৪১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ভালোবাসার কোড (০৯-১১-২০১৩ ২৩:০৯)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

খুবই লেইম লাগলো। একটা প্রজাতি মারা যাওয়ার বা না যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। জিম করে গা শক্ত করার তুলনা এখানে কিভাবে করেন?  surprised

লেইম লাগলেও কিচ্ছু করার নেই। বিবর্তনের একটা বড় মন্ত্র ব্যবহার অব্যবহার। মাসল ব্যাবহারে আমি কি পাচ্ছি আর মাসরাফি কি পাচ্ছে।
প্রতিকুল পরিস্থিতিতে যে কোনো প্রাণী সামলে উঠার চেষ্টা করে। তেলাপোকা সেখানে সবার সেরা।  big_smile

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

এখন নাপা খাইলেও জ্বরে হাপাইতে হয়।

বিবর্তনে নাপার উপাদান কমে গেছে। নাপা এক্সট্রা বা নাপা এক্সটেন্ড খান।

৪২

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

বোরহান লিখেছেন:

আর মিউটেশনের ব্যাপারটা যদি এরকম প্রাকৃতিকই হবে তাহলে মানুষের শরীরে আজও অবধি ক্যান্সার টাইপের মরণব্যাধীগুলোর কিউর/এ্যান্টিবডি/ইমিউন সিস্টেম যাই বলেন না কেন (অষুধ ছাড়া সর্দি কাশি ভাল হওয়ার মত) তৈরি হলনা কেন?


ক্যান্সারের কাহিনীতো জানিনা। কিন্তু মনে করেন, সর্দির সমস্যার জন্যে আগে প্রায়শই কোরাকোরার মতন নাক দিয়ে বেলুন ফুলানো লাগতো। বেলুন ফুলানো বন্ধ করার জন্যে গণহারে টপাটপ বেক্সিডাল(হিস্টাসিন জাতীয়) খেতাম। নাক বন্ধ হয়ে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরী হলেও এটলিস্ট বেলুন ফুলানো বন্ধ হতো। কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা গেলো যে, বেক্সিডাল খেলে কাজ হয়না। একটার জায়গায় দুইটা খেলে কাজ হচ্ছে। আরও পরে দেখি দুইটা খাইলেও কোনমতে কাজ হচ্ছে। এটা কেন হলো? কারণতো মনেহয় আগেরটার মতনই।
অবশ্য এখন অনেক ভালো আছি। বেকোস্প্রে নামক এক নাসাল-স্প্রে মাস দেড়েক নিয়মিত ব্যবহারে হাচি-হাচি আর তারপর নাক দিয়ে বিরামহীনভাবে গঙ্গাযমুনা বয়ে যাওয়া বন্ধ  হয়ে গিয়েছে  cool

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

৪৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-১১-২০১৩ ১৭:৫৯)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

বোরহান লিখেছেন:

এমনও তো হতে পারে শক্তিশালী ভাইরাসগুলো দূর্বলগুলোর সাথে সাথে আগে থেকেই দুনিয়াতে ছিল, সে কারণে এখনকার মত বেশি পাওয়ারের অষুধ না পাওয়ার কারণে হয়ত অনেক রোগী মারাও যেত। আর সেটা ফর দ্যা টাইম বিয়িং নিয়তীর উপর ছেড়ে দেওয়া হত (আবিষ্কারের সীমাবদ্ধতার কারণে)।

"বেশি পাওয়ারের ঔষধ" শব্দগুলো চাল্লু ডাক্তাররা রুগীকে খুশি করার জন্য বলেন। তবে এ্যাণ্টিবায়োটিকে এধরণের কোনো বিষয় নেই।

বিভিন্ন প্রজাতীর ব্যাকটেরিয়ার দেহে বিভিন্ন রকমের ভালনারেবিলিটি আছে। আর আমাদের এ্যাণ্টিবায়োটিক মলিকিউলগুলে সে সব ভালনারেবিলিটি-গুলোকে এক্সপ্লয়েট করে এ্যাটাক করে। যেমন বিটা ল্যাকটাম ক্যাটাগরীর ড্রাগগুলোর মলিকিউলার স্ট্রাকচারে বিটা ল্যাকটাম রিং আছে - এই মলিকিউলের সংস্পর্শে এলে ব্যাকটেরিয়ার সেল ওয়াল সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়, এবং ব্যাকটেরিয়াটি অচিরেই মারা পড়ে। এরকম অন্যান্য ক্লাসের এ্যাণ্টিবায়োটিক মলিকিউলগুলো ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন সিস্টেম টার্গেট করে এ্যাটাক করে, কেউ হয়তো জীবাণুর ফলিক এসিড মেটাবলিজমে বাগড়া দেয়, কেউ ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব প্রোটিন সিন্থেসিসে বাধা দেয়, আবার কেউ হয়তো ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ/আরএনএ-র কাজে ফ্যাকড়া সৃষ্টি করে - এরকম বিভিন্ন ধরণের ড্রাগ বিভিন্ন প্রজাতীর ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন ধরণের পয়েণ্ট অব উইকনেস টার্গেট করে এ্যাটাক করে। আক্রান্ত ব্যাকটেরিয়াগুলো স্বাভাবিক শারীরবৃত্তিক কাজ করতে না পেরে এক পর্যায়ে মারা পড়ে। পুরো প্রসেসটাই পিওর কেমিকেল ওয়ারফেয়ার। আমরা কিন্তু ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য অন্ধের মত কার্পেট বম্বিং করি না, বরং কোন কোন ব্যাকটেরিয়ার ডিফেন্সে কি কি উইকনেস আছে তা হিসাবে রেখে নির্দিষ্ট টার্গেটে নির্দিষ্ট ড্রোন দিয়ে হামলা করি।  cool

নীচে একটা ছবি পেস্ট মারলামঃ
http://i.imgur.com/baiuruA.png
দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কেমিকেল জীবাণুর বিভিন্ন সিস্টেম অকেজো করে দিচ্ছে। এরকম আরো প্রচুর ভিন্ন মেকানিজমের এ্যাণ্টিবায়োটিক আছে।

এখন বিটা ল্যাকটামে আবার ফিরে আসি। এই হলো সেই বিখ্যাত ৪ হাইড্রোকার্বন এ্যাটমের ম্যাজিক রিংঃ
http://i.imgur.com/iSzCKjS.gif

তো ক্রমাগতঃ এই মলিকিউলের সংস্পর্শে এসে জেনারেশনের পর জেনারেশন মরতে মরতে এক পর্যায়ে কোনো এক জেনারেশনের কিছু ব্যাকটেরিয়া বিবর্তিত বা মিউটেটেড হয়ে একটা এনজাইম ডেভেলপ করে ফেলে - বিটা ল্যাকটামেইয।

এই এনজাইমটার বিশেষত্ব হলোঃ সে ওপরের ছবির ৪ এ্যাটম বিটা ল্যাকটাম রিং-টাকে হাইড্রোলাইসিস ব্রেকডাউন করে, রিংটা ভেঙ্গে ফেলে। ফলে পুরো এ্যাণ্টিবায়োটিকটাই নিউট্রালাইযড হয়ে যায়। এই যে বিটা ল্যাকটামেইয এনজাইম অল্প কিছু ব্যাকটেরিয়া ডেভেলপ করেছিলো তারা তখন এটার ক্ষমতা তার বাকী সব ভাই-বেরাদারদের মধ্যে ট্রান্সফার করা শুরু করে। এবং এক পর্যায়ে পুরো ব্যাকটেরিয়াল কলোনীটাই রেজিস্ট্যাণ্ট হয়ে পড়ে।

তবে বিটা ল্যাকটামের ক্ষেত্রে আমরা সময়মত একটা আপার হ্যাণ্ড নিতে পেরেছিলাম। যখন দেখলাম বিটা ল্যাকটামেইয এনজাইমটা আমাদের বিলিয়ন ডলারের ড্রাগটাকে অকেজো করে দিচ্ছে, তখন সৌভাগ্যবশতঃ আমরা আরো একটা কেমিকেল তৈরী করে ফেললাম - ক্ল্যাভুলানিক এসিডঃ
http://i.imgur.com/ZbSDFgn.png

ক্ল্যাভুলানিক এসিড ব্যাকটেরিয়াদের ডেভেলপ করা সেই ল্যাকটামেইয এনজাইমটাকে নিউট্রালাইযড করে দেয়।

তাই আমরা এখন বিটা ল্যাকটাম রিংয়ের সাথে ক্ল্যাভুলানিক এসিডটাকে জুড়ে দিয়ে কিছু সময় কিনেছি। পুরো ব্যাপারটাই টেক্কার ওপর টেক্কার ওপর টেক্কার ওপর.... and so on and so forth...

কিন্তু আমরা জানি, ব্যাকটেরিয়ারা এক সময় না এক সময় ওই ক্ল্যাভুলানিক এসিড-টাকেও নিউট্রালাইয করার ব্যবস্থা করে ফেলবে। The question is "When", not "If"! এটা ঘটবেই। ঠেকানোর কোনো উপায় নেই।

এটাই হলো এভোলিউশনের সৌন্দর্য্য। বিবর্তন ওই পুঁচকে ব্যকটেরিয়াকেও সুযোগ দিচ্ছে, আবার আমাদেরকেও সুযোগ দিচ্ছে। আমাদের বুদ্ধি বা টেকনলজী আছে বলে বিবর্তন কোনো ফেভার করছে না। Only the last man standing will come out victorious.... for a while...

এভোলিউশন সবার বিরুদ্ধে সবার লড়াই - all against all আমরা যতদিন চ্যালেণ্জ মোকাবেলা করতে পারবো, ততদিন টিকে থাকবো। যখন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবো... well....  whats_the_matter

বোরহান লিখেছেন:

আর মিউটেশনের ব্যাপারটা যদি এরকম প্রাকৃতিকই হবে তাহলে মানুষের শরীরে আজও অবধি ক্যান্সার টাইপের মরণব্যাধীগুলোর কিউর/এ্যান্টিবডি/ইমিউন সিস্টেম যাই বলেন না কেন (অষুধ ছাড়া সর্দি কাশি ভাল হওয়ার মত) তৈরি হলনা কেন?

কার্সিনোজেনেসিস বা ক্যান্সার সৃষ্টি খুবই জটিল প্রক্রিয়া। এ্যানালজীঃ মানুষের তৈরী সব সফটওয়্যারেই বাগ আছে, বাগ ফৃ কোনো সফটওয়্যার নেই। তেমনি ক্যান্সারও আমাদের দেহের জেনেটিক সফটওয়্যারের বাগ বা সাইড ইফেক্ট।

তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, এভোলিউশন যদি সার্ভাইভাল অব দি ফিটেস্ট হয়, তাহলে এই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জীন গুলি টিকে থাকছে কেন? ওই জীন ওয়ালা আনফিট মানুষ তো অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উচিৎ ছিলো।

বিভিন্ন কারণ আছে। প্রথমতঃ ক্যন্সার আধুনিক সভ্যতার বাইপ্রোডাক্ট। সভ্যতার আগেও ক্যান্সার রোগ মানুষের হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সভ্যতায় ক্যান্সারের প্রকোপ বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। কারণ আমরা খুব দ্রুত আমাদের পরিবেশ, লিভিং কন্ডিশন বদলে ফেলছি। আমাদের দৈহিক সিস্টেম ওই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে উঠতে পারছে না।

আমরা আধুনিক সভ্য মানুষ সারা জীবন প্রতি দিন যে বিশাল পরিমাণ আর্টিফিশিয়াল ও ক্ষতিকর কেমিকেলের মধ্যে স্নান করে চলেছি তা অতীতে কখনো হয় নি। পেট বটলে পানি/পানীয় পান করতে গিয়ে হাজার হাজার কেমিকেল গিলছি, রাস্তায় বের হলে ভিহিকল ফিউম আর সিগারেট ফিউমের লক্ষ্য লক্ষ্য কেমিকেল গ্যাস লাংসে আক্রমণ করছে। বৃষ্টি হলে তাও আবার এ্যাসিড রেইন। ফলমুল মাছ মাংস খাবেন  - সংগে ফরমালিন ম্যাণ্ডেটরী। শাক সব্জী খাবেন - ডিডিটি আর পারমেথ্রিন। মশা কামড়াচছে - মরটিন। দুর্গন্ধ লাগছে - এয়ার ফ্রেশনারের সুবাসে লাং ক্যানসার এজেণ্ট। গরম! - এসির মাধ্যমে সিএফসি...

