সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২২-০৪-২০১৩ ১৯:৪৩)

টপিকঃ ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

নোটঃ
১। ইলিশ কিনে ইলিয়াস ভাই বাড়ি ফেরার পথে... এই টপিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে এই গল্প/উপন্যাস টি আছে তাই সব গুলো এক সাথে আনলাম ও কিছু কিছু স্থানে প্রয়োজনিয় সম্পাদনা করলাম। যাতে পড়তে সুবিধা হয়।

২। উপন্যাসের নাম এখন কার মতো " ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ " দিলাম। কিন্তু ভালো কোন নাম দিলে তা পরিবর্তন করা হবে।

৩। উপন্যাসে অনেক বানান ভুল থাকতে পারে। তাই উদাসীন ভাই যদি হাতে টাইম পায় তবে বানান ঠিক করে দেবেন।

৪।  আর যাদের হাতে সময় কম বা আগের লেখা গুলো পড়েছেন তারা আজকে লেখা আমার পার্ট টি পড়তে পারেন ৩য় পোস্ট আছে ।

৫। এই উপন্যাস লেখা শুরু করার আগে "শান্ত বালক" অনেক সদস্যদের কাছে তাদের নাম ব্যবহার করার অনুমতি
নিয়েছেন তাই নতুন করে আর অনুমতি নিলাম না । আশা করি সবাই বিষয় টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এই উপন্যাস টি লিখেছেন লিখেছেন ১২ জন ফোরামিক। তারা হলেনঃ  শান্ত বালক, ফারহান খান , জেলাল, রাসেল আহমেদ, রাজিব আহসান, কাব্য, সাইদুল ইসলাম, মুন, দ্যা ডেডলক, ইলিয়াস, তাহমিদ আফসার, বাংলারমাটি।

উপন্যাস সম্পাদনা করছেনঃ দ্যা ডেডলক

===============================
ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ
===============================
ইলিয়াস ভাই বড় আকারের একটা ইলিশ মাছ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন।
বাজার থেকে বিশাল ইলিশটা কিনে তিনি সেটা হাতে ঝুলিয়ে হাঁটা পথে রওনা দিলেন বাড়ির দিকে।
পথের মধ্যে একটু দূর থেকে দেখলেন সাইদুল (অন-লাইন জগৎ এর বিভিন্ন মাইল ফলক নিয়ে চিন্তিত এবং ভবিষতের কম্পিউটার বিজ্ঞানি) ম্যাগনেফাইং গ্লাস দিয়ে কি যেন খুঁজছেন।
ইলিয়াস ভাই : কি সাইদুল, কি খোঁজো?
সাইদুল : মিয়া ভাই, দেখতাসি কে কয়ডা পোস্ট করলো আর কার রেপু কইডা হইলো। big_smile
তা মাছটার দাম নিলো কতো?
ইলিয়াস ভাই : এগারশো টাকা। আচ্ছা আসি কেমন।
আবারও কিছু দূর যেয়েই উনার ডেডলক (যিনি বিভিন্ন ফোরামে রিপোস্ট ধরে থাকেন) এর সাথে দেখা হয়ে গেল।
ডেডলক : ইলিয়াস ভাই, মাছটা নিলো কতো?
ইলিয়াস ভাই : এগারশো টাকা।
ডেডলক : এরকম একটা মাছ কোথায় যেন দেখেছি..... কোথায় যেন দেখেছি। রিপোস্ট বলে মনে হচ্ছে।
ইলিয়াস ভাই : ঐ মিয়া মাছের আবার রিপোস্ট কি?
ডেডলক : ওহ মনে পড়ছে, কে যেন ঠিক এই রকম একটা মাছের ছবি পোস্ট করেছিল।
মুখটা কিঞ্চিত বাঁকা করে ইলিয়াস ভাই সামনের দিকে হাঁটা ধরলেন। কিছু দূর যেতেই দেখেন কে যেন পথের পাশে সংবাদপত্রে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কি যেন পড়ছেন। আরও কাছে যেতেই বুঝতে অসুবিধা হলো না যে উনি হচ্ছেন আউল (ইনি রাজনীতি বিভাগের একটিভ সদস্য ) ভাই।
ইলিয়াস ভাই : কি আউল সাহেব, কি করেন?
আউল : ভাই, পেপার ঘাইট্টা সরকারের দোষগুলান নোট করতাছি।
ইলিয়াস ভাই : ভাল, ভাল। তাহলে আসি হ্যা।

আউল : আরে বড় ভাই, হাতে বিশাল একখান ইলিশ দেখতাছি। ঐডার পেটে তো ডিম ভর্তি। সরকার কি যে করে! এখন ডিম ছাড়ার সময় ইলিশ ধরবার দিছে। এই সরকাররে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। পানি সম্পদ মন্ত্রীর আগে পদত্যাগ চাই। আজই আন্দোলন শুরু করুম। মিয়া ভাই, আপনি আছেন নাকি আমার লগে?
ইলিয়াস ভাই : ইয়ে মানে আমি আপাতত আসি, কেমন।
আউল : আরে বড় ভাই মাছের দামটা তো বলে যান।
ইলিয়াস ভাই : এগারোশো।
মুখটা কাচুমাচু করে ইলিয়াস ভাই হাঁটা ধরলেন। দূর থেকে কে যেন হেঁটেঁ আসছেন। কাছে যেতেই দেখেন উনি হচ্ছেন উপল (হবু ডাক্তার) ভাই।
উপল : আরে ভাইজান, মাছটা পড়লো কতো?
ইলিয়াস সাহেবের মাথার ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, একটা কাগজ কলম দিন। মাছের দামটা লিখে গলায় ঝুলিয়ে রাখি। সারা রাস্তায় এই দাম বলতে বলতে আমি কাহিল।
উপল : হে হে, কোন চিন্তা করবেন না। এক্ষুণি ঔষধ লিখে দিচ্ছি, খেলে ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। আচ্ছা বড় ভাই, মাছটা কেমন পঁচা পঁচা দেখাচ্ছে। দেন দেখি একটু পরীক্ষা করি।
ইলিয়াস ভাই : উপল, তুমি আমার মাছের ক্ষেত্রেও ডাক্তারি ফলাবা নাকি? রাগে উনি আবারও হাঁটা শুরু করলেন।
উপল : আরে ভাই, মাছের দামটা তো কয়ে যান।
কোন মতে সেখান থেকে পালালেন উনি।
পথিমধে অয়ন খানের (লিনাক্স মিন্ট বাংলাদেশ এর সেচ্ছাসেবক) সাথে দেখা
অয়ন খান: এই অসময়ে মাছ পেলেন কোথায়
ইলিয়াস: এখনই তো মাছের সময়
অয়ন খান: কিন্তু এই ভার্সনের মাছ তো এখন রিলিজ পাওয়ার কথা না। এটা তো আরও ছয় মাস পরে রিলিজ পাবে
ইলিয়াস: সবাই দাম জিজ্ঞেস করল তুমি করবা না?
অয়ন খান: দুর, ওপেনসোর্সের আবার দাম হয় নাকি?

দুর থেকে মেহেদী৮৩ (কম্পিউটার গিক) সেটা শুনে ফেলে বললেন- এটা মনে হয় বেটা রিলিজ, আই মিন সিনিয়র টাইপের জাটকা ভার্সণ। এটার সাথে কমপ্যাটিবল টুলস (তরি-তরকারী) বাজারে রিলিজ হয়েছে কিনা সারিম খানকে (জিনিয়াস প্রোগ্রামার) জিজ্ঞাসা করে দেখতে হবে।
সারিম এর সাথে দেখা এরপরেই
সারিমঃ ভাইজান, হাতে কি?
ইলিয়াসঃ ইলিশ।
সারিমঃ অসম্ভব!
ইলিয়াসঃ মানে! ইলিশের দাম বাড়ছে বলে কি আমি ইলিশ কিনতেই পারব না?
সারিমঃ আরে ভাই, ম্যাক ওএস এক্স ইলিশ - এর নামতো প্রথম শুনলাম
ইলিয়াস সাহেব পাগল হবার আগেই সেখান থেকে দ্রুত পলায়ন করলেন।
কিন্তু ইলিয়াস ভাইয়ের কপালে নাই শান্তি পালিয়ে যাবেন কই , পথের বাকেই পড়ে গেলেন Invarbrass ওরফে ব্রাশু  (যিনি গুরুদের গুরু ও সবজান্তা একাধারে ডাক্তার ও প্রোগ্রামার) ভাইয়ের সামনে
ব্রাশু ভাই - কোথায় পালাচ্ছিলেন , হাতে দেখি আবার ইলিস মাছ !
এরপর ব্রাশু ভাই মাছ খানিক নেড়ে চেড়ে বলেন , হম , পদ্মার ইলিশ, বয়স ১১মাস ২০ দিন ৩৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড । ইলিশটা জালের কোনার দিকে ধরা পড়েছিল । পানির ৪০ ফুট নিচে।  জালটা ছিল কারেন্ট জাল। যেটার গলনাংক**** , জালটা বানিয়েছিল ইন্ডিয়ায় অমুক ফেক্ট্রিতে । ওদের মুল কাচামাল আসে .................. সীমাহীন তথ্যের ব্রাস ফায়ার  ......
কিছুক্ষন পর তাহমিদ আফসার (মাত্র JSC পাশ করা পাবলিক ও ভবিষতের রক স্টার) আর আহমাদ মুজতবা (কিছু দিন আগে এমিরিকাতে গিয়েছেন ) ওই পথ দিয়েই বাড়ি ফিরছিল । ওদের হটাত আগমনে ব্রাশু ভাই থামলেন কিছুক্ষণ ।
তাহমিদ:  ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ টা দেখে লাফিয়ে উঠল - ইলিশ মেরি ছাম্মাক ছাল্লো ...
মুজতবা বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাহমিদ কে কইল , ড্যাম ম্যান । ইলিশ কখনও ছাম্মাক ছাল্লো হয় না ।  নো ইলিশ  ! ইলিশ সাক্স ! এম্রিকার স্যালমান আরও বড় হয়

