টপিকঃ ব্রাজিল বিশ্বকাপের আড়ালে কিছু কুকর্ম!

আজকের কালের কন্ঠের ফিচার রাজকূট পড়ে অবাক হলাম!
"মুনাফার বিশ্বকাপ ও আমাজনের তীর-ধনুক" প্রচ্ছদ রচনা পড়লে আপনারা অবাক হবার কারণ জানতে পারবেন। রচনাটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো।

"এবারের বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেশটির মোট ১২টি শহরের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা এসে এরই মধ্যে ভিড় জমাচ্ছে ব্রাজিলে। বাড়তি মানুষের চাহিদা মেটাতে ও গণমাধ্যমের নজর অন্যদিকে সরিয়ে নিতে ব্রাজিলের সরকারকে যে অনেক ছল-চাতুরির আশ্রয় নিতে হচ্ছে, তা খুব সহজেই বোঝা যায়। যৌনব্যবসাকে বৈধ করে একে বিশ্ব পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এক উপাদান হিসেবে হাজির করেছে দেশটি। অন্যদিকে প্রধান ১২টি শহরের অলিগলি থেকে নিম্ন-আয়ের মানুষের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দিয়ে ঝাঁ চকচকে এক ব্রাজিলকে দেখাতে চায় সরকার। কিন্তু কেন দেশটির সরকার লাখো ভুখা মানুষের সঙ্গে এ রকম আচরণ করছে, তা একটু বিশ্লেষণ করলেই সহজে বের হয়ে আসে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা অর্থনীতির অধীনে থাকার কারণে দেশটির অর্থনীতি-রাজনীতিতে এখন পশ্চিমামদদপুষ্ট সংস্কারপন্থীরা ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যার কারণে দেশটিতে ক্রমবিকাশমান ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের অন্যতম শিকার হচ্ছে একেবারেই খেটেখাওয়া সাধারণ জনগণ। দেশটির হাজার হাজার তরুণ বেকার, লাখ লাখ মানুষ বস্তিতে বাস করে। এসব সমস্যার সমাধান না করতে পারলেও দেশটির শাসক শ্রেণি ফিফার মনের মতো করে বিশ্বকাপ আয়োজন করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়াম তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ধাঁচে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে গিয়ে অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছে আট হাজার কোটি ডলার, যার মধ্যে শুধু স্টেডিয়াম তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৮৪০ কোটি ডলার। আর বিশ্বকাপে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার, যেটা ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ছিল চার বিলিয়ন ও ২০০৬ সালে জার্মানিতে ছিল ছয় বিলিয়ন।"

"লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে ফুটবলসংশ্লিষ্টরা দেদারছে কামিয়ে নিচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। আর রিওডি জেনিরোর 'মারে' বস্তির মতো অনেক বস্তির গঞ্জালেসদের চোখে প্রতিশোধ আর প্রতিরোধের আগুন জ্বলে। তবে দিলমা রৌসেফ গঞ্জালেসদের চোখের আগুন নিভিয়ে দিতে কিন্তু একটুও দেরি করেননি। গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই বড় বস্তিগুলোতে কম্বিং অপারেশন শুরু করে দিয়েছেন। বস্তিগুলোকে মাদক ও অস্ত্রের আখড়া আখ্যা দিয়ে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তারক্ষীরা। শুধু বিক্ষোভ করার অধিকারই বন্ধ করেনি দেশটির শাসক শ্রেণি, বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামসংলগ্ন অঞ্চলে রাস্তার পাশে যেসব খাবারের দোকান ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এসব খাবারের দোকান কালো দরিদ্র নারীরা চালাত। সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের দোকানে দক্ষিণ আফ্রিকায় বছরের পর বছর ধরে চলে আসা খাবার বিক্রি হতো। মূলত ফিফার স্পনসরশিপ কম্পানিগুলোর চাপে এটা করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে শুধু তাদেরই খাবার বিক্রি হবে, এ কারণে দেশটির পুলিশ জোর করে অন্য দোকানিদের তুলে দিয়েছে। এখন সেসব স্থানে ম্যাকডোনাল্ডসের মতো নামি-দামি কম্পানি বিক্রি করছে ব্যয়বহুল সব খাবার। তার পরও ব্রাজিলে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে স্টেডিয়ামগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছে।"

"আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন 'ফিফা' আদতে একটি অলাভজনক সেবা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই সেবা খাতটিতে দিনে দিনে আয় বেড়েছে বহু গুণ। আর সেই আয়ের অর্থে বিপুল পুঁজির মালিক এখন খোদ ফিফা নিজেই। তবু কেন ব্রাজিলকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সাধারণ মানুষের গলা কাটতে হলো, এ প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক। ফিফাকে ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের গলা কাটতে হয়েছে কারণ সাধারণ মানুষের গলা না কাটলে সংগঠনসংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাতারাতি ফুলে-ফেঁপে উঠবে না। পাশাপাশি বৃহৎ করপোরেট কম্পানিগুলোর সঙ্গে ফিফার যে যোগসাজশ, তা যাতে ভেস্তে না যায় সে জন্যও দেশটির সাধারণ জনগণের রক্ত ঝরিয়েছে। আর খেলাকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান এই অর্থনৈতিক রাজনীতির কারণে বিশ্বকাপ তার খেলার নান্দনিকতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। ফিফার অর্থ আয়ের ক্রমবর্ধমান এই ক্ষুধা বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ফিফা স্পন্সর থেকে যত অর্থ আয় করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে আয় বেড়েছে ৮০ শতাংশ। আর এবারের বিশ্বকাপে আয় বেড়েছে বহু শতাংশ। তবে ফিফার এই অতিরিক্ত আয় ও করদ সুবিধা ফাঁকি দেওয়ার মধ্যে অনেক ছোট ছোট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে তারা অর্থ লগ্নি করতে দেয়নি। যারা মূলত একটা নির্দিষ্ট সময়কে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন বাণিজ্য করে। সেই জায়গায় ফিফা জায়গা করে দিয়েছে বিশ্বের সব বড় বড় ব্রান্ডকে। আর ফিফার এই নির্বুদ্ধিতার কারণে ক্রমশ না চাইলেও এক অদৃশ্য করপোরেট গলিতে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে তারা সময়ের প্রয়োজনেই।"
- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-editio … wBPW3.dpuf

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন nanarokom (০৩-০৬-২০১৪ ১২:৫০)

Re: ব্রাজিল বিশ্বকাপের আড়ালে কিছু কুকর্ম!

আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। কিন্তু এই সব কুকর্মের কথা শুনে খুব খারাপ লেগে গেলো ।  neutral

Re: ব্রাজিল বিশ্বকাপের আড়ালে কিছু কুকর্ম!

তার পরও ব্রাজিল।

Re: ব্রাজিল বিশ্বকাপের আড়ালে কিছু কুকর্ম!

আমিও ব্রাজিলের বড় ভক্ত কিন্তু এমন কাজকর্ম সমর্থন করি না।