টপিকঃ কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল

মানব সভ্যতার অগ্রগতি সাধিত হয় উৎপাদন ব্যবস্থার বিকাশের সাথে এবং এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে সংস্কৃতিসহ সভ্যতার অন্যবিধ উপাদান। উৎপাদনের সম্পর্কসমূহের সমহারই অর্থনীতি- যা সমাজের ভিত্তি। যার উপর দিয়ে গড়ে ওঠে উপরিকাঠামো। উৎপাদনের সুত্রপাত মূলত কৃষি ব্যবস্থা থেকে। কৃষি ব্যবস্থা প্রথমে ছিল নিছক রোপন ব্যবস্থা। পরে লাঙলের মাধ্যমে ভূমি কর্ষণ ব্যবস্থার সুত্রপাত। হল বা লাঙল কৃষি কাজের প্রধান হাতিয়ার। উৎপাদনের জন্য যা করা হয় তা হল কর্ষন। এই কর্ষনই জীবনের মৌলিক ভিত্তি তৈরী করে এবং তার উপরে নির্ভর করে যা কিছু বিকাশ করে যেমন রীতি-নীতি, পোষাক-পরিচ্ছদ, আইন-কানুন, সংস্কার-বিশ্বাস ইত্যাদিও হয় এই উৎপাদনের ব্যবস্থার উপরি কাঠামো। সে জন্য এ গুলোর সম্মিলিত নাম হয় কৃষ্টি, যা কর্ষণ শব্দ থেকে জাত। আর এই কর্ষণ থেকে সংস্কৃতির সুত্রপাত। মানুষের সৃষ্টিশক্তির পরিচয় তার সংস্কৃতিতে। এই সৃষ্টিশক্তির জন্যই মানুষ। মানুষ অন্যজীব থেকে স্বতন্ত্র। অন্যজীব প্রকৃতির বশ; কিন্তু মানুষ প্রকৃতিকেও বশে আনতে পারে,সৃষ্টি করতে পারে। সে কৃতি বা সৃষ্টির দ্বারা মানুষ। মানুষ তাই সংস্কৃতি। আর মানুষেরা সে সব রীতিনীতি,কলা-কৌশল মেনে চলে সংস্কৃতিকে ধারণ করে। তাই E.B tailor এর মতে বলা যায়- Culture is that complex whole which incloudes knowaledges belaiefs, arts, morals law, custom any other capabilities and habits acquired by man as a member of society''(জ্ঞান, বিশ্বাস, কলা, নীতি, আইন, প্রথা এবং সমাজের সভ্য হিসেবে আহরিত অনন্য যোগ্যতা ও অভ্যাসের সমষ্টিকে সংস্কৃতি বলে)। এই বিচারে আর্ট বা শিল্পকলাও সংস্কৃতির অংশ। শিল্পকলা হলো সাহিত্য, চিত্রকলা, নৃত্য, সংগীত (যন্ত্র ও কণ্ঠ), ভাস্কর্য ও স্থাপত্য। কাব্য,চিত্রকলা আমি বক্ষমান নিবন্ধে কক্সবাজারের সংগীত বিষয়ে আলোচনা করার প্রয়াসি হচ্ছি। সমুদ্রতীরবর্তী কক্সবাজারের নান্দনিক সাংস্কৃতিক চর্চায় ভুমিকাও কম নয়। যদিও আমি কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক চর্চার পুর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে পারবনা তথাপি কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতার ইতিহাস প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক আলোচনা করার চেষ্টা করা গেল-
সঙ্গীত সমাজ
সংগীত শিক্ষার কোন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির পুর্বে সংগীত চর্চা হতো ব্যক্তি পর্যায়ে। বিশেষতঃ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরা সংগীত চর্চা করতো। তাদের চর্চার সুবিধার দিক হলো সংগীত তাদের ধর্ম চর্চার একটি অঙ্গ। ভজন, শ্যামা সংগীতের চর্চার পাশাপাশ আসে রবীন্দ্র-নজল ও আধুনিক গানের চর্চা। মুসলমান পরিবারগুলোতে সংগীত চর্চা নিষেধ থাকলেও গ্রামে-গঞ্জে কবিগান, জারিগান ইত্যাদির আসর বসত। মাঠে চাষ করা চাষী,একজন গাড়িয়াল, নৌকার মাঝির গান গাওয়াতে নিশ্চয় কোন বাঁধা ছিল না। এ গান তাদের পরিশ্রম লাঘবের অংশ। এতে বুঝা যায় শিল্প একদিকে উৎপাদনের অংশ, অন্যদিকে পরিশ্রম লাঘবের উপায়ও। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়ার কবিয়াল আব্দুর রহমান পন্ডিত ও তার ছেলে টুনু পন্ডিত, বরকেতা গাইন, কবির আহমদ পণ্ডিত, মোহাম্মদ মোস্তফা, ইনু চকিদার, তমরুদ্দিস গায়েন,বসন্ত গায়েন, তজু পন্ডিত, ফয়েজ বাঙ্গালী, আবদু ছামাদ, শামশুল আলম বয়াতী, ফয়জুর রহমান পন্ডিত, বংশীমোহন জলদাশ, কালা মিয়া গায়েন, থাইংখালীর হারু পন্ডিতের নাম আজও স্থানীয় লোকদের মুখে মুখে ফেরে।
কক্সবাজারে শাস্ত্রভিত্তিক সংগীত চর্চার ইতিহাস বেশী পুরানো নয়। পারিবারিকভাবে কোথায়ও চর্চা হলে সে তথ্য সংরক্ষনের ব্যবস্থা নেই। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সংগীত চর্চার পর উল্লেখ করা যায় যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অবদান রাখেন, তাদের মধ্যে মনমোহন সেন, তার মেয়ে রূপাঞ্জলী সেন, দেব প্রসাদ ভট্টাচার্য, অজিত কুমার রায় চৌধূরী, বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য, এ্যাডজুটেন্ড মোস্তাক আহমেদ, আবদুল হাকিম, হরি চৌধূরী, বজল আহমদ ও আবু বকর ছিদ্দিকী প্রমুখ। এরপর ১৯৫৬ সালে বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী জগদানন্দ বড়–য়া উখিয়া নিুমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে(১৯৫৭ সালে রামু খিজারী স্কুল) প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলে কক্সবাজারে উচ্চাংগ সংগীতের জোয়ার বয়ে যায়। তিনিই প্রথম কক্সবাজারে উচ্চাঙ্গ সংগীতের শিক্ষা প্রদান করেন। ১৯৫৯-১৯৬০ সালে কক্সবাজারের বন কর্মকর্তা ছিলেন আবদুল আলিম। অত্যন্ত সঙ্গীত সমঝদার ছিলেন তিনি। তাঁর সহযোগিতায় গড়ে উঠলো আবু বকর উস্তাদজীর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘সঙ্গীতায়তন’। আব্দুল আলীম কে সভাপতি ও নুরুল হুদা চৌধূরীকে সম্পাদক করে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে বিপরীত দিকের একটি সরকারী ভবনে ‘সঙ্গীতায়তন’র অস্থায়ী কার্যালয় নির্ধারিত হয়। কিন্তু দূরে হওয়ায় দুই বছর পরে কার্যালয় স্থানান্তর করে উস্তাদ আবু বকর ছিদ্দিকীর নিজ বাস ভবনে (লালদিঘীর পশ্চিম পাড়স্থ বর্তমান ভবনে) নিয়ে আসা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি খোলার পর থেকে সঙ্গীতপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকেরা সঙ্গীত শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। এসরাজ সিতার ও কন্ঠসঙ্গীতে তালিম নিতে শুরু  করেন। তালিমে তার সহযোগী ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ মনমোহন সেন, বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মুফীদুল আলম। এ প্রতিষ্ঠান থেকে তালিম নেন- চট্টগ্রামের আর্যসঙ্গীতের অধ্যক্ষ ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ মিহির লালা (কন্ঠ), ধর্মদর্শী বড়–য়া (প্রাক্তন প্রযোজক, বাংলাদেশ বেতার), আহমদ কবির আজাদ, আতাহার ইকবাল, রায়হান উদ্দিন থেকে শুরু করে একালের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী পর্যন্ত দেশখ্যাত শিল্পীদের অনেকেই আবু বকর সিদ্দিকীর শিষ্য। সঙ্গীতায়তনের শিষ্য-প্রশিষ্যদের মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে- চট্টগ্রাম আর্যসঙ্গীতের অধ্যক্ষ ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ মিহির লালা, অধ্যাপক মুফীদুল আলম (১৯৭৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত পরিচালনা কমিটির সভাপতি), এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক সৌমেশ্বর চক্রবর্ত্তী, ওহীদুল আলম,আহমদ কবির আজাদ, এড.রাখাল চন্দ্র চক্রবর্তী, নুরুল আবছার চেয়ারম্যান, কন্ঠশিল্পী-অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন, নূরুল মোক্তাদির, দৌলন চাঁপা চৌধুরী, আতাহার ইকবাল, আবদুশ শুক্কর আজাদ, খালেদা আকতার কল্পনা, মোহাম্মদ ইলিয়াছ মামুন, নুপুর বড়–য়া, জবা চক্রবর্তী, শিবানী ধর, এ.এস.এম সানাউল্লাহ, আবু হায়দার ওসমানী, আলপনা দাশ, রীনা পাল, , রেজাউল আমিন মোর্শেদ, সনজিত ধর সনজু, আলম শাহ, ছালেহা নাসরিন স্বপ্না, হুসনে আরা স্বপ্না, আজাদ কালাম, পুষ্প পাল, ঋতিল মনীষা, নবোষা দ্যোতনা প্রমুখ।
এ সংগীত বিদ্যালয় পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন- নজরুল ইসলাম, এড.মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, কবি ও প্রাবন্ধিক সুলতান আহমেদ এডভোকেট, সাংবাদিক ও গবেষক মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, রফিক আল ইসলাম, আবু নাছের চৌধুরী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে সঙ্গীয়তায়তনের উদ্যোগে কক্সবাজার ইনষ্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরীর হল মিলনায়তনে কক্সবাজারে প্রথম উৎযাপিত হয় বাংলার ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ উৎসব।
১৯৯০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী অধ্যাপক রাহগীর মাহমুদ, এড. আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, বাবু সুজন বড়–য়া,  সঙ্গীতজ্ঞ বদিউল আলম প্রমুখের উদ্যোগে প্রান্তিক এলাকা চকরিয়ার সংগীত পিপাসুদের সঙগীত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যকে সামনে রেখে মালঞ্চ সংগীত একাডেমী নামে একটি সংগীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত উক্ত প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে যে সব শিষ্য তৈরী হয়েছে তাদের মধ্যে - রাজীব দাশ, কলকাতার বিখ্যাত কন্ঠশিল্পী সমজিত রায়, মুজিবুর রহমান, হিরু বড়ুয়া মিঠু, ইশরাক ইফতিহা মাহমুদ দ্বীপি, তাসনিম মাহমুদ সারাহ, তানিয়া আহসান মিলি সহ প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক ছাত্রÑছাত্রীদের সংগীত শিক্ষা প্রদান আসছে।
রম্যভূমি রামুর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উদ্দীপ্ত হয়ে চট্টগ্রাম সংগীত ভবনের প্রতিষ্ঠাতা প্রিয়দারঞ্জন সেন গুপ্তের কনিষ্ঠ পুত্র বিভাস সেন গুপ্ত জিগমী’র তত্ত্বাবধানে রামুতে ২০০৩ সালে রামু সংগীত ভবন প্রতিষ্ঠা করা হয়। অদ্যাবধি এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক গুণী শিল্পীর আবির্ভাব হয়ে আসছে। এছাড়া রামু সমীহা সংগীতালয়, রামু সুরাঙ্গন, ওস্তাদ নুরুল মক্তাদিরের রুপম সঙ্গীত বিদ্যালয়, উখিয়া সপ্তরতœ সংগীতালয়, সারদা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিষদ, কক্সবাজার সঙ্গীত একাডেমী,চকরিয়া সংগীত নিকেতন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারের সংগীত পিপাসুদের সংগীত শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে।
২০০৮ সালের শুরুতে শুদ্ধতম সংগীত, লোকসংস্কৃতিকে সংরক্ষণ এবং লোক শিল্পীকে একত্র করার লক্ষ্যে মাস্টার শাহ আলম, অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ, মোজাম্মেল হক আজাদ, সিরাজুল কবির বুলবুল, ফিরোজ বাঙাল, এস.এম জসিম, কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আবদুল করিম, নুরুল হক প্রমুখের নেতৃত্বে উখিয়া লোকশিল্পী পরিষদ গঠিত হয়।
কক্সবাজারের সংগীত অঙ্গনকে উর্বর করার লক্ষ্যে যে সব শিল্পী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছেন তার মধ্যে উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী, ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠী, লায়ন শিল্পী গোষ্ঠী, ত্রিরতœ শিল্পী গোষ্ঠী, বালুনাফ শিল্পী গোষ্ঠী, সোহিনী শিল্পী গোষ্ঠী, অনির্বাণ শিল্পী গোষ্ঠী, দুর্বার শিল্পী গোষ্ঠী, হেমন্তিকা শিল্পী গোষ্ঠী, নাফ শিল্পী গোষ্ঠী, পালং শিল্পী গোষ্ঠী, হক শিল্পী গোষ্ঠী, সাইনিং শিল্পী গোষ্ঠী অন্যতম। বর্তমানে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে সংগীত চর্চায় এগিয়ে আসতে দেখা যায়। এছাড়া সরকারী সংগঠন হিসেবে কক্সবাজার শিল্পকলা একাডেমী, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার শিশু একাডেমী থেকেও আলাদা আলাদা ভাবে সংগীত শিক্ষা প্রদান করা হয়।
কক্সবাজারের সন্তান যারা বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি, আরটিভি, এটিএন বাংলা ও বিভিন্ন চ্যানেলে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে যারা অবদান রেখে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে- কন্ঠশিল্পী ধর্মদর্শী বড়–য়া, কন্ঠশিল্পী মীনা বড়–য়া, আহমদ কবির আজাদ, কন্ঠশিল্পী শেখ মোরশেদ আহমদ (বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী,সুরকার ও সংগীত প্রযোজক), আশির দশকের কিংবদন্তী গান ‘তুরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে’র গীতিকার আবদুল্লাহ আল মামুন (রেডিও অষ্ট্রেলিয়া’র বাংলাভাষা অনুষ্ঠান পরিচালক ও সংগীত শিল্পী এবং সুরকার), নাছির  উদ্দিন বিপু (বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী) প্রমুখ। এছাড়া কক্সবাজার বেতারের তালিকাভূক্ত শিল্পীদের ইভেন্ট অনুযায়ী দেওয়া হল।
আধুনিক গান- অধ্যাপক রাহগীর মাহমুদ, দিল মোহাম্মদ দিলু, অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন, আবু হায়দার উসমানী, আতাহার ইকবাল, তালেব মাহমুদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, তপা গুহ, জয়া গুহ, এ্যানি বড়–য়া, সঙ্গীতজ্ঞ বদিউল আলম, ইকবাল হায়দার, আজম চৌধুরী (বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী ও সুরকার), শামসাদ ববি, এ. আর. হারুন, পপি বড়–য়া, নিলীমা দাশ, রিনা মল্লিক, তমালিকা মিত্র, ফারহানা পারভীন (আরটিভি,এটিএন বাংলা ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী), আলাউদ্দিন তাহের, সমীর কান্তি শীল, মানসী বড়–য়া,মন্দিরা বড়–য়া, মনিকা বড়ুয়া, তাবেঈন আশরাফী, সাইদা নুশরাত তোফা, রাফায়েত নেওয়াজ কচি, সুমি দাশ, কামরুন নাহার হাসেম, রিদু চৌধুরী, প্রবীর বড়–য়া, মীনা মল্লিক, এইচ.এম.মিজান, একরামুল হক প্রমুখ।
রবীন্দ্র সংগীত- মানসী বড়–য়া, নুপুর বড়–য়া, উৎপলা বড়–য়া, জয়শ্রী বড়–য়া, জবা চক্রবর্ত্তী, আন্না পাল, মেঘলা দেব, বনানী চক্রবর্ত্তী, সুপর্ণা পাল, কাজল দত্ত, পিংকী ধর, অনামিকা দত্ত, সীমা চৌধুরী, মিতশ্রী চৌধুরী, পংকজ বৈদ্য, মৌসুমী সেন তনু, কাজল দত্ত, কেসিউ, এ্যানি চৌধুরী প্রমুখ।
নজরুল সংগীত- আবদুশ শুক্কর আজাদ (বাংলাদেশ বেতারের  তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী ও সংগীত পরিচালক), বশিরুল ইসলাম (বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী ও সংগীত প্রযোজক), আহমদ বশীর, এ.এস.এম সানাউল্লাহ, জাফর আলম আজাদ, ইছহাক মাহমুদ, ফাতেমা ইসলাম, সন্তোষ কুমার সুশীল, লায়েক হায়দার, রিনা কনা পাল, রিতা দাশ, সুষমা রাম শান্তা, সুনিয়া বড়–য়া, রিটা ভট্টচার্য, কল্যাণ কান্তি পাল, সুপর্না শর্মা, রাখি  গোলদার, সনিন্দ্র শর্মা, প্রিয়াংকা দত্ত মুন্না, পুলমী দাশ, মিলন চন্দ্র নাথ, মুনমুন চক্রবর্তী, মুনমুন চৌধুরী অপু (চ্যানেল আই’র তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী), নাঈমা তাছনোভা ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।
পল্লী গীতি- রেজাউল আমিন মোর্শেদ (বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত কন্ঠশিল্পী), জাহাঙ্গীর আলম, কাকলী বড়–য়া, সুমি আক্তার, গোলাম মোস্তফা বাবুল, মুবিনুল ইসলাম, শামীম আক্তার, ইসমাইল মুন্সি, দুলাল আচার্য্য, ইছহাক বদরী, শেখ জয়নাল আবেদীন, দেবাশীষ ভট্টচার্য, রোকন কান্তি দেব, আবুল কাসেম, এস.এস. জসিম, ছালেহা নাসরিন স্বপ্না, নাজনীন সোলতানা জোঁনাকী, সংগীতা বড়–য়া, গোলাম মোর্শেদ, সুলেখা বড়–য়া, প্রদীপ ঘোষ, সুবর্ণা হক রূপা, শ্রী জয় দত্ত, অমৃত লাল মন্ডল, মোমিনুল ইসলাম নওশাদ, সুমন দে প্রমুখ।
লোক গীতি/হাসন রাজা- গোলাম মোর্শেদ, সুলেখা বড়–য়া, জুলেখা বেগম, গোলাম আলী,সুমন দে প্রমুখ।
দেশাত্ববোধক- সোনিয়া বড়–য়া, তানজিন বিনতে রহিম, প্রিয়া দত্ত, ইমা বড়–য়া, নাইম ছিদ্দিকী, ছাদিয়া বিনতে রহমান, তাহরীম আফরোজা, টুমপা, জোহাইকা তাবাচ্ছুম রেশমী, মন্দিরা বড়–য়া প্রমুখ।
আঞ্চলিক গান- সিরাজুল ইসলাম আজাদ (বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুুক্ত সংগীত শিল্পী ও সংগীত প্রযোজক), বুলবুল আক্তার, জাফর আলম আজাদ, মো.আমান উল্লাহ, আলম শাহ, ইসহাক বদরী, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ সেলিম, অনামিকা বড়–য়া, এস্তফা আরা, মৈত্রী বড়–য়া, শেলী বড়–য়া, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, মো. নুরুল আলম প্রমুখ। 
রাখাইন শিল্পী- কি কি প্র“, ক্যমন, নি নি, উথিন ঞো, ক্যাচেন, কেসিউ প্রমুখ।
শিশু শিল্পী- সুমং চৌধুরী, বৃষ্টি চক্রবর্তী, পাপিয়া দাশ, সৌরভ ভৌমিক, তানজিনা মরিয়ম রুম্পা, আফরোজা ইসলাম, ফজলেতুন নিগার রিফাত, সানজিনা হুসনা বাপ্পী, আবিদা জান্নাত শ্যাম্পী, শাকির আহমেদ শুভ, রিতীল পাল, হিরু রানা বড়–য়া, শাহ্রিন নাছরিয়া রুম্পা, কাকলী পাল, ঋতিল রুবাইয়া হ্নদি, সাবজিন হাছনা লাইছি, শতাব্দি চৌধুরী, তাছনোভা তাশিন রহমান, রাজেশ্বর দাশ গুপ্ত, মুমিতা সুমি দাশ, মাকছুদুল হক আকাশ, শামীমা পারভীন শিমু, মোছাম্মৎ ফাতেমা রুহী, নাফিস আবিদ প্রীয়ম, হোছাইন রহমান রাফছান, সুবর্না দাশ, প্রিয়াল দাশ,নিলয় চৌধুরী প্রমুখ।
বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত না হয়েও গান গেয়ে কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম সঙ্গীত সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছে- প্রয়াত এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, দক্ষিণ চট্টলার আঞ্চলিক গানের সম্রাট জাহাঙ্গীর আজাদ, নুরুল হুদা, মোকতার ফকির, তহিদুল আলম, বেবী আকতার, বদিউল আলম, সেলিনা আকতার, নাসিমা আকতার, জিয়া, পারভীন আকতার, রওশান আকতার, রুপ সাগর, দিল আরা, রিজিয়া আকতার, মনসুর আলম আজাদ, কামাল আজাদ, নেজাম উদ্দিন,  মো. নুর হোসেন, শ্রিপা প্রমুখ।

সঙ্গীত সমাজে গীতিকারের ভূমিকাও কম নয়। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত কক্সবাজারে গীতিকার হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন অবদান রেখে চলেছেন- কবি ও নাট্যকার আশীষ কুমার,কন্ঠশিল্পী সিরাজুল ইসলাম আজাদ, কন্ঠশিল্পী আহমদ বশির, কথাসাহিত্যিক ও কন্ঠশিল্পী শেখ মোরশেদ আহমেদ, কবি সিরাজুল হক সিরাজ  তাদের মধ্যে অন্যতম। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের একুশে বইমেলায় কক্সবাজারের শেকড়সন্ধানী কবি সিরাজুল হক সিরাজ’র প্রথম গীতি সংকলন “নীল জোছনার ঘর’ বলাকা প্রকাশনী থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বইটি কক্সবাজারের ভূমিজ সন্তানদের মধে প্রথম গানের সংকলন। বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার হিসেবে নাম পাওয়া যায় অধ্যাপক রাহগীর মাহমুদ, আতাহার ইকবাল, টিভি অভিনেতা কাউসার আহমেদ চৌধূরী, মুহম্মদ নাসির উদ্দিন, গীতিকার ও কন্ঠশিল্পী আবদুল্লাহ আল মামুন, এ.আর.হারুন, চাষী রুপম, ইসহাক বদরী, জোবায়ের আহমদ, শাহেদ ইকবাল প্রমুখ।
এ ছাড়া গান লিখে যারা কক্সবাজারের সংগীতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে প্রফেসর মোশতাক আহমদ, অধ্যাপক মুফীদুল আলম, জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, মো. আমানত উল্লাহ, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক-নাট্যকার মাস্টার শাহ আলম, আলম শাহ, আহমদ শাহ বাঙালি, নুরুল হুদা, কবি ও গীতিকার আসিফ নূর, কবি শফিউল আলম মাসউদ, এস.বি রতœ, সোহেল মাহমুদ, এবি সিদ্দিক, আবদুল খালেক, এম.এ তালেব, ইউনুছ, মাহমুদ হাসান টুকুন, মনোয়ারা আকতার মিনু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মুফীদুল আলম রচিত ও মরহুম ওস্তাদ আবু বকর ছিদ্দিকী সুরারোপিত ও স্বরলিপিকৃত দেশাত্মবোধক, রাগ ভিত্তিক ও ঋতু বিষয়ক ৪টি গান বাংলাদেশের বর্তমান কালের একমাত্র সংগীত বিষয়ক পত্রিকা মাসিক সরগম এ ছাপা হয়। এ ছাড়া মুফীদুল ্আলম এর কথা, সুর ও স্বরলিপিতে আরও কয়েকটি গান ছাপা হয়। কক্সবাজারের তৃতীয় স্বরলিপিকার হিসাবে আব্দুশ শুক্কুর আজাদের স্বর লিপি করা গানও এ পত্রিকায় ছাপা হয়।


কালাম আজাদ-কবি-সাংবাদিক, নির্বাহী সদস্য, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী।

Re: কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল

অনেক বড় লেখা