সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (৩০-০৭-২০১৩ ০০:১৭)

টপিকঃ আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

আজকাল কি যে হয়েছে, কিছু লিখতে ইচ্ছা করেনা। এমন না যে, লেখার মত কিছু মাথায় আসেনা। মাথায় আসে, কিন্তু লিখতে ইচ্ছে করেনা। তবে ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করছি। না লিখতে পারার ঘটনাটা নয়। যেভাবে এই লেখাটা শুরু করেছি, তাতে নিজেকে বিশাল বড় লেখক দাবী করে ঢ্যাডরা পিটাচ্ছি বলে মনে হতে পারে। আসলে মজা পাই আমার স্ত্রীর রিঅ্যাকশন দেখে। “কি ব্যাপার? তুমি কিছু লেখোনা কেন? মন খারাপ? আমার উপর রাগ করসো?” হে হে হে, যেই মহিলা কিছু হইলেই ভাত বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়, কিছু হইলেই, ছিটাগং ছলে যাবো যে, বলে মাতম তোলে, তার মুখে এই কথা?!! অসুবিধা কি? ভাব নিয়ে যদি একটু অ্যাডভান্টেজ পাওয়া যায় খারাপ কি?


এতদুর লেখার পরে এখন মনে হচ্ছে যে ব্যাকস্পেস চেপে ধরে লেখাটা মুছে ফেলি। তারপর ল্যাপটপ বন্ধ করে বসে বসে “ফলিং স্কাইস” দেখি। অতি কষ্টে নিজেকে নিবৃত্ত করলাম। কারণ এই মুহূর্তে আমার স্ত্রী বসে বসে “ব্রিটেন এন্ড আয়ারল্যান্ডস নেক্সট টপ মডেল” দেখছে। এই সিরিজটা দেখলেই আমার জেনারেল আলাদিনের একটা ডায়লগ মনে হয়, “আই লাইক হায়ার এদুকেশন অফ উইম্যান। ইত ইজ লাইক ওয়াচিং এ দগ অন আ স্কেতবোর্দ। ” নিজেদের কিভাবে আরও ভালোভাবে পণ্য বানানো যায়, তারই এক অনুষ্ঠান এই শো। জেনারেল আলাদিন চরম একটা ক্যারেক্টার। এই ব্যাটার প্রভাব এতই বেশি যে, সেদিন অফিসে ঢুকে খালি আমার ডেস্কে গিয়ে বসেছি, ওমনি আমার এক কলিগ এসে আমাকে বলছে, “কোয়েশ্চেন পেপারস আর রেদি, সুপ্রীম লিদার। ” নিজে দেখার পরে কলিগদেরও মুভিটা দেখানোর ফলাফল হচ্ছে এটা!!


সেদিন আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম। যেদিন থেকে আমি আর আমার স্ত্রী সিলেটে এসে বসত গড়েছি, সেদিন থেকে সিলেটে বৃষ্টিপাত কমে গিয়েছে, আর ঢাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। এইটার একটা কারণও সেদিন আবিষ্কার করলাম। কারণটা হচ্ছে, আমি আর আমার স্ত্রীর সুপারপাওয়ার। আমার বাড়ি উত্তরবঙ্গে। ওখানে বৃষ্টিপাত কম হয়। আবার আমার স্ত্রীর বাড়ি ছিটাগং হলেও, তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা আবুধাবিতে। সেখানেতো বৃষ্টি হইলেও আকাশ থেকে বালু পড়ে। এসব কারণে বৃষ্টি কমিয়ে মরুকরণ শুরু করে দেয়ার দুর্লভ ইভিল সুপারপাওয়ার কোনভাবে আমাদের মধ্যে চলে এসেছে। আমার ধারণা যেসব এলাকায় অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা হয়, সেখানে আমাদের দুজনকে নিয়ে গিয়ে দুইদিনের জন্যে রেখে দিলেই কেল্লাফতে! বন্যাতো বন্ধ হবেই, তারপর নদীর তীরে পরা বালুচরে সুস্বাদু তরমুজও চাষ করা যাবে। 


আমার স্ত্রী বৃষ্টি খুব পছন্দ করে। আরও বেশি পছন্দ করে বৃষ্টি মধ্যে আকাশে বিদ্যুত চমক দেখতে। এগারো তলার উপরে ছাদ পর্যন্ত থাই গ্লাসের একদম পাশে দাঁড়িয়ে যখন সে এসব দৃশ্য উপভোগ করে, তখন আমার বেশ ভয়ই লাগে। এ ব্যাপারটা জানানোর জন্যে একদিন ওকে বলেই ফেললাম,
-    আমাকে দেখে তোমার কি কোনভাবে আফ্রিকার গহীন জঙ্গলের মানুষখেকো জংলী মনেহয়?
-    নাতো। কেন?
-    বাইরে যেভাবে লাইটনিং হচ্ছে, তাতে তোমার উপরে সেটা পড়ে পুরা রোস্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। এজন্যে বললাম আরকি।
আমি কথা মনেহয় বোঝা যায় না। এজন্যে সে নাক দিয়ে একটা ফোঁত করে আওয়াজ করে একই কাজ করে যেতে থাকলো।


আরেক রাতে ঘুমিয়ে যাবার পরে বৃষ্টি নামলো। আমি জানলাম কিভাবে? আমিতো ঘুমে ছিলাম। আমার স্ত্রীর সৌজন্যে। আমাকে বললো,
-    জানো গতকাল রাতে কি যে বৃষ্টি হলো।
-    কখন?
-    তুমি ঘুমিয়ে যাবার পরে।
-    ও আচ্ছা। এসি বন্ধ করসিলা?
-    হ্যাঁ। এসি বন্ধ করে বসে বসে ধুমকেতু দেখতেসিলাম। কি যে ধুমকেতু হচ্ছিলো আকাশে!
-    ধুমকেতু!! বৃষ্টির মধ্যে? !!
-    হ্যাঁ, অনেক বেশি।
-    বৃষ্টির মধ্যে ধুমকেতু দেখা যায় বাপের জন্মেও শুনি নাই।
-    কি বলো? বৃষ্টির মধ্যেইতো দেখা যায়!
এই রহস্যের সমাধানের জন্যে প্রথমে ভাবলাম যে, গুগোলে সার্চ করি। কিন্তু ইলেকট্রিসিটি না থাকায় সে চিন্তা বাদ দিলাম। বাদ দিয়ে ইনভেস্টিগেশনে নামলাম। জিজ্ঞেস করলাম,
-    কওতো দেখি, তোমার দেখা ধুমকেতু দেখতে কেমন?
-    কেন আবার? লাইক স্পার্কিং লাইনস অল ওভার দ্যা স্কাই।
ইউরেকা! এতক্ষণে বুঝতে পারলাম। বেশ কিছুক্ষণ হ্যা হ্যা করে হাসলাম। হায়রে আমার ইংলিশ মিডিয়াম আরবী বৌ! বেচারী বিদ্যুৎচমকের সাথে আরেকটা বাংলা শব্দ ধুমকেতুকে মিলিয়ে ফেলেছে। আমারই দোষ। কথা বলার সময় মনেহয় বেশি কঠিন বাংলা শব্দ ব্যবহার করি। এখন থেকে ধুমকেতু জাতীয় শব্দকে বাংলায় কমেট বলেই ডাকবো। তাহলেই সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে আশাকরি।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

স্বরূপে স্বাগতম !
আপ্নাগো সুপারপাওয়ার পলটি খাইবার সম্ভাবনা আছে কি ? মানে ............... দুজনে যেখানে , বরষাও সেখানে ? এরকম হইলে মিসকল দিয়েন । বড়ই বৃষ্টিহীন জীবনযাপন করতেছি !!

জানি আছো হাত-ছোঁয়া নাগালে
তবুও কী দুর্লঙ্ঘ দূরে!

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (৩০-০৭-২০১৩ ১২:৫৪)

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

জামিল মণ্ডল লিখেছেন:

দুজনে যেখানে , বরষাও সেখানে ?


ঠিক জানিনা। তবে মাস ছয়েক আগে বর্ষা আনতে হইলে জলিল ভাইরে আনতে কইতাম lol lol

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

ওরে বাপরে ! অনন্ত-বর্ষা হইলে তো বানে ভাইস্যা যামু গা ! না ভাই ...... আমার ঝিরঝিরে বিরতিযুক্ত বর্ষা হলেই চলবে !
ওহ , আরেক টা কথা .........ইয়ে ...লেখাটা ভাবীকে দেখিয়েছেন নাকি ? smile smile

জানি আছো হাত-ছোঁয়া নাগালে
তবুও কী দুর্লঙ্ঘ দূরে!

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

বৃষ্টিতে ধূমকেতু হচ্ছিলো আকাশে?  lol
অনেকক্ষণ হাসলাম।  hehe

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

জামিল মণ্ডল লিখেছেন:

ওহ , আরেক টা কথা .........ইয়ে ...লেখাটা ভাবীকে দেখিয়েছেন নাকি ? smile smile

হুম, দেখিয়েছি। ভাতও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে রোজা থাকায় তেমন একটা অসুবিধা হচ্ছেনা lol

উদাসীন লিখেছেন:

বৃষ্টিতে ধূমকেতু হচ্ছিলো আকাশে?  lol
অনেকক্ষণ হাসলাম।  hehe

আমাকে নিয়মিত হাসতে হয়। মাঝে মাঝেই বেশ অদ্ভুত সব বাংলা শুনি ওর মুখে lol

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

ওরে চরম লিখেছেন ভাইসাব, রেপু লন  lol

IMDb; Phone: OnePlus 8T; PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

দারুন লিখেছেন .......... বৃষ্টিতে ধুমকেতু বাহ বেশ তো

ভাল লাগল অনেক....... smile smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

লেখাটা যতখন পরেছি ততখন হেসেছি  lol2 আপনার উপস্থাপন শৈলী অনেক সুন্দর।  thumbs_up

১০

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

বউরে পচানি দিসো! কপালে আরো খারাবি আছে রে কালিয়া ... ...  donttell

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

বা রে, ধুমকেতুগুলোর কি বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছা করে না? আমি বেচারী ভাবীর পক্ষ নিলাম। শত হলেও আমাদের চট্টগ্রাম বিভাগের লোক। big_smile

১২

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

ধন্যবাদ।

শামীম লিখেছেন:

বউরে পচানি দিসো! কপালে আরো খারাবি আছে রে কালিয়া ... ...  donttell


পচানীতে ভাইটামিন আছে wink

জেলাল লিখেছেন:

বা রে, ধুমকেতুগুলোর কি বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছা করে না? আমি বেচারী ভাবীর পক্ষ নিলাম। শত হলেও আমাদের চট্টগ্রাম বিভাগের লোক। big_smile


একই বিভাগের হলেইও যতদুর জানি, নোয়াখাইল্লাদেরকে চাটগাইয়ারা দেখতে পারেনা  tongue

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৩

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

জটিলান্টিক লেখা।

রিং'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

রিং লিখেছেন:

জটিলান্টিক লেখা।


ধন্যবাদ রিং ভাই।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৫

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

হা হা হা। চরম লেখা... thumbs_up

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

দারুন দারুন + লইবেন না lol2 lol2

জীবনের উদ্দেশ্য মইনাস প্রাপ্তি

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

অবশেষে পুরোটা পড়ার সুযোগ হলো।

১৮

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

ধন্যবাদ রিফাত ও নিনজা।
@ইলিয়াস ভাইঃ পর্ব নাইতো কোন। নাকি সময়ের অভাবে পুরোটা পড়তে পারেননি?

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৯

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

দারুন বলেছেন ভাই

২০

Re: আবোলতাবোল লেখা (রম্য লেখার প্রয়াস )

সেখানে আমাদের দুজনকে নিয়ে গিয়ে দুইদিনের জন্যে রেখে দিলেই কেল্লাফতে! বন্যাতো বন্ধ হবেই, তারপর নদীর তীরে পরা বালুচরে সুস্বাদু তরমুজও চাষ করা যাবে।

ওরে ভাই সেইরাম হইছে !

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।