টপিকঃ আলাপন-৩

আদ্রিয়ান্না আজ ভোর পাঁচটায় উঠেছে। ফজরের আযান শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আর ঘুম এলো না। এভাবে অহেতুক শুয়ে থাকার কোনও মানে হয় না। ভোরে যখন ওঠা গেছে তাই নামাজ আগে পড়ল।

একটু হাটাহাটি করে আসলে কেমন হয়?
আদ্রিয়ান্না হাটতে বের হল।
আহা! কি অপূর্ব ভোরের বাতাস! কতদিন যে ভোরের আলো দেখাই হয়নি কে জানে। হাঁটতে হাঁটতে সামনে একটি শিউলি ফুলের গাছ পড়ল। ফুল ফুটে গাছ ভরে আছে। গাছের নিচে অনেক ফুল পড়ে আছে। কি যে অপরূপ লাল-শাদার
মিশ্রণ। চোখ জুড়িয়ে যায়। রাস্তায় তেমন লোকজন নেই। মাঝে মাঝে কেউ কেউ জগিং করতে করতে যাচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে বেশ কজন গল্প করতে করতে হেঁটে যাচ্ছে।

এখন শীতের দিন। আদ্রিয়ান্না একটি র্যাংলার ব্র্যান্ডের নি-টেড ট্রাউজার পড়েছে আর গায়ে নর্থফেস ব্র্যান্ডের জ্যাকেট।  পায়ে একজোড়া রিবক কেডস। 
হঠাৎ ওর প্রিয় মানুষটির সাথে দেখা হয়ে গেল। এম বি এ ক্লাসমেট।
ছেলেটিকে যখন কেউ নাম জিজ্ঞেস করে আর তখন যদি সেখানে আদ্রিয়ান্না থাকে তাহলে সে একটু অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে থাকে।
কারণ যিনি নাম জিজ্ঞেস করেন উনি নাম শোনার পর কিছুক্ষণ চুপ করে কি যেন ভাবেন। এই ফাঁকে আদ্রিয়ান্না অন্য প্রসঙ্গ তুলে আলাপচারিতা শেষ করে।
আদ্রিয়ান্না তাঁকে অন্য নামে ডাকে। এই নামটি আদ্রিয়ান্নাই দিয়েছে আর তা হোল “আকর্ষণ”।
আদ্রিয়ান্না যখন “এই আকর্ষণ” বলে ডাক দেয় তখন সে যত ব্যস্তই থাকুক আদ্রিয়ান্নার ডাকে হুরমুর করে নড়েচড়ে ওঠে।
ছেলেটি আদ্রিয়ান্নার প্রিয় হওয়ার একটা কারণ হোল, আদ্রিয়ান্না আকর্ষণ কে যা বলে  সে তাই বিশ্বাস করে।
একদিন আদ্রিয়ান্না জিজ্ঞেস করেছিল, আমি যা বলি তাই তুমি ঠিক মনে কর কেন? আমি কি ভুল বলতে বা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারি না?
আকর্ষণ উত্তরে বলেছিল, এখনও আমার কাছে ভুল কিছু মনে হয়নি, মনে হলে অবশ্যই বলব।


আকর্ষন নামক এই ছেলেটি ট্যালেন্ট কিন্তু বুদ্ধি খাটায় না। এস এস সি এবং এইচ এস সি দুটোতেই গোল্ডেন এ প্লাস। তারপরও কেমন যেন একটু ভাবুক ধরণের।
পড়ালেখায় ভালো কিন্তু বৈষয়িক জ্ঞান কম। বৈষয়িক জ্ঞান কম বলতে এদিকে তার মাথা খাটাতে ইচ্ছে করে না।
কি সব সৃষ্টি-স্রষ্টা-পৃথিবী-সময় এগুলো নিয়ে ভাবে। কে আমি? কোথা হতে আসলাম। কেন আসলাম। কোথায় যাব। আসলাম যদি তাহলে কেন যাব। মৃত্যু কি? এসব আজগুবি ভাবনায় ডুবে থাকে।
একবার আদ্রি এবং আকর্ষণ এক রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিল। দুপুরের খাবার। কাচ্চি বিরিয়ানির অর্ডার দেয়া হয়েছিল।
বিরিয়ানি দেয়ার আগে হোটেল বয় সালাদ, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ এবং গাঁজর টেবিলে রেখে গেল।
আকর্ষণ কি যেন ভাবতে ভাবতে একটা কাঁচা মরিচ তুলে নিয়ে কামড় বসিয়ে দিল।

এই ধরনের অনেক কাণ্ড সে করেছে। এর কোনও কারণ আদ্রিয়ান্না খুঁজে পায়না। তারপরও এই ছেলেটিকে আদ্রিয়ান্নার খুব পছন্দ।

আকর্ষণ আদ্রিদের কিছুটা দূর সম্পর্কের আত্নিয়।
একবার আকর্ষণ আদ্রিদের  গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আদ্রি খুঁজতে গিয়ে দ্যাখে লেবু বাগানে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
আদ্রি ডাকল কিন্তু তার কোনও সাড়া নেই।
আদ্রি আকর্ষণের চোখের দিকে তাকিয়ে তারপর বরাবর আকাশের দিকে তাকাল। দেখল বিশাল আকৃতির পূর্ণিমা চাদের চারপাশ দিয়ে শাদা শাদা মেঘ উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে। আকর্ষণ নিষ্পলক তাকিয়ে আছে ওদিকেই।
কিছুক্ষণ পর আদ্রি জিজ্ঞেস করল, কি দেখছ?

এবার আকর্ষণ মুখ খুলল।
কেন এই বিশাল পূর্ণিমা? শাদা মেঘেরা কোথা থেকে আসছে? কোথায় যাচ্ছে? কেন যাচ্ছে? কেন এই দিন, রাত, সূর্য, আকাশ? কেন এই পৃথিবী? কেন পৃথিবীতে মানুষ আসে? কেন আবার চলে যায়? কোথায় যায়???????
বলতে বলতে চেঁচিয়ে উঠল আকর্ষণ।
আদ্রি আকর্ষণের দুহাত ধরে একটা ঝাঁকুনি দিল। তারপর আকর্ষণ স্বাভাবিক হল এবং বাসায় ফিরে গেল।


আজ শিউলি গাছের পাশে মর্নিং ওয়াকে ওদের দেখা হয়েছে। কিন্তু আকর্ষণ শিউলি ফুলের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছিল।

-এই আকর্ষণ! আদ্রিয়ান্না একটু জোরে ডাক দিল।

হুরমুর করে নড়েচড়ে উঠল আকর্ষণ। তারপর আদ্রির দিকে তাকাল।
-তুমি কি প্রতিদিন মর্নিং ওয়াক করো? আদ্রি জানতে চাইল।
- হ্যাঁ! তুমি?
- মাঝে মাঝে। তবে এখন থেকে নিয়মিত করবো ভাবছি।
- আজকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ক্লাস আছে, আসবে না?
-হ্যাঁ আসব। এই ক্লাসটা তো করতেই হবে।
-আচ্ছা, দেখা হবে ক্লাসে। আমার অফিস টাইম হয়ে যাচ্ছে। চলি।
-খোদা হাফেজ। ভাল থেকো।

আকর্ষণ চলে গেল। আদ্রিয়ান্না বাসায় ফিরতে শুরু করেছে কারণ ওর অফিসও ৯টায় শুরু হয়।
আদ্রিয়ান্না সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অফিস করে তারপর এম বি এ ক্লাসে যায় কারণ ও ইভনিং এম বি এ করে। ক্লাস শুরু হয় ছয়টা থেকেই কিন্তু ও ক্লাসে পৌঁছায় সাড়ে ছয়টায়।

আকর্ষণ - এই নামটা আসলে আদ্রি দিয়েছে। ওর আসল নাম  গৌতমমূসা মোহাম্মদ কৃষ্ণঈসা। এই নামটা যিনি শোনেন তিনি চুপ করে কয়েক মুহূর্ত কি যেন ভাবেন।
আদ্রি একবার জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার নাম এমন বিচিত্র কেন?
আকর্ষণ জবাব দিয়েছিল, আমিও একই প্রশ্ন আমার বাবাকে করেছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন আসলে উনারা প্রত্যেকেই মহামানব। উনাদের চলার পথ ভিন্ন হলেও গন্তব্য একই।

আজ আকর্ষণ একটু আগেই ক্লাসে চলে এলো। এসে দ্যাখে এখনও আদ্রি আসেনি তাই  যে সিটে বসল তার পাশের সিটে ওর ব্যাগ রেখে দিল। অফিস শেষ করে আদ্রিয়ান্না ক্লাসে এলো।
আজ প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের যে বিষয়ের উপর লেকচার হচ্ছে তা হোল, Basic Phases of Project Management.
টিচার এই ইউনিভার্সিটিরই প্রোফেসার। ইউ এস এ এর ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পি এইচ ডি করেছেন।

লেকচার চলছে.........
There have 5 basic phases of the project management and these are accordingly 1) Project conception and initiation
2) Project definition and planning 3) Project launch or execution 4) Project performance and control and 5) Project close.

একটানা ৪৫ মিনিট লেকচার চলল।  আদ্রি দুটি বিষয় ঠিকমত বুঝতে পারেনি। সেটা হল Project close point এর এক্ষেত্রে Project complete হওয়ার পর Client এর Approval এর বিষয়টি
এবং Project evaluation process কিন্তু আকর্ষণ তাকে বুঝিয়ে দিল। 

আদ্রিয়ান্না বাসায় ফিরল। অফিস এবং ক্লাস দুটোই যেদিন করতে হয় সেদিন বেশ ক্লান্ত লাগে। দ্রুত খেয়ে বিছানায় ঘুমতে গেল। কিন্তু কেন যে ঘুম আসছে না সেটা বুঝতে পারছে না।
সেলফের দিকে তাকাতেই চোখ পড়ল “আলাপন” বইটির দিকে। উঠে হাত বাড়িয়ে বইটি বের করল। আলাপন-১ এবং আলাপন-২ তো পড়া হয়েছে। আলাপন-৩ এ কি আছে একটু দেখা দরকার।

“আলাপন-৩”
একটি যুবক ঘুমবার চেষ্টা করছে কিন্তু ঘুম আসছে না। চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। অনেকক্ষণ কেটে গেল। ঘুম আসছে না। বেশ রাত হয়েছে। ঘর অন্ধকার কারণ লাইট অফ।
হঠাৎ একটি মোলায়েম কণ্ঠ ভেসে এলো।

-কি ভাবছ হে যুবক?

যুবকটি চোখ খুলে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। লাইট টা অন করবে কিনা ভাবছে। সুইচটা একটু দূরে। বিছানা থেকে নেমে গিয়ে অন করতে হবে কিন্তু একটু ভয় ভয় করছে।
আবার কণ্ঠস্বর টি ভেসে এলো।
-ভয় পেয়ো না হে যুবক।
-কে কথা বলে?
-আমাকে তিনিই পাঠিয়েছেন যার কথা তুমি সর্বদা ভাব।
-আমিতো স্রষ্টার কথা ভাবি, তুমি কে?
-ধরো তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন।
-কেন পাঠিয়েছেন?
-তোমার মনে যে সব প্রশ্ন জমে আছে তার উত্তর দেয়ার জন্য।
-আচ্ছা বলতো মানুষ কেন পৃথিবীতে আসে?
-আল্লাহর কাজ করার জন্য।
-আল্লাহর কাজ কি?
-নামায, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত।
-হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান – এরাতো নামায-রোজা করে না। এরা কেন আসে?
-তারাও আল্লাহর কাজই করতে আসে।
-তারা তাদের যেসব ধর্মিয় কাজ করে ঐগুলোও কি আল্লাহর কাজ।
-অবশ্যই আল্লাহর কাজ।
-তাহলে কাজের ধরণে পার্থক্য কেন?
-ওটা আল্লাহই ভাল জানেন।
-আচ্ছা বলতো মানুষ মরার পর কোথায় যায়?
-ওটাতো কেউ গিয়ে দেখে আসেনি।
-আমিতো একবার মারা গিয়েছিলাম কিন্তু কিছুইতো দেখলাম না।
-সেটা কেমন?
-আমার একবার কি এক অসুখ হয়েছিল। আমি বিছানায় শুয়েছিলাম।
-তারপর?
-আর কিছু মনে নেই। শুধু মনে আছে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।
-তারপর?
-আসলে কিন্তু আমি বুঝিনি যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং আমার মৃত্যু হয়েছিল।
-তারপর?
-হঠাৎ আমার জ্ঞান ফিরে এল।
-এটা কি করে সম্ভব?
-আসলে মানুষের হৃৎপিন্ড যতক্ষণ চালু থাকে ততোক্ষণ সে জীবিত।
-আচ্ছা।
-এই হৃৎপিন্ড চলা বন্ধ হয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে।
-বুঝলাম।
-বন্ধ হয়ে যাওয়া হৃৎপিন্ড আবার কোনও কারণে চালু হয়ে যেতে পারে।
-ও
-আমার বেলায়ও তাই হয়েছিল।
-তারপর?
-আমার জানাজার জন্য আমাকে গোসল করানো হচ্ছিল
-তারপর?
- ঠিক সেই মুহুর্তে আমার জ্ঞান ফিরে আসল।
-তারপর?
-জেগে অনুভব করলাম শরীরে খুব ব্যথা আর খুব ঠাণ্ডা লাগছিল।
-তারপর?
-দেখলাম আমি আমাদের বাথরুমে শুয়ে আছি আর শাওয়ার ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আমার শরীর ভিজে চ্যাপচ্যাপা।
-তারপর?
-একটু উঠে বোঝার চেষ্টা করলাম।
-কি বুঝলে?
-দেখলাম এক মধ্য বয়স্ক লোক সাদা দাড়ি মাথায় টুপি। সে সাবান দিয়ে আমার পা পরিষ্কার করছে।
-তারপর?
-আমি কথা বলার চেষ্টা করলাম। অনেক কষ্টে ভাঙ্গা গলায় কথা বললাম।
-কি কথা?
-উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি আমাকে গোসল করাচ্ছেন কেন?
-তারপর?
-লোকটি এদিক ওদিক তাকিয়ে লা-হাওলা ওয়া কুয়াতা ইল্লাবিল্লা বলে আবার সাবান লাগাতে শুরু করল।
-তারপর?
-আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম আপনি কে? আমাকে গোসল করাচ্ছেন কেন?
-তারপর?
-লোকটি এবার আমার দিকে তাকিয়ে দেখল আমি উঠে বসে আছি।
-তারপর?
-আমি তখন ভাঙ্গা গলায় বললাম আপনি কে?
-তারপর?
-লোকটি বড় বড় চোখ করে একলাফে দাঁড়িয়ে গেল।
-তারপর?
-লোকটি দুই কানে আঙ্গুল চেপে ধরে চেঁচিয়ে বলল আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল লা।
-তারপর?
-দৌড় দিল।
-তারপর?
-আমি আস্তে আস্তে গোসল সেরে বাথরুম থেকে বের হলাম। বাথরুমের সাথেই আমার বেডরুম তাই জামা কাপর পড়ে নিলাম।
-তারপর?
-খুব ক্লান্ত লাগছিল আর খুব ক্ষুধা পেয়েছিল।
-তারপর?
-পাশের রুমে এসে দেখি বেশ কজন কোরান শরীফ পড়ছেন।
-তারপর?
-ওরা আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াল এবং লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন বলতে বলতে দৌড় দিল।
-তারপর?
-পাশের রুমে এসে দেখি মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। বাবা এবং ডাক্তার মা’র পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
-তারপর?
-আমি বাবাকে বললাম আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে।
-বাবা কি করলেন?
-বাবা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলেন কিন্তু ডাক্তার সাহেব এসে আমাকে ধরলেন এবং বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বললেন আমি খাবার আনছি। তুমি একটু শুয়ে থাকো।
-তারপর?
-আমার ঠাণ্ডা লাগছিল বুঝতে পেরে বাবা আমার শরীরে কম্বল দিয়ে দিলেন।
-তারপর?
-ডাক্তার এসে আমার হাত ধরে পালস দেখলেন এবং শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে দিলেন। আমি বললাম আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে।
-খাবার দিয়েছিল?
-না। ডাক্তার সাহেব বললেন, তুমি অসুস্থ তাই এখন মুখ দিয়ে কিছু খেতে পারবে না। যে স্যালাইন দিয়েছি দশ মিনিট পর আর ক্ষুধা থাকবে না। এটাই আপাতত তোমার খাবার।
-তারপর?
-ধীরে ধীরে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম। কিন্তু প্রতিদিন বাসায় প্রচুর লোক আসত আমাকে দেখতে। সাংবাদিক এবং টিভি ক্যামেরা সবসময় থাকত। আমি বিরক্ত হয়ে উঠলাম।
-তারপর?
-বাবা আমাকে ইন্ডিয়া নিয়ে গেল। কলকাতায় এক স্কুলে ভর্তি করে দিলেন।
-তারপর?
-কলকাতায় একদিন এক হোটেলে চা খেতে ঢুকলাম।
-তারপর?
-আমি যে টেবিলে বসলাম সেই টেবিলেই দেখলাম সেই মধ্য বয়স্ক দাড়ি টুপি পড়া লোকটি চা খাচ্ছে।
-তারপর?
-আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আমাকে গোসল করিয়েছিলেন কেন?
-উনি কি বললেন?
- আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল লা বলতে বলতে চা’এর কাপ ফেলে দৌড় দিলেন।
-তারপর?
-হোটেলের ভেতরে থাকা কয়েকজন মানুষ এসে আমাকে বলল কি হয়েচে দাদা বলুনতো।
-তুমি কি বললে?
-আমি বললাম, কি হয়েছে তা তো বলতে পারব না। দেখলাম চা খাচ্ছিলেন। কি যেন মনে হল হঠাৎ দৌড় দিলেন। এই যে দেখুন আমার শার্টে চা’এর দাগ লেগেছে।
-তারপর?
-শান্তভাবে চা শেষ করে বিল দিয়ে চলে এলাম।
-হুম, তোমার বিষয়টাতো বেশ জটিল দেখছি। আচ্ছা একটা কথা বলতো?
-কি?
-তুমি আমার কাছে জানতে চাইলে মানুষ মারা গেলে কোথায় যায়। তুমিতো নিজেই একবার মারা গিয়েছিলে। তুমি কিছু দ্যাখনি?
-নাহ।
-কেন?
-জানি না। মৃত্যুর পরে মানুষ কোথায় যায় সেটা আমি দেখলে কি আর তোমাকে জিজ্ঞেস করতাম?
-তোমার কাছে কি মনে হয়? তোমার মৃত্যু হওয়ার পরও কেন তুমি দেখতে পাওনি তুমি কোথায় গিয়েছিলে?
-মৃত্যুর পর মানুষের দেহ যায়না, আত্মা যায়।
-আচ্ছা
- পৃথিবীতে মানুষ দ্যাখে চোখ দিয়ে, শোনে কান দিয়ে
-আচ্ছা
-আর এই চোখ এবং কান চলে ব্রেনের মাধ্যমে
-এগুলো আমি জানি
-কিন্তু মৃত্যুর পর-তো আত্মার সাথে চোখও যায় না, কানও যায় না, ব্রেনও যায় না
-ও
-এই কারণেই আমি মৃত্যুর পর কিছু দেখিনি।
-ঠিক আছে যুবক তুমি এখন ঘুমাও। আমি এখন যাই।
-না। তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যেতে পারবে না।
-কিছুদিন পর আমি আবার এসে তোমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাব। তুমি এখন ঘুমাও। অনেক রাত হয়েছে। আমি যাই।
-উত্তর দিতে না পারলে অহেতুক আসবে না।
-ঠিক আছে। ভাল থেকো। খোদাহাফেজ।

পরিবর্তনই চিরসত্য-পরিবর্তনই মূলসূত্র।
গৌতমমূসা মোহাম্মদ কৃষ্ণঈসা
skype: asfakur_cf

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত