সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২৪-০৪-২০১৩ ০৯:৩৯)

টপিকঃ ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

নোটঃ
১।  কোন বাস্তব ঘটনা বা চরিত্রের সাথে মিলে গেলে কাকতালীয় মাত্র, সে জন্য লেখক দায়ী নয়  cool  ।
২। এটা কোন রম্য লেখা নয়। লেখাতে রম্য খুঁজে সময় নষ্ট করবেন না।


দিনঃ ২০১৩ সালের কোন এক সোমবার

ইলিয়াস ভাই তার ঢাকার এসেছেন তিন দিনের জন্য। ৩য় দিনের সকালেই ঢাকার সব কাজ শেষ। বিকেলে বাস তাই এখন কি করবেন তাই তার চিন্তা। অনেক দিন ধরেই তার ই-বোন তাকে অফিস যাবার জন্য দাওয়াত দিয়েছে। আজ সময় আছে তাই আজ যাবেন। রওয়ানা দিলেন মতিঝিল এর দিকে।

স্থানঃ মতিঝিল
সময়ঃ দুপুর ১ টা

মতিঝিলে ছবি আপুর ব্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে ইলিয়াস ভাই। এখন এই লাঞ্চের সময়ে ঢুকবেন কিনা তাই চিন্তা করছেন। লাঞ্চের সময়ে দেখা করলে তার  ই-বোন একটু বিব্রত হতে পারে। এই কথা ভেবে তিনি, আশে পাশের এলাকা এক রাউন্ড দেবার সিদ্ধান্ত নেন। একটু সামনে আগাবার পরে তিনি দেখলেন যে, সামনে মধুমিতা সিনেমা হল। সাকিব খানের বিশাল পোস্টার ঝোলানো। তা পাশ কাটিয়ে সামনের এক হোটেলে ঢুকলেন লাঞ্চ করার জন্য।

ইলিয়াস ভাই কাচ্চি অর্ডার দিয়ে। চিন্তায় করছেন কি নেওয়া যায় তার দুই ভাগিনার জন্য ।
আপেল ? নাহ আপেলে ফরমালিন দেয়।
কলা ? কলাতে কার্বাইড দেয়।
তরমুজ ? বেশী ভারী হয়ে যাবে।
বিস্কুট,চানাচুর ? নাহ, বেশি সাধারণ হয়ে যায়।
চকলেট ? হুম আইডিয়া ভালো,  দুইটা সাফারি ও দুইটা ক্যাডবারি পার্ক নেই । দাম পরবে ৮০ টাকা। আর কি নেওয়া যায় ? চিন্তা করতে করতে কাচ্চি শেষ করলেন ইলিয়াস ভাই।

চকলেট কিনে ব্যাংকের পথে পা বাড়ালেন ইলিয়াস ভাই। যাবার পথে ফলের দোকানে একবার উকি মারলেন। সেখান থেকে এক প্যাকেট চাইনিজ কমলা কিনলেন। দশ মিনিটেই ব্যাংকের নীচে।


সময়ঃ বিকাল ৩ টা

ইলিয়াস ভাই ফোন দিলেন ছবি ই-আপুকে।

ইলিয়াসঃ হ্যালো, আপা আমি ইলিয়াস। আজ আপনি ব্যাস্ত নাকি ?
ছবিঃ নাহ, ভাইজান। কেন ? ফোরামে কিছু দেখতে হবে নাকি ?
ইলিয়াসঃ নাহ! মানে আমি আপনার অফিসের নীচে আছি।
ছবিঃ তাই নাকি ? আমি এখনি পাসের ব্যবস্থা করছি।

স্থানঃ ছবি আপুর অফিস
সময়ঃ বিকাল ৩.১০ টা

ইলিয়াসঃ আসসালামু আলায়কুম আপা, কেমন আছেন ?
ছবিঃ অলাইকুম আস সালাম। ভাইজান, ভালো। আপনি কেমন আছেন ?
ইলিয়াসঃ আল্লাহের রহমতে আমিও ভালো। ভাগ্নেদের জন্য এই চকলেট ও কমলা নিয়ে আসলাম ।
ছবিঃ এতো কষ্ট করে এগুলো আনার কি দরকার ছিল ?

এই বলে ইলিয়াস ভাইয়ের হাত থেকে জিনিস গুলো নিয়ে নিলেন ছবি।

ইলিয়াসঃ এতে আর কষ্ট কি। ভাগ্নেদের জন্য জিনিস না এনে কিভাবে পারি ?
ছবিঃ বাসায় সবাই কেমন আছে ? ভাবিকে সাথে করে নিয়ে আসতেন।
ইলিয়াসঃ বাসায় সবাই ভালোই আছে। দরকারি কিছু জিনিস কিনতে ঢাকায় এসেছি তাই আপনার ভাবী কে আনি নাই।
ছবিঃ ওহ! তানজিল ও তানিয়ার লেখা পড়া কেমন চলছে।
ইলিয়াসঃ চলছে ভালোই। আপনার টম ও জেরি কেমন আছে ?
ছবিঃ ওরা আছে ভালোই। ভাই এক মিনিট কম্পিউটারে একটা জরুরী কাজ আছে।

ব্রাউজার খুলে ফেসবুকে ঢুকলেন ছবি আপু। স্টাটাস দিলেন "ইলিয়াস ভাই এখন আমার অফিসে" । স্টাটাস দেবার পরে আবার আলোচনা শুরু করলেন। (এখন ছবি আপুর এক চোখ মনিটরের দিকে -কে কি কমেন্ট দিচ্ছে তা দেখছেন এবং অন্য চোখ ইলিয়াস ভাইয়ের দিকে )

ছবিঃ একটু আগে আসলে এক সাথে লাঞ্চ করতে পারতাম। ভাইজান, কি দুপুরের লাঞ্চ করেছেন ?
ইলিয়াসঃ  জ্বি । লাঞ্চ করেই এখানে আসলাম।

ছবিঃ ওহে ! মনু(পিয়ন) এক কাপ চা ও বিস্কুট নিয়ে আয়।

ইলিয়াসঃ মাত্র লাঞ্চ কররে এলাম। এখন আর খাব না।
ছবিঃ আপনি আমার অফিসে এসেছেন আর কিছুই খাবেন না এটা কি হয় ? খেতেই হবে।
ইলিয়াসঃ ঠিক আছে দেন।

ছবিঃ ভাইজান আপনাকে তো ফোরামে আগের মতো দেখি না।
ইলিয়াসঃ কিছু দিন ধরে ব্যাস্ত সময় পার করছি তাই ফোরামে সময় দিতে পারি না।
ছবিঃ ওহ ! আমারো আগের মতো ফোরাম বা ফেসবুক ভালো লাগে না। আগে কত সুন্দর সুন্দর টপিক খুলতাম কিন্তু এখন আর খুলতে মন চায় না।
ইলিয়াসঃ  আপনার টপিক তো সবাই পছন্দ করে। আপনি আপনার মতো করে টপিক খুলুন। কারো কোন বাজে কথা কানে তুলবেন না।

এর মাঝে চা ও বিস্কুট হাজির ইলিয়াস ভাইয়ের সামনে। তা তা খেতে খেতে ইলিয়াস ভাই বললেন

ইলিয়াসঃ এক দিন সময় করে আমার গ্রামে আসুন না।
ছবিঃ ঠিক আছে। কিন্তু আফিসে ছুটি তেমন পাওয়া যায় না। তাই যেবার ইচ্ছা থাকলেও এতো দিনেও যেতে পারলাম না। কিন্তু আপনি তো এক ছুটির একদিন আমার বাসায় আসতে পারেন। সাথে করে ভাবি, তানজিল ও তানিয়া কে নিয়ে আসবেন। এক সপ্তাহ আগে জানালে খিচুড়ি, বেগুন ভাজি ও ইলিশ ভাজির  আয়োজন করতাম big_smile
ইলিয়াসঃ ইলিশের নাম আর মুখে এনেন না। ফোরামে যে হারে আমাকে ইলিশ এর সাথে ত্যানা প্যাঁচানো হয়েছে তাতে আমি চরম বিরক্ত। কিছু দিন আগে এক বাচ্চা মেয়েকে ফেসবুকের এক গ্রুপে এড করে ছিলাম। সে বলে কিনা "থ্যাকু ইলিশাসদা, এ্যড দেবার জন্য "  angry ।  এটা কিছু হইলো ??

http://i.imgur.com/zy20Goq.png

ইলিয়াসঃ তাই ঠিক করেছি ফোরামের সাথে সম্পর্কিত কারো সাথে ইলিশ নিয়ে কোন কথা বলবো না ও এক সাথে খাবো না । তাই ইলিশ কে সরি। এরচেয়ে গরুর ভোনা রেজালা বানাতে পারেন tongue
ছবিঃ ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই। খালি এক সপ্তাহ আগে জানাবে।

ছবিঃ যেই কাজে ঢাকা এসে ছিলেন সেটা কি শেষ ?
ইলিয়াসঃ হ্যা শেষ। বিকালেই বাসেই ঘরে ফিরবো।

এরপর কোন কথা পাচ্ছেন না ইলিয়াস ভাই। মাত্র ২০ মিনিটেই কথা শেষ । মনে করে ছিলেন যে, মিনিমাম এক ঘন্টা বসবেন কিন্তু কথা আর খুঁজে পাচ্ছেন না।

ইলিয়াসঃ আজ তাহলে উঠি !
ছবিঃ একি মাত্র তো আসলেন। কবি বলেছেন "যাই বলে যেতে নাইরে, আর একটু বসে যানা রে।"

ইলিয়াসঃ হা হা হা। নাহ আজ উঠি। পরে এক দিন পরিবার নিয়ে সাথে বিক্রমপুরের এক হাড়ি দই ও রসগোল্লা  সমেত  আপনার বাড়ি হাজির হয়ে যাব।
ছবিঃ ঠিক আছে ভাইজান। সাবধানে বাসে করে যেয়েন। বাসায় গিয়ে ফেসবুকে জানিয়ে দিয়েন, যে পৌঁছিয়েছেন।
ইলিয়াসঃ ঠিক আছে। খোদা হাফেজ আপা।
ইলিয়াস ভাই বাস বাস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্য-এ রওয়ানা দিলেন। রিক্সায় উঠে মনে পরলো অনেক কথাই তো তিনি আলাপ করতে ভুলে গেছেন।

হবে সেই কথা পরে কোন এক দিন।

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ই-বোন  lol2 lol2 lol2

ইন্জ্ঞিনিয়ার'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

সিরাম হইছে  mail

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ভালই লিখেছেন, পরের পর্বের অপেক্ষায় ........

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ডেডলক, আপনি নিয়মিত গল্প লিখুন এ লাইনে আপনার ভবিষ্যত উজ্জল ৷     clap

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (২৩-০৪-২০১৩ ২১:৫২)

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

কিছু দিন আগে এক বাচ্চা মেয়েকে ফেসবুকের এক গ্রুপে এড করে ছিলাম। সে বলে কিনা "থ্যাকু ইলিশাসদা, এ্যড দেবার জন্য " angry  ।  এটা কিছু হইলো ??

blushing blushing blushing ব্যপারটা পরে খেয়াল করছি  blushing blushing blushing সব ফোরামের সাইড ইফেক্ট tongue


ভাইয়া ভালই লিখছেন!!!!    tongue_smile tongue_smile
-

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ভালো হয়েছে। আরো পর্ব কি বাকি আছে ?

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

পড়ে মজা পেলাম !!

ব্রাউজার খুলে ফেসবুকে ঢুকলেন ছবি আপু। স্টাটাস দিলেন "ইলিয়াস ভাই এখন আমার অফিসে" । স্টাটাস দেবার পরে আবার আলোচনা শুরু করলেন। (এখন ছবি আপুর এক চোখ মনিটরের দিকে -কে কি কমেন্ট দিচ্ছে তা দেখছেন এবং অন্য চোখ ইলিয়াস ভাইয়ের দিকে )

এ অংশটা lol2 lol2 lol2 lol2 lol2

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (২৩-০৪-২০১৩ ২১:৪৬)

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

টপিকটা লেখার সময় ডেডু ভাই মারাত্মক ক্ষুধার্থ ছিলেন নাকি ? ডায়লগে চাইতে খানাদানার কথা বেশি  mad  hehe

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

১০

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

অরম্য গল্প ভালই লাগল big_smile

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২৩-০৪-২০১৩ ২২:৫৭)

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ফারহান খান লিখেছেন:

ডায়লগে চাইতে খানাদানার কথা বেশি

সন্ধার সময় তো একটু ক্ষিদা ক্ষিদাই লাগে tongue ।  মোট কত টি খবারের(ফল, স্নাক্স সহ) নাম এসে তা কি বলতে পারবেন ?

বোরহান লিখেছেন:

ভালই লিখেছেন, পরের পর্বের অপেক্ষায় ........

নাহ ! নাই।

ইলিয়াস লিখেছেন:

ডেডলক, আপনি নিয়মিত গল্প লিখুন এ লাইনে আপনার ভবিষ্যত উজ্জল

দেখা যাক কি হয় !

১২

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

এ্যভান্স ধন্যবাদটা কি ঐ সময়, এই কাহিনীর জন্য ছিল? tongue_smile  tongue_smile
ডেডলক ভায়া   tongue_smile

১৩

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

এটাতো গল্প, প্রবন্ধ হয় নাই!!!
হয়েছে নাটক।
গল্প হল কাহিনী নির্ভর আর নাটক চরিত্র নির্ভর
মানে চরিত্রের নাম থাকে এবং চরিত্রই বলে

এত কিছু বললাম মাইন্ড করিয়েন না
ফোরামের ক্লাসিক গল্প তাড় ছেড়া কাউয়া সহ কয়েক জনের আছে

টাইটেল চেঞ্জ করে নাটক কিংবা নাটিকা দিতে পারেন donttell donttell

১৪

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

তিনি দেখলেন যে, সামনে মধুমিতা সিনেমা হল। সাকিব খানের বিশাল পোস্টার ঝোলানো। তা পাশ কাটিয়ে সামনের এক হোটেলে ঢুকলেন লাঞ্চ করার জন্য।

আমি ভাবলাম ইলিয়াস ভাই মনে এই ফাকে সিনেমা হলে ঢুকে পড়বেন ।

১৫

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

JOKER লিখেছেন:

টাইটেল চেঞ্জ করে নাটক কিংবা নাটিকা দিতে পারেন

ধন্যবাদ পরামর্শের জন্য। এখনি পরিবর্তন করে দিচ্ছি।

JOKER লিখেছেন:

এত কিছু বললাম মাইন্ড করিয়েন না
ফোরামের ক্লাসিক গল্প তাড় ছেড়া কাউয়া সহ কয়েক জনের আছে

আপনার সাথে একমত। আসলে লেখক হতে গেলে অন্যের লেখা পড়তে হয়। কিন্তু আমি গল্প,উপন্যাস,ছড়া, কবিতা  বা নাটক একেবারেই পড়ি না।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

হিডেন ট্রিকের প্রয়োগ নাতো,
          অরম্য যে ট্যাগ মারা,
অনেক কথাই ছিল বাকী,
          ভুললো মনে কী করা!

ফেসবুকের ঐ কমেন্ট খানা,
          গল্পটারই জন্ম দেয়,
ছড়াবাজের এই মতামত,
          হতেও পারে মিথ্যা নয়।

ছড়াবাজ'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ইন্জ্ঞিনিয়ার লিখেছেন:

ই-বোন  lol2 lol2 lol2

ইলেকট্রোনিক বোন tongue

শরীফ আহম্মেদ লিখেছেন:

সিরাম হইছে  mail

ধন্যবাদ

Jol Kona লিখেছেন:

ভাইয়া ভালই লিখছেন!!!!


ধন্যবাদ

আবদুল্লাহ আল রিফাত লিখেছেন:

ভালো হয়েছে।

ধন্যবাদ

আবদুল্লাহ আল রিফাত লিখেছেন:

আরো পর্ব কি বাকি আছে ?

নাহ

মূসাফির লিখেছেন:

পড়ে মজা পেলাম !!

ধন্যবাদ

অমিত ০০৭ লিখেছেন:

অরম্য গল্প ভালই লাগল big_smile

ধন্যবাদ

Jol Kona লিখেছেন:

এ্যভান্স ধন্যবাদটা কি ঐ সময়, এই কাহিনীর জন্য ছিল?

নাহ। ধন্যবাদ দিয়ে ছিলাম গ্রুপে আবার ফিরে আসার জন্য। লেখাতে ইলিশ প্রসঙ্গ আসার পরে সেই স্টাটাসের কথা মনে পরে গেল।

মোঃজাবেদ হোসেন লিখেছেন:

আমি ভাবলাম ইলিয়াস ভাই মনে এই ফাকে সিনেমা হলে ঢুকে পড়বেন ।


আমারা ইচ্ছা ছিল তাকে সিনেমা দেখানোর কিন্তু ইলিয়াস ভাই ঢোকে নাই tongue

ছড়াবাজ লিখেছেন:

ফেসবুকের ঐ কমেন্ট খানা,
গল্পটারই জন্ম দেয়,
ছড়াবাজের এই মতামত,
হতেও পারে মিথ্যা নয়।

ফেসবুকের কমেন্ট  এর সাথে এই টপিকের কোন সম্পর্ক নাই। গতকাল ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, যদি ইলিয়াস ভাই ছবি আপুর অফিসে যায় তাহলে কি কি হতে পারে সেটা নিয়ে আজ লিখি।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

দিনঃ ২০১৩ সালের কোন এক সোমবার

ইলিয়াস ভাই তার ঢাকার এসেছেন তিন দিনের জন্য। ৩য় দিনের সকালেই ঢাকার সব কাজ শেষ। বিকেলে বাস তাই এখন কি করবেন তাই তার চিন্তা। অনেক দিন ধরেই তার ই-বোন তাকে অফিস যাবার জন্য দাওয়াত দিয়েছে। আজ সময় আছে তাই আজ যাবেন। রওয়ানা দিলেন মতিঝিল এর দিকে।

স্থানঃ মতিঝিল
সময়ঃ দুপুর ১ টা

মতিঝিলে ছবি আপুর ব্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে ইলিয়াস ভাই। এখন এই লাঞ্চের সময়ে ঢুকবেন কিনা তাই চিন্তা করছেন। লাঞ্চের সময়ে দেখা করলে তার  ই-বোন একটু বিব্রত হতে পারে। এই কথা ভেবে তিনি, আশে পাশের এলাকা এক রাউন্ড দেবার সিদ্ধান্ত নেন। একটু সামনে আগাবার পরে তিনি দেখলেন যে, সামনে মধুমিতা সিনেমা হল। সাকিব খানের বিশাল পোস্টার ঝোলানো। তা পাশ কাটিয়ে সামনের এক হোটেলে ঢুকলেন লাঞ্চ করার জন্য।

ইলিয়াস ভাই কাচ্চি অর্ডার দিয়ে। চিন্তায় করছেন কি নেওয়া যায় তার দুই ভাগিনার জন্য ।
আপেল ? নাহ আপেলে ফরমালিন দেয়।
কলা ? কলাতে কার্বাইড দেয়।
তরমুজ ? বেশী ভারী হয়ে যাবে।
বিস্কুট,চানাচুর ? নাহ, বেশি সাধারণ হয়ে যায়।
চকলেট ? হুম আইডিয়া ভালো,  দুইটা সাফারি ও দুইটা ক্যাডবারি পার্ক নেই । দাম পরবে ৮০ টাকা। আর কি নেওয়া যায় ? চিন্তা করতে করতে কাচ্চি শেষ করলেন ইলিয়াস ভাই।

চকলেট কিনে ব্যাংকের পথে পা বাড়ালেন ইলিয়াস ভাই। যাবার পথে ফলের দোকানে একবার উকি মারলেন। সেখান থেকে এক প্যাকেট চাইনিজ কমলা কিনলেন। দশ মিনিটেই ব্যাংকের নীচে।

কিন্তু ডানে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই ইলু ভাই দেখেন সামনে ডেডু দাঁড়িয়ে ।
ভাইজান কিছুক্ষণ ভাবতে লাগলেন , এইডা কি আমাদের ডেডু নাকি? কাছে যাব, না থাক
যাব না । গেলেই বেটা হাবি জাবি কইতে থাকবো আর আমার হাতের এসব খাবার দাবার দেখলে হুদাই কইব এগুলো রিপোষ্ট রিপোষ্ট ......... নতুন করে কিনেন আর এগুলো আমার হাতে দেন । দেখি একটু ছেকে ।

কোনমতে লুকাইয়া লুকাইয়া ব্যাংকের গেইটের ভিতরে ঢুকতে যদি পারি তাইলেই হইল ....

যেই ভাইজান হাঁটি হাঁটি পা করে এগোচ্ছেন ঠিক তখনই পিছন থেকে ডাক পড়ল...........

(ডেডু ভাইয়ের মনে যা ছিল........ আরে ছবিপুর অফিসের সামনে এইডা কারে দেখা যাইতাছে । মনে ইলিয়াস ভাই,
না? তা কেমন করে হয়! আচ্ছা এইডা কি ইলু ভাইয়ের রিপোষ্ট নাকি। কোন হালায় এই কাম করলো
একেবারে ইলু ভাইয়ের মত ডুপ্লিকেট অফিসের সামনে রিপোষ্ট করলো । এই বদের হাড্ডিরে পাইলে একসাথে ১০২ টা মাইনাস ....... আচ্ছা দেখা যাক কি হয় । আগে রিপোষ্টের সাথে একটু বাৎচিত হয়ে যাক । এই বলে ডেডু ভাই সামনে আগাতে লাগল ।)

হ্যালো ইলু (ভাই ডাকতে হবে না, কারণ এইডা তো রিপোষ্ট) রিপোষ্ট

-সাড়ছে কাম  ।  এখানেও রিপোষ্ট মনে করছে । আজিব কারবার । ডেডু দিগদারী আর সইয্য হয় না । কি কিছিমের লো আল্লাহ মালুম । বেটা স্বর্গে গেলেও রিপোষ্ট রিপোষ্ট কইরা চিল্লাইবো । কিভাবে ওর হাত থাইক্যা রেহাই পাই । কি জানি । আবার ছবি আপু সাথে আরেকজনকে নিয়া গেলে যদি রাগ করে । ধ্যত দেখি বেটা কি বলে আগে......

-আচ্ছা ইলো রিপোষ্ট । এই কামডা কিডা করছে বলেন তো । আপনারে কে রিপোষ্ট বানাইয়া ছইব্বানি আপুর অফিসের সামনে বসাইয়া দেছে । খালি তার নামডা কইন । আউজকা ওর ৩দিন কি আমার ১০২ দিন ।
আমাদের এত আদরের ইলিশ ভাইকে রিপোষ্ট করছে । মনে হয় ইলিশের দাম বাড়ছে হের লাইগাই রিপোষ্ট করছে ।
যে দিন কাল পড়ছে রে ভাই সবই রিপোষ্ট । মনে হচ্ছে কয়দিনের মধ্যেই মাছের সাথে সুতা বাইন্ধ্যা গিলতে হইব । যাতে আবার টাইন্যা নিয়া আসা যায়.......  thinking

-আরেররর ডেডু ভাই । আমারে কোন হালায় রিপোষ্ট করবো কন? কার এত বড় কইলজা......... আমাকে দেখে কি মনে হয় .......... কলাগাছের ডাউগ্গা........ বেটা হছতে আউগ্গা .......... এমন কোন লোক আছে আমার সাথে পাল্লা দিব । হুম

-তাইলে আমি আমাদের সত্যিকারের ইলিশ ভাই থুক্কু ইলিয়াস ভাইজান যাবে ছবি আপু ই-ভাই বানাইছে : big_smile
তা ভাই ছবি ভাইয়ের অফিসের সামনে কিতা করইন ।

-না মানে ঢাকা আসছিলাম একটা কাজে তাই ভাবলাম আমার অতি আদরের বিশ্ব সুন্দরী ই-বোনটারে একটু  দেইখ্যা যাই ।

-তা ভাইজান হাতে এসব কি নিশ্চয়ই খাবার দাবার । দেখি দেখি কি আনছেন । এইসব আবার রিপোষ্ট নাতো? আমার হাতে দেন ।

-ধ্যত্তেরী অই বদের হা্ড্ডিটা যে কি ত্যক্ত করে (মনে মনে)
নেন দেখেন । এগুলো টম জেরীর জন্য আনছিলাম আর রিপোষ্ট না এগুলো । চেক কইরা লন । দেইখেন আবার প্যাকেট ছিঁড়ে ফেইলেন না । সাবধান । ডেম হয়ে যাবে ।

আরেরররর ছিঁড়ে তো দেখতেই হবে কারণ যে ভেজালেরর যোগ । যদি ভিতরে রিপোষ্ট ভরে দেয় তখন তো ছবিপুর আরো কষ্ট হইব ডাক্তারের কাছে দৌঁড়াদৌঁড়ি  ম্যালা ঝামেলায় ফেলে দিবেন গো । তাই দুইজনের ভালার লাইগ্যা আমারে এই কাম করতেই হইব ।

-কি যন্ত্রণায় পড়লাম ।
আরে কোন যন্ত্রণা না ।

-ডেডু ভাই ছবিপুর অফিসের লোকজন দেখেন কেমনে তাকাইতেছে । কি লজ্জাজনক ব্যাপার স্যাপার
-ভাইরে জীবনের চেয়ে লজ্জা বড় না বুঝছেন । যার যা কাম তারে তা করতে দেন । আইজকাল মানুষ কেউর কারো ভালা চায় না । হেইডা আফনেও জানেন আমিও জানি ।

প্যাকেট খুলে ডেডু ভাই খেতে শুরু করলেন একটা একটা করে । ই-ভাই তো  surprised surprised surprised
কি তামশা সব ফকফকা
ও ডেডু ভাই কি কাম দেখাইলা
কেন ক্যাডবেরী, সাফারী
চকলেটের রাজা ক্যাটবেরী
ই-ভাই পড়ে গরম দিনে সাফারী  big_smile big_smile lol

ই-ভাইয়ের মন ভীষন খারাপ হইল  sad sad ই-বোনের কাছে কি খালি হাতে যাব ।
কি আর করা । শেষ পর্যন্ত ই-ভাই মরাতালারে সাথে নিয়ে অগ্যতা ই-বোনের কাছে আসার জন্য রওয়ানা দিলেন ।

নিচে থেকে ফোন ........ হ্যালো ছবিপু আমরা আপনার ব্যাংকের নিচে
-ব্যাংকের নিচে তো আমি করবো ......... নিচেই তো থাকবেন ।
-আরে না আমরা আপনার সাথে দেখা করতে আসছি ।
-ও আগে বলবেন না । আচ্ছা আপনারা খাড়ান আমি লোক পাঠাচ্ছি নিয়া আসবে ........

তো ইলু আর ডেডু দুইজন এখন ছইব্বানির টেবিলের সামনে ।
-দুইজনেই এদিক ওদিক তাকাইতে লাগলেন  surprised surprised surprised surprised বাপরে কত বড় অফিস কত জায়গা আমাদের ছবিপু এখারে চাকরী করেন । ভাবতেই ভালা লাগতাছে গো বইন ইলো ভাই বললেন ।

ই-ভাই টুকটাক কথা বলছেন আর ওইদিকে ডেডু তার ফ্যাশন নিয়ে ব্যস্ত চারিদিকে যে সুন্দরীদের হাট যদি কারো নজরে লেগে যাই তাইলে মরা তালার দিন শেষ একেবারে ডেডলক না হইয়া লাইফে লক কইর্যা রাখুম ।

ছবিপুর নজর এড়ায় না ।........ ডেডু ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আরে মরা তালা ভাই চিন্তা কইরেন না আমি তো আছি আপনার বড় বইন.........দেইখ্যা শুইন্যা দেখুম নে । লাইফে লক কইরা দিমুনে ।
ডেডু ভাই তো  blushing blushing blushing blushing blushing

ছবিপু খাবারের অর্ডার দিলেন...... কাচ্চি বিরিয়ানি আর সাথে দই মিষ্টি, চকলেট আইসক্রিম, চা/কফি আর কেক বিস্কিট । ইলু ভাই তো পুরাই অবাক  surprised হয়ে বললেন থাউক না বইন । খাওয়া লাগবো না আমরা তো তোমারে দেখবার আইছি ।
কিন্তু ডেডু ভাই তো খাবেনই তাই বললেন আচ্ছা ছবিপু যখন খাওয়াতে চাচ্ছে খাওয়াক না ........ নাইলে তো ছবিপুর মন খারাপ হবে ।  big_smile big_smile

(ছবিপু মনে মনে । মর জ্বালা ...... আমার পকেট খালি কইর্যাই ছাড়বো দেখছি)

খাবার সামনে আনা হল । ডেডু ভাই ভাল করে পরখ করে দেখতে লাগলেন এগুলোর মধ্যেও কি রিপোষ্ট আছে নাকি?
-কি দেখেন এমন কইর্যা ।
-দেখি বেটারা রিপোষ্ট মিশায়ে দিছে নাকি
==== না না এগুলো  রিপোষ্ট হবে না  কারণ এগুলো ছবিপুর অফিসের খাবার বুঝছেন । নিশ্চিন্তে খান ।
তো কি আর করা ডেডু ভাই যেভাবে খেতে লাগলেন তা দেখে ইলু ভাই আর ছবিপু মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলেন ।

এভাবেই প্রায় এক ঘন্টা ছবিপুর অফিসে কাটিয়ে ডেডু ভাই ইলু ভাই বিদায় নিলেন ।
যাওয়ার সময় বলে গেলেন যে, আপনার মত দিলদরিয়া মানুষের কথা ভুলুম নাগো আপু ।
কয়দিন পর পরই আপনারে আইস্যা দেইখ্যা যাইমু ।
.
.
.
.
.
.
.
.
লিখতেই আছি লিখতেই আছি । অনেক লম্বা হইয়া গেছেগা
ওকে যাই বাই........

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৯

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ছবি আপু ব্যাপক বিনুদুন পাইলাম  lol2 lol2 lol2 lol2

২০

Re: ছবির আপুর অফিসে একদিন ইলিয়াস ভাই (একটি অরম্য নাটিকা)

ফেসবুকের কমেন্টটা ভালো লেগেছে  lol

আমাকে কোথাও পাবেন না।