সারা রাস্তায় মাছের বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলতে বলতে পুরা আউলা হয়ে গেছেন তিনি। মেজাজ একেবারে খিটখিটে হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। বেশী রাগ হচ্ছে ঐ মাছ বিক্রেতার উপর। ঐ ব্যাটাকে বললাম যে মাছটা কেটে ব্যাগে ভরে দিতে। ব্যাটা বলে, ভাইজান মাছটা হাতে করে নিয়ে যান, এলাকায় আপনার দাম বাড়বে। কথাটা তখন বেশ মনে ধরেছিল। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, দড়িতে মাছ ঝুলিয়ে আনাটাই ভুল হয়েছে। এতো বড় মাছটা অবশ্য ছোট্ট ব্যাগে আটছিলও না।
অবশেষে ইলিয়াস সাহেব রাস্তার পাশের এক হোটেলে বসে মাছটি কেটে ছোট্ট ব্যাগটিতে ভরে আবারও হাঁটা ধরলেন।
কিছু দূর যেতেই রাস্তার পাশে মাঠ থেকে সূরেলা কন্ঠে কে যেন ডেকে উঠলেন তাকে। ভাইয়া, ভাইয়া কোথায় যান?
ইলিয়াস ভাই মুখ ফিরিয়েই চমকে উঠলেন। আরে এ যে শান্ত বালক (কন্যা সন্তানের জনক বালক সাহেব এমন সব বিচিত্র বিষয় নিয়ে লেখা লিখে থাকন যা অন্যরা কল্পনায় আনতে পারবে না)
ইলিয়াস: তা মাঠের মধ্যে কি করো?
শান্ত বালক : ভাইয়া, আলু ক্ষেতের তথ্য সংগ্রহ করছিলাম, সেই সাথে কানা বকের ছবি তুললাম। আরেকটা আজব তথ্যও পেয়েছি ইতিমধ্যে। বিচিত্র পৃথিবীর কি সুন্দরতম জায়গায় না এটা! big_smile
ইলিয়াস ভাই : থাক থাক। একবারে টপিকেই দেকমুনে। আমার মাথা ঘুরছে। আমি তাইলে যাই।
শান্ত বালক : ভাইয়া, আপনার হাতে কি?
ইলিয়াস ভাই : দেখতেই তো পারছো এটা বাজারের ব্যাগ।
শান্ত বালক : ওহ আপনি বাজার থেকে ফিরলেন নাকি? তা ব্যাগের মধ্যে কি?
ইলিয়াস ভাই : ব্যাগের মধ্যে বিশাল একটা ইলিশ মাছ কাটা অবস্হায় আছে। এটার দাম নিয়েছিল এগারশো টাকা।
শান্ত বালক : মাছটার দাম চেয়েছিল কতো?
ইলিয়াস ভাই : মনে নাই।
শান্ত বালক : এটা পদ্মার, বরিশালের নাকি চট্টগ্রামের ইলিশ?
ইলিয়াস ভাই : তা আমি জানবো কিভাবে?
শান্ত বালক : ডিম আছে নাকি?
ইলিয়াস ভাই : হ্যা।
শান্ত বালক : ইলিশটার চোখের রং-গায়ের রং কেমন একটু বলেন তো ভাইয়া?
ইলিয়াস ভাই : এসব জেনে তুমি কি করবে? টপিক লিখবা নাকি।
শান্ত বালক : ঠিকই ধরেছেন ভাইয়া। আচ্ছা ভাইয়া, ইলিশটাতো কাটা হয়েছে। তা কয়টা হৃদপিন্ড, কয়টা ফুবরা-নাড়িভূড়ি কেমন ছিল একটু বলুন তো?
ইলিয়াস ভাই মনে মনে বললেন, এবার তো দেখি বড় পাগলের পাল্লায় পড়লাম। notlistening
শান্ত বালক : আচ্ছা আগে মাছটা ব্যাগ থেকে বের করেন তো। সবার আগে দরকার ছবি। ফোকাস বিভাগে পাঁচমিশালি করে মাছের ছবিটাও ঢুকায়ে দিবোনে।
কোন মতে দৌড় দিয়ে তিনি সেখান থেকে পালালেন। কিছু দূর যেতেই ইলিয়াস ভাই ঠাস করে এবার রাস্তায় পড়ে গেলেন......... জ্ঞান ফিরলো সন্ধ্যার পরে।
অন্য গ্রামের লোকজন : যাক বেচারার জ্ঞান ফিরেছে। খুব ভাল হলো।
তা ভাই, আপনার নাম কি?
উনি আশেপাশে তাকিয়ে বললেন “ইলিশ”
সবাই অবাক হয়ে মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলেন। আবার সবাই তার নাম জানতে চাইলো।
উনি আবারও বললেন, “ইলিশ”।
এবার নেতা টাইপের একজন গম্ভীরভাবে জিজ্ঞাসা করলো, আপনার নামটা আগে বলুন তো ঠিক করে।
উনি আবারও বলে উঠলেন ইলিশ... ইলিশ... ইলিশ। ….……..আমার ইলিশ মাছটা কই সেইটা আগে কন?

এর ঘন্টা খানিক পরে
ইলিয়াস সাহেব রাস্তায় হাঁটা শুরু করলেন এবং পথে পেয়ে গেলেন সালেহ আহমদকে (ইনি হোস্টিং ব্যাবসায়ের সাথে জড়িত)। এবার তাকে নিয়ে খুঁজতে খুঁজতে ইলিশ মাছটা পেলেন ফোরামিক পলাশ মাহমুদের (বিশিষ্ট রম্য লেখক এবং বর্তমানে আইটি বিশেষজ্ঞ) বাসায়। পলাশ মাহমুদ তার আদরের বিড়ালকে ইলিশ মাছের টুকরোগুলো খেতে দিয়ে নিজে কাঁটাগুলো চিবিয়ে খাচ্ছিলেন।
তবে, ইলিশের মাথাটি অনতিদুরেই একটি প্লেটে রাখা ছিল। সালেহকে বড় বড় চোখে উজ্জল দৃষ্টিতে সেটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইলিয়াস ভাই প্রশ্নবোধক দৃষ্টি হানলেন তার দিকে। সালেহসেটা টের পেয়ে আনমনে বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন- ভাবছি শীতকালীন হোস্টিং অফারটির সাথে ইলিশ মাছের মাথাটি ফ্রী দিয়ে দেব নাকি।

রাত ১২ ঘটিকা
স্থানঃ ইলিয়াস সাহেবের বাসা

অবশেষে বিশাল বাধা পেরিয়ে তিনি বাড়ি ফিরলেন। হাতে তার মাছের মাথাটা। বিশাল একটা যুদ্ধ জয় করে ফিরেছেন। মনে মনে তিনি বিশাল খুশি। এত ঝামেলার পরেও অন্তত মাছের মাথাটা তো বাচিয়ে আনতে পেরেছেন।
কার কাছে যেন শুনেছিলেন ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে মুড়ি ঘন্ট খেতে নাকি খুবই স্বাদ। এখন তিনি ভাবছেন অনেক যুদ্ধ করে মাথা জয় করেছি, এটার আজ মুড়িঘণ্ট খাব। কিন্তু হায়, মুড়ি ঘন্ট বানায় কেমনে?
নিশ্চয়ই মচমচা মুড়ি দিয়া ঘন্ট করতে হয়
বাড়িতে আবার মুড়ি নাই। তিনি এবার বেরোলেন মুড়ি কিনতে। রাত ১২ টায় তার জন্য কে আবার মুড়ি ধরে রেখেছেন? মুড়ি আর ইলিয়াস ভাই খুজে পান না। অবশেষে অনেক খুজতে খুজতে পেয়ে গেলেন মুড়ি। ১ কেজি মুড়ি কিনে এবার তিনি বাড়ির পথ ধরলেন। বিপদের উপর যেন মহাসিডর রাস্তায় আবার ইলিয়াস ভাইয়ের পিছু নিল বিশাল সাইজের একটা এলশিয়ান কুকুর। কুকুর পেছনে পরাতে তিনি বিশাল ঘাবড়ে গেলেন। তিনি হাটার স্পিড বাড়িয়ে দিলেন। ইলিয়াস ভাই এর সাথে সাথে কুকুরটাও তার হাটার স্পিড বাড়িয়ে দিল। তিনি স্পিড কমালে কুকুরও স্পিড কমায় আবার তিনি স্পিড বাড়ালে কুকুরও স্পিড বাড়ায়। তিনি মনে মনে ভাবছেন ভো দৌড় দিবেন কিনা...
তিনি মনে মনে আল্লাহর নাম দিয়া দিলেন দৌড়, এমন দৌড় দিলেন যে এই অলিম্পিকে তিনি নিশ্চিত গোল্ড মেডেল পেতেন।
কুকুরটাও তার পেছনে পেছনে ছুটতে থাকল।
তিনিও ছুটছেন কুকুরও ছুটছে......
তিনিও ছুটছেন কুকুরও ছুটছে............
কুকুর পানি দেখলে ভয় পায় । বাঁশের সাঁকো দেখে কুকুরও ঘাবড়ে থমকে গেল। সে সুযোগে মুড়ি নিয়ে বাড়ি আসলেন। কিন্ত একি ! আমার এত কষ্টের ইলিশ মাছে মাথা দেখি বাড়ির হুলো বিড়াল চাটছে! গালে হাত দিয়ে বসে থাকলেন আর চিন্তা করছেন এখন কি করা যায়। এতবড় মাথাটা ফেলে দিতে খুব কষ্ট হলো, আবার বিড়ালের উচ্ছিষ্ট বলে নিজেও খেতে পারছেন না। হঠাৎ মনে পড়ল পলাশ যখন কাটাকুটার ক্যালসিয়াম খেয়ে নিয়েছে মাছের মাথাটাও ওকেই খাওয়াব সকালে  ।

সকাল ৯ ঘটিকা

পলাশকে ফোন দিল ইলিয়াস সাহেব, পলাশ রিসিভ করে বললো কি খবর আব্বাজন ? (এ এক ফাজিল ছেলে ময়মুরুব্বিদের কখনোই সালাম দিবে না )
ইলিয়াসঃ ঐ ব্যাটা তোর আব্বাজানর গুষ্টি কিলাই তুই এখনই রওয়ানা হয়ে আমার বাসায় চলে আয়
পলাশঃ ইয়ে মানে আব্বাজান আমার একটু ব্যস্ততা আছে............
ইলিয়াস সাহেব ধমকের সুরে বললাম ছাড়া গরুর আবার ব্যস্ততা কি ? যাহোক পলাশ অনেক গাইগুই করে অবশেষে বাসায় আসল আর সে বিড়ালে চাটা মাছের মাথা দিয়ে ওকে আপ্যায়ন করা শুরু করলেন ইলিয়াস সাহেব। মিলাদের দাওয়াত নয়, ডাইরেক্ট ইলিশের মাথার দাওয়াতই পেলেন পলাশ মাহমুদ। খেতে খেতে তিনি ইলিয়াস ভাইকে বললেন- "আব্বাজান হুজুর, মাছের মাথাটি অতীব সুস্বাদু হইয়াছে। ফ্লেভারখানাও চমৎকার লাগিতেছে।"। ইলিয়াস ভাই বললেন- "বৎস, ফ্লেভার চমৎকার হইবে না? তোমার ভক্ষণারম্ভের পূর্বে উহা কে চাটিয়াছে দেখিতে হইবে না?"। পেছনে ডেকে উঠল- "মিঁয়াও, মিঁয়াও" ।
ইলিয়াস ও পলাশ ভাই ঠিক একই সাথে মিয়াও শব্দটার দিকে ঘুরে তাকালেন।
অবাক দৃষ্টিতে হা হয়ে গেলেন দু’জনই।
ইলিয়াস : আরে, এ যে আমাদের জেলাল (ইনি সিনিয়র প্রোগ্রামার, ধার্মিক ও রসিক টাইপের লোক) ভাই। তা বিড়ালের মতো ম্যাও ম্যাও করছেন কেন?
জেলাল : মানে, কলিংবেলটা খুঁজে পাচ্ছি না বলে হঠাৎ মাথায় এই বুদ্ধিটা খেলে গেল। একই সাথে তার দৃষ্টি গিয়ে পড়লো ইলিশের মাথাটার দিকে।
তাই দেখে ইলিয়াস ভাইয়ের বিখ্যাত সেই মুচকি হাসিটা মুখে তারকার মতো ঝলক দিয়ে উঠলো। সেই সাথে সূচালো পান খাওয়া বিখ্যাত দাঁতগুলোও বের হয়ে গেল।
জেলাল : ওই পলাশ মিয়া, এত্তো বড় মাথাটা তুমি একা একা খাইবা নাকি? আমার নজর পড়ছে। না দিয়া খাইলে কিন্তুক পেটে অসুখ করবো কইলাম।
পলাশ মাহমুদ : কি যে কও ভাগ্নে! মামা ভাগনে যেহানে, সব অঘটন সেহানে। আসো, হাতটা ধুইয়া চট জলদি বইসা পড়ো দেহি। বাকী অর্ধেকটা তুমিই খাও।
জেলাল : মামা-ভাগ্নে হইবো আর চাচা-ভাস্তে হইবো না - এইডা আমি মানি না। ইলিয়াস চাচারে ছাড়া আমি খামুই না।
জেলাল ভাইয়ের কথা শুনে ইলিয়াস ভাই মহা ঘা্বড়ে গেলেন। ইলিয়াস ভাই মনে মনে ভাবছেন, "এটা কি বিপদ!! মানুষ খাল কেটে কুমির আনে আর আমি সাগর কেটে হাঙ্গর এনেছি। "
ইলিয়াস ভাই ভাবছেন, এখান থেকে পালনো ছাড়া বুদ্ধি নাই। কয়েকদিন সুন্দর বনে গিয়ে আত্মগোপন করলে মন্দ হয় না। এখানে এদের সাথে থাকার চেয়ে সুন্দর বনে বাঘ সিংহের সাথে থাকা ভাল
ইলিয়াস ভাই কেবল পালাতে যাবেন, যেই মাত্র দরজার কাছে পৌছেছেন সেই মাত্র রাসেল আহমেদের (গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও মাইবিবি/পানবিবি ইঞ্জিন সহ আরো কিছু বিবির এক্সপার্ট) আগমন......
ইলিয়াস ভাইঃ আরে মিয়া, তুমি এখানে!!
রাসেল আহমেদঃ ভাই শুনলাম আপনি নাকি ইলিশ মাছ কিনছেন?
ইলিয়াস ভাইঃ খবরটা কি টিভি রেডিও তে প্রচার হচ্ছে নাকি?     
রাসেল আহমেদঃ সকালে তাহমিদ আফসার মোবাইল করছিল, আপনি নাকি একটা ছাম্মাক ছল্লো ইলিশ কিনছেন। তাই দেখতে আইলাম। ভাইজান, পান বিবির একটা থিম বানাইতাছি। নাম ইলিশ । আপনার একটা ইন্টারভিউ লাগব। সেই সাথে সরাসরি সেই ইলিশ মাছের কিছু ফটোগ্রাফ।  ইলিয়াস ভাইয়ের ধৈর্যের বাঁধ ভাংতে শুরু করল। নাহ আর পারা যায়।
দরজা খোলাই ছিল, তিনি এবার ঝেড়ে কষে একটা ভো দৌড় দিলেন।
রাসেল আহমেদঃ আরে ভাই যান কই? ( রাসেল আহমেদ ও পেছনে পেছনে দৌড় )
পলাশ মাহমুদঃ আ...ব...ব্বা... ( পলাশ মাহমুদ ও পেছনে পেছনে... )
জেলালঃ চা...চা... ( জেলাল ভাইও দৌড়... )
চার জনেই এবার রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন। ইলিয়াস ভাই সা্মনে। পেছনে পেছনে রাসেল আহমেদ, পালাশ মাহমুদ, জেলাল।
দৌড়ানোটা মনে হয় ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়ে। ঘন্টা খানিকের মধ্যে এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ ইলিয়াস ভাইয়ের পেছনে দৌড়াতে শুরু করলো। সবার মুখেই ধর ধর রব।
দৌড়াতে দৌড়াতে ইলিয়াস ভাই হঠাৎ একটা ম্যানহোলের মধ্যে পড়ে গেলেন। ঘটনা হঠাৎ হওয়ায় ক্রেজি জনগন কিছু বুঝতে না পেরে দৌড়াইতেই থাকে! )
ইলিয়াস ভাই উহার ভিতর থেকে উঠে দেখেন যে কেউ নেই, আহ কি আনন্দ! কাদা মেখে ভুত তিনি ! জনগন কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর যখন বুঝতে পারে যে তাদের সামনে আসলে কেউ নাই তখন তারা সোওওওজা ইউ-টার্ন নেয় আর ফিরে এসে দেখে একটা ম্যানহোল! ক্রেজি জনতা জনে জনে ম্যানহোলের মধ্যে লাফ দেয়! ) তবে ততক্ষণে ইলিয়াস ভাই জনতার মাঝে মিলে গেলেন। হঠাৎ সামনে উড়ে এসে পরলো পলাশ । এবং স্বয়ং তার আব্বাজানকে চিনতে পারল না  । বলল, ব্রাদার এখানে একজন ইলিশ ওয়ালা মুরুব্বি ঝাপ মেরেছেন । তিনি কি ধরা খেয়েছেন? ইলিয়াস ভাই কথা বেরোলো না। বললেন, এখনও ওই মুরুব্বি ম্যানহলে গোল্লা ছুট খেলছেন । আপনি আল্লার নাম বলে ঝাপিয়ে পড়ুন  । পলাশ চোখ মুখ বুজে আল্লাহ হুয়াকবার বলে ম্যানহলে ঝাপিয়ে পড়ল।
যাক !! এক আপদ গেছে ! এখন কোন ভাবে আজ রাত কোথাও মাথা গুজে পার করে দিতে পারলেই হয় । ভালই আক্কেল হয়ছে । আর জীবনেও তিনি ইলিশ কিনবেন না। অসময়ে ইলিশ কেনার ভালই উসুল দিতে হচ্ছে ।
কাদামাখা অবস্থায় তিনি রাস্তা দিয়ে দিয়ে হেটে চলেছেন । কোথায় যাওয়াযায় ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্ত নিলেন যে,  আজ রাত নিজ দোকানেই কাটিয়ে যেয়া যাক । কিন্তু চাবি রেখেছেন শান্ত বালকের কাছে । যাবে নাকি তার কাছে ।
নাহ !! পাগলে পাইছে আমারে  ? নিজেকেই শাসালেন তিনি । শান্ত বালক নাম হলেও শান্ত সে মোটেও না । কি সুন্দর একটা জাঁদরেল ইলিশ কিনে ফিরছিলেন তিনি । এতক্ষনে ইলিশ তার পেট এ লাফালাফি করত আর তিনি কি সুন্দর হাত পা ছড়িয়ে বিছানায় গা এলিয়ে ঘুমাতেন। এই শান্ত বালকই সব গুবলেট করে দিল ।  যত্তসব।  এই শান্ত বালক সব নষ্টের গোঁড়া । ভাবতে ভাবতে গায়ের রক্ত গরম হয়ে গেল ইলিয়াস সাহেবের   । ভেতর থেকে যুদ্ধের ডাক পেলেন !  আজ শান্ত বালকের এক রাত তো তার আরেক রাত । কোমরে গামছা বেধে শান্ত বালক কে শেষ যেখানে দেখেছিলেন সেদিকে রওনা দিলেন তিনি ।

রাত ১০ ঘটিকা

নতুন মার্কেট পর্যন্ত এসে দেখলেন উদাসীন (ইনি জটিল জটিল গল্প ও কবিতা লিখে থাকেন) কে। সে সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে কালি গোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আপন মনে কি যেন বিড়বিড় করছে ।
ইলিয়াস সাহেব ভাবলেন ভালই  হল । সাথে উদাসীন কে নিয়ে যাই ।
কাছে গিয়ে ইলিয়াস ভাই ডাক দিলেন উদাসীন-কে  ।  বাজখাই গলায় বললেন ওহে উদাসীন , এতো রাতে তুমি এখানে কি করো ? উদাসীন ঢুলুঢুলু চোখে আঁকাস থেকে চোখ নামিয়ে ইলিয়াস ভাইয়ের দিকে তাকালেন । কিন্তু কাদা মাখা সরিলে যেখানে পলাশ তার বাপ কেই চিনতে পারে নি সেখানে উদাসীন তো কোন ছার ! সে দেখল পেট মোটা আধো মানুষ আর আধো কাদার তাল তার সামনে দাড়িয়ে তাকেই ডাকছে ।  ডাকছে তো না যেন গর্জন করছে ।
উদাসীন ভাই ভাবলেন তার শেষ দিন উপস্থিত ! এবং তিনিও চোখ কান বন্ধ করে বিকট চিৎকার করে পিছন দিকে দিলেন ছুট !
ইলিয়াস হত বিহ্বল হয়ে দাড়িয়ে রইলেন , যাই হোক শেষমেশ তিনি আবার রওনা দিলেন শান্ত বালকের সন্ধানে । মনে তার ধিকি ধিকি আগুন। ওদিকে শান্ত বালক মাঠ থেকে ফেরার সময় একটা ব্যাং ধরে এনেছে সেটার আগা পাস তলা ইত্যাদির ভাল মতন ছবি তুলে ফোকাসে মেরে দেবে বলে।  ইদানিং যাই পাচ্ছেন তাই অন-লাইনে পোস্ট করছেন । কারণ আর কিছুই না । ব্যাং এর কয়েকটা ছবি তুলে তিনি খেয়ে দেয়ে আরাম করে ঘুমাতে গেলেন। ব্যাং টা যেন না মরে তাই পানির জগে সেটাকে ছেড়ে দিলেন তিনি ।
আর এইদিকে ইলিয়াস ভাই চরম রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে শান্ত বালকের বাসার দিকেই আসছিলেন । বাসার কাছাকাছি পৌঁছেই তার সামনে পড়ে গেল ফারহান খান এর।
ইলিয়াস ভাই ভাবলেন এই আবুলটাকে ধরে নিয়ে যাই । শান্ত বালক কে সাইজ করতে সুবিধে হবে তখন । মূর্খ মানুষ বুঝিয়ে রাজি করান সহজ হবে।
আগের বার উদাসীন তাকে দেখে পালিয়েছিল। তাই একে হঠাত ধরতে হবে । যেন না পালাতে পারে তাই ইলিয়াস ভাই চুপিচুপি ফারহান খানের ২ হাত কাছে চলে এলেন । ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি ফারহান খান কে ধরলেন ।
প্রথমে চমকালেও ফারহান খান ঠিক চিনতে পারলেন ইলিয়াস ভাইকে তার পান খাওয়া দাঁত দেখে ।
ফারহান :আরে চাচা মিয়া আপনার গায়ে এগুলা কি ? 
ইলিয়াস:এগুলা শিন্নী , খাবি ??   
ফারহান :শিন্নী কই , আমি তো দেখি কাদা !! 
ইলিয়াস:আরে কাদাই দেখছিস আবার প্রশ্ন করছিস কেন ? 
ফারহান : তা এখানে কি করছেন এতো রাতে ? 
গলার সর খাদে নামিয়ে ইলিয়াস ভাই এদিক ওদিক চেয়ে  বললেন , শুন ... কানে কানে বলি ...
ফারহান : চাচা মিয়া কানে কানে না, কানে মুখে বলে  ওটাকে ।
গালের দাঁত সব বের করে বললো ফারহান খান  ।
ক্ষণিকের জন্য ইলিয়াস ভাইয়ের মনে হল এই মূর্খের সাথে কথা বলে আমি নিজেও মূর্খ হয়ে যাব।

সারারাত আকাশে ঘন কালো মেঘ জমেছিল দৌড়া-দৌড়িতে কেউ খেয়ালই করেনি। এদিকে আকাশটাও ফর্সা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।

রাত ১ ঘটিকা

হঠাৎ ঝমঝম বৃষ্টি শুরু হলো।
বৃষ্টির ধারাও বাড়তে থাকে আর আমাদের ইলিয়াস ভাইয়ের গায়ে লেগে থাকা ম্যানহোলের কাঁদা-মাটিও পরিষ্কার হতে থাকে।
এতক্ষণ ধরে শান্ত বালক বাড়ির বারান্দা থেকে সবই দেখছিল। ফরহানকে চিনতে পারলেও, সে কার সাথে কথা বলছিল তা এবার পরিস্কার বোঝা গেল।
সাথে সাথেই শান্ত বালক -ভাইয়া বলে চিৎকার দিয়ে ছাতা মাথায় বাড়ির বাইরে এলো।
শান্ত বালক : ভাইয়া, কি হয়েছিল? এভাবে কাঁদা-মাটি মেখে ছিলেন কেন? আমি তো ভাবলাম বিখ্যাত সেই কাঁদা-বাবা বুঝি বাড়ির সামনে এসে হাজির হয়েছে।
ইলিয়াস ভাই : আরে রাখো তোমার কাঁদা-বাবা। ক্ষুধায় পেটটা চ্যু চ্যু করছে। বাড়িতে খাবার আছে কি কি সেটা আগে বলো?
শান্ত বালক : কেবলই ওভেনে ভাত গরম করা হয়েছে। সাথে আছে গতরাতে রেঁধে রাখা ইলিশ মাছের মুড়িঘণ্ট। মাছের মাথাটা কিন্তু খুব ভাল মতো রান্না করেছি ভাইয়া।
ইলিয়াস ভাই : ওরে বাপরে! আবারও ইলিশ, আমি মাফ চাই।
আচ্ছা ভাইয়া, এখানে কেমন একটা ড্রেন টাইপের গন্ধ বের হচ্ছে না? মনে হচ্ছে কেউ বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে এসেছে। কিন্তু এখানে তো আমরা তিনজন ছাড়া আর কেউ নেই। কাহিনীটা কি? রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি।
এই যে বালক, তোমার নাকে সমস্যা হয়েছে। অতি সত্ত্বর ডা: উপলের স্মরণাপন্ন হও। বুঝলে? আমার নাম বললে ভিজিট অর্ধেক নিবে।
ওদিকে ফারহান দাঁত বের করে হাসছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে সেই পথ দিয়ে একজন মাছওয়ালা মাছের ঝুড়ি মাথায় করে যাচ্ছিলেন।
ইলিয়াস ভাই স্বভাবগত কারনেই বলে উঠলেন, কি মাছ গো বাবাজী?
মাছওয়ালা : চাচা মিয়া, ইলিশ, পদ্মার বড় বড় ইলিশ আছে, দামে খুবই শস্তা। দেবো নাকি একখান? এই বৃষ্টির দিনে ইলিশের দো'পেয়াজা আর সাথে মাথাটা মুড়িঘন্ট করে খাইয়ের, দারুন স্বাদ পাইবেন।
ইলিয়াস ভাইয়ের এবার মাথার চুল ছেড়ার উপক্রম। সবার হইলো ডা কি, যেই দিকেই তাকায় শুধু ইলিশ, ইলিশ আর ইলিশ! এই রাত দুপুরেও ইলিশ। এ কি মসিবতে পড়লাম। প্যাঁচাল পারতে পারতে রাত কাবার।

সকাল ৭ ঘটিকা

ইলিয়াস সাহেব চিন্তা করছেন, সেদিন কার মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। ওহ মনে পড়েছে, সেদিন ঘুমটা ভেঙ্গেছিল ইমরান তুষারের [ইনি পুরা বছর বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে থাকেন(তার টপিক লিস্ট দেখে তাই মনে হয়) ও হাল্কা গল্প,কবিতা লিখে থাকেন] ফোন কল পেয়ে। ব্যাটারে যদি এহন পাইতাম। বাংলালিংক ফ্রেন্ড ফাইন্ডার দিয়ে তুষারের অবস্থান বের করেন ইলিয়াস সাহেব। দেখেন যে সে পাশের গলির হোটেলে আছে।
ইলিয়াস ভাই, শান্ত বালকের হাত ধরে প্রায় টানতে টানতে হোটেলে গিয়ে ঢুকলেন। সেই সাথে পিছু পিছু ফারহান খানও।
ওয়েটার : শুভ-বৃষ্টি সকাল ২৪ ঘন্টার হোটেলে।
ইলিয়াস ভাই : ঐ মিয়া সকালটা শুভ না অশুভ তা তুমি বুঝলা ক্যামনে?
ওয়েটার হকচকিয়ে গেল। ইয়ে মানে...স্যার আমাদের মেনু।
ইলিয়াস ভাই : আরে রাখো তোমার মেনু। যা আছে তাই দাও।
ওয়েটার : ওকে বস।
এদিকে শান্ত বালক আর ফারহান ভয়ে চুপচাপ বসে আছে। সুযোগ বুঝে শান্ত বালক একবার টেবিলের আড়াল থেকে মানিব্যাগটা চেক করে নিলো। আর ওদিকে খালি পকেটে ফারহানের রীতিমতো ঘাম ঝরছে। দু’জনেই ভাবছে, খাবারের বিলটা যে কার উপর দিয়ে যায়।
ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়েটার খাবার নিয়ে হাজির। বিশাল একটা ইলিশ ভুনা এনে রাখলেন ইলিয়াস ভাইয়ের সামনে। স্যার, আমাদের হোটেলের আজকের সেরা আয়োজনটা আপনার জন্যই নিয়ে এলাম। ইলিয়াস ভাই কয়েক মুহূর্ত ঠায় বজ্রাহতের মত বসে রইলেন। গলা দিয়ে স্বর বেরুচ্ছে না।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২২-০৪-২০১৩ ১৯:৪৫)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

অনেক্ষণ পরে করুণ চোখে ওয়েটারের দিকে তাকিয়ে বললেন- বাবা, তোমাদের কাছে পয়জন আছে? ওয়েটার বলল- স্যার আমাদের হোটেলে তো এই জিনিস রান্না হয়না, পাশের হোটেলে গিয়ে দেখি তারা রেঁধেছে কিনা। আপনার জন্য এক বাটি পয়জন তরকারি নিয়ে আসি। ইলিয়াস ভাই চোখের কোন দিয়ে শান্ত বালক আর ফারহানের ভাব-ভঙ্গি একবার দেখে নিলেন। তারা দু'জন মিটিমটিয়ে হাসছে। কিন্তু দুজনেই উশখুশ করছে বিসমিল্লাহ পড়ার জন্য, ইলিশ মাছের ভুনা দেখে তাদের আর তর সইছে না।
ইলিয়াস ভাই কন্ঠে রাজ্যের মধু ঢেলে ওয়েটারকে বললেন- বাবাজি, বাইরে থেকে ওই তরকারি আনা লাগবে না। অন্য কি খাবার আছে তোমাদের হোটেলে? সপ্রতিভ ওয়েটারের ত্বরিত উত্তর- স্যার মুগ ডাল আছে, খুব স্বাদ হয়েছে। ইলিশের মাথা দিয়ে রাঁধা হয়েছে। এবার আর ইলিয়াস ভাই নিজেকে সামলাতে পারলেন না, ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠলেন। কাঁদতে কাঁদতে সুর করে গেয়ে উঠলেন-
চাইনা আমি আর ইলিশ,
দাও মোরে একটুখানি বিষ
করে দেই নিজেকে এখুনি ফিনিশ।
ইলিয়াস ভাইয়ের কান্না দেখে শান্ত বালক আর ফারহান খান বুঝে নিল কিছু একটা গড়বড় আছে নিশ্চয়ই । সামনে এমন জাঁদরেল ইলিশ দেখে যেখানে শান্ত বালক আর ফারহান খালি ঢোক গিলছিল আর সেই ইলিশ সামনে নিয়ে ইলিয়াস ভাই কাঁদছেন !! নিশ্চয়ই কোন সমস্যা আছে।
শান্ত বালক পরিস্থিতি সামালে নেবার চেষ্টা করল । মনে পড়ল কালকে ইলিয়াস ভাইয়ের হাতে একটা বিশাল ইলিশ ছিল। তার বাসায় ফিরতে হয় তো রাত হয়ে গিয়ে ছিল আর রাত বিরাত ইলিশ নিয়ে চলা ফেরা করা ঠিক না । কোথায় কিসের আসর পড়ে কে জানে। জ্বীনে ভূতে ধরল না তো আবার !  ইলিয়াস ভাই টেবিলে মাথা রেখে বিলাপ করছিলেন। এমন অবস্থা হোটেলে ঢুকল কানিজ ফাতেমা ছবি (ইনি ছবি তুলতে অনেক পছন্দ করেন ও বাংলিশ অক্ষরে লেখা লিখতে পছন্দ করেন) । সকাল সকাল অফিস ছিল তাই চা না খেয়েই বের হয়ে গিয়েছিলেন। বাসষ্ট্যান্ড এ দাড়িয়ে থেকে ভাবছিলেন চা টা খেয়েই যাই তাই সামনের হোটেলে চা খেতে ঢুকলেন। এক কোনায় শান্ত বালক দের দেখে এগিয়ে গেলেন ।
আরে আPনারা Aখানে কি কRছেন ? আরে Eলিয়াS ভাই । আপনি কাদছেN কেNO ??
কি হয়েছে ?? এভাবে Bলাপ কRছেন Kনো .
কোন কথা না বলে ইলিয়াস সাহেব এরপর চাচা হোটেল থেকে না খেয়েই কিছুটা রেগে বের হয়ে আসলেন, দেখলেন আশিকুর_নূর (ইনি লিনাক্সের ডাক্তার ও প্রোগ্রামার) ভাই এদিকেই আসছে। তার হাতে একটা প্যাকেট।
আশিকুর_নূরঃ আরে ইলিয়াস ভাই দেখুন দেখুন একটা পাইরেটেড ইলিশ ধরেছি 
ইলিয়াস সাহেব মনে মনে বলছে, আমারে ছাইড়া দে ইলিশ, মানলাম তুই আসলেই এক জিনিস
এমন সময় কোথা থেকে যেন আপাদমস্তক ব্যান্ডেজ মুড়ায়ে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে পলাশ মিয়ার আগমন হইল। ইলিয়াস ভাইয়ের পিছনে পিছনে আসা ছB আপু ত মাশাল্লাহ এমন জোড়েই একখান চীৎকার দিলেন যে তার পিছনের শান্ত বালক আর ফারহান ত প-লাশকে দেখে আর কিরকম বিকট চীৎকার শুনে হঠাৎ কিছু বুঝে উঠতে না পেরে দিনে দুপুরে এক্কেবারে দুই পা উপরে তুলে একজন চিৎপটাং আর আরেকজন উপুর পটাং হয়ে গেলেন...।
নেহায়েৎ ইলিয়াস ভাইয়ের মেজাজ অতিশয় খারাপ, তাই তার যে এরকম আধি-ভৌতিক দৃশ্য দেখে ভয় খাওয়ার কথা, এইটাই তিনি মনে করতে পারলেন না। প-লাশ কাঁদাছাঁদা ল্যাপ্টানো ইলিয়াস আব্বাজানকে না চিনলে কি হবে, ইলিয়াস কিন্তু অনলী ওয়ান পিস প-লাশকে ঠিকই চিইন্না ফালাইছে...। আফটার অল এরকম ডাবমার্কা বেটে-মোটা শরীর ত আর দুনিয়াতে দুই খানা নাই। 
প-লাশ কোন মতে ইয়া লম্বা একখান দম নিয়ে ভাঙ্গা দাঁতে তোতলাতে তোতলাতে শুরু করিল,
"আ-আব্বাজান, আ-আমারে বাঁচান...। আ-আমি ইহ জ-জনমে আর ই-ই-ই-ইলিশ কা-খামু না। ই-ইমানে ক-কইতেছি কা-কাঁটা, গা-গাদা, তে-তেলা সব আ-আপনার কি-বিলাই-কুকুররে খাওয়ায়া দিমু...। এ্যা.. এ্যা... এ্যা..."
ইলিয়াস ভাইয়ের ত ধৈর্য্যের বাঁধ আগেই ভাঙছিল, এখন তা চুর চুর হয়ে হাওয়ায় মিলায়ে গেল...। এমন জোরে একখানা হুংকার ছাড়লেন যে 'আঁধা-খাপছা' (আস্ত ত আর নাই, পলাশ যেই ভীতুর আন্ডা, ভয়েই ত আঁধা-খাপছা হয়ে গেছে গা...) প-লাশ ত ভিড়মি খেয়ে পটল তুলার যোগাড় করল। কইল, আব্বাজান, ফিরিসতায় মনে লয় শিংগায় ফুঁ দিছে...। কিয়ামত বুঝি আইয়াই পড়ল, অ আ-আব্বাজান আমারে বা-বাচাঁন! (বলাই বাহুল্য কিয়ামতের ভয়ে প-লাশ তোতলাইতে ভুইল্লাই গেঁছে! )
আশিকুর নূর এতোক্ষণ বেশ উৎসাহ নিয়ে অবজার্ভ করছিল। প্রোগ্রামার বলে কথা, ভালো করে না বুঝে-সুঝে আবার কোন কাজ সে করে না।  বলল কাহিনী কি পলাশ আঙ্কেল? মমি সাঁজিয়াছ কেন? কোন প্রোগ্রাম আছে বুঝি? কিন্তু তুমি মমি সাজলে ত একদম ভালো হবে না, লোক-জন ত হাসার বদলে ভয় খেয়ে যাবে...। তোমার ভাড়ামী যে একদম পঁচা ডিম খেয়ে বসবে...।
যেই প-লাশ জিন্দেগীতেও রাগে বলে কেউ কুনকালে শুনে নাই (সে যেই ভীতু, নিজের রাগ নিজেই হজম করে ফেলে, ঝাড়লে শেষে প্যাদানী খায় না কি খায়...! সাঁধে কি আর এই শরীর??? )
সেই এইবার গেল চেতে... "ফাজিল, ম্যানহোলে গণধোলাই খেয়ে আমার জান-বুদ্ধি সব যায় যায়.. আর তুই আমার লগে মশকরা করিস? কে রে তুই?" (রাগে-শোকে পলাশের তোতলামি ফুল ভালো 
... আর ভুলো মনা রোগখানি ফুল ভলিয়মে....)
ইলিয়াস ভাইয়ের হঠাৎ একটু আগ্রহ মতোন হল...। বলল, "তুই মাইর খাইলি ক্যান?"
হঠাত হাউ-মাউ-খাউ করে কেন্দে পলাশ চিল্লায় উঠল, " আব্বাজান, তুমারে বাঁচাইতে গিয়েই ত আমার এই হাল। ম্যানহোলে কার ঘাড়ের উপর পড়ছিলাম কে জানে। দাড়ি দেইখা আমি ভাবলাম বুঝি তুমি। কানে কানে কইলাম, আব্বাজান, কুন টেনশন নিয়েন না, আমি সামলাইতেছি। কিন্তু ওই বুইড়া ঠিক আপনের মতো হুংকার ছাইরা আমার ঘাড় ধইরা বইল্ল, হালা চুরের সাগরদ, একে ত আমার পিট ফাটাইছস... আবার কিনা বিতলামী... আজ তোর ছাড়ন নাই... ... ... ..."
কে না জানে পলাশ একবার স্টার্ট নিতে পারলে ব্রেক খুজে পায় না...। ইলিয়াস ভাইয়ের তখন চুল ছিড়তে বাকি...!  কিন্তু চুল ছেড়ার কোন উপায় কি আছে? পলাশের মত ছেলে থাকলে মাথায় চুল থাকে না, থাকে চুল বাঁচানোর চিন্তা। যেদিন থেকে পলাশ তাকে আব্বাজান বলে ডাকতে শুরু করেছে সেদিন থেকেই ইলিয়াস ভাইয়ের মাথার চুল আশংকাজনক হারে কমতে শুরু করেছে। সাধে কি আর বলে, বিপদ খালি হাতে আসে না। পলাশের মত এমন মূর্তিমান বিপদও খালি হতে আসে নাই।
- "আব্বাজান - গো!!!!" পলাশ তার ধোলাই খাবার কাহিনী বলে চলে। "কি আর কমু দুঃখের কথা। আমি একবার কইরা আব্বাজান বইলা ডাক দেই। আর বুইড়া লোকটা আমার পিঠে বিশ মন ওজনের কিল মারতে থাকে। পিঠে এক একটা কিল পরে আর আমার চোখ মুখ আন্ধার হইয়া আসে। বুড়া হাড়ে এমন শক্তি, আগে জানতাম না।"
- "আপনি চুপচাপ মার খেয়ে গেলেন? আপনার কি সিস্টেম হ্যাং করছিল নাকি? নাকি আপনার ব্রেইন কমান্ড নিতে পারতেছিল না?" আশিক নুর অবাক হয়ে জানতে চায়?
- "পলাশের ব্রেইন? সেইটা কোন কালে ছিল নাকি?" ইলিয়াস ভাই তার মাথায় হাত বোলাতে শুরু করেন। পলাশ তখনও বলেই চলেছে।
- " আব্বাজান - গো!!!! সেকি মাইর গো। ছোটকালে হোমিওপ্যাথি মুন্সির হোমিওপ্যাথির দোকান থেকে চিনির গুলি চুরি করার অপরাধেও এমন মাইর খাই নাই। হোমিওপ্যাথি মুন্সির উপর তো শোধ নিছিলাম। এইবার শোধ নিমু ক্যামনে? একবার খালি বুইড়ারে সামনে পাইয়া লই..........."
- " তুমি তাk চিনবে কিভাবে?" ছবি আপু অবাক হয়ে জানতে চায়।
- "আমাকে বোকা পাইছেন নি? অন্ধকারে আমি তার মাথায় হাত দিয়া দেখছি। তার মাথায় চুল কম।" পলাশ সিনেমার ভিলেনের মত শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে হাসতে থাকে। আর ইলিয়াস ভাই রাগ ভুলে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে কেমন করুন চোখে পলাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে, "ব্যাটা আমারে না আবার সন্দেহ করে  "
ঠিক তখনই সেখানে মরুভূমির জলদস্যু (ইনি অসাধারণ গণিত জানে ও দুনিয়ার যত অজানা জিনিষ আছে তা সবি এনার জানা) ভাই এসে হাজির। সাথে রয়েছে বুদ্ধিমান আসাদ ওরফে তার-ছেড়া-কাউয়াভাই ( ইনি অসাধারণ ভ্রমনের কাহিনী লিখে থাকেন ও রম্য লেখক )।
দস্যু : ইলিয়াস ভাই, ভেষজ তথ্য খুঁজতে গিয়া জব্বর একখান গাছের খোঁজ পাইছি। আপনার লাগি হেই গাছের তেল লইয়া আইলাম। এক্কেবারে গ্যারান্টি, সাত দিনের মইধ্যে মাথা ভরা চুল গজাবে।
কাউয়া : এর লগে ফ্রি একখান উপন্যাস লন। নিজে লিখছি আমি। মাথায় তেল লাগনোর সময় পইড়েন এইডা, সময় ভালা কাটবো। ওহ মিয়া ভাই, বিদেশ ভ্রমনের কাহিনীটাও কিন্তুক বোনাস হিসাবে পিছনে দিয়া দিছি।
ইলিয়াস ভাই : তা বইটা তাঁর দিয়ে বাঁধা কেন? তাও আবার ছেড়া জোড়া-তালি দেয়া পুরাতন তাঁর।
কাউয়া : ভাইজান এইডা না হয় পরে কমুনে। আচ্ছা এইডা আপনার জন্যে ধাঁধা।
পলাশ : আরে, জব্বর কাম করছেন আপনারা। তা দস্যু মিয়া এই তেলের রেসিপিডা দেন দেহি। জাইন্না রাখি, বয়স বাড়লে কামে লাগবো।
দস্যু : হুরকা আর বালুসী গাছের পাতা আনবেন। এই পাতা আবার শিপলুর বাড়িত ছাড়া কোত্থাও পাইবেন না। আগে থেইক্কা কইয়া রাহি, ঐ ব্যাটা কিন্তুক মহা ছ্যাঁচড়। পাতা দিবার চায় না। আজব তথ্য খুঁজতে গিয়া কুন দেশ থেইক্কা নাকি আনছে। শেষ-মেষ আইজ ভোর বেলা সাইদুল চুরি কইরা আইনা দিছে। তো পাতাগুলান তিন ঘন্টা ভিজাইয়া লগে গবরে পোঁকা মিশাইবেন। তারপর শামুকের গুড়া আর বিচুটি পাতা দিয়া ঘন্টা খানেক জ্বালানোর পর এতে এক চামচ তেল মিশাইবেন। তেলটা কিন্তুক যেই সেই তেল হইলে হইবো না। হইতে হইবো শুধুমাত্র ইলিশের তেল, হ্যা ইলিশের প্যাটের তেল। তারপর ছেইক্কা যা বাইর হইবো হেইডাই....... 
অলৌকিক এই তেলের বর্ননা শুনে ইলিয়াস ভাইয়ের অবস্থা কাহিল। উনার এক্ষুণি দৌড়ে পালাতে ইচ্ছা করছে কিন্তু উপায় নাই। এককোণে পড়ে থাকা বেশ মোটা দড়িটার দিকে তার চোখটি গিয়ে পড়লো। হাতের কাছে দড়ি থাকলেও তা গলা পর্যন্ত টেনে আনার উপায় নাই।
ইলিয়াস ভাই মুচকি একটা হাসি দিয়ে একসাথে হাত দুইটি এগিয়ে দিলেন। বুঝে নিলেন তার উপহার। হাসির মধ্যেও শুকনো মুখটা আরও শুকিয়ে গেল।
এদিকে পলাশ ভাইয়ের দাঁতগুলো বের হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। চোখটি গিয়ে পড়লো সোজা ইলিয়াস ভাইয়ের মাথার উপর।
পলাশ : আপনার টাকে তেল কিন্তুক আমি লাগামু কইলাম হ্যা।
ইলিয়াস ভাইয়ের মুখটা এবার এক্কেবারে শুকিয়ে গেল। বুকের মধ্যে চিড়িৎ করে উঠলো। মনে মনে বললেন, এই ব্যাটা টাকে হাত দিলেতো সর্বনাশ।
ছB : ঠিকই তো। কামডা পলাশরেই দিয়া হোক। ওর হাতে নাকি জাদু আছে। দেহি মরুভূমিতে গাছ জন্মায় ক্যামনে?

এর এক সপ্তাহ পরের ঘটনা

ইলিয়াস ভাই এখন সুন্দর বনের গহীন জঙ্গলে। কোন রকমে তিনি পালিয়ে এখানে এসেছেন। তিনি ঠিক করেছেন তিনি আর লোকালয়ে থাকবেন না। পলাশের মত শার্ট প্যান্ট পরা পাইরেটেড বান্দরের সাথে থাকার চেয়ে সুন্দরবনের জেনুইন বান্দরের সাথে গাছে থাকা অনেক ভাল।  এখন থেকে তিনি সুন্দর বনের অধিবাসী। সুন্দর বনই এখন তার ঘর। তিনি আর লোকালয়ে ফিরবে না। টারজান যদি বনে জঙ্গলে থাতে পারে তিনি পারবেন না কেনো?? টারজানের মত বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াবেন,  বনের ফলমূল খাবেন, আস্ত বন মরগ ধরে শিকে লাগিয়ে কাবাব বানিয়ে খাবেন। এইসব ভাবতে ভাবতে তারমধ্যে একটা রমাঞ্চকতা চলে আসলো। নিজের অজান্তেই তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন আর মুচকি মুচকি হাসলেন।
যাক এতদিন পরে তাহলে পলাশের হাত থেকে বাঁচা গেল
দেখতে দেখতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসলো। ইলিয়াস ভাই একা একা বনের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত। পেট ক্ষুধায় চো চো করছে। এখনো কোন খাওয়ার উপযোগী ফল চোখে পড়লো না। আর কোন বন মোরগ তো দূরের কথা মোরগের একটা পাখনাও খুজে পে্লেন না।
তার ওপর আবার রাত হয়ে আসছে, যে কোন সময় বাঘ ভাল্লুকের খপ্পরে পরতে পারেন। এবার কোন গাছের উপরে আশ্রয় নেওয়া দরকার। এতক্ষণে তিনি আবিষ্কার করলেন, তিনি তো গাছেই চড়তে পারেন না।
তিনি মনে মনে নিজেকে শান্তনা দিতে লাগলেন, " এতো খোঁজাখুজি পরেও যখন একটা বন মোরগের টিকিও খুজে পেলাম না, বাঘ তাহলে তো আরো নাই।
বিধিবাম, ঠিক ঐ সময়ই কি যেনো একটা খুব নিকটেই গর্জন করে উঠলো। ইলিয়াস ভাই এবার অনেক ভয় পেলেন, বুকটা তার দুরু দুরু করছে।

