টপিকঃ যে জীবন গাঙচিলের

এখনো কোনোদিন জ্যোৎস্নায় ভেসে যায় আকাশ
আমার জন্য প্রতীক্ষা করে
নদীর কিনারার মাটি প্রতীক্ষা করে আছে
আমার পদ স্পর্শের
ঘাস ফুলটি হাওয়ায় দুলছে প্রতীক্ষায়
আমি তাকে ছিঁড়ে নেবো
জলস্রোত ছলচ্ছল শব্দে আমায় ডাক পাঠাবে
এই সব স্থির সত্য নিয়ে বেঁচে আছি।
-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এই নির্ঝরা কিরে শুনছিস?
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,হ্যাঁ বল। দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে কানের কাছে ফোন ধরে আছি, নিশি ফোন করেছে, আমার বন্ধু, একমাস হোল বিয়ে হয়েছে। নতুন বিয়ে হওয়া মেয়েদের আল্লাদ এমনিতেই একটু বেশি থাকে নিশির ক্ষেত্রে সেটা চারগুন বেশি হয়েছে। তার এখন একমাত্র কাজ বন্ধুবান্ধবদের ফোন করা এবং স্বামী শ্বশুর বাড়ি নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রশংসা করা। দীর্ঘ সময় প্রশংসা শুনতে শুনতে আমার কানের টিমপেনিক পর্দা ব্যাথা হয়ে যাবার জোগাড় হয়েছে খুব ইচ্ছা করছে আস্তে করে ফোনটা কেটে দেই কিন্তু কোন লাভ নাই, নিশি চিনে জোঁকের চেয়েও বেশি নাছোড়বান্দা বার বার কল করতেই থাকবে সেলফোন বন্ধ করে দিলে ল্যান্ডফোন এ করবে ল্যান্ডফোন এ না পেলে বাসায় চলে আসবে সেটি হবে আর ও ভয়াবহ ব্যাপার। গল্পের এক পর্যায়ে বাসর রাতের গল্প চলে আসবে সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব বলবে।
বুঝলি নির্ঝরা, প্রথমে বলল নিশি আজ আমরা সারারাত গল্প করব আধাঘণ্টা পরেই দেখি গল্পে  মনোযোগ নাই, তার অন্যরকম ইচ্ছা ।
সামনা সামনি নিশির ঘ্যাঁচর প্যাঁচর শোনার চেয়ে ফোনে কষ্ট করে একটা ঘণ্টা সময় দেয়া বেশি ভালো ।
এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে বললাম, নিশি আমার শরীর টা ভালো নাই পরে কথা বলি। ওর উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করেই লাইন কেটে দিলাম।
শীতের বিকেল গুলো বড় দীর্ঘ লাগে আমার কাছে সময় যেনো স্থির হয়ে থাকে। চাদর মুড়ি দিয়ে বেল কুনিতে বসে আছি ,সামনের পুকুরের সবুজ জলে আলোছায়ার খেলা চলছে ,একটা বক কচুরিপানার উপর এক পা তুলে দাড়িয়ে আছে । ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে গেলো ,এক কাপ চা পেলে বেশ হতো ।
মাকে বললেই হয়ত করে দেবে ।
মা মৌনব্রত পালন করছেন, দুপুরবেলা খাবার টেবিল এ আমার সাথে একটা খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে।
যুদ্ধ শেষে ঘোষণা দিয়েছেন  তিনদিন আমার মুখদর্শন করবেন না ,
আরও বলেছেন চব্বিশ বছর ধরে এত আদর যত্নে আমাকে মানুষ করে বড়ো ভুল করেছেন আগে যদি জানতেন আমি বড়ো হয়ে বিরাট বদ প্রকৃতির হবো তবে জন্মের সাথে সাথে আমার মুখে লবন দিয়ে মেরে ফেলতেন ।
ঘোষণা শেষ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি আছাড় মেরে তিনটা প্লেট ভেঙ্গেছেন, কাজের মেয়েকে চড় মেরেছেন তারপর ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে গেছেন ।
ঝগড়ার বিষয় তেমন গুরুতর না , রোজ দুপুর বেলা খেতে বসে দেখি টেবিল এ দশ বারো পদ, এত তরকারি দেখলে আমার খাবার রুচি নষ্ট হয়ে যায়।
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম মা রোজ কষ্ট করে এত কিছু রাঁধো কেনো?
তুমি কিন্তু নিজে কিছু খাও না কালোজিরা ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে উঠে যাও, আমি তো রাক্ষস না যে এতকিছু  একাই খেয়ে ফেলবো , আর ইলিশ কার জন্য রেধেছো? আমাকে কখনো ইলিশ মাছ খেতে দেখেছো?
মা বিরক্ত হয়ে বললেন বাসায় এতো মানুষজন একটু বেশি তরকারি তো রাঁধতেই হয় ।
-এতো মানুষ কোথায় পেলে মা? তুমি আমি ছাড়া এ বাড়িতে আর কে আছে? হ্যাঁ ড্রাইভার, দারোয়ান আর কাজের মানুষ দের যদি ধরি তবে আলাদা কথা,কিন্তু সেটা প্রশ্ন না, প্রশ্ন হলো তুমি নিশ্চয় ওদের জন্য  সর্ষে ইলিশ রাঁধনি ?
-মা থতমত খেয়ে গেলেন
মা শান্ত হয়ে একটা কথা শোনো, তুমি যার পছন্দের খাবার বানিয়ে রোজ খাবার টেবিল এ বসে অপেক্ষা করো সে আর আসবে না । বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন এই সহজ সত্যটা তুমি যতো তাড়াতাড়ি মেনে নেবে ততই মঙ্গল। স্বাভাবিক ভাবে বাঁচার চেষ্টা করো মা আর আমাকেও করতে দাও।
-কি বলতে যাচ্ছিস তুই? আমি তোকে স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে দিচ্ছিনা?
-না দিচ্ছনা, বাবা চলে যাবার পর তোমার ধারনা হয়েছে আমিও তোমাকে ছেড়ে চলে যাবো , তুমি আমার প্রতিটা কাজে খবরদারী শুরু করেছো , আমি ফোনে কথা বললে তুমি আড়ি পেতে থাকো আমি বাইরে বের হলে তুমি আমার পিছু পিছু ড্রাইভার চাচাকে পাঠাও, কি পাঠাও না?
কাওকে জোর করে ধরে রাখা যায় না মা , বাবা কে পেরেছো? পারনি, তবে কেনো এসব করছো ?
আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবনা so please এসব বন্ধ করো।
মা রক্তিম চোখে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলেন, তোর এতো বড় সাহস আমাকে উপদেশ দিস, তোর বাপ যেমন খচ্চর তুইও হইছিস তেমন খচ্চর ।
আমি চুপচাপ ভাত শেষ করে উঠে আসলাম ।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে এতক্ষণে মার রাগ পড়ে যাবার কথা। মার ঘরে উকি দিলাম মা মাথায় তেল দিচ্ছেন আমাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। আমি মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম মা ক্ষমা করে দাও ভুল হয়ে গেছে এখন আমাকে কড়া করে এক কাপ চা করে দাও , তোমার হাতের চা না খেলে সন্ধ্যা শুরু হবে না । মা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন ।
আমার মা ,আমার পরাজিত মা, যাকে তার  নিজের ছোটো বোন হারিয়ে দিয়েছে সেই মাকে আমার সান্তনা দেবার ভাষা জানা নেই । আমি কাঁদলাম না কাঁদব না প্রতিজ্ঞা করেছি , তুমি কাঁদো মা চোখের জলে সব যন্ত্রণা সব অপমান সব লজ্জা ধুয়ে ফেলা যায় কিনা চেষ্টা  করে দেখো।

অনেকক্ষন ধরে ফোন বাজছে। লেপের তলা থেকে মুখ বের করার অলসতায় ধরা হচ্ছে না। কোন রকমে হাতটা বের করে হাতড়ে হাতড়ে ফোনটা টুক করে লেপের তলায় নিয়ে নিলাম। বাবা ফোন করেছে,
-কেমন আছিস নীরা?
-ভালো
-এখনো ঘুমাচ্ছিস নাকি?
-হ্যাঁ
-তুই এমন বিরক্ত কণ্ঠে আমার সাথে কথা বলিস কেন মা? আমি কি এতটাই খারাপ মানুষ?
-বাবা শোন একটা মানুষের ভালোত্ব বা মন্দত্ব যথেষ্ট প্রশ্নসাপেক্ষ  ব্যাপার, যেমন ধর আমি যদি মার দিক দিয়ে বিবেচনা করি তবে তুমি  স্বামী হিসেবে যথেষ্ট খারাপ একজন মানুষ অথচ সেই তুমিই মেজো খালার কাছে স্বামী হিসেবে দেবতুল্য । শুনলাম খালার কাছে দেবতা হবার চেষ্টায় তোমার যথেষ্ট টাকা পয়সা খরচ হচ্ছে । যাইহোক সেসব আমার চিন্তার বিষয় না তবে হ্যাঁ তুমি বাবা হিসাবে খুব ভালো একজন মানুষ।
-তোকে একটা অনুরোধ করবো নীরা ?
-করে দেখতে পারো তবে রাখতে পারবো কিনা কথা দিতে পারছি না।
-তুই আমার কাছে এসে কয়টা দিন থাকবি মা?
-না বাবা থাকবো না,তুমি বাবা হিসেবে ভালো হতে পারো তবে মা তোমার চেয়ে অনেকগুণ বেশী ভাল একজন মানুষ, তোমার কাছে থাকতে যাওয়া মানে মাকে অপমান করা ,মাকে এম্নিতেই তুমি অনেক অপমান করেছো আমি সেই পাল্লাটা আর ভারি করতে চাইনা।
বাবা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন, নয়না(আমার মেজো খালার নাম নয়না ) তোর সাথে একটু কথা বলতে চাচ্ছে।
-হ্যাঁ নির্ঝরা কেমন আছিস?
-ভালো
-তোর বাবা চাচ্ছে তুই এখানে এসে কয়টা দিন থেকে যা
-এ ব্যাপারে বাবার সাথে আমার কথা হয়ে গেছে, খালা ফোন রেখে দিলাম ঘুম পাচ্ছে, ও ভালো কথা শুনলাম ছোট খালা নাকি আজকাল তোমার সাথে থাকছে
-হ্যাঁ , কেনো কি হয়েছে?
-খালা তুমি এত বুদ্ধিমতী মেয়ে হয়ে মার মতো বোকামি কীভাবে করছো বলতো? মা তোমাকে এনে রেখেছিলো, তুমি মার ২৪বছরের সংসার ভেঙ্গে বাবাকে নিয়ে ভেগেছো, ছোট খালা তো তোমার চেয়ে দিগুন বুদ্ধি রাখে সে তো ২৪মাসের মাথায় তোমাকে মার যায়গায় দাঁড় করিয়ে দেবে।
আমার কথা শেষ হবার আগেই খটাস করে ফোন রাখার শব্দ পেলাম। খালাকে কঠিন দুইটা কথা শুনিয়ে মনের মধ্যে একটা শান্তি অনুভব করলাম । লেপের তলা থেকে মাথা বের করতেই টেবিলের নীল খামটার দিকে চোখ পড়লো । শুভ্রের চিঠি, হাত বাড়িয়ে খামটা নিলাম

প্রিয় নীরা,
           আজ টরেন্টো ছেড়ে সাত দিনের জন্য ওয়াটার লু  যাচ্ছি। ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটি তে ছোট একটা সেমিনার এ যোগ দিতে হবে, সেমিনার শেষে শহর টা সবাই মিলে ঘুরে দেখবো ।জানিস নীরা যখনই কোনো সুন্দর যায়গায় যায় সুন্দর কোনো জিনিস দেখি আমার বুকটা হাহাকার করে ওঠে, মনে হয় এই সব সৌন্দর্য তো আমি তোকে পাশে নিয়ে দেখতে চাই ,তুই ছাড়া সব কিছু আমার কাছে বর্ণহীন লাগে, আমার সব বন্ধুরা ছবি তোলে হইচই করে আর আমার মন পড়ে থাকে হাজার মাইল দূরে বেলকুনিতে চাদর জড়িয়ে বসে থাকা এক স্নিগ্ধ রমণীর কাছে । প্রথম এই অনুভুতি কখন হলো জানিস?টরেন্টো তে আসার পর যেদিন প্রথম ইউনিভার্সিটি গেলাম। আমার হোস্টেল থেকে কিছুটা পথ হেটে যেতে হয় পথে একটা চেরি বাগান পড়ে ।প্রথম দিন যেনো ক্লাস এ লেট না হই এজন্য দ্রুত হাঁটছি বাগানে ঢুকেই আমি থমকে গেলাম , সাদা সাদা ফুলে পুরো বাগান ছেয়ে আছে আমার মনে হলো ভুল করে কোন স্বর্গে ঢুকে পড়েছি। সৃষ্টিকর্তার এই অপার সৌন্দর্য আমার চোখে জল এনে দিলো সেদিন প্রথম তোকে স্বপ্নে দেখলাম, দেখলাম আমি তোর হাত ধরে চেরি বাগানের মাঝের সরু পথ ধরে হাঁটছি ,তোর পরনে জলপাই রঙের একটা শাড়ী ।বাস্তবের চেয়ে স্বপ্নের চেরি বাগান আমার কাছে বহুগুন সুন্দর লাগলো কারন তুই পাশে ছিলি। তোর মনে আছে তোর সাথে আমার প্রথম যেদিন দেখা হয় তুই জলপাই রঙের একটা শাড়ী পরে ছিলি? আমি প্রথম দেখাতেই তোর প্রেমে পড়লাম, হা হা হা। নীরা তুই আমাকে স্বার্থপর ভাবছিস নাতো? এই যে আমি তোর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কথা পুরোটা জানার পর ও বার বার তোকে পাশে পাবার আকুলতা জানাচ্ছি । কি করবো বল , তোকে যে আমার বড়ো দরকার রে। তুই আমাকে বার বার প্রশ্ন করিস এই ইমেইল এর যুগে আমি কেন তোকে চিঠি লিখি , আজ উত্তর টা দেবো ।  আমি যখন চিঠি লিখি মনে হয় তুই যখন চিঠিটা পড়বি আমার হাতের স্পর্শ পাবি আমার ঘ্রান পাবি আমার আকুলতা হইত তোকে স্পর্শ করে ফেললেও ফেলতে পারে ।তুই হয়তো  বলেই বসবি শুভ্র এসো আমাকে তোমার নগরে নিয়ে চলো । আমি তখন মহা উল্লাসে আমার রাজকন্যা কে আমার ছোট রাজ্যে নিয়ে আসবো । আমার শোবার ঘর বারান্দা তোর ছোঁওয়া পেয়ে পূর্ণ হবে । আমি জানি নীরা আমাকে তুই যতই ভালবাসিস না কেনো  আন্টি কে ছেড়ে আমার কাছে আসবি না । অন্য কোন মেয়ে হলে আলাদা কথা ছিলো কিন্তু তুই যে অতুলনীয়া । তোর মার সাথে কম্পিটিশান এ নামতে হবে কোনোদিন ভাবিনি হা হা হা। মার ভালবাসার কাছে প্রেমিকের ভালবাসার যে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে ভাবলেই হাসি পায় ।  ট্রেন এ বসে লিখছি তোকে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াটারলু পৌঁছে যাবো। তোকে একটা ভালো খবর দেই , গতকাল আমাদের প্রফেসর মিল্টন ক্লাস এ ঘোষণা দিলেন এ বছর ১০০জন স্টুডেন্ট এর মধ্যে চারজন পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছে। আমি আশাও করিনি এর মধ্যে আমার নামটা থাকবে। প্রফেসর যখন আমার নামটা উচ্চারণ করলেন আমি হতবাক হয়ে গেলাম । জানিস হোস্টেল এ আমার পাশের রুম এ কলকাতার একটা ছেলে থাকে নাম সুনীল। মাঝে মাঝে ওর ঘর থেকে একটা গানের সুর ভেসে আসে ‘দিবস ও রজনী আমি যেনও তার আশায় আশায় থাকি’ গানটা শুনলে বুকের মধ্যে টনটনে একটা বাথা হয় । কিছুদিন আগে আমার এক জার্মান বন্ধু তোর ছবি দেখে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংলিশ এ বলল বাঙালি মেয়েরা এতো সুন্দর হয়? গর্বে আমার বুক দুইঞ্চি বেড়ে গেলো। নীরা আজকের মতো বিদায় নেবো। ভালো থাকিস আর শোন আমি তোর জন্য আজীবন অপেক্ষা করতে রাজী আছি। আমি জানি এক দিন না একদিন আমার এই খরতাপ হৃদয়ে বৃষ্টি নামানোর জন্য তুই অবশ্যই আসবি । ভালবাসা ভালথেকো, যেখানে থাকো যেভাবে থাকো শুধু ভাল থেকো।
                                                                                 - শুভ্র
শুভ্রের প্রতিটা চিঠি আমার মন খারাপ করিয়ে দেয়। শুভ্র আমার বান্ধবী নিপার বড় ভাই। ওদের বাড়িতে প্রথম আমাদের দেখা । আমাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছিলো। সব কিছু ঠিক থাকলে আজ হয়তো আমি ওর সাথে কানাডা চলে যেতাম । মা বহুবার বলেছে নীরা তুই আমার কথা ভাবিস না শুভ্রের সাথে নতুন জীবন শুরু কর । আমি পারিনি, মা আমার সাথে কানাডা যেতে ও রাজী না । মা না বললেও আমি জানি মা বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে । আজ শুভ্রের চিঠি আবার আমাকে দুর্বল করে দিয়েছে ।এতো ভালবাসা এড়ানোর শক্তি কি আমার আছে?
না আর না, ওকে আমি আর অপেক্ষা করাবো না, এবার আমি তোমার জীবনে আসছি শুভ্র । মাকে জানাতে হবে প্রথমে । আমি মার ঘরে আসলাম, মা এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। মার শুকনো মুখটা দেখে বুকের মধ্যে ধক করে উঠলো । ছোট বেলাতেই মা বাবাকে হারিয়েছেন মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছেন। অনাদর অবহেলাতে জীবন পার করে বাবার সংসারে এসেছেন।সারাটা জীবন এই সংসারের পেছনে ব্যয় করেছেন । বেলা শেষে তার প্রাপ্তির খাতাটা একেবারেই শূন্য। এই মানুষটার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন  এখন আমি। আমি ঘরে ফিরে আসলাম , চারপাশের কুয়াশা এখনো কাটেনি । আমাকে ক্ষমা করো শুভ্র , আমি পারব না । আমি বহুদিন পর কাঁদলাম ।চারপাশের কুয়াশা ভেদ করে হাজার মাইল দূরে  দু চোখে অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকা এক রাজকুমারের জন্য কাঁদলাম ।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

Re: যে জীবন গাঙচিলের

এক  কথায়  অসাধারণ !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: যে জীবন গাঙচিলের

সুন্দর হয়েছে...  tongue_smile

Re: যে জীবন গাঙচিলের

আবারো একটি চমতকার গল্প নিয়ে এসেছেন!
আপনার গল্প কথনের ভঙ্গিটা বেশ সাবলীল clap

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: যে জীবন গাঙচিলের

চমতকার গল্প !

Re: যে জীবন গাঙচিলের

সবাই কে ধন্যবাদ ।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

Re: যে জীবন গাঙচিলের

হুম বেশ সুন্দর হয়েছে thumbs_up thumbs_up thumbs_up

Re: যে জীবন গাঙচিলের

আহা এত সুন্দর লেখুনী মিস হয়ে গিয়েছিলো।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: যে জীবন গাঙচিলের

গল্পটা চমত্কার ! তবে লেখায় হুমায়ূন আহমেদ ভাব চলে এসেছে ।
বিশেষ করে ,নীরা আর তার বান্ধবীর কথপোকথন এবং সেই সম্পর্কীয় বর্ননাটা হুবহু কপি বলে মনে হল ।

গল্পটা পড়ে ভাল লাগল এটা হল আসল কথা ।চমত্কার !

১০

Re: যে জীবন গাঙচিলের

মোঃজাবেদ হোসেন লিখেছেন:

গল্পটা চমত্কার ! তবে লেখায় হুমায়ূন আহমেদ ভাব চলে এসেছে ।
বিশেষ করে ,নীরা আর তার বান্ধবীর কথপোকথন এবং সেই সম্পর্কীয় বর্ননাটা হুবহু কপি বলে মনে হল ।

গল্পটা পড়ে ভাল লাগল এটা হল আসল কথা ।চমত্কার !

মিল যদি থাকে তবে তা সম্পূর্ণই অনিচ্ছাকৃত, আসলে দশটা গল্প লিখলে হয়তো একটার মধ্যে অজ্ঞাতে কোন বিখ্যাত লেখকের লেখনীর ছায়া চলে আসে ,তবে হ্যাঁ কথা দিচ্ছি পরবর্তীতে সতর্ক থাকবো , আশা করছি পরের গল্প গুলোতে  এ ধরনের অভিযোগ করার সুযোগ থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন  smile  smile  smile(যদি পরের গল্প গুলো পড়েন )।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

১১

Re: যে জীবন গাঙচিলের

হুম...বেশ হয়েছে thumbs_up thumbs_up