সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (০৯-০৬-২০১৪ ০৯:১১)

টপিকঃ বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

২৫ জানুয়ারি রওনা হয়ে ২৬ তারিখ সকালে পৌছাই খাগড়াছড়ি। একটি মাহেন্দ্রা গাড়ি রিজার্ভ করে নিয়ে সারা দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ি খাগড়াছড়ি ভ্রমণে। একে একে দেখে ফেলি “আলুটিলা গুহা”, “রিছাং ঝর্ণা”, “শতবর্ষী বটবৃক্ষ” আর “ঝুলন্ত সেতু”।

পরদিন ২৭ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটির দিকে রওনা হই একটি চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে। পথে থেমে দেখে নিই “অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহার”। ২৭ তারিখ দুপুরের পরে পৌছাই রাঙ্গামাটি। বিকেল আর সন্ধ্যাটা কাটে বোটে করে কাপ্তাই লেক দিয়ে “সুভলং ঝর্ণা” ঘুরে। ২৮ তারিখ সকাল থেকে একে একে দেখে এলাম ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি ও রাজবন বিহার। দুপুরের পরে বাসে করে রওনা হয়ে যাই রাঙ্গামাটি থেকে বান্দারবানের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটে বান্দরবনের “হোটেল ফোরস্টারে”। পরদিন ২৯ তারিখ সকালে একটি জিপ ভাড়া করে নিয়ে চলে যাই নীলগিরিতে।

নীলগিরিতে অনেকটা সময় কাটিয়ে রওনা হই ফেরার পথে। ফেরার পথে সামনে পরবে চিম্বুক পাহার।
বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাহাড় এই চিম্বুক। বান্দরবন শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরের চিম্বুক পাহাড় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০০শ ফুট উঁচু। এখানে গিয়েছি আগে কয়েকবার তাই এবার আর কষ্ট করে উপরে সবাই উঠবো না ঠিক করেছি। শুধু স্বপন একা চিম্বুকের চুম্বক আকর্ষণে উপরে একটা ঢু মেরে আসে। এই ফাকে আমরা চিম্বুকের নিচে থাকা পাহাড়ি পেঁপে আর মালটা কিনে খেয়ে আবার রওনা হয়ে যাই। এবার থামবো বান্দরবন শহর থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দূরের শৈলপ্রপাতের সামনে। শৈলপ্রপাতটি একেবারেই পথের ধারে।

https://fbcdn-sphotos-c-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpa1/t31.0-8/s960x960/10448615_10202905771063271_4495059602157503136_o.jpg

রাস্তার পাশেই আছে পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার বা বসার ছাউনি, সেখান থেকে অনেক ধাপের সিঁড়ি নেমে গেছে নিচে প্রপাতের ধারে।

বর্ষায় এই শৈলপ্রপাতের রূপ অপরূপ হয়ে ওঠে, বিশাল জলধারা ছটে চলে প্রচণ্ড গতিতে। সেই সময় এর কাছে যায়গাটা কষ্টসাধ্য ও ভয়ংকর। পুরটা দেখার সুযোগই থাকে না তখন। পাথর থাকে মারাত্মক পিচ্ছিল, একটু এদিক-ওদিক হলেই পা পিছলে আলুর দম হতে হবে তখন।

https://scontent-a-mad.xx.fbcdn.net/hphotos-xaf1/t31.0-8/s960x960/10259210_10202905770703262_4226465789465213252_o.jpg

আমরা যে সময় গিয়েছি (জানুয়ারি মাসে) তখন প্রপাতে জলের ধারা ক্ষণ, অল্প জল পাথরের উপর দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ পাথরই শুকনো তাই অনায়াসেই তার উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়।

https://fbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xaf1/t31.0-8/s960x960/10333521_10202905771383279_6992843166601281582_o.jpg

প্রপাতের নিচের অংশের সমনেই একটা চওড়া ঢালু অংশ আছে, জল জমে আছে সেখানে। জলে না নামতে চাইলে এই অংশ টুকু লাফিয়ে পার হওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই (মেয়েদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব)। শীতের সময় বলে আমরা এই অংশটুকু দেখতে পেলাম, বর্ষায় এর ধারে কাছেও যাওয়া যাবে না। শীতকাল হওয়াতে শৈলপ্রপাতের পুরটা হেঁটে দেখে আসতে পারলাম আমরা।
https://fbcdn-sphotos-g-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpf1/t31.0-8/s960x960/10348947_10202905774183349_3056143602386702113_o.jpg
প্রপাতের শেষ অংশে এসে বেশ কয়েক ফুট নিচে জল গরিয়ে গিয়ে একটি মাঝারি আকারের পুকুরের মত হয়েছে, সেখান থেকে জল চলে যাচ্ছে পাহাড়ি ছড়া বা খাল হয়ে।

https://fbcdn-sphotos-d-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xfp1/t31.0-8/s960x960/10397158_10202905774703362_3487652185770548590_o.jpg


এই প্রপাতের জলই আশপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলির একমাত্র জলের উৎস, এই জলই ওরা পান করে, আবার এই জলেই চলে অন্যান্য সমস্ত কাজ‌ও।

https://fbcdn-sphotos-f-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xap1/t31.0-8/s960x960/10387116_10202905772183299_8271617991841502980_o.jpg



https://fbcdn-sphotos-d-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xap1/t31.0-8/s960x960/10446226_10202905772343303_4130410411961288442_o.jpg



https://fbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpf1/t31.0-8/s960x960/10443025_10202905772783314_4353518555991853635_o.jpg



https://fbcdn-sphotos-c-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xaf1/t31.0-8/s960x960/10443158_10202905773343328_134872985720489451_o.jpg




https://scontent-a-mad.xx.fbcdn.net/hphotos-xaf1/t31.0-8/s960x960/10257275_10202905773623335_3255239447758629467_o.jpg




https://fbcdn-sphotos-f-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xap1/t31.0-8/s960x960/10258636_10202905774583359_2124036111331085189_o.jpg


প্রপাতের উপরে রাস্তার পাশে পাহাড়িরা তাদের নিজেদের হাতে তৈরি নানা সামগ্রীর পশরা নিয়ে বসেছে পর্যটকদের জন্য, আর আছে নিজেদের উৎপাদিত ফল আর ফসলের আসরও। চাইলেই কিনে নিতে পারেন তবে অবশ্যই দরদাম করে।

https://fbcdn-sphotos-b-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xfp1/t31.0-8/s960x960/10339470_10202905775303377_1621110646216310392_o.jpg

ওরা যে আনারস বলবে মধুর মত মিষ্টি সেটা আপনি মুখেরও দিতে পারবেন না, আর কে মালটা বা কমলা বলবে চিনির মত মিষ্টি সেটা খেলে আপনার মাথার উকুনগুলি মাথা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করবে। তবে ভালো পাকা পেঁপে আর কলা খেতে পারে নিশ্চিন্তে। আজকে এগুলি খেয়েই পেট ভরান



আগামী পর্বে দেখা হবে নীলাচলে।

পূর্বের পর্বগুলি -
খাগড়াছড়ির পথে”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – প্রথম পর্ব”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – রিছাং ঝর্ণা”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – শতবর্ষী বটবৃক্ষ”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – ঝুলন্ত সেতু”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহার”।
রাঙ্গামাটি ভ্রমণ – সুভলং ঝর্ণা ও কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার”।
রাঙ্গামাটি ভ্রমণ – ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি ও রাজবন বিহার”।
বান্দরবান ভ্রমণ – নীলগিরি”।
বান্দরবান ভ্রমণ – শৈলপ্রপাত”।


প্রথম প্রকাশ : ঝিঁঝি পোকা
https://fbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash3/249083_10201394970614204_700541791_n.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

ভাইয়া বলেছে এই মাসে বেড়াতে নিয়ে যাবে... কিন্তু কোন জায়গা যে সিলেক্ট করব ভেবে পাচ্ছি না... সময়ও আবার অল্প....

অনেক ভালো লেগেছে ছবি আর বিবরণ.... smile

আমি রাবেয়া সুলতানা....

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

রাবেয়া সুলতানা লিখেছেন:

ভাইয়া বলেছে এই মাসে বেড়াতে নিয়ে যাবে... কিন্তু কোন জায়গা যে সিলেক্ট করব ভেবে পাচ্ছি না... সময়ও আবার অল্প....

অনেক ভালো লেগেছে ছবি আর বিবরণ.... smile

এখন বান্দরবন, কক্সবাজার, সিলেট সবটাই বেড়াবার ভালো সময়, ঝুট ঝামেলা কম থাকে।
শুভকামনা রইলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

অনেক ভাল লাগল । কি সুন্দর জায়গাগুলো দেখে এসেছেন .......

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

পুরোনো স্মৃতি মনে পরে গেল। পা পিছলে.................

হুজুর কইছে, "কোরআন শরীফে আছে- তোমরা নামাজ থেকে বিরত থাক।" আমি তাই নামাজ পড়ি না। হুজুর যদি ইচ্ছা করে "অপবিত্র অবস্থায়" শব্দ দুটো বাদ দেয়, তার জন্য তো আমি দায়ী না।

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

গতবছর September মাসে ভ্রমনের সময়, আমাদের সামনেই একজন পা পিছলে একটা গর্তের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। প্রায় ১০ মিনিট পানির স্রোত তার ঘাড়ের উপর পড়েছিল, অবশেষে স্থানীয়দের অনেক চেষ্টার ফলে কোনভাবে গামছা দড়ি দিয়ে ওনাকে তোলা গিয়েছিল।  sad

One can steal ideas, but no one can steal execution or passion. - Tim Ferriss

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

ওরা যে আনারস বলবে মধুর মত মিষ্টি সেটা আপনি মুখেরও দিতে পারবেন না, আর কে মালটা বা কমলা বলবে চিনির মত মিষ্টি সেটা খেলে আপনার মাথার উকুনগুলি মাথা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করবে। তবে ভালো পাকা পেঁপে আর কলা খেতে পারে নিশ্চিন্তে।

আমরা ওখানে গিয়ে পেঁপে খেয়েছিলাম, বেশ মিষ্টি ছিল।

You are the one who thinks that i didn't get the point, so do i think of you...what a coincidence!!

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

সুন্দর ছবি আর ৫ নং টা টারজান না কমপ্লান বয় থুক্কু ম্যান বুঝতে পারছি না  tongue_smile

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

দস্যু দা বরাবরের মতোনই   সুন্দর ছবি আর বর্ননায় অসাম thumbs_up
কেউ একজন মনে হয় টপিকটার জন্য চিল্লা পাল্লা করতেছিলো তাকে ধারে কাছেও দেখছি না , এবার আসলে খুব করে বকে দিবেন কেমন  smile

মানুষ মাত্রই মরন শীল , কিন্ত নশ্বর নয় ।।

১০

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

চমৎকার সব ছবি আর বর্ণনা।  clap
টারজানটা জিন্স আর শার্ট পরা কেনো?  thinking

১১

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

অনেক ভাল লাগল । কি সুন্দর জায়গাগুলো দেখে এসেছেন .......

ধন্যবাদ ছবি আপু।

এগুলিই আনন্দের টুকরো।

অপরিচিত লিখেছেন:

গতবছর September মাসে ভ্রমনের সময়, আমাদের সামনেই একজন পা পিছলে একটা গর্তের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। প্রায় ১০ মিনিট পানির স্রোত তার ঘাড়ের উপর পড়েছিল, অবশেষে স্থানীয়দের অনেক চেষ্টার ফলে কোনভাবে গামছা দড়ি দিয়ে ওনাকে তোলা গিয়েছিল।  sad

হুম, প্রকৃতির সাথে তেরিবেড়ি চলে না, সমজে চলতে হয়।

faysal_2020 লিখেছেন:
মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

ওরা যে আনারস বলবে মধুর মত মিষ্টি সেটা আপনি মুখেরও দিতে পারবেন না, আর কে মালটা বা কমলা বলবে চিনির মত মিষ্টি সেটা খেলে আপনার মাথার উকুনগুলি মাথা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করবে। তবে ভালো পাকা পেঁপে আর কলা খেতে পারে নিশ্চিন্তে।

আমরা ওখানে গিয়ে পেঁপে খেয়েছিলাম, বেশ মিষ্টি ছিল।

কলাও বেশ মিষ্টি হয় কিন্তু বিচি একটু বেশি।

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

সুন্দর ছবি আর ৫ নং টা টারজান না কমপ্লান বয় থুক্কু ম্যান বুঝতে পারছি না  tongue_smile

এইটা একটা মজার ঘটনা, এই লতা ধরে দুইটা ঝুল দিতে সেটা ছিড়ে গেছিলো, একটুর জন্য দূঘটনা ঘটে নাই।

রহস্য মানব লিখেছেন:

দস্যু দা বরাবরের মতোনই   সুন্দর ছবি আর বর্ননায় অসাম thumbs_up
কেউ একজন মনে হয় টপিকটার জন্য চিল্লা পাল্লা করতেছিলো তাকে ধারে কাছেও দেখছি না , এবার আসলে খুব করে বকে দিবেন কেমন  smile

blushing ধন্যবাদ।
উনি সময় মতো ঠিকই গুতা দিয়ে যাবেন।

ভালোবাসার কোড লিখেছেন:

চমৎকার সব ছবি আর বর্ণনা।  clap
টারজানটা জিন্স আর শার্ট পরা কেনো?  thinking

ডিজিটাল টারজেনতো  ghusi

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (০৫-০৬-২০১৪ ১৯:৪৯)

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:
রহস্য মানব লিখেছেন:

দস্যু দা বরাবরের মতোনই   সুন্দর ছবি আর বর্ননায় অসাম thumbs_up
কেউ একজন মনে হয় টপিকটার জন্য চিল্লা পাল্লা করতেছিলো তাকে ধারে কাছেও দেখছি না , এবার আসলে খুব করে বকে দিবেন কেমন  smile

blushing ধন্যবাদ।
উনি সময় মতো ঠিকই গুতা দিয়ে যাবেন।

lol  এসে গেছি! wink
পোস্ট আমার আগেই পড়া হয়ে গেছে!  খালি এসে গুঁতা দেয়া বাকি ছিল! wink 

লাস্টের ছবিতে কাপড় গুলা কি সব গামছা!?  tongue_smile hehe

নীলাচল পর্বের অপেক্ষায়!!  tongue_smile tongue_smile তাত্তাড়ি!!!  dream 


আমার গুঁতাগুতি দেখি কাজে দিতেছে wink
নাইলে তো এই সব পর্ব গুলো, ফোরামের সবার বউ-বাচ্চা- তাদের নাতি-পুঁতি নিয়া পড়তে হইত!  lol lol

১৩

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

শেষের ছবিতে যা  দেখা যাচ্ছে  সেগুলো শাল আর বেড কভার

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

১৪

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

শেষের ছবিতে যা  দেখা যাচ্ছে  সেগুলো শাল আর বেড কভার

big_smile থ্যাঙ্কু আপু big_smile  বলে দেবার জন্য big_smile

১৫

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

স্বাগতম স্বাগতম  smile

Jol Kona লিখেছেন:
RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

শেষের ছবিতে যা  দেখা যাচ্ছে  সেগুলো শাল আর বেড কভার

big_smile থ্যাঙ্কু আপু big_smile  বলে দেবার জন্য big_smile

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

১৬

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

Jol Kona লিখেছেন:

নীলাচল পর্বের অপেক্ষায়!!  tongue_smile tongue_smile তাত্তাড়ি!!!  dream

থাকেন অপেক্ষায়।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৭

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

দারুন সিরিজ !!

১৮

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

ইলিয়াস লিখেছেন:

দারুন সিরিজ !!

ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৯

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

২৫ জানুয়ারি রওনা হয়ে ২৬ তারিখ সকালে পৌছাই খাগড়াছড়ি। একটি মাহেন্দ্রা গাড়ি রিজার্ভ করে নিয়ে সারা দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ি খাগড়াছড়ি ভ্রমণে। একে একে দেখে ফেলি “আলুটিলা গুহা”, “রিছাং ঝর্ণা”, “শতবর্ষী বটবৃক্ষ” আর “ঝুলন্ত সেতু”।

পরদিন ২৭ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটির দিকে রওনা হই একটি চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে। পথে থেমে দেখে নিই “অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহার”। ২৭ তারিখ দুপুরের পরে পৌছাই রাঙ্গামাটি। বিকেল আর সন্ধ্যাটা কাটে বোটে করে কাপ্তাই লেক দিয়ে “সুভলং ঝর্ণা” ঘুরে। ২৮ তারিখ সকাল থেকে একে একে দেখে এলাম ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি ও রাজবন বিহার। দুপুরের পরে বাসে করে রওনা হয়ে যাই রাঙ্গামাটি থেকে বান্দারবানের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটে বান্দরবনের “হোটেল ফোরস্টারে”। পরদিন ২৯ তারিখ সকালে একটি জিপ ভাড়া করে নিয়ে চলে যাই নীলগিরিতে।