সারা দিন আমরা কেমিকেলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি - যে কেমিকেলের সংস্পর্শে মিলিয়ন মিলিয়ন বছরে প্রাণীর দেহ কখনোই আসে নি। স্বভাবতঃই ওসব রাসায়নিক পদার্থ আমাদের দেহ কোষগুলোকে আক্রমণ করছে - টৃলিয়ন টৃলিয়ন কোষে গঠিত আমাদের দেহে অনবরত কেমিকেল এ্যাটাকের ফলে কিছু সংখ্যক কোষ যে ডিএনএ মিউটেশন হয়ে বিগড়াবে না তা তো হতে পারে না। আর শুধু আধুনিক কেমিকেল না, মহাকাশ থেকে অনবরতঃ কসমিক রেডিয়েশনও ক্যান্সার তৈরীর একটা বড় কারণ। আরো অনেক ফ্যাকটর আছে ক্যান্সার সৃষ্টির।

মেকানিজমটা সহজ ভাবে এরকম - নরমাল কোষ, নরমাল ডিএনএ। যখনই কোষের ডিএনএ ড্যামেজ (কেমিকেল, রেডিয়েশন বা অন্য কোনো কারণে) হয়ে এ্যাবনরমাল মিউটেশন হচ্ছে তখনই কোষগুলো আ্যাবনরমাল বিহেভ করছে - ক্যানসারাস সেল তৈরী হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো - ক্যানসার ওয়ালা জীন না হয় সৃষ্টি হলো, কিন্তু এই মরণঘাতী জীন তো ফার্স্ট জেনারেশনেই ঝড়ে পড়ার কথা। বিবর্তন বলছে প্রজাতীর জন্য ক্ষতিকর কোনো বৈশিষ্ট্য বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। তাহলে ক্যানসার টিকে থাকছে কেন?

আমরা ন্যাচারাল এভোলিউশনকে ডিফাই করে আমাদের আয়ু বাড়িয়েছি। বাচ্চাদের ক্যান্সার তূলনামূলকভাবে কম হয়। ক্যান্সার বেশি হয় বয়স্ক লোকদের। A lifetime of chemical indulgence.

হিউম্যান বডি সীমিত আয়ুর জন্য অপ্টিমাইজড। ২৫ বছর বয়সে একজন মানুষ তার বডির পীক টাইম অতিক্রম করে। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তন আমাদের মাত্র ২৫-৩০ বছরের আয়ু দিয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক আদিম পুরুষ ২০-২৫ বছরেই প্রজননের কাজ করে ফেলতো। অল্প সংখ্যক পুরুষ ৩৫-৪০ বছর বেঁচে থাকতে পারতো। আর বৃদ্ধদের সংখ্যা খুবই নগণ্য ছিলো। বেশিরভাগ পুরুষই শিকার করতে গিয়ে, পশুর আক্রমণে, রোগেশোকে বা কোনো না কোনো দুর্ঘটনায় মারা যেতো। বেশি বয়সে স্বাভাবিক মৃত্যু রেয়ার ছিলো। (নারীদের আয়ু গড়ে ৫-৬ বছর বেশি)

কিন্তু ওই এইজ ব্যারিয়ার আমরা ভেঙেছি। আজ আমরা ৭০-৮০ বছর অনায়াসে বেঁচে থাকছি। যে বডীমেশিন ২৫-৩০ বছরে হাইয়েস্ট পারফর্ম করার জন্য তৈরী, তাকে আমরা ৩/৪ গুণ বেশি সময় ধরে খাটাচ্ছি। আর তার সঙে যুক্ত হয়েছে আধুনিক কেমিকেল সভ্যতা।

একজন সুস্থ মানুষ যেন ক্যান্সার ডেভেলপ করতে পারে তার ব্যবস্থা আমাদের সভ্যতা করে দিয়েছে। আর ক্যান্সার হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় না, বছরের পর বছর ধরে গড়বড় চলার পর একসময় প্রকাশ পায়। যে লোকটি ৬০ বছর বয়সে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছে, সে হয়তো সেই ডিফেক্টিভ জীন ২০ বছর আগেই সন্তানদের মধ্যে ট্রান্সফার করে দিয়েছে।

আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন।

Calm... like a bomb.

৪৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ছড়াবাজ (১০-১১-২০১৩ ০২:৫১)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

আহা কত মুক্তা,
ছড়ালো যে এ বনে,
উলু ধ্বনী ঢেকে দেয়,
বৃথা শ্রম কাননে।

এর চেয়ে সেই ভাল,
দাবী দাওয়া ছেড়ে দাও,
সবে সব বুঝবে না,
পাতা দাও পাতা খাও।

নুবেলটা পেয়ে গেল,
স্টেম সেল সেদিন-ই,
তারপরও লাফালাফি,
লাদি ভরা বনানী।

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/01/Borassus_flabellifer.jpg/400px-Borassus_flabellifer.jpg

৪৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১০-১১-২০১৩ ০৯:৫২)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

বোরহান লিখেছেন:

এমনও তো হতে পারে শক্তিশালী ভাইরাসগুলো দূর্বলগুলোর সাথে সাথে আগে থেকেই দুনিয়াতে ছিল, সে কারণে এখনকার মত বেশি পাওয়ারের অষুধ না পাওয়ার কারণে হয়ত অনেক রোগী মারাও যেত। আর সেটা ফর দ্যা টাইম বিয়িং নিয়তীর উপর ছেড়ে দেওয়া হত (আবিষ্কারের সীমাবদ্ধতার কারণে)।

may be... but not likely. কারন স্পেসিফিক রোগের কথা বললে স্পেসিফিক ঔষধে আগে প্রায় শত ভাগ কাজ হত। যেটা এখন হচ্ছে না। রিমেম্বার

ফ্যাক্ট: ৬০-৭০-এর দশকে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে ১০০% কার্যকরী ছিলো পেনিসিলিন।
২০০৫ সালের বাংলাদেশে ৯৮% গণোরিয়াল ব্যাক্টেরিয়া এখন পেনিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট।

যদি গনেরিয়ার নতুন প্রজন্মের ব্যাক্টেরিয়া গুলো তখনও কিছু থেকে থাকত তাহলে কিছু কেসে পেনিসিলন ৬০ এর দশকেও অকার্যকর হত। (এখানে "কিছু" বলতে ১% বা তার কম হলে হবে না, অন্তত ১০/১৫%)

বোরহান লিখেছেন:

আর মিউটেশনের ব্যাপারটা যদি এরকম প্রাকৃতিকই হবে তাহলে মানুষের শরীরে আজও অবধি ক্যান্সার টাইপের মরণব্যাধীগুলোর কিউর/এ্যান্টিবডি/ইমিউন সিস্টেম যাই বলেন না কেন (অষুধ ছাড়া সর্দি কাশি ভাল হওয়ার মত) তৈরি হলনা কেন?


যৌক্তিক প্রশ্ন thumbs_up। মজার ব্যাপার হল, জিনেটিক/ এভুলশন সম্বন্ধে আমি জেনেছি বায়লজী দিক থেকে নয় বরং কম্পউটার সাইন্স থেকে। এ.আই এবং জিনেটিক এলগিরদম নিয়ে পড়ার সময়। সো, জিনেটিক/ এভুলশনে আমার জ্ঞান হল স্ট্রিপ ডাউন ভার্সন।রিয়েল লাইফের গ্রে অংশটুকু বাদদিয়ে যে অংশটুকু ম্যাথামেটিকেলী সাউন্ড শুধু সেই অংশটুকুই ব্যাবহার করেছি। সেই অংশটুকুর মধ্যে দ্বিধা করার কোন অবকাশ নেই। ১+১=২ মতই সঠিক। তা না হলে লং রানে জিনেটিক এলগরিদম কাজ করত না। এই এলগরিদমে সমস্যা সমাধান কারার জন্য কিছুই করা হয়না। শুধু প্রজন্মের পর প্রজন্ম জন্ম দেয়ে এবং ভালটাকে রেখে বাকি গুলোকে মেরে ফেলা হয় (উল্ল্যখ্য, জিনেটিক এলগরিদম কে রেন্ডমাইজ এলগরিদমের সাথে গোলানো যাবে না।) জিনেটিক এলগরিদমের ফ্লোচার্টে ধাপ মুলত চারটা

১. দুই (বা অধিক) টা সলুশান নির্বাচন (ইনিশিয়ালী রেন্ডমলী পিক) [এদের কে মা-বাব হিসেবে ট্রিট করতে পারেন।
২. ১ নং এর সলুশানগুলোকে রেন্ডমলী মিউটেশন করে, নেক্সড প্রজন্মের সলুশানু তৈরী [এরা সংখ্যায় প্রথম প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশী n গুনিতক। n যত বড় হবে কনভার্জেন্ট তত তারাতারি এদের কে ছেলে-মেয়ে ধরতে পারেন]
৩. সিলকশন (সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন)! দ্বিতীয় প্রজন্মের সলুশানগুলো থেকে যে দুটা আমাদের টার্গেট সলুশানের সবচেয়ে কাছে, সে দুটোকে রেখে বাকি গুলো বর্জন।
৪. বর্তমান সলুশান মনোপুত হলে টারমিনেট, না হলে ১ম ধাপে গমন। ৩য় ধাপে নির্বাচিত সলুশান দুটো হবে পরবর্তী প্রথম ধাপে ইনিশিয়ল সলুশন।

এনপি হার্ড, এনপি কমপ্লিট প্রবলেম সলভ্ করার জন্য এই জিনেটিক এলগরীদম হল এখন পর্যন্ত গানিতিক ভাবে সবচেয়ে ইফিশিয়েন্ট সুলুশান। যেমন n সিটি ট্রাভলীং সেলস্ ম্যান প্রবলেম।

এখন প্রশ্ন হল। মানুষের ক্ষেত্রে কেন এটা ক্যান্সারকে বাদ দিচ্ছে না। এককথায় বললে উত্তর হল ধাপ ৩ মিসিং! (beside detail explanation of invarbrass, such as modern chemical, complexity... etc. the gray part!)। ক্যান্সারের মিডিয়ান বসয় হল ৬০+ ! মানুষের জন্য ততদিনে ধাপ ৩ মানে সিলেকশন প্রসেসস অলরেডি কমম্প্লিট। মানে ৬০ বছর হতে হতে তারা বাবা মা হয়ে যায়, মানে ধাপ ৩ এ নির্বাচিত হয়ে যায়, যদিও ক্যান্সারের জিন থাকার করনে তারা ধাপ ৩এর নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নয়।

ধরুন ব্রেস্ট ক্যান্সার। আপনাকে যা করতে হবে তা হল।  প্রথমে  আক্রান্তদের (বয়স্ক) উপর গবেশনা করে বের করতে হবে কোন জিন ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এর পর সমাজে সকল শিশুদের ঐ জিন চেক করতে হবে । এবং যার ঐজিন পওয়া যাবে তাকে বিয়ে করতে দেয়া হবেনা। এটা যদি করতে  পারেন তাহলে পর্যাপ্ত(may be 10, may be 100 who knows!) প্রজন্ম পর আমাদের আর কারোই ব্রেস্ট ক্যন্সার হবে না।

৪৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-১১-২০১৩ ১১:৪৭)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

সদস্য_১ লিখেছেন:

ধরুন ব্রেস্ট ক্যান্সার। আপনাকে যা করতে হবে তা হল।  প্রথমে  আক্রান্তদের (বয়স্ক) উপর গবেশনা করে বের করতে হবে কোন জিন ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এর পর সমাজে সকল শিশুদের ঐ জিন চেক করতে হবে । এবং যার ঐজিন পওয়া যাবে তাকে বিয়ে করতে দেয়া হবেনা। এটা যদি করতে  পারেন তাহলে পর্যাপ্ত(may be 10, may be 100 who knows!) প্রজন্ম পর আমাদের আর কারোই ব্রেস্ট ক্যন্সার হবে না।

কিছুদিন আগে জানলাম চায়না প্রায় এক দশক আগে eugenics প্রোগ্রাম চালু করে দিয়েছে। অটিস্টিক ও মানসিক রোগী, শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ ব্যক্তি এবং আরো কিছু হেরিটেবল ডিজিজের রোগীদের বিয়ে, বংশবৃদ্ধি আইন করে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে বড়সড় আর্থিক শাস্তি তো আছেই, কমিউনিটি থেকেও তাকে হ্যারাস করে।

চাইনীজ ইউজেনিক্স প্রোগ্রাম নিয়ে আমেরিকান, ইউরোপীয়ানরা উদ্বিগ্নঃ কয়েক জেনারেশন ফিল্টারিঙের পরে চাইনীজ পপুলেশন ফিজিকালী "সুপিরিয়র" হয়ে যাবে।

হিটলারের লেবেনসবর্ণ প্রযেক্ট ভেস্তে গিয়েছিলো যুদ্ধে পরাস্ত হবার জন্য। স্তালিনও উন্নত সেনাবাহিনীর তৈরীর জন্য ইউজেনিক্স প্রযেক্ট চালু করেছিলো - ওটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো খুব তাড়াতাড়িই। তবে চাইনীজরা মনে হয় সফল হতে যাচ্ছে।   neutral

Calm... like a bomb.

