টপিকঃ চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

(১) বিবর্তনবাদ অনুযায়ী একটি প্রাণী থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে অন্য একটি প্রাণী এসেছে। মানে ভাল্লুক বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে তিমিতে রুপান্তরিত হয়েছে। এটা আমি বলছি না, এটা প্রজাতির উৎস বইতে ডারউইন লিখেছেন। তো এই বিবর্তন প্রক্রিয়াটা আবার খুবই ধীর গতিতে সম্পন্ন হয়। আপনি যদি কোনো বিবর্তনবাদীকে প্রশ্ন করেন, যে আপনি কেন কোনো প্রাণীর বিবর্তন প্রক্রিয়ার স্বাক্ষী হচ্ছেন না। তাহলে, সে বলবে- আপনার ছোট জীবন এই বিরাট প্রক্রিয়াটা দেখার জন্য যথেষ্ট নয়। মানে এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তো এই সময় সাপেক্ষ ব্যাপারটাতে থাকে একটা বিরাট পরিবর্তন কাল। ধরুন, এই পরিবর্তন কালের বিরাট সময়টা জুড়ে, ধীরে ধীরে শিকারের খোঁজে একটা ভাল্লুক পানিতে নামতে নামতে, অবশেষে নতুন একটা প্রজাতি ‘তিমি’ হয়ে গেল। কিন্তু এই মধ্যবর্তী সময়ে সে ছিল, না ভাল্লুক-না তিমি। বিবর্তন প্রক্রিয়াটা যেহেতু দীর্ঘ একটা অবিরাম প্রক্রিয়া, সেহেতু এই সময়ের মধ্যে উক্ত ভাল্লুকের নানা রূপ ধারণ করার কথা। এর ফলে ভাল্লুক আর তিমির মাঝামাঝি পর্যায়ের প্রচুর প্রাণীর জন্ম-মৃত্যু সংঘটিত হওয়ার কথা। বিবর্তনবাদীরাও এ ব্যাপারে একমত হবেন। তো যদি সত্যিই ব্যাপারটা এভাবে ঘটে থাকে, তাহলে প্রত্যেক প্রাণীর যোগফল মিলিয়ে তাঁরা সংখ্যা ও বৈচিত্রে হতো মিলিয়ন মিলিয়ন। আর কি আশ্চর্য! এখনো পর্যন্ত এমন একটা অদ্ভুত প্রাণীরও ফসিল রেকর্ড কোথাও নেই!!!!! তাহলে সব কি মারা যাওয়ার পর হাওয়া হয়ে গেছে?

(২) মানুষের প্রযুক্তিজ্ঞান অসাধারণ। জাদু শক্তিকেও হার মানায়। সাধারণভাবে আপনি ভাবতেই পারবেন না, যে একটা নভোযান কী করে চাঁদে চলে যায়। কী করে একটা বিমান আকাশে ঊড়ে। কী করে মানুষ মুঠোফোনে নাম্বার ডায়াল করে নির্দিষ্ট ব্যাক্তির সাথে কথা বলে। কী শক্তিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পড়েছে গোটা দুনিয়া। ভাবলে সবকিছুই জটিল লাগে। কিন্তু এর চেয়েও একটি জীবকোষের গঠন বেশি জটিল। প্রযুক্তির এই সোনালী সময়ে, পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ল্যাবরেটরীতেও অজৈব বস্তুগুলোকে এক করে একটা জীবকোষ তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ একটা জীবকোষ তৈরীতে প্রয়োজনীয় শর্তের পরিমান এত বিপুল, যে এটাকে যুগপৎ ঘটনায় সংঘটিত হওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া পাগলামী। একটি কোষের গঠন কাঠামোতে যেসব প্রোটিন ব্লক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাঁদের প্রতিটি অ্যাভারেজে ৫০০ অ্যামাইনো এসিড নিয়ে গঠিত। যুগপৎভাবে সংশ্লেষন প্রক্রিয়ায় সে প্রোটিনগুলোর তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা ১০৯৫০ ভাগের একভাগ। অথচ আমরা জানি গাণিতিকভাবে ১০৫০ ভাগের চেয়ে কম কিংবা ক্ষুদ্রতর যেকোনো সম্ভাবনা বাস্তবে অসম্ভব। তা ছাড়া কোষের কেন্দ্রে অবস্থিত ডিএনএ একটি অবিশ্বাস্য ডাটা ব্যাংক। ডিএনএ বংশগতির সব তথ্যাবলী বহন করে। গুনে দেখা গেছে, যে ডিএনএ তে যে পরিমাণ তথ্যাদি সংকলিত আছে তা যদি লিখে রাখার চেষ্টা করা হয়, তাহলে ৯০০ ভলিউম এনসাইক্লোপেডিয়ার এক বিশালাকায় লাইব্রেরী তৈরী করতে হবে। যেখানে প্রতি ভলিউম এনসাইক্লোপেডিয়ার জন্য ৫০০ পৃষ্ঠা বরাদ্দ থাকে। উল্লেখ্য ডিএনএ কেবলমাত্র বিশেষ ধরণের কিছু প্রোটিনের (এনজাইম) সহায়তায় বিভাজিত হয়। আবার এ এনজাইমগুলো সংশ্লেষনের মাধ্যমে তৈরী হওয়ার যাবতীয় তথ্যাদি ডিএনএ’র গায়ে সংকলিত থাকে। আর এই তথ্যাদি থেকেই সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াগুলো বুঝে নেওয়া যায়। তাই দেখা যাচ্ছে, দুটোই পরষ্পরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোষ বিভাজনের সময় তাঁদের এক সঙ্গে উপস্থিত থাকতে হবে। এ কারণেই প্রাণ নিজে থেকেই উৎপত্তি লাভ করবে- এমন কাল্পনিক সম্ভাবনাটি বালিত হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টিয়াগো ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবাদী অধ্যাপক রেসলি অরগেল, সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগজিনের ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রকাশনায় একটি প্রবন্ধে এ সত্যটি স্বীকারও করেন, যে- গঠনগতভাবে জটিল প্রোটিন ও অ্যামাইনো এসিড উভয়েই একই সময় একই জায়গা হতে উৎপন্ন হবে, এটা একেবারেই অসম্ভব। তার ওপর এদের একটি ছাড়া অন্যটির অস্থিত্বও অসম্ভব বলে মনে হয়। তাই প্রকৃতপক্ষে প্রাণ কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরী হতে পারতো না।

বিবর্তনবাদীরা এটার কী ব্যাখ্যা দেবেন?

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (০৬-১১-২০১৩ ১৯:৩১)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

১। এই প্রশ্নের জবাব প্রজন্ম ফোরামে আগেই দেওয়া হয়েছে
http://forum.projanmo.com/post457332.html#p457332
http://forum.projanmo.com/post457472.html#p457472
http://forum.projanmo.com/post467748.html#p467748

আরো বিস্তারিত জানতে পড়ুন "বিবর্তনের পথ ধরে; বন্যা আহমেদ; ফেব্রুয়ারি ২০০৭; অবসর, ঢাকা; প্রচ্ছদ: প্রতীক ডট ডিজাইন; ২৫৬ পৃষ্ঠা; "
http://mukto-mona.net/project/2007books/bonna_biborton_cover.jpg

২। বায়োলজির পড়ুয়া ছাত্ররা ভালো জবাব দিতে পারবে।

তাও প্রশ্নেরও হাল্কা জবাব প্রজন্ম ফোরামে আগেই দেওয়া হয়েছে
http://forum.projanmo.com/topic37941-p4.html
http://forum.projanmo.com/post106109.html#p106109

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এখনো পর্যন্ত এমন একটা অদ্ভুত প্রাণীরও ফসিল রেকর্ড কোথাও নেই!!!!! তাহলে সব কি মারা যাওয়ার পর হাওয়া হয়ে গেছে?

কে বলেছে এই ধরনের মিসিং লিঙ্ক নাই!!! এই লিঙ্কটা দেখেন - http://en.wikipedia.org/wiki/Archaeopteryx
আর্কিওপ্টেরিক্স হল ডাইনোসোর থেকে পাখিদের বিবর্তনের ধারার মিসিং লিঙ্ক। মানুষের বিবর্তনেরও এই রকম মিসিং লিঙ্ক পাওয়া যাবে। ফোরামে এই বিষয়ে অনেকগুলো টপিক আছে। কষ্ট করে একটু খুজে সেগুলো পড়ে নিন।

তাছাড়া একমাত্র ট্রানজিশনাল ফসিল বা মিসিং লিঙ্ক গুলোই একমাত্র বিবর্তনের সত্যতা প্রকাশ করেনা। এই মিসিং লিঙ্ক গুলোকে বাদ দিয়েও বিবর্তনকে সত্য বলে প্রমান করা যায়।

রাব্বি হোসেন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফয়সল সাইফ (০৬-১১-২০১৩ ১৯:৫৫)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

রাব্বি হোসেন লিখেছেন:
ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এখনো পর্যন্ত এমন একটা অদ্ভুত প্রাণীরও ফসিল রেকর্ড কোথাও নেই!!!!! তাহলে সব কি মারা যাওয়ার পর হাওয়া হয়ে গেছে?

কে বলেছে এই ধরনের মিসিং লিঙ্ক নাই!!! এই লিঙ্কটা দেখেন - http://en.wikipedia.org/wiki/Archaeopteryx
আর্কিওপ্টেরিক্স হল ডাইনোসোর থেকে পাখিদের বিবর্তনের ধারার মিসিং লিঙ্ক। মানুষের বিবর্তনেরও এই রকম মিসিং লিঙ্ক পাওয়া যাবে। ফোরামে এই বিষয়ে অনেকগুলো টপিক আছে। কষ্ট করে একটু খুজে সেগুলো পড়ে নিন।

তাছাড়া একমাত্র ট্রানজিশনাল ফসিল বা মিসিং লিঙ্ক গুলোই একমাত্র বিবর্তনের সত্যতা প্রকাশ করেনা। এই মিসিং লিঙ্ক গুলোকে বাদ দিয়েও বিবর্তনকে সত্য বলে প্রমান করা যায়।

হাহ হাহ হা, দুজনকেই ধন্যবাদ।

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

হাহ হাহ হা,

আমার পোস্টে কোন জোকস শেয়ার করেছি বলে তো মনে হয় না।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:
ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

হাহ হাহ হা,

আমার পোস্টে কোন জোকস শেয়ার করেছি বলে তো মনে হয় না।

আমি কী সেটা বলেছি? আপনার আন্তরিকতা প্রশংসার দাবী রাখে। নিজে থেকেই তো বেশ কিছু লিঙ্ক দিলেন। আমি পড়ার চেষ্টা করছি। আমি হেসেছি আসলে অন্য কারণে। যেমন-ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টিয়াগো ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবাদী অধ্যাপক রেসলি অরগেল, সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগজিনের ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রকাশনায় একটি প্রবন্ধে এ সত্যটি স্বীকারও করেন, যে- গঠনগতভাবে জটিল প্রোটিন ও অ্যামাইনো এসিড উভয়েই একই সময় একই জায়গা হতে উৎপন্ন হবে, এটা একেবারেই অসম্ভব। তার ওপর এদের একটি ছাড়া অন্যটির অস্থিত্বও অসম্ভব বলে মনে হয়। তাই প্রকৃতপক্ষে প্রাণ কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরী হতে পারতো না। ------প্রাণের একেবারেই সুচনা কালে প্রাণ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? যদি সৃষ্টিই অসম্ভব হয়, বিবর্তনের মাধ্যমে একটা প্রজাতি থেকে আর একটা প্রজাতিতে পরিবর্তন তো পরের কথা।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (০৬-১১-২০১৩ ২০:২৫)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগজিনের ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রকাশনায় বলা হয় প্রকৃতপক্ষে প্রাণ কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরী হতে পারতো না। ----

২০ বছর তথ্য। এখন প্রাণী বিজ্ঞান কোথায় আছে তা শেয়ার করলে ভালো হতো।

আসলে বিজ্ঞান এখনো অনেক তথ্যের সঠিক জবাব দিতে পারে নাই। তাই বলে এখন বিজ্ঞান যার জবাব দিতে পারে না তাই আলৌকিক তা বলা যায় না। এই নিয়ে অসাধারণ একটি লেখা পড়তে পারেন নাটক: সবই ঈশ্বরের কারসাজি

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০৬-১১-২০১৩ ২২:০৬)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

তো যদি সত্যিই ব্যাপারটা এভাবে ঘটে থাকে, তাহলে প্রত্যেক প্রাণীর যোগফল মিলিয়ে তাঁরা সংখ্যা ও বৈচিত্রে হতো মিলিয়ন মিলিয়ন। আর কি আশ্চর্য! এখনো পর্যন্ত এমন একটা অদ্ভুত প্রাণীরও ফসিল রেকর্ড কোথাও নেই!!!!! তাহলে সব কি মারা যাওয়ার পর হাওয়া হয়ে গেছে?

তাহলে উইকীতে মনে হয় দুনিয়ার সব গাঁজাখোরের আড্ডা  big_smile
http://i.imgur.com/m0ovixJ.png

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

...এ কারণেই প্রাণ নিজে থেকেই উৎপত্তি লাভ করবে- এমন কাল্পনিক সম্ভাবনাটি বালিত হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টিয়াগো ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবাদী অধ্যাপক রেসলি অরগেল, সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগজিনের ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রকাশনায় একটি প্রবন্ধে এ সত্যটি স্বীকারও করেন, যে- গঠনগতভাবে জটিল প্রোটিন ও অ্যামাইনো এসিড উভয়েই একই সময় একই জায়গা হতে উৎপন্ন হবে, এটা একেবারেই অসম্ভব। তার ওপর এদের একটি ছাড়া অন্যটির অস্থিত্বও অসম্ভব বলে মনে হয়। তাই প্রকৃতপক্ষে প্রাণ কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরী হতে পারতো না।

বিবর্তনবাদীরা এটার কী ব্যাখ্যা দেবেন?

আপনি দু'টো ভিন্ন ডিসিপ্লিন গুলিয়ে ফেলেছেন। বিবর্তন শুধুমাত্র বায়োস্ফীয়ার তথা জীবজগৎের ক্রমপরিবর্তন ব্যাখ্যা করে। প্রাণের উদ্ভব নিয়ে মাথা ঘামায় না বিবর্তন। abiogenesis বা অজৈব পদার্থ থেকে প্রাণের উৎপত্তি বিবর্তনের আওতার বাইরে - প্রাণ সৃষ্টি হবার পর থেকেই বিবর্তনের মেশিন চালু হয়েছে। প্রাণের উদ্ভব হলো মূলতঃ এক্সোবায়োলজী/এ্যাস্ট্রোবায়োলজীর গবেষণার বিষয়। exobiology ও evolutionary biology-র মধ্যে সম্পর্ক অনেকটা রিলে রেসের মত। exobiology-তে প্রাণের উদ্ভব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে, তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যার দায়িত্ব চলে যাচ্ছে বিবর্তনের কাঁধে। প্রাণ যেভাবেই সৃষ্টি হোক না কেন, বিবর্তন সুপ্রতিষ্ঠিত।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

...এ কারণেই প্রাণ নিজে থেকেই উৎপত্তি লাভ করবে- এমন কাল্পনিক সম্ভাবনাটি বালিত হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টিয়াগো ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবাদী অধ্যাপক রেসলি অরগেল,

কিছু তথ্যগত ভুলঃ
UCSD = University of California @ San Diego
Santiago = চিলির রাজধানী (এটার উচ্চারণ সম্ভবতঃ সানতিয়ায়ো... স্প্যানিশ-ভাষীদের উচ্চারণরিতী ভিন্ন) University of Santiago, Chile
প্রফেসর লেসলী ওরগেল (১৯২৭ - ২০০৭)

পিএসঃ নাইক/ইয়াহিয়া আল্লামাগণের ঐশী রেফারেন্সসমূহ অনুবাদ করার আগে অনুগ্রহ করে একটু ডাবল-চেক করে নিলে ক্ষতি নেই। ওসব ম্যাটেরিয়াল এমনিতেই আউটডেটেড, তারওপর ঢালিউড স্টাইলের মাল্টিলেভেল কপিপেস্টিং (হলি -> বলী -> ঢালীউড) করতে গিয়ে বানান, নাম, পাত্র-পাত্রী গড়বড় হয়ে যায়... ক্যাথলিক বিল ক্রেগ, কেন হ্যাম, ফ্যালওয়েল, প্ল্যাণ্টিংগা প্রমুখ এসব "ফাঁকফোকর" আবিষ্কার করেন, আর সেগুলোকে কপি করে খৃস্টান রেফারেন্স কাট করে ইসলামী লেবাস পরান ইয়াহিয়া/নাইক/হামযা যরটিস গ্রুপ। এই ফোরামেই মহাবিজ্ঞানী নাঈক সাহেবের "ক্যালট্রপিকস" দ্বীপে ডারউইন বিষয়ে মারামারি টপিক আছে।  big_smile

সে যাকগে, Origin of Life ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং বিষয়। এটা বেশ গভীর একটি সাবজেক্ট - যদিও দুঃখজনকভাবে বেশিরভাগই স্পেকুলেটিভ - কারণ ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে প্রাণের উদ্ভব দেখার জন্য কেউ ছিলো না। তবে সাম্প্রতিককালে ডিএনএ, আরএনএ এ্যানালাইসিস, কম্পিউটার সিমুলেশন ইত্যাদি প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ায় বেশ দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে এই ডিপার্টমেন্ট।

প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হলো তা নিয়ে প্রচুর হাইপোথিসিস আছে। মূলধারার দু'টো তত্ব সংক্ষেপেঃ
metabolism first model - সোভিয়েত বিজ্ঞানী আলেক্সাণ্ডার ওপারিনের মতে বিপাককৃয়া অর্থাৎ তাপ কিংবা রাসায়নিক শক্তিকে ATP-তে পরিণত করে ব্যবহার করতে গিয়ে প্রথম প্রাণ উদ্ভব হয়েছিলো। ফৃম্যান ডাইসনের গারবেজ ব্যাগ হাইপোথিসিসটাও এটার রুপান্তরিত ভার্সন।

replication first model - এই মডেলের লোকজন বলেন অর্গানিক মলিকিউলগুলো প্রথমে নিজেকে ক্লোন করেছিলো, তাদের থেকেই প্রাণের সৃষ্টি হয়। যেমন লেসলী ওরগেলের RNA world থিওরী - তাঁর মতে RNA অণু বা তার কোনো পূর্বসুরী  নিজেকে ক্লোন করতে পারে এমন কেমিকেলের মলিকিউলের আবির্ভাবের মাধ্যমে প্রাণের উদয় হওয়া শুরু করে।

তবে ২০১৩ সাল আর ১৯৯৪ সালের মধ্যে অনেক তফাৎ। এখন পৃথিবীর কোথায় প্রাণের প্রথম উদ্ভব হয়েছিলো তাও বিজ্ঞানীরা জানছেন - সবচাইতে সম্ভাবনাময় সোর্স হলো গভীর সমুদ্রতলের হাইড্রোথার্মাল ভেণ্ট সিস্টেম আগ্রহীরা Brian Cox-এর Wonders of Life ডকু সিরিজের প্রথম এপিসোডটি দেখতে পারেন। অসাধারণভাবে ব্যাখ্যা করেছে প্রাণ উদ্ভবের সম্ভাব্য বায়োফিজিকাল মেকানিজম - ভেণ্টগুলোর ভেতরের অম্লীয় ও চারপাশের ক্ষারকীয় সামুদ্রিক জলের কারণে সৃষ্ট প্রোটন গ্রেডিয়েণ্টের দ্বারা কিভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়, এবং এই কেমিস্টৃর বিক্রিয়ার ফলে কিভাবে ভবিষ্যৎে প্রাণের উদ্ভব হতে পারে, চমৎকারভাবে ডেমোনস্ট্রেট করেছিলো ওটাতে। হয়তো কোনোদিনই আমরা প্রাণের উৎপত্তির রহস্য একেবারে নিঁখুতভাবে ভেদ করতে পারবো না, তবে বেশ কিছু ক্লু উদঘাটিত হচ্ছে যার মাধ্যমে কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া edge.org-এ ফৃম্যান ডাইসন, ক্রেইগ ভেণ্টার ও অন্যান্য নামকরা বিজ্ঞানীদের মধ্যে অরিজিন অব লাইফ নিয়ে চমৎকার আলোচনার কিছু অডিও+টেক্সট সিরিজ পাবেন।

Calm... like a bomb.

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আপনি যদি কোনো বিবর্তনবাদীকে প্রশ্ন করেন, যে আপনি কেন কোনো প্রাণীর বিবর্তন প্রক্রিয়ার স্বাক্ষী হচ্ছেন না। তাহলে, সে বলবে- আপনার ছোট জীবন এই বিরাট প্রক্রিয়াটা দেখার জন্য যথেষ্ট নয়।

ভুল!

ক্ষেত্র বিশেষে বিবর্তন/সার্ভাইবাল অব ফিটেস্ট এর প্রমান আমাদের এক জীবনেই দেখতে পারি। যেমন পেনিসিলন ব্যাকটেরিয়া মারে, মিউটেশনের জন্য ১% বা তারও কিছু কম ব্যাকটেরিয়া বেচে য়ায়। সেই ১% থেকে জন্ম নেয় পরবর্তী বিবর্তীত ব্যাকটেরীয়া প্রজন্ম যাদের ঐ পেনিসিলন আর মারতে পারেনা। এই পোস্ট দেখুন এবং ঐ পেইজে পরের পোস্টে  বনী ব্যাযলারের এর ভিডিওটা দেখুন।


এবার একটা ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার আগের বাসার কিচেনে অতি ছোট লালচে রঙের এক ধরেনের তেলেপোকা ছিল। গ্লু, বরিকপাউডার/বিষ সব ব্যাবহার করে লাভ হয়নি। যত মারা যায় তারচেয়ে বেশী তেলেপোকা জন্ম নেয়। শেষে অন্য এক ঔষধ আনলাম। ঔষধটা সরাসরি বিষ নয়, বরং তেলেপোকাদের মধ্যে একধরনের সংক্রামক ব্যাধি ছড়ায় (অবশ্যই এটা মানুষ কে আক্রান্ত করেনা) লাভ হল এই যে সব তেলেপোকার ঔষধটা খাওয়া বা সংস্পর্সে আসার প্রয়োজন হয়না। যেকোন দুএকটা তেলেপোকার সংস্পর্সে আসলেই হল। ঐ আক্রান্ত তেলেপোকা বাসায় গিয়ে অন্য তেলেপোকাকে সংক্রামিত করে। সব ছোয়চে রোগে আক্রান্ত হয়ে মাড়া যায়। চমৎকার আইডিয়া। প্রথমবার ঔষধটা ব্যাবাহার করার পর ফলাফল অভাবনীয়। দুদিনের মধ্যেই সমস্ত তেলেপোকা ছাফ! আমি তো খুশিতে আটখানা। তিন চারমাস পর আবার কিছু তেলেপোকা দেখতে শুরু করলাম। আমি লক্ষ করলাম তেলেপোকাগুলোর রং একটু অন্য ধরনের একটু কালচে। আবার ঔষধটা আনলাম। কিন্তু আশ্চর্য় হয়ে দেখলাম সেই ঔষধে ওদের কিছুই হয় না! এরাই হল পরবর্তী প্রজন্ম! বিবর্তীত প্রজন্ম! এই বদলটা দেখতে আমাকে লক্ষ বছর অপেক্ষা করেত হয়নি। বরং কয়ে মাস মাত্র।



ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ল্যাবরেটরীতেও অজৈব বস্তুগুলোকে এক করে একটা জীবকোষ তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে না।

আবারো ভুল!

আর্টিফিসিয়াল সেল তৈরী করা হয়েছে অনেই আগেই (৪ বছর আগের খবর)
হাসপাতালে বিশেষ ক্ষেত্রে কৃতিম রক্ত ব্যাবহার করা হয় অনেক আগে থেকেই।

উইকি লিখেছেন:

there are widely available non-blood volume expanders for cases where only volume restoration is required. These are helping doctors and surgeons avoid the risks of disease transmission and immune suppression, address the chronic blood donor shortage

সম্প্রতি রুমানিয়ার কয়েকজন বিজ্ঞানী ঘোষনা দিয়েছেন তারা পার্শপতিকৃয়া বিহীন সাধারন রক্ত সিনথেসিস করে ফেলেছেন! wink


মানছি এ ব্যাপারে টেকনোলজী এখনো শিশু পর্যায়ে। হুক সাহেব সেল ডিস্কভার করেছেন মাত্র তি'শ বছর হল। বিবর্তনের টাইম ফ্রেমে এটা কয়েক সেকেন্ডও না। আরো দুএক সেকেন্ড সময় দিন তারপর দেখুন কি হয়।

১০

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

invarbrass লিখেছেন:

দুনিয়ার সব গাঁজাখোরের আড্ডা

না না, কে বলল? ওখানে সবাই মধু খায়। গাঁজা টানতে যাবে কেন?



invarbrass লিখেছেন:

আপনি দু'টো ভিন্ন ডিসিপ্লিন গুলিয়ে ফেলেছেন।

দুটো গুলিয়ে ফেলার তো কারণ দেখি না। ১-২ পয়েন্ট দিয়ে আলাদা আলাদাই তো রেখেছি। তা ছাড়া দুটোর মধ্যে সম্পর্ক আছে। একটা হলো বিবর্তনের ধারা; যেটা প্রজাতির বৈচিত্রের জন্য ইশ্বরের প্রয়োজন মনে করে না। আর একটা হলো প্রাণের সৃষ্টি; এটাও জীবনের জন্য ইশ্বরের প্রয়োজন মনে করে না। দুটো তো কাছাকাছি। একটার সমাধান টানতে হলে আর একটা প্রশ্ন আসবেই।

invarbrass লিখেছেন:

প্রাণ যেভাবেই সৃষ্টি হোক না কেন, বিবর্তন সুপ্রতিষ্ঠিত।

তাল গাছটা আপনার। ঢাল বানানো যায় বলে, একটা থিওরি নিয়ে এত লাফালাফি।


invarbrass লিখেছেন:

কিছু তথ্যগত ভুলঃ
UCSD =http://www.ucsd.edu/]University of California @ San Diego
Santiago = চিলির রাজধানী (এটার উচ্চারণ সম্ভবতঃ সানতিয়ায়ো... স্প্যানিশ-ভাষীদের উচ্চারণরিতী ভিন্ন)


ধন্যবাদ, শেখার কোনো শেষ নাই। ভাল লাগল।

invarbrass লিখেছেন:

সে যাকগে, Origin of Life ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং বিষয়। এটা বেশ গভীর একটি সাবজেক্ট - যদিও দুঃখজনকভাবে বেশিরভাগই স্পেকুলেটিভ - কারণ ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে প্রাণের উদ্ভব দেখার জন্য কেউ ছিলো না। তবে সাম্প্রতিককালে ডিএনএ, আরএনএ এ্যানালাইসিস, কম্পিউটার সিমুলেশন ইত্যাদি প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ায় বেশ দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে এই ডিপার্টমেন্ট।

এই ডিপার্টমেন্টের প্রতি সব সময়ের জন্য শুভকামনা রইল। যদি ভাল কিছু দিতে পারে, আমাদের বিশ্বাস ঘুরিয়ে দিতে পারে তো স্বাগতম। 

invarbrass লিখেছেন:

replication first model - এই মডেলের লোকজন বলেন অর্গানিক মলিকিউলগুলো প্রথমে নিজেকে ক্লোন করেছিলো, তাদের থেকেই প্রাণের সৃষ্টি হয়। যেমন লেসলী ওরগেলের RNA world থিওরী - তাঁর মতে RNA অণু বা তার কোনো পূর্বসুরী  নিজেকে ক্লোন করতে পারে এমন কেমিকেলের মলিকিউলের আবির্ভাবের মাধ্যমে প্রাণের উদয় হওয়া শুরু করে।

মনে করতেন, মনে করা হয়, সবই থিওরি। তিনি কী এটা ল্যাবরেটরীতে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন?

invarbrass লিখেছেন:

তবে ২০১৩ সাল আর ১৯৯৪ সালের মধ্যে অনেক তফাৎ। এখন পৃথিবীর কোথায় প্রাণের প্রথম উদ্ভব হয়েছিলো তাও বিজ্ঞানীরা জানছেন - সবচাইতে সম্ভাবনাময় সোর্স হলো গভীর সমুদ্রতলের হাইড্রোথার্মাল ভেণ্ট সিস্টেম

আবারো সেই সম্ভাবনাময় সোর্স। মানে হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।

invarbrass লিখেছেন:

আগ্রহীরা Brian Cox-এর Wonders of Life ডকু সিরিজের প্রথম এপিসোডটি দেখতে পারেন। অসাধারণভাবে ব্যাখ্যা করেছে প্রাণ উদ্ভবের সম্ভাব্য বায়োফিজিকাল মেকানিজম - ভেণ্টগুলোর ভেতরের অম্লীয় ও চারপাশের ক্ষারকীয় সামুদ্রিক জলের কারণে সৃষ্ট প্রোটন গ্রেডিয়েণ্টের দ্বারা কিভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়, এবং এই কেমিস্টৃর বিক্রিয়ার ফলে কিভাবে ভবিষ্যৎে প্রাণের উদ্ভব হতে পারে, চমৎকারভাবে ডেমোনস্ট্রেট করেছিলো ওটাতে।

ভাই কয়েকটা ছবি এঁকে প্রাণের অস্থিত্ব প্রমাণ বা এই ধরণের সিরিজ দেখে অনেক মজা পাওয়া যায়। কিন্তু সেটা সত্যের মাপকাটি হতে পারে না। 

invarbrass লিখেছেন:

হয়তো কোনোদিনই আমরা প্রাণের উৎপত্তির রহস্য একেবারে নিঁখুতভাবে ভেদ করতে পারবো না, তবে বেশ কিছু ক্লু উদঘাটিত হচ্ছে যার মাধ্যমে কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে।

এই তো আসল কথায় এলেন। আসলে ভাই খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব তাঁর পির্তৃ বা  শৈশবের বিশ্বাস বা ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারা। পারিপার্শ্বিকতার শিক্ষা এড়ানো মানুষের পক্ষে এভারেস্ট জয়ের চেয়েও কঠিন। কেউ কারো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় না। আপনার ক্ষেত্রেও আমি সেটা আশা করছি না। আপনার ক্ষেত্রে আপনি সম্ভাবনাকেও ১০০% সত্যের মাপকাটিতেই রেখে চলবেন। আমি দেখেছি যে বিএনপি সে বিএনপিই, যে আওয়ামীলীগ সে আওয়ামীলীগই, যে ওয়াহাবী সে ওয়াহাবীই, যে সুন্নি সে সুন্নিই; এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে, আমি সব সময় চেষ্টা করি, নিজের ভেতরের কথাটি শুনতে।

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Ovi bd (০৭-১১-২০১৩ ১৩:১৯)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ vai,  সদস্য_১ O invarbrass - er kotha sune kono love nai. valo korecen সদস্য_১ er kothar reply na diye. ar bighanira sob kafer tai tader kothar kono dam nai.

আল্লাহ তা‘আলা এদের কে বলছেন, صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لاَ يَعْقِلُوْنَ ‘তারা বধির, মূক, অন্ধ, সুতরাং তারা বুঝে না’ (বাক্বারাহ ১৭১)

১২

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

অফটপিকঃ নতুন ট্রলের আমদানী দেখিয়া যারপরণাই মজা লাগিতেছে  lol2 lol2

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (০৭-১১-২০১৩ ১৬:৪৮)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

গঠনগতভাবে জটিল প্রোটিন ও অ্যামাইনো এসিড উভয়েই একই সময় একই জায়গা হতে উৎপন্ন হবে

তাই নাকি আপনি নিজেই শুরুতে লিখলেন আ্যমিনো এসিড হলো প্রোটিনের বিল্ডিং ব্লক আবার নিজেই দুইটার মধ্যে গুলিয়ে ফেলছেন। আমাদের সেল নিজে এ্যমিনো এসিড বানানো ছাড়াও খাবার থেকে পেতে পারে। নট নেসেসারিলি যে রাইবোসমই সব এমিনো এসিড বানায়। যাই আপনার উইকি বায়োলজীর ডিস্ক্রেপেন্সি ছাড়াও আপনি কি বলতে চেয়েছেন সেটা কোনো মতে বুঝা যাচ্ছে।

এ কারণেই প্রাণ নিজে থেকেই উৎপত্তি লাভ করবে- এমন কাল্পনিক সম্ভাবনাটি বালিত হয়ে যায়।

কাল্পনিক? এক্সকিউস মি! সায়েন্সে কাল্পনিক কিছু নেই। একসময় হয়তো ইনটুইটিভলি অনেক সায়েন্টিস্ট নিজের থিওরী প্রকাশ করতেন, ইভেন এই কারণে অনেকেই ভয়ংকর ভাবে সমাজে রিজেক্টেড হয়েছেন। তবে সেই গল্প আজ ইতিহাস। এখন বাচ্চা ছেলেরাই সায়েন্সের গুরূত্বপূর্ণ আবিষ্কারে ভূমিকা রাখছে। এইতো কয়েকদিন আগেই প্যনক্রিয়েটিক ক্যন্সার সনাক্ত করার একটা সহজ এবং সস্তা উপায় বের করেছে মিশিগানের এক টিনেজার। এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো ক্যন্সারের কিওর বের হয়ে যাবে আশা করা যাচ্ছে। এই যুগে বসে যদি আপনি ১৯৯৪ সালে ক্যলিফোর্নিয়ার প্রফেসরের উক্তি নিয়া লাফালাফি করেন কাজ হবে?

তবে আপনার রিসেন্ট সব টপিক গুলো দেখে মনে হচ্ছে আপনি ভাবছেন বিবর্তনবাদ একটা থিওরী তাই বলে এটা কাল্পনিক বা এটার কোনো সত্যতা নেই।  ওয়েইট! এটা শুধু আপনিই না এটা বড়ো বড়ো ভেটেরান মুসলীম বিবর্তনবাদীরা বলে থাকেন (জোক).. আফসোস এরা কেউই মনে হয় কোনো দিন থিওরী এর ডেফিনেশনটাই পড়ে দেখার সময় পান নাই:

A scheme or system of ideas or statements held as an explanation or account of a group of facts or phenomena; a hypothesis that has been confirmed or established by observation or experiment, and is propounded or accepted as accounting for the known facts; a statement of what are held to be the general laws, principles or causes of something known or observed. (Oxford English Dictionary, 1961; [emphasis added]).

থিওরী এবং ল' এর মধ্যে ডিফরেন্স নিয়ে আরেকটু পড়াশোনা করেন দাদা কাজে দিবে smile

এনিওয়েইজ, এখানে কল্পনার কিছু নাই বা তাল গাছেরও কিছু নাই, সায়েন্টিফিক প্রেডিকশনের দাপটেই আজ আমরা এতদূর এগিয়েছি। সুতরাং সায়েন্টিস্টরা যদি (বাই দ্য স্লাইটেস্ট চ্যন্স) ভুল কিছুও প্রেডিক্ট করে বা কনফার্ম করে সেটাই আপাতত মেনে নিতে হবে। আনলেস আপনি নিজে একজন সায়েন্টিস্ট হয়ে সেটার এগেইনস্টে থিওরী না দিচ্ছেন। ওহ, সেক্ষেত্রে একটা ফ্রি নোবল প্রাইজ ধরে রাখুন  smile

মানে হচ্ছে, বর্তমান যুগের ৯৯ ভাগ বায়োলজিস্ট বিবর্তন বাদে বিশ্বাসই করেন না শুধু, এরা বিবর্তন বাদ নিয়েই কাজ করেন গবেষনা করেন বলেই আমরা জেনেটিক এনজিয়ারিং এ এতদূর এগুতে পেরেছি। এবং এর কল্যাণেই হয়তো আমরা নিকট ভবিষ্যতে ভয়ংকর কিছু ডিজিস ম্যনিপুলেট করে নিজেদের নিত্য দিনের সংগী বানিয়ে ফেলতে পারবো। আরেকটু আপ-টু-ডেট সায়েন্স নিউজ গুলো পড়লেই চোখ খুলে যাবে।

আমিও ৩/৪ বছর আগে বায়োলজীর বিভিন্ন সাব-ডিভিশন নিয়ে খুবই বিস্মিত ছিলাম। এখন বিস্ময় মেটাফিজিক্স নিয়ে, কসমোলজী নিয়ে। কোষ বানানোর থেকে আরো কঠিন হচ্ছে একটা এটম বানানো। ফান্ডামেন্টালী আসলে পৃথিবীতে কোনো এম্পটি স্পেইস নেই আবার সব কিছুই এম্পটি। আপনি আমি যেইসব জায়গায় শূণ্য দেখী সেখানে সর্বদা বিরাজমান এনার্জি ফিল্ড, কোর্কস, লেপটন এবং আরো বিভিন্ন ফোর্স। যা হিগস বোসন ফিল্ডের কারণে ম্যস পাবার ফলে আমরা দেখতে পারি বা অনুভব করতে পারি। এই শূণ্যতাই যদি নিজে থেকে শুরু হতে পারে আর কোষ শুরু হওয়া তো তেমন কোনো কো-ইন্সিডেন্সই না!!

অপেক্ষা করূন সায়েন্সের বিস্ময় আরো আসছে, ইভেন সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে যে সব ল' এবং থিওরী ঢালাও করে লেখা লাগবে ভেরী সুন যদি স্ট্যন্ডার্ড মডেলের সত্যতা না পাওয়া যায়.. আর সেক্ষেত্রে হিউম্যন বিইং ক্যন স্টেপ ইনটু আ ডিফরেন্ট রিয়ালিটি.. হু নউস, হ্যভেন?  tongue

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

১৪

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

ঢাল বানানো যায় বলে, একটা থিওরি নিয়ে এত লাফালাফি।

বিবর্তনবাদ কোন থিওরী না। এইটা সায়েন্সের একটা সুপ্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্ট।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

ভাই কয়েকটা ছবি এঁকে প্রাণের অস্থিত্ব প্রমাণ বা এই ধরণের সিরিজ দেখে অনেক মজা পাওয়া যায়। কিন্তু সেটা সত্যের মাপকাটি হতে পারে না।

আমি বাজী ধরে বলতে পারি আপনি সিরিজটা দেখেন নাই। দেখলে কথাটা এভাবে বলতে পারতেন না। আগে সিরিজটা দেখুন। সেখানে আপনার দুইটা প্রশ্নেরই উত্তর পাবেন। প্রানের উৎপত্তি থেকে বিবর্তন পর্যন্ত অনেক বিষয়েই এই সিরিজে ক্লিয়ার ধারনা দেয়া হয়েছে।

রাব্বি হোসেন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

রাব্বি হোসেন লিখেছেন:

বিবর্তনবাদ কোন থিওরী না। এইটা সায়েন্সের একটা সুপ্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্ট।

এটা অবশ্যই একটা থিওরী; বিগ-ব্যং এবং থিওরী অফ রিলেটিভিটির মতই, সমস্যা হচ্ছে মানুষ বাকি দুইটা জিনিশ নিয়ে মাথা ঘামায় না কারণ বাকি দুইটা খুব এটা ইনসল্টিং না। এভ্যুলুশনের কথা আসলেই থিওরীর ডেফিনেশন যে যার মতো মডিফাই করা শুরু করেন কারণ এটা শুনতে কষ্ট লাগে যে আমরা শিম্পের সাথে ডিএনএ স্ট্রাকচার শেয়ার করি  hehe সত্য বড়ই কঠিন

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

ভাই কয়েকটা ছবি এঁকে প্রাণের অস্থিত্ব প্রমাণ বা এই ধরণের সিরিজ দেখে অনেক মজা পাওয়া যায়। কিন্তু সেটা সত্যের মাপকাটি হতে পারে না।

ধর্ম বা ইশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য ।

Life IS Neither TEMPEST, NOR A midsummer NIGHT'S DREAM, BUT A COMEDY OF Errors,
ENJOY AS U LIKE IT

১৭

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

এটা অবশ্যই একটা থিওরী

আমিও এটাকে থিওরী হিসেবেই বিশ্বাষ করি। তবে এটা একটা সুপ্রতিষ্ঠিত থিওরী। অনেক সময় ক্রিয়েশনিস্টরা এই ধরনের মিথ সৃস্টি করে যে, " বিবর্তনবাদ স্রেফ একটা থিওরী। এটা সত্য হবার কোন কারন নেই।"
উনিও ঠিক ক্রিয়েশনিস্টদের এঙ্গেল থেকে এটাকে থিওরী বলে তুচ্ছ করছিলেন। আগের কথাটা একারনেই বলা।

রাব্বি হোসেন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

কাল্পনিক? এক্সকিউস মি! সায়েন্সে কাল্পনিক কিছু নেই।

ওহ, তাই? জানতাম না সায়েন্সে সবকিছুই যে সত্য। আমি আরো শুনেছিলাম, এরিস্টটলের ভূল কল্পনাগুলো পরবর্তীতে গ্যালিলিও-কোপার্নিকাসরা সঠিক করে দিয়েছিলেন। আসলে জানি না।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

এই যুগে বসে যদি আপনি ১৯৯৪ সালে ক্যলিফোর্নিয়ার প্রফেসরের উক্তি নিয়া লাফালাফি করেন কাজ হবে?

এটা ক্যালিফোর্নিয়ার প্রফেসরের উক্তি ছিল না, আর গবেষণাটিও তিনি করেন নি। তিনি এটা মানতে বাধ্য হয়েছিলেন।

১৯

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

@ফয়সল সাইফ
সদস্য_১ এর জবাবের পরে কি এখনো বিবর্তনবাদ নিয়ে আপনার মনে কোন সন্দেহ আছে ?

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

২০

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

সদস্য_১ লিখেছেন:

এবার একটা ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার আগের বাসার কিচেনে অতি ছোট লালচে রঙের এক ধরেনের তেলেপোকা ছিল। গ্লু, বরিকপাউডার/বিষ সব ব্যাবহার করে লাভ হয়নি। যত মারা যায় তারচেয়ে বেশী তেলেপোকা জন্ম নেয়। শেষে অন্য এক ঔষধ আনলাম। ঔষধটা সরাসরি বিষ নয়, বরং তেলেপোকাদের মধ্যে একধরনের সংক্রামক ব্যাধি ছড়ায় (অবশ্যই এটা মানুষ কে আক্রান্ত করেনা) লাভ হল এই যে সব তেলেপোকার ঔষধটা খাওয়া বা সংস্পর্সে আসার প্রয়োজন হয়না। যেকোন দুএকটা তেলেপোকার সংস্পর্সে আসলেই হল। ঐ আক্রান্ত তেলেপোকা বাসায় গিয়ে অন্য তেলেপোকাকে সংক্রামিত করে। সব ছোয়চে রোগে আক্রান্ত হয়ে মাড়া যায়। চমৎকার আইডিয়া। প্রথমবার ঔষধটা ব্যাবাহার করার পর ফলাফল অভাবনীয়। দুদিনের মধ্যেই সমস্ত তেলেপোকা ছাফ! আমি তো খুশিতে আটখানা। তিন চারমাস পর আবার কিছু তেলেপোকা দেখতে শুরু করলাম। আমি লক্ষ করলাম তেলেপোকাগুলোর রং একটু অন্য ধরনের একটু কালচে। আবার ঔষধটা আনলাম। কিন্তু আশ্চর্য় হয়ে দেখলাম সেই ঔষধে ওদের কিছুই হয় না! এরাই হল পরবর্তী প্রজন্ম! বিবর্তীত প্রজন্ম! এই বদলটা দেখতে আমাকে লক্ষ বছর অপেক্ষা করেত হয়নি। বরং কয়ে মাস মাত্র।

খৃস্টানরা বলে, যীশুকে আমি প্রমাণ করতে পারব না। কিন্তু তিনি যে ইশ্বর, তিনি যে আছেন, সেটা টের পাই। এখানে ভাই আমি আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে খাটো করে দেখছি না। তবে, সাধারণত আমি এসব ব্যাপারে কখনোই বলি না, যে মুহাম্মদ (সাঃ) চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করেছিলেন; এ জন্য তাঁকে বিশ্বাস করা উচিত। এগুলো যার যার মনে থাকাই ভাল। কেননা, আমি ইসলামিষ্ট বলে, ইসলামের অলৌকিক যেকোনো ঘটনা বিশ্বাস করে নেব। কিন্তু আপনি তো তার জন্য বাধ্য নন।

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

@ফয়সল সাইফ
সদস্য_১ এর জবাবের পরে কি এখনো বিবর্তনবাদ নিয়ে আপনার মনে কোন সন্দেহ আছে ?

আমি আসলে এরকম কিছু শুনার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম না।