টপিকঃ খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

২৫ তারিখ রাতে “খাগড়াছড়ির পথে”  রওনা হয়ে ২৬ তারিখ সকালে পৌছাই খাগড়াছড়িতে।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে বের হই খাগড়াছড়ি ভ্রমণে। এইবের হওয়ার  প্রথমটুকু লিখা আছে “খাগড়াছড়ি ভ্রমণ - প্রথম পর্বে” । আজ এই অংশে বলবো আলুটিলা গুহার কথা।

http://farm8.staticflickr.com/7310/12563329635_2e216cf481_o.jpg
{খাগড়াছড়ি থেকে আলুটিলা ও রিসং ঝর্নার ম্যাপ}

খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৮কিঃ মিঃ পশ্চিমে আলুটিলা পাহাড় চূড়ায় পৌছতে খুব বেশি সময় লাগেনা। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের সামনে নেমে কিছুটা নস্টালজিকে আক্রান্ত হই। সময়টা খুব সম্ভবত ২০০০ বা ২০০১ সাল, আমরা চার বন্ধু এসেছিলাম এখানে। সেই চার জনের দু’জন আমি আর ইস্রাফীল আবার আসলাম।

http://farm8.staticflickr.com/7380/12563436533_1cf3907f82_o.jpg


গেটের পাশেই থাকে মশাল তৈরির কারিগররা। আমাদের দেখে মশাল ওয়ালারা মশাল তৈরি করতে শুরু করে দিলো, যদিও আমরা একটা মশালও কিনিনি। প্রথম বার যখন এসে ছিলাম তখন মনে হয় তিনটা মশাল কিনে ছিলাম, লোকজন বলা-বলি করতে ছিল- “গুহার ভিতরে টর্চ লাইট জ্বলে না”। আসলে কথাটা ঠিক না। তখন পত্রিকাতে এই গুহা সম্পর্কে একটা প্রতিবেদন পড়ে প্রথম এটার কথা জানতে পারি। প্রতিবেদনে বলা ছিল -  প্রাকৃতিক এই গুহাটা বিশাল বড়, প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে পুরটা পেরুতে। ভেতরে আছে অনেক জোক আর বাদুর, আর দেখা মিলতে পারে ব্যাঙ আর সাপেরও। ভেতরে বরফ শীতল পানি কোথাও কোথাও অনেক বেশি। তাই সাবধানে যেতে হবে। এই সব…..।


আমাদের এবারের ভ্রমণের ট্রেজারার বসির। সমস্ত টাকা জমা দেয়া হয়েছে ওর কাছে, সমস্ত লেনদেন করবে ও, তাই বসির গেলো টিকেট কাটতে। বসির টিকেট কাটতে কাটতে আমরা ভিতরে চলে যাই। গেটের বাম দিকে যে রাস্তাটা গিয়েছে সেটাই গেছে আলুটিলা গুহাতে। ঢালু এই রাস্তা ধরেই এগিয়ে যেতে হবে আপনাকে।

http://farm8.staticflickr.com/7332/12563776444_b8977e77e2_o.jpg

যারা আগে যাননি এখানে তাদের বলি এই রাস্তা ধরে কিছু দূর এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবেন একটি বিশ্রামের জন্য বসার স্থান। এখান থেকে দূরের খাগড়াছড়ি শহর আপনার চোখের সামনে বিছিয়ে আছে দেখতে পাবেন।
http://farm4.staticflickr.com/3779/12563402163_4ce1d7708a_o.jpg

বিশ্রামাগারের বাম দিকে একটা সিঁড়ি নেমে গেছে, খুব বেশি হলে ৪০/৪৫ ধাপ। এটা দিয়ে নামবেন না।  সোজা সামনের দিকে  আরেকটা সিঁড়ি দেখতে পাবেন। এই সিঁড়িতে ধাপ আছে প্রায় ২৮০টির মত। আপনি যদি প্রথম বাম দিকের সিঁড়ি দিয়ে নামেন তাহলে আপনাকে দ্বিতীয় সিঁড়ির ২৮০ টি ধাপ টপকে উঠতে হবে।
https://ycpi-farm8.staticflickr.com/7331/12563746784_121a97a00a_o.jpg
{সাহস করে নামতে শুরু করুন, যার শুরু আছে তার শেষও আছে}

http://farm4.staticflickr.com/3665/12563765964_9d00b93150_o.jpg
{প্রথমবার যখন আমরা গিয়েছিলাম তখন কিন্তু এই সিঁড়ি ছিলো না}


যাইহোক দ্বিতীয় এই সিঁড়ি দিয়ে  নেমে দেখতে পাবেন একটি বটগাছ। এখানে একটু বিভ্রান্ত লাগতে পারে- কোন দিকে যাবো!!
http://farm4.staticflickr.com/3834/12563383433_e47e998f9b_o.jpg


https://s3.yimg.com/so/7441/12563372713_86a332dee5_o.jpg
{নিচের পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখছে সবাই।}

বাম দিকে একটু সামনে আর কয়েক ধাপ সিঁড়ি দেখতে পাবেন, এর নিচেই আছে গুহার নিচের দিকের মুখ। অন্ধকার রহস্যময় হাতছানি দিয়ে ডাকবে আপনাকে আলুটিলা গুহা।
http://farm8.staticflickr.com/7314/12563716524_d6e8f72cca_o.jpg

http://farm8.staticflickr.com/7393/12563237615_6ecb9388d3_o.jpg
{সিঁড়ি শেষ হয়ে গেছে এই আনন্দেই সবাই}


আমরা স্যান্ডেল খুলে তৈরি হতে থাকি গুহায় ঢুকার জন্য। তখনই লক্ষ্য করি আমাদের গ্রুপের দুইজন মিস্টেক অব দা সেঞ্চুরি করে বসে আছে। প্রথম জন স্বপন- বেচারা পরে এসেছে জুতা মুজা, এখন খুলতে সমস্যা নাই কিন্তু পরে নোংরা পায়ে পরবে কি করে? দ্বিতীয় জন আমি নিজে- পরে এসেছি সেমি নেরো জিনস প্যান্ট। হাঁটু পর্যন্তই প্যান্ট গুটিয়ে উঠাতে পারছি না।
http://farm4.staticflickr.com/3729/12563693944_8fccb94567_o.jpg


সকলের জুতা-স্যান্ডেল খুলে আরেক সমস্যার সম্মুখীন হলাম। এগুলি নিবো কি করে। পাশেই কলা গাছ থেকে একটা ফিতার মত অংশ ছিঁড়ে নিয়ে সেটার ভিতরে সবগুলি জুতা-স্যান্ডেল ঢুকিয়ে বেঁধে ধরিয়ে দেয়া হল স্বপনের হাতে। এবার শুরু হল গুহা অভিযান।

গুহার মুখের সামনে দাঁড়ালে আপনার মনে হবে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন আপনার বাসার ফ্রিজ খুলে তার সামনে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সময় যেটাই হোক গুহার ভেতর থেকে শীতল হাওয়ার রহস্যময় স্পর্শ আপনার জন্য অপেক্ষা  করে থাকবে।
http://farm4.staticflickr.com/3717/12563215185_13ab42b202_o.jpg
{সবার আগে গুহার প্রবেশ মুখে ইস্রাফীল}


উপরে গুহা সম্পর্কে পত্রিকার প্রতিবেদন সম্পর্কে যা বলেছি আসলে এসব কিছুই না। প্রথম বারেই দেখেছি গুহাটা খুব বেশি বড় কিছু না, ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই পার হয়ে আসা যায়।
https://ycpi-farm3.staticflickr.com/2891/12563674194_a840cffa96_o.jpg
{সবাই গুহার ভেতরে এখন}

ভেতরে অনায়াসে টর্চ লাইট জ্বালান যায়। তেমন কোন জোক দেখিনি, সাপ-ব্যাঙের প্রশ্নই আসে না। কারণ গুহার ভেতরটা প্রায় ফ্রিজের মত ঠাণ্ডা, আর আমি যতদূর জানি সাপ-ব্যাঙ ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলে। ভাগ্য ভালো থাকলে বাদুরের দেখা পেতেও পারেন। পানি এক যায়গায় হাঁটুর কাছা কাছি, আর এক যায়গায় হাঁটুর উপরে উঠে যাবে। তবে যেখানে পানি বেশি সেই যায়গাটা দু’দিকে পা দিয়ে অনায়াসে পার হয়ে যাওয়া যায়। ভেতরটা ঠাণ্ডা-অন্ধকার, খুব সুন্দর। কোথাও পাহাড়ের গা চুইয়ে জল ঝরছে, তাই ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে সেই যায়গাগুলি।

http://farm4.staticflickr.com/3666/12563198245_a32b2eb848_o.jpg
{আলুটিলা গুহা অভ্যন্তরে }

আপনাকে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে তা হচ্ছে আপনার মাথা। হেঁ, কারণ কিছু দূর গেলেই গুহার ছাদ ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসবে। এক সময় আপনাকে কুঁজো হয়ে এগুতে হবে। ছাদের উচ্চতার দিকে লক্ষ্য না রাখলে ১০০% নিশ্চয়তা সহকারে আপনি মাথায় ব্যথা পাবেন।
http://farm8.staticflickr.com/7302/12563185555_03e4f5358b_o.jpg

বসিরের মেয়ে বুসরা ছিল ওর বাবার কোলে, অসাবধানতার কারণে বুসরার মাথা লেগে যায় গুহার ছাদে, ব্যথা পেয়ে কাঁদে থাকে বেচারি।
http://farm4.staticflickr.com/3749/12563306293_ef7d98d649_o.jpg
{বুসরার মাথা ঠুকে গিয়েছিল গুহার ছাদে}

গুহার মাঝা-মাঝি অংশ পর হয়ে কিছু দূর এগোলেই মনে হবে গুহাটা দুদিকে দুটি টানেলের মত গিয়েছে। আসলে বাম দিকেরটা ছোট্ট একটা কানা গলি, ডান দিকের টা বেরিয়েছে বাইরের আলোতে। এইখানটাতে কিচ্ছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিতে পারেন, তুলতে পারেন ছবি। ডান দিকে আগাতে গেলেই বড় বড় পাথর আপনার পথ আগলে রুখে দাঁড়াবে। ভয় নেই অনায়াসেই এদের টপকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।
http://farm4.staticflickr.com/3693/12563180005_e851344160_o.jpg
{প্রায় বেরিয়ে এসেছে গুহা থেকে, সামনেই আলোর বন্যা}

http://farm8.staticflickr.com/7362/12563641254_8e26c0de88_o.jpg
{গুহার উপরের দিকের বেরুবার মুখ}

গুহার ভেতরে ধারালো কোন পাথর নেই যাতে লেগে আপনার পা কাটতে পারে। তাই খালি পায়েই যেতে পারেন। তবে অবশ্যরই পা কোথায় ফেলছেন সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন। কারণ ধারালো পাথর বা সাপ-জোক না থাকলেও কিছু অসচেতন পর্যটকের ফেলে যাওয়া বাঁশের মশালে পা পরলে আপনার পা কাটতেই পারে।
http://farm3.staticflickr.com/2860/12563279763_56925ccd55_o.jpg
{আগেই বলেছি সবার জুতা-স্যান্ডেল ধরিয়ে দেয়া হয়েছে স্বপনের হাতে}
https://ycpi-farm4.staticflickr.com/3742/12563626574_f140f4021c_o.jpg
{গুহা থেকে বেরিয়ে একটু উপরে উঠলেই একপাশে নিচে ছোট্ট এই পুকুর, এখান থেকে পানি আনছে পা ধোয়ার জন্য}

http://farm3.staticflickr.com/2858/12563259853_d649e357fd_o.jpg
{পানি আসার অপেক্ষায় আছে}

দুই অংশের অল্প কয়েক ধাপ সিঁড়ি টপকে উঠে পরা যাবে আবার সেই বিশ্রামাগারের কাছে। এবার বুঝবেন আসলেই এই যায়গাটায় বিশ্রামাগার রাখা কতটা ভালো হয়েছে। এখানে বসে ঠাণ্ডা বাতাসে যেমন গাঁ জুড়বে তেমনি দূরে শহরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য আপনার দৃষ্টিকেও শান্তি দিবে।

http://farm6.staticflickr.com/5540/12563137595_5dc91e547c_o.jpg
{আবার সেই ঢালু পথ ধরেই উপরে উঠা শুরু}

এখানে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিয়ে আমরা আবার ঢালু পথ ধরে এগিয়ে উঠতে থাকি উপরের দিকে। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য রিসং ঝর্না। ছুটে চলছি তার দিকেই......
http://farm8.staticflickr.com/7421/12563240513_ccbe8b0b76_o.jpg
{এবার চলেছি রিসং ঝর্নার দিকে}

প্রথম প্রকাশ : ঝিঁঝি পোকা
https://fbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash3/249083_10201394970614204_700541791_n.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

জোস  thumbs_up আমরা ও যাব প্ল্যান করছি দেখি কি হয়  thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

জোস  thumbs_up আমরা ও যাব প্ল্যান করছি দেখি কি হয়  thumbs_up

অবশ্যই বর্ষায় যাবেন, বর্ষায় পাহারে বেরানোর মজাই আলাদা।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

thumbs_up  ওয়াও!!   thumbs_up
দস্যু ভাইয়া নেক্সট নেক্সট!!  dream

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

চমৎকার শেয়ার  thumbs_up
ধন্যবাদ আপনাকে।

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

Jol Kona লিখেছেন:

thumbs_up  ওয়াও!!   thumbs_up
দস্যু ভাইয়া নেক্সট নেক্সট!!  dream

কণা আপু এতো নেক্সট নেক্সট বলে আমি কিন্তু আর....... shame
১৪৫টা ছবি থেকে ২৩টা ছবি বাছাই করতে কতটা সময় লাগে একবার ভাবেন  dontsee
এতো কষ্ট করে পোস্টটা শেষ করলাম একটু দম নিতে দেন।  sad

ভালোবাসার কোড লিখেছেন:

চমৎকার শেয়ার  thumbs_up
ধন্যবাদ আপনাকে।

শুভেচ্ছা আপনার জন্য ভালোবাসা ভাই, নাকি কোড ভাই বলবো  thinking

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মাহমুদ রাব্বি (১৭-০২-২০১৪ ১০:৪৮)

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

আপনি কি সব সময় ভ্রমন করতেই থাকেন? মানে কিছুদিন পর পরেই কি ভ্রমনে বের হন? আমার এত দূর জার্নি ভাল লাগে না। একবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়েছিলাম বাসে। যেতে লাগছে ১০ ঘন্টা! আমার নাড়ি ভুড়ি সব বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিলো। এত লং রুট। তাছাড়া ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ের কাজ চলছে। রাস্তার অবস্থা খারাপ।

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

মাহমুদ রাব্বি লিখেছেন:

আপনি কি সব সময় ভ্রমন করতেই থাকেন? মানে কিছুদিন পর পরেই কি ভ্রমনে বের হন?

ssc এর পর থেকে অনার্স ৩য় বর্ষ পর্যন্ত প্রতি বছরই প্রায় ৩ থেকে ৪বার বেরাতে বেরিয়েছি। ৩য় বর্ষে পড়া কালিন বিয়ে করি, তখন থেকে বেরানোটা কমতে থাকে। তাও গড়ে প্রতিবছ ২বারতো বের হইই।

মাহমুদ রাব্বি লিখেছেন:

আমার এত দূর জার্নি ভাল লাগে না। একবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়েছিলাম বাসে। যেতে লাগছে ১০ ঘন্টা! আমার নাড়ি ভুড়ি সব বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিলো। এত লং রুট।

আমি আপনাকে আমার একটা ভ্রমণ রুটের কথা বলি, তখন মনে হয় অনার্স ২য় বর্ষে পড়ি।
ধরনু ১ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে রইনা হয়ে ২তারিখ সকালে পৌছাই টেকনাফ।
(তখন জাহাজ ছিলোনা) সকালেই চড়ি নৌকাতে, দুপুরের পরপর পৌছাই সেন্টমার্টিনে।
২ তারিখ রাত সেন্টমার্টিনে থেকে ৩ তারিখ সন্ধায় আবার ফিরে আসি টেকনাফে।
৩ তারিখ রাত টেকাফে থেকে ৪তারিখ সন্ধ্যায় চেলে যাই কক্সবাজার।
৪ তারিখ রাত কক্সবাজারে থেকি।
৫তারিখ রাতে দলের বাকিদের রেখে আমি একা চলে আসি, ঢাকায় পৌছায় ৬তারিখ সকালে।
৬ তারিখ রাতে আবার বাসে চড়ি, সারারাত ভ্রমণ শেষে ৭তারিখ দুপুরে পৌছাই কলকাতা।
৭ ও ৮ তারিখ রাত কলকাতায় থেকে ৯তারিখ সকালে আবার বাসে চড়ি।
৯তারিখ রাতে এসে বাসায় স্থির হই।  dontsee

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:
Jol Kona লিখেছেন:

thumbs_up  ওয়াও!!   thumbs_up
দস্যু ভাইয়া নেক্সট নেক্সট!!  dream

কণা আপু এতো নেক্সট নেক্সট বলে আমি কিন্তু আর....... shame
১৪৫টা ছবি থেকে ২৩টা ছবি বাছাই করতে কতটা সময় লাগে একবার ভাবেন  dontsee
এতো কষ্ট করে পোস্টটা শেষ করলাম একটু দম নিতে দেন।  sad

worried না না ভ্রমণে আধা রাস্তা এসে, ছেড়ে দিলে তো এই গুহার মধ্যে গিয়ে বসে থাকতে হবে roll

১৪৫ টা  roll তাইএল আস্তে আস্তে দেন  tongue_smile আহা!! আগে বলবেন তো! নেন নেন big_smile big_smile ভাল করে দম নেন  hug

big_smile আসুক পরের পোস্ট ঠেলা গাড়িতে করে big_smile কুন সমস্যা নাই!  cool

dream অপেক্ষা করতেছি!

১০

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

Jol Kona লিখেছেন:

big_smile আসুক পরের পোস্ট ঠেলা গাড়িতে করে big_smile কুন সমস্যা নাই!  cool

dream অপেক্ষা করতেছি!

২ থেইকা ৩ দিনের মধ্যে দিয়ে দিব, কথা দিতেছি।
অবশ্য কোন গুণিজন নাকি বলেছেন- "কথা দেয়া হয় কথা না রাখার জন্য"।  hehe

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১১

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

এমনি এক বৃষ্টির সময় আমরা ১৫ জন বন্ধু গিয়েছিলাম খাগড়াছড়ি। ১৪ জনই আলুটিলার গুহায় ঢুকেছিল।

ইয়ে... মানে আমি এডভেঞ্চার পছন্দ করিনা। tongue
দস্যু ভাইয়ের কল্যানে এই প্রথম গুহার ভিতর টা দেখা হল। ধন্য ধন্য, থাক, বাদ দিলাম।

১২

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

দারুন লাগলো ভাইয়া, পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় thumbs_up

One can steal ideas, but no one can steal execution or passion. - Tim Ferriss

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (১৭-০২-২০১৪ ১৩:৪৪)

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

শুভ১৭১ লিখেছেন:

এমনি এক বৃষ্টির সময় আমরা ১৫ জন বন্ধু গিয়েছিলাম খাগড়াছড়ি। ১৪ জনই আলুটিলার গুহায় ঢুকেছিল।

ইয়ে... মানে আমি এডভেঞ্চার পছন্দ করিনা।

১৫ জনের ভিতরে আপনি একা ভিরতে ঢুকেন নাই!!!  shame তাহলেতো গুহার বাইরেই আপনার বেশি ভয় পাওয়ার কথা ছিলো।  dontsee

পরে আবার একাবার সঙ্গি নিয়ে ঘুরে এসেন।  big_smile

অপরিচিত লিখেছেন:

দারুন লাগলো ভাইয়া, পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়

আগে একবার কথা দিয়েছি, আবারও দিলাম।  tongue

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৪

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

আচ্ছা একটা প্রশ্ন করতে ভুলে গেছি! এই জায়গার নাম আলুটিলার গুহা কেন!
গুহা তো বুঝলাম! কিন্তু আলুটিলা কেন! আশেপাশে কি আলু বেশি হয় নাকি!   thinking confused

১৫

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

সুন্দর সিরিজ লেখা জন্য ধন্যবাদ ভালো লাগলো পড়ে  thumbs_up

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

ছবি এবং লেখা- দুটোই মনোমুগ্ধকর।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (১৮-০২-২০১৪ ১২:৫৫)

Re: খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা

Jol Kona লিখেছেন:

আচ্ছা একটা প্রশ্ন করতে ভুলে গেছি! এই জায়গার নাম আলুটিলার গুহা কেন!
গুহা তো বুঝলাম! কিন্তু আলুটিলা কেন! আশেপাশে কি আলু বেশি হয় নাকি!   thinking confused

আলু কম বা বেশি হওয়ায় কিছু যায় আসে না আপু। আসলে এই পাহাড় শ্রেনীটার নামই হচ্ছে আলুটিলা পাহাড় শ্রেনী।
খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পশ্চিম দিকে এই পাহার শ্রেনীর অবস্থান। আর গুহাটা (প্রাকৃতিক গুহা) যেহেতু আলুটিলা পাহারের চুড়াতে ( অবশ্য চুড়া থেকে কিছুটা নিচে নেমে গুহাতে ঢুকতে হয়।) অবস্থিত তাই এটাকে আলুটিলা গুহা বলা হয়।  isee
আমাদে সবার প্রিয় মাসুদ ভাই তার পোস্ট পাহাড়ের কান্না ও গুহা দেখে এলাম ! (শেষ পর্ব) লিখে ছিলেন -

আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ আবিস্কারের ইতিহাসঃ পাহাড়ের নাম আলুটিলা হলেও কোনো আলু পাওয়া যায় না পাহাড়ে। প্রচলিত আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তখন কোথাও খাবার পাওয়া যায়নি। ওই সময় এই পাহাড়ে অনেক আলু হয়েছিল। দুর্ভিক্ষের সময় আদিবাসীরা আলু খেয়ে বেঁচে ছিল। সেই থেকে এই পাহাড়ের নাম আলুটিলা পাহাড়।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের ফুলকলি নামের এক বিশাল আকৃতির হাতি ছিল, যাতে করে  জেলা প্রশাসক গন পাহাড়ি পথে যাতায়াত করতেন। খুব সম্ভবতঃ ১৯৯০ সালের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব, খোরশেদ আনসার খান আলুটিলা এলাকায় হাতিতে চড়ে এক বিচার কার্যে গমন করেন। বিচার কার্য চলাকালে পোষমানা ঐ হাতিটি ঘুরাফেরার এক পর্যায়ে অসাবধানতা বশতঃ  উঁচু পাহাড় থেকে নীচে পড়ে যায় এবং মৃত্যু বরণ করে। ঠিক যে স্থানে ফুলকলি পড়ে সেখানে পাহাড়ের গায়ে গুহার মত দেখতে পাওয়া যায় এবং গুহাটি আবিস্কৃত হয়।



দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

সুন্দর সিরিজ লেখা জন্য ধন্যবাদ ভালো লাগলো পড়ে  thumbs_up

মন্তব্য আর সম্মাননার জন্য আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ ডেডলক ভাই।

গৌতম লিখেছেন:

ছবি এবং লেখা- দুটোই মনোমুগ্ধকর।

মন্তব্য পড়িয়া প্রিত হইলাম।  dream

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।