নীলগিরিতে অনেকটা সময় কাটিয়ে রওনা হই ফেরার পথে। ফেরার পথে সামনে পরবে চিম্বুক পাহার।
বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাহাড় এই চিম্বুক। বান্দরবন শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরের চিম্বুক পাহাড় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০০শ ফুট উঁচু। এখানে গিয়েছি আগে কয়েকবার তাই এবার আর কষ্ট করে উপরে সবাই উঠবো না ঠিক করেছি। শুধু স্বপন একা চিম্বুকের চুম্বক আকর্ষণে উপরে একটা ঢু মেরে আসে। এই ফাকে আমরা চিম্বুকের নিচে থাকা পাহাড়ি পেঁপে আর মালটা কিনে খেয়ে আবার রওনা হয়ে যাই। এবার থামবো বান্দরবন শহর থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দূরের শৈলপ্রপাতের সামনে। শৈলপ্রপাতটি একেবারেই পথের ধারে।

https://i.imgur.com/DuuN3J7h.jpg

রাস্তার পাশেই আছে পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার বা বসার ছাউনি, সেখান থেকে অনেক ধাপের সিঁড়ি নেমে গেছে নিচে প্রপাতের ধারে।

বর্ষায় এই শৈলপ্রপাতের রূপ অপরূপ হয়ে ওঠে, বিশাল জলধারা ছটে চলে প্রচণ্ড গতিতে। সেই সময় এর কাছে যায়গাটা কষ্টসাধ্য ও ভয়ংকর। পুরটা দেখার সুযোগই থাকে না তখন। পাথর থাকে মারাত্মক পিচ্ছিল, একটু এদিক-ওদিক হলেই পা পিছলে আলুর দম হতে হবে তখন।

https://i.imgur.com/VQbJesmh.jpg

আমরা যে সময় গিয়েছি (জানুয়ারি মাসে) তখন প্রপাতে জলের ধারা ক্ষণ, অল্প জল পাথরের উপর দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ পাথরই শুকনো তাই অনায়াসেই তার উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়।

https://i.imgur.com/HqxVifnh.jpg

প্রপাতের নিচের অংশের সমনেই একটা চওড়া ঢালু অংশ আছে, জল জমে আছে সেখানে। জলে না নামতে চাইলে এই অংশ টুকু লাফিয়ে পার হওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই (মেয়েদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব)। শীতের সময় বলে আমরা এই অংশটুকু দেখতে পেলাম, বর্ষায় এর ধারে কাছেও যাওয়া যাবে না। শীতকাল হওয়াতে শৈলপ্রপাতের পুরটা হেঁটে দেখে আসতে পারলাম আমরা।
https://i.imgur.com/hWUczgBh.jpg
প্রপাতের শেষ অংশে এসে বেশ কয়েক ফুট নিচে জল গরিয়ে গিয়ে একটি মাঝারি আকারের পুকুরের মত হয়েছে, সেখান থেকে জল চলে যাচ্ছে পাহাড়ি ছড়া বা খাল হয়ে।

https://i.imgur.com/CzIvM4Vh.jpg


এই প্রপাতের জলই আশপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলির একমাত্র জলের উৎস, এই জলই ওরা পান করে, আবার এই জলেই চলে অন্যান্য সমস্ত কাজ‌ও।

https://i.imgur.com/Rjs7zMYh.jpg


https://i.imgur.com/bY8bioBh.jpg


https://i.imgur.com/vunfgBZh.jpg


https://i.imgur.com/gZKXQHah.jpg


https://i.imgur.com/yr0wf4Lh.jpg


https://i.imgur.com/Jp8qfbxh.jpg

প্রপাতের উপরে রাস্তার পাশে পাহাড়িরা তাদের নিজেদের হাতে তৈরি নানা সামগ্রীর পশরা নিয়ে বসেছে পর্যটকদের জন্য, আর আছে নিজেদের উৎপাদিত ফল আর ফসলের আসরও। চাইলেই কিনে নিতে পারেন তবে অবশ্যই দরদাম করে।

https://i.imgur.com/VYpnIM1h.jpg


ওরা যে আনারস বলবে মধুর মত মিষ্টি সেটা আপনি মুখেরও দিতে পারবেন না, আর কে মালটা বা কমলা বলবে চিনির মত মিষ্টি সেটা খেলে আপনার মাথার উকুনগুলি মাথা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করবে। তবে ভালো পাকা পেঁপে আর কলা খেতে পারে নিশ্চিন্তে। আজকে এগুলি খেয়েই পেট ভরান



আগামী পর্বে দেখা হবে নীলাচলে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২০

Re: বান্দরবান ভ্রমণ – “শৈলপ্রপাত”

এগুলো আরও সুন্দর।

নামায সবার উপর ফরয করা হয়েছে