৪৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফয়সল সাইফ (১০-১১-২০১৩ ১৩:৪৫)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

invarbrass লিখেছেন:

কিন্তু আমরা জানি, ব্যাকটেরিয়ারা এক সময় না এক সময় ওই ক্ল্যাভুলানিক এসিড-টাকেও নিউট্রালাইয করার ব্যবস্থা করে ফেলবে। The question is "When", not "If"! এটা ঘটবেই। ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। এটাই হলো এভোলিউশনের সৌন্দর্য্য। বিবর্তন ওই পুঁচকে ব্যকটেরিয়াকেও সুযোগ দিচ্ছে, আবার আমাদেরকেও সুযোগ দিচ্ছে। আমাদের বুদ্ধি বা টেকনলজী আছে বলে বিবর্তন কোনো ফেভার করছে না। Only the last man standing will come out victorious.... for a while... এভোলিউশন সবার বিরুদ্ধে সবার লড়াই - all against all আমরা যতদিন চ্যালেণ্জ মোকাবেলা করতে পারবো, ততদিন টিকে থাকবো। যখন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবো... well....  whats_the_matter

অতীত বিবেচনায় ব্যাকটেরিয়ারা সম্ভবত এক সময় সত্যিই ক্ল্যাভুলানিক এসিডকে নিউট্রালাইয করবে। হয়তো তখন তাঁরা এমন কিছু অনুকুল উপাদান পেয়ে যাবে, যার সাহায্যে তাঁদের পক্ষে ক্ল্যাভুলানিক এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা সম্ভব হবে। তার মানে এখন তাঁরা সেটা পাচ্ছে না।
তাহলে পরে কীভাবে পেতে পারে? সেক্ষেত্রে রংয়ের ঊদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন: আপনার হাতে আছে লাল আর হলুদ রং। আপনি দুটোর সামান্য সামান্য করে নিয়ে বানিয়ে ফেললেন আরো এক প্রকার রং। তারপর তিনটির কিছু কিছু নিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন আরো এক প্রকার। তারপর চলমান প্রক্রিয়া..... সেভাবে প্রকৃতিতেও হয়তো নতুন নতুন দূষণ আর মানুব দেহে নতুন নতুন বিষাক্ত উপকরণ ঢুকে জট পাকিয়ে তাদের জন্য তৈরী হয়ে যেতে পারে একটা অনুকূল পরিস্থিতি।
এর মানে এটা কী বিবর্তন বা প্রাণর ক্রমবিকাশ?
অবশ্যই না। এটা হলো শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য প্রাণের দক্ষতার ক্রমবিকাশ। 
এটা অনেকটা এই রকম, এমনিতে ‘যক্ষা হলে রক্ষা নাই’ একটা প্রবাদ ছিল। কিন্তু এখন মানুষ প্রকৃতিতে এমন উপাদান খুঁজে পেয়েছে যেটা দিয়ে যক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করে সে ঠিকে থাকতে পারছে।
তারপর ধরুণ, আপনি এখান থেকে কিছুতেই সাঁতার কেটে নিউইয়র্ক গিয়ে উঠতে পারবে না। কিন্তু যদি একটা জাহাজে গিয়ে উঠেন, তাহলে সহজেই সেখানে যেতে পারেন। এখানে জাহাজ আপনার প্রয়োজন মেটাল। আর প্রয়োজন মেটানোর জন্য জাহাজটা আপনি তৈরী করলেন। এই তৈরী করাটা হলো সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি। সব প্রাণেরই এমন কিছু সহজাত প্রবৃত্তি থাকে। আর প্রকৃতিতে যখন সে তাঁর কাজের উপযোগী কোনো উপকরণ খুঁজে পায়; এবং সেটাকে কাজে লাগাতে শিখে যায়, তখন কাজে লাগায়। কিন্তু এর বেশি কিছু পারে না।
সব প্রাণের সীমাবদ্ধতার জায়গাটাই আসলে এখানে। সবাই সর্বোচ্ছ একটা লেভেল পর্যন্ত গিয়ে নিজেদের দক্ষতাকে আর বিকশিত করতে পারে না। তেলাপোঁকার দলও পারেনি। শুধু অস্থিত্ব রক্ষা করে ঠিকে থাকতে পেরেছে মাত্র। সব প্রাণই এমন। কেউ কেউ হয়তো তাও পারেনি।
আমি মনে করি এসবকে বিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করার কোনো অর্থ নেই। এটা একেবারেই ফাউল একটা শব্দ। এই পরিস্থিতিটাকে প্রাণের অস্থিত্বরক্ষা জনিত দক্ষতার ক্রমবিকাশ ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করাটাই যৌক্তিক। সেটার গুরুত্বও জীবন বা সভ্যাতার ওপর ঐতিহাসিক লিপির তুলনায় বেশি কিছু নয়।
আর প্রাণের প্রাথমিক অস্থিত্বলাভের ধারণাটা তো বৈজ্ঞানিকভাবে একেবারেই অসম্ভব প্রমাণিত হয়েছে। তাই বিবর্তন আরো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। একটা ব্যাপার তো রিসার্চ দ্বারাই প্রমাণিত। যুগপৎ ঘটনায় জীবকোষ তৈরী হতে পারে না। একটি কোষের গঠন কাঠামোতে যেসব প্রোটিন থাকে তা সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা বাস্তবে ১০৯৫০ ভাগের একভাগ। কিন্তু সেটা ১০৫০ ভাগের চেয়ে কম হলেই তো অসম্ভব প্রমাণিত হওয়ার কথা।
তারপরও আপনার কাছে যদি প্রমাণ থাকে যে, প্রাচীন পৃথিবী; যখন কীনা আপনাদের দাবী অনুযায়ী নিজে থেকেই প্রাণ অস্থিত্ব লাভ করেছিল, ল্যাবরেটরীতে সেই সময়ের মতো অনুকূল একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কোনো প্রাণের জীবন লাভের প্রমাণ দিন। উপরের অসম্ভবকে সম্ভব করে দিন।

invarbrass লিখেছেন:

হিউম্যান বডি সীমিত আয়ুর জন্য অপ্টিমাইজড। ২৫ বছর বয়সে একজন মানুষ তার বডির পীক টাইম অতিক্রম করে। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তন আমাদের মাত্র ২৫-৩০ বছরের আয়ু দিয়েছে। কিন্তু ওই এইজ ব্যারিয়ার আমরা ভেঙেছি। আজ আমরা ৭০-৮০ বছর অনায়াসে বেঁচে থাকছি। যে বডীমেশিন ২৫-৩০ বছরে হাইয়েস্ট পারফর্ম করার জন্য তৈরী, তাকে আমরা ৩/৪ গুণ বেশি সময় ধরে খাটাচ্ছি। আর তার সঙে যুক্ত হয়েছে আধুনিক কেমিকেল সভ্যতা।

এটা একটু বুঝিয়ে বলুন তো। লক্ষ লক্ষ্য বছরের বিবর্তন আমাদের ২৫-৩০ বছরের সাধারণ একটা আয়ুস্কল দিয়েছে (ঔষধের মাধ্যমে আমরা এখন তা বাড়িয়ে নিয়েছি; কথাটা মাথায় রেখেই বলছি)। এর সত্যতা কীভাবে নিশ্চিত করবেন। আধুনিক ক্যামিক্যাল সভ্যতার অবদান ছাড়াই মানুষ অতীতে শত বছরের বেশি বেঁচে থাকতে পেরেছে।

৪৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-১১-২০১৩ ১৮:৫৮)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

@ফয়সল সাইফঃ বিবর্তন বলতে আপনি ঠিক কি বোঝেন একটু খোলাসা করে বলুন তো ভাই। ব্যাকটেরিয়াল এভোলিউশনকে বলছেন এটা এভোলিউশন না। গোলাপ ফুল দেখিয়ে কেউ যদি বলে এটা গোলাপ না তেঁতুল - ব্যাপারটি হাস্যকর হবে নয় কি?

"বিবর্তন ফালতু শব্দ" - এগুলো পার্সোনাল ওপিনিয়ন। বিজ্ঞানে ব্যক্তিগত ধারণার কোনো স্থান নেই। কোনো তত্ব দিলে তা প্রমাণ করে দেখাতেই হবে, এবং অন্যরাও একই পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে একই ফলাফল পাবে - তবেই তত্বটি গ্রহণীয় হবে, নয়তো নয়ই।

কেউ নিজস্ব অযৌক্তিক ব্যক্তিগত ধ্যানধারণা চাপিয়ে দিতে চাইলে বিজ্ঞান ঠিক উপযুক্ত বিষয় নয়। কেউ যদি মনে করেন বিবর্তন অপ্রয়োজনীয় এবং সমস্ত প্রশ্নের উত্তর অন্য কোথাও দেয়া আছে, বোধকরি তার পক্ষে এ সমস্ত বিষয়ে আলোচনা বাড়ানো বৃথা নয় কি?

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এটা একটু বুঝিয়ে বলুন তো। লক্ষ লক্ষ্য বছরের বিবর্তন আমাদের ২৫-৩০ বছরের সাধারণ একটা আয়ুস্কল দিয়েছে (ঔষধের মাধ্যমে আমরা এখন তা বাড়িয়ে নিয়েছি; কথাটা মাথায় রেখেই বলছি)। এর সত্যতা কীভাবে নিশ্চিত করবেন।

প্রায় সোয়া এক কোটি বছর ধরে আদিম মানুষের (হাণ্টার-গ্যাদারার) লাইফ এক্সপেক্টেন্সী ২৫-৩০ এর আশেপাশে ঘোরাফেরা করে এসেছে। এটা জেনেটিকালী ডিটারমাইণ্ড ট্রেইট।

মূল উত্তরে যাবার আগে একটু ভূমিকা দরকার...  worried

নিও-ডারউইনিস্টিক বিবর্তনের প্রাইম ড্রাইভার হলোঃ জীন। জীবজগৎের সমস্ত কার্যকলাপ, সমস্ত প্রক্রিয়া আবর্তিত হচ্ছে এই পলিপেপটাইড প্রোটিন মলিকিউলগুলোকে ঘিরে।

জীনের একটি পিকিউলিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো - সে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত টিকে থাকতে চায়, অমর হতে চায় - by any means necessary... এই অদ্ভূত বৈশিষ্ট্যটি ওই এ্যামিনো এসিড পলিমারগুলোর মধ্যে কখন, কিভাবে, কেন এলো তা আমরা জানি না। তবে জানি, সৌরজগৎে পৃথিবী গ্রহটি সৃষ্টি হবার মাত্র ১ - ১.১ বিলিয়ন বছর পরেই প্রথম প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। এই ১ বিলিয়ন অর্থাৎ ১০০ কোটি বছরের মধ্যে কিছু একটা নিশ্চয় ঘটেছিলো যার ফলশ্রুতিতে ওই প্রোটিন অণুগুলো এই "অমরত্ব" ট্রেইটস লাভ করেছিলো। (জীনদের এই বৈশিষ্ট্য অদ্ভূত মনে হতে পারে। তবে আমরা এখন পৃওন সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানছি - এই ব্যাটার ভাবসাবও অনেকটা জীনের মতই।)

তা বাসনা যেমনই হোক - অনির্দিষ্ট অনন্তকালব্যাপী টিকে থাকা একটি নির্দিষ্ট মলিকিউলের পক্ষে সম্ভব নয়। দুর্যোগপূর্ণ, দুরুহ পরিবেশে অনন্তকাল একটি প্রোটিন চেইনের পক্ষে অটুট থাকা প্রায় অসম্ভব। আর অসীম প্রতিকুলতা কোনোভাবে মোকাবেলা করতে পারলেও পদার্থের স্বাভাবিক রেডিওএ্যাকটিভ ডিকেয়-র কারণে এমনিতেই প্রোটিনের মলিকিউলার ডিজেনারেশন ঘটবে। তা হলে ওই অপশনটা বাতিল।

তাই জীনরা একটা অল্টারনেটিভ পদ্ধতি বের করলোঃ তা হলো নিজেকে কপি করে মাল্টিপ্লাই - সংখ্যাবৃদ্ধি করা। এতে করে হয়তো অরিজিনাল মলিকিউলটা নিজে অমর হচ্ছে না, কিন্তু তার মাাল্টিপ্লাইড কপিগুলোর মাধ্যমে কন্টিনিউ তো করতে পারছে। বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে এই প্রোটিন অণুরা অজস্র ট্রায়াল এ্যাণ্ড এরোরের মাধ্যমে কিছু মাল্টিপ্লিকেশন মেথড ডেভেলপ করেছে, যেমনঃ ক্লোনিং ও রিপ্রোডাকশন (প্রজনন)।

ডাইরেক্ট ক্লোনিঙ - মানে প্যারেণ্ট জীনের হুবহু কপি চাইল্ড জীনে ট্রান্সফার - এটা খুব একটা এফিশিয়েণ্ট মেথড না। হুবহু কপি করলে প্যারেণ্ট জীনের সমস্ত এ্যাডভাণ্টেজগুলোর সাথে সব সমস্যাগুলোও চাইল্ড জীনে চলে যাচ্ছে। পরে পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে ওই জীনের বংশধরদের টিকে থাকার সম্ভাবনাও নাকচ হয়ে যাচ্ছে। তাই বেশিরভাগ জীন রিপ্রোডাকশন বা প্রজননের মাধ্যমে মাল্টিপ্লাই করে। (এখন মনে পড়লোঃ স্কুল বায়োলজীতে পড়িয়েছিলো হাইড্রা-রা ক্লোনিং করতে পারে - হাইড্রা "অমর প্রাণী"  big_smile )

ক্লোনিঙের সাথে রিপ্রোডাকশনের পার্থক্য হলোঃ প্রজনন একটি এরর-প্রোণ, ইনএ্যাকুরেট প্রক্রিয়া। প্যারেণ্ট জীনেটিক কোডের প্রায় হুবহু কপিই (ধরি ৯৯.৯৯% কোড) চাইল্ডে যাচ্ছে, আর তার সাথে খুব সামান্য পরিমাণ (ধরি ০.০১%) কোড র্যাণ্ডমলী সূক্ষ পরিবর্তিত হয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই যে ট্রান্সমিশন এরর - এটাকেই সরলভাবে বলতে পারেন জীনেটিক মিউটেশন। এই মিউটেশনের কারণেই আপনি আপনার বাবা-মার প্রায় হুবহু কপি হলেও নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এই সামান্য কপি-পেস্ট ভুলভ্রান্তিই পৃথিবীর অজস্র বৈচিত্রময় জীবজগৎ সৃষ্টির জন্য দায়ী! এই ট্রান্সমিশন গোলমালের কারণেই ১০০ টি প্রজাতী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, আবার এর কারণেই এমন একটি প্রজাতী সৃষ্টি হচ্ছে যারা পৃথিবীতে মহাসমারোহে রাজত্ব করছে (কিছু সময়ের জন্য অবশ্য)।

ঠিক কি কারণে, কিভাবে মিউটেশন ঘটে তা বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করছেন। একটা বড় ক্লু পাওয়া গেছে - কসমিক রেডিয়েশন

আমরা কসমিক রেডিয়েশনের সাগরে ভাসছি। পুরো পৃথিবী জুড়ে অনবরত কসমিক পার্টিকল বম্বার্ডমেণ্ট হচ্ছে। এইমাত্র, এই মূহুর্তে কত বিলিয়ন নিউট্রিনো, মিউওন ইত্যাদি যে আপনার মধ্য দিয়ে পাস করে গেলো তা টেরও পেলেন না। বিজ্ঞানীরা প্রাণীর ওপর এক্স-রের প্রভাব পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেছেন, জীন স্প্লিটিং ও স্প্লাইসিং-এর সময় এক্স-রে বম্বিং করলে হাই রেটে মিউটেশন ঘটছে। কোনো একটা নিউক্লিওটাইড জোড়া (নিউক্লিওটাইড হলো ডিএনএ-র বিল্ডিং ব্লক) কপি হবার আগ মুহুর্তে হয়তো এক্সরে কণিকা দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পাল্টে যাচ্ছে - আর ওই পরিবর্তিত নিউক্লিওটাইড চাইল্ড জীনে ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে, মিউটেশনের পেছনে মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে-র ভুমিকার ব্যাপারে আমরা জানি। হয়তো আরো কিছু ফ্যাক্টর থাকতে পারে যা আমরা ভবিষ্যৎে উদঘাটন করবো। আপনি যে মুহুর্তে বাবা-মার শুক্রাণু ও নিষিক্ত ডিম্বাণুর জীনেটিক কোড কম্বাইন করে গঠিত হতে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহুর্তেই কোনো কসমিক কণা এসে কিছু ওলট পালট করে দিলো - আর আপনার "সৃষ্টি" হলো খানিকটা পরিবর্তিত মিউটেটেড ক্লোন হিসাবে!

আমাদের জানা জীবজগৎের প্রতিটি প্রাণ আরএনএ এবং ডিএনএ নির্ভর। এমনকি ভাইরাসেও জীনেটিক কোড থাকে। এখনো পর্যন্ত এমন কোনো লাইফফর্ম পাওয়া যায় নি যার মধ্যে জীনেটিক কোড নেই। এককোষী প্রাণী তো বটেই, আমাদের বহুকোষী জীবদের দেহও গঠিত টৃলিয়ন টৃলিয়ন কোষ এবং কলা (cells & tissues) দ্বারা। আর কোষের সমস্ত কার্য কলাপ, জন্ম থেকে মৃত্যু অব্ধি সমস্ত কিছু - অল এভরিথিং - পরিচালনা করে নিউক্লিয়াসের ভেতর সিংহাসনে বসে থাকা জীন। কোষটা কিভাবে কি কি কাজ করবে, কখন তাকে মরে যেতে হবে ইত্যাদি সমস্ত ব্লুপৃণ্ট জীনের ভেতর দেয়া আছে। অর্থাৎ, কোষ (এবং সার্বিকভাবে আমাদের দেহ) হলো - জীন ডেলিভারী সিস্টেম। আমরা কিছু "Selfish Gene"-এর পরিবর্ধিত, রুপান্তরিত রোবোটিক মেশীনারী। এই যে জটিল থেকে জটিলতম কোষ, বিলিয়ন কোষের সুসংগঠিত কলা, টৃলিয়ন কোষের প্রাণীদেহ, জীবজগৎ, মানবসভ্যতা - এসবই সেই জীনের অমর হয়ে টিকে থাকতে চাওয়ার উদগ্র বাসনার ফলাফল।

সংক্ষেপে এটাই হলো ডারউইনিয়ান বিবর্তনের মূল থীমঃ জীন-কেন্দ্রিক বিবর্তন।

এবার মূল প্রশ্নে আসি। মানুষের অপ্টিমাল লাইফস্প্যান ২৫-৩০ বছর কিভাবে ও কেন জেনেটিকালী ডিটারমাইণ্ড হলো?

এই ২০১৩ সালেও আপনি নিজের আশেপাশে সাধারণ পর্যবেক্ষণেই দেখবেন মানুষের শারীরিক গ্রোথ ও ডেভেলপমেণ্ট, কোয়ালিটি অব লাইফ অনেকটা বেল কার্ভের মত প্যাটার্ণ ফলো করেঃ
http://i.imgur.com/txHAreC.gif
x এ্যাক্সিসে বয়স, y-তে ফিজিকাল ফিটনেস বিবেচনা করতে পারেন। পর্যবেক্ষণে দেখবেন, গড়ে ২৫-৩০ বছর বয়সে একজন পুরুষের ফিজিকাল অবস্থা প্রাইমে ওঠে। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের ডিক্লাইন শুরু হয়।

এটা কোনো কাকতালীয় নাম্বার নয়। আগেই বলেছি -
১) জীন অমর হতে চায়
২) আমরা জীন ডেলিভারী মেশিনারী
৩) আমাদের সমস্ত ক্রিয়াকলাপ জন্ম মৃত্যু নির্ধারণ করে জীনেটিক কোড

বিবর্তন অযথা খরচ করা পছন্দ করে না। সবচাইতে কম রিসোর্স ব্যবহার করে সবচাইতে এফিশিয়েণ্টলী কিভাবে রেপ্লিকেশন/রিপ্রোডাক্সন করা যাবে সেই পদ্ধতিতেই কাজ করবে যেকোনো সেলফ সাসটেইনিং অপ্টিমাইজিং সিস্টেম।

গত সোয়া মিলিয়ন বছরের বিবর্তনের ফলে মানুষের জীন এই অপ্টিমাল ফীগারটি ক্যালকুলেট করেছে। পুরুষ মানুষ ১৪/১৬ বছর বয়সেই সেক্সুয়াল রিপ্রোডাক্সন করার ক্ষমতার অধিকারী হতে শুরু করে। আর মানুষের পীক ফিজিকাল ফিটনেস আয়ত্ত হয় ২৫ বছর বয়সের দিকে। মধ্যবিশে পুরুষের স্পার্ম কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি সবচাইতে ফিট থাকে। (নারীদের জন্যও ব্যাপারটি একই, তবে রেন্জগুলো ২/৪ বছর সামান্য ভিন্ন হবে)

অর্থাৎ বিবর্তন, তথা জীন, আমাদের এক দশকের বেশি সময় দিচ্ছে প্রজনন করার জন্য।

জীন, যে আমাদের সৃষ্টি করেছে, অনির্দিষ্টকাল টিকে থাকার জন্য তার মেশিনারীগুলো (অর্থাৎ আমরা) ২৫/৩০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারলেই তার উদ্দেশ্য সাধিত হয়ে যাচ্ছে। এরপরে মেশিনারী চালু থাকলো কি থাকলো না তা জীনের জন্য খুব একটা জরুরী বিষয় না। জীনের ব্যবসাপাতি হলো বিলিয়ন বিলিয়ন বছর নিয়ে, মানুষের ৫০/৬০ বছরের ক্ষুদ্র আয়ু তার কাছে কোনো পাত্তাই পাবে না। জীনের আল্টিমেট লক্ষ্য হলো - নিজেকে কপি করে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত টিকে থাকা। আপনি সেই নিরবিচ্ছিন্ন জীনেটিক লাইনের একটি ক্ষুদ্র ডেটা পয়েণ্ট; হিউম্যান জীনোম নামের অসীম দৈর্ঘ্যের মালার একটি ক্ষুদ্র পুঁতি আপনি, আমি।

তাই জীনেটিকালী প্রোগ্রামড আমরা ২৫-৩০ বছর বয়সে জীবনের পীক স্টেজটি কাটাই।

তবে গত কয়েক শতাব্দীতে পরিবেশকে বদলে দিয়েছি আমরা। আর তার ফলে গত কয়েক শতাব্দী জুড়ে আমাদের আয়ু নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। উইকী থেকে এস্টিমেটেড লাইফ এক্সপেক্টেন্সী চার্টঃ
http://i.imgur.com/pIl2JVf.png
খেয়াল করুন, বিংশ শতাব্দীর আগমনের আগ পর্যন্ত মানুষের গড় আয়ু ওই ২০-৩০ রেণ্জেই ঘোরাফেরা করেছে। আর এখন সারা দুনিয়াতে মানব জাতীর গড় আয়ু ৩ গুণের বেশি হয়ে গেছে।

এই অবস্থায় আরো কয়েক মিলিয়ন বছর টিকে থাকতে দিন। ভবিষ্যৎের "মানব" প্রজাতীর জেরিয়াট্রিক সমস্যা, ক্যান্সার, প্রস্টেট সমস্যা ইত্যাদি বেশি বয়সের রোগশোক কমে যাবে।

তবে আমরা কিন্তু এখানেই স্থবির হয়ে নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই প্রথম (এবং আপাততঃ একমাত্র) প্রজাতী যারা জীনেটিক বিবর্তনকে অতিক্রম করে গিয়েছি, আমরা নতুন আরেকটি বিবর্তনের সূচনা করেছিঃ ইনফরমেশন বিবর্তন!

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আধুনিক ক্যামিক্যাল সভ্যতার অবদান ছাড়াই মানুষ অতীতে শত বছরের বেশি বেঁচে থাকতে পেরেছে

এর স্বপক্ষে কি প্রমাণ দেবেন? প্রাচীন কোনো মীথিকাল কিচ্ছা? tongue

Calm... like a bomb.

৪৯

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আমি মনে করি এসবকে বিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করার কোনো অর্থ নেই। এটা একেবারেই ফাউল একটা শব্দ। এই পরিস্থিতিটাকে প্রাণের অস্থিত্বরক্ষা জনিত দক্ষতার ক্রমবিকাশ ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করাটাই যৌক্তিক। সেটার গুরুত্বও জীবন বা সভ্যাতার ওপর ঐতিহাসিক লিপির তুলনায় বেশি কিছু নয়।

আপনি মানুষের যক্ষার যে উদাহরন দিলেন, সেটা কোনভাবেই বিবর্তন নয়। তবে ব্যাকটেরিয়ার যে ব্যাপারটা ব্রাশু ভাই বলেছেন। সেটা অবশ্যই বিবর্তন। কারন ব্যাকটেরিয়া সেই এন্টিবায়োটিককে নিস্ক্রিয় করার সিস্টেমটা নিজ দেহের উপকরন থেকেই তৈরি করে নিয়েছে এবং প্রয়োজনে তার দেহের উপকরনগুলোকে সে অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে নিয়েছে। এবং এই ব্যাপারটা আপনার রঙ এর মিশ্রনের উদাহরন এর মত নয়।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

সবাই সর্বোচ্ছ একটা লেভেল পর্যন্ত গিয়ে নিজেদের দক্ষতাকে আর বিকশিত করতে পারে না।

বিবর্তনের নিয়মটাই এইরকম । একটা প্রানী প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য নিজের মধ্যে সেই পরীবেশে টিকে থাকার অনুকুল সিস্টেম ডেভেলপ করে নিতে থাকবে। এরকম হতে হতে সে প্রানী বিলুপ্ত হয়ে নতুন কোন প্রজাতি বা প্রানীতে বিবর্তিত হবে। তবে এই ধারাটি চলবে খুব ধীর প্রক্রিয়ায়। হয়ত কয়েক শতাব্দি ধরে বা কয়েক লক্ষ বছর ধরে। আর যখনই কোন প্রজাতি এই পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে তখনই তার বিবর্তন এর মাত্রা আরও ধীরগতির হয়ে যাবে বা মাক্রো লেভেলের কোন বিবর্তনই হবে না। যেমন হচ্ছে মানুষের মধ্যে। আমাদের মধ্যে মাক্রো লেভেলে কোন বিবর্তন দেখা যায় না। কারন আমরা বর্তমান পরিবেশ এর মধ্যে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছি। তবে মাইক্রো লেভেলে অনেক রকমের বিবর্তন আমাদের মধ্যে দেখা যায়। যেমন ব্রাশু ভাইয়ের ক্যান্সারের উদাহরনটাও এক ধরনের বিবর্তন। 

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

ল্যাবরেটরীতে সেই সময়ের মতো অনুকূল একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কোনো প্রাণের জীবন লাভের প্রমাণ দিন। উপরের অসম্ভবকে সম্ভব করে দিন।

আর কিছু বলা লাগবে না।
http://www.telegraph.co.uk/science/7745 … g-god.html

রাব্বি হোসেন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

৫০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-১১-২০১৩ ১৮:৩১)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

রাব্বি হোসেন লিখেছেন:

আপনি মানুষের যক্ষার যে উদাহরন দিলেন, সেটা কোনভাবেই বিবর্তন নয়। তবে ব্যাকটেরিয়ার যে ব্যাপারটা ব্রাশু ভাই বলেছেন। সেটা অবশ্যই বিবর্তন। কারন ব্যাকটেরিয়া সেই এন্টিবায়োটিককে নিস্ক্রিয় করার সিস্টেমটা নিজ দেহের উপকরন থেকেই তৈরি করে নিয়েছে এবং প্রয়োজনে তার দেহের উপকরনগুলোকে সে অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে নিয়েছে। এবং এই ব্যাপারটা আপনার রঙ এর মিশ্রনের উদাহরন এর মত নয়।

সহমত। ভিবিকোডার ভাই জীমে গিয়ে লীন মাসল ম্যাস বাড়ানোর কথা বললেন। ওটা বিবর্তন হতে পারে তখনই, যদি কোডার ভাইয়ের বংশধররাও একই ধরণের মাস্কুলার দেহ নিয়ে জন্ম নেবে।  tongue

রাব্বি হোসেন লিখেছেন:
ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

ল্যাবরেটরীতে সেই সময়ের মতো অনুকূল একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কোনো প্রাণের জীবন লাভের প্রমাণ দিন। উপরের অসম্ভবকে সম্ভব করে দিন।

আর কিছু বলা লাগবে না।
http://www.telegraph.co.uk/science/7745 … g-god.html

এ ব্যাপারে কিন্চিৎ দ্বিমত পোষণ করছি। আমি ক্রেইগ ভেন্টারের বড় ফ্যান - ইনি একাই যা করে চলেছেন ১০০ জন বিজ্ঞানী মিলেও তা করতে পারে নি। ক্রেইগ ভেন্টার কিন্তু কখনোই দাবী করেন নি তিনি ফ্রম স্ক্র্যাচ নতুন লাইফ তৈরী করেছেন। পপুলার মিডিয়া তাঁর রিসার্চ পাবলিকেশনটাকে সেন্সেশনালাইয করার জন্য এসব দাবী জুড়ে দিয়েছে।

সহজ ভাষায় ক্রেইগ ভেণ্টারের গ্রুপ যেটা করেছেন তা হলোঃ একটি ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ তাঁরা ঐ্যানালাইজ করে কোডগুলো কম্পিউটারে ম্যাপিঙ করেছেন। ওই জীনেটিক কোডের অণুকরণ করে টেস্ট টিউবে কম্পিউটার জেনারেটেড ক্রমোযোম সিন্থেসাইয করেছেন, ওই ক্রোমোযোমের মধ্যে তাঁরা আবার নিজস্ব তৈরী কিছু আর্টিফিশিয়াল জীনও ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তারপর একটি ব্যাকটেরিয়া নিয়ে নিউক্লিয়াস থেকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক ক্রমোযোম সরিয়ে নিয়েছেন, আর তার স্থলে আর্টিফিশিয়ালী তৈরী জীনেটিক ম্যাটেরিয়ালগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

এর ফলে যে ভিন্ন ধরণের প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে তা নতুন ও ভিন্ন প্রজাতী তো অবশ্যই, একটু টেনেটুনে "আর্টিফিশিয়াল লাইফ"-ও বলা যায়, তবে একদম যিরো থেকে প্রাণ সৃষ্টি করেছেন তা কিন্তু নয়। সহজ ভাষায় - তাঁরা মেশিনারীর হার্ডওয়্যার ঠিকই রেখেছেন, শুধু সফটওয়্যারটা পাল্টে দিয়েছেন।

ভেণ্টারের অরিজিনাল পাবলিকেশনের লিংকটি কয়েক পোস্ট আগেই শেয়ার করেছিলাম - মিডিয়া তাঁর পেপারটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে হাইপ সৃষ্টি করেছে। তবে সন্দেহ নেই, ওটা গ্রাউণ্ডব্রেকিং একটা অর্জন হয়েছে। ভেণ্টারের মত পায়েনীয়াররা সাধারণ মানুষের মনমানসিকতাই পাল্টে দিচ্ছেন।

তবে মূল পোস্টে ল্যাবে প্রাণ সৃষ্টির প্রমাণ দাবী করাটাও কিন্চিৎ শিশুসুলভ। স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণ উদয়ের জন্য ‌বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের টাইমস্কেলের কথা বলা হচ্ছে। বিলিয়ন বছর সময় দিন, প্রমাণ পেয়ে যাবেন।  tongue

Calm... like a bomb.

৫১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফয়সল সাইফ (১০-১১-২০১৩ ২০:০৬)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

invarbrass লিখেছেন:

@ফয়সল সাইফঃ বিবর্তন বলতে আপনি ঠিক কি বোঝেন একটু খোলাসা করে বলুন তো ভাই। ব্যাকটেরিয়াল এভোলিউশনকে বলছেন এটা এভোলিউশন না। গোলাপ ফুল দেখিয়ে কেউ যদি বলে এটা গোলাপ না তেঁতুল - ব্যাপারটি হাস্যকর হবে নয় কি?

কোনটা হাস্যকর, আর কোনটা নয়; আমি এই মুহুর্তে ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে, আমি ভাই এভ্যুলুশনিস্ট নই। আমি তাঁদের বিরোধী। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, আমরা অনেক দিন থেকে একটা জিনিস বদলাতে পারছি না। যদি কেউ বলে বাংলাদেশের আয়তন কত? আমরা সোজা বলে দেই ১৪৭৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। কিন্তু আয়তনের একক তো ঘন। এটা বর্গ হয় কী করে? এ নিয়ে আমাদের মনে কোনো প্রশ্ন জাগে না। এর সমাধানও তাই বের হচ্ছে না। নইলে একটা না একটা সূত্র বেরিয়ে সমাধান হয়ে যেত। আমি অবশ্য সেটা নিয়ে ভাবছি। যাই হোক, যেটাকে বলা হচ্ছে প্রাণের ক্রমবিকাশ বা বিবর্তন; পুরো বিষয়টা নিয়ে বেশ কিছুদিন ভাবার পর, আমি মনে করছি সেটাকে বাতিল করা উচিত। কারণ কোনো সময় ব্যাকটেরিয়াদের দ্বারা ক্ল্যাভুলানিক এসিডকে নিষ্কৃয় করে ঠিকে থাকার পথ বের করাটা প্রাণের ক্রমবিকাশ নয়। যেহেতু তাঁরা দুদিন পরই হাতি হয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু যেহেতু ঠিকে থাকার পথ খুঁজে পেয়ে যাবে, তাই তাঁরা বেঁচে থাকার জন্য অতীতের তুলনায় আরো দক্ষ হয়ে উঠবে। এটাকে তাহলে বলা উচিত, প্রাণের দক্ষতার-বুদ্ধির ক্রমবিকাশ। আমি সেটার স্বপক্ষে। কারণ এমন দৃষ্টান্ত আমরা অহরহ দেখছি।

invarbrass লিখেছেন:

"বিবর্তন ফালতু শব্দ"- এগুলো পার্সোনাল ওপিনিয়ন। মনে রাখা উচিৎ আলোচনার বিষয় (সাইণ্টিফিক এভোলিউশন) ব্যক্তি তো বটেই এমনকি প্রজাতী নিরপেক্ষ। কেউ নিজস্ব অযৌক্তিক ব্যক্তিগত ধ্যানধারণা চাপিয়ে দিতে চাইলে বিজ্ঞান তার জন্য উপযুক্ত বিষয় নয়।

যেহেতু আগের ব্যাপারটাতে বিবর্তনকে একেবারেই অপ্রেয়োজনীয় একটা শব্দ বলে আমার মনে হয়েছে, তাই একথা বলতে আমি উৎসাহ পেয়েছি। কেন অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে সেটা আমি ব্যাখ্যা করেছি। আর প্রাণের প্রাথমিক অস্থিত্বলাভের ধারণাটা তো বৈজ্ঞানিকভাবে একেবারেই অসম্ভব প্রমাণিত হয়েছে। এই ব্যাপারটা তো রিসার্চ দ্বারাই প্রমাণিত। যুগপৎ ঘটনায় জীবকোষ তৈরী হতে পারে না। একটি কোষের গঠন কাঠামোতে যেসব প্রোটিন থাকে তা সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা বাস্তবে ১০৯৫০ ভাগের একভাগ। কিন্তু সেটা ১০৫০ ভাগের চেয়ে কম হলেই তো অসম্ভব প্রমাণিত হওয়ার কথা।-----আমার চ্যালেঞ্জ হলো, এর বিপরীতে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকলে দিন। আমি জানার জন্য আগ্রহী। আমি চাই আপনাদের দাবী মতো প্রায় ৩.৫ বা ৪ বিলিয়ন বছর আগে, যখন প্রাণ পৃথিবীতে প্রথম অস্থিত্ব লাভ করেছিল; ল্যাবরেটরীতে ঠিক তখনকার মতো অনুকূল পরিস্থিতি তৈরী করে জড় থেকে প্রাণ সৃষ্টির কোনো ঊদাহরণ কী আছে? থাকলে দিন।
যদি না থাকে? তাহলে বিবর্তনের আর কী থাকে? আপনি বলতে পারেন প্রাণের প্রাথমিক অস্থিত্ব লাভ বিবর্তন নয়; কিন্তু প্রাণ যদি স্বতন্ত্রভাবে অস্থিত্বই লাভ না করতে পারে, তাহলে তার বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতিতে ছড়িয়ে পড়ার তো প্রশ্নই আসে না। আর যদি বিবর্তন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে প্রাণের ঠিকে থাকার দক্ষতার ক্রমবিকাশটাই আমাদের মেনে নিতে হবে।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আধুনিক ক্যামিক্যাল সভ্যতার অবদান ছাড়াই, মানুষ অতীতে শত বছরের বেশি বেঁচে থাকতে পেরেছে।

invarbrass লিখেছেন:

এর স্বপক্ষে কি প্রমাণ দেবেন? প্রাচীন কোনো মীথিকাল কিচ্ছা? tongue

হতে পারে আমার কথাটা আপনার কাছে একটা মীথিকাল কিচ্ছা। তাই সেগুলো বললাম না। কিন্তু ইতিহাস খুঁজলেই আমরা দেখতে পাই, লিউনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, হিপোক্রিটাস, এরিস্টটল, সক্রেটিস, প্লেটো, হোমার, ত্যাগরাজ, কনফুসিয়াম, নিউটন, ফ্রান্সিস বেকন, এরিস্টার্চ, টলেমী, সেনেকোদের ইত্যাদি পরিচিত লোকদের অনেক বছর আয়ু ছিল। আপনি সম্ভবত তাঁদের সম্পর্কে জানেন। তবে, এটা বলতে পারেন, তখনকার দিনে অহরহ যুদ্ধের ফলে মানুষের গড় আয়ু কম ছিল। এর সাথে আমি ক্যামিক্যাল সভ্যতার সম্পর্ক খুব একটা দেখি না। ক্যামিক্যাল সভ্যতা এসেছে মানুষেরই প্রয়োজনে। তখনকার দিনে হয়তো এসব রোগ ছিল না, তাই চিকিৎসা বিদ্যা এতটা উন্নত ছিল না। এখন নতুন নতুন রোগ আসছে, চিকিৎসা বিদ্যাও উন্নত হচ্ছে।

invarbrass লিখেছেন:

এ ব্যাপারে কিন্চিৎ দ্বিমত পোষণ করছি। আমি ক্রেইগ ভেন্টারের বড় ফ্যান - ইনি একাই যা করে চলেছেন ১০০ জন বিজ্ঞানী মিলেও তা করতে পারে নি। ক্রেইগ ভেন্টার কিন্তু কখনোই দাবী করেন নি তিনি ফ্রম স্ক্র্যাচ নতুন লাইফ তৈরী করেছেন। পপুলার মিডিয়া তাঁর রিসার্চ পাবলিকেশনটাকে সেন্সেশনালাইয করার জন্য এসব দাবী জুড়ে দিয়েছে।

সহজ ভাষায় ক্রেইগ ভেণ্টারের গ্রুপ যেটা করেছেন তা হলোঃ একটি ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ তাঁরা ঐ্যানালাইজ করে কোডগুলো কম্পিউটারে ম্যাপিঙ করেছেন। ওই জীনেটিক কোডের অণুকরণ করে টেস্ট টিউবে কম্পিউটার জেনারেটেড ক্রমোযোম সিন্থেসাইয করেছেন, ওই ক্রোমোযোমের মধ্যে তাঁরা আবার নিজস্ব তৈরী কিছু আর্টিফিশিয়াল জীনও ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তারপর একটি ব্যাকটেরিয়া নিয়ে নিউক্লিয়াস থেকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক ক্রমোযোম সরিয়ে নিয়েছেন, আর তার স্থলে আর্টিফিশিয়ালী তৈরী জীনেটিক ম্যাটেরিয়ালগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

এর ফলে যে ভিন্ন ধরণের প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে তা নতুন ও ভিন্ন প্রজাতী তো অবশ্যই, একটু টেনেটুনে "আর্টিফিশিয়াল লাইফ"-ও বলা যায়, তবে একদম যিরো থেকে প্রাণ সৃষ্টি করেছেন তা কিন্তু নয়। সহজ ভাষায় - তাঁরা মেশিনারীর হার্ডওয়্যার ঠিকই রেখেছেন, শুধু সফটওয়্যারটা পাল্টে দিয়েছেন।

ভেণ্টারের অরিজিনাল পাবলিকেশনের লিংকটি কয়েক পোস্ট আগেই শেয়ার করেছিলাম - মিডিয়া তাঁর পেপারটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে হাইপ সৃষ্টি করেছে। তবে সন্দেহ নেই, ওটা গ্রাউণ্ডব্রেকিং একটা অর্জন হয়েছে। ভেণ্টারের মত পায়েনীয়াররা সাধারণ মানুষের মনমানসিকতাই পাল্টে দিচ্ছেন।

তবে মূল পোস্টে ল্যাবে প্রাণ সৃষ্টির প্রমাণ দাবী করাটাও কিন্চিৎ শিশুসুলভ। স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণ উদয়ের জন্য ‌বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের টাইমস্কেলের কথা বলা হচ্ছে। বিলিয়ন বছর সময় দিন, প্রমাণ পেয়ে যাবেন।

আপনার সাথে হয়তো আমার সব ব্যাপারে একমত হতে পারব না। কিন্তু শ্রদ্ধা করতে বাধ্য হচ্ছি।

৫২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-১১-২০১৩ ২১:৩২)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

আপনার পোস্টে বেশ কিছু অমুক রিসার্চ দ্বারা প্রমাণিত, তমুক তত্ব বাতিল হয়ে গেছে, সমুক অসম্ভব জাতীয় বাক্য দেখছি। কিন্তু একটাও সলিড, ডেফিনিটিভ রেফারেন্স দেখছি না। ডিবেট চলার জন্য কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকাও জরুরী।

আয়তনের ব্যাপারে আপনার অবজার্ভেশন সঠিক। area শব্দের সঠিক অনুবাদ "আয়তন" নয়, যদিও ওটাই বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।

কিন্তু ইতিহাস খুঁজলেই আমরা দেখতে পাই, লিউনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, হিপোক্রিটাস, এরিস্টটল, সক্রেটিস, প্লেটো, হোমার, ত্যাগরাজ, কনফুসিয়াম, নিউটন, ফ্রান্সিস বেকন, এরিস্টার্চ, টলেমী, সেনেকোদের ইত্যাদি পরিচিত লোকদের অনেক বছর আয়ু ছিল। আপনি সম্ভবত তাঁদের সম্পর্কে জানেন।

কোটি কোটি মানুষের ভীড়ে দুয়েকজন গ্যালিলেও, ডা ভিন্চি, এ্যারিস্টটল দীর্ঘজীবি হলে কি আসে যায়। আমার দুই গ্র্যাণ্ডফাদার ৮০+ বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। আবার আমার এক স্কুলের বন্ধু মাস দুয়েক আগে অল্প বয়সে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হয়ে মারা গেলো। গত বৃহঃপতিবারে আরেক বন্ধুর মা ক্যান্সারে মারা গেলেন। তার আগে এক কাযিনের ম্যাচিউর বাচ্চা হঠাৎ স্টিলবর্ণ হয়ে বেরোলো। বিগত মাস তিনেকে এসব ঘটেছে - তাহলে নিশ্চয়ই ভাবার অবকাশ নেই যে কয়েক মাস/বছরের ব্যবধানে মানুষের আয়ু কমে গেছে। এগুলো কোনো উপস্থাপনযোগ্য প্রমাণই নয়। Anecdotal evidence is no evidence at all.

কলেজে পপুলেশন ডেমোগ্রাফী পড়তে হয়েছিলো। MMR, IMR, CBR, CDR, TFR, NPR, RLF আরো কত কি অজস্র প্যারামিটার, ভ্যারিয়েবল দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠীর জনমিতি ডিফাইন করা হয়। তাই আমি আরো সলিড কিছু আশা করেছিলাম।

আর হ্যাঁ, দীর্ঘজীবি জনগোষ্ঠীর উদাহরণ আমাদের চোখের সামনেই আছে। জাপানীদের গড় আয়ু ৮০+। ওকিনাওয়ান দ্বীপের অধিবাসীদের গড় আয়ু ৯০+। তবে জাপানীজরা exception, norm নয়।

আমি অবশ্য ভেবেছিলাম আপনি নূহ নবী ৯০০ বছর বেঁচে ছিলেন, বা আদ/সামুদ জাতীর লোকেরা ৩ তলা বিল্ডিঙের মত ঢ্যাঙা ছিলো ইত্যাদি অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।  tongue

তবে, এটা বলতে পারেন, তখনকার দিনে অহরহ যুদ্ধের ফলে মানুষের গড় আয়ু কম ছিল। এর সাথে আমি ক্যামিক্যাল সভ্যতার সম্পর্ক খুব একটা দেখি না। ক্যামিক্যাল সভ্যতা এসেছে মানুষেরই প্রয়োজনে। তখনকার দিনে হয়তো এসব রোগ ছিল না, তাই চিকিৎসা বিদ্যা এতটা উন্নত ছিল না। এখন নতুন নতুন রোগ আসছে, চিকিৎসা বিদ্যাও উন্নত হচ্ছে।

১.৩ মিলিয়ন বছরের বিবর্তনের মধ্যে মানুষের জানা সভ্যতা (আনুমানিক ১০,০০০ বছর পুরণো) খুবই অল্প সময়। ১০ হাজার বছর দিয়ে ১৩ লক্ষ বছরের ট্রেণ্ড সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসা সঠিক হবে না। গুহাবাসী প্রাগৈতিহাসিক আদিম hunter-gatherer প্রাণীদের লাইফস্টাইল একরকম ছিলো, আবার ৫/৭০০০ বছর পূর্বের জনগোষ্ঠীও সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন করতো। 1,300,000 % 10,000 = 130X অর্থাৎ মানুষ যতটুকু সময় সভ্যতায় কাটিয়েছে, তার ১৩০ গুণ বেশি সময় কাটিয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগে (টেকনিকালী আদিম প্রাণীরা এ্যানাটমিকালী মডার্ণ হিউম্যান না অবশ্য) কাজেই ব্রড পিকচারটা বিবেচনা করা উচিৎ।

তাছাড়া, যুদ্ধবিগ্রহ, রোগশোক, এ্যাক্সিডেণ্ট এগুলো মূলতঃ পরিবেশগত বিষয়, এনভায়রণমেণ্টাল ফ্যাক্টর। আমরা আলোচনা করছি জীনের দৃষ্টিকোণ থেকে লাইফ এক্সপেক্টেন্সী নিয়ে। আমাদের পূর্বপুরুষদের জীন বয়সের একটা গড়পড়তা রেন্জ বেঁধে দিয়েছে, আমাদের দেহকাঠামোও ওই মোতাবেক অপ্টিমাইজ করেছে। কেউ হয়তো বাঘের আক্রমণে ১০ বছর বয়সেই মারা গেলো, আবার কেউ ৭০ বছর বয়সেও বেঁচে রইলো। তবে এ্যাভারেজ পপুলেশন গড়ে কত বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকছে সেটাই বিবেচনা করা উচিৎ - কারণ ওটার মধ্যেই জীনেটিক লাইফস্প্যান সম্পর্কে ক্লু পাওয়া যাবে।

আধুনিক মানুষ এনভায়রণমেণ্টটাকে বাগে আনতে পেরেছে বলে হঠাৎ গড় আয়ু বেড়ে গেছে। তবে আমাদের জীনেটিক্স পিছিয়ে পড়ে আছে - এ কারণেই এত এত লাইফস্টাইল ডিজিজের মহামারীতে আক্রান্ত হচ্ছে আধুনিক মানুষ। তবে আমাদের গড় জনগোষ্ঠী দীর্ঘজীবি হতে থাকলে এক পর্যায়ে জীনও ক্যাচ-আপ করতে শুরু করবে।

Calm... like a bomb.

৫৩

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

কোনটা হাস্যকর, আর কোনটা নয়; আমি এই মুহুর্তে ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে, আমি ভাই এভ্যুলুশনিস্ট নই। আমি তাঁদের বিরোধী। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, আমরা অনেক দিন থেকে একটা জিনিস বদলাতে পারছি না। যদি কেউ বলে বাংলাদেশের আয়তন কত? আমরা সোজা বলে দেই ১৪৭৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। কিন্তু আয়তনের একক তো ঘন। এটা বর্গ হয় কী করে? এ নিয়ে আমাদের মনে কোনো প্রশ্ন জাগে না। এর সমাধানও তাই বের হচ্ছে না। নইলে একটা না একটা সূত্র বেরিয়ে সমাধান হয়ে যেত। আমি অবশ্য সেটা নিয়ে ভাবছি।

আমিও একসময় ভাবতাম যা একবার শিখেছি তাই সব: আয়তন নিয়ে সর্বদা এই কথাই চিন্তা করতাম।

কিন্তু .... .... ভাষা একটা জটিল বিষয় ... ...  hairpull

আয়তন [āẏatana] বি. 1 ক্ষেত্রমান, area; 2 ঘনমান, volume; 3 প্রস্হ, পরিসর, বিস্তার; 3 মন্দির, গৃহ, প্রতিষ্ঠান (অচলায়তন); 4 যজ্ঞবেদি; 5 (বৌ. শা.) চক্ষু কর্ণ ইত্যাদি ইন্দ্রিয়। [সং. আ + √ যত + অন]।

লিংক
এখানেই শেষ নয়, ইংরেজি ভলিউম কথাটা তো আরো ভ্যাজালের ...
গুগল কী বলে
কিন্তু আরো আছে: ক্লিক করুন

৫৪

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

https://fbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn2/1452374_701691869851827_1334256996_n.jpg

শ্রাবন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

৫৫

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

পৃথিবী সৃষ্টির শুরুতে এ্যামিনো আসিড ছিল, সেটা কোথা থেকে এসেছিল?

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

৫৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১১-১১-২০১৩ ১১:৩৭)

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

বোরহান লিখেছেন:

পৃথিবী সৃষ্টির শুরুতে এ্যামিনো আসিড ছিল, সেটা কোথা থেকে এসেছিল?

এটাই তো বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন! এ্যামিনো আসিড ওরফে "বিল্ডিং ব্লক্স অব লাইফ" আসলে কোথায় নেই?

১৯৫৩ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যানলী মিলার ও হ্যারল্ড ইউরী একটি অদ্ভূত এক্সপেরিমেণ্ট করেছিলেন। ৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর যে বাতাবরণ ছিলো তা ল্যাবরেটরীর ফ্লাস্কে অণুকরণ করেছিলেন। নির্দিষ্ট অনুপাতে জলবাষ্প, মিথেন, এ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন ইত্যাদি মিশিয়ে তার মধ্যে ইলেক্ট্রিক স্পার্ক (বজ্রপাত) চালনা, পর্যায়ক্রমে উত্তাপ ও শীতলীকরণচক্র করেছিলেন। অর্থাৎ, প্রাণ সৃষ্টির পূর্বে পৃবায়োটিক পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও ভয়ংকর আবহাওয়া তার একটি অতিক্ষুদ্র মডেল তাঁরা রেপ্লিকেট করেছিলেন ল্যাবরেটরীর ফ্লাস্কেঃ
http://i.imgur.com/lgPzrtn.png
এক্সপেরিমেণ্টটি চালানোর মাত্র ২ সপ্তাহের মধ্যেই অভাবনীয় ফলাফল পাওয়া যায়! মিলার ও ইউরী দেখলেন, অজৈব গ্যাসগুলোর মিক্সচার থেকে ১০ - ১৫% জৈব অরগানিক হাইড্রোকার্বন সৃষ্টি হয়েছে। আর তার সাথে সৃষ্টি হয়েছে ~২% এ্যামিনো এসিড! আর এ সব কিছুই তাঁরা তৈরী করেছেন সামান্য গ্যাস ককটেইল আর ইলেক্টৃক স্পার্ক থেকে!

তবে কাহিনীর আরো কিছু বাকী আছে...  big_smile
#১ - প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তখন মিলার ও ইউরী মাত্র ২/৩ ধরণের আমিনো এসিড রিপোর্ট করেছিলেন। কয়েক বছর আগে তাঁদের অরিজিনাল ১৯৫৩ ইনস্ট্রুমেণ্টগুলোর কেমিকেল এ্যানালাইসিস করে তার মধ্যে ২০টিরও বেশি এ্যামিনো আসিড পাওয়া গেছে!  big_smile
#২ - ইতিমধ্যে আদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান আরো রিফাইনড হয়েছে। আমরা জানি আদিম পৃবায়োটিক পৃথিবীতে তাঁদের ব্যবহৃত গ্যাসগুলো ছাড়াও ছিলো কার্বনডিঅক্সাইড, নাইট্রোজেন, সালফার ইত্যাদি আরো কিছু কম্পাউণ্ড। এই আপডেটেড, পরিবর্ধিত ফরমূলা ব্যবহার করে একই এক্সপেরিমেণ্ট রিপিট করে মিলার-ইউরী-র চাইতেও আরো অধিক ভ্যারাইটির অর্গানিক বায়োকেমিস্টৃ উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন আধুনিক বিজ্ঞানীরা!  big_smile

প্রাণের উদয় এই পৃথিবীতেই হওয়া সম্ভব, খুবই সম্ভব!

তবে ইখানেও কাহানীমে আরো একঠো টুইস্ট হ্যায়....  big_smile

আজ অব্ধি আমরা মোটামুটি ৫০০ টাইপের এ্যামিনো আসিড আইডেন্টিফাই করতে সক্ষম হয়েছি। পৃথিবীর সমস্ত জীবকোষদের ব্যবহৃত অন্যতম কমনেস্ট এ্যামিনো আসিড হলোঃ গ্লাইসিন (NH2CH2COOH)। আমাদের পুরো নার্ভাস সিস্টেম গ্লাইসিন প্রোটিনের ওপর নির্ভরশীল। গ্লাইসিন পুরো শরীর জুড়ে অজস্র শারীরবৃত্তীয় কাজ করে।

এই গ্লাইসিন নিয়ে তোলপাড় ঘটে গিয়েছে মাত্র ৪/৫ বছর আগে...
২০০৮ সালে একটি ইউরোপীয়ান স্পেস অবজার্ভেটরী আমাদের গ্যালাক্সীর কেন্দ্রে এক জায়াণ্ট গ্যাস ক্লাউডের মধ্যে গ্লাইসিন-সদৃশ মলিকিউল ডিটেক্ট করতে সক্ষম হয়েছে ("Large Molecule Heimat")!
২০০৯ সালে নাসার স্টারডাস্ট নভোযান একটি ধূমকেতুর মধ্যে গ্লাইসিনের উপস্থিতি কনফার্ম (comet Wild 2) করেছে!
(এগুলো একেবারে আনকোরা, অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার না অবশ্য। বিজ্ঞানীরা বিগত কয়েক যুগ ধরেই মহাকাশে এ্যামিনো এসিডের উপস্থিতি পূর্বাভাস দিয়ে আসছিলেন। এসব হাইটেক এক্সপেরিমেন্টে এখন তারই হাতেনাতে প্রমাণ মিলছে।)

অর্থাৎ, পুরো মহাবিশ্বেই প্রাণের পৃকারসর কেমিস্ট্রি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই আইডিয়াটা ধীরে ধীরে জোরদার হচ্ছে।

সাম্প্রতিককালে মহাকাশে গ্লাইসিনের উপস্থিতির প্রমাণ প্যানস্পার্মিয়া হাইপোথিসিস-কে আবারো শক্তিশালী করেছে। প্যানস্পার্মিয়া থিওরী বলেঃ মহাবিশ্বের অগুণতি স্থানে প্রাণের (বা অন্ততঃ প্রাণের কেমিস্টৃর) উপস্থিতি আছে, এবং ধূমকেতু, উল্কা, এ্যাস্টেরয়েড ইত্যাদির মাধ্যমে প্রাণ (ও প্রাণের পূর্বসুরী কেমিস্টৃ) বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্যানস্পার্মিয়া অবশ্য আদি প্রাণের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে না, শুধু প্রাণের অণু-পরমাণুগুলোর সাপ্লাই চেইন ডিস্টৃবিউশন সম্পর্কে ধারণা দেয়।

পৃথিবীতে এ্যামিনো এসিড আমদানী হয়েছিলো কমেট, মিটিওরদের বুকে চড়ে। কে জানে... ব্যাকটেরিয়া-সদৃশ ২/১ পিস সুসংগঠিত রেডীমেইড প্রাণও যে এখানে আসে নি তার নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? আর আমদানী ছাড়াও পৃথিবী যে নিজেই এ্যামিনো এসিড তৈরীতে স্বয়ংসম্পূর্ণ তাও প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যভাবে বললে - এ্যামিনো এসিড উৎপত্তির "উইণ্ডোজ মেথড" আর "লিনাক্স মেথড" দু'টোই ভ্যালিড অপশন। উইণ্ডোজ মেথড - মানে পৃথিবীর নিজস্ব প্রোপৃয়েটরী ল্যাবরেটরীতে এ্যামিনো এসিড প্রস্তুত হয়েছে। আর লিনাক্স মেথড - এ্যামিনো এসিড যেখানেই সৃষ্টি হোক না কেন তা কপিলেফট করে সর্বত্র ফৃ-লী শেয়ারিং করা হয়েছে। cool আমরা উইণ্ডোজ না লিনাক্স তা অবশ্য এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হয়নি (আবার লিন্ডোজ হবার-ও সম্ভাবনা আছে  hairpull )

ইউরী-মিলারের যুগান্তকারী পরীক্ষার মাত্র ৬ দশক পূর্ণ হয়েছে, আর আমরা এখনই প্রমাণ পাচ্ছি পুরো গ্যালাক্সী জুড়েই প্রাণের পৃকার্সর কেমিস্ট্রির উপস্থিতির... আর আগামী ৬ দশকে?  hehe

একবার ভাবুন তো... রিডলী স্কটের এলিয়েন্স, প্রমিথিয়াস যদি বাস্তবে হয়ে থাকে তবে কাশী-গয়া, মক্কা, ভ্যাটিকান, জেরুযালেম প্রভৃতি স্থানের ট্যুরিযম আয়ে কি ধ্বসটাই না নামবে...  hairpull

পিএসঃ গত মাসে রিডলী স্কট জানিয়েছেন প্রমিথিয়াস ২-র স্কৃপ্টের কাজ চলছে!  yahoo (পার্ট ১ সেমি-ফ্লপ খাবার কারণে পুরো সিরিজটাই বাতিলের সম্ভাবনা ছিলো  nailbiting )

Calm... like a bomb.

৫৭

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

বোরহান লিখেছেন:

পৃথিবী সৃষ্টির শুরুতে এ্যামিনো আসিড ছিল, সেটা কোথা থেকে এসেছিল?

আদি পৃথিবীতে প্রাইমোরিয়াল সুপের সাগরে অন্যান্য ক্যামিকেলের সাথে এ্যামিনো আসিড তৈরী হয়েছে প্রাকৃতিক ভাবেই। এসিড সাধারনত একটা সরল অনু। ১৯৫৩ সালে মিলার ল্যাবে সেটা করে দেখিয়েছেন। এর পরেও বেশ কয়েকজন সেটা করেছেন। এমিন আর কার্বোসিলিক এসিড মিলে হয়  এ্যামিনো আসিড। কার্বন, হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন মিলে এসিড তৈরী হওয়া সাধারন এবং ফ্রিকুয়েন্ট ক্যামিকেল রিয়েকশন। এটা এখনো হয়। বায়ু মন্ডলে কার্বনিক এসিড তৈরী হয়ে হয় এসিড বৃষ্টি।   

এ্যামিনো আসিড নিজে সরল একটা অনু। এটা কোন প্রান নয়। নিজেকে রেপ্লিকেটও করতে পারেনা। অতএব শুধ এ্যামি্নো এসিড হওয়টা কোন বড় ব্যাপার নয়।

আসল প্রশ্ন হল বিভিন্ন এমিনো এসিড গুলো মিলে কিভাবে আরএনএ হল? তা থেকে ডিএনএ কিভাবে হল, প্রোটিন কিভাবে হল ইত্যাদি।

উত্তর হল। "আমরা নিশ্চিত নই।" বর্তমান সময়ের জন্য সেটা হল ছাদের ফুটো।  hehe

বিভিন্ন থিউরী অবশ্যই আছে,
স্পনটেনিয়াস থিওরী,  স্পেস ইম্পেক্ট থিওরী, এলিয়েন থিওরী.... কেউ যদি দাবী করের গড করেছেন। সেটাও হবে মোর অর ‌ল্যাস এক্সেপ্টেড থিওরী।

কিন্তু পয়েন্ট হল ইট ডাজন্ট ম্যাটার! যদি গড করেও থাকেন, তার পরেও এর পরবর্তী অংশটুকু মিথ্যে হয়ে যায় না। এভুলেশন স্টিল ভ্যালিড। অন্যভাবে বললে, পাথরটা যদি গড ফেলেও থাকেন তারপরেও তিনি যে লাথি মেরে খাবার বাটি উল্টে ফেলেনি, অথবা বলটা গড়িয়ে দেননি তা নিশ্চিত থেকে যায়।

৫৮

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

invarbrass লিখেছেন:

আপনার পোস্টে বেশ কিছু অমুক রিসার্চ দ্বারা প্রমাণিত, তমুক তত্ব বাতিল হয়ে গেছে, সমুক অসম্ভব জাতীয় বাক্য দেখছি। কিন্তু একটাও সলিড, ডেফিনিটিভ রেফারেন্স দেখছি না। ডিবেট চলার জন্য কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকাও জরুরী।

আমি তো মনে হয়, অমুক-তমুক-সমুক জাতীয় কোনো রেফারেন্স দেই নি। আমি নির্দিষ্ট করেই বলেছি, রিসার্চের ফলাফলটাও তুলে ধরেছি। এর ভিত্তিতে কে কোন সময় কী বলেছিলেন সেটাও বলেছি। তার চেয়ে বেশি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভবত আমার সামর্থ্যে নেই।

invarbrass লিখেছেন:

কোটি কোটি মানুষের ভীড়ে দুয়েকজন গ্যালিলেও, ডা ভিন্চি, এ্যারিস্টটল দীর্ঘজীবি হলে কি আসে যায়। আমার দুই গ্র্যাণ্ডফাদার ৮০+ বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। আবার আমার এক স্কুলের বন্ধু মাস দুয়েক আগে অল্প বয়সে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হয়ে মারা গেলো। গত বৃহঃপতিবারে আরেক বন্ধুর মা ক্যান্সারে মারা গেলেন। তার আগে এক কাযিনের ম্যাচিউর বাচ্চা হঠাৎ স্টিলবর্ণ হয়ে বেরোলো। বিগত মাস তিনেকে এসব ঘটেছে- তাহলে নিশ্চয়ই ভাবার অবকাশ নেই যে কয়েক মাস/বছরের ব্যবধানে মানুষের আয়ু কমে গেছে। এগুলো কোনো উপস্থাপনযোগ্য প্রমাণই নয়। Anecdotal evidence is no evidence at all.

আপনি লক্ষ্য করে দেখুন, আগের কোনো এক পোষ্টে আপনি লিখেছিলেন- হিউম্যান বডি সীমিত আয়ুর জন্য অপ্টিমাইজড। ২৫ বছর বয়সে একজন মানুষ তাঁর বডির পীক টাইম অতিক্রম করে। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তন আমাদের মাত্র ২৫-৩০ বছরের আয়ু দিয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক আদিম পুরুষ ২০-২৫ বছরেই প্রজননের কাজ করে ফেলতো। অল্প সংখ্যক পুরুষ ৩৫-৪০ বছর বেঁচে থাকতে পারতো। আর বৃদ্ধদের সংখ্যা খুবই নগণ্য ছিলো। বেশিরভাগ পুরুষই শিকার করতে গিয়ে, পশুর আক্রমণে, রোগেশোকে বা কোনো না কোনো দুর্ঘটনায় মারা যেতো। কিন্তু ওই এইজ ব্যারিয়ার আমরা ভেঙেছি। আজ আমরা ৭০-৮০ বছর অনায়াসে বেঁচে থাকছি। যে বডীমেশিন ২৫-৩০ বছরে হাইয়েস্ট পারফর্ম করার জন্য তৈরী, তাকে আমরা ৩/৪ গুণ বেশি সময় ধরে খাটাচ্ছি। আর তার সঙে যুক্ত হয়েছে আধুনিক কেমিকেল সভ্যতা।
আমি জিনিসটা জাস্ট ক্লিয়ার করতে চেয়েছি, যে আধুনিক ক্যামিক্যাল সভ্যতার সাথে, আয়ুর যোগসূত্র খুবই কম। কারণ আধুনিক ক্যামিক্যাল সভ্যতা এসেছে মানুষের প্রয়োজনেই। আর এই প্রয়োজনটাই প্রত্যেক মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। আপনার কোনো একটা সমস্যা তৈরী না হওয়ার আগ পর্যন্ত, আপনি কিছুতেই প্রগতির পথে এগুতে পারবেন না। কারণ মানুষের দেহে ক্যান্সার রোগটা যদি না হতো, তাহলে মানুষ ক্যান্সারের ঔষধ আবিষ্কারের কথা ভাবতই না (এখনো সেভাবে সফল না হলেও)। এখন চারপাশে দূষণ-বিষাক্ত খাবার ৫০০ বছর আগের তুলনায় অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তাই আগের চেয়ে রোগের ঝুঁকিটাও এখন বেশি। আগে হয়তো লোকেরা সাধারণ একটা রোগেরই চিকিৎসা জানত না। কিন্তু এটাও আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, যে তখন এইডস এর মতো রোগও ছিল না।
আর আপনি পশুর আক্রমণে মৃত্যু, যুদ্ধে মৃত্যু- এসব মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে পারেন। এসব বিবেচনায় নিয়েও যদি আপনি বলেন, যে তখনকার গড় আয়ু ছিল ২৫-৩০; আমি মেনে নেব। কিন্তু যদি বলে এই আয়ুটাই ছিল স্বাভাবিক মৃত্যুর আগে তখনকার মানুষের গড় আয়ু; তখন দ্বিমত পোষণ করতেই হবে।

invarbrass লিখেছেন:

কলেজে পপুলেশন ডেমোগ্রাফী পড়তে হয়েছিলো। MMR, IMR, CBR, CDR, TFR, NPR, RLF আরো কত কি অজস্র প্যারামিটার, ভ্যারিয়েবল দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠীর জনমিতি ডিফাইন করা হয়। তাই আমি আরো সলিড কিছু আশা করেছিলাম।

জনসংখ্যার তত্ত্বগুলো নিয়ে সাধারণত আলোচনা হয় সমাজবিজ্ঞানের আওতায়। এখানে আপনি প্রতিটি তত্ত্বের সমালোচনা করার সুযোগ পাবেন, কারণ তত্ত্বগুলো ১০০% বস্তুনিষ্টভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। তাই এসব না তোলাই ভাল। তবে, আমি সেটা বলছি না যে তত্ত্বগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। 

invarbrass লিখেছেন:

আমি অবশ্য ভেবেছিলাম আপনি নূহ নবী ৯০০ বছর বেঁচে ছিলেন, বা আদ/সামুদ জাতীর লোকেরা ৩ তলা বিল্ডিঙের মত ঢ্যাঙা ছিলো ইত্যাদি অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।

এই প্রমাণগুলো তো একান্তই আমাদের জন্য। এসব তো বিশ্বাস করার জন্য আপনি বাধ্য নন। তাই এসব টানা অর্থহীন। এভাবে আলোচনাও চলে না। আমি যদি বলি নুহ ৯০০ বছর বেঁচে ছিলেন, এবং বার বার শুধু একই কথা বলি, তাহলে আর কথা বলে কী লাভ। আমি তাই এমন কিছু লোকের নাম বললাম, যাঁদের নাম লিখে সার্চ দিলে সহজেই আপনি তাঁদের বৃত্তান্ত পেয়ে যাবেন। এবং এরা পুরোনো শতাব্দীর মানুষ। বিভিন্ন শতাব্দির মানুষ। কিন্তু যদি বলি আবুল হোসেন ১৫০ বছর বেঁচে ছিলেন, আপনি তাঁকে কোথায় খুঁজে পাবেন? তাহলে এই আবুলের নাম বলাটাও অর্থহীন। আমি এখানে একটা সোজা পথে হাঁটতে চেয়েছি।

invarbrass লিখেছেন:

১.৩ মিলিয়ন বছরের বিবর্তনের মধ্যে মানুষের জানা সভ্যতা (আনুমানিক ১০,০০০ বছর পুরণো) খুবই অল্প সময়। ১০ হাজার বছর দিয়ে ১৩ লক্ষ বছরের ট্রেণ্ড সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসা সঠিক হবে না। গুহাবাসী প্রাগৈতিহাসিক আদিম hunter-gatherer প্রাণীদের লাইফস্টাইল একরকম ছিলো, আবার ৫/৭০০০ বছর পূর্বের জনগোষ্ঠীও সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন করতো। 1,300,000 % 10,000 = 130X অর্থাৎ মানুষ যতটুকু সময় সভ্যতায় কাটিয়েছে, তার ১৩০ গুণ বেশি সময় কাটিয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগে (টেকনিকালী আদিম প্রাণীরা এ্যানাটমিকালী মডার্ণ হিউম্যান না অবশ্য) কাজেই ব্রড পিকচারটা বিবেচনা করা উচিৎ।

পুরো ছবিটা প্রশস্ত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা আপনার কাজ। কারণ এখানে আমি মানছি না যে ১.৩ মিলিয়ন বছর আগে মানুষের আদিম স্থর বলে কিছু ছিল। আমি সরাসরি মানুষ কল্পনা করি। তাই আমার চিন্তা চেতনা ঘুরপাক খায় এই প্রায় ১০ বা ৭-৮ হাজার বছরের মধ্যেই।

invarbrass লিখেছেন:

তাছাড়া, যুদ্ধবিগ্রহ, রোগশোক, এ্যাক্সিডেণ্ট এগুলো মূলতঃ পরিবেশগত বিষয়, এনভায়রণমেণ্টাল ফ্যাক্টর। আমরা আলোচনা করছি জীনের দৃষ্টিকোণ থেকে লাইফ এক্সপেক্টেন্সী নিয়ে।

আমি যুদ্ধবিগ্রহ আর এ্যাক্সিডেন্টের হিসাবটা বাদ দেওয়ার কথা আগেও বলেছি। এখনো বলছি। তবে, রোগশোক বিবেচনায় রাখা উচিত। কারণ এটা আগেও ছিল, এখনো আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে হিসেব করলে, মানুষের জীবনের প্রত্যাশিত গড় আয়ু মাত্র ২৫-৩০, এটা আপনি বলতে পারেন না। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সারা বিশ্বে কয়েক বছরের মধ্যেই কোটিরও বেশি মানুষ মারা গেল। এর ভিত্তিতে যদি হিসেব করে আপনি মানুষের প্রত্যাশিত জীবন আয়ু ধরেন তাহলে, দেখা যাবে যুদ্ধহীন অবস্থায় একটা মানুষ অবশ্যই এর চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকছে। হিসেবটা করা উচিত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যেহেতু এটা গড় আয়ুর চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, মানুষের গড় প্রত্যাশিত আয়ুসীমাকে।

invarbrass লিখেছেন:

সাম্প্রতিককালে মহাকাশে গ্লাইসিনের উপস্থিতির প্রমাণ প্যানস্পার্মিয়া হাইপোথিসিস-কে আবারো শক্তিশালী করেছে। প্যানস্পার্মিয়া থিওরী বলেঃ মহাবিশ্বের অগুণতি স্থানে প্রাণের (বা অন্ততঃ প্রাণের কেমিস্টৃর) উপস্থিতি আছে, এবং ধূমকেতু, উল্কা, এ্যাস্টেরয়েড ইত্যাদির মাধ্যমে প্রাণ (ও প্রাণের পূর্বসুরী কেমিস্টৃ) বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। হতে পারে পৃথিবীতে এ্যামিনো এসিড বা একেবারে সুসংগঠিত প্রাণই আমদানী হয়েছিলো কমেট বা মিটিওরের বুকে চড়ে! প্যানস্পার্মিয়া অবশ্য আদি প্রাণের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে না, শুধু প্রাণের অণু-পরমাণুগুলোর সাপ্লাই চেইন ডিস্টৃবিউশন সম্পর্কে ধারণা দেয়। পুরো মহাবিশ্বেই প্রাণের পৃকারসর কেমিস্ট্রি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই আইডিয়াটা ধীরে ধীরে জোরদার হচ্ছে!

আচ্ছা জোরদার হতে থাকুক। আমি প্রমাণের অপেক্ষায়। যদিও খুব একটা আশাবাদী নই। কারণ পুরো পদ্ধতিটা একহয়ে কাজ করে নিজে থেকে প্রাণ সৃষ্টি হওয়াটা কত বেশি কঠিন একটা ব্যাপার, ইতিমধ্যে সে সম্পর্কে আমার ধারণা হয়ে গেছে। তবুও গবেষণার প্রতি শুভকামরা রইল।

invarbrass লিখেছেন:

রিডলী স্কটের এলিয়েন্স, প্রমিথিয়াস যদি বাস্তবে হয়ে থাকে তবে কাশী-গয়া, মক্কা, ভ্যাটিকান, জেরুজালেম প্রভৃতি স্থানের ট্যুরিযম আয়ে কি ধ্বসটাই না নামবে...

হা হা হা সেই অপেক্ষাতেই থাকুন। অবশ্য ওই সব স্থানের ট্যুরিজমে ধস নামলে আমার বিন্দুমাত্রও আক্ষেপ হবে না। মক্কা ছাড়া আমি অন্যসব নামগুলোর দায়িত্বও নেব না। এমনকি মক্কার ট্যুরিজমে ধস নামলেও আমার আপত্তি নেই। জানি তাঁরা প্রচুর ব্যবসা করছে। কিন্তু আমি মনে করি সেটা ব্যবসার জায়গা না। তবে, রিডলী স্কট শুধুই একজন ডিরেক্টর। কোনো বিজ্ঞানী নন। তাঁর চিত্রনাট্য পড়ে বা মুভি দেখে যদি ভাবেন সেটাই সত্যি- তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কারো মনের ওপর তো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্টা করা অনুচিত। তাই আমিও বলি, অপেক্ষাতেই থাকুন।

সদস্য_১ লিখেছেন:

এ্যামিনো আসিড নিজে সরল একটা অনু। এটা কোন প্রান নয়। নিজেকে রেপ্লিকেটও করতে পারেনা। অতএব শুধ এ্যামি্নো এসিড হওয়টা কোন বড় ব্যাপার নয়। আসল প্রশ্ন হল বিভিন্ন এমিনো এসিড গুলো মিলে কিভাবে আরএনএ হল? তা থেকে ডিএনএ কিভাবে হল, প্রোটিন কিভাবে হল ইত্যাদি।
উত্তর হল। "আমরা নিশ্চিত নই।" বর্তমান সময়ের জন্য সেটা হল ছাদের ফুটো
বিভিন্ন থিউরী অবশ্যই আছে,
স্পনটেনিয়াস থিওরী,  স্পেস ইম্পেক্ট থিওরী, এলিয়েন থিওরী.... কেউ যদি দাবী করের গড করেছেন। সেটাও হবে মোর অর ল্যাস এক্সেপ্টেড থিওরী। কিন্তু পয়েন্ট হল ইট ডাজন্ট ম্যাটার! যদি গড করেও থাকেন, তার পরেও এর পরবর্তী অংশটুকু মিথ্যে হয়ে যায় না। এভুলেশন স্টিল ভ্যালিড। অন্যভাবে বললে, পাথরটা যদি গড ফেলেও থাকেন তারপরেও তিনি যে লাথি মেরে খাবার বাটি উল্টে ফেলেনি, অথবা বলটা গড়িয়ে দেননি তা নিশ্চিত থেকে যায়।

ওপরের লেখার সাথে আমি প্রায় একমত। শুধু Evolution still valid অংশটি থেকে Evolution শব্দটি বাতিল করে সেখানে Survival development of life skills কথাটি বসিলে দিলেই হয়।

৫৯

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

@ইনভারব্রাস এবং সদস্য-১ ভাইঃ একটা অনুরোধ। তালগাছের মালিককে বোঝানোর চেষ্টা থেকে ক্ষান্ত দিন। এছাড়া সাইফুল ভাইয়ের প্রায় একই ধরনের একটা বড় টপিক আছে এ ধরনের বিষয় নিয়ে। আমার হিসেবে ওখানেই পোস্ট করা বেশি যুক্তিযুক্ত। করবো করবো না করেও কমেন্ট করে ফেললাম। এই টপিকে এটাই শেষ কমেন্ট  donttell

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

৬০

Re: চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্ভাবনা নিয়ে দুটো প্রশ্ন

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

এছাড়া সাইফুল ভাইয়ের প্রায় একই ধরনের একটা বড় টপিক আছে এ ধরনের বিষয় নিয়ে। আমার হিসেবে ওখানেই পোস্ট করা বেশি যুক্তিযুক্ত।

আপনার সাথে এক মত আমি মনে করি পুরা টপিক টিই "'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস" http://forum.projanmo.com/topic37965.html এর সাথে মার্জ করে দেওয়া হোক। এক জায়গাতে সব তথ্য থাকলে বারবার একি জিনিষ লেখা লাগে না। কয় দিন পরে এই টপিক আর খুজে পাওয়া যাবে না কিন্তু সেই টপিকে এই টপিকের লেখা গুলো ঢুকিয়ে দিলে নতুন সদস্যরা এক স্থানে অনেক তথ্য এক সাথে পেয়ে যাবে।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত