টপিকঃ সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

https://encrypted-tbn2.gstatic.com/images?q=tbn:ANd9GcTSNJhOboJGiXkN-fT0XoTeLoDDWg0EbIZBd_U1HoRD-FX1wg_W
http://www.snowlinenews.com/Kazi%20L3.jpg
সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস
কাজী সাইদ
১৯৪৫ সালে কাজী লেন্দুপ দর্জি খাং শেরপা সিকিম প্রজামণ্ডল নামে এক রাজনৈতিক দল গঠন করে এর সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি সিকিম স্টেট কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকেন। ১৯৬২ সালে সিকিমের স্বতন্ত্র দল, রাজ্য প্রজা সম্মেলন এবং সিকিম স্টেট কংগ্রেস ও সিকিম ন্যাশনাল পার্টির কিছু দলছুট নেতাদের নিয়ে গঠন করেন সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস। গোত্র কলহ, রাজতন্ত্রের বিরোধিতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিকে সামনে রেখে এ দলের যাত্রা শুরু হয়। এপ্রিল ১৯৭৩ সিকিম জনতা কংগ্রেসও এ দলের সাথে অঙ্গীভূত হয়ে যায়। লেন্দুপের মতে, এ দল গঠনের উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করা, জনগণের শান্তি, উন্নতি এবং দেশের উন্নয়ন। তৃতীয় সাধারণ নির্বাচনে তার দল ১৮টির মধ্যে আটটি আসন লাভ করে। ১৯৭০ সালের চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর নিয়োগ পান। কৃষি, পশুপালন এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তার দায়িত্বে চলে আসে। ১৯৭২ সালে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলরের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। উল্লেখ্য, উপমহাদেশ বিভক্তির সময় ব্রিটেন সিকিমের স্বাধীনতার প্রতি উদার নীতি অবলম্বন করে। সিকিমের স্বাধীন রাষ্ট্রীয় সত্তা বজায় থাকুক ব্রিটেনের এ প্রত্যাশায় কোনো ঘাটতি ছিল না। সিকিমের প্রটেক্টরটের ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ ভারতের হাতে হস্তান্তর করে। কিন্তু অখণ্ড ভারতের স্বপ্নবিলাসী নেহরু গণভোটের মাধ্যমে সিকিমের ভারত অন্তর্ভুক্তির সে চেষ্টা সফল হয়নি। প্রটেক্টরেট হিসেবে ভারত সিকিমের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। সাংবিধানিক সরকারের আদলে চোগিয়ালের ভুটানে ১৯৫৫ সালে স্টেট কাউন্সিল গঠন করে, যা ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। ১৯৭০ রাজতন্ত্রবিরোধী সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি পুনর্নির্বাচন এবং নেপালি জনগোষ্ঠীর অধিকতর প্রতিনিধিত্ব দাবি করে। ১৯৭৩ সালের ভোটের ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। সে আন্দোলন সরাসরি রাজতন্ত্রের পতন আন্দোলনে পরিণত হয়। সিকিম জনতা কংগ্রেস এবং সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস একীভূত হয়ে এ আন্দোলন পরিচালনা করে। ১৯৬৫ সাল থেকে রাজ্য শাসনরত রাজা চোগিয়াল পলডেন থনডুপ নাম গয়াল বিক্ষোভ সংঘর্ষ থামানোর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।
আধিপত্যবাদী ভারত এ সুবর্ণ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল দীর্ঘ দিন ধরে। ভারতীয় সৈন্যরা রাজার প্রাসাদ ঘিরে ফেলল। ভোরে নাম গয়াল তার জানালা খুলে দেখলেন, পুরো গ্যাংটক ভারতীয় সৈন্যদের দখলে। সাজানো নির্বাচন হলো। রাজতন্ত্রের পতনের পর ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে লেন্দুপ দর্জির দল ৩২টি আসনের ৩১টিতেই জয়লাভ করে। ব্র“ট মেজরিটি আর কাকে বলে। এ নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেটের ওপর ভর করে লেন্দুপ দর্জি নতুন গভর্নর নিয়োগের ক্ষমতা পেলেন। চোগিয়াল আর লেন্দুপ দর্জির সাপে নেউলে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত পৃথিবীর মানচিত্র থেকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মানচিত্র মুছে ফেলার মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগাতে এক মুহূর্তও বিলম্ব করল না। কাউন্সিল অব মিনিস্টারের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী লেন্দুপ দর্জির ইচ্ছায় পার্লামেন্টে বিনা বিরোধিতায় রাজতন্ত্রের অবসান করা হলো। সিকিমের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেন্দুপ দর্জি ভারতীয় পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার এবং স্টেটহুড স্ট্যাটাস পরিবর্তন করার আবেদন জানান। ১৪ এপ্রিল ১৯৭৫ সিকিমে ভারতীয় সেনাদের ছত্রছায়ায় এক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। লেন্দুপের ইচ্ছার প্রতিফলন দেখানো হয় গণভোটের ফলাফলে। ২৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সিকিম ভারতের ২২তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়। ১৬ মে ১৯৭৫ সরকারিভাবে ভারত ইউনিয়নভুক্ত হয় এবং লেন্দুপ দর্জিকে করা হয় সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। রাজতন্ত্রের পতনের ফলে ‘চোগিয়াল’ পদের অবসান ঘটে। চীন ছাড়া অন্যান্য বেশির ভাগ জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র সিকিমের এ পরিবর্তনকে দ্রুত অনুমোদন করে। লেন্দুপ দর্জি সিকিম ভারতভুক্তির আগে ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সিকিমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের অঙ্গীভূত হওয়ার সাথে সাথে তার দলও ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেস দলে বিলীন হয়ে যায়।
ভারতীয় আধিপত্যবাদের সেবাদাস লেন্দুপ দর্জিকে ২০০২ সালে ভারত ‘পদ্মবিভূষণ’ খেতাবে ভূষিত করে। সিকিমের রাজ্য সরকার ২০০৪ সালে তাকে ‘সিকিমরতœ’ উপাধি দেয়। পশ্চিমবঙ্গের নর্থ বেঙ্গলের নিজ শহর কালিম পংয়ে ১০৩ বছর বয়সে ৩০ জুলাই ২০০৭ সালে লেন্দুপ দর্জি মারা যান।
ভারতের নেতৃবৃন্দ বরাবরই অখন্ড ভারত গড়ার স্বপ্নে বিভোর। আর সে লক্ষ্যে ভারত চায় এর প্রতিবেশী দেশগুলোকে নানাভাবে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করে সেখানে লেন্দুপ দর্জির মতো তাঁবেদার সরকার বসিয়ে দেশটিকে ভারতের সাথে একীভূত করে নিতে। সিকিম তার বড় প্রমাণ। ভারতের প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের মানুষকে এ অন্তর্নিহিত সত্যটি উপলব্ধিতে রেখে দেশ পরিচালনা করতে হবে। নইলে বিপর্যয় অবধারিত।
Link: http://bdn24x7.com/?p=5315
সিকিম সিনড্রোম?
৬ এপ্রিল, ১৯৭৫, সকালবেলা। রাজা পালডেন থনডুপ নামগয়াল সবে নাশতা শেষ করেছেন। তখনি শুনলেন রাজপ্রাসাদ অঙ্গনে গোলাগুলির আওয়াজ। দৌড়ে গেলেন জানালার ধারে। যা দেখলেন, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ভারতীয় সৈন্যরা তার প্রাসাদরীদের আক্রমণ করেছে। তার চোখের সামনে মাত্র ৩০ মিনিটের নাটকীয় অপারেশনে তার এক ১৯ বছরের রীর জীবনের বিনিময়ে রাজা পালডেন সিংহাসন হারালেন। সেই সাথে অবসান হলো ৪০০ বছরের রাজতন্ত্র এবং হারিয়ে গেল পৃথিবীর বুক থেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আর তা পরিণত হলো প্রতিবেশী ভারতের একটি প্রদেশে। জাতিসংঘে একটু গুঞ্জন হলো। বিশ্বের কেউ একটু টু শব্দও করল না। কারণ হিসেবে বলা হলো, দেশটি গণতন্ত্র পেয়েছে, যদিও তা আর একটি দেশের অঙ্গ হিসেবে। তা ছাড়া আরো যুক্তি দেখানো হলো, দেশটির জনগণই স্বাধীনতা চায়নি, চেয়েছে ভারতের সাথে মিশে যেতে।

কোনো রাষ্ট্র প্রশ্ন না তুললেও বিশ্লেষক, গবেষক ও বিদগ্ধজনরা তখন এবং এখনো অনেক প্রশ্ন তুলেছেন যার সঠিক জবাব কখনো মেলেনি। এমন বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছেন এক ভারতীয় সাংবাদিক সুধীর শর্মা। ''একটি জাতির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা'' শিরোনামে এক চমৎকার প্রতিবেদনে সিকিমে ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও হঠকারিতার ইতিহাস বর্ণনা করে সিকিমের বিদায়ের কাহিনী লিখেছেন। মন্তব্য করেছেন, এমনটি যে হবে, তার চেষ্টা শুরু হয়েছিল বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিদায়ের লগ্ন থেকেই। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরু এক কথোপকথনে সাংবাদিক, কূটনীতিবিদ কুলদীপ নায়ারকে এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিলেছিল মীরজাফররূপী কাজী লেনডুপ দরজি। ভারতের নেতৃবৃন্দ কাইভের ভূমিকায় ছিলেন। তবে এখানে স্লোগান ছিল গণতন্ত্রায়ন, সংখ্যালঘুর মতায়ন এবং রাজতন্ত্রের অবসান। তবে ফলাফল সেই একই। প্রভুর পরিবর্তন। গণতন্ত্র, মতায়ন সবই হলো, শুধু জনগণ তার স্বাদ অনুভব করতে পারল না। আসলে সব কর্মকাণ্ডের মূলে ছিল নিয়ন্ত্রণ ও দখল। গদিচ্যুত হওয়ার তিন দিন পর রাজা পালডেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। আমি বাকরুদ্ধ হয়েছি তখনি যখন ভারতীয় বাহিনী সিকিম আক্রমণ করল। (প্রাসাদের) ৩০০-এর কম গার্ডের ওপর এ আক্রমণ চালানো হলো। অথচ এরা ভারতীয় দ্বারা শিক্ষাপ্রাপ্ত এবং তারা ভারতীয় অস্ত্রে সজ্জিত ও ভারতীয় অফিসারদের দ্বারা পরিচালিত। সিকিমিরা ভারতীয়দের কমরেড ভাবে। এ আক্রমণ গণতান্ত্রিক ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক দিন’, তিনি বড় দুঃখে লিখলেন। রাজা পালডেন হয়তো এমন করুণ পরিণতি অন্য দিকে মোড় দেয়াতে পারতেন যদি তিনি আর একটু স্মার্ট হতেন, লিখেছেন বিএস দাশ। তার সিকিম সাগা বইতে মি. দাশ লিখেছেন, যদি রাজা আর একটু বুদ্ধির সাথে তার কার্ডটি খেলতেন তাহলে অবস্থা অন্য রকম হতো। দাশ সিকিমে ভারতীয় পলিটিক্যাল অফিসার ছিলেন যখন গ্যাংটকের পতন ঘটে। ভারতীয় পলিটিক্যাল অফিসার অর্থ তিনিই প্রকৃত মতাধারী ব্যক্তি ছিলেন ১৯৫০ সালের সিকিম-ভারত চুক্তি অনুযায়ী। দাশ লিখেছেন, সিকিমকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন ভারতের প্রতিরক্ষার খাতিরে। আমরা সে লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছিলাম।

অথচ রাজা পালডেন বুঝতেই পারেননি ভারতীয় উদ্দেশ্য। তিনি ভাবতেন, জওয়াহেরালাল নেহরু, এমকে গান্ধীসহ সব বড় নেতা তার পরম শুভানুধ্যায়ী। পালডেনের সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন সোনম ইয়ংডা লিখেছেন, ''রাজা তার ভয়ঙ্কর স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে, ভারত কখনো তার ছোট্ট রাজ্যটি দখল করে নেবে। অথচ এমনটি হবে এবং এর জন্য একটি মাস্টার প্লান প্রস্তুত, সে কথা চীন ও নেপাল সিকিমের রাজাকে জানিয়েছিল। ১৯৭৪ সালে নেপালের রাজার অভিষেকের সময় রাজা পালডেন কাঠমান্ডুতে যান। সেখানে নেপাল, চীন ও পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ রাজা পালডেনকে তিনটি হিমালয়ান রাজাকে নিয়ে ভারতের মাস্টার প্লানের কথা বলেছিলেন। সুধীর শর্মা লিখেছেন, চীনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী রাজা পালডেনকে গ্যাংটকে না ফেরার পরামর্শ দেন এ জন্য যে, এ মাস্টার প্লানের প্রথম শিকার হবে সিকিম। অন্য দু’টির জন্য রয়েছে আরো জটিল পরিকল্পনা। পালডেন এ কথা বিশ্বাস করতে পারেননি।'' শর্মা লিখেছেন, রাজা পালডেন ভারতকে তার সবচেয়ে বড় সুহৃদ মনে করতেন। কেননা তার সৈন্যবাহিনী, প্রাসাদরী এবং তার শাসনযন্ত্র নির্মাণ ও পরিচালনা ভারতই করত। তিনি তাদের বললেন, আমার সৈন্যবাহিনী কেমন করে আমার বিরুদ্ধে লড়বে? তাছাড়া রাজা পালডেনকে ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর অনারারি মেজর জেনারেলের পদমর্যাদা দেয়া হতো। নেহরুও বলেছিলেন, এমন ছোট্ট দেশ দখল করার প্রয়োজন নেই। (১৯৬০ সালে কুলদীপকে নেহরু বলেছিলেন- ঞধশরহম ধ ংসধষষ পড়ঁহঃৎু ষরশব ঝরশরস নু ভড়ৎপব ড়িঁষফ নব ষরশব ংযড়ড়ঃরহম ধ ভষু রিঃয ধ ৎরভষব.) অথচ তার কন্যা মাত্র ১৫ বছর পর জাতীয় স্বার্থের কথা বলে সত্যি সেই মাছিকে হত্যা করলেন। তবে দখলের বীজ নেহরুই বুনেছিলেন। সিকিমের রাজতন্ত্রের পতনের লক্ষে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস (এসএনসি) গঠনে তিনিই উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। এসএনসি’র নেতা লেনদুপ দরজির গণতন্ত্রের সংগ্রামকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যায় প্রথমত, নামগয়াল পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য। আসলে কাজী ও নামগয়াল পরিবার ছিল একে অন্যের শত্র“। এই বিভেদকে ভারত কাজে লাগায় তার মাস্টার প্লানের অংশ হিসেবে। ক্যাপ্টেন ইয়াংজু লিখেছেন, ''ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক পোশাকে রাজার বিরুদ্ধে গ্যাংটকের রাস্তায় মিছিল, আন্দোলন ও সন্ত্রাস করত।'' এমনকি লেনদুপ দরজি নিজেই শর্মাকে বলেছেন, ''ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর লোকরা বছরে দু-তিনবার আমার সাথে দেখা করত কিভাবে আন্দালন পরিচালনা করা যাবে। তাদের একজন এজেন্ট তেজপাল সেন ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অর্থ দিয়ে যেত এ আন্দোলন পরিচালনা জন্য।'' এ অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস পরিচালিত হতো। শর্মা লিখেছেন, এই ‘সিকিম মিশনের’ প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ভারতের ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (সংক্ষেপে ' র')। এর ডাইরেক্টর অশোক রায়না। তার বই ইনসাইডর : দি স্টোরি অব ইন্ডিয়াস সিক্রেট সার্ভিস। এখানে বাংলাদেশ অধ্যায়সহ সিকিমের বিষয় বিস্তারিত আছে। বায়না লিখেছেন, ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৯৭১ সালেই সিকিম দখল করে নেয়া হবে। সে লক্ষে সিকিমে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন, হত্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ইত্যাদি করা হচ্ছিল। এখানে হিন্দু নেপালি ইস্যুকে বড় করে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টায় সফলতা আসে। গ্যাংটক পোস্টের সম্পাদক সিডি রাই বলেছেন, সিকিমের নেপালি বংশোদ্ভূত নেপালি সম্প্রদায়ের মধ্যে এটা দৃঢ়ভাবে ছড়ানো গেল যে, সিকিমের বৌদ্ধ রাজা তাদের নির্যাতন, নিষ্পেষণ করছেন এবং সুশীল ও এলিটরা এক হয়ে ভাবতে শুরু করল, ''আমাদের ভারতীয় হয়ে যাওয়াই ভালো বৌদ্ধ রাজার নির্যাতনের চেয়ে।''

ক্যাপ্টেন সোনম ইয়ংডা দাবি করেছেন, সিকিমে রাজার বিরুদ্ধে লেনদুপের আন্দোলন ছোট ছিল এবং তা হয়েছে স্পূর্ণভাবে ভারতের অর্থানুকূল্যে। তার মতে, ভারত ডাবল গেম খেলছিল। এক দিকে রাজাকে আশ্বস্ত করছিল তার সিংহাসন নিরাপদ এবং তিনি সঠিক পথে আছেন। অপর দিকে লেনদুপকে অর্থ ও লোকবল নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলে, যাতে দেশের অধিকাংশ লোককে রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে এক সারিতে আনা যায় এর ফলে ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে লেনদুপের এস.এন.সি পার্টি ৩২ সিটের ৩১টিই লাভ করেছিল। এর আগে দিল্লির চাপে রাজা ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় একটি সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন। ৮ মে, ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত এ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব চেওয়াল সিংহ এবং ভারত-সমর্থিত তিনটি পার্টি সিকিম ন্যাশনাল পার্টি, সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেস। রাজা এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এর আগের মাসে এক-নাগাড়ে দশ দিন আন্দোলন চললে গণতন্ত্রের সপক্ষে। মজার কথা, এই হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে গ্যাংটকের পালজোর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে ‘ইন্দিরা গান্ধী জিন্দাবাদ’ স্লোগান উঠাতে বাধ্য করা হয়। এ আন্দোলনের শেষ দিন ভারত বিএস দাশকে পলিটিক্যাল অফিসার হিসেবে নিযুক্তি দিলে সিকিমের তিন পার্টি আন্দোলন উঠিয়ে নেয়। এর কয়েক দিন আগে রাজার কাছে খবর এসেছিল, এ তিন পার্টির জয়েন্ট অ্যাকশন (জেএসি) কমিটি ১৫ হাজার মানুষের এক কর্মী বাহিনী নিয়ে সংখোলা থেকে গ্যাংটকের দিকে এগোচ্ছে। ভীত রাজা ভারতের সাহায্য চাইলেন। এ দিকে জেএসিও ইন্দিরা গান্ধীর কাছে টেলিগ্রাম পাঠাল তাদের কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে এবং এর সাথে সিকিমে হস্তক্ষেপের আবেদন জানাল। এর পর ভারতের জন্য সিকিমে হস্তপে করার বিরুদ্ধে কোনো বাধাই রইল না।

অর্থাৎ ভারতের তিন দশকের পরিকল্পনা, অর্থ ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড সার্থক হলো, লিখেছেন সিকিম ও ভারত বইয়ের লেখক।

নির্বাচনে জিতে ২৭ মার্চ, ১৯৭৫ প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী লেনদুপ দরজি রাজতন্ত্র বিলোপের সিদ্ধান্ত এবং এক রেফারেন্ডামের সিদ্ধান্তও নিলেন। চার দিন পর সারাদেশের ৫৭টি স্থান থেকে ফলাফল এলো, জনগণ রাজতন্ত্র বিলোপের পক্ষে। কৃষিমন্ত্রী কেসি প্রধান অবশ্য বলেছেন, পুরো ব্যাপারটাই সাজানো। ভারতীয় সৈন্যবাহিনী বন্দুকের মুখে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করেছিল। অনেক লেখক বলেছেন, রাজা পালডেন তার রাজত্বের প্রথম দিকে যখন নেহরুর নির্দেশে রাজতন্ত্র বিলোপের লক্ষ্যে তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারা দিল্লির সহায়তায় উৎরে গেলেন, তখন দিল্লিকে পরম সুহৃদ ভাবতে থাকলেন। তাই চীন বলল, ‘যদি ভারতীয় বাহিনী তাকে আক্রমণ করে, তাদের সাহায্য চাইলে ভারত সীমান্তে চীন ও পাকিস্তানের সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ করা যাবে’। সুধির শর্মা লিখেছেন। রাজা পালডেন যখন বুঝতে পারলেন, তখন আর কিছুই করার ছিল না।

অবশ্য অনেকেই সিকিমের এই বিপর্যয়ের জন্য রানী এবং লেনদুপের স্ত্রীকে খানিকাংশ দায়ী করে থাকে। তবে বিশ্লেষকরা এ মতকে আমলে নেননি। হিমালয়ের পাদদেশের তিনটি রাজ্যের ‘প্রটেকটরেট’ অবস্থানকে সে দেশের মতাবানরা মেনে নিয়েছিল। তবে ভারতের ক্রমবর্ধমান চাপ তিনটি দেশকে ক্রমেই একে অন্যের কাছে নিয়ে আসতে থাকলে ইন্দিরা গান্ধী প্রমাদ গোনেন। তাই পরিকল্পনাকে একটু পরিবর্তন করেন। কাঠমান্ডু পোস্টে ৩ জুন, ১৯৯৭ ‘ভুটানিজ সিনড্রোম’ নামে এক নিবন্ধে প্রচলিত ধারণা যে, সিকিমে নেপালি ভাষাভাষীরা সব ঘটনার জন্য দায়ী, তা সত্য নয় বলতে গিয়ে দাবি করা হয়, তিনটি দেশের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এবং তাদের অর্থ ও তাদের কিছু বশংবদ দায়ী। কাজী লেনদুপ দরজির নেতৃত্বে এ বশংবদরা পরবর্তীকালে ঘটনা বিপরীতমুখী করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। লেনদুপ দরজি ও তার বিদেশী স্ত্রীকে কালিমপং-এ অবশিষ্ট জীবনের তিন দশক দেশবাসীর নিন্দা ও ঘৃণা এবং ভারতের অবহেলার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়। কাজী লেনদুপ এক সাক্ষাৎকারে সুধীর শর্মাকে বলেন, আমি ভারতের জন্য এত করলাম, এমনকি দেশটিও দিয়ে দিলাম, তার প্রতিদানে তারা আমায় এত অবহেলা করল। অবশ্য সিকিম দিয়ে দেয়ার ২৭ বছর পর ভারত সরকার লেনদুপ দরজিকে ''পদ্মভূষণ'' পদবি দেয় এক অনাড়ম্বর পরিবেশে সান্ত্বনা হিসেবে।

অনেকেই বলেছেন, সিকিমের ব্যাপারে ভারত ১৯৭১ সালের লক্ষ্য পরিবর্তনের কারণ বিশ্বপরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশের চলমান ঘটনাবলি। তাই তাকে সিকিমে আন্দোলনের ধারাকে বেগবান রাখতে হয়েছে শুধু। সুধীর শর্মার মতে, বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং ১৯৭৪ সালে ভারতে পারমাণবিক অস্ত্রের সাফল্যের কারণে দিল্লিকে আর তার ইমেজের ব্যাপার নিয়ে ভাবতে হয়নি। সে সিকিম দখল করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। বিশেষ করে ভুটানের জাতিসংঘের সদস্য পদ প্রাপ্তি এ সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে সাহার্য করে। ভারত ভুটানের জাতিসংঘের সদস্য প্রাপ্তিকে সহজভাবে না নিয়ে উপায় ছিল না। স্বাধীন বিশ্বে, বিশেষ করে নিরপেক্ষ বলয়ের নেতৃত্বে, এমনকি তার গণতান্ত্রিকতার দাবিতে চিড় ধরত। বাংলাদেশকেও তাকে সাহায্য করতে হয় স্বাধীনতাকামী হিসেবে। তার একটিই ভয় ছিল, বাংলাদেশ ও ভুটানকে অনুসরণ করে যদি সিকিম জাতিসংঘের সদস্যপদ দাবি করে।

এ দিকে নেপালেও রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছে ঠিক একই পদ্ধতিতে, যদিও দেশটি টেকনিক্যালি এখনো স্বাধীন। তবে এখানে সাত পার্টির জোট ও মাওবাদীরা সর্বতোভাবে দিল্লির ওপর নির্ভরশীল। ইংরেজি আদ্যক্ষর হিসেবে অনেকে এর নাম দিয়ে ‘স্প্যাম’ (সেভেন পার্টি অ্যালায়েন্স অ্যান্ড মাওইস্ট)। গত নির্বাচনের আগে গিরিজা প্রসাদ কৈরালার নেপাল কংগ্রেস ও সিপিএম-ইউএমএল দিল্লিতে গিয়ে তাদের কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করলে বিশ্লেষকরা বলেন, এটা আর একটি সিকিম সিনড্রোম, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মপদ্ধতির সিদ্ধান্ত নিতে স্বদেশভূমিকে ব্যবহার করে না। এঁরা বলেন, এই ‘স্প্যাম’ পলিটিক্যাল অলিগার্কি বা রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র পছন্দ করে, জনগণের গণতন্ত্র নয়। ঠিক একই লক্ষ্য দিল্লিরও। তারা জনগণ নয়, রাজনৈতিক দলের আনুগত্য কামনা করে। তারা প্রতিটি রাজনৈতিক দলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় লাইন অব ইনহেরিটেন্স রাখে। একটির পতন হলে অপরটি সে স্থান পূরণ করে।

একজন ভুটানি বিশ্লেষক কাঠমন্ডু পোস্টে সম্প্রতি এক নিবন্ধে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, বর্তমানের ভুটানি-নেপালের রাজনৈতিক গোলযোগ যদি ঠাণ্ডা মাথায় সমাধানের চেষ্টা না করে, তাহলে এটি ‘ভুটানিজ সিনড্রোম’ হবে এবং এর পরিণতি হবে সিকিমের মতো। লেখক আরো বলেছেন, গত ছয় দশকের নানা কর্মপন্থায় আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র ও হঠকারিতার যে কর্মকাণ্ড চলছে, তা বিরতিহীন। এসব কর্মকাণ্ড সমগ্র অঞ্চলকেই এক কাতারে আনবে যদি এখনি এসব কর্মপন্থায় সংযুক্ত নট-নটীরা সতর্ক না হয়। পরিণামে সবাই হবে কাজী লেনদুপ দরজি, যার পার্টি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে একটি সিটও পায়নি, যদিও মাত্র পাঁচ বছর আগে পার্লামেন্টে ৩২ সিটের ৩১টি সে দখল করেছিল। ইতিহাস তাকে আঁস্তাকুড়ে ফেলে দিলো। ভুটানিজ সিনড্রোমের লেখক সতর্ক করে দিলেন। (আলমগীর মহিউদ্দিন, নয়া দিগন্ত-২০ মে-২০০৯)

সম্মানিত পাঠক! মনে হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদেরকে সদা প্রহরীর ভুমিকায় থাকতে হবে। আমাদের চিন্তায় কোন ভুল থাকলে শুধরাতে হবে। দল মত যাই হোক সবার আগে তো দেশ তাই নয় কি?

সিকিমের  হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সিকিমের ঘটনাবলির সাথে আমাদের বর্তমান অবস্থা তুলনা করা যেতে পারে।
লিঙ্ক:  http://www.somewhereinblog.net/blog/mizan75/28955416

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

ভাল লাগল জেনে, শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ।

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।জানার অনেক ইচ্ছা ছিল।

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সালেহ আহমদ (০১-০১-২০১৪ ২০:৩৮)

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

সিকিমের ইতিহাস জানা এখন জরুরী হয়ে গেল?  thinking
৭১ সালে বাংলার মানুষ বন্দুককে ভয় পায়নি। বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে যাবে সে চিন্তা করে ঘুম নষ্ট করার দরকার নাই। এসব প্রোপাগণ্ডার অংশ হিসেবে এখন ছড়ানো ছাড়া কিছুই নয়।

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

সালেহ আহমদ লিখেছেন:

সিকিমের ইতিহাস জানা এখন জরুরী হয়ে গেল?

খালেদা জিয়া এর "বেয়াদপ মহিলা" কথোপকথনে লেন্দুপ দর্জি এর নাম এসে ছিল।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হবার সম্ভবনা একবারেই ক্ষীন। এর কারণ বিশাল জনসংখ্যা। ৯০% মুসলিম হওয়ায় সম্ভবনা নাই বললেই চলে। ভারতের ১৮ কোটি মুসলিমের সাথে যদি বাংলাদেশের ১৫ কোটি যোগ হয় তাহলে ভারতের ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যাবে।
তবে সম্ভবনা যতই কম  থাকুক আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত। নেপাল, ভুটানের মত ভারতের অঘোষিত অঙ্গরাজ্য হওয়া আমাদের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হবে।

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

তার মানে ভূটান , নেপাল , বাংলাদেশ , পাকিস্তান , শ্রীলঙ্কা সব দেখি ভারতের দখল করার লিস্টের মধ্যে আছে ।
লেখাটা ভারত বিরোধী মনোভাব তৈরী করতেই কি লিখেছেন ??? নাকি সত্যি তাদের জন্যে আক্ষেপ হয় ?
বাংলাদেশ দখল করার মত কোন দেশ নয় ... দখল যদি করতেই চায় তাহলে ভূটান আর নেপাল দিয়ে শুরু হবে ।
১৯৭১ সালেও বাংলাদেশ ভারত নিতে চায়নি । কারন বাংলাদেশ ভারতের জন্যে বিশাল বোঝা হয়ে যাচ্ছিল ।
যেমনটি মালয়শিয়া সিঙ্গাপুরের সাথে হয়েছে ।

ভারত বাংলাদেশ দখল করবে ?  lol2 lol2 lol2 lol2 lol2
দখল করলে আমাদেরই সুবিধা ... পপুলেশন ডেনসিটি এত বেশী যে বাংলাদেশের  ৫০% ভারতে বসতি গড়লেই তার সমাধান হয়ে যাবে । মাথা পিছু অ্যাঁয় বেড়ে যাবে ... বিনা ভিসায় পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জায়গা ঘোরা যাবে । আমি প্রথমেই কাশ্মির চলে যাব ঘুরতে ।
চাকরীর দ্বার খুলে যাবে ... বলিউডে কাজ করার সুযোগ পাব ।


ভারত অত বোকা না  angry । সিকিম দখল করে ভারতের উপকার হইছে । বাংলাদেশ দখল করে বাঁশ খাওয়ার ইচ্ছা ভারতের নাই ।

ভারত যেটা করতে পারে । বাংলাদেশের বাজার দখল করে ফেলতে পারে । আর তার সুযোগ করে দিচ্ছে আমাদের দুই নেত্রী ।

শ্রাবন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

ভারতের era of expansion এ সিকিম, দক্ষিণ ভারতের কিছু রাজ্য - ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেটা স্বাধীনতার পরপর শুরুর দিকের ঘটনা। তবে চিন্তা করে দেখুন, এরকম ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা এখন আর নেই বললেই চলে। আমি অন্তত আমার চারপাশের মানুষজনের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অনেক সম্মান করে। কোনও ভারতীয় রাষ্ট্রনায়ক যদি বাংলাদেশের দিকে আগ্রাসন চালায় তাহলে দেশের ভিতর থেকেই বাধা আসবে। বহু মানুষ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষার কথা বলে। সেটা পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ভুটান - এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একে অন্যের দেশ দখল করে, বড়সড় একটা যুদ্ধ বাধিয়ে, মারতে মারতে আর মরতে মরতে দিন কাটানোর মত মানসিকতা কারও নেই।
ভারতের সাধারণ মানুষজনকে যতটা খারাপ মনে করেন, ততটা খারাপ বোধহয় তারা নয়  smile

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

হৃদয়১ লিখেছেন:

ভারতের সাধারণ মানুষজনকে যতটা খারাপ মনে করেন, ততটা খারাপ বোধহয় তারা নয়  smile

হৃদয় দা, অফটপিক করলাম....
আপনার এই কথটা কিছুদিন আগেও বলতাম... কিন্তু এখন আর বলিনা ভুলেও৷ কিছুদিন আগে ফেসবুকে জনৈক বলেছিলেন ভারতীয়দের সম্পর্কে.... "ভারতের সবাই যে খারাপ তা নয়, তবে যো ভি আচ্ছা, ও ভি শুয়ার কা বাচ্চা "

গল্প-কবিতা - উদাসীন - http://udashingolpokobita.wordpress.com/
ছড়া - ছড়াবাজ - http://chhorabaz.wordpress.com/

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন প্যারিস (০২-০১-২০১৪ ১৫:৫৪)

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

অরুণ লিখেছেন:
হৃদয়১ লিখেছেন:

ভারতের সাধারণ মানুষজনকে যতটা খারাপ মনে করেন, ততটা খারাপ বোধহয় তারা নয়  smile

হৃদয় দা, অফটপিক করলাম....
আপনার এই কথটা কিছুদিন আগেও বলতাম... কিন্তু এখন আর বলিনা ভুলেও৷ কিছুদিন আগে ফেসবুকে জনৈক বলেছিলেন ভারতীয়দের সম্পর্কে.... "ভারতের সবাই যে খারাপ তা নয়, তবে যো ভি আচ্ছা, ও ভি শুয়ার কা বাচ্চা "

আপনার এই কথটা কিছুদিন আগেও বলতাম... কিন্তু এখন আর বলিনা ভুলেও

এই জনৈকের কথায় আপনার কাছে এই মন্তব্য আশা করিনি!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

প্যারিস লিখেছেন:

এই জনৈকের কথায় আপনার কাছে এই মন্তব্য আশা করিনি!

আমার কথায় আহত হয়ে থাকলে দুঃখিত৷
কথাটা আমার নয় কিন্তু.... এই ধরণের অজস্র, হ্যাঁ অজস্র কথায় আমার দেশ সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে (কেবলমাত্র ফেসবুক নয় নিশ্চয়ই)৷

আর আমি যে সবাইকে তাদের সাথে এক করে ফেলিনা তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সম্ভবত আমার ফেববুক অ্যাকাউন্টটি৷ সেখানে ভারতীয় বলতে কেবল মাত্র আমার বোন আর দাদা, বাকি সবাই কিন্তু ফোরামের কাছের কয়েকজন মানুষ৷

ভালো থাকবেন৷

গল্প-কবিতা - উদাসীন - http://udashingolpokobita.wordpress.com/
ছড়া - ছড়াবাজ - http://chhorabaz.wordpress.com/

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অরিহন্ত (০২-০১-২০১৪ ১৭:২৪)

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

এই ধরনের ভয় দেখানোকে বলা হয়, "জুজু" দেখানো। স্পষ্টতই প্রতিবেদক বাংলাদেশের মানুষকে  ভারত জুজু দেখাচ্ছেন।

শ্রাবন লিখেছেন:

বাংলাদেশ দখল করে বাঁশ খাওয়ার ইচ্ছা ভারতের নাই।

সত্যিই তাই, ভারত নিজের নাগরিকদেরই পেট ভরাতে পারেনা।

সিকিম ভারতের হাতে না এলেও, চিনের দখলে চলে যাবার সম্ভাবনা প্রবল ছিল। সিকিম, ভূটানের জনসংখ্যা নগন্য,  নিজেকে রক্ষা করার মত রিসোর্স এদের নিজেদের নেই, তাই এদেরকে বড় ও শক্তিশালী কোন রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় অবশ্যই থাকতে হবে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতির চিন বা দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র পাকিস্থান অপেক্ষা ভারত শ্রেয়।
তুরস্ক বা ইউক্রেন যেমন সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার কবল থেকে বেরিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে উদগ্রীব।

Life IS Neither TEMPEST, NOR A midsummer NIGHT'S DREAM, BUT A COMEDY OF Errors,
ENJOY AS U LIKE IT

১৩

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

অরুণ লিখেছেন:

[কথাটা আমার নয় কিন্তু.... এই ধরণের অজস্র, হ্যাঁ অজস্র কথায় আমার দেশ সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে

অফটপিক করার জন্য দু:খিত
অরুন দা আমাদের বাংলাভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি,কালচার এক হওয়াতে আমাদের একে অপরের প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা আছে, আলাদা একটা টান আছে,সার্পোট আছে।কিন্তু ভারতে এই বাংলাভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বাইরে যারা আছেন তাদেরও কিন্তু বাংলাদেশ সর্ম্পকে খুব একটা ভাল ধারনা নেই।তাদের মধ্যেও বাংলাদেশ সর্ম্পকে যথেষ্ট নেগেটিভিটি আছেন।স্পেশালী মনে হয় সাউথ এর পাবলিকদের মধ্যে।জাষ্ট একটা এক্সামপল দিই আমাদের দেশে যখন রানা প্লাজার ঘটনাটা ঘটেছিল তখন আমি টাইম অফ ইন্ডিয়ার অনলাইন এডিশনে গিয়েছিলাম ওই খানে কিছু এমন এমন কমেন্ট ছিল যা সত্যিই খুবই খারাপ ছিল।তবে এটা ঠিক অনেক কমেন্ট এর ব্যাতিক্রমও ছিল।আসলে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি যে দুই দেশেরই কিছু মানুষের মধ্যেই দুই দেশ সর্ম্পকে কিছু খারাপ মনোভব আছে। এইটা আসলে কাটানোর উপায় হচ্ছে দুইদেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সর্ম্পকটা সমভাবে গড়ে তোলা,একে অপরের প্রতি সন্মান দেখানো এবং নির্ভরযোগ্য বিশ্বাস ও আস্থার সর্ম্পক গড়ে তুলা যায় তাহলে মনে হয় এরকম নেগেটিভ মনোভব দুইদেশের মানুষের মধ্যেই কমবে।।আমি বিশ্বাস করি যে এই বিশ্বায়নের যুগে কারও প্রতি বিদ্বেশ দেখিয়ে নয় বরং তার সাথে সুন্দর বন্ধুতপুর্ন সর্ম্পক স্থাপনের  মাধ্যমে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।আর যেই দেশে আপনাদের মত এত ভাল ভাল মনের মানুষেরা আছে  এত ভাল ভাল ফোরামিকরা আছে তাদের সাথে যদি ভারত সর্ম্পকে নেগেটিভ মনোভব রাখে এমন ব্যাক্তি মিশলে তার এই ধরনের নেগেটিভ মনোভব ত্যাগ করতে বাধ্য হবে smile

অন্যের কাছ থেকে যে ব্যবহার প্রত্যশা করেন আগে নিজে সে আচরন করুন।

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন rabbil rimon (০২-০১-২০১৪ ১৯:২৮)

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

হৃদয়১ লিখেছেন:

ভারতের era of expansion এ সিকিম, দক্ষিণ ভারতের কিছু রাজ্য - ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেটা স্বাধীনতার পরপর শুরুর দিকের ঘটনা। তবে চিন্তা করে দেখুন, এরকম ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা এখন আর নেই বললেই চলে। আমি অন্তত আমার চারপাশের মানুষজনের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অনেক সম্মান করে। কোনও ভারতীয় রাষ্ট্রনায়ক যদি বাংলাদেশের দিকে আগ্রাসন চালায় তাহলে দেশের ভিতর থেকেই বাধা আসবে। বহু মানুষ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষার কথা বলে। সেটা পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ভুটান - এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একে অন্যের দেশ দখল করে, বড়সড় একটা যুদ্ধ বাধিয়ে, মারতে মারতে আর মরতে মরতে দিন কাটানোর মত মানসিকতা কারও নেই।
ভারতের সাধারণ মানুষজনকে যতটা খারাপ মনে করেন, ততটা খারাপ বোধহয় তারা নয়  smile

হৃদয়১ ভাই bsf যে ভাবে সীমান্তে বংলাদেশিদের পাখির মত হত্যা করছে,আর আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতার কল্যাণে আমাদের  উত্তরবঙ্গর নদী গুলোর যা অবস্থা sad sad যে দেশের ধারাভাষ্যকার (নভজিত সিং সিধু) বংলাদেশি ক্রিকেট  টিমকে তেলাপোকার সাথে তুলনা করে angry angry
তাতে আপনার কথা বিশ্বাস করতে বংলাদেশিদের অনেক কষ্ট হবে

১৫

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

অরিহন্ত লিখেছেন:

তুরস্ক বা ইউক্রেন যেমন সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার কবল থেকে বেরিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে উদগ্রীব।

তুরস্ক ঠিক কবে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার কবলে ছিল?
তুরস্ক নিজেই (অটোম্যান) এক সময় সাম্রাজ্যবাদী ছিল।

১৬

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

ইদানিং নতুন করেই আমরা এই সিকিমের কাহিনী জানতে পারছি.....জানিনা হঠাৎ করে এটা সামনে আসলো কেন। আর যা ই হো ক বাংলাদেশ কখোনে সিকিম হবে না.....বা সেই দিন ও আর নেই।
তবে হ্যাঁ কোন দৈব কারনে যদি দুই বাংলা এক হয়ে নতুন কোন স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তাহলে আমরা অনেকেই অখুশি হবো না....।

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ত্রিমাত্রিক (০৩-০১-২০১৪ ০৫:০১)

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

মেহেদী হাসান লিখেছেন:

তবে হ্যাঁ কোন দৈব কারনে যদি দুই বাংলা এক হয়ে নতুন কোন স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তাহলে আমরা অনেকেই অখুশি হবো না....।

ধর্মীয় কারণে দুই বাংলা এক হওয়ার কোন সম্ভবনাই নাই।
বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম আর পশ্চিম বঙ্গে ২৫% মুসলিম। দুই বাংলা এক হলে ক্ষমতায় থাকবে মুসলিম কোন লিডার। পশ্চিম বাংলার নাক উঁচু বাবুরা কখনোই মুসলিম শাসনে থাকতে চাইবে না।
৪৭-এ দেশ ভাগ কিন্তু ধর্মীয় কারণেই হইছে।

১৮

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

ত্রিমাত্রিক লিখেছেন:
মেহেদী হাসান লিখেছেন:

তবে হ্যাঁ কোন দৈব কারনে যদি দুই বাংলা এক হয়ে নতুন কোন স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তাহলে আমরা অনেকেই অখুশি হবো না....।

ধর্মীয় কারণে দুই বাংলা এক হওয়ার কোন সম্ভবনাই নাই।
বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম আর পশ্চিম বঙ্গে ২৫% মুসলিম। দুই বাংলা এক হলে ক্ষমতায় থাকবে মুসলিম কোন লিডার। পশ্চিম বাংলার নাক উঁচু বাবুরা কখনোই মুসলিম শাসনে থাকতে চাইবে না।
৪৭-এ দেশ ভাগ কিন্তু ধর্মীয় কারণেই হইছে।

তাহলে কাশ্মীরের অনেকটা অংশ ভারতের দখলে কেন?

১৯

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

rabbil rimon লিখেছেন:

তাহলে কাশ্মীরের অনেকটা অংশ ভারতের দখলে কেন?

জম্মু ও কাশ্মীর এর জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি এর আবার ৩০% হিন্দু।
তারপরও কাশ্মীরে সংঘাত থেকে নেই।

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন rabbil rimon (০৩-০১-২০১৪ ১৫:৫১)

Re: সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস

ত্রিমাত্রিক লিখেছেন:
rabbil rimon লিখেছেন:

তাহলে কাশ্মীরের অনেকটা অংশ ভারতের দখলে কেন?

জম্মু ও কাশ্মীর এর জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি এর আবার ৩০% হিন্দু।
তারপরও কাশ্মীরে সংঘাত থেকে নেই।

কাশ্মীরের অনেকটা অংশ ভারতের দখলে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানের হিন্দু জনসংখ্যা সংখ্যা বেড়েছে neutral