সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Noyon90 (১৯-০৭-২০১৩ ০৫:২৮)

টপিকঃ কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

দুঃখিত মাননীয় সরকার
পিএসসি কাকে নিয়োগ দিবে সেটা পিএসসির ব্যাপার,আপনার সেখানে অনধিকার চর্চা না করাই ভাল।
পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এটা আপনার কোন পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে আপনি যা ইচ্ছা তাই করবেন।
আপনি যদি নিজেকে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের উত্তরসূরী মনে করেন তাহলে ভিন্ন কথা।
সামনে নির্বাচন জনগন আপনাকে যে চাকরিটা দিয়েছে সেটা টিকিয়ে রাখতে পারেন কিনা দেখেন,তারপর অন্যের চাকরি নিয়ে মাথা ঘামাবেন।

ভেবেছিলাম আন্দোলন বোধ হয় স্থিমিত হয়ে যাবে। আপনার কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল বক্তব্য আশা করেছিলাম।
কিন্তু হায় একি!!!!!!
আপনি দেখি আমাদের কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিলেন।
আমি ভুলেই গেছিলাম যে আপনি নিজেও "বঙ্গবন্ধু কোটা"-র প্রধানমন্ত্রী। আপনার কাছ থেকে এর থেকে ভালো কিছু আশা করা অনভিপ্রেত। আন্দোলন বুঝি এইবার আর আপনার পেটোয়া বাহিনী দিয়েও ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না।
কোটার মূলোত্পাটন আমরা করবই করবো।
আর আপনি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবেন।
"কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে "


আজ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হাজার হাজার মেধাবী র হতাশার জন্ম দিবে। তিনি এমন ভাবে বললেন যেন ছাত্র সমাজ তার কাছে চাকরি ভিক্ষা চাইছে ; যেন psc তার দলীয় সংগঠন। ছাত্র সমাজকে আবার তার অতীত উজ্জ্বল ভূমিকায় অগ্রসর হতে হবে। না হলে কোটার জীবন শেষ।।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ শুধু আপনার এবং ২ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার করে নাই, এদেশের আরো আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই সময়ে, ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী প্রাণ দিয়েছিল বাংলা মায়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে।
আপনি প্রশ্ন তুলেছেন “তবে কি নারীরা চাকরি করবে না” প্রশ্ন তুলে বলেন, “যারা প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- তারা কি পাবলিক সার্ভিস কমিশনে চাকরি করবে না?”
হ্যাঁ অবশ্যই করবেন, তবে সেটা যোগ্যতা থাকলে। একজন অযোগ্য ব্যক্তি কি করে এরকম দেশের সর্বচ্চ পর্যায়ের চাকরির আশা করে আমার বোধগম্য হয়না।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কোটাসংস্কার আন্দোলনকারীদের চাকরি দেওয়া বা না দেওয়ার কোন আইনী এখতিয়ার নেই। তিনি বড়জোর একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘৃণ্যজনকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট করতে পারেন যা তিনি করে চলছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এ ধরণের মন্তব্যও করতে পারেন না। তিনি জনগণের সেবক, একটু খোলাসা করে বললে servant বা চাকর। জনগণ উনাকে মাসিক বেতন দিয়েই নিযুক্ত রেখেছেন। আর একজন সেবক/চাকর হিসেবে কে চাকুরী পাবে বা পাবে না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তিনি কে!!! তাঁকে যে ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী চাকুরী না করলে তো তাঁর নিজেরই তো চাকুরী থাকবে না!
আমরা এই প্রজন্ম খুব দূর্ভাগ্যজনক সময়ে বসবাস করছি। এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সে সময়ের মুখোমুখি করতে চাই না। তাই আমরা আমাদের কর্মসূচী অনুযায়ী আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং আমাদের জয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না ইনশাল্লাহ…

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে
আপনি বলেছেন, যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে পিএসসি’র অধীনে কোন চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হবেনা। তার মানে পিএসসি’র অধীনে যাবতীয় চাকুরী আপনারা নিয়ন্ত্রণ করেন? তার মানে পিএসসিকে ব্যবহার করে আপনারা নিয়োগ প্রদান করেন? তাইতো বলি প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হয়? আরেকটা কথা সরকারি চাকুরি কি আপনার পারিবারিক সম্পত্তি, যাকে ইচ্ছা তাকে দিবেন? আর কত দিন ক্ষমতায় থাকবেন সে চিন্তা করেন। আমাদের কে নিয়ে না ভাবলেও চলবে। নিজের গদি ঠিক রাখার চেষ্টা করেন। আরতো বেশি দিন নেই, মাত্র কয়েক মাস!!!!!!

কিছু দিন পর বলবে যাদের কোটা আছে তারা শুধু এই দেশ থাকবে……।।

কোটা বিরোধী তথা তারুণ্যের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন নিয়ে শেখ হাসিনার অসাংবিধানিক ও রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের ৪ কোটি ভোটে সীলগালা …।

মিথ্যের ঝড়ো বাতাসে সত্যের নিভু নিভু প্রদীপ দিয়ে লড়াই করা যায় না

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

আমি দ্বিমত প্রকাশ করছি।

আপাতদৃষ্টিতে কোটা দিয়ে বেশি মেধাবীর বদলে কম মেধাবী কিছু লোক সুযোগ পেলেও আমি মনে করি সীমিত আকারে কোটা প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন কারণে একটা দেশে সুষম উন্নয়ন হয় না। ফলশ্রুতিতে সমস্ত এলাকার ল‌োকজন একই রকম সুযোগ সুবিধা পায় না। এক এলাকায় যেখানে ১০টা সরকারী স্কুল পেয়েছে, সমান আকার ও জনসংখ্যার অন্য এলাকা পেয়েছে ১টা স্কুল --- অন্যান্য অবকাঠামোগত ব্যাপারও তাই। কাজেই যেখানে সুযোগ বেশি সেখানে মেধাবী বেশি তৈরী হচ্ছে -- এই বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কোটার প্রয়োজন আছে।‌

আজকে যদি একটা অবকাঠামো ফান্ড হয়, তখন মেধাবী হলেও, কর্মকর্তা সুষম বন্টনের বদলে বরং নিজের জেলা/এলাকায় সেই সুবিধাটা নিয়ে যেতে চাইবেন সেটাই স্বাভাবিক। যেই জেলার কর্মকর্তা বেশি সেই জেলাতে সব সুবিধা চলে যাবে -- কোনো চেক এন্ড ব্যালেন্স থাকবে না। মেধাবীরা উন্নয়ন করবে বেশি আর অন্যরা মেধা বিকাশেরই সুযোগ পাবে না -- একটা দেশের উন্নয়নের জন্য এমন ভারসাম্যহীন বন্টন কাম্য নয়।

জাতিসংঘের বিভিন্ন অফিসেও কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুষমতা (ইকুইটি) আনার জন্য জনবল নিয়োগে কোটা প্রচলিত আছে। বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে সেখানে প্রতিনিধিত্বমূলক সংখ্যক চাকুরীজীবি থাকবে -- এমনটাই নিয়ম। যদিও এই কোটা দিয়ে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেয়ার পদগুলোর পদায়ন হয় না, কিন্তু সার্বিক ফ্রেশ নিয়োগে - এই ধরণের কোটা বলবৎ আছে; এর ফলেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিগুলোও জাতিসংঘে তাঁদের কন্ঠের প্রতিনিধিত্ব পায়।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

শামীম লিখেছেন:

আমি দ্বিমত প্রকাশ করছি।

আপাতদৃষ্টিতে কোটা দিয়ে বেশি মেধাবীর বদলে কম মেধাবী কিছু লোক সুযোগ পেলেও আমি মনে করি সীমিত আকারে কোটা প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন কারণে একটা দেশে সুষম উন্নয়ন হয় না। ফলশ্রুতিতে সমস্ত এলাকার ল‌োকজন একই রকম সুযোগ সুবিধা পায় না। এক এলাকায় যেখানে ১০টা সরকারী স্কুল পেয়েছে, সমান আকার ও জনসংখ্যার অন্য এলাকা পেয়েছে ১টা স্কুল --- অন্যান্য অবকাঠামোগত ব্যাপারও তাই। কাজেই যেখানে সুযোগ বেশি সেখানে মেধাবী বেশি তৈরী হচ্ছে -- এই বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কোটার প্রয়োজন আছে।‌

আজকে যদি একটা অবকাঠামো ফান্ড হয়, তখন মেধাবী হলেও, কর্মকর্তা সুষম বন্টনের বদলে বরং নিজের জেলা/এলাকায় সেই সুবিধাটা নিয়ে যেতে চাইবেন সেটাই স্বাভাবিক। যেই জেলার কর্মকর্তা বেশি সেই জেলাতে সব সুবিধা চলে যাবে -- কোনো চেক এন্ড ব্যালেন্স থাকবে না। মেধাবীরা উন্নয়ন করবে বেশি আর অন্যরা মেধা বিকাশেরই সুযোগ পাবে না -- একটা দেশের উন্নয়নের জন্য এমন ভারসাম্যহীন বন্টন কাম্য নয়।

জাতিসংঘের বিভিন্ন অফিসেও কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুষমতা (ইকুইটি) আনার জন্য জনবল নিয়োগে কোটা প্রচলিত আছে। বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে সেখানে প্রতিনিধিত্বমূলক সংখ্যক চাকুরীজীবি থাকবে -- এমনটাই নিয়ম। যদিও এই কোটা দিয়ে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেয়ার পদগুলোর পদায়ন হয় না, কিন্তু সার্বিক ফ্রেশ নিয়োগে - এই ধরণের কোটা বলবৎ আছে; এর ফলেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিগুলোও জাতিসংঘে তাঁদের কন্ঠের প্রতিনিধিত্ব পায়।


মোট জনসংখ্যার ১% ও মুক্তিযোদ্ধা না কিন্তু তাদের জন্য বরাদ্ধ ৩০%   
আমি মনে করি
প্রতিবন্ধী ছাড়া র কারো জন্য কোটা রাখা হল মানবতা বিরোধী অপরাধ

মিথ্যের ঝড়ো বাতাসে সত্যের নিভু নিভু প্রদীপ দিয়ে লড়াই করা যায় না

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

Noyon90 লিখেছেন:

মোট জনসংখ্যার ১% ও মুক্তিযোদ্ধা না কিন্তু তাদের জন্য বরাদ্ধ ৩০%   
আমি মনে করি
প্রতিবন্ধী ছাড়া র কারো জন্য কোটা রাখা হল মানবতা বিরোধী অপরাধ

এজন্য কোটা প্রথা সংশোধণ ও পরিমার্জনের দাবী উঠতে পারে -- বাতিলের দাবী নয়।  shame

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

কোটাপ্রথায় যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটাই আমার কাছে ভ্রান্তিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। সরাসরি যুদ্ধ করা ছাড়াও অনেকে নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছেন, পরিণামে তাঁরা হয়েছেন দুঃস্থ ও অস্বচ্ছল। মুক্তিযোদ্ধাদের শুধু কোটা নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের দায়দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত। এখন সেটা কতো শতাংশের জন্য রাষ্ট্র এই দায়দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তার জন্য গবেষণা দরকার, দরকার চাহিদা নিরূপণ। কিন্তু সেটা কোনোমতেই ৩০ শতাংশ হতে পারে না। ৩০ শতাংশের হিসাব ১৯৭২ সালের জন্য ঠিক থাকলেও ২০১৩ সালের জন্য ঠিক নেই।

আমার মতে, দুঃস্থ ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের যাবতীয় দায়দায়িত্ব রাষ্ট্রের গ্রহণ করে কোটাপ্রথায় শুধু দলিত সম্প্রদায়, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধিদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কাদের জন্য কতো শতাংশ কোটা বরাদ্দ হবে, সেটাও ঠিক করতে হবে গবেষণার মাধ্যমে, কোনো ধারণাগত অবস্থান থেকে নয়।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেকে ভাইভা থেকে বাদ দেওয়া হবে কথাটি কতটুকু ঠিক বা যুক্তি যুক্ত?

"We want Justice for Adnan Tasin"

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শ্রাবন (১৯-০৭-২০১৩ ১৩:০৫)

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

যারা মেধাবী তাদের জন্যে কোটা কোন ব্যাপার নয় ।
যারা কোটা পায় তাদেরো মেধাবী প্রমাণ করে উত্তীর্ণ হতে হয় ।
যারা আন্দোলন করছে তারা কত খানি মেধাবী তা নিয়ে আমার সংশয় আছে ।
মেধাবীদের কোটা কখনো আটকাতে পারে না ।
কোটা তো থাকতেই হবে যারা কোটা দিয়েছে তারা আপনি আমাদের থেকে অনেক বেশী চিন্তা করে ।
কোটা কেন দেয়া এইটা জানেন তো ?
কোটা নিয়ে তারাই আন্দোলন করতেছে যারা বিসিএস পরীক্ষায় জিন্দেগীতেও চান্স পেত না । আমার কিছু ফ্রেন্ড এফবিতে খুব কোটা নিয়ে লেখা লেখি করতেছে । আমি যেয়ে বললাম ... "দোস্ত ... কোটা থাকলে কি না থাকলে কি  তুই তো জীন্দেগীতে চান্স পাইতি না ( মানে মেধাবী না ) ... হুদাই কেন ফেইসবুকের স্পেইস গুলো নষ্ট করিস " ।
প্রমাণ করে দেখান কোন মেধাবী কোটার জন্যে চান্স পায়নি ?
আর কোন কোটা ধারী মেধাবী না হয়ে চান্স পেয়েছে ?
কোটা সংশোধন করা যেতে পারে । যারা বাতিলের দাবী করতেছে ... তাদের মেধা আছে কিনা অদৌ তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয় ।

"এজন্য কোটা প্রথা সংশোধণ ও পরিমার্জনের দাবী উঠতে পারে -- বাতিলের দাবী নয়। "
সহমত ।

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

শামিমভাই আমার কথাগুলোই বলে দিলেন। হিন্দিতে অমিতাভ বচ্চনের একটা সিনেমা আছে Arakshan (বাংলায় সংরক্ষিত)। সিনেমাটিতে কোটার যৌক্তিকতা এবং কোটার কারণে কিছু সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। কোটা কেন প্রয়োজন মুভিটা দেখলে আশা করি বুঝতে পারবেন। এবার প্রশ্ন মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে সে জন্য কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাইতে পারেন। বাতিল করার দাবী  shame

অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে আছি।

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

শ্রাবন লিখেছেন:

যারা মেধাবী তাদের জন্যে কোটা কোন ব্যাপার নয় ।
যারা কোটা পায় তাদেরো মেধাবী প্রমাণ করে উত্তীর্ণ হতে হয় ।
যারা আন্দোলন করছে তারা কত খানি মেধাবী তা নিয়ে আমার সংশয় আছে ।
মেধাবীদের কোটা কখনো আটকাতে পারে না ।
কোটা তো থাকতেই হবে যারা কোটা দিয়েছে তারা আপনি আমাদের থেকে অনেক বেশী চিন্তা করে ।
কোটা কেন দেয়া এইটা জানেন তো ?
কোটা নিয়ে তারাই আন্দোলন করতেছে যারা বিসিএস পরীক্ষায় জিন্দেগীতেও চান্স পেত না । আমার কিছু ফ্রেন্ড এফবিতে খুব কোটা নিয়ে লেখা লেখি করতেছে । আমি যেয়ে বললাম ... "দোস্ত ... কোটা থাকলে কি না থাকলে কি  তুই তো জীন্দেগীতে চান্স পাইতি না ( মানে মেধাবী না ) ... হুদাই কেন ফেইসবুকের স্পেইস গুলো নষ্ট করিস " ।
প্রমাণ করে দেখান কোন মেধাবী কোটার জন্যে চান্স পায়নি ?
আর কোন কোটা ধারী মেধাবী না হয়ে চান্স পেয়েছে ?
কোটা সংশোধন করা যেতে পারে । যারা বাতিলের দাবী করতেছে ... তাদের মেধা আছে কিনা অদৌ তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয় ।

"এজন্য কোটা প্রথা সংশোধণ ও পরিমার্জনের দাবী উঠতে পারে -- বাতিলের দাবী নয়। "
সহমত ।

অসাধারন বক্তব্য

"We want Justice for Adnan Tasin"

১০

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

একটা কথা কেউ চিন্তা করেন না যে দেশের মোট  জনসংখ্যার মাত্র ২% কোটার মধ্যে পরে কি না তা ও সন্দেহ আছে আর তাদের ৫৫% বরাদ্ধ রাখা হয়েছে চাকরীর জন্য,  বাকি ৪৫% দেশের মোট  জনসংখ্যার  ৯৮% এর জন্য........., কি আজব কান্ড আমাদের দেশে , এখানে অনেকে দেখতেছি কোটার পক্ষে বড় বড় কথা বলতেছেন,  তাদের কি লাজ লজ্জা নাই দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে এই ধরনের বৈষম্য মুলক আচরণ করা হচ্ছে দেশের মোট  জনসংখ্যার ৯৮% এর সাথে ।
মুক্তিযুদ্ধের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান.....................
আমার কথা
১। মুক্তি যুদ্ধার কোটা চিরতরে বাতিল করা হোক।
২। নারীদের কোটা চিরতরে বাতিল করা হোক।

১। প্রতিবন্ধীর কোটা বাড়ানো হোক।
২।। আদিবাসীদের কোটা বাড়ানো হোক।

মিথ্যের ঝড়ো বাতাসে সত্যের নিভু নিভু প্রদীপ দিয়ে লড়াই করা যায় না

১১

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

Noyon90 লিখেছেন:

মুক্তিযুদ্ধের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান.

কোটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আপনি কি বলছেন খেয়াল করেছেন?

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Noyon90 (১৯-০৭-২০১৩ ২১:৪৬)

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

আগন্তুক মিলন লিখেছেন:
Noyon90 লিখেছেন:

মুক্তিযুদ্ধের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান.

কোটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আপনি কি বলছেন খেয়াল করেছেন?

মুক্তিযুদ্ধের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান এই শ্লোগান টা কোটা বিরুধী আন্দোলন থেকে উটে এসেছে  তাহলে আমি কেন বলতে পারব না?

ভাই আমিত সত্য কথায় বলেছি । যার বিয়ে তার খবর নাই র পারা প্রতিবেশীর ঘুম নাই । আমি এই সব মানুষ কে দালাল বলেছি । যারা মুক্তি যোদ্ধা না তারা কেন অন্যায় ভাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে এত দরদ দেখাবে,   মোট  জনসংখ্যার  ১% ও মুক্তি যোদ্ধা হবে না তারা কেন ৩৫% কোটা পাবে,  র যারা তাদের হয়ে সাফাই গায় তারাই মুক্তি যোদ্ধার দালাল,

মিথ্যের ঝড়ো বাতাসে সত্যের নিভু নিভু প্রদীপ দিয়ে লড়াই করা যায় না

১৩

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

আউল লিখেছেন:
শ্রাবন লিখেছেন:

যারা মেধাবী তাদের জন্যে কোটা কোন ব্যাপার নয় ।
যারা কোটা পায় তাদেরো মেধাবী প্রমাণ করে উত্তীর্ণ হতে হয় ।
যারা আন্দোলন করছে তারা কত খানি মেধাবী তা নিয়ে আমার সংশয় আছে ।
মেধাবীদের কোটা কখনো আটকাতে পারে না ।
কোটা তো থাকতেই হবে যারা কোটা দিয়েছে তারা আপনি আমাদের থেকে অনেক বেশী চিন্তা করে ।
কোটা কেন দেয়া এইটা জানেন তো ?
কোটা নিয়ে তারাই আন্দোলন করতেছে যারা বিসিএস পরীক্ষায় জিন্দেগীতেও চান্স পেত না । আমার কিছু ফ্রেন্ড এফবিতে খুব কোটা নিয়ে লেখা লেখি করতেছে । আমি যেয়ে বললাম ... "দোস্ত ... কোটা থাকলে কি না থাকলে কি  তুই তো জীন্দেগীতে চান্স পাইতি না ( মানে মেধাবী না ) ... হুদাই কেন ফেইসবুকের স্পেইস গুলো নষ্ট করিস " ।
প্রমাণ করে দেখান কোন মেধাবী কোটার জন্যে চান্স পায়নি ?
আর কোন কোটা ধারী মেধাবী না হয়ে চান্স পেয়েছে ?
কোটা সংশোধন করা যেতে পারে । যারা বাতিলের দাবী করতেছে ... তাদের মেধা আছে কিনা অদৌ তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয় ।

"এজন্য কোটা প্রথা সংশোধণ ও পরিমার্জনের দাবী উঠতে পারে -- বাতিলের দাবী নয়। "
সহমত ।

অসাধারন বক্তব্য

আমিও একমত ভাইজানের সাথে ।

১৪

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

Noyon90 লিখেছেন:

মুক্তিযুদ্ধের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান এই শ্লোগান টা কোটা বিরুধী আন্দোলন থেকে উটে এসেছে  তাহলে আমি কেন বলতে পারব না?

রাস্তায় দেখে এলাম একলোক প্রধানমন্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে, আমি ফোরামে এসে গালাগাল গুলো পোষ্ট করবো তারপর বলবো সেই লোক গালি দিতে পারলে আমি পারবো না কেন!!! তাই তো?

অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে আছি।

১৫

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

Noyon90 লিখেছেন:

একটা কথা কেউ চিন্তা করেন না যে দেশের মোট  জনসংখ্যার মাত্র ২% কোটার মধ্যে পরে কি না তা ও সন্দেহ আছে আর তাদের ৫৫% বরাদ্ধ রাখা হয়েছে চাকরীর জন্য,  বাকি ৪৫% দেশের মোট  জনসংখ্যার  ৯৮% এর জন্য........., কি আজব কান্ড আমাদের দেশে , এখানে অনেকে দেখতেছি কোটার পক্ষে বড় বড় কথা বলতেছেন,  তাদের কি লাজ লজ্জা নাই দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে এই ধরনের বৈষম্য মুলক আচরণ করা হচ্ছে দেশের মোট  জনসংখ্যার ৯৮% এর সাথে ।
মুক্তিযুদ্ধের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান.....................
আমার কথা
১। মুক্তি যুদ্ধার কোটা চিরতরে বাতিল করা হোক।
২। নারীদের কোটা চিরতরে বাতিল করা হোক।

১। প্রতিবন্ধীর কোটা বাড়ানো হোক।
২।। আদিবাসীদের কোটা বাড়ানো হোক।

১। মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে আরো বেশ কিছুদিন তবে আপনি দাবী না করলেও এটা কিছুদিন পর বাতিল হবে বলেই আমার মনে হয়। আগে রাজাকারগুলোর বিচার শেষ হউক, তারপর আরো কিছু সময় ... ...

২। নারী কোটা কেন বাদ যাবে? এই সমাজ ব্যবস্থায় নারীর অধিকার নিশ্চিত করা যায়নি, পদে পদে তাঁদেরকে বিভিন্ন রকম সামাজিক বাঁধা ডিঙাতে হয়, যা ছেলেদের ক্ষেত্রে হয়ই না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করা গেলে অনেক সিদ্ধান্তই হঠকারী হতে পারে। যদি সমাজ ব্যবস্থা নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারতো তাহলে কোটা ছাড়াই নারীর অংশগ্রহণ এমনিতেই বাড়তো। সর্বোপরী আমাদের পরীক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির কারণেও অনেক নারী বাদ পড়ে যায় --- অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে লেখাপড়া না জানা নারীও শিক্ষিত ও মেধাবী পুরুষের চাইতে বেশি গঠনমূলক সিদ্ধান্ত দিতে পারে। বিভিন্ন বিদেশী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ নীতিতেও নারী কোটা রাখা হয় এসব কারণেই।
জেনে রাখুন আমার ব্যাচে SSC এবং HSC দু পরীক্ষাতেই ফার্স্ট স্ট্যান্ড করেছিলো নারী (একই মেয়ে না কিন্তু)। বুয়েটে আমার ডিপার্টমেন্টের প্রথম দিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়ে ছিল, যদিও সার্বিকভাবে মেয়েদের সংখ্যা মাত্র ১০% ছিল --- এটা কি মেধার কারণে বাদ পড়েছিলো? মোটেই না --- ঐ যে বাস ঠেলে, ঝুলে, মেসে থেকে কোচিং করা, আর পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারদের মাঠে ঘাটে ঘোরাঘুরি করার কাজ দেখে আগেই পিছিয়ে যায় অনেক মেয়ের অভিভাবক। অথচ, যে কোনো উন্নয়নের কাজে এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ খুবই জরুরী।

৩। প্রতিবন্ধী কোটা বাড়ানো হোক --- তাহলে আপনার আগের লজিক/যুক্তিতর্ক এবার কোথায় গেল? প্রতিবন্ধীদেরকে কোটা দিয়ে সরকারী চাকুরীতে এনে কী সার্ভিস পাবেন? প্রতিবন্ধীদের প্রতি সমাজের দায়িত্ব আছে -- যে কোনো উন্নয়ন কাজে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা তৈরী করতে হয় -- যেমন, বাইরে দেখেছি ফুটপাথের মাঝে একটা লাইন বরাবর টাইলসগুলো অন্যরকম, মোড়ে আরেকরকম --- পরে জেনেছি এটা সাদা-ছড়িদের জন্য ... এই টাইলসে ছড়ি দিয়ে সহজেই দিক চিনে যেতে পারবে। ভবনের ভেতরে প্রতিটা নেমপ্লেট, রুমের সাইন, ইনফর্মেশন বোর্ড, সাইনবোর্ডের নিচে ব্রেইল ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বাথরুম থাকলে বয়ষ্ক এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পেশাল বাথরুম/টয়লেট রাখতে হয় ---- ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের দেশে এখনও সেগুলো নাই। এসব ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্বমূলক সিদ্ধান্ত বেশি অর্থবহ হবে -- তাই তাঁদের সীমিত কোটা থাকা দরকার। কিন্তু আপনি বলছেন বাড়াতে হবে --- কেন বলেন তো?

৪। আদিবাসিদের কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে দ্বিমত নাই। উপজাতীয়দের নিয়ে কিচ্ছু থাকবে না? (বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় উপজাতি কোটা ছিল বলে মনে পড়ে)

বাই দা ওয়ে, আপনি কাদের হয়ে দালালি করতেছেন?

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

শামীম লিখেছেন:

বাই দা ওয়ে, আপনি কাদের হয়ে দালালি করতেছেন?

উনি কাদের দালালি করছেন উনার লেখাতেই বুঝা যায়।

কোটা প্রথা যারা বাতিল করতে দাবী জানায় তাদের মেধা নিয়ে সংশয় আছে।

আমার একটা বন্ধু সেও অনেক লাফালাফি করছে এই কোটা বাতিলের দাবীতে। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি সে বিসিএসে চান্স পাবে না। তার ৫০টা উত্তরও হয়নি কিন্তু সেও লাফালাফি করেছে।

সালেহ আহমদ'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

সালেহ আহমদ লিখেছেন:

কোটা প্রথা যারা বাতিল করতে দাবী জানায় তাদের মেধা নিয়ে সংশয় আছে।

প্রধান মন্ত্রীর কথা Reply করে তুমি প্রমাণ করলা আসলেই তুমি মুক্তি যুদ্ধের দালাল ।

শিক্ষিত প্রতিবন্ধী কতজন আছে হিসাব করলে মোট  জনসংখ্যার  ০.০৫% ও হবে না  ।
১০০ জনের মধ্যে একজন শিক্ষিত প্রতিবন্ধীকে চাকরি দিলে কি এমন দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে?

নারিদের কোটা দিয়ে আরও বৈষম্য বাড়ানো হচ্ছে, মানবতার কাতিরে চাকরি দেওয়া সেটা অন্য কথা অগ্রাধিকার ভিক্তিতে তাদের ক চাকরি দেওয়া মানবতা বিরুধী অপরাধ।  চাকরি দিয়ে কখনো বৈষম্য দূর করা যাবে না তার জন্য দরকার সচেতনতা,

মিথ্যের ঝড়ো বাতাসে সত্যের নিভু নিভু প্রদীপ দিয়ে লড়াই করা যায় না

১৮

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

Noyon90 লিখেছেন:
সালেহ আহমদ লিখেছেন:

কোটা প্রথা যারা বাতিল করতে দাবী জানায় তাদের মেধা নিয়ে সংশয় আছে।

প্রধান মন্ত্রীর কথা Reply করে তুমি প্রমাণ করলা আসলেই তুমি মুক্তি যুদ্ধের দালাল ।

শিক্ষিত প্রতিবন্ধী কতজন আছে হিসাব করলে মোট  জনসংখ্যার  ০.০৫% ও হবে না  ।
১০০ জনের মধ্যে একজন শিক্ষিত প্রতিবন্ধীকে চাকরি দিলে কি এমন দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে?

নারিদের কোটা দিয়ে আরও বৈষম্য বাড়ানো হচ্ছে, মানবতার কাতিরে চাকরি দেওয়া সেটা অন্য কথা অগ্রাধিকার ভিক্তিতে তাদের ক চাকরি দেওয়া মানবতা বিরুধী অপরাধ।  চাকরি দিয়ে কখনো বৈষম্য দূর করা যাবে না তার জন্য দরকার সচেতনতা,

আপনি যে মেধাবী আপনার পোস্ট পড়েই বুঝতে পারছি।  ভদ্রতা শিখে এসে রিপ্লাই দিবেন।

সালেহ আহমদ'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

Noyon90 লিখেছেন:

মোট জনসংখ্যার ১% ও মুক্তিযোদ্ধা না কিন্তু তাদের জন্য বরাদ্ধ ৩০%   
আমি মনে করি
প্রতিবন্ধী ছাড়া র কারো জন্য কোটা রাখা হল মানবতা বিরোধী অপরাধ

মূল বিতর্কও আসলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই এবং সেইটাই স্বাভাবিক কারণ অন্যান্য কোটার তুলনায় অনেক বেশি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় (৩০%) বরাদ্দ আছে।

মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের অবিসংবাদিতভাবেই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। দেশের জন্য যে ত্যাগ তাঁরা স্বীকার করেছেন,  কোন পুরস্কারের আশায় তা না করলেও স্টেট অবশ্যই সেই দায়িত্ব নিতে পারে। যাই হোক, প্রথমেই দেখা যাক আমাদের সংবিধান কী বলে। সংবিধানে সবার ইমপ্লয়মেন্টের ব্যাপারে সমান অধিকারের কথা বলা হলেও একটি ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ আছে। শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যই স্পেশাল প্রভিশন সংবিধানে রাখা আছে। দেশের টানে মুক্তিযুদ্ধে অনেক অবস্থাসম্পন্ন লোক যেমন যোগ দিয়েছিল, ঠিক তেমনি গ্রামের খেটে খাওয়া কৃষকও অংশগ্রহণ করেছিল। যুদ্ধাপরবর্তী অবস্থায় অনেকেই আহত থাকার কারণে স্টেটের দায়িত্ব ছিল তাদের দেখাশোনা করা। প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার মধ্যে ১৯৯৭ সালে অন্তর্ভুক্ত মুক্তিযুদ্ধের সন্তানেরা কি ওভারঅল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে? যেহেতু সংবিধান অনুসারে শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যই ব্যতিক্রম নিয়ম আছে, তাই আমি ধরেই নিচ্ছি সরকার তাই মনে করে যদিও এরকম কোন স্টাডি বা রিসার্চ আমার চোখে পড়লো না কোথাও, থাকলে অবশ্যই জানাবেন। আমি যদি ধরেও নিই, তাঁরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশ, মনে রাখতে হবে তাঁরা পুরো দেশের ১% ও না, আপনি তাদের জন্য বড় জোর ১০% কোটা রাখার কথা বলতে পারেন, ৩০% এর যৌক্তিকতা আমি কোন ভাবেই দেখছিনা।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, শাহবাগে বিসিএস কোটা নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে সেইটা যথেষ্টই যৌক্তিক। এখন এই আন্দোলন নিয়ে আমার দুই-চারটা কথা আছে।

আন্দোলন যেহেতু সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হচ্ছে এবং সরকারকে চাপ প্রয়োগের জন্য হচ্ছে, এইটা খুবই স্বাভাবিক যে সেখানে এই আন্দোলন থেকে ফায়দা লুটার জন্য এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য হরেক রকম লোকের আমদানি হবে।(যেমন আপনি এবং ফোরামে আরো কয়েকজন) সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অনেক ধরনের কথা বলা হচ্ছে এরকমও শোনা যাচ্ছে। (আপনিও এখানে বলেছেন যেটা মোটেও উচিত নয়)যারা আন্দোলন করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত যে আপনাদের আন্দোলন খুবই যৌক্তিক। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে কটু কথা বলে যারা তাদের ব্যাপারে আপনাদেরই সতর্ক থাকা উচিত এবং অন্য কেউ কিছু বলার আগে আপনাদেরই উচিত তাদের সোজা করা। সোজা করতে না পারলে দেখবেন এরা ভাস্কর্য পোড়াবে, ভাঙবে, মাঝখান থেকে আপনাদের যৌক্তিক আন্দোলন মাঠে মারা যাবে।(ইতোমধ্যেই গেছে কারণ সংস্কারের বদলে বাতিল করার হাস্যকর আব্দার শুরু করেছেন বলে)

আরো কয়েকটি বিষয়
১)কোটার হার অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। কোটা পদ্ধতির তাই সংস্কার অবশ্য কর্তব্য।কিন্তু এই সুযোগে কিন্তু এক্সট্রিমিস্টের(যেমন আপনি ও ফোরামের কয়েকজন) আবির্ভার ঘটেছে যারা সংস্কার নয়,পুরোপুরি বাতিল চায়। এটা irrational দাবি
২)আন্দোলনটা যৌক্তিক ছিল,কিন্তু এখানে দৃশ্যতই জামাত শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। নাহলে ”মেধাবীরা” বিসিএসএর সাথে সম্পর্কবিহীন ঢাবির উপাচার্যের আবাসিক ভবনের হামলা করতো না কিংবা চারুকলার ভাস্কর্য ভাংতো না।কিন্তু এদেরকে দমন করতে ছাত্রলীগের আবির্ভাব হিতে বিপরীত করে ফেললো। সরকারকে এটা বুঝতে হবে “ছাত্রলীগ কোন কাজে বাধা দিচ্ছে তার মানে অবশ্যই কাজটি ভালো ছিল”-এমন একটা পারসেপশন দেশে তৈরি হয়ে গেছে!!! :p :p আর তার চেয়েও বড় কথা,বিশৃংখলাকারীদের দমন করার দায়িত্ব পুলিশ-র্যাবের। এটা ছাত্রলীগের কাজ নয়।এখানে ছাত্রলীগের আবির্ভাবই বেআইনী।
৩) মেধার বহিঃপ্রকাশ দেখলাম আমরা! সংঘর্ষ, ভাংচুর, আগুন! আন্দোলন সম্ভবত প্রথমে কোটা বাতিলের পথে থাকবে, পরে মারামারি ও সাংঘর্ষিক রূপ নিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে! টাকা আর রাজনৈতিক ব্যবহারের দুরভিসন্ধিতে একটা যৌক্তিক আন্দোলন অযৌক্তিক জেদের পথে চলে গেল, বিক্রি হয়ে গেল!!

আর শাহবাগের আন্দোলনের ব্যাপারে বলা যায়, এটি এখন পুরোই ছাগুদের দখলে। নইলে, চারুকলার ভাস্কর্য ধ্বংস হবে কেন বা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অসম্মানজনক শ্লোগান দেয়া হবে কেন?

এই আন্দোলনটা এখন মুক্তিযোদ্ধাদের বাপন্ত তোলার একটা সুযোগ করে দিয়েছে। মনের সুখ মিটিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খিস্তি খেউর করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রীতিমত মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা শুরু হয়েছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, এই কোঠা বিরোধী আন্দোলনকারীদের জন্য যারা মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেমেয়ে তারা এখন তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা এটা স্বীকার করতেই বিব্রত বোধ করছে। বাহ্‌, এটাই তো চেয়েছিল ওরা! একদিন যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের বংশধরদের একদিন অনুশোচনা করতে হবে এর জন্য। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এটা বললে চারপাশে এখন সবাই হাসিহাসি করবে। একদল সরকারী চাকরীলোভী `মেধাবী’ মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেমেয়েদের জন্য সরকারী পদে বসে আমাদের পি টা মারার চান্স পাচ্ছে না। তাই মুখে যা আসে তাই বলে মুক্তিযোদ্ধাদের মা-বাপকে নানা জনের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে মুখের ঝাল মিটিয়ে নিচ্ছে। পহেলা বৈশাখের ভাস্কর্যে আগুন লাগাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা ঠাট্টা করে বলা শুরু করছে, ইস্‌, আমার বাপে যদি একটা বন্দুক লইয়া খালি একটা ফটো তুলতো তাইলে হালার পুতেও একখান চাকরী পাইতো। আমিও পাইতাম। আমার পুতেও পাইতো…! (সমবেত সকলেরই অট্টহাসি)
সেইদিন এসে গেছে যেদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লোকে কথা বলতে বিব্রত বোধ করবে। আর ওরা বুক ঠুকে গবর্ভরে বলবে, শান্তিবাহিনিতে আমার ওমুকের নাম ছিল…। বি

এখন বিসিএস পরীক্ষায় অকৃতকার্য “মেধাবী”রা জড়ো হয়েছেন শাহবাগে। জামায়াত-হেফাজত ছাগু কোং চাইছে তাদের উস্কে দিতে। যথেচ্ছ তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি তারা মুক্তিযোদ্ধা ও আদিবাসীদের হেয় করে অশোভন সব শ্লোগান দিয়েছে।

কোটা কোথায় নেই! রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশও কোটা সুবিধা ভোগ করে। আমেরিকা জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে বলে হই হল্লা শুরু হয়েছে, খোদ মন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করা হচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির জন্যে ভারতের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করা হয়।কারণটা কী? এখানেও কোটা অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে সুবিধা চায়। বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পোন্নত রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ কোটা সুবিধা চায়।বাংলাদেশও তো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, তাহলে তার জন্যে কেন জিএসপি সুবিধা, কেন বিশেষ প্রবেশাধিকারের সুবিধা? অন্য দেশের সাথে বাংলাদেশ কেন তাহলে প্রতিযোগিতা করতে পারে না?

ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়া মহদেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোটা ভিত্তিক পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়া হয়। তখন আমরা সেটা লুফে নেই। তাদের কি দরকার ছিলো এশিয়ার ছাত্রছাতীদের কে মেধাবী হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে? এখানেও ন্যায্যতার বিষয়টি উঠে আসে। আসলে সারা পৃথিবীর সবখানে সবকিছুতেই কোটা ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু আছে। কারণ পৃথিবীর সবখানে সমভাবে উন্নয়ন হয়নি, সব মানুষ সম অধিকার পায় না। পৃথিবীতে সুষম উন্নয়ন যতদিন হবে না, ততদিনই অনগ্রসরদেরকে মূলস্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য উঠিয়ে নিয়ে আসতে এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।

পত্রপত্রিকা আর ফেসবুকে কোটা নিয়ে অনেকের অনেক মত অনেক যুক্তির কথা শুনলাম।
আমি নিজে কোটার পক্ষে।
আসলেই সবসময় “equality is not justice”।

https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-frc3/1045001_10200306992099439_1162830673_n.jpg

hit like thunder and disappear like smoke

২০

Re: কোটাপ্রথা নিপাত যাবে, মেধাবীরা মুক্তি পাবে

সালেহ আহমদ[quote লিখেছেন:

আপনি যে মেধাবী আপনার পোস্ট পড়েই বুঝতে পারছি।  ভদ্রতা শিখে এসে রিপ্লাই দিবেন।

আমার মত মেধাবী হতে হলে আপনাকে আরও ৭ বার জন্ম নিয়ে আসতে হবে তারপর ও হতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।

কোন ধরনের কোটা প্রথায় ইসলাম সমর্থন করে না তবে মানবতার কাতিরে কিছু কিছু মানুষের জন্য দয়া করা যাবে যেমনঃ  প্রতিবন্ধী , অসহায় উপজাতি ইত্যাদি ।

বাংলাদেশে যে কোটা প্রথা চালু আছে সেটা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মিথ্যের ঝড়ো বাতাসে সত্যের নিভু নিভু প্রদীপ দিয়ে লড়াই করা যায় না