তার মধ্যে আবার জোয়ারের পানি বনের ভেতর ঢুকতে শুরু করেছে। তিনি এখন হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন।
রাগে ক্ষোভে তার নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছে। কিন্তু এটাও সম্ভব না, কারণ উনার মাথায় কোন চুল একেবারেই কম। এখন হা হুতাস করে কোন লাভ হবে না । জঙ্গলে আসাই ভুল হয়েছে । এদিকে তিনি আর পানিতেও দাড়িয়ে থাকতে পারছেন না  । পানিতে ডোবার চেয়ে বনে যাওয়াই ভাল। ইলিয়াস ভাই আল্লাহর নাম নিতে নিতে কম্পমান অবস্থায় পানি থেকে উঠে আসলেন।। যেদিক থেকে বাঘের ডাক শুনেছিলেন তার উলাটা দিকে হাটা ধরলেন । হেঁটে হেঁটে বেশ কিছু দূরে একটা গাছ দেখতে পেলেন , উপর থেকে শিকড় ঝুলছে। চেষ্টা করলে বাদরের মত বেয়ে হয়ত উঠে যেতে পারবেন যাই হোক অনেক কষ্টের পর তিনি গাছের কাছে পৌঁছাতে পারলেন।
উহ মাগু !!! 
কথায় আছে না... যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত পোহায়  ।  ইলিয়াস ভাই কথাটা মর্মে মর্মে বুঝতে পারলেন যখন তিনি গাছটা চক্কর দিয়ে একপাশ থেকে অন্য পাশে এসে একেবারে একটা বিশাল এঁদো বাঘ আবিস্কার করলেন । তিনি একেবারে পাত্থরের মত জায়গায় জমে গেলেন   !!
তিনি থমকে কয়েক সেকেন্ড ভয়ে ভয়ে দাড়িয়ে রইলেন । এই বুঝি ছিল কপালে। হায় আমাকে খেয়ে ফেল্লে এখন ডেডলক কার পিছে লাগবে !! দাতো মুখ খিচে তিনি প্রস্তুত হয়ে গেলেন বাঘের খাবার হয়ে যেতে। এই বুঝি ঝাপিয়ে পড়ল ।
কিন্তু বাঘের মধ্যে তেমন কোন চাঞ্চল্য আসলো না !! ইলিয়াস ভাই কিছুক্ষণ দম আটকে দাড়িয়ে রইলেন । কিন্তু বাঘ তো আছে বাঘের মতই। চুপচাপ ইলিয়াস ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। ইলিয়াস ভাই আরও কিছুক্ষণ দাড়িয়ে রইলেন।
বাঘ কিছুই করছে না। ইলিয়াস ভাইয়ের মনে হল বাঘটা তাকে দেখতেই পায়নি । হতে পারে বাঘটা অন্ধ। তাই তাকে কিছুই করছে না 
আই যাহ  !!!    তা হয় কি করে । মনে মনে ভাবলেন ইলিয়াস ভাই একটু নড়ে দেখি বাঘ কিছু করে নাকি । ইলিয়াস ভাই ধিরে ধিরে হাত উপরে  উঠালেন আর নামালেন।  বাঘের মধ্যে তাও কোন প্রতিক্রিয়া  নাই । ইলিয়াস ভাইকে তাচ্ছিল্ল করে খালি একটা কান নাড়াল।
ইলিয়াস ভাই বেপারটা বুঝতে পারলেন না। যেখানে তিনি শুনেছেন বাঘ লোকালয়ে গিয়ে মানুষ মেরে আসছে সেখানে  তার মত দশাসই এক লোক একটা জল জ্যান্ত বাঘের সামনে দাড়িয়ে আছে সেখানে বাঘটা কিছুই করছে না। উলটা তাকে দেখিয়ে কান নাড়াচ্ছে  ।
ইলিয়াস ভাই এবার গলা খাখারি  দিলেন । বাঘটা খানিক নড়ল চড়ল। অন্য পাশ ফিরে আরাম করে শুয়ে পরলো । যেন বলতে চাইছে "তুমার উপ্রে হামার কুন ইন্টারেস্ট নাইকা" তুমি ফুটো !!!
ইলিয়াস ভাই তাজ্জুব হয়ে গেলেন  । স্বপ্নে দেখছেন নাকি ।
যাই হোক । আর তো এই বাঘের তাচ্ছিল্য মেনে নেয়া যায় না। কিছু একটা করা উচিৎ। হাজার হলেও তিনি প্রজন্মের ফোরামিক। জীবনের বেশি ভাগ সময় কেটেছে পান খেয়ে দাত লাল করার কাজে।  তাইবলে তারও অধিকার আছে কিছু । তিনিও মানুষ । বাঘের আদর্শ খাবার। এই রকম তাচ্ছিল্য মেনে নেয়া যায় না  কত্তবড় বেয়াদব এই বাঘ । আদব লেহাজ কিছুই জানে না। এ্য্য !!! থাপড়ে গালের ৩২ টা দাত ফেলে দিতে মন চাইছে। 
বাঘ তো আর পলাশ না বা তাহমিদ না যে থাপ্রাবেন । নিজেকে কনট্রোল করলেন ইলিয়াস ভাই। অতি কষ্টে রাগ সংবরণ করে ইলিয়াস ভাই ভাবতে লাগ্লেন কি করে বাঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় । ইচ্ছা করছে গিয়ে ফোরামের মত কিছু "কাতুকুতু" দিয়ে দেই ।

নাকি এই বেটাকে মরুভূমির জলদস্যুর মত দাত মুখ খেচে একটা ভেংগচি দেব   
জেই ভয়ঙ্গর প্রোকাইল পিক দিয়ে রেখেছে  যে ইলিয়াস ভাই যত বার ফোরামে মরুভূমির জলদস্যুর টপিক পড়তে যায় ততবার ভিম্রি খান।
উম্ম ম, না !! একটু কড়া হয়ে যায়  তবে । তবে কি হাংরিকোডারের[ঝানু কোডার] নাম নিব নাকি । মাইডিয়ার কারটুন কারটুন চেহারার প্রপিক দিয়ে রেখেছে দেখলেই ইলিয়াস ভাই এক চোট হেসে নেন সব সময়  ।
নাহ !!! বাঘ তো আর বিলাই না যে নেট পাবে । সে কি আর ফোরামিং করে নাকি । বাদ । অন্য কিছু চিন্তা করি।
এবার ইলিয়াস ভাইয়ের ডিসিসন নিয়ে নিলেন ডাকই দেবেন ।  ডেকে জিজ্ঞেস করি । কিন্তু কি বলে ডাকব? আঙ্কেল , নাকি বাঘ চাচ্চু । ধুর !! চাচ্চু আঙ্কেল তো ছোট পোলাপান মানে তাহমিদরা ডাকবে ।  আমি তো আঙ্কেল ডাকতে পারিনা । এই যে , বাঘ ভাইয়া ? নাহ, বাঘ কি ইয়ার বন্ধু লাগে নাকি ?
তাইলে কি বলে ডাকা যায়   
যাই থাকে কপালে এমন ভাব নিয়ে ইলিয়াস ভাই ভাবলেন ভাইসাবই ডাকবেন ।
কিন্তু খালিই ভাইসাব ?  আগে পিছে কিছু নাই ? 
যেমন হ্যালো  , এক্সকিউজ মি ...টাইপ কিছু ?
নাহ , আমি শহর থেকে এসেছি , হ্যালো ডাকার চেয়ে অন্য কিছুই ডাকা বেটার হবে ।
আজ কালকের পোলাপাইন কত কিছু ডাকে । wazzup!! dude !!
ইলিয়াস ভাই ভাবলেন wazzup ই বলবেন । তবে বলায় একটা ইস্টাইল আছে না ? হিপ হপ না কি উল্লুক কত গুলা আছে  হাত সামনে এনে প্রতি কথায় কথায় নাচিয়ে নাচিয়ে বলে সেভাবেই বলবেন wazzup বাঘ ভাইসাব , আমাকে চিনতে পেরেছেন ? আমি একজন নাদান ফোরামিক ।
কিন্তু বগুড়ার ভুল সর্বশ লেখকের মত তিনিও ইংলিস এ ভুল সর্বশ ! ইংলিস বলা ঠিক হবে না । এর চে আরবিতে জিজ্ঞেস করি । কাইফা আলুকা  , বাঘ বাইছাবের সইল ডা ভালা  ।

ইলিয়াস ভাই যখন ডাকতে যাচ্ছিলেন তখন তাকে প্রবল ঝাকুনি দিয়ে ঘুম থেকে তোলা হল । নিজের বিছানায় ইলিয়াস ভাই চোখ কচলে উঠে বসে দেখলেন পলাশ মাহমুদ ৩২ টা দাঁতের সব কয়টা বের করে তাকে ভুমিকম্পের মতো ডাকছে । তার হাতে মস্ত এক রুপালি ইলিশ ।
আব্বাজান আর কত ঘুমাইবেন । আমি বাজার থেইকা একখান ইলিশ মাছ লইয়া আনছি . পেট ডা ডিমে গিজ গিজ করতাসে ।   

ইলিয়াস ভাই স্বপ্নে ইলিসের তাড়া খেয়ে ঘুম থেকে উঠলেন । এখন ও তার নাকের ডগায় একটা মস্ত ইলিশ ঝুলছে । তার কি ইলিশ থেকে কোন নিস্তার নাই ?
পলাশঃ আপনি তো আমার ওপরে অনেক রাগ গত সপ্তাহে আপনার মাছ খেয়ে ফেলার জন্য। তাই আপনার জন্য এটা নিয়ে আসলাম।
ইলিয়াসঃ তুমি নিজের টাকা দিয়ে এতো বড় মাছ কিনেছ !?
পলাশঃ ইয়ে মানে না ! আসলে হৃদয়১ (ইনি থাকেন আমাদের প্রতিবেশী দেশে, খুবই মিশুক ও রসাল ব্যাক্তি) দাদা ভারত হতে বাংলাদেশে এসেছেন আপনার হাতে রান্না করা পদ্মার ডিম ওয়ালা শর্ষে ইলিশ খাবার জন্য। মাছ কেনার টাকা তিনিই দিয়েছেন। এখন তিনি আপনার ড্রয়িং রুমে অবস্থান করছেন।
ইলিয়াসঃ ওহ, তাই নাকি !?
এক সপ্তাহে ইলিশের ওপরে রাগ ইলিয়াস সাহেবের  অনেক কমে গেছে। মনে মনে ভাবছেন কিভাবে সুস্বাদু ইলিশ রান্না করা যায়। ইউ টিউবে সার্চ দেবেন কিনা তা চিন্তা করছে ! এরি মধ্যে হৃদয় তার ঘরে এসে গেলেন।
হৃদয়ঃ ভাইজান কেমন আছেন ?
ইলিয়াসঃ কোন রকম আছি !! সকালে পলাশ এর মুখ দেখে দিন শুরু হলো এখন পুরা দিন কেমন যায় তা নিয়ে টেনশনে আছি।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং
ইলিয়াসঃ হ্যালো কে ?
জাবেদ ভুঁইয়াঃ স্যার আমি জাবেদ[ ইনি ডজন খানিক বাংলা ফোরামের মালিক]।
ইলিয়াসঃ ফোরাম জাবেদ ভুঁইয়া নাকি ?
জাবেদ ভুঁইয়াঃ জি। স্যার। একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবার জন্য ফোন করে ছিলাম
ইলিয়াসঃ জলদি বলো, আমার টাইম নাই।
জাবেদ ভুঁইয়াঃ স্যার, আপনি জেনে খুশি হবেন যে, বাংলাদেশের বাংলা ফোরামের ইতিহাসে প্রথম ইলিশ মাছ নিয়ে একটা ফোরাম খুলেছি আমি। যদি আপনি এর সদস্য হতেন তবে আপনারে মডু বানিয়ে দিতাম।
ইলিয়াসঃ ইলিশ মাছ রান্না নিয়ে কিছু আছে আপনার ফোরামে ?
জাবেদ ভুঁইয়াঃ গুড আইডিয়া। এখনি ইলিশ মাছ রান্না নিয়ে আলাদা একটা বিভাগ খুলছি ফোরামে। বাই।
হৃদয়ঃ কে ফোন করে ছিল ?
ইলিয়াসঃ ফোরাম জাবেদ ।
হৃদয়ঃ ওহ । নতুন কোন ফোরাম খুলেছে নাকি ? কি ইঞ্জিন ? ফ্রী ডোমেইন নাকি পেইড ?
ইলিয়াসঃ আরে বাদ দেন। এখন বলেন এতো বড়ো মাছ আমরা কিভাবে খাব ?
হৃদয়ঃ আরে খাওয়া যাবে। কোন সমস্যা নাই।

সকালের নাস্তাতে বিক্রমপুরের মিষ্টি খেয়ে হৃদয় দাদা খুশিতে গদ গদ।

সকাল ১০ ঘটিকা

ইলিয়াস সাহেব পলাশ কে পাঠালেন রান্নার উপকরন কেনার জন্য সাথে হৃদয় দাদা সাথে গেলেন এলাকা দেখার জন্য। আর ইলিয়াস বসলেন ইউ-টিউবে ইলিশ মাছ রান্না শেখার জন্য। দুপুরে রান্না করা হবে ঐতিহাসিক ইলিশ মাছ।
ইলিয়াস ভাইয়ের চোখ চক চক করে উঠল ইলিশের দারুন সব রেসিপি দেখে। কি যে সব নাম, দেখেই গত ইলিশের ক্ষোভ ভুলে লাফিয়ে চেয়ারে পা তুলে জাকিয়ে বসে গেলেন তিনি। মুজ্জি মিয়ার "আম্রিকানা হিলিশ পাই উইথ গুয়াভা জেলী এন্ড চিল্লি মসল্লা" নামের একটা গালভরা রেসিপি দেখে উত্তেজিত হয়ে সাথে সাথেই ক্লিক................।
উশসিরে, ইলিশের একটা ইটালিয়ান থ্রী স্টার হোটেলই দিয়ে দিবেন নাকি এমন সব মহৎ চিন্তায় মনটা ভরে উঠতে শুরু করল ইলিশ থুক্কু ইলিয়াস ভাইয়ের। ধুশ যা! ঝিপির ইন্টারনেট ক্যান যে এতো স্লো... এমন টান টান উত্তেজনার সময়ে হঠাৎ কারেন্টটা চলেই গেল ...ঠুশ!
রাগে ইলিয়াস ভা্ই যেই না মনিটরটা মাথার উপর তুললেন, তখনই একটা খিল খিল হাসি দিয়ে ইব্রাহীম এসে বলল,
"কি কল ইলিশ মামা? তিভিতা ত ভেন্দে দাবে দে।"
ইব্রাহীমের পিছনে তার আম্মুকে দেখে যার পরনাই ইলিয়াস ভাইয়ের মেজাজে ঠান্ডা পানি পড়ল। যাক বাবা, এবারের মতো বোধহয় ইলিশ রান্নার একটা গতি হল। 
মুনঃ "ইলিয়াস ভা্ই, পলায়ুনের ফোন পেয়ে আর একটুও দেরী করি নাই। ইব্রাহীমের সর্ষে বালিশ টা এমনিই ২/৩ সপ্তাহ ধরে রেগুলার রোদে দিয়েছি, ওই সর্ষে সমেত হাজির হয়ে গেলাম।"
এটুকু শুনেই দমে গেল ইলিয়াস ভাই। বালিশের পুরান সর্ষে...। ইয়াক!
মুনঃ "ইয়ে ভাইয়া, তোমার কাছে ভাংতি হবে। বাইরে না রিকসা দাড় করিয়ে এসেছি।"

আবার মেজাজ বিলা হয়ে গেল ইলিয়াস ভাইয়ের। যত্তোসব কিপটার কিপটা!  পলাশ রে পায়া লই, খবরই যদি দিবে, ত এই মহা কিপটা রানীরেই খবর দিতে হইল।

ইলিয়াসঃ বইনরে, তাই বলে ২ বছরের পুরান বালিশের সর্ষে দিয়ে ইলিশ রানবা?

মুনঃ ভাইয়া কি যে বলেন। রেগুলার রোদ্রে দেই। ইলিশের যা দাম, তাই সর্ষে ইলিশ খাওয়াই হয় না। তাই এগুলার গতি করতে পারছিলাম না। তাছাড়া, এইডা ২ বছরের পুরান হবে কেন? এটায় ত আমিও শুইছি গুড়াবেলায়।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২২-০৪-২০১৩ ১৯:৪৫)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

ইলিয়াসঃ নাহ! আজকের মতো এটা থাক। সামনের বছরের জন্য এটা রেখে দাও তখন ইলিশের দাম আরো বাড়বে। আজকে  পলাশ ও হৃদয় যেই ইলিশ এনেছে সেটাই রাঁধি।
এবার মুন ইলিয়াস ভাইকে বললো কিভাবে স্পাইসি শর্ষে ইলিশ রান্না করতে হয় । এদিকে  পলাশ ও হৃদয় বাজার থেকে অনান্য মালামাল নিয়ে হাজির। শুরু হলো সেই ঐতিহাসিক রান্না। নিজ হাতে রান্না করছে ইলিয়াস। আর সাহায্যকারী কাম দর্শক হিসেবে আছে মুন, পলাশ ও হৃদয়। রান্নার ঘ্রাণ পুরা এলাকাতে ছড়িয়ে পরলো নিমেষেই। কিন্তু ইলিয়াসের ইলিশ খাবার দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ল না।

ইলিয়াস ভাইয়ের বাড়ির পাশ দিয়ে দলবল নিয়ে যাচ্ছিল ডাকু কালুরা। ঘ্রাণে পাগল হয়ে ইলিয়াসের বাড়ির দরজায় নক করলো ডাকু কালুরা । অন্য দিকে রান্না শেষ কড়াই থেকে ডিশে ইলিশ এর পিস গুলো নামাচ্ছেন মুন। দরজায় নক শুনে দরজরা খুলে হা হয়ে গেল পলাশ ghusi

পলাশঃ জ্বী। জনাব আমি কি সাহায্য করতে পারি ?
ডাকু কালুরাঃ বাসায় কি ইলিশ রান্না করা হচ্ছে ?
পলাশঃ জ্বী। হুজুর।
ডাকু কালুরাঃ অনেক দিন এমন ঘ্রাণ ওয়ালা ইলিশ মাছের রান্না খাই নাই। তাই আজ ব্যাংক ডাকাতির প্লান বাদ। আজ আমি তোর বাসায় ইলিশ ডাকাতি করবো। কোন সমস্যা ?
পলাশঃ জ্বী না। কোন সমস্যা নাই। নিজের বাড়ি মনে করে ডাকাতি করুন !

ইলিশ মাছ ডাকাতির পরে। বাসায় সবার মাথায় হাত। এটা কি হলো !!

ইলিয়াসঃ পলাশের বাচ্চা দরজা খোলার আগে দেখবি না, কে ডাকছে ? আজ তোরে পিটিয়ে লাশ বানিয়ে দেব।
পলাশঃ সরি গুরু মাফ করে দেন এমনটা আর কোন দিন হবে না।
ইলিয়াসঃ দূরে গিয়ে মর আর কোন দিন আমার সামনে আসবি না।
ভগ্ন মনে ঢাকার পথে রওয়া হলেন মুন, পলাশ ও হৃদয়।

ইলিয়াস ভাই মনে পাথর রেখে প্রজন্মের টপিক খুললেন "আমার বাসা থেকে ইলিশ ডাকাতি হয়ে গেল " । ৩০ মিনিটে টপিকে লাইক পরলো ৫৭ টি । সাথে নীচের মতো কিছু কমেন্টও পরলো
"একা একা নিজেরা খেতে গেলে এমনি হয়"

কমেন্ট গুলো ও লাইক গুলো দেখে রাগে কাঁপছেন ইলিয়াস ভাই। আর মনে মনে ভাবছেন, আগামী এক মাস আর ফোরামে ঢুকবেন না।

=====
অন্য দিকে ব্রিটিশ খুফিয়া এজেন্সি MI-6 এর বাংলাদেশ প্রধান Jemsbond ডাকাতির ঘটনায় অনেক মর্মাহত হলেন। তিনি ইচ্ছা করলে ডাকাত কে ধরতে পারেন কিন্তু ইলিশ এখন ডাকাতের পেটে তাই তাকে ধরে লাভ নাই। তার কিছু এজেন্ট কে বললেন ফোরাম পিতা হাঙ্গরিকোডারও  ছবি-Chhobi কে ধরে নিয়ে আসার জন্য।

স্থানঃ ইন্টারোগেশন রুম

Jemsbond : আপনারা ভয় পাবেন না। এক বিশেষ উদ্দেশ্য আপনাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।  কোডার ভাই প্রথমেই আপনাকে প্রশ্ন, প্রজন্মের এই বছরের মিটআপ কবে হতে পারে ?
মাথা চুলকিয়ে হাঙ্গরিকোডার বললেন, এই ২০২১ সালের আগেই হবার একটা চান্স আছে!
ছবি-Chhobi: ই-আল্লাহ ! এটা কি বললা !
হাঙ্গরিকোডারঃ ইয়ে আপা। বউ ও বস দুই দিকেই আমি অনেক চাপে আছি। এতো অ্যারেঞ্জমেন্ট করার সময় নাই।
Jemsbond : অ্যারেঞ্জমেন্ট করা নিয়ে কোন চিন্তা নাই। আমিই সব করবো। কিন্তু লোকেশন কোথায় করা যায় ?
ছবি-Chhobi: ৩২ তলাত ওপরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাদে করা যেতে পারে। পারমিশন নিয়ে চিন্তা করবেন না। তার ব্যবস্থা আমি করে দেব।
হাঙ্গরিকোডারঃ Jemsbond ভাই কবে, কখন ও কি খাবারের ব্যবস্থা করবেন ?
Jemsbond: যেহেতু আয়োজন আমি করতেছি তাই কবে, কখন ও কি খাবার তা পুরাই সারপ্রাইজ। ফোরামের টপ ১০০ জনকে ধরে নিয়ে আসবো। তারপরে হবে মিটআপ। পুরাই সারপ্রাইজ । হু হা হা হা হা।
Jemsbond: আর আপনারা কিন্তু কাউকে বলবে না যে আমি MI-6 আছি।

===
দিনঃ কোন এক বাংলা নববর্ষের দিন
সময় কালঃ সবে মাত্র সূর্য্য পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠছে

দৃশ্য-১: সবে মাত্র ফরজের নামায শেষ করে মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে। আজ তার সকাল সকাল ক্ষিদা লেগেছে। তাই বাসার পথে পা বাড়ালেন তিনি। । কিন্তু কিছু দূর এগুতেই তার মাথা ওপরে একটা এক চপার(হেলিকপ্টার) বার দুয়েক চক্কর দিয়ে মাঠে  নেমে আসলো। কিছু MI-6 এজেন্ট চপার থেকে নেমে ইলিয়াস ভাইকে ঘিরে ধরলো। তারা ইলিয়াস ভাইকে কোন প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে কালো কাপড় দিয়ে চোখ ঢেকে দিল ও চপারে তুলে অজানা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেল।

দৃশ্য-২: মেহেদী৮৩ পুরা রাত ধরে কোডিং করেছেন। এখন সকাল হয়ে গেছে দেখে রাত খারাব নিয়ে যেই বসতে যাবেন তখনি দরজায় কলিংবেল বেজে উঠলো।
মেহেদী৮৩ মনে মনে বললো, দূর রাতের খাবার টাও পাবলিক টাইম মতো খেতে দেবে না  angry
কিন্তু দরজা খোলার সাথে সাথে তার চোখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল এজেন্টরা।

দৃশ্য-৩: দিন দিন ওজন বেরে যাচ্ছে দেখে নববর্ষের ভোরেই মর্নিং ওয়াক করতে বের হয়েছেন  Jol Kona ।কিছু দূর যাবার পরে তার মাথার ওপরেও একটা চপার ঘুরতে দেখলেন। তারপর সব অন্ধকার।

দৃশ্য-৪: শান্ত বালক যিনি ফোরামে সর্বপ্রথম হাজার সম্মাননা পেয়েছিলেন। তিনি নদীর বসে বসে ভাবছেন। আহ! আগে কত সুন্দর দিন ছিল। দিন রাত প্রজন্ম ফোরাম মাতিয়ে রাখতাম আমি। কিন্তু আজ নববর্ষের দিন আবার সব অভিমান পিছনে রেখে আবার প্রজন্ম ফোরামে ফিরবো। ঠিক তখন  তার মাথার ওপরেও একটা চপার ঘুরতে দেখলেন। তারপর এনারো সব অন্ধকার।
.................................
.................................
.................................
দৃশ্য-১০০: ছুটির দিন দেখে পুরা রাত মুভি দেখার পরে এখন চিতপটাং হয়ে ঘুমাচ্ছেন দ্যা ডেডলক। এজেন্টরা তাকে চাদরে বেধে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে গেল চপার করে।


স্থানঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩২ তলার ওপরে
সময়ঃ সকাল ৮ ঘটিকা

১০০ জন প্রজন্ম ফোরামের সদস্য এই সারপ্রাইজ মিট আপে হতভম্ব।  স্টেজে দাঁড়িয়ে আছেন ফোরামে পিতা হাঙ্গরিকোডার।

হাঙ্গরিকোডারঃ ভাই সকল, সবার কাছে আমি আন্তরিক ক্ষমা চাচ্ছি এই ভাবে এখানে নিয়ে আসার জন্য। আমাদের মধ্যে একজন আছেন যিনি MI-6 এ আছেন। তিনিই এই সবের আয়োজন করেছেন। মিট আপ অনেক দিন ধরে হবে হবে বলেও হচ্ছিল না কিন্তু আজ হলো। তাই সেই সদস্যকে প্রজন্ম পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর গত দুই বছর ধরে ফোরাম ইলিশ ইলিশ অনেক প্যাঁচাল শুনিছি এবং ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ না খাবার হতাশার কথা শুনছি। কিন্তু আজ সেই অপেক্ষার পালা শেষ আজ আমরা পান্তা ইলিশ দিয়েই নববর্ষের ব্রেকফাস্ট করবো। আর ইলিয়াস ভাইয়ের জন্য রয়েছে  আলাদা একটা আস্ত ইলিশ রোস্ট।  বুফে পান্তা ইলিশ খাবার জন্য একেএকে লাইন ধরুন।

সবাই পান্তা ইলিশ খাবার প্লেটে নিয়ে কাবার জন্য রেডি। প্রথমে শুরু করবেন ইলিয়াস ভাই। ইলিশ মাছ মুখে দিয়েই সকালের সকল নিস্তব্ধতা কে ভেদ করে ইলিয়াস ভাইয়ের মুখ থেকে বের হয়ে আসলো , মু হা হা হা হা হা হা হা। আর সকল ফোরামিক জোরে চিৎকার করে উল্লাসে ফেটে পরলো। আজ তারা একদিনের জন্য হলেও সুখী মানুষের খাতায় তাদের নাম উঠালেন।
(সমাপ্ত)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

হোলী শিত্তো!  surprised বৈশাখী স্পেশাল কারমিনা ক্রয় অভিযান বাদ দিয়ে সারাদিন কীবোর্ডে কাটালেন নাকি?  lol
পরপর ৩ পোস্ট কিভাবে করলেন?  whats_the_matter

Calm... like a bomb.

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

ধন্যবাদ ডেডু ভাই  thumbs_up

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

ক্রেপ  ghusi ghusi ghusi ghusi

ক্যামনে ৩ ডা একসাথে লিখলেন  surprised

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (১৪-০৪-২০১৩ ২২:৪৯)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

invarbrass লিখেছেন:

বৈশাখী স্পেশাল কারমিনা ক্রয় অভিযান বাদ দিয়ে সারাদিন কীবোর্ডে কাটালেন নাকি?

পুরা তো আমি লিখি নাই। ১২ জন ফোরামিক মিলে লেখেছেন। আমি খালি দুটি পার্ট লিখেছি।

invarbrass লিখেছেন:

পরপর ৩ পোস্ট কিভাবে করলেন?

মেহেদী৮৩ এর জাদুতে big_smile ।এতো বড় লেখা এক পোস্টে দেওয়া যায় না দেখে আলাদা আলাদা করে দিলাম।

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

ফারহান খান এর[ইনি সারা দিন ব্লগিং ব্লগিং গেম খেলেন ও আজাইরা টাইপের পাবলিক] ।

তাই নাকি !  sad

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

ফারহান খান লিখেছেন:
দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

ফারহান খান এর[ইনি সারা দিন ব্লগিং ব্লগিং গেম খেলেন ও আজাইরা টাইপের পাবলিক] ।

তাই নাকি !  sad

সম্ভবত সেই সময় আপনি গেমের টপিকে একটিভ ছিলেন। আর এটা আমি লিখি নাই। যে লিখেছে তাকে ধরুন big_smile

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (১৪-০৪-২০১৩ ২৩:৫৭)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

সম্ভবত সেই সময় আপনি গেমের টপিকে একটিভ ছিলেন। আর এটা আমি লিখি নাই। যে লিখেছে তাকে ধরুন

সারা জীবনেও গেইমের টপিকে কমেন্টাইসি বলে মনে পড়ে না  sad আইচ্ছা তাইলে মেহেদী ভাই লিখসে  roll উনি প্রতিশোধ নিতে ছাড়ে নাই দেখা যায়  neutral আইজ একবার পাই লুচি আপারে urtbd তে  wink

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (১৫-০৪-২০১৩ ১৭:৩৬)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

৩টা পোস্ট একসাথে, সব এ্যডমিনদের কাজ wink

সবটাই পড়লাম। একবসাতে পড়তেই পারিনাই।
মজাই লাগল big_smile  ইলিশ মাছের সাথে দৌড়ানি থেকে; গাছেসাথে গোল গোল ঘুরতে গিয়ে বাঘের মুখোমুখি tongue
ইন্টারোগেশন রুমের পর থেকে পড়ে ৫-৭ মিনিট মনে হয় হাসতে হাসতে শেষ আমি  lol lol

১২ জন ফোরামিকে জন্য  clap clap clap clap 
বৈশাখের ইস্পিশাল পোস্ট বলে কথা big_smile  big_smile

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (১৫-০৪-২০১৩ ০২:০৭)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

কেউ কি গুনে বলতে পারবেন যে, কত জন ফোরামিকের নাম এসেছে এই প্রজন্মের মেগা উপন্যাসে ?

Jol Kona লিখেছেন:

সবটাই পড়লাম।

ধন্যবাদ। এতো কষ্ট করে বড় লেখা পড়ার জন্য।  ।

১৩

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

যাক, শেষ পর্যন্ত ইলিশের হ্যাপি ফিনিশিং হল...... ধন্যবাদ ডেডুভাই clap clap

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (১৫-০৪-২০১৩ ০২:৫৯)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

কেউ কি গুনে বলতে পারবেন যে, কত জন ফোরামিকের নাম এসেছে এই প্রজন্মের মেগা উপন্যাসে ?

Jol Kona লিখেছেন:

সবটাই পড়লাম।

ধন্যবাদ। এতো কষ্ট করে বড় লেখা পড়ার জন্য।  ।

mention not  tongue_smile tongue_smile
আমার গোনা অনুযায়ী ৩১ জন হইছে!!!  tongue_smile
একটু কনফিউসড ১/২ জন কম- বেশি হতে পারে

১৫

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

পড়তে পারলাম না। অনেক ব্যস্ত sad দেখি রাতে মোবাইল হতে পড়তে পারি কিনা ।


আমার নাম বাদ দেন নাইলে কিন্ত  wink

১৬

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

ওরে বাপরে এত্ত বড় ফিনিশিং! যাইহোক স্কীপ করে হলেও পড়ে ফেললাম smile

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

১৭

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

আরেক দফা সম্পাদনা করলাম। এবারে ৫০/৬০ টি জায়গা ঠিক করলাম।

অন্য দিকে যেহেতু ইলিয়াস ভাইয়ের টাক মাথার অধিকারী না তাই টাক এর স্থলে "কম চুল" দিলাম

Jol Kona লিখেছেন:

আমার গোনা অনুযায়ী ৩১ জন হইছে!!!

আমি ২৬ জন কে পেলাম।

Jemsbond লিখেছেন:

ক্যামনে ৩ ডা একসাথে লিখলেন

আগেই বলেছি। এতে আরেক টা সুবিধা পাবো আমি। একি টপিকে ৩ টা প্লাস দিতে পারবেন আপনারা। দূটি সম্পাদনা করার জন্য আর একটি সমাপ্তি টানার জন্য।

ইলিয়াস লিখেছেন:

আমার নাম বাদ দেন নাইলে কিন্ত

আপনি উপন্যাস এর নায়ক। আপনাকে বাদ দিতে কিছু থাকবে না  roll

বোরহান লিখেছেন:

ওরে বাপরে এত্ত বড় ফিনিশিং! যাইহোক স্কীপ করে হলেও পড়ে ফেললাম

ফিনিশিং টাচ দিতে এক বছর লাগলো তাই বড় তো হবেই  whats_the_matter

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (১৫-০৪-২০১৩ ১৫:১৪)

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:
Jol Kona লিখেছেন:

আমার গোনা অনুযায়ী ৩১ জন হইছে!!!

আমি ২৬ জন কে পেলাম।

দেখেন এদের মধ্যে কারা কারা ফোরামিক না, আমি তাইলে মনে হয় বেশি নাম বের করে ফেলছি!! tongue

ইলিয়াসদা, সাইফুল ভাই, ডেডু ভাই, আউল ভাই, উপল, অয়ন খান, মেহেদী৮৩, সারিম, ব্রাশুদা, তাহমিদ আফসার, আহবেদ মজতবা, শান্ত বালক, সালেহ আহমেদ, পলাশ, জেলাল ভাই, রাসেল আহমেদ, উদাদা, ফারহান ভায়া, ইমরান তুষার, ছবিপু,  আশিকুর নূর, মরুভূমির দ্যসু, তারছেঁড়া কাউয়া, শিপলুভায়া, ডাকু কালুয়া,  হৃদয়, জাভেদ ভূঁইয়া, ইব্রাহিম, মনু, জেমসবন্ড, হ্যংরিকোডার ।

দেখেন তো কত জন হল?!!!  thinking
আগেতো ৩১ গুনছিলাম ৩০ হয় কেন!  roll

পড়ার সময় এই কয়টা নামইতো পাইছিলাম  thinking

১৯

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

সত্যিই যদি উডাইয়া সবকয়ডারে মিটয়াপে নেওয়া যেতো  worried worried । মিটআপ নিয়ে অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম আমি । শেষমেষ একটা জিনিসে উপনিত হয়েছি -  ভার্চুয়াল গুগুল হেংআউটে আমরা মিটআপ করতে পারি । কার বাসায় জানি বিসাল টিভিতে বেফুক কুপাকুপি গেইম খেলা হয় শুনছি  hehe । যারা যারা করতে পারেন ভাল হয় । এতে দেশে ও বিদেশে সবাই এক সাথে মিটাপ করতে পারবো  big_smile big_smile

কি বলেন ?


ডেডুদা লিখেছেন:

আগেই বলেছি। এতে আরেক টা সুবিধা পাবো আমি। একি টপিকে ৩ টা প্লাস দিতে পারবেন আপনারা। দূটি সম্পাদনা করার জন্য আর একটি সমাপ্তি টানার জন্য।

এহহহ  mad mad , মনে মনে মনকলা খাওয়া হচ্ছে ৩ ডা রেফু  hehe । দিচ্ছি রেপু আপনারে  tongue_smile tongue_smile

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

২০

Re: ইলিয়াস ভাইয়ের ইলিশ (প্রজন্মের মেগা উপন্যাস(সমাপ্ত সহ))

বিয়াপক মজা পাইছি

মিটাপ এর আয়োজন করেনন তাড়াতাড়ি
দায়িত্ব ডেডু ভাইয়ার

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর