, thought provoking ফটোগুলোর শীর্ষে থাকবে ১০ বছর পুরনো এই ইমেজটি!

ডানহাতটা মুখের সামনে টানটান প্রসারিত করার পর বুড়ো আঙ্গুলের নখটা যতটুকু জায়গা দখল করে, তার চাইতেও ক্ষুদ্র এলাকার মহাকাশ রিপ্রেজেন্ট করে ওই iconic ছবিটি।

এমনকি ছবিটিতে তারাও খুব একটা নেই। প্রতিটি রঙীন পিক্সেলই একটি (বা একাধিক) করে গ্যালাক্সী - যাদের প্রতিটির ভেতরই বিলিয়নের পর বিলিয়ন নক্ষত্র জ্বলছে একসাথে! every colored patch in that photograph represents billions of suns burning bright together! আর আছে নেবুলা-রা - যাদের গর্ভে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন নক্ষত্র ও গ্যালাক্সী...

প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গ্যালাক্সীর আলো ক্যাপচার করেছিলো ওই ফটোটিতে। কত টৃলিয়ন সূর্য্য উঁকি মারছে ওই ইমেজটিতে?  তাদের মধ্যে কতটির সৌরজগৎে প্রাণের বিকাশ হয়েছিলো?  hairpull

ছবিটিতে এক ঝলক চোখ বোলানো মানেই টাইম ট্রাভেল করে বিলিয়নের পর বিলিয়নের পর বিলিয়ন বছর পিছিয়ে যাওয়া! ইমেজটিতে এমনও কিছু গ্যালাক্সী ধরা পড়েছে যারা পৃথিবী থেকে ১৩+ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত! ইন ফ্যাক্ট, ছবির প্রায় প্রতিটি গ্যালাক্সীই একাধিক বিলিয়ন লাইট ইয়ার দূরত্বে। সবচেয়ে কাছের গুলোও কমসে কম কয়েক মিলিয়ন আলো-বছর দূরে।

ভাবুন, ওই গ্যালাক্সীপুঞ্জ থেকে নির্গত ফোটন কণিকাগুলো বিশাল দূরত্বের মহাশূন্য পাড়ি দিয়ে আজ আপনার রেটিনায় হিট করছে - অথচ আপনি জানেন "এই মূহুর্তে" ওরা কেউই টিকে নেই। কয়েক বিলিয়ন বছর আগেই ওরা সকলেই "বিলুপ্ত" হয়ে গেছে (টেকনিকালী শক্তির নিত্যতার সূত্র অনুযায়ী অন্য বস্তু/শক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে  isee ) you are looking at a picture of long-dead stars and galaxies...  ওই টৃলিয়ন তারাদের কোলে অতীতে যদি কোনো বুদ্ধিমান প্রাণ (বা সভ্যতা) গড়ে উঠে থাকে - তারা সকলেই শত কোটি বছর আগেই বিলীন হয়ে গিয়েছে...  sad

আর ভাবুন তো...  dream এই মূহুর্তে বিলিয়ন সূর্য্যের আলোয় উদ্ভাসিত আমাদের এই মিল্কীওয়ে গ্যালাক্সী থেকে দশ/বিশ/পঞ্চাশ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরত্বে টৃলিয়ন টৃলিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যে কোনো একটি অচেনা গ্যালাক্সীর শত বিলিয়ন তারাদের মধ্যে কোনো একটি অনুল্লেখযোগ্য নক্ষত্রকে আবর্তন করতে থাকা একটি অতিসাধারণ ক্ষুদ্র গ্রহের বুদ্ধিমান বাসিন্দারা যখন তাদের টেলিস্কোপটা প্রথমবারের মত এদিক পানে তাক করবে, তখন... !!!

পিএসঃ HUDF ও XDF নিয়ে আলাদা দেওয়ার ইচ্ছা আছে।

Calm... like a bomb.

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

সম্প্রতি বিজ্ঞানিরা মিলিয়ন ডলার খরচ করে গবেষনা করে নাকি বের হয়েছে ইউনিভার্স এক্সিস্ট করেনা।  tongue
http://www.tweaktown.com/news/38736/sci … index.html

এম. মেরাজ হোসেন
IQ: 113
http://www.iq-test.cc/badges/4774105_3724.png

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

অসাধারণ টপিক।

এক কলিগ রিসেন্টলি একটা কথা বলেছিলেন। সেটা খুব পছন্দ হয়েছিলো। একজনের অনেক বন্ধু, বান্ধব, পরিচিতজন, সামাজিক প্রতিপত্তি, টাকাপয়সা ইত্যাদি থাকতে পারে। কিন্তু সে যদি এই মুহুর্তে ভ্যানিশ হয়ে যায়, দুনিয়ার কিচ্ছু যাবে আসবে না।

পোস্টটা দেখে এ কথাটা মনে পড়লো। আসলেই মানুষ এতটাই ইনসিগনিফিক্যান্ট। না থাকলে মহাবিশ্ব টেরই পাবে না।

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগল ।আমি আকাশের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারি না আমার মাথা ঘুরায় ।মনে হয় চারপাশটা শুন্ন।কেউ নেই কিছু নেই ।আসলেই বিশাল এই পৃথিবীতে কতই না ক্ষুদ্র প্রাণ আমরা

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

চমৎকার হয়েছে  clap
বিজ্ঞানকে শিশু মনে করা ভুল, বিজ্ঞান এখনো জন্ম নেয়নি।

invarbrass লিখেছেন:

ক্ষুদ্রতা প্রকট করার জন্য একটা ফটো

এটা সম্ভবত শিল্পীর তুলিতে আঁকা  tongue

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

invarbrass লিখেছেন:

আলোকদূষণের কারণে সপ্তর্ষিমণ্ডল

এইটাও ঠিক মতদেখা কষ্ট।  brokenheart

invarbrass লিখেছেন:

রাতের আকাশের দিকে তাকালে মাঝে মধ্যে কিছু উড়ো চিন্তা মাথায় আসে... "ওপাশ" থেকে আমার দিকে কে তাকিয়ে আছে? ওর টেলিস্কোপটা কি আমাদের চাইতে বড়?

আমার ভাবনা গুলি আরো একটু ডেঞ্জারাস টাইপ হয়।  nailbiting

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১০

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

আমাদের বিজ্ঞান স্যার একবার মহাকাশের বিশালতা বুঝাতে গিয়ে এই বালির উদাহরণ টেনেছিলেন। তখন ছোট মাথায় বাসায় চিন্তা করতে গিয়ে টের পেলাম প্রায় অজ্ঞান হওয়ার মতো দশা। এখন বড় হওয়ার পর এই বিশালতা নিয়ে আর ভাবিই না। মাঝেমধ্যে ভাবি, এই মস্তিষ্ক কি আদৌ এত বিশালতা ধারণ করতে সক্ষম?

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

১১

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

গৌতম লিখেছেন:

আমাদের বিজ্ঞান স্যার একবার মহাকাশের বিশালতা বুঝাতে গিয়ে এই বালির উদাহরণ টেনেছিলেন। তখন ছোট মাথায় বাসায় চিন্তা করতে গিয়ে টের পেলাম প্রায় অজ্ঞান হওয়ার মতো দশা। এখন বড় হওয়ার পর এই বিশালতা নিয়ে আর ভাবিই না। মাঝেমধ্যে ভাবি, এই মস্তিষ্ক কি আদৌ এত বিশালতা ধারণ করতে সক্ষম?

কখনই না এজন্যই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা ব্রেইনকে যেভাবে বিশ্রাম দেই সেভাবে হবে না।

now that was an epic comeback!!!  thumbs_up

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

চমৎকার লেখা, নিজেরে কেমন যেন একটা বালুকণার থেকেও ক্ষুদ্র মনে হইতেছে  whats_the_matter

   নেই, আছে এবং নৈবচ নৈবচ . . . . .
   দেশ, দশ, দুনিয়া তথা বিশ্ব ব্রম্মান্ড হইতে নহে ষাইফ ঋাষেল আপাতত ফেসবুক হইতে আনা গাইয়েবুন

১৩

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

অসাম সুন্দর একটি লেখা  thumbs_up

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৪

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

আমরা ব্রেইনকে যেভাবে বিশ্রাম দেই সেভাবে হবে না।

এটা বুঝলাম না। কিছুদিন আগে ফোরামেই একটা পোস্ট দেখেছিলাম যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন জিনিসের সাথে তুলনা করে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব তুলনা করা হয়েছিল। তখনও এই মহাবিশ্বের বিশালতা ভাবতে গিয়ে থই হারিয়ে ফেলেছিলাম। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই মহাবিশ্ব এতোটাই বিশাল যে, এরকম বিশালতা চিন্তায়ও ধারণ করতে পারছি না।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

১৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (৩০-০৬-২০১৪ ১৩:৫৭)

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

ভালোবাসার কোড লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

ক্ষুদ্রতা প্রকট করার জন্য একটা ফটো

এটা সম্ভবত শিল্পীর তুলিতে আঁকা  tongue

নেহি ভাইজান, ইয়েহি হ্যায় আসলি তসবীর!  big_smile

ফটোটা একটু আনরিয়েল মনে হবার কারণ আছে বেশ কিছু। প্রথমতঃ, ছবিটা যে ক্যামেরা দিয়ে তোলা হয়েছে সেটা ইনফ্রা-রেড থেকে আল্ট্রা-ভায়োলেট অব্দি রেঞ্জের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ক্যাপচার করতে সক্ষম। কিন্তু আমাদের চোখ শুধু "ভিজিবল লাইট" অর্থাৎ খুব সীমিত রেঞ্জের তরঙ্গ ডিটেক্ট করতে পারে। তাই, ছবিটা রিলিজের আগে নাসা নিঃসন্দেহে পোস্ট-প্রসেসিং করেছিলো - বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে "দৃশ্যমান" করেছে সম্ভবতঃ।

যেমনঃ শনি গ্রহের এই ছবিটাও শিল্পীর আঁকা / সিজিআই মনে হতে পারে। কিন্তু ফটোটা রিয়েল; বিভিন্ন স্পেকট্রামের রেডিয়েশন সুপার-ইমপোজ করার কারণে ফেইক মনে হতে পারে।

ভিজিবল স্পেক্ট্রাম নিয়ে পুরণো টপিকটা দেখতে পারেন।

এমনিতেও নাসার প্রায় সব ছবি রিলিজের আগে পোস্ট-প্রসেস করে। ইউটিউবে একটা ভিডিওতে দেখেছিলামঃ ওরা যদি কোনো ছবি রিলিজ করে, সেই ছবিটার পেছনে হয়তো লক্ষ লক্ষ এক্সপোজার আছে। ওই অরিজিনাল ক্যাপচারগুলো হয়তো খুবই বোরিং, আনইন্টারেস্টিং। অনেক ইমেজই আল্ট্রাসনোগ্রাফী ফিল্মের মতো সাদা-কালো/গ্রেস্কেল। তাই ওরা অসংখ্য ইমেজ বাছাই করে কম্পোজিট তৈরী করে, কালারাইয করে, কিছু ডিটেল হাইলাইট করে... তবে ওরা যে একেবারে মনের মাধুরী মিশিয়ে ইচ্ছামতো ফটোশপিং করে তাও না। কোনো বস্তুর আলোতে যদি সোডিয়াম থাকে তবে সেটাতে হলদাভ রঙ দেয় ইত্যাদি।

২০০৪ সালের ওই নির্দিষ্ট ছবিটা টানা ৪ মাস ধরে এক্সপোজার নেয়া হয়েছিলো। এই মাসের শুরুতে ওই ছবিটার একটা আপডেটেড ভার্সন ছেড়েছে নাসা - 2014 ইমেজটা ১০ বছর ধরে এক্সপোজার নেয়া।

তবে আমার আগের পোস্টে ভুল ছিলো। ৫,৫০০ না, এই ছবিটাতে আসলে ১০,০০০-এর বেশি গ্যালাক্সী আছে! galaxies, not stars! পৃথিবী থেকে মেঘহীন রাতের আকাশের যে অংশগুলো একদম নিরেট কালো, অন্ধকার ও বৈশিষ্ট্যহীন দেখায়, ফটোটা সেরকমই একটা আণুবীক্ষণিক অংশের ছবি - অথচ তার মধ্যেই কত কিছু! প্রতিটি গ্যালাক্সীর মধ্যে গড়ে ৫০০ বিলিয়ন (৫,০০,০০০ কোটি) সূর্য্য ধরলে...  hairpull

হৃদয়১ লিখেছেন:

এক কলিগ রিসেন্টলি একটা কথা বলেছিলেন। সেটা খুব পছন্দ হয়েছিলো। একজনের অনেক বন্ধু, বান্ধব, পরিচিতজন, সামাজিক প্রতিপত্তি, টাকাপয়সা ইত্যাদি থাকতে পারে। কিন্তু সে যদি এই মুহুর্তে ভ্যানিশ হয়ে যায়, দুনিয়ার কিচ্ছু যাবে আসবে না।
পোস্টটা দেখে এ কথাটা মনে পড়লো। আসলেই মানুষ এতটাই ইনসিগনিফিক্যান্ট। না থাকলে মহাবিশ্ব টেরই পাবে না।

তা বটে। সাইবেরিয়ার লেক বৈকালের পাড়ে একটি পিঁপড়া পাথর চাপা পড়ে মারা গেলে সারা পৃথিবীতে যে প্রভাব পড়বে, তার সিকিভাগও মহাবিশ্বে পড়বে না যদি সমগ্র মানবসভ্যতা বা পুরো পৃথিবীটাই আগামীকাল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

তবে এখানেও কিন্তু আছে। Cosmos (পুরনোটা) দেখার সময় কার্ল স্যাগানের এই উক্তিটা খুবই মনে ধরেছিলোঃ "We are the universe reflecting upon itself"

শত বছরের পুরণো ফিলোসফিকাল প্রশ্নটির এখনো উত্তর পাওয়া যায় নি - If a rock falls in a distant forest and there's no one around to hear it, does it make a sound?

first person shooter গেইমগুলোতে শুধুমাত্র প্লেয়ারের আশেপাশে একটা নির্দিষ্ট রেডিয়াসের মধ্যে অবস্থিত অবজেক্টগুলোই শুধু রেণ্ডার হয়, তার বাইরের বস্তুগুলো কোনোদিনই "alive" হবে না যদি প্লেয়ার সেদিকে না যায়। হোয়াট ইফ... আপনার চারপাশে যা কিছু দেখছেন, আপনার সমস্ত জীবন, পরিবার পরিজন সকল কিছু কম্পিউটেড হচ্ছে শুধুমাত্র আপনার অস্তিত্বের কারণে? হোয়াট ইফ... পুরো মহাবিশ্বটাই একটা কালেক্টিভ FPS গেইমের মতো?

আমরা যেমন একটা লাইন টেনে দিয়ে বলি এ পাশেরগুলো জীব, ও পাশেরগুলো জড় (ভাইরাসদের কথা বাদ দিলাম) - এ আদৌ যৌক্তিক কিনা তা ঈদানীং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

অবজার্ভার ইফেক্ট বলে পদার্থবিদ্যায় একটি ব্যাপার আছে। ফোটন বা ইলেক্ট্রণের মতো ফাণ্ডামেণ্টাল কণারা ওয়েভ-পার্টিকল ডুয়ালিটি (কণা-তরঙ্গ দ্বৈততা) প্রকাশ করে। ফোটন সাধারণভাবে ওয়েভ বা তরঙ্গের মতো আচরণ করে। কিন্তু যে মুহূর্তে একজন পর্যবেক্ষক তাকে পর্যবেক্ষণ করা আরম্ভ করে, নিমিষেই তার ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স করে এবং সে পার্টিকল বা কণার মতো আচরণ করে। ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেণ্ট নিয়ে ব্রায়ান গৃণের চমৎকার ভিডিওঃ

এছাড়াও আছে কোয়ান্টাম ননলোকালিটি। একটি কনাকে অবজার্ভ করা শুরু করলেই তার সাথে entangled অপর কণাটি, সে যত দূরেই হোক না কেন, বিপরীত দিকে স্পিন করা আরম্ভ করে।

বিজ্ঞান যতই আগাচ্ছে, ততই প্রাণ ও জড়ের মধ্যে পার্থক্য ঝাপসা হয়ে আসছে।

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

আলোকদূষণের কারণে সপ্তর্ষিমণ্ডল

এইটাও ঠিক মতদেখা কষ্ট।

তা ঠিক। লোকালয়ে বাস করে কি জিনিস মিস করছি তা নীচের ছবিটি দেখে বোঝা যায়...
এ্যাণ্টার্টিকাঃ
http://i.imgur.com/Sx4qYS8.jpg

গৌতম লিখেছেন:

এটা বুঝলাম না। কিছুদিন আগে ফোরামেই একটা পোস্ট দেখেছিলাম যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন জিনিসের সাথে তুলনা করে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব তুলনা করা হয়েছিল। তখনও এই মহাবিশ্বের বিশালতা ভাবতে গিয়ে থই হারিয়ে ফেলেছিলাম। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই মহাবিশ্ব এতোটাই বিশাল যে, এরকম বিশালতা চিন্তায়ও ধারণ করতে পারছি না।

আরেকটু খোঁচাই  big_smile আপনার সারা দেহ, ইনফ্যাক্ট আশেপাশে নিরেট যা কিছু দেখছেন - কম্পিউটার, টেবিল চেয়ার, ঘরের দেয়াল - সবকিছু হলো আসলে ৯৯.৯৯% empty space! ইলেক্ট্রণ আর নিউক্লিয়াস বাদ দিলে পুরোটাই ফাঁকা স্থান। নিউক্লিয়ার প্রোটনকে যদি একটি ক্রিকেট বলের সাথে তুলনা করেন, তাহলে সবচেয়ে নিকটবর্তী ইলেক্ট্রণগুলো থাকবে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে!

এখানেই শেষ নয় - এই প্রাণীজগৎ ও জড়জগৎ, পৃথিবী, সূর্য্য, সৌরজগৎ, নক্ষত্রপুঞ্জ, গ্যালাক্সী, নেবুলা - মহাবিশ্বের দৃশ্যমান সবকিছু এবং সমস্তকিছু একত্রিত করলে খুব ক্ষুদ্র অংশ হয়। মাত্র ৪ শতাংশ।  roll বাকি ৯৬% মহাবিশ্ব কি দিয়ে গঠিত, কিভাবে পরিচালিত হয় তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জী, ডার্ক ফ্লো - শুধু লেবেলই দিতে পেরেছি, কিন্তু এগুলো ঠিক কি তা এখনো পর্যন্ত আমরা জানতে পারি নি।

ফুলের বাগানে যদি অল্প-সংখ্যক অবাঞ্চিত উদ্ভিদ দেখি, তাকে আগাছা, জঞ্জাল নামে ডাকি আমরা।

96% dark-whatever পূর্ণ এই মহাজগৎের 4% অধিবাসী আমরা তবে কি? কি লেবেল দেবো আমাদের?  hehe

Calm... like a bomb.

১৬

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

আপনার এই খোঁচানো বিষয়গুলো সম্পর্কে সামান্য ধারণা আছে। smile

অনার্সে আমাদের পদার্থবিদ্যা পড়াতেন শাহাজাহান তপন স্যার। তিনি মজা করে এসব বিষয় বলতেন। তাঁর বলার ধরনটা এমনই মজার ছিল যে, কোনো ক্লাস বোর লাগতো  না।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সাইফ দি বস ৭ (৩০-০৬-২০১৪ ১৮:০৮)

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

ইনভার ভাইয়ের লেখাগুলো পিসিতে বসে পড়তে মজা নাই।  sad রাতে আরাম করে ট্যাবলেটে বসে পড়তে পড়তে আরেক দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়ার মজাই আলাদা। বুকমার্ক করে রাখলাম। একরাতে পড়ব মনে করে। big_smile

(এক রাতে ঘুম আসছিল না, ব্রেইন ইন এ ভ্যাট পড়তে পড়তে কখন যে রাত ১২:৩০ টা থেকে ৩টা/৩:৩০ টা বেজে গিয়েছিল টেরই পাই নি! ঐ অসাধারণ লেখার জন্য লাল সালাম আরেকবার smile )

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD

১৮

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

ব্রাসুদাকে অনেক ধন্যবাদ! চিন্তা-ভাবনার আরেকটু খোরাক যোগানোর জন্য smile

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

১৯

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

অনেক আগে দেখা জোক্সের মত করে বলতে হয়,
আমার মাথা দেখি চুলকায়!

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (০১-০৭-২০১৪ ১৯:২৮)

Re: বালিকণায় মহাবিশ্ব

invarbrass লিখেছেন:

আপনার হাতের মুঠোয় কয়টি বালিকণা আছে গুণে বের করতে পারবেন? খুব তুচ্ছ কাজ মনে হচ্ছে কি?

তুচ্ছ কাজ মোটেও নয়! ইনফ্যাক্ট তারাগুনা বা দেখার মত তুচ্ছ কাজ থেকেই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় রেভুল্যুশন গুলো হয়ে গেছে!! ছড়ানো ছিটানো কাহানী গুলো আগে থেকে জানলেও কজমস-১৪-এপিসোড-৩ দেখার আগে ব্যাপারটা এভাবে অনুভব করিনি। হ্যালী যদি ধুমকেতু আর তারা গুনে ম্যাপ বানানো নিয়ে পাগল না হত তাহলে তারা এবং গ্রহের দুতত্ব/গতি নিয়ে উঠে পরে লাগতনা। আর সেটা না হলে নিউটনের প্রিন্সিপিকা কখনো প্রকাশিত হত না... মতান্তরে আমরা এখনো মধ্যযুগেই থাকতাম।