সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (২৭-০২-২০১৪ ০১:২৩)

টপিকঃ হলুদ এর উপকারিতা!

অনলাইনের কয়েক জায়গায় একি টাইপ লিখা পাইলাম! big_smile  লিঙ্ক আর দিলাম না wink নিজ দ্বায়িত্বে খুজিইয়া লন!  cool

হলুদ হচ্ছে আদা গোত্রীয় এক গুল্ম   জাতীয় উদ্ভিদের শিকড় বা মূল। হলুদ গাছের শিকড়কে কয়েক ঘণ্টা সিদ্ধ করা হয়, তার পর গরম চুলায় শুকানো হয়। এরপর এই শিকড়কে চূর্ণ করে গাঢ় হলুদ বর্ণের গুঁড়া পাওয়া যায়, যা আমরা ব্যবহার করে থাকি। আবার শুকনো হলুদ ছিলে নিয়ে পানিতে ভিজিয়েও ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ভালো করে ধুয়ে কাঁচা হলুদের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য।

গবেষনায় হলুদের অসংখ্য স্বাস্থ্য-উপকারী ঔষধী কার্যকারীতা পাওয়া গেছে। অনেকেই আমরা জানি হলুদ এ্যান্টিসেপটিক হিসাবে কাজ করে। যুগ যুগ ধরে গ্রামীন বাংলা ছাড়াও দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি একটি প্রদাহ-নাশক ঔষধী হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রন্ধন প্রক্রিয়ায় হলুদ ব্যবহার করা হয় মূলত খাবারের মধ্যেকার জীবানুগুলোকে ধ্বংশ করার জন্য।

জেনে নেয়া যাক হলুদ দ্বারা করা যায় এমন কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা-

(১) রোদে পুড়ে বা অন্য কোনও কারণে ত্বকের রঙ কালো হয়ে গেলে হলুদ ভীষণ চমৎকার কাজে দিবে। সামান্য পরিমাণ শসার রস নিন, তাতে অল্প একটু হলুদ বাটা বা গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন ও মুখে লাগান। ১৫/২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কিছুদিন ব্যবহারেই উপকার পাবেন। মুখে হলুদের দাগ দূর করা নিয়ে চিন্তিত হলে ব্যবহার করুন দুধ। তুলা দুধে ভিজিয়ে পরিষ্কার ত্বকের উপর বুলিয়ে আনুন। হলুদ দাগ উঠে যাবে।

(২)    সাধারণ কাঁটাছেঁড়ায় হলুদ এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে। খুব হাল্কা উষ্ণ পানি দিয়ে হলুদের পেস্ট তৈরি করে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিন। দ্রুত সেরে উঠবে।

(৩)    যারা হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য হলুদ মহৌষধ। আধা গ্লাস দুধ নিন, তাতে আধ ইঞ্চি পরিমাণ হলুদ দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। দুধের রঙ হলুদ হয়ে গেলেই নামিয়ে নিন ও উষ্ণ অবস্থান পান করুন। প্রতিদিন রাতে এই পানীয় পান করলে হাড় হবে শক্তিশালী ও মজবুত, অষ্টিওপরসিস এর মতন রোগের সম্ভাবনা থাকবে না। এছাড়া এছাড়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও এই পানীয় উপকারী। অন্যদিকে মেনপজের পরে মহিলাদের হাড়ের ভঙ্গুরতা নিরাময় করতেও অত্যন্ত কার্যকর।

(৪)    যারা কৃমি সমস্যায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিন সকালে কাঁচা হলুদের রস ২০ ফোঁটা নিয়ে তার মধ্যে ১ চিমটি লবণ মিশিয়ে সেবন করুন। চাইলে সামান্য পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত সেবনে অচিরেই পরিত্রাণ মিলবে।

(৫)    সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ দেয় হলুদ। কাশি কমাতে হলে হলুদের রস খেয়ে নিন কয়েক চামচ, কিংবা এক টুকরো হলুদের সাথে মধু মাখিয়ে তা মুখের মাঝে রেখে আস্তে আস্তে চুষতে পারেন। সেটা করতে না পারলে এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে হলুদের গুঁড়ো, সামান্য মাখন এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। কয়েকবার সেবনেই নিরাময় হবে। কাশি ও গলা ব্যথা উভয়েই দূর হবে।

(৬)    শরীরে ব্যথা হলে বা ব্যথা পেলে দুধের মধ্যে হলুদ মিশিয়ে পান করুন। দীর্ঘ মেয়াদী বা সাময়িক, দুই প্রকার ব্যথাতেই আরাম পাবেন। এছাড়া কোথাও কেটে-ছড়ে গেলেও এই পানীয় পানে কাজ দেয়। দ্রুত ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।

(৭)    দেহে রক্তের ঘাটতি বা রক্ত শুন্যতা দেখা দিলে হলুদ বাটা খেলে উপকার মিলবে, কেননা এটি রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে চা চামচের এক চামচ কাঁচা হলুদের রস ও সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করুন, রক্তশূন্যতা অচিরেই দূর হবে।

(৮)    হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হলে হলুদ পেস্টের প্রলেপ নিয়মিত দিলেও উপকার পাওয়া যায়।

(৯)     শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে প্রলেপ দিলে আরাম মিলবে।

(১০)     মুখের মাঝে কোনও কারণে কেটে ছড়ে গেলে কিংবা অন্য কোনও কারণে জ্বালা পোড়া হলে গরম পানির মাঝে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে কুলি করুন। সেরে যাবে।

(১১)     হলুদ ডায়রিয়া নিরাময়ের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। ডায়রিয়া হলে এক চামচ পরিমাণ কাঁচা হলুদের রস পানির সাথে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। জীবাণু ধ্বংস হয়ে ডায়রিয়া নিরাময় হবে। এছাড়াও যারা অন্ত্রের নানান রকম রোগে ভুগছেন তারা প্রতিদিন টাটকা হলুদ বেটে রস পানিতে মিশিয়ে খাবেন। এটি অন্ত্রের রোগের মহৌষধ।

(১২) হলুদের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি নানা পদার্থ রয়েছে। তাই হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যেমন বাচ্চাদের লিউকমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় নিয়মিত কাঁচা হলুদের রস সেবন। প্রতিদিন দুধ বা পানির সাথে হলুদের গুঁড়ো বা রস মিশিয়ে খাওয়া অভ্যাস করলে অনেকটাই সুস্থ থাকা সম্ভব।

https://fbcdn-sphotos-g-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash3/t1/1901171_433819786752003_375350927_n.jpg

রান্নাঘরে আসছি আর একটা রেসেপি না দিয়া যামুগা!  shame উহু!!! 


হলুদের দুধ

উপকরণঃ
১) গুঁড়ো হলুদ ১ টেবিল চামচ,
২) দুধ ১ গ্লাস পরিমাণ,
৩) ২ টুকরো দারুচিনি,
৪) ২ টি লবঙ্গ ও
৫) স্বাদ অনুযায়ী মধু বা চিনি।

পদ্ধতিঃ
(১) একটি পাত্রে দুধ ও হলুদ দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে হবে।
(২) দারুচিনি ও লবঙ্গ একটু ছেঁচে নিয়ে তা দুধে দিয়ে নেড়ে দিতে হবে।
(৩) দুধ ফুটে ওঠা পর্যন্ত জ্বাল দিতে। স্বাদ অনুযায়ী মধু বা চিনি মেশাতে পারেন।
(৪) দুধ ফুটে গেলে নামিয়ে নিলেই হবে!

গরম গরম পান করা কাশির জন্য কার্যকরী হলুদের দুধ।

https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn1/t1/1932243_433833656750616_1299913227_n.jpg

দুই তিন সপ্তাহ ধরে আমি কাশতে কাশতে সারা বাড়ি মাথায় তুলতেছি!  hairpull
আম্মা এই থ্যারাপি এখনো দেয় নাই। দিলে আমার খবর ছিল  ghusi
গন্ধের চোটে দুই দিন নাকে ক্লিপ লাগায় রাখতে হইত!  worried ছোট থাকতে আম্মা দিত; কেমনে যে গিলতাম! এখন চিন্তা করলে  sick 


আজকের মত সবাইকে টাঠা! সবাইকে শুভ রাত্রি!

Re: হলুদ এর উপকারিতা!

ইয়াক! এই জিনিস মাইনসে খায়?

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: হলুদ এর উপকারিতা!

খায়! আমিও খাইছি এককালে  isee
তবে কেমনে জানি না!  dontsee আম্মা নাক চেপে ধরে খাওয়াইত!  sick

Re: হলুদ এর উপকারিতা!

দেখতে কত ভালো, খাইতে না জানি কত ভালো লাগে.....  roll

Sohel Rana
Web Designer & Developer

Re: হলুদ এর উপকারিতা!

sohel6bd লিখেছেন:

দেখতে কত ভালো, খাইতে না জানি কত ভালো লাগে.....  roll


hehe hehe খেয়েই দেখেন!  tongue  lol

Re: হলুদ এর উপকারিতা!

আপনার এই রেসেপি অতি অখাদ্য হবে নিশ্চই।  ghusi

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: হলুদ এর উপকারিতা!

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

আপনার এই রেসেপি অতি অখাদ্য হবে নিশ্চই।  ghusi


অখাদ্য হইলেও  worried মেডিসিন কিন্তু!!  worried
যেমনি তুলসি আর মধু! ওই রকম! আগের কার দিনে তো আর এত মেডিসিন-ফেডিসিন ছিল না এই গুলাই কাজে দিত ভাল মত!  worried

Re: হলুদ এর উপকারিতা!

ছোটবেলায় মা জোর করে খায়িয়ে দিত এখন আর খাই না | মা ও জোর করে না ।

জীবনের উদ্দেশ্য মইনাস প্রাপ্তি

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত