সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০৪-০৫-২০১৩ ২২:৪৯)

টপিকঃ সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

[#১] বিভিন্ন পেরিফেরাল ডিভাইসের সাথে ইণ্টারফেসিং করার জন্য সিপিউতে কয়েক ধরণের ইনপুট পোর্ট থাকে, যেমনঃ কীবোর্ড, মাউস, ট্যাবলেট/পেন, ট্র্যাকবল পোর্ট ইত্যাদি।

পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে ইণ্টারফেসিং করার জন্য আমাদের দেহেও বিভিন্ন ইন্দ্রিয় বা ইনপুট পোর্ট আছে। যেমনঃ পণ্চ ইন্দ্রিয় (চোখ, কান, নাক, জিভ, ত্বক) এবং সম্ভাব্য আরো কিছু কেমিকেল সেন্সর (ফেরোমোন রিসেপ্টর??)।

কম্প্যুটারের মতই যদি কোনো ব্যক্তির ইন্টারফেইসগুলো হ্যাক করতে পারেন আপনি, তাহলে লোকটিকে ইল্যুশনের মধ্যে রেখে তাকে কন্ট্রোল করতে পারবেন। সিমুলেশনের মাধ্যমে করে তাকে আপনি যা ফেইক ইনপুট দেবেন, সেটাই তার কাছে "রিয়েলিটি" বলে মনে হবে।

Brain in a Vat
[#২] বিখ্যাত ফিলোসফার ড্যান ড্যানেট একটি চমতকার থট এক্সপেরিমেন্ট ডিজাইন করেছিলেনঃ Brain in a Vat
বা, “চৌবাচ্চায় চোবানো মস্তিষ্ক”

ভাবুনঃ নিজের বিছানায় প্রিয়তমা কোলবালিশটিকে জাপটে ধরে বেঘোরে ঘুমিয়ে আছেন আপনি। আপনার ঘুমের সুযোগে এক পাগলা বৈজ্ঞানিক (ধরি তাঁর নাম প্রফেসর কিসির আলী) এসে বেডরূমে ব্রেইন সার্জারী করে আপনার মস্তিষ্ক-খানা খুলে তাঁর ল্যাবে নিয়ে গেলেন!

মস্তিষ্কটি নিয়ে প্রফেসর কিসির আলী একটি জার (বা ভ্যাট)-এ চুবিয়ে রাখলেন। জার ভর্তি করে পুষ্টিদায়ক তরল খাদ্য ঢেলে দিলেন যেন আপনার ব্রেইন বেচারা ক্ষুধায় মারা না পড়ে।
http://i.imgur.com/N9sWWip.jpg

প্রফেসর কিসির আলী এরপর মস্তিষ্কের সমস্ত নিউরণগুলো একটি সুপার-কম্পিউটারের সাথে ওয়্যারিং করে কানেক্ট করে দিলেন।
http://i.imgur.com/CFUCsZX.jpg

সুপার কম্পিউটারটিকে আগে থেকেই প্রোগ্রামিং করে রাখা হয়েছে যেন নির্দিষ্ট ওয়েভলেংথের ইলেক্ট্রিক ইমপালস জেনারেট করে ব্রেইনে পাঠায়। ব্রেইন থেকে আসা বিভিন্ন সিগনাল এ্যানালাইয করে কম্পিউটারটি বিভিন্ন সিমুলেশন রান করতেও সক্ষম। ব্রেইন থেকে যে আউটপুট আসবে, তার ভিত্তিতে কমপিউটারটি বাস্তবতা বা রিয়েলিটি সিমুলেট করে ব্রেইনে ফেরত পাঠাবে। প্রফঃ কিসিরের সুপার কম্পিউটার বলে কথা!

প্রফেসর কিসির আলী পাওয়ার বাটনে চাপ দিতেই সুপার কম্পিউটারটি সিম্যুলেশন চালু করে দিলো।

আর আপনি জেগে উঠলেন...

আপনার "disembodied" (ধড়-হীন) ব্রেইন কিছুই টের পেলো না। সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে "বাহ্যিক জগৎের" সাথে (অর্থাৎ সিম্যুলেশনের সাথে) মানিয়ে নিজেকে পরিচালিত করে চলতে লাগলো।

আপনার ক্ষুধা "অনুভূতি" হলো (কারণ সুপারকম্পিউটার ক্ষুধার ইলেক্ট্রিক সিগনাল পাঠালো)। কম্পিউটার তখন ফাস্টফুড দোকানের সামনে আপনাকে হাজির করলো (অর্থাৎ, ফাস্টফুড শপের ইমেজ, সাউণ্ড, এনভায়রনমেন্ট ইত্যাদি সিম্যুলেট করলো)... আপনার দু'হাতে ধরা নরোম, উষ্ণ বার্গার... কামড় বসালেন বার্গারে... গলিত গরম পনীরের লোনা স্বাদ, ক্রিসপী লেটুস আর জ্যুসী মাংস জিভে হামলা করলো... সুন্দরী বান্ধবীকে দেখে হৃদয় গলে গেলো... বাণ্ধবীর কোমল হাত ধরতে শিরদাঁড়া বেয়ে ইলেক্ট্রিসিটি পাস করে গেলো... টিভিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দেখে বুক আধহাত ফুলে গেলো...  love
http://i.imgur.com/txgLnoQ.png
http://i.imgur.com/LD3IiTR.jpg

মোদ্দা কথাঃ আপনার ব্রেইনটি মাথার খুলির মধ্যে থাকলে বাইরের জগৎ/প্রকৃতি থেকে যেরকম ইনপুট গ্রহণ করতো, সুপারকম্পিউটারটি হুবহু একই ইনপুট সিমুলেট করে ভ্যাট-এ রক্ষিত আপনার ব্রেইনে সেণ্ড করছে। আপনার সাধ্য নেই রিয়েলিটি নাকি সিমুলেশনের মধ্যে পার্থক্য করার।

ড্যান ডেনেটের "ব্রেইন ইন আ ভ্যাট" অবশ্য প্রথম বা একমাত্র থট এক্সপেরিমেন্ট নয়। বরং হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ এই প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে।

বিখ্যাত দার্শনিক রেনী দেকার্ত ১৬শ শতাব্দীতেই এই থট এক্সপেরিমেন্ট প্রস্তাব করেছিলেন! সুপার কম্পিউটারের জায়গায় ছিলো evil demon বা দুষ্টু, অশরীরী সত্বা যার কাজ হলো ব্যক্তিকে ইলিউশনে ভুলিয়ে মিসলীড করা।

হিন্দু বেদ/পুরাণে আছে আকাশ দেবতা বরুণের সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতা "মায়া"। মায়া-র দ্বারা ফিজিকাল এবং সাইকোলজিকাল রিয়েলিটিকে সিমুলেট করে ব্যক্তির কনশাসনেস (সচেতন মন?) ম্যানিপুলেট করা যায়।

[#৩] তবে ব্রেইন-ইন-ভ্যাটের সর্বাধিক প্রচলিত (এবং সম্ভবতঃ প্রাচীনতম) ভার্সনটি দিয়েছিলেন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে হেলেনিক দার্শনিক প্লেটো।

Allegory of the Cave - প্লেটোর গুহা

আনুমানিক ৩০০ খৃঃপূর্ব সালে গ্রীক স্কলার প্লেটো তাঁর বিখ্যাত ছাত্র সক্রেটেসের সাথে কল্পিত সংলাপ সাজিয়ে রচনাটি লিখেছিলেন। সংক্ষেপে এ্যালেগরী অব দ্যা কেইভ ব্যাপারটি অনেকটা এরকমঃ

একদল মানুষের জন্ম হয়েছে একটি হাইপোথিটিকাল গুহার মধ্যে। মানুষগুলোকে জন্ম থেকেই হাতপা বেঁধে গুহার ডান দিকের দেয়াল মুখী করে রাখা হয়েছে। সারাজীবন ওরা শুধু সামনের দেয়ালটাই (গুহার ডানপাশ) দেখেছে, কখনো উল্টোদিকটা দেখতে পায় নি।

উল্টোদিকে একটি অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত আছে (যা বন্দীদের অজানা)। অগ্নিকুণ্ডের সামনে দিয়ে যখন কেউ আনাগোনা করে বা কোনো বস্তু রাখা হয়, তার ছায়া পড়ে ডানদিকের দেয়ালে - আর আমাদের গুহাবাসী লোকগুলো সেই ছায়াটাই কেবল দেখতে পায়।

ধরুণ, আপনি আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে পুতুল নাচ দেখালেন বা কোনো বস্তু যেমন টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি রাখলেন; এসবের ছায়া দেখতে পাবে বন্দী লোকগুলো ওদের সামনের দেয়ালেঃ
http://i.imgur.com/QfSy8Um.jpg

এখন আসুন ইণ্টারেস্টিং পার্টে...

গুহায় চিরকাল ধরে বন্দী লোকগুলো কোনোদিন আসল চেয়ার-টেবিল দেখেনি। সারাজীবন যা দেখেছে, তা হলো ঐ বস্তুগুলোর শ্যাডো। ঐ ভার্চুয়াল ইমেজই তাদের কাছে "রিয়েলিটি"!

জন্মের পর, অন্যভাবে বললে সচেতনতা বা কনশাসনেস প্রাপ্ত হবার পর থেকেই, এই বন্দীরা শ্যাডো-কেই রিয়েল অবজেক্ট বলে "জেনেছে"। দেয়ালে চেয়ারের ছায়া দেখে তারা ভাবছে ওটাই বাস্তব, যদিও আসল চেয়ার তারা কখনও দেখেনি। পেছন থেকে হয়তো ঠুকুরঠাকুর শব্দ আসছে - আর বন্দীরা ভাবছে ছায়াই শব্দগুলো উৎপন্ন করছে।

এই বন্দীরা যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা করে, তারা কি নিয়ে আসলে কথা বলে? আগুনের সামনে একটি চেয়ার রাখলেন আপনি, আর একজন বন্দী বলে উঠলো "আমি চেয়ার দেখতে পাচ্ছি" - আসলে সে কিসের কথা বলছে? লোকটি "চেয়ার" শব্দটি ব্যবহার করছে - কিন্তু সে তো আসলে চেয়ারের ছায়াটাই অনুধাবন করছে।

বন্দীদের কাছে "চেয়ার" শব্দটি হলো দেয়ালে ফুটে ওঠা বিশেষ আকৃতির ছায়া মাত্র। ওরা কোনোদিন আসল চেয়ার দেখেনি।
সত্যিকারের চেয়ার দেখালে তারা হয়তো চিনতেও পারবে না।

বন্দীদের মধ্যে যারা একটু চালাক চতুর তারা হয়তো প্যাটার্ণ ডিটেক্ট করতে পারছে। কেউকেউ হয়তো আগে থেকেই প্রেডিক্ট করতে পারছে কোন ছায়ার পরে কোন ছায়াটি আসবে... অন্যরা হয়তো তাকে বাহবা দিচ্ছে "প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন" করার জন্য! ওদের পুরো সমাজব্যবস্থা, বিশ্বব্যবস্থা, পুরো জীবন, ইউনিভার্স, এক্সিসটেন্স এইসব ছায়াগুলোর সাথে জড়িত...

এই বন্দীদের কাছে রিয়েলিটি বা বাস্তব জগৎ হলো সামনের দেয়ালে আলো-আধাঁরির খেলা।

ভাবছেন, বন্দীগুলো কি বোকা তাই না?  hehe

আসুন, প্লেটোর গুহাটাকে একটু আপগ্রেড করে ফেলি...

বন্দীগুলোকে ডিসমিস করে দেই... তার বদলে ওদের চরিত্রে আপনি আর আপনার পরিচিত লোকজন নেমে পড়ুন। আর ঐ বোরিং গুহাটাকেও ভ্যানিশ করে দেই... তার চেয়ে চলুন গুহার বদলে পৃথিবী নামক গ্রহটিকে বসিয়ে দেই....

বুঝতে পারছেন কি ইঙ্গিত করছি?  hehe

How do you know that you are not just another "brain-in-a-vat"? How do you know?

What do you know?

How do you know that you know that you know?

Do you even exist?  hehe

Calm... like a bomb.

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

দাদা একটা মুভির কথা ইয়াদ আয়া গেলো প্রথম কয়েকটা প্যারা পইড়াই । মুভিতে লোকটিকে ডাইনিং টেবিলে রেখে মাথার ব্রেইন থেকে মগজ নিয়ে ভেজে ভেজে ওর প্লেটে বসিয়ে দেয় আর সে কি মজা কৈরা খায়  hehe hehe


মুভির নাম কি বলেন  tongue

যাই আরো পড়তে হবে  dontsee dontsee

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

ফ্রিঞ্জ এ অলিভিয়া চৌবাচ্চায় নামে; জন স্কটের ব্রেন থেকে মেমরী নেয়ার জন্য smile
ধুর...ম্যাট্রিক্সের কথা মনে পইড়া গেল আবার sad দ্য ম্যাট্রিক্স প্রথম দেখার পর আমার বেশ কয়েকদিন এরকম একটা ফিলিংস হয়েছিল যে আমিও ওইরকম একটা জগতের বাসিন্দা neutral

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

হে হে মজা পেলাম শেষে ।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

Jemsbond লিখেছেন:

দাদা একটা মুভির কথা ইয়াদ আয়া গেলো প্রথম কয়েকটা প্যারা পইড়াই । মুভিতে লোকটিকে ডাইনিং টেবিলে রেখে মাথার ব্রেইন থেকে মগজ নিয়ে ভেজে ভেজে ওর প্লেটে বসিয়ে দেয় আর সে কি মজা কৈরা খায়  hehe hehe


মুভির নাম কি বলেন  tongue

যাই আরো পড়তে হবে  dontsee dontsee

হেহে, আমারও নাম মনে পড়তেছে না। এ্যাক্টরের নাম রে লিওটা

Calm... like a bomb.

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

সোর্স কোড মুভিটার মত। অথবা ম্যাট্রিক্স।
আমারও মাঝে মাঝে মনে আমরা হয়ত এমন কোন জগতেই আসলে আছি। সৃষ্টিকর্তা হয়ত কোথাও বসে প্রোগ্রামিং করছে।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

বাপরে ! কী জটিল ব্যাপার স্যাপার !! আচ্ছা ব্রাশু ভাই ......" আমরা যা দেখি তার বাইরে কিছুই কল্পনা করতে পারিনা !" ... বিষয় টা কি এরকম ?

জানি আছো হাত-ছোঁয়া নাগালে
তবুও কী দুর্লঙ্ঘ দূরে!

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

invarbrass লিখেছেন:

হেহে, আমারও নাম মনে পড়তেছে না

সব বাইর কৈরা ফেলছেন আর বাকি কি রাখছেন  tongue tongue tongue

ফটুটা শেয়ার করতাম বাট ফোরামে কেউ যদি ভয় পায়   tongue_smile

http://ia.media-imdb.com/images/M/MV5BMjEwODUxNzUzMl5BMl5BanBnXkFtZTYwODg3MzM5._V1_SY317_CR1,0,214,317_.jpg

Hannibal Brain scean দিয়ে সার্চ করলেই ধপধপ সিন আইসা পড়বো  big_smile big_smile

বুঝতে পারছেন কি ইঙ্গিত করছি?

হ পারছি সিরাম ক্লিয়ার  big_smile big_smile big_smile

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

কি পড়লাম এগুলো ...  hairpull hairpull

১০

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

Jemsbond লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

হেহে, আমারও নাম মনে পড়তেছে না

সব বাইর কৈরা ফেলছেন আর বাকি কি রাখছেন  tongue tongue tongue

ফটুটা শেয়ার করতাম বাট ফোরামে কেউ যদি ভয় পায়   tongue_smile

http://ia.media-imdb.com/images/M/MV5BMjEwODUxNzUzMl5BMl5BanBnXkFtZTYwODg3MzM5._V1_SY317_CR1,0,214,317_.jpg

Hannibal Brain scean দিয়ে সার্চ করলেই ধপধপ সিন আইসা পড়বো  big_smile big_smile

বুঝতে পারছেন কি ইঙ্গিত করছি?

হ পারছি সিরাম ক্লিয়ার  big_smile big_smile big_smile

হানিবল এর উপর তো নতুন টিভি সিরিজ শুরু হইসে

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (০৪-০৫-২০১৩ ২২:১৯)

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

জি!!! আপনি তো ব্যড ইনফ্লুয়েন্স ভাই sad আপনার জন্য এখন আমার মেইজর চেইঞ্জ করতে হবে।  donttell এই উইকের হোমওয়ার্ক ছিলো নিউরোসায়েন্স ইস্পেশালী নিউরোএথিক্স নিয়া ৩ টা লিটারেচার সাইমুল্টেনিয়াস্লি স্কিম করতেসি। ট্রাস্ট মি হোয়াট আইভ ফাউন্ড ইজ ফিনোমেনাল। তবে স্যম হ্যরিসের উপর একটু বিরক্ত হইসি। বেটার ব্রেইন রিলেইটেড কথাবার্তা শুইনা কুনো ভাবেই তার আলমা ম্যাটার যে নিউরোসায়েন্সের উপর বিখ্যাত স্ট্যনফোর্ড থেকে কোন ভাবেই বিশ্বাস হয় না। এই টাইপ মিলিট্যন্ট এথিয়েস্টের জন্য পাব্লিক সায়েন্স আর এথিয়েসম গুলায় ফেলে। যাই হোক বকর বকর বেশী করে লাভ নাই। এই ব্যপারটা আগে জানা ছিলো। অসাধারণ!!!!!!

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

১২

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

জামিল মণ্ডল লিখেছেন:

বাপরে ! কী জটিল ব্যাপার স্যাপার !! আচ্ছা ব্রাশু ভাই ......" আমরা যা দেখি তার বাইরে কিছুই কল্পনা করতে পারিনা !" ... বিষয় টা কি এরকম ?

অনেকটা সেরকমই।

এই মুহুর্তে হয়তো আপনি পিসির সামনে বসে আছেন, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে (আসলেই বৃষ্টি হচ্ছে... ইয়ে মানে.... বৃষ্টি হলে যেমন হয় তেমন অনুভূত হচ্ছে  tongue ), ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগছে, ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ পাচ্ছেন প্রজন্ম ফোরামের এই লেখাটি হয়তো পড়ছেন...

কিন্তু কিভাবে নিশ্চিৎ হচ্ছেন যে আসলেই এসব হচ্ছে? কিভাবে নিশ্চিৎ হবেন যে আপনাকে কোনো কম্পিউটারে সিমুলেশন করা হচ্ছে না? আপনার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, পরিচিত লোকজন, স্থান-বস্তু কি আসলেই "রিয়েল"? কিভাবে বুঝছেন প্রজন্ম ফোরাম বাস্তবে সত্যিই আছে? কিভাবে বুঝবেন ইনভারব্রাস নামক ব্যক্তি সত্যিই আছে এবং কম্পিউটার সিমুলেশন না?

জিম ক্যারীর একটা পুরণো মুভি ছিলো (নাম সম্ভবতঃ ওয়েদার ম্যান - তবে পুরা মুভিটা দেখি নাই)। ছবির শুরুতে জীম ক্যারীর জীবন দেখানো হয় একদম পার্ফেক্ট। চমৎকার কমিউনিটিতে সে বসবাস করে যেখানে কোনো দুর্ঘটনা বা খারাপ কিছু ঘটে না, শহরের মানুষগুলোও খুব দয়ালু এবং ভালো। তার চমৎকার জব আছে, সুন্দর গার্লফ্রেণ্ড আছে। সবকিছুই পার্ফেক্ট! একদিন এক প্রচণ্ড এক ঝড়ে সে ভাসতে ভাসতে "টাউন"-এর বাইরে চলে যায়... এবং আবিষ্কার করে পুরো টাউনটাই একটা বিরাট রিয়েলিটি টিভি শো-র সেট, এবং জন্ম থেকেই সে বিগ ব্রাদার শো-র মেইন পার্ফরমার। (মুভিটা আধাখেচড়া দেখছি দেখি নাই, প্লটে ভুলভাল থাকতে পারে)

যাকগে, আমাদের সব অভিজ্ঞতা, অনুভূতি সব কিছুই তো ব্রেইনের কোষগুলোতে ইলেক্ট্রিসিটি আর নিউরোকেমিস্ট্রীর খেলা। সব মেমরী/স্মৃতির স্টোরহাউজ আমাদের ব্রেইন। আপনি কে, কি পরিচয়, কার সন্তান, কোথায় থাকেন, কি করেন ইত্যাদি সবকিছু - জামিল মণ্ডলের সত্বার essence - সবই ব্রেইন ডিপেন্ডেনট।

আমরা যেটা অনুভব, এক্সপেরিয়েন্স করি সেটা সাবজেক্টিভ রিয়েলিটি। এর বাইরে আছে অবজেক্টিভ রিয়েলিটি। ওটা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের দিকে চলে যাবে - আপাততঃ পরবর্তী পর্বের জন্য তুলে রাখলাম।

দু'টো কার্টুন.... ইনসেপশন ফ্যানদের জন্যঃ
http://i.imgur.com/XEB6Vkh.jpg

জেমসু ভাইয়ের জন্যঃ  tongue
http://i.imgur.com/7KJTd61.gif

Calm... like a bomb.

১৩

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

invarbrass লিখেছেন:

আমরা যেটা অনুভব, এক্সপেরিয়েন্স করি সেটা সাবজেক্টিভ রিয়েলিটি। এর বাইরে আছে অবজেক্টিভ রিয়েলিটি। ওটা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের দিকে চলে যাবে - আপাততঃ পরবর্তী পর্বের জন্য তুলে রাখলাম।

আপনি কি মাইন্ড রিডার নাকি? আমি ভাবতেসিলাম কাল পরশু ১১ ডিমেনশন এবং ৫ম মহাশক্তি নিয়ে লেখবো  nailbiting

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

জি!!! আপনি তো ব্যড ইনফ্লুয়েন্স ভাই sad আপনার জন্য এখন আমার মেইজর চেইঞ্জ করতে হবে।  donttell এই উইকের হোমওয়ার্ক ছিলো নিউরোসায়েন্স ইস্পেশালী নিউরোএথিক্স নিয়া ৩ টা লিটারেচার সাইমুল্টেনিয়াস্লি স্কিম করতেসি। ট্রাস্ট মি হোয়াট আইভ ফাউন্ড ইজ ফিনোমেনাল। তবে স্যম হ্যরিসের উপর একটু বিরক্ত হইসি। বেটার ব্রেইন রিলেইটেড কথাবার্তা শুইনা কুনো ভাবেই তার আলমা ম্যাটার যে নিউরোসায়েন্সের উপর বিখ্যাত স্ট্যনফোর্ড থেকে কোন ভাবেই বিশ্বাস হয় না। এই টাইপ মিলিট্যন্ট এথিয়েস্টের জন্য পাব্লিক সায়েন্স আর এথিয়েসম গুলায় ফেলে। যাই হোক বকর বকর বেশী করে লাভ নাই। এই ব্যপারটা আগে জানা ছিলো। অসাধারণ!!!!!!

আমিও! ফোর হর্সম্যানের ফ্যান ছিলাম প্রথম দিকে। তবে ঈদানীং হ্যারিস আর ডকিন্সের মাথামোটাগিরি একটু বিরক্তিকরই লাগে। এরাও ফাণ্ডামেন্টালিস্ট কম না। এক্সটৃমিস্টদের তুলাধূনা করে, আবার নিজেরাও এক্সটৃমিস্টদের মত আচরণ করে।

স্যাম হ্যারিসের নিউরোসাইন্টিস্ট স্ট্যাটাস গিমিক ছাড়া কিছু মনে হয় না। অনেক খুঁজেও তার নামে কোনো রিসার্চ পেপার পাই নি। লোকটা ফিলোসফির স্টুডেন্ট (হার্ভার্ড এ্যালামনী বোধহয়)। ট্যালেণ্টেড লোক নিঃসন্দেহে - তবে ব্রেইন সাইন্টিস্ট শব্দটা শুনলে যেরকম মনে হয় সেরকম কিছু না।

লোকটা ভালো বিতার্কিক, এবং লজিকালও মনে করতাম। তবে কয়েকদিন আগে কার সাথে যেন একটা ডিবেট দেখলাম (নীল টুরক বোধহয়) ঐখানে থিইস্টরা তাকে হুলুস্থুল হেনস্থা করেছিলো, এবং যুক্তিতে টিকতে না পেরে স্যাম হ্যারিস উল্টাপাল্টা ভুঙভাঙ কথা বলা আরম্ভ করলো।

Calm... like a bomb.

১৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইন্জ্ঞিনিয়ার (০৪-০৫-২০১৩ ২২:৫৬)

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

হায় হায়, ছবিগুলোর সূত্র কই???  lol2 lol2 lol2

মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওমিক্রনিক রুপান্তর বইতে একটা ছোট গল্প পড়েছিলাম, ঠিক এই বিষয়েই। শেয়ার করলাম,

http://i.imgur.com/VQcbnQv.jpg

১৬

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

ট্রু! আমি আজকাল স্পিসিফিক কারো ফ্যন না। যে যতক্ষন লজিক দিয়ে আমার সামনে নলেজ পরিবেশন করতে পারবে সে ততক্ষন কুল tongue তবে হিচেন্স একটা অসাম ক্যরেক্টার ওরে ভালো লাগে আর্টিকুলেটেড স্পিচের জন্য। উনার মতো কনফিডেন্ট পাবলিক দুনিয়া খুব কমই আছে। সব মিলিয়ে আমার সাথে অনেক দিক থেকেই যায় হিচেন্সের সাথে। বেঁচে থাকলে হয়তো আরো হিচস্ল্যপ দেখার সৌভাগ্য হতো

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

ইন্জ্ঞিনিয়ার লিখেছেন:

মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওমিক্রনিক রুপান্তর বইতে একটা ছোট গল্প পড়েছিলাম, ঠিক এই বিষয়েই। শেয়ার করলাম,

ট্রু। আমারও টপিকটা পড়েই এই গল্পটার কথা মনে পড়েছিলো।

সারিম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

আমারও মাঝে মধ্যে এইরকম মনে হয়। ভাবি সত্যি ই কি তাই?আমরা কি কোন প্রোগ্রামার  এর প্রোগ্রাম! nailbiting
বিশেষ করে ম্যাট্রিক্স দেখার পর হইতে মাথায় বেশী করে ঘুরে

এখনও শিখছি। আরো শিখতে চাই। পরে নাহয় শেখানো যাবে। আপাতত শেয়ার করতে পারি

১৯

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

এজন্যই আমার ষ্টাটাস এই রকম  cool

২০

Re: সিম্যুলিযম #১: ব্রেইন ইন আ ভ্যাট

আপনার বর্ণনার ধরনটা অসাধারণ, কঠিন বিষয় গুলো একটানে পড়ে ফেলা যায়।  thumbs_up

invarbrass লিখেছেন:

জিম ক্যারীর একটা পুরণো মুভি ছিলো (নাম সম্ভবতঃ ওয়েদার ম্যান - তবে পুরা মুভিটা দেখি নাই)। ছবির শুরুতে জীম ক্যারীর জীবন দেখানো হয় একদম পার্ফেক্ট। চমৎকার কমিউনিটিতে সে বসবাস করে যেখানে কোনো দুর্ঘটনা বা খারাপ কিছু ঘটে না, শহরের মানুষগুলোও খুব দয়ালু এবং ভালো। তার চমৎকার জব আছে, সুন্দর গার্লফ্রেণ্ড আছে। সবকিছুই পার্ফেক্ট! একদিন এক প্রচণ্ড এক ঝড়ে সে ভাসতে ভাসতে "টাউন"-এর বাইরে চলে যায়... এবং আবিষ্কার করে পুরো টাউনটাই একটা বিরাট রিয়েলিটি টিভি শো-র সেট, এবং জন্ম থেকেই সে বিগ ব্রাদার শো-র মেইন পার্ফরমার। (মুভিটা আধাখেচড়া দেখছি দেখি নাই, প্লটে ভুলভাল থাকতে পারে)

মুভিটার নাম  The Truman Show (1998)

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত