সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ছায়ামানব (১৫-১২-২০১৩ ১২:৩২)

টপিকঃ যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

ছোটবেলায় সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে পড়েছিলাম- আমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতি। কিন্তু চারপাশের মানুষ জনকে দেখে আসলে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা আমরা আসলে কী! আধুনিক বাঙ্গালীর খিচুড়ী টাইপের সংস্কৃতি আমাকে খুব পীড়া দেয়। আমি খুবই মূর্খ টাইপের মানুষ। দুনিয়াদারি সম্পর্কে খুবই কম জানি। পড়াশোনাও তেমন একটা করা হয়না। তাই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা আমাদের সংস্কৃতিটা আসলে কেমন! যেমন ধরুন মাসিক সংস্কৃতি এর কথা যদি বলি! ইংরেজী বছরের শুরু থেকেই শুরু করি। ধরুন থার্টি ফার্স্ট নাইটের কথা(কদিন পরেই আসছে তো তাই এটা দিয়েই শুরু করলাম tongue)। ঐদিন এদেশের একটা বেশ বড় সংখ্যক তরুণ-তরুণী বেশ দামাল হয়ে যায়। অনেকের কাছেই হয়ত স্রেফ বন্ধুদের সাথে আনন্দ করার একটা উপলক্ষ এটা, তবুও এদিন উচ্ছৃংখল আচরণ করার হারও কিন্তু ইদানীং অনেক বেড়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হল এটা কি আমাদের সংস্কৃতি? চোখ বুজে বলতে পারি- না! অবশ্য কেন না বা কিভাবে,কোথা থেকে এই ট্রেন্ডটা চালু হয়েছে-সেই প্রশ্ন করলে আর উত্তর দিতে পারব না! ঐ যে বললাম না- আমি গর্দভ টাইপের মানুষ tongue

            যাই হোক, জানুয়ারীর বাকি সময়টা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই কেটে যায়। আমার বিষ্ময় চরমে পৌছে ফেব্রুয়ারীতে। হ্যা ভাই ঠিকই ধরেছেন। বাংলা ভাষার মাস এটা। অবশ্য এই ব্যাপারে আমার কিঞ্চিত ব্যাক্তিগত ক্ষোভ আছে। ২১ ফেব্রুয়ারির বদলে শহীদ দিবসটা ৮ই ফাল্গুন উদযাপন করা হলে হয়ত এই ক্ষোভটা থাকত না। যাইহোক যেই প্যাচাল পারছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। বাংলা ভাষার মাস তো তাই এ মাসের শুরুতেই তরুণদের আদিক্ষ্যেতা চরম পর্যায়ে চলে যায়। ফেসবুকে নিজের বাংলা নামের আদ্যক্ষর দিয়ে প্রো-পিক দেয়া, “আমার ভাইয়ের...” কলার টিউন সেট করা...ইত্যাদী আরো হাজার রকমের দেশ ও ভাষাপ্রেমের নমুনা(!)। এরপর আসি পহেলা চৈত্রের কথায়। ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যে পরিমাণ মানুষ থাকে তা বুঝি পহেলা বৈশাখকেও হার মানায়। মানুষ উৎসব করবে ঠিক আছে, কিন্তু এমন একটা নন-হলিডেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে ভীড় করার কী দরকার বুঝি না। ঢাকা শহরে আর জায়গা আছে কিনা এই বিতর্কে যাব না, তবে ঐদিন ঠিক কি রকম ঝামেলা পোহাতে হয় সামান্য একটু বলি। ঢাবি ক্যাম্পাসে ঐদিন এতটাই ভীড় হয় যে গাড়ি কার্জন হল থেকে টিএসসি পর্যন্ত আসতে ২-৩ ঘন্টা লেগে যায়। আমরা সাধারণ মানুষ তো বটেই, ঢাকা মেডিকেলের রোগীদেরও এই মৌসুমী বাঙ্গালীদের জন্য ঐদিন চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এর পরেরদিন-ই আবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে! লে হালুয়া...পোলাপাইন রাস্তাঘাটে যেমনে ভালোবাসা দেখাই, অনিচ্ছাস্বত্তেও চোখে পড়ে যায় আর ভাবি-“হে ধরণী তুমি দ্বিধা হও...”। এতকিছুর পরেও যেগুলো ভালো লাগে তাহলো বইমেলা আর শহীদ দিবসের প্রভাতফেরী। তবে বইমেলার সময় দুপুর থেকে জিমনেশিয়ামের সামনের চওড়া রাস্তায় কতিপয় বিত্তশালীদের কারপার্কিং এর ফলে সৃষ্ট জ্যাম দেখেই আবার মেজাজটা খিচড়ে যায়। মার্চ মাসটা মোটামুটি নানারকম রাজনৈতিক ক্যাচালেই কেটে যায়। এরপর এপ্রিলে আবার শুরু হয় বাঙ্গালীয়ানা প্রদর্শনীর হিড়িক। আর এভাবেই মোটামুটি সারাটা বছর জুড়ে চলতে থাকে আমাদের সাংস্কৃতিক দীনতা প্রদর্শনের মহড়া...

            কিছু কিছু জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের প্রতি আনুগত্য আমাকে মুগ্ধ করে। যেমন- জাপানী, চীনা কিংবা স্প্যানিশদের ঐতিহ্য। একটু খেয়াল করলেই ওদের সাথে আমাদের পার্থক্যটা টের পাওয়া যাবে। ওরা হয় শাষকের জাত অথবা ওদের সংস্কৃতির মূল এতটাই গভীর যে ক্ষণিকের পরাধীনতাও তাদেরকে মূল থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ওদের মত বিশুদ্ধ সংস্কৃতি(এটলিস্ট থিওরিটিক্যালি) আমাদের নেই। হ্যা, ধর্ম অবশ্যই সংস্কৃতির উপরে বিশাল ভূমিকা রাখে। তবে আমরা মনে হয় বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব না যে আমাদের সংস্কৃতি নিখাদ ধর্মনির্ভর। যুগ যুগ ধরে আমরা আর্য, মৌর্য, গুপ্ত, সেন, পাল, মুঘলসহ কতিপয় মুসলিম সুলতান ও ইংরেজদের কাছে পরাধীন ছিলাম। অনেকটা বেশি সময়ই হয়তো পরাধীন ছিলাম; তাই হয়ত আমরা আমাদের মূল হতে অনেক দূরে সরে এসেছি। একারণেই সম্ভবত বায়োলজিক্যাল ভাবে( wink) আমরা একটু বেশি-ই বৈচিত্রময়। এটাও হয়ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমাদের এই জগাখিচুড়ি কালচারের প্রভাবক। ত্যানাটা না হয় আরো একটু প্যাচাই। আমার আসলে জানতে ইচ্ছা করে আর্যদের আসার আগে এই ভূখন্ডের মানূষ কেমন ছিল; তাদের সংস্কৃতি কেমন ছিল! সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাধারা বদলাবে, আরো অনেককিছুই বদলাবে কিন্তু সংস্কৃতিটা সেভাবে বদলায় না। হয়ত কিছুটা বদলায় কিন্তু সেই বদলানোর হারটাও তুলনামূলকভাবে ভাষার পরিবর্তনের চেয়েও অনেক অনেক ধীর- আর অবশ্যই সেটা পোষাকী পরিবর্তন। মৌলিক পরিবর্তন যদি হয় তাহলেতো নিজেদের মূলকেই আমরা হারিয়ে ফেললাম, তাইনা? আসলে আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হল আমরা জাতি হিসেবেই সম্ভবত বিশুদ্ধ কোন সংস্কৃতির উত্তরাধিকার না(নো অফেন্স ইন্টেন্ডেড); তাই আমাদের কালচার বা সংস্কৃতিটাও হয়ত স্বাভাবিকভাবেই এমন। তারওপর ধর্ম, রবীন্দ্রনাথ, নাস্তিক আর মৌলবাদীরা মিলে আমাদের কনফিউশন আরও বাড়িয়ে তুলছে। পহেলা বৈশাখ পালন করবেন- হয়ত আপনারই এক বন্ধু বলে বসবে- ব্যাটা তুই তো নাস্তিক অথচ সেই বন্ধুই হয়ত ঘরে বসে রবীন্দ্র সংগীত শুনছে। কিংবা কোন বন্ধু হঠাৎ করে ধার্মিক হয়ে গেলে, পাঞ্জাবী পায়জামা পড়া শুরু করলে তাকে আনস্মার্ট ট্যাগ লাগিয়ে দিলেন অথচ আপনি নিজেই হয়ত ফেসবুকে ১৮+ পেজের ধর্মীয় পোস্টে লাইক শেয়ার দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের অশেষ নেকী হাসিল করে ফেলেছেন বলে ভাবছেন। যাইহোক এত বকর বকর করার উদ্দ্যেশ্য একটা কথাই পরিস্কার করা যে- আমরা ভীষন কনফিউজড জাতি। সেটা কালচার হোক আর যাই হোক- সবদিক দিয়েই...আর আমাদের কালচারটাও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত; ভারতীয় কিংবা ইংরেজ অথবা আরবীয়দের থেকে! যাইহোক লেখায় বিতর্কিত বিষয়গুলো চলে আসছে। আপাতত ডাইভার্ট করি; পরে সু্যোগমত আবার এই বিষয়গুলোতে আসব।

            অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের উপর সনাতনীয়, ইংরেজ ও প্রাচ্যের মুসলিমদের প্রভাব রয়েছে। যেকোন একটার প্রভাব থাকলেও হয়ত আজ আমাদের এতটা বেহাল দশা হত না। যেমন-মেক্সিকান ও স্প্যানিশ জাতি। তাদের মধ্যে আমি অনেক মিল খুজে পাই(যদিও অমিল অনেক আছে)। অবশ্য এই বৈচিত্র বাড়াটা আমাদের জন্য ভাল নাকি খারাপ হয়েছে সেটা বোঝার মত জ্ঞান আমার নেই। খোলা চোখে যেমনটা দেখি- আমাদের মা,বোনরা সারাদিন হিন্দী সিরিয়াল দেখে ওদের মত চালচলন শিখছেন; বাচ্চারা ছোটবেলায় মীনা কার্টুন না দেখে ডোরেমন দেখছে আর বাংলার বদলে হিন্দী শিখছে(চাক্ষুশ প্রমাণ আমার পিচ্চি মামাতো ভাই), বাংলা লিখা কস্ট বলে আমরা ইংরেজী হরফে বাংলা লিখে এক এক জন মুরাদ টাকলা হচ্ছি কিংবা আরজে দের উদ্ভট বাংলা উচ্চারণকে স্মার্টনেস হিসেবে ধরে নিয়েছি। ফ্রেন্ডরা মেটালিকা ছাড়া গান শুনে না, আবার গার্লফ্রেন্ডের পছন্দ “তুম হি হো”। কেউ একজন প্রচলিত নিয়মের দিকে আঙ্গুল তুললে তিনি নাস্তিক হয়ে যান; আবার তেতুল বাবারাই ধর্মের ধারক-বাহক হয়ে থাকেন। বোমা ফাটিয়ে মানুষ মারলেও তারা ধর্মের সৈনিক অথচ ভাস্কর্য ভেঙ্গে দেওয়া হয় ধর্মবিরোধী আখ্যা দিয়ে(ইংরেজী থেকে অনুবাদ করলে মূর্তি আর ভাস্কর্যের পার্থক্য নেই; পার্থক্যটা আসলে ভাবের প্রকাশে!)। খেলার মাঠে কি রাজনীতিতে আমাদের কেউ কেউ এখনো মন থেকে অন্য দেশকেই সাপোর্ট করি। বিশ্বকাপের সময় বেহায়ার মত অন্যদেশের পতাকা বাড়ির ছাদে গর্বভরে ওড়াই; অথচ কিনা নিজ দেশের পতাকার প্রাপ্য সম্মানও অনেক সময়ই আমরা দেই না। আর জ্ঞানী-গুনীর অনাদরও মনে হয় আমাদের মত কেউ করে না! দূর্নীতি থেকে শুরু করে ক্ষমতার লালস; মাতৃভুমির অবহেলা থেকে বিজাতীয় শক্তির আগ্রাসনকে প্রশ্রয়; পোষাক-আশাকের ট্রেন্ড থেকে শুরু করে সুন্দরী প্রতিযোগীতা- কোনটা যে আমাদের সংস্কৃতি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনে। অবশ্য এটাও হতে পারে সবই ঠিক আছে; শুধু আমার বুদ্ধিতেই কুলোচ্ছে না বলে হয়ত আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে গেছি big_smile

           আসলে আমার মনে হয় আমরা সম্ভবত কোন একটা বিশুদ্ধ সংস্কৃতির উত্তরাধিকার নই আর আমাদের সংস্কৃতিটা শতভাগ কেমন সেটাও হয়ত আমরা জানিনা তবে এটুকু বুঝতে পারি যেগুলোকে আমরা সত্যিই আমাদের নিজস্ব বলে মনে করি সেগুলোকে যদি আমরা পরম মমতায় আকড়ে ধরি; আর বিজাতীয় অরুচিকর জিনিষগুলো বর্জন করি তাহলে হয়ত জাতি হিসেবে আমরা আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে পারব smile


(মুখবন্ধ এর জন্য সংরক্ষিত জায়গা) tongue

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

বৈচিত্র্যময়তা কিন্তু মোটেও খারাপ কিছু না! তবে এমনভাবে জিনিসগুলি নিতে হবে যাতে করে একটি আরেকটির সাথে বিশ্রীভাবে সাংঘর্ষিক না হয়ে যায়। এখানেই আমাদের সমস্যা মনে হয়। আমরা বড্ড দ্বিধান্বিত জাতি। বেশিরভাগ সময় প্রায় সবকিছু নিয়ে আমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে। আত্মবিশ্বাসের জায়গায়ও কমতি আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবীদের নারকীয় হত্যার সাথে সাথে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক যে ক্ষতিটা সাধিত হয়ে গেছে, সেটি এত সহজে পূরণ হবার নয়! এজন্য শিক্ষা বলুন, নেতৃত্ব বলুন, কিংবা সংস্কৃতির মত ব্যাপারগুলিতে আমাদের দৃঢ়চেতা অবস্থান স্পষ্টত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আবার একটু অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, আমরা খুব নমনীয় একটা জাতি - খুবই ইজিগোয়িং! সহজে মানিয়ে নিতে পারি যে কোন অবস্থার সাথে। এটা সদগুণ নাকি বদগুণ, কে জানে? তবে, এটি নিশ্চিতভাবে সাংস্কৃতিক জগাখিচুড়িতে সম্ভবত ঘি ঢেলে চলেছে। আমরা সব কিছুতেই থাকতে চাই। আবার কিছুতে গভীরে না যাওয়ার প্রবণতাও বিদ্যমান। এই গোলমালে কোন্‌টাতে থিতু হতে হবে, তাই ভুল মেরে বসে থাকি!
এ তো সব নেতিবাচক দিকগুলো। এবার আসুন একটা ইতিবাচক চিন্তা করি। সংস্কৃতি সতত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনই সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে যুগ যুগান্তরে, শতাব্দি কিংবা সহস্রাব্দান্তরে! পরিবর্তনকে মেনে নেয়াই উত্তম। তবে অবশ্যই যত্নের সাথে। পরম্পরা যথাসম্ভব রক্ষা করে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন ভাল বৈ খারাপ করবে না বলে আমার বিশ্বাস। তরুণ প্রজন্মকে এই বিশ্বাসটা দেয়া জরুরি যে, আমরাও কম নই কিছুতে। আমরা যা, তাই যথাযোগ্য পরিবর্তন সাপেক্ষে আগলে রাখলে আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয় আরো মজবুত হতে বাধ্য! আমি দারুণ আশাবাদি এ ব্যাপারে!
আর একটা কথা বলে শেষ করি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যেমন একাত্ম হয়ে এক সুরে উত্তাল হয়ে উঠেছিলাম, সে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, আমরা চাইলেই মহান কিছু করতে পারি। ভাষা আন্দোলনের সময়ও আমরা দেখিয়ে দিয়েছিলাম। সেই অমর অবিস্মরণীয় চেতনাটা মনেপ্রাণে ধারণ করাটা আজ বড় জরুরি হয়ে পড়েছে! পরিশেষে, ছায়ামানবকে ধন্যবাদ বিষয়টি সামনে আনার জন্য!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ছায়ামানব (১০-১২-২০১৩ ১৬:১৮)

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

ধন্যবাদ উদাসীনদা smile। আমারো সেটাই মনে হয় যে - মুক্তিযুদ্ধের সময়েই আসলে আমাদেরকে অনেকটা পিছিয়ে যেতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই একটা টপিক লিখব বলে এখানে সূক্ষ দুই-একটা রেফারেন্স উল্ল্যেখ করেছি মাত্র smile লেখায় আর একটা অংশ ছিল- সংস্কৃতি ও ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ক। তবে ঐ অংশটা টেকনিক্যালি কতটা ঠিক লিখেছি এটা নিশ্চিত নই বলে আর দেয়নি।
ইতিবাচক চিন্তা আমিও করতে চাই। কিন্তু সবার ভেতরেই যখন "ড্যামকেয়ার" ভাবটা দেখি তখন আর আমারো করতে ইচ্ছে হয়না sad

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (১০-১২-২০১৩ ২৩:৩০)

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

উদাসীন লিখেছেন:

আবার একটু অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, আমরা খুব নমনীয় একটা জাতি - খুবই ইজিগোয়িং! সহজে মানিয়ে নিতে পারি যে কোন অবস্থার সাথে।

আমার মনে হয়না আমরা ইজিগোয়িং। আমার মনে হয় কোনো একটা ব্যরিয়ার আমাদের মাঝে রোপন করা আছে যেই ব্যরিয়ারের জন্য আমাদের মধ্যে নাফিস টাইপ ছেলের অভাব নেই।

উদাসীন লিখেছেন:

সংস্কৃতি সতত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনই সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে যুগ যুগান্তরে, শতাব্দি কিংবা সহস্রাব্দান্তরে! পরিবর্তনকে মেনে নেয়াই উত্তম। তবে অবশ্যই যত্নের সাথে। পরম্পরা যথাসম্ভব রক্ষা করে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন ভাল বৈ খারাপ করবে না বলে আমার বিশ্বাস।

পরিবর্তন মানে কিন্তু অন্য দেশের কালচার সেলিব্রেট করা না। লাইক এবারের হেলইনে কিছু দেশী ভাই-বোন দের অবস্থা থেকে খুবই অবাক হয়েছি। যেখানে আমাদের সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই এই কালচারের সেখানে কোন দুঃখে আমরা এটা সেলিব্রেট করতে যাবো আমার মাথায়ই ঢুকছে না। আরো অবাক লাগে যখন দেখি হরিবল কস্টুমের সাথে একজোড়া দেশী স্যনডেল! মানে কতটা উদ্ভট হতে পারে আমাদের পরিবর্তন সেটাই ভাবার বিষয়। এমনকি আমেরিকার মাদার কালচার ব্রিটেন হবার পরেও কিন্তু শত বছর পরে এসেও আমেরিকানরা তাদের নিজেদের মতো কালচার বানিয়ে নিয়েছে। এমনকি ল্যংগুয়েজটাও তাদের নিজেদের মতো এভাবে পরিবর্তন করেছে যেটাকে এখন আরো ম্যচুর শোনায়। এটাকেই বলে পজেটিভ পরিবর্তন। যেটা করে একটা কালচার অগ্রসর হয়। এবং হতে হতে সেই কালচার অন্যসব কালচার থেকে নিজেকে ভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। আমার মনে হয়না সেটা আমাদের মতো অন্ধ ভক্তদের পক্ষে কখনও সম্ভব।

তাই যথাযোগ্য পরিবর্তন সাপেক্ষে আগলে রাখলে আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয় আরো মজবুত হতে বাধ্য! আমি দারুণ আশাবাদি এ ব্যাপারে!

ফিংগারস ক্রসড! 

@ছায়ামানব: সবই ঠিক ছিলো যদি জেনে বুঝে ফলো করতো। সমস্যা হচ্ছে বন্ধুরটা বন্ধু দেখে দেখে এমনভাবে ফলো করে যে ট্রেন্ডের আসল মানেই ভুলে যায়। প্রত্যেকটা কালচারাল ইভেন্টের পেছনে একটা জাতির ইতিহাস বা ঐতিহ্যের কিছু না কিছু লুকিয়ে থাকে। অনেক সময় লুকিয়ে থাকে কোনো লোককথা। এইসব না জেনে না বুঝে সেই সব জিনিশ ফলো করার চেষ্টা মহা বোকামি ছাড়া কিছুই না। কবে যে আমাদের দেশের লোকদের একটু আক্কেল হবে!?

আরো অবাক হই, এখানের বাংগালী ফ্রেন্ডরা থ্যংক্সগিভিং এ দেখি বিশাল টার্কি কিনে ফ্যমিলি নিয়ে বসে খায়। তারমানে শুধু তরূন সমাজ না এখানে বয়স্কদেরও হাত আছে। আমি ১০০% পার্সেন্ট বাজী ধরে বলতে পারি এরা থ্যংক্সগিভিং মানেই জানে না। এর পেছনের ইতিহাস জানা তো দূরের কথা। কি হাস্যকর আর কি লজ্জা যে লাগে এগুলো দেখলে  roll

আমাকে আমার টিচার প্রশ্ন করেছিলো কয়েকদিন আগে। আহমেদ তুমি কোন কালচার ফলো করো, যেহেতু তুমি দুটো ডিফরেন্ট কালচার কাছ থেকে দেখেছো। আমি খুব বলতে চেয়েছিলাম, আমি আমার নিজের কালচার ফলো করি। তবে ক্লাসের বাকি লোকজন অফেন্ডেড হতে পারে ভেবে চুপ ছিলাম এবং আরেক কথা বলে পাশ কাটিয়ে দিয়েছি। আমার পার্সোনাল বিশ্বাস হচ্ছে। কে কি করলো সেটার থেকে আমি কি করলাম সেটা দেখার বিষয়। একই কারণে কোনো কালচার, রিলিজিয়ন বা যে কোনো নর্মের সেট অফ বিলিফস থেকে আমি দূরে থাকতে পছন্দ করি। আমার নিজের নর্ম আমি সেট করবো। এবং সেটা করা হবে আমার জীবনের পার্সোনাল যেইসব লক্ষ্য সেগুলার ভিত্তিতে। কাউকে বা স্পিসিফিক কোনো নিয়ম ফলো করতে গেলে নিজের জীবন মনে হয় ষোলো আনাই মিছে। প্রত্যেকেরই উচিত যার যার জীবন নিয়ে ভাবা এবং এর একটা স্ট্যন্ডার্ড সেট করে নেয়া। তাহলে আমার মনে হয় পৃথিবীকে বেটার একটা প্লেস বানানোর উদ্দেশ্য সম্মিলিত একটা প্রচেষ্টা অটোমেটিকলি তৈরী হবে। তবে অবশ্যই লক্ষ্য গুলা যাতে ভালো হয় সেদিকে খেয়াল রাখাও জরূরী।

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন  thumbs_up

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

@মুজ্জি ভাই, ধন্যবাদ। আমিও মোটামুটি একই রকম চিন্তা থেকেই এটা লিখেছিলাম। smile
@বোরহান ভাই, ধন্যবাদ smile

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

@ছায়ামানব, দ্বিধা না করে যা লিখেছেন, দিয়ে ফেলুন। কোন অসুবিধা নাই! এই যে আপনি চিন্তা করছেন, এটাও একটা ইতিবাচক দিক। চিন্তাশীলতা তরুণ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। তখন আর পরিচয় সংকটে পড়তে হবে না কাউকে।

@মুজতবা, নাফিস টাইপের ছেলেরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট! এর দায়ও কিন্তু আমাদের। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। নৈতিকতার মূল পাঠটা তাদের অজানা থেকে গেছে। নমনীয় বলেই না চরমপন্থিরা তাদের চাহিদামত ছাঁচে ফেলতে পেরেছে। এখন সময় আমাদের এই ভাবটা থেকে বেরিয়ে এসে মেরুদণ্ডটা একটু শক্ত করে দাঁড়ানোর। আমরা যা, তা-ই নিয়েই আমাদের ভাল থাকতে হবে, সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অন্যের প্রগতি দেখে নিজের ক্রমশ প্রকট হতে থাকা হীনমন্যতাটা কাটিয়ে ওঠার আশু দরকার। আমরা কীভাবে স্বতন্ত্র হব? নিজের ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকলে নিজের তন্ত্রটা কীভাবে গড়ে উঠবে? অবশ্যই গাঁড়ল হতে হবে না; দরকার একটা সুষম ভারসাম্য। নিজের ওয়ে এবং অন্যের চলার ধরণের ভাল দিকটাকে সেঁচে তুলে কাজে লাগানো।

কালচারাল সেলিব্রেইটে কিন্তু সমস্যা তেমন একটা নেই। সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বন্ধনটা মজবুত করতে সহায়তা করে। বিনিময় কিন্তু ম্যাক্রো কিংবা মাইক্রো ওয়ার্ল্ডে একটা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক! বিনিময় ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। তবে, ক্যালাসলি সেটাকে অপব্যবহার না করাই উচিত। তোমার সাথে কিছুটা একমত; কিছু কিছু অত্যুতসাহি লোকজনের আচরণ সত্যিই হতাশাজনক। আ কাইন্ড অভ ফ্রান্টিক এন্ড মরানিক ওয়ে টু বি এমালগেমেইটেড উয়িথ দ্য মেইনস্ট্রিম! হা হা হা।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

গত শত বছরে আমাদের মাঝে নানার ধর্মের বর্ণের রংয়ের সাংস্কৃতির মিশ্রন ঘটছে। আমার তো মনে হয় এই বৈচিত্রটা আমাদের শক্তি। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। ভাষা পরিবর্তনশীল। এগুলিকে সহজ ভাবে নিতে হবে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে সেই পরিবর্তন হচ্ছে কি ভাবে? এটাই চিন্তার বিষয়।

এই ক্ষেত্রে দুটি বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার- অনুকরণ আর অনুসরণ।

অনুকরণ বাঁদরের স্বভাব। বাঁদরের খাচার সামনে  দাড়ালেই বেশ বুঝা যায়। আমাদের মাঝে বাঁদরীয় অনুকরণের মাধ্যমে পরিবর্তনের ঝোকটা বড্ড বেশি। এটাই চিন্তার। আহমাদ মুজতবা ভাই যেমন বললেন, থ্যাংকস গিভিং ডে এর মর্ম না বুঝেই সেখানে কেউ কেউ টার্কি নিয়ে বসে পরছেন। রবীন্দ্রনাথে চমৎকার বাংলার চেয়ে- টিভিতে দেখা যাইচি মামা, কড়ছি মামা, চলতিছে আমাদের বেশি কাছে টানছে। র আর ড় এর পার্থক্য তো তুলেই দিচ্ছি। হিন্দি ভাষায় কথা বলতে পারা বিরাট স্মার্টনেস। কেন? যেহেতু টিভিতে দেখে। বাস্তাবতা হচ্ছে আমাদের হিন্দি ভাষার প্রয়োগ ক্ষেত্র নেই বললেই চলে।

এই অনুকরণ ভিত্তিক পরিবর্তন আশঙ্ক জনক। আবার  আহমাদ মুজতবা ভাই এর সূত্র ধরে বলি- পরিবর্তন তো হবেই। কিন্তু সেটা ইতিবাচক ভাবে (উনার মতে আমেরিকা) হতে হবে।

আর একটা ফ্যাশন চালু হয়েছে, দেশ নিয়ে নেতি বাচক কথা বলা। এটা আমি কিছু তেই মেনে নিতে পারি না। আমার মা যদি মোটা, কালো, নোংরা, গরীব হয়। তাহলে আমি কি করব? তাকে ফেলে দিয়ে অন্য সুন্দর একজন মহিলাকে নিজের মা বলে দাবি করব? উনি স্বীকৃতি দিলে এটাই আমার আসল মা বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবো? না নিজের মায়ের যত্ন নিব, অন্যের ক্ষতি না করে?

চমৎকার গুছানো লেখায় খাপ-ছাড়া মন্তব্য করায় ক্ষমাপ্রার্থী। sad

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

কাহিনী হচ্ছে যে, পশ্চাদদেশের খাঁজ দেখানো প্যান্ট পরিহিত তরুণ-যুবকদের  দেখে আমার নিজেরই পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতি অভক্তি ধরে যায়। তবে খেয়াল করে দেখবেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোতেও উগ্র পোষাকধারীদেরকে বাঁকা চোখেই দেখা হয়। ভালো চোখে নয়। আমার মতে, সংস্কৃতির মিলন খারাপ নয়। তবে আমাদের সমস্যা হচ্ছে যে, অন্য সংস্কৃতির অস্বস্তিকর ব্যাপারগুলো ধারণ করার দিকেই আমাদের ঝোক বেশি thumbs_down
লেখা ভালো হয়েছে thumbs_up শুধু কিছু বানান ভুল সম্পাদণা করার দরকার।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১০-১২-২০১৩ ২৩:২৬)

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

প্রাথমিক পদার্থ বিজ্ঞান বলে, একাধিক জিনিসের সংঘর্ষ হলে প্রভাবশালীটাই অবশিষ্ট থাকবে। অন্যটা এর মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে। এটাই হল বিশ্বায়নের মন্দ পিঠ। দুখের কিন্তু বাস্তবতা হল এই যে বাঙালী সংস্কৃতি বিশ্বে প্রভাবশালী নয় কারন আমারা নিজেরাই বিশ্বে প্রভাবশালী নই। ব্যাপারটা নিতান্তই আর্থিক।  সংস্কৃতির দিকদিয়ে আমরা সবাই মিলে এটাকে প্রতিরোধ করলে এর ধারাটা হয়তো একটু মন্থর হবে কিন্তু থেমে যাবে না অথবা বদলাবেনা। অন্তে যা হওয়ার তাই হবে... প্রভাবশালীর জয়... পদার্থ বিজ্ঞানের জয়!

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ছায়ামানব (১২-১২-২০১৩ ১৬:২১)

Re: যত রঙ্গ বংগদেশে ০১- বাঙ্গালির পরিচয় সংকট

@আরণ্যক ভাই, দেশকে নিয়ে আমার কোন নেতিবাচকতা নেই; কিন্তু এই দেশের মানুষের মেন্টালিটি কিভাবে ঠিক করা যাবে বলতে পারেন?
@তাছেকা ভাই, দেখি সরদার ভাইরে বলতে হবে ভুল বানানগুলো শুদ্ধ করে যেন গোবা করে দেয় big_smile
@সদস্য_১ ভাই, দ্যা এন্ড ইজ ইমিনেন্ট sad

সবাইকেই ধন্যবাদ সুন্দর চিন্তাপূর্ণ কমেন্ট করার জন্য smile

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...