সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (২৬-০৫-২০১৩ ০১:৫০)

টপিকঃ পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

আগের পর্ব দুটি:
পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ
পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ - ২
================
আগের পর্বগুলোতে ভৌত ও রাসায়নিক পদ্ধতিগুলো দেখেছি। এবার ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যবহারের কিছু উপায় -
৪ কিছু সাধারণ ব্যবহারিক প্রয়োগ পদ্ধতি
৪.১ পানির ট্যাংকি, সরবরাহের পাইপ জীবানুমুক্তকরণ
নির্মাণের পরপর একটা বাড়ির ব্যবহারকারীদের পানি সরবরাহ শুরুর আগে পানির পাইপ ও ট্যাংক থেকে জীবানু দুর করা জরুরী। এছাড়া কিছুদিন ব্যবহার বন্ধ থাকলে পূণরায় শুরু করার আগে এবং পাইপ বা ট্যাংকে কোনো মেরামতের কাজ চললে তারপর এগুলোকে জীবানুমুক্ত করা দরকার। এছাড়া বন্যা বা অন্য কোনো কারণে নিচতলার রিজার্ভ ট্যাংকে বাইরের জীবানুযুক্ত পানি প্রবেশ করতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থাকে জীবানুমুক্ত করতে যা করতে হবে তা হল নিম্নরূপ:

  • সমস্ত পানির ট্যাংকের তলায়, দেয়াল এবং ছাদে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে দেয়ালগুলো ব্রাশ দিয়ে ঘষে তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। সমস্ত পানির পাইপগুলোর ভেতর থেকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারের জন্য এগুলো দিয়ে পানি প্রবাহ করা ছাড়াও প্রয়োজনে শক্ত ও চিকন দন্ডের মাথায় পরিষ্কার ন্যাকড়া বেঁধে সেটা দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

  • প্রতি লিটারে ৫০ মিলিগ্রাম ঘনত্বের ক্লোরিন দ্রবণ প্রস্তুত করতে হবে। খেয়াল করুন, এখানে ক্লোরিনের কথা বলা হয়েছে, সুতরাং প্রযুক্ত কেমিকেলে থাকা ক্লোরিনের পরিমান জেনে ডোজ ঠিক করতে হবে; যেমন ৩৩% ক্লোরিন দেয়া ব্লিচিং পাউডার হলে প্রতি লিটারে ১৫০ মিলিগ্রাম লাগবে; অর্থাৎ প্রতি ১০০০ লিটারের পানির জন্য ১৫০ গ্রাম কড়া ব্লিচিং পাউডার লাগবে; যদি ব্লিচিং-এর শক্তি/ধক কমে যায় তাহলে আরো বেশি দিতে হবে।

  • এরপর নিচের ও ছাদের ট্যাংকি সহ পুরা পাইপ লাইন এই পানি দিয়ে ভরতে হবে। ছাদে পানি তোলার পর প্রয়োজনে বিভিন্ন ফ্লোরের কলগুলো একটু করে খুলে ক্লোরিন মেশানো পানি আসা পর্যন্ত ছেড়ে রাখতে হবে; এই পানি আসলে তারপর কল বন্ধ করতে হবে।

  • কলগুলোর বাইরের অংশ এই ক্লোরিন পানি দিয়ে মাঝে মাঝেই ধুয়ে দিন। এছাড়াও পানির ট্যাংকের যে অংশে পানি লাগে না (ছাদ ও উপরের ধার) সেখানেও এই পানি দিয়ে মাঝে মাঝে ধুয়ে দিন।

  • এভাবে ক্লোরিন পানি ভরে পুরা পাইপলাইন ও ট্যাংককে ২৪ ঘন্টা রেখে দিন (সর্বনিম্ন ৬ ঘন্টা)। তারপর কল ও ভালভ খুলে সমস্ত পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে যেতে দিন।

  • এবার জীবানুমুক্ত হয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক সরবরাহ চালু করার জন্য প্রস্তুত।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন, যদি সরবরাহকৃত পানিতে নিয়মিতভাবেই জীবানু আসে অর্থাৎ সরবরাহ লাইনে লিকেজের কারণে কোন উৎস থেকে পানি দূষিত হয়েই আসে তাহলে এভাবে পুরা লাইন পরিষ্কার করলেও কোনো লাভ হবে না। এরকম ক্ষেত্রে অবিরতভাবে ক্লোরিন দিয়ে রিজার্ভ ট্যাংকের পানি জীবানুমুক্ত করতে প্রয়োজন হবে। এজন্য পরবর্তীতে বর্ণিত পাতকূয়া জীবানুমুক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪.২ টিউবওয়েল জীবানুমুক্তকরণ
টিউবওয়েল স্থাপনের সময়ে বাইরের জলাশয়ের পানি ব্যবহারের  কারণে এর মধ্যে জীবানু চলে আসে। এছাড়া পাইপ স্থাপনের আগে করা লম্বা গর্তের পাশ ভেঙ্গে পড়া রোধ করতে দুষিত রাসায়ানিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া বন্যার সময় ডুবে গেলে টিউবওয়েলের ভেতরে দুষন তথা জীবানু আস্তানা গাড়তে পারে। তাই কয়েকটি ক্ষেত্রেই টিউবওয়েলকে জীবানুমুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এজন্য যা করতে হবে -

  • ৫০ লিটারের মত ৫০ মিলিগ্রাম/লিটার ঘনত্বের ক্লোরিন দ্রবণ প্রস্তুত করতে হবে। (ব্লিচিং পাউডারে ৩৩% ক্লোরিন থাকলে প্রতি লিটারের জন্য ০.১৫ গ্রাম মেশাতে হবে)

  • গোড়া থেকে টিউবয়েলটা (এখানে নলকূপের মাথায় লাগানো পানি তোলার হ্যান্ডপাম্পটার কথা বুঝানো হয়েছে) খুলে নিয়ে নলকূপের পাইপের মধ্যে সেই ক্লোরিনের দ্রবণটা ধীরে ধীরে ঢেলে দিতে হবে। ক্লোরিন দ্রবণটায় পাইপ ভরে যাবে, এরপর আস্তে আস্তে সেই দ্রবণ ফিল্টার পাইপের মধ্য দিয়ে ভূ-স্তরে প্রবেশ করবে।

  • হ্যান্ডপাম্পটাকে পার্ট বাই পার্ট খুলে সবগুলো অংশ ক্লোরিন পানিতে ডুবিয়ে রাখুন বা ধুয়ে নিন। প্রয়োজনে বেশি বড় কোন অংশের পৃষ্ঠদেশ ঐ পানি ভেজানো ন্যাকড়া দিয়ে মুছুন। এরপর হ্যান্ডপাম্পটাকে আবার জুড়ুন এবং নলকূপের মাথায় লাগিয়ে ফেলুন।

  • ক্লোরিন পানি প্রবেশ করানোর পর কমপক্ষে ৬ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর যতক্ষণ পাম্প করে সমস্ত ক্লোরিন পানি বের করে ফেলুন; যতক্ষণ ক্লোরিণের গন্ধওয়ালা পানি বের হবে ততক্ষণ যাবৎ পাম্প করতে হবে (স্থানীয় ভাষায় কল টানতে হবে)।

  • পাম্পিং শেষ হলে সাধারণ ব্যবহারের জন্য টিউবওয়েলটা প্রস্তুত।

৪.৩ পাতকূঁয়া এবং পুকুর জীবানুমুক্তকরণ
বিশেষত গ্রামাঞ্চলের কিছু জায়গায় এখনও পাতকূঁয়া বা ইন্দারা খাবার পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি কোনো কোনো জায়গায় সংরক্ষিত পুকুরের পানিও রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। এই সব উৎসগুলোও মাঝে মাঝে জীবানুমুক্ত করার দরকার হয়ে পড়ে। এই উৎসগুলোতে পানি প্রাকৃতিকভাবে উন্মুক্ত থাকে বলে অবিরত জীবানুনাশ করা প্রয়োজন। এজন্য এখানকার পানিতে অবিরত স্বল্পমাত্রায় ক্লোরিন মেশানোর জন্য নিম্নের লগসই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এক কলস পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে পরবর্তী চিত্র ৫ এর মত করে তলে ছিদ্রওয়ালা একটি কলসে পর্যায়ক্রমে বড় ও ছোট নুড়ি পাথর (২০ – ৪০ মিলিমিটার আকারের) ভরতে হবে। মাঝে বালুর সাথে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে দিতে হবে – এক্ষেত্রে বালু আর ব্লিচিং এর অনুপাত হবে ২:১, অর্থাৎ এক কেজি ব্লিচিং এর সাথে দুই কেজি বালু মিশাতে হবে। তারপর এর মুখ পর্যন্ত আবার ছোট ও বড় নুড়ি পাথর দিয়ে ভরতে হবে। এরপর কলসটিকে দড়ি দিয়ে পাতকূঁয়ার ভেতরে ধীরে ধীরে নামিয়ে ডুবিয়ে দিতে হবে। এরকম আয়োজনের ফলে ভেতরের ব্লিচিং থেকে ধীরগতিতে পানিতে ক্লোরিন ছড়াতে থাকবে। এটা নামানোর পর প্রথম কয়েকদিন অবশ্য পানিতে ক্লোরিন একটু বেশিই মনে হবে।

এক কেজি ব্লিচিং পাউডার দিয়ে এভাবে ২০০ – ৩০০ ঘনমিটার পানি পরিশোধন করা যাবে। যখন পানিতে আর ক্লোরিনের গন্ধ পাওয়া যাবে না তখন সেটা তুলে আবার নতুন করে বালু ও ব্লিচিং পাউডার মিশ্রন দিতে হবে।

https://lh6.googleusercontent.com/-KxwO4ZCMQE0/UaERPBDfAyI/AAAAAAAAB5w/yDfzz-QqkpA/w948-h382-no/single-pot-chlorination.png
চিত্র ৫:  পাতকূঁয়া এবং পুকুর জীবানুমুক্ত করার জন্য এক কলসি এবং দুই বয়াম পদ্ধতির ব্যাখ্যামূলক চিত্র

দুই বয়াম পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন আকারের মাটির বা প্লাস্টিকের বয়াম দিয়ে চমৎকার ক্লোরিন প্রয়োগ যন্ত্র বানানো যায়। বাইরের বয়ামের মুখ দিয়ে ছোট বয়াম না ঢুকলে, বড় বয়ামের বদলে ঢাকনা ওয়ালা প্লাস্টিকের বালতি ব্যবহার করে সেটার মুখটা ভাল করে বেঁধে আটকে দেয়া যেতে পারে। চিত্র ৫এ এর আয়োজন বিস্তারিত দেয়া আছে। এখানে ভেতরের ছোট বয়ামে বালু আর ব্লিচিং পাউডার ২:১ অনুপাতে মিশিয়ে কিছু অংশ ফাঁকা রেখে ভরতে হবে। এই মিশ্রনের উপরের অংশে বয়ামের পৃষ্ঠে একটা ছোট ছিদ্র করতে হবে (১ সেন্টিমিটার আকারের)। বাইরের বালতি বা বয়ামের নিচের দিকেও অনুরূপ আরেকটা ছিদ্র করতে হবে। ছোট বয়ামের মুখ ভালভাবে আটকে এটাকে বড় বয়ামের (বা বালতির) মাঝে এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যেন চিত্রের মত এদের ছিদ্রগুলো পরষ্পরের বিপরীত পাশে থাকে। বড় বয়ামের মুখ আটকে এটাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে আস্তে আস্তে কূঁয়াতে নামিয়ে ডুবিয়ে দিতে হবে।

এরকম দুই বয়াম পদ্ধতিতে এক কলসি পদ্ধতির চেয়ে সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে পানিতে ক্লোরিন মিশতে পারে। একবার ক্লোরিন দিলে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ এটা থেকে জীবানুমুক্ত করার মত ক্লোরিন বের হয়। যখন পানিতে আর ক্লোরিনের গন্ধ পাওয়া যাবে না তখন এটিকে পুণরায় তুলে ক্লেরিন বালু দিয়ে রিফিল করে কূঁয়াতে পূণস্থাপন করতে হবে।

৫ তথ্যসূত্র
Water Supply & Sanitation: Rural and Low income urban communities - M. Feroze Ahmed, and Md. Mujibur Rahman; ITN-Bangladesh
http://en.wikipedia.org/wiki/Solar_water_disinfection
http://water.me.vccs.edu/courses/env110/lesson19.htm
http://water.epa.gov/drink/emerprep/eme … ection.cfm
https://en.wikipedia.org/wiki/Water_chlorination
http://en.wikipedia.org/wiki/Povidone-iodine
http://en.wikipedia.org/wiki/Potassium_permanganate
http://en.wikipedia.org/wiki/Copper(II)_sulfate

ডাউনলোড
প্রিন্টযোগ্য পিডিএফ ডাউনলোড লিংক (৬০৩ কিলোবাইট)

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

ধন্যবাদ ভাই শেয়ার করার জন্য ।

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

জনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী টপিক

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

আগের দুইটা পড়েছিলাম । খুব ভাল । শিয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

কাজকে বলেন নামাজ আছে, নামাজ কে বলবেন না কাজ আছে.......
premium Place
xpassplace

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

মন্তব্য এবং পছন্দকারীদেরকে ধন্যবাদ। ফোরামে সক্রিয় পাঠক কম হলেও ইহা যথাযথ স্থানে জোর করিয়া পড়ানো হইবেক  hehe

পুরাটা একত্রে ডাউনলোড ছাড়াও এখানে (মানে পরিবেশ প্রকৌশলীর প্যাচালে) পাবেন।

BTW: এই পোস্টটা করতে গিয়ে গিম্পে প্রথম আঁকলাম (গুতায়া শিখলাম)। উপরের ছবিটা পুরাই gimp এ করা!

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

সুন্দর লাগলো।

বাজারে চীনে ফিল্টার নামক বস্তু পাওয়া যায়। সেগুলো কি পানি বিশুদ্ধ করে ? (নুড়ি পাথর বা ছোট ছিদ্রো ওয়ালা ফিল্টার)

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

মন্তব্য এবং পছন্দকারীদেরকে ধন্যবাদ। ফোরামে সক্রিয় পাঠক কম হলেও ইহা যথাযথ স্থানে জোর করিয়া পড়ানো হইবেক  hehe

তাতে কেউ আপত্তি করবে বলে মনে হয় না। আপনার বুঝানোর ক্ষমতা আসলেই খুব ভালো। এই অসাধারণ লেখাটার মূল্যায়ন যথাযথ ভাবে করতে পারলাম না।  sad

hit like thunder and disappear like smoke

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

সিরিজটা আসলেই অসাধরন হয়েছে।

@মন: কিছু ফোরামার  মন্তব্য বা রেপুর ধার ধারেন না বলেই মনে হয়।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

আরণ্যক লিখেছেন:

@মন: কিছু ফোরামার  মন্তব্য বা রেপুর ধার ধারেন না বলেই মনে হয়।

এটা এক অর্থে ভালো আবার খারাপও।  sad

hit like thunder and disappear like smoke

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (২৭-০৫-২০১৩ ০১:০৯)

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

সুন্দর লাগলো।

বাজারে চীনে ফিল্টার নামক বস্তু পাওয়া যায়। সেগুলো কি পানি বিশুদ্ধ করে ? (নুড়ি পাথর বা ছোট ছিদ্রো ওয়ালা ফিল্টার)

মেকানিজম কী সেটা জানলে হয়তো অনুমান করা সম্ভব। বালুর ফিল্টার অনেকদিন চললে এর উপরের স্তরে schmutzdecke (কপি করে গুগল করুন, প্রচুর ইমেজ এবং তথ্য পাবেন) নামক একটা বায়োলজিকাল লেয়ার তৈরী হয়, যা জীবানু ভোজন করে। যেহেতু সেটা বায়োলজিকাল, তাই সেটা বেঁচে থাকারও কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। অবিরত একটা ফিল্টার চললে সেরকম কন্ডিশনে এটা দ্বারা জীবানু দুর করা সম্ভব। তবে অন্য সোর্সগুলো থেকে (ধরেন তলার চেম্বারে কিংবা কলের গায়ে থেকে) জীবানু সংক্রমণ হতে পারে -- সেটা যেন না হয় সেজন্য প্রথমবার এবং মাঝে মাঝে উল্টাপথে ক্লোরিন পানি ঢুকিয়ে মূল ফিল্টারের পরবর্তী অংশকে জীবানুমুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে মূল ফিল্টার পর্যন্ত ক্লোরিন পানি ব্যাক ফ্লো করানো যাবে না -- তাতে আবার ঐ স্মুজডেক-ই অক্কা পেতে পারে।

কোথায় জানি পড়েছিলাম প্রতি এক লাখের মধ্যে ১০টি জীবানু ক্ষতিকারক; আর আমাদের শরীরে এন্টিবডি নামক বিশেষ স্কোয়াড আছে এদের ঠ্যাঙানি দেয়ার জন্য। কাজেই সতর্কতা, স্বাস্থ্য সচেতনতার দরকার আছে, কিন্তু ভয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নাই।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

সুন্দর লাগলো।

বাজারে চীনে ফিল্টার নামক বস্তু পাওয়া যায়। সেগুলো কি পানি বিশুদ্ধ করে ? (নুড়ি পাথর বা ছোট ছিদ্রো ওয়ালা ফিল্টার)

ওগুলো তো আয়রনের জন্য শুধু  thinking

১২

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

আপনার এই লেখার প্রথম পর্বেও প্রশ্ন করেছিলাম, আবারও করি। পানি জীবাণুমুক্তকরণের জন্য বাজারে বিভিন্ন মেশিন পাওয়া যায়, সেগুলো কতোটা নির্ভরযোগ্য। যেহেতু পানি বিশুদ্ধকরণের বিষয়টা আপনি জানা, তাই এ ব্যাপারেও হয়তো ভালো বলতে পারবেন। আমি ব্যবহার করছি ইউনিলিভারের পিওরইট। কিন্তু এটা কতোটা নির্ভরযোগ্য তা বুঝতে পারছি না। সম্ভব হলে এগুলো নিয়ে আলোকপাত করতে পারেন।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (২৮-০৫-২০১৩ ০০:৩৭)

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

@গৌতম: এগুলো এ্যাত ঘটা করে দাবী করে, সেটা সত্য হওয়ার কথা। তবে ফুলপ্রুফ বলে কিছু নাই। কিছু সিরামিক ফিল্টার আছে যেখানে ব্যাকটেরিয়া পর্যন্ত আটকিয়ে যায়। কিন্তু এধরণের ফিল্টারে মুশকিল হল লোকাল সেকেন্ডারী কন্টামিনেশন। এমনকি যদি আল্ট্রাভায়োলেট রে ব্যবহার করে তারপরেও সেকেন্ডারী কন্টামিনেশনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। কিন্তু যদি ভেতরে ওজোন দিয়ে পরিষ্কার করে তাহলে নিঃসন্দেহে সেকেন্ডারী কন্টামিনেশনের সম্ভাবনা প্রায় শূণ্য হয়ে পড়ে।

পিউরইটের ওয়েবসাইটে ওদের ৪ স্তরের ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে বলা আছে:

http://www.pureitwater.com/IN/media/02Discoverpureit/02Technology/01Pureit%20technology/01fourstage%20purification/images/xray.png
১। Microfibre Mesh™
Removes visible dirt to give safe drinking water.
২। Compact Carbon Trap™
Removes harmful parasites and pesticides to give clean drinking water.
৩। Germkill Processor™
Uses 'programmed chlorine release technology' to target and remove invisible harmful viruses and bacteria and provide pure drinking water.
৪। Polisher™
Removes chlorine and other contaminants to make water clear, odourless and great tasting.

এর প্রতিটা কম্পোনেন্টেরই নির্দিষ্ট ক্ষমতা আছে। আপনার মূল পানিতে দূষণ বেশি হলে দ্রুত এগুলো খরচ হয়ে অকার্যকর হয়ে যাবে, যদি দূষণের মাত্রা কম হয় তাহলে ক্ষয় হতে সময় লাগবে (কার্বন ট্র্যাপ, ক্লোরিন রিলিজ আর পোলিশার)। ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে ওগুলো রিফিল করতে হবে / মেইটেনেন্স বলা যেতে পারে এটাকে। দানাদার পদার্থ যেমন আয়রন বেশি হলে প্রথম মাইক্রোফিল্টার ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হবে। সময়মত মেইনটেনেন্স না করলে পরবর্তীতে এটা আর পিউর করতে পারবে না।

ঘড়ি চালাতে যেমন নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যাটারী পাল্টাতে হয় তেমনি এগুলোতে নিয়মিত ব্যাটারী (মানে কেমিকেল প্যাক) পাল্টাতে বা রিচার্জ করতে হবে। তবে এই নিয়মিত বলতে ঠিক কতদিন সেটা পানির গুনগত মান এবং ফিল্টারকৃত পানির আয়তনের উপর নির্ভরশীল। আমার ধারণা ওরা এভারেজ পানির ব্যবহার আর গুনগত মান ধরে ৫ বছরের প্যাক দিয়ে দিতে পারে --- এর আগেই মানুষ ওটা পাল্টে আরেকটা কিনবে কিংবা ভেঙ্গে ফেলবে -- এই আশায়/হিসাবে। এই তো!

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২৮-০৫-২০১৩ ০৮:২০)

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

ওরা এভারেজ পানির ব্যবহার আর গুনগত মান ধরে ৫ বছরের প্যাক দিয়ে দিতে পারে

১৫০০ লিটার ব্যবহার করার পরে জার্ম কিট পরিবর্তন করতে হয়। ১৫০০ লিটার পানি পাস হবার পরে সিস্টেম অটো শার্টডাউন হয়ে যায়।

১৫

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:
পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

ওরা এভারেজ পানির ব্যবহার আর গুনগত মান ধরে ৫ বছরের প্যাক দিয়ে দিতে পারে

১৫০০ লিটার ব্যবহার করার পরে জার্ম কিট পরিবর্তন করতে হয়। ১৫০০ লিটার পানি পাস হবার পরে সিস্টেম অটো শার্টডাউন হয়ে যায়।

এ্যাঁ!! তাহলে তো মাত্র তিন মাস।

২.৫ লিটার/প্রতিজন/প্রতিদিন x ৬ জন/পরিবার = ১৫ লিটার/দিন/পরিবার --> ১০০ দিন চলবে => ৩ মাস (প্রায়) ... ... ...  বাঁচাও!

জার্ম কিটের দাম কত?

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২৮-০৫-২০১৩ ১০:৩১)

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

শামীম লিখেছেন:

জার্ম কিটের দাম কত?

জার্ম কিল কিটের দাম৭০০ টাকা

১৭

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

ভাল লাগল

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৮

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

@পপ্র ভাইঃ লেখাগুলো খুবই মূল্যবান। ওগুলো উইকীতে পোস্ট করার ব্যাপারে ভাবছেন কি?

Calm... like a bomb.

১৯

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

শামীম স্যারকে অনেক ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ন এই টপিক দেয়ার জন্য।  thumbs_up

২০

Re: পানি জীবানুমুক্ত করণের উপায়সমূহ (শেষ পর্ব)

পরিবেশ প্রকৌশল ভাইকে ধন্যবাদ

"We want Justice for Adnan Tasin"