টপিকঃ নিবেদিতা

শেষ পয়সার প্রদীপ কিনে খুজিব তোমায়
হয়ত পাবো নিয়ে আসিব পানসীর ডিঙায়
খুঁজিতে খুঁজিতে যদি অন্ধ হয়ে যায়
কণ্ঠস্বরে চিনিব তোমায়
সন্দেহ যে নাই। 

অমসৃণ একটা কোরালের উপর দাড়িয়ে সোহেল পিছনের দিকে তাকিয়ে বলল, ওই শামিম তোর সুনীলের দুটি অভিশাপ কবিতা টা মনে আছে? শামিম সবেমাত্র পেট মোটা ডাবটার অতলে তলিয়ে যাওয়া স্ট্র টার অপর প্রান্তে চুমুক লাগিয়েছিল, সোহেলের কথা শেষ হবার আগেই লাফিয়ে উঠে বলল অবশ্যই মনে আছে,
সমুদ্রের জলে আমি থুতু ফেলেছিলাম
            কেও দেখেনি, কেও টের পায়নি
            প্রবল ঢেউ এর মাথার ফেনার মধ্যে
            মিশে গিয়েছিলো আমার থুতু
              তবু আমার লজ্জা হয়, এতদিন পর আমি শুনতে পাই
                               সমুদ্রের অভিশাপ।

সোহেল বিরক্ত হয়ে বলল থাম তোরে পুরা কবিতা বলতে বলি নাই, প্যান্টের জিপার নামিয়ে প্রবল বেগে সাগরের পানিতে গরম পানির ফোয়ারা ঝরাতে ঝরাতে সোহেল গলায় সব জোর দিয়ে আবৃতি শুরু করলো,
সমুদ্রের জলে আমি করেছিলাম মুতু
            কেও দেখেনি, কেও টের পায়নি
            প্রবল ঢেউ এর মাথার ফেনার মধ্যে
                         মিশে গিয়েছিলো আমার মুতু
                        তবু আমার লজ্জা হয়, এতদিন পর আমি শুনতে পাই
                                          সমুদ্রের অভিশাপ।
পেছনে বসে থাকা শামিম, মখলেস, কবির তিনজনেই খিক খিক করে হেসে উঠলো ।আমার খুব ইচ্ছে হল উঠে গিয়ে সোহেল এর পশ্চাৎ দেশে কষে এক লাথি মারি , সমুদ্রের এত বড় অপমান সহ্য করা কঠিন। ভাবতে  অবাক লাগে মাত্র আট বছর আগে এই জায়গাতেই দাড়িয়ে আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে সমুদ্র কে আমাদের দ্বিতীয় ঈশ্বর বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলাম । আট বছর কি পাঁচটা মানুষ কে আমুলে বদলে দেবার জন্য খুব বেশি সময়? তখন আমরা সবে মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হয়েছি, বুক ভরা উচ্ছাস। প্রথম সমুদ্র দেখার পর আমাদের সবার মাথা খারাপের অবস্থা, ডুবে যাওয়া সূর্য কে পেছনে ফেলে সন্ধ্যার  আলো আধারির মাঝে আমরা পাঁচ জনে ভেজা বালির উপর হাঁটু গেড়ে বসে বলেছিলাম হে আমাদের দ্বিতীয় ঈশ্বর তোমার বিশালতার কাছে আমরা বড় ক্ষুদ্র আমাদের এই আত্মনিবেদন গ্রহন করো । সব কিছু কত দ্রুত বদলে যায় ।
সোহেল প্যান্টের জিপার টেনে উপরে তুলে বলল, দে আর একটা ডাব দে ।আসলে ডাব বললে ভুল হবে মখলেস তার বুদ্ধিতে ভরা মাথা ব্যবহার করে স্থানীয় মদের সাথে টম্যাটো সস আরও হাবিজাবি কি সব মিশিয়ে ককটেল এর মত কিছু একটা তৈরি করেছে আর আবিষ্কারকের নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছে মখাটেল, ডাবের খোলে মখাটেল পানের বুদ্ধি কবির এর কারন এই ট্রিপে বউরাও সাথে আছে তারা পতিদেব দের মদ্যপান কখনই হাসি মুখে মেনে নেবে না।মখলেস বিড় বিড় করে বলতে লাগলো বিয়া করা বহুত বড় ভুল হইছে বউয়ের ভয় এ স্ট্র দিয়া জিনিস খাইতেছি জীবনে কাওরে স্ট্র দিয়া মদ খাইতে দেখছস?
বর্ষা(কবির এর বউ) পানির বোতল নিতে এসে বিরক্ত মুখে বলল তোমাদের ঘটনা কি, দিনরাত মুখের সামনে ডাব ঝুলায় রাখছো ক্যান। সেইন্ট মারটিন এর সব ডাব কি তোমরাই শেষ করার পরিকল্পনা করতেছো? বর্ষা চলে যেতেই শামিম আমাকে চেপে ধরল , বাদল তুই কি সন্ন্যাস নিয়েছিস? মখলেস এর সম্মান রক্ষার্থে একবার হলেও তো মখাটেল এ চুমুক দিয়ে দেখা উচিত তাইনা? আমি নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললাম , দেখ আমি তোদের সাথে আসতে রাজী হয়েছি শুধুমাত্র একটা শর্তে, আমাকে আমার মত থাকতে দিবি , আমি আশা করবো পুর ট্রিপ এ তোদের মধ্যে কেও সে শর্ত ভাঙ্গার সামান্যতম চেষ্টাও করবি না।
ওদের রেখে আমি উঠে আসলাম,এদের সাথে আসা আসলেই ঠিক হয়নি, সবাই বদলে গেছে , আমিও হয়তো বদলাতে পারতাম কিন্তু নিবেদিতার জন্য পারিনি, অনেক বড় পাপিষ্ঠ ও মন্দির এ পবিত্র শরীর এ ঢোকে। নিবেদিতা আমার কাছে মন্দিরের মতো , আমার ভালোত্ব বলে নিজস্ব কিছু নেই সব কিছু ওর দেয়া। এখানে নিবেদিতা আছে, মখাটেল এর গন্ধ ভরা মুখে আমি ওকে ভালবাসার কথা শোনাতে পারবো না , ও কিছু বলবে না জানি কিন্তু আমি নিজের কাছে বড় ছোট হয়ে যাবো।
হাঁটতে হাঁটতে শরীরে ক্লান্তি এসে হানা দিলো। ভেজা বালির উপর বসে পড়লাম।পাশেই বিশাল জায়গা বুনো কলমির বেগুনী ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে। নিবেদিতার এই ফুল খুব পছন্দ,বিয়ের পর ওকে নিয়ে প্রথমবার যখন এখানে আসি ও সারাদিন খোপায় এই ফুল গুঁজে রাখতো। আমি মাঝে মাঝেই ওর খোঁপার মাঝে নাক গুঁজে গন্ধ নেবার চেষ্টা করতাম, ও হেসে বলতো কি করো বাদল এ ফুলে গন্ধ নেই তো । নিবেদিতা হয়তো ঠিক ই বলতো এ ফুলে গন্ধ নেই কিন্তু কেন জানিনা আমি গন্ধ পেতাম। মাতাল করা এক গন্ধ , আমার সমস্ত সত্তাকে ভাল লাগায় অবশ করে দিতো। সমস্ত দ্বীপের আলো যখন নিভে যেতো গভীর রাতে আমরা দুজন হাত ধরাধরি করে সমুদ্রের পাড়ে এসে দাঁড়াতাম, সাগরের গর্জন ছাপিয়ে ও যখন বলে উঠত বাদল তোমাকে খুব ভালবাসি আমি,বহু বার উচ্চারিত এই বাক্যটি আমার কাছে অমৃতের মতো লাগতো, মনে হতো পৃথিবীতে প্রথম কোন নারী প্রথম কোন পুরুষ কে ভালাবাসা জানাচ্ছে, মাঝে মাঝে ঢেউয়ের তালে তালে ও পুরো সাগর পাড় জুড়ে নাচত , চাঁদের আলোয় নিবেদিতার আত্মনিবেদন আমার কাছে দেবালোকের অপ্সরীদের আত্মনিবেদনের মত শুদ্ধ মনে হতো । আসলে সুখি হতে কি খুব বেশি কিছু লাগে?যার ঠিক যতটুকু দরকার প্রকৃতি তাকে ততটুকুই দেই, শুধু আমরা বুঝিনা ভাবি সবার বেশি বেশি আছে প্রকৃতি শুধুমাত্র আমাকে দেবার বেলাতেই কার্পণ্য করেছে,আমাদের সারাটা জীবন এই আত্মগ্লানিতেই কেটে যায় যে  আহা আমার জীবনে  প্রাপ্তি এতো কম কেন?নেই নেই করতে করতে জীবনে যা পেয়েছি সেটাকেও ঠিক মতো ভোগ  করতে পারিনা ।  জীবনে যেটুকু আছে তা নিয়ে কিভাবে সুখি হওয়া যায় আমি নিবেদিতার কাছে শিখেছি , আমার  বন্ধুরা এই নেই সেই নেই করে যখন তোলপাড় করছে তখন আমার কোন অভিযোগ নেই কারন সুখি হবার মন্ত্র আমার প্রেয়সী আমার শিরায় শিরায় মিশিয়ে দিয়েছে ।
অল্প কিছু দুরেই বন্ধু পত্নিদের আড্ডা বসেছে এখান থেকে সব কথায় শোনা যাচ্ছে, আমি ওদের আড়াল করে কয়েকটা ফুল ছিঁড়ে পকেটে ভরলাম, সন্ধ্যা বেলা সবাই কে আড়াল করে নিবেদিতা কে দিতে হবে নইলে সবাই হাসাহাসি করবে। দূর থেকে সোহেল এর বউকে দেখতে স্টার প্লাস এর নায়িকা দের মতো লাগছে , মাথা থেকে পা পর্যন্ত গয়না দিয়ে মোড়া , বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ার সময় খুব সুন্দর কবিতা আবৃতি করতো , মিথ্যে বলবো না সেই সময় ওর জন্য আমার বুকের মধ্যে একটু ক্যামন ক্যামন যেন করতো ভাগ্যিস আমার প্রোপোজ করার আগেই সো হেল ওকে প্রোপোজ করে বসেছিল নইলে সারাজীবন স্টার প্লাস  সাথে নিয়ে চলতে হতো , আমি নিবেদিতাকে পেতাম না আর  ওকে না পেলে আমিও নিশ্চয়ই আদিম মানুষের মতো মখলেশ এর হাতের তৈরি মখাটেল খেয়ে সমুদ্রে জল ত্যাগ করতে করতে বলতাম,
সমুদ্রের জলে আমি করেছিলাম মুতু।
ঈশ্বর বড় বাচা বাঁচিয়েছে। ওদের শাড়ি গয়নার আলাপ থেকে কানকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত জায়গা ত্যাগ করলাম।

সূর্য ডুবে গেছে, সাগরের খোলা হাওয়া দ্বীপবাসীর হাড়ে কাপন ধরিয়ে দিচ্ছে। হাল্কা হাল্কা শীত পড়তে শুরু করেছে , আমি একটা চাদর জড়িয়ে হোটেলের সামনের ছাউনি ঘেরা জায়গা টাতে বসে আছি, এখানে আজ রাতে বারবিকিউ হবার কথা । গনগনে আগুনের পাশে বসে থাকতে ভালই লাগছে, আস্তে আস্তে সবাই হাজির হল । বন্ধু পত্নিরা শাড়ী গয়না দেখানোর প্রতিযোগিতায় কেও শীতের পোশাক পরেনি, একেকজনকে দেখে মায়া লাগছে ঠাণ্ডায় সবার মুখ শুকিয়ে গেছে, আমি করুন সুরে বললাম তোমাদের ঠাণ্ডা লাগছে না? একটা চাদর টাদর পরে আসলেই তো পারতে । বর্ষা কাঁপতে কাঁপতে বলল না না বাদল ভাই আমাদের ঠাণ্ডা লাগছে না।আমি আর কিছু বললাম না এরা কি বুঝবে আগুনের পাশে চাদর জড়িয়ে বসে থাকা নারীর মুখে যখন আগুনের লালচে আভা পড়ে তখন তাকে কতটা সুন্দর দেখায় ।বারবিকিউ শেষ হতে অনেক রাত হয়ে গেলো, আমি নিবেদিতা কে নিভৃতে পাবার জন্য আকুল হয়ে গেলাম, সবাই কে ছেড়ে উঠতেও পারছি না, এক সময় মেয়েরা চলে গেলো । দ্বীপের সব আলো নিভে গেলে আমাদের এখানে হারিকেন দিয়ে গেলো।শামিম লাফিয়ে উঠলো চমৎকার পরিবেশ, আমার গল্পে মনোযোগ নেই দেখে কবির বলল নে আজ একটা মজার খেলা খেলি, আমরা অনেক পুরনো বন্ধু  সবাই সবার গোপন কথা মোটামুটি জানি তারপর ও নিশ্চয়ই আমাদের সবার জীবনে এমন কিছু বিষয় আছে যা আমরা কাওকে বলি নাই আজ সেটা সবাই স্বীকার করবো। আমার হঠাৎ  করে মনে এক ধরনের প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে উঠলো, দুই বছর আগে ঘটে  যাওয়া এক ঘটনার জন্য এদের ছোট একটা শাস্তি দিতে ইচ্ছে হল। সোহেল বলল , বাদল তোরে দিয়ে শুরু হোক। আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, আমি আমার খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর বউকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছি। আমার কথা শেষ হবার সাথে সাথে সবার মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি শুরু হয়ে গেলো, এরা ছাড়া যে আমার কাছের কোন বন্ধু নেই সবাই জানে।শামিম গম্ভীর মুখে বলল তুই কি বলতে চাচ্ছিস ?আমি কোন উত্তর না দিয়ে সাগরের দিকে হাঁটা শুরু করলাম হঠাৎ  মনে হলো এটা কি করছি? আমার ছোট একটা মিথ্যা ওদের দাম্পত্য সম্পর্কে তিক্ততা আনার জন্য যথেষ্ট । নিবেদিতা জানলে খুব কষ্ট পাবে, প্রতিশোধ স্পৃহা আমাকে এতটা নিচে নামালো কিভাবে ভাবতে পারছি না।  আমি ফিরে আসলাম ওদের থমথমে মুখ দেখে হেসে বললাম , সবাই মুখকে বাংলার পাঁচ বানিয়ে রেখেছিস কেন? ভয় নাই আমি তোদের কারো বউকে চুমু খাইনি , তোদের সাথে অনেক দিন কোন মজা করিনি তাই একটু সস্তা রসিকতা করলাম। আমি ঘুরে দাড়াতেই মখলেস বলল, বাদল তুই আমাদের ক্ষমা করতে পারিস নি তাইনা? ওদের দিকে না তাকিয়েই জবাব দিলাম, ক্ষমা করার জন্য অনেক বড় মন লাগে আমার মনটা এখনো অতটা বড় হইনি যেদিন হবে সেদিন অবশ্যই তোদের ক্ষমা করে দেবো ।

আকাশে বিশাল চাঁদ উঠেছে, সমস্ত সাগর তীর নির্জন শুধু ঢেউয়ের উত্তাল গর্জন ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। আমি ফিসফিস করে ডাকলাম নিবেদিতা, সাথে সাথে বিশাল বড় একটা ঢেউ এসে আমার পায়ে আছড়ে পড়লো, পকেট থেকে নেতিয়ে পড়া ফুলগুলো বের করে ঢেউ এর মাথায় রাখতেই মুহূর্তে তা গভীর সাগরে তলিয়ে গেলো। আমি দু হাত প্রসারিত করে চীৎকার  করে বললাম হে সাগর দেবতা হে আমার আমার দ্বিতীয় ঈশ্বর আমার নিবেদিতা তোমার কাছে যেন ভাল থাকে ।  চোখ খুলে দেখি  শামিম , কবির, মখলেস , সোহেল ধীর পায়ে হেটে আসছে। আমার সামনে এসে চার জনেই ধপ করে বসে পড়লো ঠিক সেভাবে যেভাবে প্রথম সমুদ্র দেখে আমরা সবাই বসেছিলাম, চার জনেই হাত জোড় করে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, বাদল আমাদের ক্ষমা কর। আমি কোন কথা না বলে হোটেলের দিকে হাঁটা শুরু করলাম, দুই বছর আগে এই রকমই এক ট্রিপে আমরা সবাই এসেছিলাম, ভাঁটার সময় সবাই গোসলে নেমেছিল , নিবেদিতা নামতে চাইনি কারন ও সাঁতার জানত না আমার চার বন্ধু ওকে জোর করে সাগরে নামায় , সবার অলক্ষ্যে সাগরের ঢেউ ওকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমি শোনার সাথে সাথে হোটেল থেকে ছুটে এসেছিলাম, পারিনি আমি নিবেদিতা কে বাঁচাতে পারিনি ততক্ষণে ও গভীর সাগরে হারিয়ে গেছে।আমি পেছন ফিরে তাকালাম ওরা এখনো মাথা নিচু করে বসে আছে, মনে মনে বললাম তোদের ক্ষমা করলাম ।আমি আবার ফিরে গিয়ে বললাম চল রুমে চল বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে, চার জনেই একসাথে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো । পেছনে জ্যোৎস্না স্নাত সাগর কে ফেলে আমরা পাঁচ জন দূরে মিটমিট করে জ্বলা হারিকেন এর আলোর দিকে অগ্রসর হলাম।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

Re: নিবেদিতা

চমৎকার মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ছড়াবাজ (১৩-০৯-২০১৩ ২৩:২২)

Re: নিবেদিতা

মুগ্ধতা গল্পে,
ভালবাসা কি দারুন,
শেষটায় পাঞ্চখানা,
অসহায় নিদারুন।

ছুঁয়ে গেল মনটা,
বাষ্পীয় ভেজাতে,
কত চাপা ব্যথা হায়,
অতীতকে খোঁজাতে।


===
প্রকৃতি অসাধারণ শক্তিশালী। মাঝে মাঝে এর শক্তি দেখলে নিজেকে মানুষকে অনেক অনেক বেশি ক্ষুদ্র মনে হয়। নিজেদের অর্জনগুলোকে হাস্যকর লাগে।

একটু আগেই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে এবছর জুনে ঘটে যাওয়া একটা ডিজাস্টার দেখতেছিলাম। Kedarnath disaster দিয়ে ইউটিউবে খুঁজেই পাবেন।

গল্পটার অসাধারণ ১৮০ ডিগ্রী ঘুরানোটা অসাধারণ দক্ষতায় হয়েছে; পাঞ্চটুকু এতটাই আকষ্মিক যে সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি।

Re: নিবেদিতা

অসাধারণ !

Re: নিবেদিতা

ঠিক শেষমূহুর্তে এসে যেন একটা ধাক্কা খেলাম। অনেক দিন পরে এমন একটা চমকে দেয়ার মত গল্প পেলাম। প্রায়ই ভেবেছি হয়তো নিবেদিতা বেচে নেই, কিন্তু পরক্ষনেই মনে হয়েছে না বেচে আছে। একটা সময় এ এসে বিশ্বাস করে ফেলেছি নিবেদিতা এখনও বেচে আছে। ঠিক তার পরের লাইনেই দেখি তাকে সাগর নিয়ে গেছে দু বছর আগে। অসাধারন।

এখনও শিখছি। আরো শিখতে চাই। পরে নাহয় শেখানো যাবে। আপাতত শেয়ার করতে পারি

Re: নিবেদিতা

এক কথায় অসাধারণ!

Re: নিবেদিতা

জট্টিল  thumbs_up thumbs_up

Re: নিবেদিতা

আমার একটা মূদ্রাদোষ হল কোন বই পড়া বা ছবি দেখার আগে সেটার শেষটুকু পড়ে নেয়া/দেখে নেয়া। তবে আপনার গল্পের ঠাস বুনোটের মুগ্ধতাটা তাতে একটুও ম্লান হয় নি। বাংলা সাহিত্যে এখন ছোট গল্প বিরল হয়ে গেছে। বহুদিন পর একটা পড়লাম যদিও আপনি এটাকে বড়/ছোট কোন বিশেষণেই অভিহিত করেন নি। বাদলের কষ্টটা আমাকেও ছুঁয়ে গেল। এমন চমৎকার লেখালেখি নিয়মিত প্রজন্মে পড়তে চাই।

hit like thunder and disappear like smoke

Re: নিবেদিতা

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ , সবাই এত চমৎকার করে মন্তব্য করেছেন যে আমি ধন্যবাদ দেবার ও ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ছড়াবাজ ভাইয়ের ছড়া টা পড়ে আমি আবেগে আপ্লুত হয়েছি এবং মন ভাইকে বলছি প্রজন্মে নিয়মিত হবার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

১০

Re: নিবেদিতা

দারুণ হয়েছে thumbs_up

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম (১৮-০৯-২০১৩ ০২:০০)

Re: নিবেদিতা

কিছু কিছু গল্প প্রাণের শিকড় ধরে নাড়া দেয়।এটা তেমন গল্প।  thumbs_up

ভেতরে  বাইরে আগুন
তবু এ হৃদয় বড় উচাটন
কখন আসবে ফাগুন

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: নিবেদিতা

mizvi ভাইয়া এবং কামরুল ভাইয়া দুজনকেই অশেষ ধন্যবাদ ।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

১৩

Re: নিবেদিতা

এইডা কিছু হল ? এতদুর পরে শেষে এসে এরকম দু:খ দেবার মানে কি  nailbiting nailbiting

১৪

Re: নিবেদিতা

আশিফ শাহো লিখেছেন:

এইডা কিছু হল ? এতদুর পরে শেষে এসে এরকম দু:খ দেবার মানে কি  nailbiting nailbiting

সরি ভাইজান ভুল করে দুঃখ দিয়ে ফেলছি ।  cry  cry  cry

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

১৫

Re: নিবেদিতা

oporazita লিখেছেন:
আশিফ শাহো লিখেছেন:

এইডা কিছু হল ? এতদুর পরে শেষে এসে এরকম দু:খ দেবার মানে কি  nailbiting nailbiting

সরি ভাইজান ভুল করে দুঃখ দিয়ে ফেলছি ।  cry  cry  cry

সাগরে একটা নৌকাও রাখতে পারেন নাই? আপনার মনেকি দয়ামায়া নাই  cry cry