টপিকঃ ভুতের পাল্লায়(শেষ পর্ব)

জুতো খুলে ব্যাগে ভরে ছুটতে শুরু করলাম।
প্রাণ পণে ছুটছি। সামনে একটা বটগাছ
দেখতে পাচ্ছি। মাইক পাওয়েল
তুমি কি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছো, এই
মুহূর্তে তুমি আমার সঙ্গে দৌড়লে হলফ
করে বলতে পারি, তুমি নিশ্চই আমার
পেছনে থাকতে।
ভিঁজে চান করে গেছি। বটগাছের তলায়
এসে কুত্তার মতো এক হাত জিভ বার
করে হাঁপাতে আরম্ভ করলাম।
বিড়ি খাওয়া দম
এতোটা দৌড়তে পেরেছে বাবার ভাগ্য
ভালো।। বটগাছের তলায়
একটা মোটা সোঁটা শেকড়ে পেছনটা
ঠেকিয়ে একটু বসলাম।
অঝোড়ে বৃষ্টি হয়ে চলেছে।
সামনে ধোঁয়ার মতো ছাড়া আর কিছু
দেখা যাচ্ছে না।
তেমনি হাওয়া সঙ্গে বিদ্যুতের চমক আর
মেঘের গর্জন। মাথার ওপর টপ টপ করে জল
পরতে শুরু করলো, বুঝলাম গাছের
পাতা বেয়ে জল পরছে।
ছাতা খুলে গুঁড়ি শুঁড়ি মেরে বসলাম। শীত
শীত করছে। সঙ্গে সঙ্গে সিগারেটের
কথা মনে পরে গেলো।
সব্বনাশ এতোক্ষণ মনে ছিলো না।
ভিঁজে গেলে মাথায় এই সময় বাজ পরবে।
কোনপ্রকারে আস্তে আস্তে ব্যাগটা খুলে
জামাপ্যান্টের ফাঁক
দিয়ে সিগারেটের প্যাকেটে হাত
রাখলাম না ভেঁজে নি। এখনো অক্ষত
আছে। এটাই এখন আমার যক্ষের ধন। কোন
প্রকারে একটা বার করে ধরালাম।
গায়ে জল পরছে না। তবে হাওয়ায় কাঁপন
ধরাচ্ছে শরীরে। সিগারেটে সুখ টান
দিয়ে নিজেকে একটু
তাজা তাজা লাগছে। মেঘের এফোঁড়
এফোঁড় করে বিভৎস একটা বিদ্যুৎ
চমকালো সঙ্গে সঙ্গে বুক হিম করা মেঘের
গর্জন। কিছুটা দূরে সামনের ঝোপটায় চোখ
গেলো। স্পষ্ট দেখতে পেলাম। একজন
ভদ্রমহিলা ঘোমটা মাথায়
দিয়ে দাঁড়িয়ে।
আমি যেখানে বসে আছি। সেখান
থেকে ওই ঝোপটার দূরত্ব খুব
বেশি হলে তিনশো মিটার।
এতো রাতে ভদ্রমহিলা!
আমি খুব ভালো করে জানি। খুব কম
করে তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোন
বসতি নেই। মাঠের পর মাঠ খালি ধান
ক্ষেত। বুকের ভেতরটা মৃদু কম্পন অনুভব করলাম।
চোখ বন্ধ করে যতো ধর্মের
যতো দেবতা আছেন তাদের ডাকতে শুরু
করলাম। গলা টিপে যদি আমাকে এই
কানা রাতে মেরেও দেয়, কাল সকালের
আগে কেউ টের পাবে না।
বিদ্যুৎ চমকেই চলেছে আর আমার চোখ
ইচ্ছে না করলেও বার বার
ওদিকে চলে যাচ্ছে। হ্যাঁ বিদ্যুতের
আলোয় স্পষ্ট
দেখতে পাচ্ছি ভদ্রমহিলা মাথা নীচু
করে দাঁড়িয়ে আছেন। কতোক্ষণ
বসে ছিলাম জানি না। বৃষ্টি থামার
কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। মেঘের
ওপর খুব রাগ হচ্ছিল। সময় পেলি না বাবা,
বাড়ি পৌঁছবার পর যতখুশি হতে পারতিস,
কে বারণ করতে যেতো।
শুনেছি কাছে লোহা থাকলে ভূতে ধরে
না। লোহা নাকি ভূতের যম। আমার ছাতার
ডান্ডিটাতো লোহার।
ধ্যুস লোহা তোকে কে বললো,
ওটা তো স্টেইনলেস স্টিলের।
তাতে কি হয়েছে। স্টেইনলেসস্টিল
কি সোনা দিয়ে তৈরি হয়। ওর
মধ্যে লোহা আছে।
পাগল, পিওর লোহা যদি হয় তবে। ভেজাল
লোহাতে ভূতকে আটকানো যাবে না।
মহা মুস্কিল।
বার বার চোখ চলে যাচ্ছে।
হ্যাঁ ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন।
একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াতে পারতিস বাবা।
একবারে আমার পথের ওপর
তোকে দাঁড়াতে হবে। ওই পথ দিয়েই
আমাকে যেতে হবে। একেবারে ওর
ঘাড়ের ওপর দিয়েই।
ভীষণ রাগ হচ্ছে চিকনাটার ওপর তুই
