টপিকঃ হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

সেই প্রাচীন কাল হতে মানুষ তাদের খাদ্য খেতে বা অন্যকোন গৃহ কাজে ব্যবহারের জন্য সর্ব প্রথম মাটির তৈজস পত্রের ব্যবহার শিখেছে ( যদিও ইতিহাস বলে প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) ও  প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আঃ) কে  আল্লাহ আগুন জ্বালানোর কৌশল, ভূমি আবাদ, কৃষিকাজ ও গৃহ শিল্প সংক্রান্ত বিষয়  শিখিয়েছিলেন)। প্রথমে মানুষ রৌদ্রে শুকিয়ে পরে  তা আরও টেকসই করার জন্য আগুনে পুড়িয়ে নানা রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় মাটির জিনিস ব্যবহার করত।
তাই আজও প্রাচীন স্থাপনা বা ঐতিহাসিক স্থান গুলিতে গেলে এখনো দেখা যায়  নকশা করা ইট বা নানারকম নকশা আঁকা দেয়াল। যা সবই  পোড়া মাটির কাজ।
  কাল ক্রমে আজ এই আধুনিক যুগে এসেও মাটির বিভিন্ন জিনিস পত্রের প্রচলন ও ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। আজকাল ড্রয়িংরুম ও বারান্দা সাজাতে নানারকম নকশা ওয়ালা টব , ফুলদানি বা অন্যান্য বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার হয়ে থাকে।অনেকে আবার মাটির সানকি ( প্লেট) এ ভাত খান। গ্রামে অনেক গৃহবধূ মাটির তৈরি পাতিলে ভাত রান্না করেন এবং অনেকে মাটির তৈরি পাতিলে গরমের দিন ভাত রাখেন, এতে রাত পর্যন্ত  ভাত ভাল থাকে(অনেকটা ফ্রিজের কাজ করে) । আর গ্রামের আরেক ফ্রিজ নামে পরিচিত মাটির কলসের ব্যবহারের কথা তো সবারই জানা। গ্রামে গরমের দিন মাটির তৈরি কলস ও সরাই এ পানি রাখলে পানি ঠাণ্ডা থাকে( এর প্রধান কারণ মাটির তৈরি কলস বায়ুর আর্দ্রতা ধরে রাখে। আর এতে পানি ঠাণ্ডা থাকে)।       

তবে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ  সংকটের মুখে পড়েছে।
যদিও ঢাকা শহরে আমরা এই শিল্পের নানা রকম পসরা সাজিয়ে রাখতে দেখি তবুও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পেশার সঙ্গে জড়িত অনেকে  প্রতিযোগিতায়  টিকে থাকতে না পেরে শিল্পীরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।
আমার জেলা শহর নওগাঁর বিভিন্ন থানায় এই শিল্পের ব্যাপক কারিগর আগে কাজ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করত।আজও নওগাঁ জেলার

>পত্নীতলার--  নজিপুর পাল পাড়া, চকনিরখিন মোড়, পাটিচরা, পত্নীতলা বাজার। 
>ধামইরহাট উপজেলার--  আড়ানগর, পলাশবাড়ী। 
> মহাদেবপুর উপজেলার--  সুলতানপুর, শিবগঞ্জ, একডালা, দাউল, বারবাকপুর, খঞ্জনপুর, ক্ষুদ্র নারায়নপুর।
>  সাপাহার উপজেলার--  সাপাহার, তিলনা। 
> মান্দা উপজেলার--জোতবাজার, নবগ্রাম, প্রসাদপুর।
> বদলগাছী উপজেলার--  বালঘরা, আতায়কোলা। 
> আত্রায় উপজেরার--  চাপড়া, পাচিপুর।

প্রভৃতি এলাকার মৃৎশিল্পীরা হাড়ি, পাতিল, কড়াই, মটকী, দইয়ের খাবলী, ফুলের টব, ডাবর, ঢাকনা, কাশা, খুঁটি, কলসি, মাটির ব্যাংক, হাতী, ঘোড়া, প্রদীপসহ বিভিন্ন ধরনের তৈরি নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র এবং খেলনা এমন কোন পরিবার ছিলনা যে তারা ব্যবহার করতো না। কালের আবর্তে আধুনিকতার ছেয়ায় মৃৎশিল্পীদের হাতে তৈরি ওইসব তৈজসপত্রের চাহিদা একেবারেই কমে গেছে।

>>> আর  এই   মৃৎশিল্পের সমস্যার প্রধান কারণ  মাটি ও জ্বালানি সমস্যা মুখ্য। আগে মাঠে ঘাটে এমনিতেই ব্যাপক মাটি ও জ্বালানী পাওয়া যেত। এখন তা পাওয়া গেলেও চড়া দামে ক্রয় করতে হয়। এ কাজে পরিশ্রমও প্রচুর। শ্রমের তুলনায় ওইসব জিনিসপত্রের দাম পাওয়া যায় না। এছাড়া জিনিসপত্রের ব্যাপক প্রতিযোগিতা যেমন, প্লাস্টিক, সিলভার, এলুমিনিয়াম, কাঁসা ও ষ্টীলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী মাটির তৈরি তৈজসপত্রের বিকল্প হিসাবে স্থান দখল করেছে। ফলে মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদাও কম। তবে গুড় তৈরির পর রাখার জন্য মটকীর চাহিদা কিছুটা থাকলেও গত কয়েক বছর থেকে থান-গুড় তৈরিতে কৃষকেরা ঝুঁকে পড়ায় মটকীর চাহিদা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। তবে  নিত্য ব্যবহার্য তৈজসপত্রের চাহিদা হ্রাস পেলেও দইয়ের খাবলী, ফুলের টবসহ নার্সারিতে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

>> মৃৎশিল্পীদের সমস্যা মিটানোর জন্য সরকারী ভাবে কোন ঋণ পাওয়া যায় না। জ্বালানী, মাটি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মৃৎ শিল্পের প্রসারতা দ্রুত হ্রাস পালদের পেশায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পালরা এখন অনেকে  দর্জি, সোনার কাজ, কেও বা  রেডিওর মেকার,  ঔষধ বিক্রেতা, বয়লার ব্যবসাসহ অনেকেই পছন্দমত পেশা নিয়ে নিজেদের নিয়োজিত করেছে।

>>> তাই আশা করি এই পেশার জন্য সরকারী ও বেসরকারি ভাবে নানা রকম উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের তথা পৃথিবীর প্রাচীন এই পেশা ও শিল্পকে টিকে থাকতে সহায়তা করবেন।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (১৫-০৩-২০১৪ ১৬:১১)

Re: হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

প্রভৃতি এলাকার মৃৎশিল্পীরা হাড়ি, পাতিল, কড়াই, মটকী, দইয়ের খাবলী, ফুলের টব, ডাবর, ঢাকনা, কাশা, খুঁটি, কলসি, মাটির ব্যাংক, হাতী, ঘোড়া, প্রদীপসহ বিভিন্ন ধরনের তৈরি নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র

১। এই মটকী কি জিনিশ! এটা কি কলসি টাইপ কিছু! একটা ছবি দেখাতে পারবেন?

২। ডাবর আর দইয়ের খাবলী  কি জিনিস? অল্টারনিক আর কি নাম আছে! একটা ছবি প্লিজ!

৩। মাটির কাসা কি জিনিস! hmm এটা কি বুঝায় বলেন! এটা সম্পর্কে ধারনা নাই!

৪। আচ্ছা গ্রামে ভাতের পাতিলের ঢাকনাকে কি বলে?

Re: হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

মৃৎশিল্পহারিয়ে গেলে মুর্তি বানাবে কে?

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন gmakas (১৪-০৩-২০১৪ ২৩:১১)

Re: হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

আমি এই ব্লগে কোন ছবি দিতে পারিনা ...............।।
অন্য ব্লগে এই সব ছবি দেওয়া আছে
মটকি বড় কলসি...এতে আগে চাল , গুড় রাখা হত।। মিউজিয়ামে গেলে দেখা পাবেন বড় বড় মটকির ।ডাবরএকপ্রকার হাড়ি , খাবলি হল ...।। দই রাখার মাটির হাড়ি । https://www.facebook.com/AmraBanglaMaye … 02/?type=1
কাঁসা বলা  হয় মাটির চেতরা  পাতিল যাতে চিতই ভাঁজা হয়
ঢাকন বলা হয়

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

gmakas লিখেছেন:

কাঁসা বলা  হয় মাটির চেতরা  পাতিল যাতে চিতই ভাঁজা হয়
ঢাকন বলা হয়

মাটির চেতরা পাতিল কি জিনিস?  thinking
আর চিতই ভাঁজ হয়! বলতে!  confused

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সাইফুল_বিডি (১৫-০৩-২০১৪ ১৬:১৬)

Re: হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

Jol Kona লিখেছেন:

প্রভৃতি এলাকার মৃৎশিল্পীরা হাড়ি, পাতিল, কড়াই, মটকী, দইয়ের খাবলী, ফুলের টব, ডাবর, ঢাকনা, কাশা, খুঁটি, কলসি, মাটির ব্যাংক, হাতী, ঘোড়া, প্রদীপসহ বিভিন্ন ধরনের তৈরি নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র

১। এই মটকী কি জিনিশ! এটা কি কলসি টাইপ কিছু! একটা ছবি দেখাতে পারবেন?

২।ডাবর আর দইইয়ের খাবলী  কি জিনিস? অল্টারনিক আর কি নাম আছে! একটা ছবি প্লিজ!

৩। মাটির কাসা কি জিনিস! hmm একি বুঝায় বলেন! এটা সম্পর্কে ধারনা নাই!

৪। আচ্ছা গ্রামে ভাতের পাতিলের ঢাকনাকে কি বলে?

১।
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/d/d3/Motka-Large-earthenware-Bengal.jpg
৪। সরা বলে শুনেছি।

যদিও ইতিহাস বলে প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) ও  প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আঃ) কে  আল্লাহ আগুন জ্বালানোর কৌশল, ভূমি আবাদ, কৃষিকাজ ও গৃহ শিল্প সংক্রান্ত বিষয়  শিখিয়েছিলেন

ভাই হাইসা নেই ।  big_smile big_smile big_smile big_smile
http://en.wikipedia.org/wiki/Control_of … rly_humans

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

Re: হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

১।
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/d/d3/Motka-Large-earthenware-Bengal.jpg
৪। সরা বলে শুনেছি।

যদিও ইতিহাস বলে প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) ও  প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আঃ) কে  আল্লাহ আগুন জ্বালানোর কৌশল, ভূমি আবাদ, কৃষিকাজ ও গৃহ শিল্প সংক্রান্ত বিষয়  শিখিয়েছিলেন

ভাই হাইসা নেই ।  big_smile big_smile big_smile big_smile
http://en.wikipedia.org/wiki/Control_of … rly_humans

thumbs_up কনিউসড ছিলাম এটা নিয়ে! big_smile এইবার বুঝছি!

ভাতের ঢাকনা কে সরা বলে! হুম!ঠিক আছে তাইলে
থ্যাঙ্কু ভাইয়া! tongue

Re: হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

ভাতের ঢাকনাকে ঢাকন বলে

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