সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন যাপিত সময় (০৩-০৫-২০১৩ ০১:২২)

টপিকঃ আবাস (১ম অংশ)

- মা, এসব কি! শুনলাম আপনার ছেলেকে নাকি আপনি বাড়ি ভাঙতে না করেছেন?
- হ্যাঁ, আমার মন সায় দিচ্ছেনা যে।
- পুরোনো কুসংস্কার আর কতদিন আঁকড়ে ধরে রাখবেন, মা? এখন তো আর এসবের দিন নেই। ডেভেলপারদের সাথে অলরেডী যে কথা হয়ে গেছে। তারাই বাড়ি তৈরী করে দেবে। নিজেরা অর্ধেক পরিমান ফ্ল্যাট রেখে বাকীটা আমাদেরকে দিয়েও দেবে বলেছে। আপনি তো ভালমতই জানেন এই পুরাতন বাড়ি ভেঙ্গে নতুন করে বাড়ি তোলার সামর্থ্য আপনার ছেলের নেই।
- কী বলছ এসব? কথা হয়েছে, আবার তা তুলে নেয়া যাবে। ওটা তো ব্যাপার না। তোমরা এখন ফ্ল্যাটের লোভে এ জায়গা পুরোপুরি ভেঙ্গে ফেলার কথা ভাবছ। বাড়িটা একটু পুরোনো বটে, কিন্তু এখানে থাকতে এমন কি সমস্যা হচ্ছে বলতো? বাড়িটা ভাঙ্গা যে আমার পক্ষে মেনে নেয়া সহজ না তা বুঝছোনা কেন? তোমরা ভাবছ আমি অযথা তোমাদের জীবনে নাক গলাচ্ছি। কিন্তু দেখ, কুসংস্কার বল আর যাই বল, এসব আগেও ছিল, এখনো থাকবে। আমাদের নিজের চোখে সব দেখা, ঠিক আছে? আমি আর তোমাদের সাথে এ নিয়ে তর্ক করতে চাইনা। এমন তো না যে রাসেল আর রেশমা এসে তোমাদের কাছে অংশ দাবী করছে! তারা তো তাদের ভাগ টুকু লিখেই দিয়েছে তোমাদের নামে। তাহলে খামাখা বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার প্রশ্ন আসছে কেন? আমার কথা একটাই, আমি এ বাড়ি ভাঙ্গার পক্ষে না।
- তাহলে আপনার মা যেভাবে সমাধান করেছিলেন, আপনিও তা করুন না!

কথাটুকু বলেই নাজনীন গট্‌গট্‌ করে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। রাবেয়া দীর্ঘ সময় চুপ করে বসে থাকলেন। একটু কান্না ঠেলে বেড়িয়ে আসতে চাইল তার গলা থেকে। আজকালকার ছেলেমেয়েরা এমন কেন? কিছুই বিশ্বাস করতে চায়না। কিন্তু তিনি আর কি করতে পারেন, নিজের চোখে যা দেখা তা কি অস্বীকার করা যায়? আর তাছাড়া ‘তাঁকে’ যে তিনি কথা দিয়ে রেখেছিলেন! কতবার এদেরকেও সেকথা বলেছেন, কিন্তু এরা তো হেসেই উড়িয়ে দেয় সেসব কথা। রাবেয়া আর ভাবতে পারলেননা কি করবেন? ইস্‌, বুকটা টন্‌টন্‌ করে উঠছে কেন? রাবেয়া উঠে দাঁড়ালেন, পানি খাবেন। একি! একটু যেন মাথা ঘুরছে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে! বেড টেবিলটা ধরার চেষ্টা করলেন, কিন্তু টাল সামলাতে পারলেননা...

...

প্রায় ষাট বছর আগে। রাবেয়া কখনো ভাবতে পারেনি সবাই মিলে এক সাথে থাকার এত চমৎকার দিনগুলো এক সময় শেষ হয়ে যাবে! হঠাৎই একদিন শোনে, যে বিশাল বাড়িটাতে রাবেয়ারা আর সব চাচারা মিলে একসাথে থাকত, সেটা নাকি ভেঙ্গে ফেলা হবে! বনিবনা না কিসব ঝামেলায় যার যার জমি বুঝে নিয়ে নিজেদের মত সবাই বাড়ি তুলবে, তাই কেউ আর একসাথে থাকতে চাইছেনা। তাহলে কি ঝুমুর, বিন্তি, জামালদের সাথে আর কখনো হৈচৈ করে খেলা করা হবেনা? কেন যে বড়দের এত বেশী সমস্যা থাকে? কিহয় একসাথে থাকলে? রাবেয়ার খুব মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু তখন তার কীইবা আর করার আছে, সে যে তখন নিতান্তই একটা বালিকা।

রাবেয়ার বাবা ছিলেন ভাইদের মাঝে সবার বড়, সেই আমলের ডাকসাঁইটে উকিল। বাবা মা কেউ না থাকায় তিনিই ছিলেন বাকি ভাইদের অভিভাবক। ছোটবেলায় তিনি নাকি মায়ের প্রচন্ড ন্যাওটা ছিলেন, এক মুহুর্ত মাকে ছেড়ে থাকতে পারতেননা। স্কুল পাশ করার আগেই তার মা মারা যান। প্রচন্ড শোকে নাকি তিনি দুসপ্তাহ কোন খাওয়া দাওয়া করেননি। তাদের বাড়ির উঠোনেই মায়ের কবর দেয়া হয়েছিল। তিনি নিজের হাতে সেই কবরে জাম গাছের চারা পুঁতেছিলেন। রাবেয়ার জন্ম হতে হতে সেই গাছ বিশাল আকার নিয়ে পুরো উঠোন দখল করে বসেছে। বাবারা বলত গাছটা যেন মায়ের মতই পুরো বাড়িকে ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছে।

তবে বাড়ির কাজের লোকেদের ধারণা ছিল গাছটাতে পেত্নির বাস আছে। রাত বিরেতে কে নাকি ডাল নাড়ে আর হি হি করে হাসে। মেজ চাচাও নাকি একদিন দেখেছেন! তবে, তার বর্ননা অনুযায়ী ওটা নাকি তাদের মা-ই, রাবেয়ার দাদী! এসব বিষয়ে রাবেয়ার বাবাকে বলা হলে তিনি আশ্চর্য রকম নীরব থাকতেন, হ্যাঁ না কিছুই বলতেননা। তবে সবাই-ই যেন এটা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছিল। মা যদি ফেরত এসেই থাকেন, তবে তাদের কাছেই তো থাকবেন, এ আর আশ্চর্য কী! তাই এ নিয়ে আর কেউ কোন কথা বলত না।


২য় অংশ

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

Re: আবাস (১ম অংশ)

চলুক, ,

অনেক ভাল লাগল
গল্পের বিষয় সুন্দর

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: আবাস (১ম অংশ)

শুরুটা অতিব চমতকার হয়েছে।  thumbs_up আশাকরি একটা জমজমাট গল্প পাব শেষ পর্যন্ত।

Re: আবাস (১ম অংশ)

thumbs_up ভাল হইছে।

সালেহ আহমদ'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আবাস (১ম অংশ)

ছবি আপা, ইলিয়াস ভাই ও সালেহ্‌ মামা কে অনেক ধন্যবাদ...

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

Re: আবাস (১ম অংশ)

আরো অংশ চাই । আবেগ দিয়ে লেখাটা সুন্দর লাগছে ।