অন্ততঃ আসতে পারতিস। আর কেউ আসুক
না আসুক। নীপার বিয়েতে না আসলেই
ভালো হতো। কেনো যে মরতে এলাম।
লোভ। নেমন্তন্ন খাওয়ার নোলা।
কলকাতায় মেসে থাকি। ভালো মন্দ
খাওয়া জোটে না। এখানে এলে তবু
বাড়ির ভাত একটু অন্যস্বাদের
তরকারি পাবো। লোভী কোথাকার।
গা জ্বলে যায়। নিজের ওপর নিজের ভীষণ
রাগ হচ্ছে।
বৃষ্টিটা মনে হচ্ছে একটু ধরেছে। বিদ্যুৎ
সমানে চমকে যাচ্ছে। আর চোখ
চলে যাচ্ছে ওই ঝোপটার দিকে।
বহুত বাজে মেয়েতো। আমি কি তোর
প্রেমিক। যা না বাবা অনেক
ছেলে আছে কেনো আমার পেছনে পরলি।
এখনো জীবনের স্বাদ-আহ্লাদ কিছু উপভোগ
করতে পারলাম না।
আচ্ছা ছাতাটা যদি আড়াল করে ওই পথটুকু
পেরিয়ে যাই কেমন হয় ?
গলা টিপে ধরবে।
ফালতু কথা একবারে বলবি না।
ব্যাগের মধ্যে হাত
ঢুকিয়ে একটা সিগারেট বার
করে ধরালাম। একটা ঝড় ঝড়
আওয়াজ হতেই চমকে উঠে দাঁড়ালাম। এই
অন্ধকারেও চোখে যেনো কে হাজার
পাওয়ারের বাল্ব জেলে দিয়েছে।
বড়ো বড়ো চেখ করে দেখলাম এই-আ
মোটা বিশাল লম্বা একটা কালো সাপ
বটগাছের মাথা থেকে আছাড়
খেয়ে পরে তীর বেগে বর্ষায়
ভেঁজা খেতের দিকে চলে গেলো। এক
নিমেষে বুকের লাবডুব
শব্দটা যেনো হাজার গুণ বেরে গেলো।
হাত পা কেমন ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে।
মনে হচ্ছে যেনো অজ্ঞান
হয়ে পরে যাবো।
চিৎকার করে নিজেকে নিজে চূড়ান্ত
গালাগাল দিলাম।
যা থাকে কপালে এসপার নয় ওসপার। মড়ার
থেকে পৃথিবীতে চরমতম সত্য আর কিছু নেই।
কি হবে মরে যাবো এই তো,
যা থাকে কপালে। ছাতাটাকে আড়াল
করে সামনের দিকে গট গট
করে হাঁটতে আরম্ভ করলাম।
কানের কাছে নাকি শুরে ভেসে আসছে,
তুই কার ঘরের ছেলে রে এতো রাতে এই
পথে যাচ্ছিস।
গায়ের লোম খাঁড়া হয়ে গেলো।
সারাটা শরীরে একটা ঝাঁকুনি অনুভব
করলাম। হাত দশেক দূরে দাঁড়িয়ে, মিন
মিনে গলায় বললাম, তুমি কে, আমার পথ
আটকে দাঁড়িয়ে আছো। সরে যাও।
নিজের গলা নিজেই স্পষ্ট শুনতে পেলাম
না।
কোন শব্দ নেই, বাতাসের সাঁই সাঁই
আওয়াজ। বৃষ্টির ঝম ঝম।
সারাটা শরীরে রক্ত
বুকে এসে জড়ো হয়েছে। যেনো সমুদ্রের
পাগলপানা ঢেউয়ের মতো ছলাৎ ছলাৎ
করে পাড়ে এসে আছড়ে পরছে।
ডিসিসন নিলাম আর নয়, চোখ বন্ধ
করে ছাতাটাকে লাঠির মতো ধরলাম।
খ্যাপা সাঁড়ের
মতো সিং বাগিয়ে ছুটে এসে সজোরে
ছাতাটা দিয়ে আঘাত করলাম। ছ্যাত
করে একটা আওয়াজ হলো।
পা পিছলে ছিটকে পরলাম তিনচার হাত
দূরে। বাবাগো মাগো করে উঠলাম। মরার
মতো পরে থাকলাম। বুকটা কামার শালের
হাপরের মতো ওঠানামা করছে। বৃষ্টির
ফোঁটা গুলো এখন বেশ আরাম বোধ হচ্ছে।
শরীরে উঠে দাঁড়াবার শক্তিটুকু নেই।
হাত-পা সব অবশ। আকাশের বুক চিড়ে বিদ্যুৎ
চমকে উঠলো, চোখ মেলে তাকালাম।
সামনে একটা কলাগাছের
পাতা ছিঁড়ে পর্দাফাই।
মেঘটা রাগে গর্জন
করে উঠে আমাকে যেনো সেলাম
করে উঠলো।
আমি উঠে বসলাম নিজের
মনে নিজে হেসে উঠলাম। সারাটা শরীর
কাদায় মাখামাখি। হাতের
ব্যাগটা দূরে কোথাও ছিটকে পরেছে।
ছাতাটা তখনো কলাগাছের সঙ্গে ঝুলছে।
হাওয়ায় বেগে সেটা দুলছে।
আবার বিদ্যুৎ চমকে উঠলো।
ব্যাগটাকে খুঁজে পালাম।
হামাগুড়ি দিয়ে ব্যাগটাকে বুকে জড়িয়ে
ধরলাম। ভিঁজে চপচপে হয়ে গেছে।কোনপ্রকারে উঠে দাঁড়িয়ে কলাগাছের
পাতায় ঝুলে থাকা ছাতাটাকে টেনে
নামালাম।কোন ঝামেলা ছাড়াই বাড়িতে পৌছালাম।

তুমি মুক্ত বিহঙ্গের মতো নীল আকাশের বিপুল বিস্তারে পাখা মেলো-
আমার ধরার ধুলিতে পড়বে এসে তার ছায়া।একটি মুহুর্তের তরে,সেখানে তুমি রচনা করবে তোমার আসন।মুক্তির অবাধ অন্ধকারে রইল আমাদের চির মিলনের আকুতি!!!!!

Re: ভুতের পাল্লায়(শেষ পর্ব)

কাহিনী টা ভালোয়

জীবনের উদ্দেশ্য মইনাস প্রাপ্তি

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ভুতের পাল্লায়(শেষ পর্ব)

মৃত্যুঞ্জয় দাস লিখেছেনঃ
কাহিনী টা ভালোয়
ধন্যবাদ

তুমি মুক্ত বিহঙ্গের মতো নীল আকাশের বিপুল বিস্তারে পাখা মেলো-
আমার ধরার ধুলিতে পড়বে এসে তার ছায়া।একটি মুহুর্তের তরে,সেখানে তুমি রচনা করবে তোমার আসন।মুক্তির অবাধ অন্ধকারে রইল আমাদের চির মিলনের আকুতি!!!!!

Re: ভুতের পাল্লায়(শেষ পর্ব)

চারুকলায় কেন। সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুন সম্মানিত পরিচালক মহোদয় । তা না হলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর