টপিকঃ জোছনা নামাবো বলে (পর্ব ১)

তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে বলে যে প্রেমিক ফেলে গেছে পথে জানি
তার মিথ্যে বাগদান হাড়ের মালার মত আজো জড়িয়ে রাখো চুলে।
- জয় গোস্বামী।


কেমন জানি শীত শীত লাগছিল।পায়ের কাছে পড়ে থাকা কাঁথাটা গায়ে টেনে নিয়ে চোখ মেললাম। অ্যাকুরিয়াম এর স্বচ্ছ কাঁচের প্রভেদ দিয়ে গোল্ডফিশ টার সাথে চোখাচোখি হল, কদিন আগেই এর জোড়াটা মারা গেছে । তারপর থেকেই মাছটা নড়াচড়া কম করছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল আমি চোখ মেললেই দেখছি পানিতে স্থির হয়ে মাছটা আমার চোখের দিকে চেয়ে আছে। সম্ভবত এও অসুস্থ, বেশীদিন বাঁচবে না। অ্যাকুরিয়াম টা আমি এমন জায়গায় রেখেছি যেন সকাল বেলা চোখ মেললেই এদের দেখা যায়, এ নিয়ে রুদ্রনীল এর সাথে ছোটোখাটো একটা যুদ্ধও করতে হয়েছে। প্রথমদিন অফিস থেকে ফিরেই ভ্রু কুঁচকে বলল দরজার মুখে এমন অজায়গায় অ্যাকুরিয়াম রেখেছ কেন? আমি হেসে উত্তর দিলাম সকাল বেলা চোখ মেলেই যাতে প্রানের সঞ্চালন দেখতে পায় তাই। সে তার ভ্রু কে দ্বিগুণ কুঞ্চিত করে বলল ৬ ফুট উচ্চতার ৬৫ কেজি ওজনের একটি প্রান তোমার সামনে দিয়েই সঞ্চালিত হয়ে ব্রাশ করে, ব্রেকফাস্ট করে, রেডি হয়ে অফিস যায়! প্রানের সঞ্চালন দেখার জন্য আমার এত বড়র শরীরটায় কি যথেষ্ট না? আমি জবাব দিলাম না কারন ও কঠিন যুক্তি দিয়েছে। ও অসম্ভব যুক্তিবাদী মানুষ, আমি কোনদিন ই ওর যুক্তির সাথে পেরে উঠিনা। ভুল বিষয় কেও এমন ভাবে উপস্থাপন করে মনে হয় আরে ওরটায় তো ঠিক! আমি কোন ধরনের ঝগড়ায় ও যাইনা কারন আমার পরাজয় নিশ্চিত। জানিনা কোন এক অজ্ঞাত কারনে মাছ জিনিসটায় ও সহ্য করতে পারে না আমার ফ্রিজ ভরা মাংস, ও বাসায় মাছ তোলে না। আমি গোল্ডফিশ কিনে চাইলে বিরক্ত হয়ে বলল ময়না টিয়া এসব পুষো, মাছ পোষার কি দরকার?
আমি বললাম পাখিকে বন্দি অবস্থায় দেখলে আমার খারাপ লাগে,
পাখি পোষার মধ্যে একটা নির্দয়তার ব্যাপার আছে।
ওর কঠিন জবাব- পাখির যায়গা যেমন খাঁচায় না আকাশে তেমনি মাছের যায়গা ও অ্যাকুরিয়ামএ না পানিতে সুতরাং পাখি পোষা যদি নির্দয়তা হয় তবে মাছ পোষা ও কোনও অংশে কম নির্দয়তা না।
আমি তর্কে যায়নি নিজেই গিয়ে গোল্ড ফিশ কিনে এনেছি।

বাথরুম এ পানি পড়ার শব্দ হচ্ছে তারমানে নীল উঠে গেছে এখন আমাকেও উঠতে হবে।
সকাল বেলার এই সময় টা রাজ্যের আলস্য আসে আমাকে গ্রাস করে, কদিন ধরে শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না
অফিস এ রোজ লেট হচ্ছে, আজ ও দেরি করলে নির্ঘাত বস এর ঝাড় খাব।
আমি অলসতা ঝেড়ে হাত মুখ ধুয়ে রান্নাঘরে ঢুকলাম,চা এর পানি চুলায় চাপিয়ে দিতেই নীল ডাকল- ব্রেকফাস্ট রেডি টেবিল এ চলে এসো। আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম, গত কয়দিন ধরে আমি রোজ দেরীতে উঠছি দেখে নীল ই  নাস্তা রেডী করছে।
আমি কিছুই খেতে পারলাম না, টোস্টে একটা কামড় দিতেই মনে হল পেটের ভেতর সব গুলিয়ে গলা দিয়ে উঠে আসছে। ছুটে বেসিন এর সামনে গেলাম, তেতো পানি ছাড়া আর কিছুই উঠলো না।
অ্যাসিডইটি টা বড্ড ভোগাচ্ছে।
নীল পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারছি।সমস্ত কোমলতা কণ্ঠে ঢেলে বলল, স্বপ্ন তোমার শরীর টা কি খারাপ?
আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম
দীর্ঘ ৬ মাস আমরা আলাদা আছি, আমাদের ডিভোর্স এর পেপার তৈরি হয়ে আছে আমার চাকরিতে বদলির অর্ডার আসলেই পেপার এ সাইন করে আমি এখান থেকে চলে যাবো।
আমাদের সম্পর্ক যখন স্বাভাবিক ছিল তখন ও কোনোদিন এত মমতা ঢেলে আমার সাথে কথা বলেনি নীল আর আজ এই বিদায় বেলায় এত আকুতি কেন?   
আমি শীতল গলায় না ঠিক আছে বলে ঘরের দিকে পা বাড়ালাম।
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বের হবো এই সময় মনে হল একদিন এই ঘরটা আমার আর নীলের ছিল এখন শুধু আমার এরপর শুধু নীলের হবে, কত সৃতি ঘরটা ঘিরে।
এক সময় এই জীবন থেকে মুক্তির জন্য হাঁসফাঁস করেছি আর আজ যখন মুক্তির দুয়ারে পৌঁছে গেছি তখন মুক্তির স্বাদ টাকে বড় বিস্বাদ লাগছে।বুকের ভেতর কোথায় যেন একটা নিদারুণ শূন্যতা অনুভব করছি।
বাসা থেকে বের হতে গিয়ে নীলের দিকে চোখ পড়লো, ওর ঘরে খাটের উপর জড়সড় হয়ে বসে আছে, কেমন যেন বিধধস্ত দেখাচ্ছে। আমার কেন জানি ভীষণ মায়া হল ইচ্ছে হল ওর মাথায় একটু হাত রাখি। অনেক কষ্টে ইচ্ছে দমন করে বেরিয়ে আসলাম।
                  চলবে -

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

Re: জোছনা নামাবো বলে (পর্ব ১)

গল্প ভাল লাগলো।  thumbs_up

oporazita লিখেছেন:

চলবে -

চলুক সাথে আছি।

Re: জোছনা নামাবো বলে (পর্ব ১)

ইলিয়াস লিখেছেন:

গল্প ভাল লাগলো।  thumbs_up

oporazita লিখেছেন:

চলবে -

চলুক সাথে আছি।

   
ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .

Re: জোছনা নামাবো বলে (পর্ব ১)

বাহ্‌। আপনি তো বেশ লিখেন। পড়ে বেশ লাগলো  thumbs_up
আর আপনাকে আলাদা করে স্বাগতম সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগে। ভালো থাকুন। আশা করি সামনে আরো চমতকার সব গল্প পাবো।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জোছনা নামাবো বলে (পর্ব ১)

উম্মম্ম...!  roll

পরের পার্ট তাড়াতাড়ি প্লিজ  tongue_smile

Re: জোছনা নামাবো বলে (পর্ব ১)

উদাসীন লিখেছেন:

বাহ্‌। আপনি তো বেশ লিখেন। পড়ে বেশ লাগলো  thumbs_up
আর আপনাকে আলাদা করে স্বাগতম সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগে। ভালো থাকুন। আশা করি সামনে আরো চমতকার সব গল্প পাবো।

    অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে উদাসীন । সত্যি বলতে আপনার লেখা গল্প পড়েই আমার ধুলো জমে যাওয়া গল্প গুলো পোস্ট করার আগ্রহ জাগ্রত হয়। অজ্ঞাতে প্রেরনা যোগানোর জন্য কৃতজ্ঞ আপনার কাছে।

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পর তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার . . . . . .