সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১১-০৫-২০১৩ ২২:৪৫)

টপিকঃ দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

পূর্বেঃ দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, পর্ব-৪


সেন্টমার্টিন্সের সকাল রৌদ্রোজ্জ্বল ছিলো না। ছিলো মেঘে ভরা মন খারাপ করা আকাশের সকাল। আমরা আগের দিন রাতে দেখে আসা ছাপড়া-হোটেলে সকালের নাস্তা করলাম। ইচ্ছে ছিলো ছেড়াদ্বীপ থেকে ঘুরে আসবো। কিন্তু সমুদ্রের কিঞ্চিত উত্তাল অবস্থা দেখে সেই ইচ্ছে উবে গেলো। আপাতত করার আর কিছু ছিলো না। জাহাজ ছাড়বে বিকেল সাড়ে চারটায়। বিচে ফিরে গেলাম আবার। একটা বাচ্চা ছেলে দেখলাম সাইকেল ভাড়া দিচ্ছে। আমরা সাইকেল ভাড়া করলাম। ঘন্টা ৩০টাকা! সাইকেলের অবস্থাও লক্করঝক্কর। সেই সাইকেলের সিটও একদম নিচু। সিট উচু হলে একটু ভালোমতন চালানো যায়। নিচু সিটে পরিশ্রম বেশি হয়। সবচেয়ে বিচ্ছিরি ব্যাপার ছিলো, সাইকেলের সিট কিছুদুর যাবার পরই উর্ধাকাশে দন্ডায়মান হয়ে যায়। সাইকেল থেকে নেমে সেটা আবার ঠিক করতে হয়। এভাবে বেশ কিছুদুর যাবার পরে আমি রণে ভঙ্গ দিলাম। তবে অর্নব আর শুভ্র আরও অনেক দূর গিয়ে নারিকেল গাছে ঘেরা অপরূপ একটা জায়গা আবিস্কার করেছিলো। ওরা জায়গাটার নাম দিয়েছিলো নারিকেল জিঞ্জিরা।

https://lh5.googleusercontent.com/-VZsFVoRSxnw/UW1NOvkKnVI/AAAAAAAAAfo/4X8zc2P6ndU/w604-h453-no/21838_1341564983908_8284110_n.jpg
কোরালের জঙ্গল

https://lh6.googleusercontent.com/-RJVkoVz478w/UW1NDQYgj3I/AAAAAAAAAfU/FvDEyzqsm0A/w604-h453-no/21838_1341573264115_547482_n.jpg
কোরাল দ্বীপে সূর্যাস্ত

সাইক্লিং শেষে  তৃষ্ণায় গলা একেবারে শুকিয়ে কাঠ। ট্যুরে শুভ্রর পার্সোনাল ম্যানেজার নাহিদকে অনুরোধ করলাম ডাব খাওয়ানোর। নাহিদ খুবই আন্তরিকভাবে বললো,
-    ড্যাশিং, তুমি ডাব খেতে চাবা, আর আমি খাওয়াবো না। এমন কোনদিন হবে?
এই কথা বলে দানবীর হাতেম-তাই এর মতন আমাদের ডাব খাওয়ালো। ডাব খাওয়ার পরে বুঝলাম কেন এ উদারতা। ওর জিম্মায় রেখে যাওয়া শুভ্রর টাকার সদ্বব্যবহার করা হয়েছে। যাইহোক, প্রতিটা ডাব নিয়েছিলো ৩০ টাকার মতন। আমরা ভেবেছিলাম এখানে হয়তো ডাবটাও সস্তা হবে রূপচাঁদা বা কাকড়ার মতন। কিন্তু ধারণাটা ভুল ছিলো। মাছের আইটেম ছাড়া এ ট্যুরিস্ট স্পটে সবকিছুর দামই আমার কাছে বেশি মনে হয়েছে। ডাব খেয়ে একটু চাঙ্গা হয়ে আমরা বাচ্চাদের রাবারের একটা বল দিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করলাম। এ সময় সবার স্পোর্টস ফটোগ্রাফী করলাম। এক টেকেই সবার অসাধারণ সব স্ন্যাপ নিলাম। কিন্তু যখন নিজের ছবি তুলতে বললাম ওদেরকে, ওরা অসাধারণভাবে হাজার টেকে আমার সব অটিস্টিক ছবি তুলে দিলো! বদমাশগুলো সেগুলো নিয়ে এখনো মাঝে মাঝেই ফেসবুকে মজা নেয়।

https://lh4.googleusercontent.com/-xJ2Vs5B7RTw/UW70pH98jnI/AAAAAAAAAhc/B6jLXWZuOjY/w604-h453-no/19365_1310981580810_2510122_n.jpg
বেবী ইন অ্যাকশন

ফুটবল খেলা শেষেও দেখি যে ঘড়িতে কোনমতে মাত্র বারোটা বেজেছে। তখনও মেলা সময় বাকি। কি আর করবো? জলকেলী করার জন্যে আবারও পানিতে নেমে গেলাম। এ সময় আমি সমুদ্রে, গভীরতার ব্যক্তিগত রেকর্ড ভেঙ্গে, কোমর পানিতে নেমে গেলাম। বেশ আনন্দ হচ্ছিলো। আমার আনন্দ দেখেই কিনা জানিনা, অর্নবেরও রেকর্ড করার ভুত মাথায় চাপলো। অবাক হয়ে দেখলাম আমাদের গোড়ালির সমান গভীরতায় খেলতে থাকা পাচ-ছয় বছরের একটা বাচ্চা ছেলেকে জোরজবস্তি ধরে কোলে উঠিয়ে পাড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারপর সেই বাচ্চার মাকে বাচ্চা হস্তান্তর করে আবার আমাদের কাছে ফিরে আসলো। কাহিনী জিজ্ঞেস করায় বললো,
-    আর বলিস না, বাচ্চাটা দেখি গলা পানিতে নেমে ভয়ে কাঁপছে, আর কাঁদছে।
-    আমরাতো দেখলাম যে, ঐখানে বড়জোড় হাটু পানি ছিলো।
-    (খুব বিরক্ত হয়ে) ধ্যেত! আমাদের হাটুপানি। কিন্তু ওর জন্যে গলা পানি ছিলো।
-    তুই খেলতে থাকা বাচ্চাটাকে কেন খামাখা জোর করে উঠায় নিয়ে গেলি?
-    এইতো বেয়াক্কেলের মতন কথা! বাচ্চাটা ডুবে যেতে পারতো। এজন্যে সাতার না পারা স্বত্তেও জীবন বাজি রেখে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে আনলাম বাচ্চাটাকে। এটাকে বলে হিম্মত। যেটা তোমাদের মতন সাঁতার জানা বীরপুরুষদেরও নাই।

দুপুর হয়ে গেলে আমরা খাওয়াদাওয়া করতে সেই ছাপড়া-হোটেলে ফিরে গেলাম। জীবনের সেরা রূপচাঁদা দোপেয়াজা এখানেই খেয়েছিলাম। দামও ছিলো অত্যন্ত সস্তা। আমার এতো মজা লেগেছিলো যে, একেবারে গলা পর্যন্ত খেলাম। তারপরে খাওয়াদাওয়া শেষে দেখি যে আর নড়তে পারিনা। অনেক কষ্ট করে শরীরটাকে টেনে নিয়ে গেলাম হোটেলে, তারপর লাগেজ নিয়ে জাহাজ ঘাটে চলে গেলাম। ফেরত আসার সময় পাবলিককে জোশে আনার জন্যে জাহাজে মিলা আপার গান বাজানো শুরু করলো। একটা তিন-চার বছরের পিচ্চি মেয়ে সেই গান শুনে লাফিয়ে লাফিয়ে নাচা শুরু করলো। এতো কিউট লাগছিলো যে, সবাই গোল হয়ে ঘিরে ধরে পিচ্চিকে সমানে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিয়ে গেলো। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমরা টেকনাফে নামলাম। ওখান থেকে বাস ছাড়বে সাতটার সময়। অল্প ক্ষুধাও লেগেছিলো। একটা দোকানে বসে সবাই গোগ্রাসে চিংড়ী ভাজা আর চা খেলাম। এখানেও লোভে পড়ে অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই খেলাম। 

https://lh6.googleusercontent.com/-WofazXcqQRg/UW1Nv5Z86TI/AAAAAAAAAg8/2AjNLJyh2qw/w604-h453-no/21838_1342086156937_4767664_n.jpg
আহা! রূপচাঁদা দোপেয়াজা
https://lh5.googleusercontent.com/-ZRmcevsaMRU/UW1NnGMQVUI/AAAAAAAAAgQ/fq9UZqBq7VI/w604-h453-no/21838_1342086276940_7904609_n.jpg
শেষ বিকেলে মৎস্য শিকার

https://lh3.googleusercontent.com/-qlOG08m_Dh4/UW1NokfnOZI/AAAAAAAAAgY/SrJUEcneIV8/w354-h472-no/21838_1342086316941_6690838_n.jpg
জাহাজের ভিতর থেকে নাফ নদীতে শেষ বিকেল

https://lh6.googleusercontent.com/-2mJJ2PWJtMY/UW1Npy08VKI/AAAAAAAAAgg/j_Re-FzrGYo/w604-h453-no/21838_1342086436944_6057693_n.jpg
নাফ নদীর তীরে টেকনাফ

বাস ছাড়ার মিনিট বিশেক পার হলো। আমার পেটের ভিতরে রূপচাঁদা আর চিংড়ী ভাজার আফটার ইফেক্ট শুরু হলো। এতো খারাপ লাগছিলো যে বলার মতন না। গা গুলিয়ে বমি আসছিলো। কোনমতে তা চেপে মরার মতন অর্নবের পাশের সিটে পড়ে থাকলাম। মাঝে একবার অতি কষ্টে অর্নবের কাছে পানি খেতে চাইলাম। অর্নব আমার হালত বুঝতে পারে নাই। তাই ঠাট্টার ছলে জবাব দেয়,
-    আরে ড্যাশিং, এইতো আর ঘন্টা আড়াই পরেই চকোরিয়ায় গাড়ি থামবে। তখন খেয়ে নিস।
মেজাজ এতোটাই খারাপ হলো কথা শুনে যে খেকিয়ে উঠলাম,
-    হালারপো, আমার এখন লাগবো পানি। এখন!
গালি খেয়ে অর্নব তখন আমার হালত বুঝতে পারলো। পানি খাচ্ছিলাম, সে সময় সামনে থেকে বেবী বললো, “ড্যাশিং এর মনেহয় গ্যাস ফর্ম করসে।” এ কথা বলেই বেবী আবারও হিরোর ভূমিকায় অবতীর্ন হলো। ড্রাইভারকে হুংকার দিয়ে মাঝ রাস্তায় বাস থামালো। তারপরে লকার থেকে ওর ব্যাগপ্যাক নিয়ে সেখান থেকে লিকুইড অ্যান্টাসিডের বোতল বের করলো। দুই চামচ অ্যান্টাসিড আমার গলায় চালান করে দিলো বেবী। কিছুক্ষণ পরে কয়েকটা বড় ধরনের ঢেকুর তুলে বেশ সুস্থবোধ করলাম। পোলাপান আবারও আমার ড্যাশিং হিরো থেকে ইল-সাইডকিক হয়ে যাওয়া নিয়ে মজা করা শুরু করলো। অবশ্য বাসের সুপারভাইজারও কম মজা দিলো না। লোকটা যাত্রাপথে ভুল করে একাধিকবার নির্দিষ্ট কাউন্টারে থেমে যাত্রী না নিয়েই চলে যাতে উদ্যোত হয়েছিলো। ড্রাইভার আর হেল্পারের হস্তক্ষেপে রক্ষা। কাউন্টারের এলাকার নামও ঠিকমতন জানেনা লোকটা। লোকটার কাজকামে এতো মজা লেগেছিলো যে, কুমিল্লায় নেমে লোকটার সাথে ছবিও তুলেছিলাম। ঠান্ডার মধ্যে জানালা খোলা আর বন্ধ করা নিয়ে সামনে বসা এক মাতবর ভদ্রলোকও কম মজা দিলেন না। মাঝে মাঝেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন যে উনি এক্স-ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইস্টুডেন্ট। বিশাল কোয়ালিফিকেশন! যাই হোক, এভাবে ঘটনার ঘনঘটায় আমরা ঢাকা এসে পৌছালাম। আর দৌড়ের উপরে শেষ করলাম বান্দরবান-কক্সবাজার-টেকনাফ-সেন্টমার্টিন্স ভ্রমণ।
[সমাপ্ত]

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

হা হা হা ! শেষ করেই ফেললাম (পড়া) । আপনার মত বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু কেন জানি পারি না  crying crying crying

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

হা হা হা ! শেষ করেই ফেললাম (পড়া) । আপনার মত বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু কেন জানি পারি না  crying crying crying

আমি কিন্তু খুবই ঘরকুনো টাইপ মানুষ। কিন্তু কিভাবে জানি বেশ কিছু জায়গা দেখে ফেলেছি surprised

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

কি ছবি দিলোন ভাই জিবে তো নাল আসছে

কাজকে বলেন নামাজ আছে, নামাজ কে বলবেন না কাজ আছে.......
premium Place
xpassplace

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

masudiqbal925 লিখেছেন:

কি ছবি দিলোন ভাই জিবে তো নাল আসছে

ভাইয়ের বাড়ি কি উত্তরবঙ্গে নাকি?

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

আপনার ভ্রমন কাহিনি পড়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাচ্ছি।  sad

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

ইলিয়াস লিখেছেন:

আপনার ভ্রমন কাহিনি পড়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাচ্ছি।  sad


ব্যাপার না ইলিয়াস ভাই। কোন এক সময় গিয়ে ঘুরে আসুন thumbs_up

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

আমারও ইলিয়াস ভায়ের মত অবস্থা !! পড়ছি আর সেন্টমারটিন ঘুরছি ! তবে দুধের স্বাদই পেয়েছি আপনার এই কাহিনীতে !! আর ইয়ে ............আমিও উত্তরবঙ্গবাসী !! big_smile big_smile

জানি আছো হাত-ছোঁয়া নাগালে
তবুও কী দুর্লঙ্ঘ দূরে!

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

জামিল মণ্ডল লিখেছেন:

আমারও ইলিয়াস ভায়ের মত অবস্থা !! পড়ছি আর সেন্টমারটিন ঘুরছি ! তবে দুধের স্বাদই পেয়েছি আপনার এই কাহিনীতে !! আর ইয়ে ............আমিও উত্তরবঙ্গবাসী !! big_smile big_smile

ধন্যবাদ। রাজশাহী কি উত্তরবঙ্গের মধ্যে পড়ে?  thinking আমার কাছে রংপুর, দিনাজপুর এগুলো ওরিজিনাল উত্তরবঙ্গ মনেহয়। ভার্চুয়াল ট্যুর আর কত দিবেন? সুযোগ পেলে ঘুরে আসুন। ভালো লাগবে অনেক thumbs_up

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১০

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

... ... ঠান্ডার মধ্যে জানালা খোলা আর বন্ধ করা নিয়ে সামনে বসা এক মাতবর ভদ্রলোকও কম মজা দিলেন না। মাঝে মাঝেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন যে উনি এক্স-ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইস্টুডেন্ট। বিশাল কোয়ালিফিকেশন! ... ...

এইটা যে পাট নেয়ার বস্তু সেইটা জেনে অনেক জ্ঞানার্জন হইলো! ইশ্শিরে ক্যান যে ভর্তি হই নাই ... ... ...  tongue

বেবি পোলাটা আসলেই ভালো ... ...

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

সেন্টমার্টিন্স তাহলে দু'তিনদিনের জন্য যেতে হয় দেখা যাচ্ছে। শেষ পর্বটা বেশ ভাল লাগলো। আর মাতবরের যোগ্যতায় বেশ মজা পেয়েছি।

কত কি শিখতে ইচ্ছা করে। এখনও শেখা হলো না কিছুই।

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

শামীম লিখেছেন:
তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

... ... ঠান্ডার মধ্যে জানালা খোলা আর বন্ধ করা নিয়ে সামনে বসা এক মাতবর ভদ্রলোকও কম মজা দিলেন না। মাঝে মাঝেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন যে উনি এক্স-ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইস্টুডেন্ট। বিশাল কোয়ালিফিকেশন! ... ...

এইটা যে পাট নেয়ার বস্তু সেইটা জেনে অনেক জ্ঞানার্জন হইলো! ইশ্শিরে ক্যান যে ভর্তি হই নাই ... ... ...  tongue
বেবি পোলাটা আসলেই ভালো ... ...

cslraju লিখেছেন:

সেন্টমার্টিন্স তাহলে দু'তিনদিনের জন্য যেতে হয় দেখা যাচ্ছে। শেষ পর্বটা বেশ ভাল লাগলো। আর মাতবরের যোগ্যতায় বেশ মজা পেয়েছি।


লোকটার সাথে ওনার স্ত্রীও ছিলো। আমরা কি পেইন খেয়েছি? সেই মহিলার কথা খালি চিন্তা করেন একবার lol
সেন্ট মার্টিন্স গেলে দুইদিনই যথেষ্ট। শীতে ভালো লাগবে। এই সময় না যাওয়াই ভালো।
** ইদানিং বেবীকে ভয়ে ফোন দেই না। ফোন দিলেই খালি বিভিন্ন ফ্রীকোয়েন্সী দেয় বাংলাদেশ বেতারের। তারপর বলে যে এখন ঐ চ্যানেলে ওমুক অনুষ্ঠান হচ্ছে। অনুষ্ঠানের শেষে বেতার প্রকৌশলী হিসেবে ওর নাম বলবে lol

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৩

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

উনি এক্স-ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইস্টুডেন্ট। বিশাল কোয়ালিফিকেশন!

কোন সন্দেহ! হাজার হোক ড্যাসিং আসাদ ও বেবীর ভার্সিটি বলে কথা। tongue দেখেন না, শামীম ভাইও কেমন পাট নিলেন- চান্স পেয়েও পড়েননি বলে।  hehe (মা.খা.ন.এ.  shame)

ভাল লাগলো ভাইয়া। আপনার সাইকেলের বর্ণনা পড়তে কেন জানি সাইফ দ্যা বসের কথা মনে হচ্ছিল। আমি অবশ্য সেন্টমার্টিনে বন্ধুদের নিয়ে ভ্যান চালিয়েছিলাম। ভ্যানের চালকেও বসিয়ে নিয়ে ছিলাম। সেন্টমার্টিনের খাদ যুক্ত চিকন রাস্তায় বিষয়টা কিন্তু বেশ চ্যেলেনঞ্জিং ছিল। এই সাফল্যে উপর ভর করে পরে জীবনের বেশ একটা সাহসী স্বিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

যাইহোক, সুন্দর একটা লেখা উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আরও ধন্যবাদ লেখা শেষ করার জন্য। আপনার কাছ থেকে অনেকেরই শেখার আছে। hehe

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১১-০৫-২০১৩ ২৩:৫১)

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

আরণ্যক লিখেছেন:
তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

উনি এক্স-ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইস্টুডেন্ট। বিশাল কোয়ালিফিকেশন!

কোন সন্দেহ! হাজার হোক ড্যাসিং আসাদ ও বেবীর ভার্সিটি বলে কথা। tongue দেখেন না, শামীম ভাইও কেমন পাট নিলেন- চান্স পেয়েও পড়েননি বলে।  hehe (মা.খা.ন.এ.  shame)
ভাল লাগলো ভাইয়া। আপনার সাইকেলের বর্ণনা পড়তে কেন জানি সাইফ দ্যা বসের কথা মনে হচ্ছিল। আমি অবশ্য সেন্টমার্টিনে বন্ধুদের নিয়ে ভ্যান চালিয়েছিলাম। ভ্যানের চালকেও বসিয়ে নিয়ে ছিলাম। সেন্টমার্টিনের খাদ যুক্ত চিকন রাস্তায় বিষয়টা কিন্তু বেশ চ্যেলেনঞ্জিং ছিল। এই সাফল্যে উপর ভর করে পরে জীবনের বেশ একটা সাহসী স্বিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
যাইহোক, সুন্দর একটা লেখা উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আরও ধন্যবাদ লেখা শেষ করার জন্য। আপনার কাছ থেকে অনেকেরই শেখার আছে। hehe


আমার মেজো ভাইয়ের এক ফ্রেন্ড ছিলো। ঢাক ইউনির ম্যাথেমেটিক্সে পড়তেন। আমি যখন বুয়েটে চান্স না পেয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম, তখন লজ্জায় মাথা নিচু করে চলতাম। কিন্তু ওনার পাট দেখে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম। এমন ভাব যে, ঢাকা ইউনি হইলো দুনিয়ার সেরা ইউনি, আর ম্যাথ হইলো সেই ইউনির সেরা ডিপার্টমেন্ট surprised প্রথম দিকে তাকে দেখলেই বিরক্ত হয়ে পালাতাম। পরে ঐ পাবলিকরে দেখলেই কেন জানি  big_smile big_smile এইভাবে হাসি লাগতো। উনিও মনেহয় ব্যাপারটা খেয়াল করেছিলেন। তাই বিরক্ত হয়ে পরে এই অধমের সাথে আর কথা বলতেন না lol lol
ধন্যবাদ ধৈর্য্য ধরে সিরিজে থাকার জন্যে। বাই দ্যা ওয়ে, মুখ টিপে কাকে উদ্দেশ্য করে হাসলেন? ফারহান খান? নাকি পলাশ মাহমুদ? thinking

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৫

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

sad sad ভালো লাগে নাই.................. শুধু......... অনেক ভালো লাগছ...!!!  cry cry
সব পর্বই পড়েছি ভাইয়া।

ঘুরতে যেতে চাই!!! কিন্তু যাওয়া যাবে না এইটা হইল কথা  sad

১৬

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

অনেক দিন পরে দেয়ায় কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। এবারের কাহিনীতো দেখি পুরাই ভোজনরসিকদের জন্য উৎসর্গীকৃত। এই একটা জায়গার কথা নিয়ে লেখা পড়লেই আফসোস হয়। দুই দুই বার সেন্টমার্টিন'স দ্বীপে যেতে গিয়েও কক্স'সবাজার থেকে ফেরত এসেছি উত্তাল সমুদ্র আর খারাপ আবহাওয়ার কারণে।  sad  ভ্রমনকাহিনী রুপচাঁদার দোঁপেয়াজার মতই সুস্বাদু উপস সুপাঠ্য হয়েছে।

পরিশেষে বলি আমিও টেকনিক্যালি এক্স ঢাবি'র ইস্টুডেন্ট। প্রায় তিনমাস আইইআরে পড়েছিলাম ( একটু ভাব নিলাম তবে কথাটা কিন্তু সত্যি)।

hit like thunder and disappear like smoke

১৭

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

@m0N লিখেছেন:

অনেক দিন পরে দেয়ায় কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। এবারের কাহিনীতো দেখি পুরাই ভোজনরসিকদের জন্য উৎসর্গীকৃত। এই একটা জায়গার কথা নিয়ে লেখা পড়লেই আফসোস হয়। দুই দুই বার সেন্টমার্টিন'স দ্বীপে যেতে গিয়েও কক্স'সবাজার থেকে ফেরত এসেছি উত্তাল সমুদ্র আর খারাপ আবহাওয়ার কারণে।  sad  ভ্রমনকাহিনী রুপচাঁদার দোঁপেয়াজার মতই সুস্বাদু উপস সুপাঠ্য হয়েছে।

পরিশেষে বলি আমিও টেকনিক্যালি এক্স ঢাবি'র ইস্টুডেন্ট। প্রায় তিনমাস আইইআরে পড়েছিলাম ( একটু ভাব নিলাম তবে কথাটা কিন্তু সত্যি)।


নাহ, আপনাদের কমেন্ট পড়ে এখন আমার নিজেরই রূপচাঁদা দোপেয়াজা খেতে ইচ্ছে করছে crying
আপনিও কি তাইলে শীতের মধ্যে বাসের জানালা খোলা রাখেন? lol2 lol2 (মাখাএন)

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৮

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:


আপনিও কি তাইলে শীতের মধ্যে বাসের জানালা খোলা রাখেন? lol2 lol2 (মাখাএন)

lol2 শঠ্যে শাঠ্যং  tongue

hit like thunder and disappear like smoke

১৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (১২-০৫-২০১৩ ০১:১২)

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

আমার লাইফের সেরা ট্রিপ ছিল সেন্টমার্টিন্সএ । তবে আবার গিয়ে এক সপ্তাহ থাকার ইচ্ছা আছে  big_smile


তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

মুখ টিপে কাকে উদ্দেশ্য করে হাসলেন? ফারহান খান?

ইয়ে আমারেই মনে হয়, সেরা ভ্রমন কাহিনী লিখে স্টার যেটা পেয়েছি সেটা এখনও অসমাপ্ত  crying

যাই হোক । আমি ওই কাহিনীর শেষ পর্ব লিখে ছাড়ব। এখনই লিখতাম, সমস্যা হল ল্যাপ্টপ ফরম্যাট দিয়েছি। সেন্টমার্টিন্সএর সব ছবি মুছে গেছে। ফ্রেন্ডের কাছ থেকে ছবি নিয়ে এরপর পোস্ট করব।
ছবি ছাড়া টপিক আর ফিয়াইজ ছাড়া সিংগারা একই কথা

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

২০

Re: দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া... শেষ পর্ব

সকল ভ্রমনের শেষ দিনে আমার মন খারাপ হয়ে যায়! আবার একঘেয়েমী দিন শুরু হচ্ছে এটা ভেবে। আপনার শেষ পর্ব পরে অনেকটা ওরকম ফিলিংস্ হল।
রুপচাদার দোপেয়াজো বানানোর ইচ্ছে হচ্ছে। ফ্রিজে রুপচাদা মাছ আছে কিন্তু টমেটো নাই  hairpull