সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সাফায়েত (১৮-০৩-২০১৩ ২০:১৮)

টপিকঃ আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। আর তাই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষার জন্য মানুষকে যেমন নানা কাজে নানাভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় তেমনি দিতে হয় নানা সংযমের পরিচয়। আর এই সংযমের বৃত্ত ভেঙে একজন মানুষ যখন অযাচিত কোনো আচরণ করে, তখনই তার আচরণকে পশুর আচরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কেননা সেই আচরণটি মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় মোটেই। মানুষের পেটের ক্ষুধার পরই জৈবিক ক্ষুধার তীব্রতা বেশি। নর আর নারীকে এই তাড়না দিয়েই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অন্য সব চাহিদা মেটানোর প্রক্রিয়ার মতো বিশেষ এই চাহিদা মেটানোর জন্যও একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে অনেক প্রক্রিয়াই যখন-তখন ভেঙে পড়ছে। পশুর মতো আচরণ করছে মানুষ।

আমেরিকার একটি পত্রিকা দুঃখ করেছে: ইন্ডিয়াতে মাত্র এক চতুর্থাংশের কিছু বেশি ধর্ষণ-অভিযুক্তের শাস্তি হয়।
কিন্তু ফেডারাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফ বি আই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১-র আমেরিকাতে ধর্ষণের সংখ্যা প্রায় ৮৪,০০০।
সে দেশে ধর্ষণ-অভিযুক্তের চব্বিশ শতাংশকে পুলিশ গ্রেফতারই করতে পারে না, সাজা দেওয়া তো তার পরের কথা।
আর ব্রিটেন? সে দেশের স্বরাষ্ট্র দফতরের ২০১০-২০১১-র তথ্য আর ব্রিটিশ ক্রাইম রিভিউ, দু’টি দলিলই বলছে, দেশে প্রতি বছর ৮০,০০০ মহিলা ধর্ষিত হন এবং যৌন হেনস্থার শিকার হন প্রায় চার লক্ষ মহিলা।
একটি হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটেনে অভিযুক্ত ধর্ষকের মাত্র ৬.৫ শতাংশের শাস্তি হয়।
এ দেশে ২০১০-২০১১ সালে সর্বমোট ধর্ষণের অভিযোগ: ২২,১২৭।
৬ কোটির দেশ ইংল্যান্ড আর ৩১ কোটির দেশ আমেরিকায় তা যথাক্রমে ৮০ ও ৮৪ হাজার।

"ধর্ষণের রাজধানী দিল্লি" ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিকে এমন টাইটেল দিয়েছে খোদ ভারতেরই অন্যতম শীর্ষ দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া।আর ছড়ানোর পেছনেও কারণ আছে। ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছরে দেশটিতে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।১২০ কোটির ভারতে ধর্ষণের অভিযোগ বছরে ২২ হাজার।
আর বড় শহরের মধ্যে ধর্ষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি।
পরিসংখ্যান বলছে, পুলিশি নথি ও মিডিয়ার তথ্য অনুসারে ২০১০ সালে এখানে ৪০০-এর বেশি ধর্ষণ হয়েছে।২০১১ সালে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫৬৮-তে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০১২ সালে এই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যাবে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা সারা ভারতে তোলপাড় ফেলে দেয়।
গত ১৬ ডিসেম্বরের একটি ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন ঠেকাতে ১৪৪ ধারা পর্যন্ত জারি করা হয়।
১৯৯৯ সালের কথা। ইউরোপীয় সভ্যতার পীঠস্থান ফ্রান্সে নিনা আর স্টেফানি নামের দুই নাবালিকা ছ’মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন ধর্ষিত হয়। একদল তরুণ নিয়ম করে রোজ আসছে, এক জনের কাজ শেষ হওয়া অবধি অন্য জন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে, তার পর অন্য জন। তিন সপ্তাহের বিচারে ****্দো জন অভিযুক্তের দশ জন বেকসুর খালাস, বাকি চার জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাজা হয় এক বছরের কারাবাস!
অ্যামেনস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক বছর আগের এক সমীক্ষা বলছে, তিরিশ শতাংশের বেশি ইংল্যান্ডবাসী মনে করে, ধর্ষণের আংশিক অথবা পূর্ণ দায় মেয়েদের দায়ী তার চটুল হাবভাব, তার পোশাক পরিচ্ছদ।
২০১১ সালের কিছু মানবাধিকার রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করলে পাওয়া যায়, নারীর জন্য সবথেকে বিপদজনক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম পাঁচটি হচ্ছে (ক্রমানুসারে) -

১. আফগানিস্থান
২. কঙ্গো
৩. পাকিস্থান
৪. ভারত
৫. সোমালিয়া
কিন্তু আমি অবাক হলাম এখানে আমেরিকা ও ব্রিটেন এর নাম না দেখে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গত বছর ধর্ষণের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে তারা জানাচ্ছে, গত বছরে ধর্ষণ ঘটেছে ৫০৮টি, গণধর্ষণ ১৫৭টি এবং ধর্ষণের পর হত্যা হয়েছে ১০৬টি। কাণ্ডজ্ঞান থেকেই বলা যায়, এগুলো বরফপাহাড়ের ভাসমান চূড়া, অপ্রকাশিত ঘটনা আরও অনেক বেশি।

এখন কথা হল যে হারে সারা বিশ্বে ধর্ষণ বেড়েই চলছে তাতে করে আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন করাই যায়। আর এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা কিছুদিন পর কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আল্লাহ্‌তা’লা মালুম।
এ ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা দরকার সেটা হল পারিবারিক ভাবে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা। বাবা-মা যদি তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই এই শিক্ষাগুলো দিতো তাহলে মনে হয়না আমাদের অবস্থা এতটা করুন হত।

ধর্মীয় শিক্ষা হচ্ছে আমি মনে করি সবচেয়ে বড় একটা শিক্ষা। আমাদের চারপাশে নারী-পুরুষ যেভাবে অবাধ মেলামেশা করছে এবং অশালীন ভাবে চলাফেরা করছে তাতে ধর্মীয় শিক্ষার অনেক অভাব লক্ষ করা যায়। এখানে একটা বিষয় না বললেই নয় তা হচ্ছে “হিজাব”। হিজাব মানে যে শুধুমাত্র নারীদের জন্য তা কিন্তু নয়। পুরুষ মানুষেরও হিজাব আছে।

পবিত্র কোরআন এর ২৪ নম্বর সূরা আন্-নূর এর ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক আগেই বলেছেন পুরুষের হিজাবের কথা। এর পর ৩১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে নারীর কথা।
ইসলামে ধর্ষণের শাস্তির ক্ষেত্রেও তা নির্ধারণ করা হয়েছে মৃত্যু দণ্ড। এই জন্যই সৌদি আরবে ধর্ষণের হার অন্যান্য সব দেশের তুলনায় কম।

তার পরেই যে বিষয় আসে তা হল সন্তানদের বন্ধু নির্বাচন এবং আশেপাশের পরিবেশ। এ ক্ষেত্রেও খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
সূত্র:
প্রথম আলো
আনন্দবাজার পত্রিক

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (১৮-০৩-২০১৩ ২০:৫৫)

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

মানুষ কেন সেক্স/রেপ করতে আগ্রহী তার বায়োলজীক্যাল ব্যাখা জানতে প্রজন্ম ফোরামের নীচের টপিক পড়তে পারেন
ব্রেইন কেমিস্ট্রি

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

এধরনের ক্রাইম অবশ্যই দু:খ জনক। আমি কোনকিছু জাস্টিফাই করতে চাইছি না। তবুও বলছি ৮৪ হাজার সংখ্যাটা বিশাল শোনালেও এতো বড় একটা দেশের জন্য নম্বারটা মোটেও বড় নয়। যেদেশে বছরে হোমসাইড (খুন...) কেসই হয় ২০ হাজারেরর মত! (আবার ভেবে বসবেননা আমেরিকায় চারদিকে শুধু খুনই হচ্ছে! খুনের পরিসংখ্যানে বিশ্বের লিস্টে আমেরিকার অবস্থান ৯৮ নম্বরে... বাংলাদেশ ৭৭, ইন্ডিয়া ৯০)

আমেরিকায় ধর্ষনের সংগা অনেক ব্রড... তাছাড়া প্রায় অর্ধেক ধর্ষিতা মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে... তাই ধর্ষনের নম্বারটা সাধারনত নির্ভর করে, কম বয়সী মেয়েদের বাইরে অবাদ চলাচলের নম্বারের উপর। একটা উদাহরন দেই... বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়ায় কটা বাপ তার ১৬ বছরের মেয়েকে তার ছেলে বন্ধুদের সাথে (কোন গার্ডিয়ান ছাড়া) রাতভর ক্যাম্পিং, পার্টি ইত্যাদি করার অনুমতি দেবে? ১০০ জনে একটা বাপ ও খুজে পাবেননা। অন্যদিকে আমেরিকায় প্রায় প্রতিটা বাপকেই নিরুপায় হয়ে এধরনের পারমিশন দিতে হয়। সিংহ ভাগ কেস গুলো ঘটে ওখানেই। তারা এগুলো জেনে শুনেই কন্টিনিও করছে। কারন হিসেবে আমার মনে হয়, To them, rape is a small price to pay to maintain freedom of life... কারন রেপ হওয়ার পর সমাজে মুখ দেখাতে না পেরে মেয়েকে ফাসি নিতে হয়না।It’s just another experience of life… a cruel one of course! চিন্তা করবেনা.. পশ্চিমা বিশ্বের অনুকরনে বাংলাদেশ-ভারতেও মেয়েদের অবদা চলাচলের সংখ্যা বাড়ছে পাচ দশ বছর পর পরিসংখ্যানটা আবার ঘেটে দেখবেন।

আমি জানিনা আপনি পরিসংখ্যান কোথা থেকে নিয়েছেন, তবে গ্রেপ্তার না হওয়ার সংখ্যা মাত্র ২৪ শতাংশ হলে অনেক ভাল ধরে নিন! বাংলাদেশে গ্রপ্তার না হওয়ার আসল পরিসংখ্যান বেরকরতে পারলে দেখবেন সেটা ৮০ শতাংশর উপরে! যেখানে লাইভ টিভিতে চাপাতি দিয়ে খুন করার পরেও খুনিরা গ্রেপ্তার হয় না! সেখানে ধর্ষন তো কিছুই না। তাছার আমারিকায় প্রসিকিউসন রেট পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় অনেক ভাল। রেপ কেইসে গ্রেপ্তার হওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৭৫ জনকে প্রসিকিউট করা হয়। মন্ত্রি একটা কল করল, আর অসি স্যরি বলে ছেলেকে ছেড়ে দিল সেটা পাবেন না।

আমি যেটা বলতে চাইছি তা হল দোষটা মানুষ প্রজাতী পর্য়ায়ে। দেশ পর্যায়ে নয়। অবশ‌্য মানুষ কে দোষ দিয়েও লাভ নেই। আমরা আমাদের সমাজের নিয়ম কানুন, ভাল মন্দ ইত্যাদির সংগা যতি দ্রুত পরিবর্তন করি আমাদের শরীর এর সাথে তাল মিলিয়ে অত দ্রুত ইভল্ভ হতে পারছে না। সমস্যটা ওখানেই।

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

"যুব সমাজের এই অবক্ষয়ের জন্য আধুনিক ব্যাবস্থার অপব্যাবহারই দায়ী" আর এর খেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ধর্মীয় অনুশাষন ও ধর্মীয় শিক্ষা (এটা একান্ত আমার মত)- আইন করে এই অবক্ষয় দুর করা সম্ভব নয় কারন এরা মানষীক রোগী হয়ে যায় তাই তারা জেলে যেতেও ভয় পায় না - অপরাধের পর অপরাধ করেই চলে ................

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

ভারতে প্রতি ২১ মিনিটে একটি করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
প্রথম আলো

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

একটা কথা যদি কেউ কাউকে রেপ করার চেষ্টা করে তাহলে আমার মনে হয় তার সাথে সায় দেয়াটাই ভালো কারন সায় না দিলে মেরে ধোরে রেপ করবে আর কত কষ্ট সইতে হবে তার একটু ভাবুন......।যদি কোণ মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেক্স করা হয় তাহলে সেই মেয়ের অনেক কষ্ট হয়......।।

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

গেমার ম্যান লিখেছেন:

একটা কথা যদি কেউ কাউকে রেপ করার চেষ্টা করে তাহলে আমার মনে হয় তার সাথে সায় দেয়াটাই ভালো কারন সায় না দিলে মেরে ধোরে রেপ করবে আর কত কষ্ট সইতে হবে তার একটু ভাবুন......।যদি কোণ মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেক্স করা হয় তাহলে সেই মেয়ের অনেক কষ্ট হয়......।।

কথাটি আপত্তিকর কিন্তু আমি আপনার সাথে একমত। যদি আর কোন রাস্তা না থাকে তবে সেটাই উত্তম। কারণ রক্তক্ষরণে বেশী নারী মারা যায়।

আর নারীদের উচিৎ পশ্চিমা দেশের মতো শক মেশিন  সাথে রাখা যা বিপদে ব্যবহার করতে পারে। "এন্টি রেপ কনডম" বাজারে পাওয়া গেলে রেপ আরো কমে যাবে।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:
গেমার ম্যান লিখেছেন:

একটা কথা যদি কেউ কাউকে রেপ করার চেষ্টা করে তাহলে আমার মনে হয় তার সাথে সায় দেয়াটাই ভালো কারন সায় না দিলে মেরে ধোরে রেপ করবে আর কত কষ্ট সইতে হবে তার একটু ভাবুন......।যদি কোণ মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেক্স করা হয় তাহলে সেই মেয়ের অনেক কষ্ট হয়......।।

কথাটি আপত্তিকর কিন্তু আমি আপনার সাথে একমত। যদি আর কোন রাস্তা না থাকে তবে সেটাই উত্তম। কারণ রক্তক্ষরণে বেশী নারী মারা যায়।

আর নারীদের উচিৎ পশ্চিমা দেশের মতো শক মেশিন  সাথে রাখা যা বিপদে ব্যবহার করতে পারে। "এন্টি রেপ কনডম" বাজারে পাওয়া গেলে রেপ আরো কমে যাবে।

এন্টি রেপ কনডম কি? yahoo yahoo yahoo yahoo

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

গেমার ম্যান লিখেছেন:

এন্টি রেপ কনডম কি?

লেখার সাথেই তো লিংক দিয়েছি

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

আমি অবাক হইলাম প্রথম আলোতে কিছু লোকের কমেন্ট পড়ে। এরা নৈতিকতার উপর বেশি জোর দেয়। আমিও দিই। আমিও তাদের সাথে একমত। কিন্তু তাই বলে নারীদের শালীনতার বিষয়টি এড়িয়ে গেলে তো চলবে না। এইটাও দেখতে হবে, আমাদের ধর্ম গ্রন্থগুলো কি বলছে।
অন্য ধর্মের কথা বলতে পারবনা, কিন্তু ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআন এর ২৪ নম্বর সূরা আন্-নূর এর ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক আগেই বলেছেন পুরুষের হিজাবের কথা। এর পর ৩১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে নারীর কথা।
ইসলামে ধর্ষণের শাস্তির ক্ষেত্রেও তা নির্ধারণ করা হয়েছে মৃত্যু দণ্ড। এই জন্যই সৌদি আরবে ধর্ষণের হার অন্যান্য সব দেশের তুলনায় কম। আর অবশেষে ভারতেও এর শাস্তি করা হল মৃত্যু দণ্ড।  প্রথম আলোতে ওইসব কমেন্ট করা লোকের কাছে আমার প্রশ্ন তার মানে কি ভারতও মিডল ইস্ট এর দিকে যাচ্ছে!
এই ক্ষেত্রে আমি তাদের কে নারীদের অধিকারের উপর জাকির নায়েকের ভিডিও লেকচারটি দেখার অনুরধ করব।

১১

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

যদি ছেলেদের মত মেয়েদের পাওয়ার থাকতো তাহলে মেয়েরাই আমাদের রেপ করতো yahoo yahoo yahoo yahoo

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হৃদয়১ (২৬-০৩-২০১৩ ২১:৫৪)

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

ঘুমন্ত সজীব লিখেছেন:

নারীদের শালীনতার বিষয়টি এড়িয়ে গেলে তো চলবে না

তাদের শালীনতার বিষয়টি তাদের বুঝতে দেওয়াই ভালো। অ্যাডমিনিস্ট্রেশান শালীনতা বা নৈতিকতার উপর ভিত্তি করে আইন প্রণয়ন করেনা। কোনও ধর্মমতে রাষ্ট্র চলতে পারেনা। কারণ রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ থাকে। জানি না আপনি বাস্তবে কোনও মামলার শুনানি উপস্থিত থেকে দেখেছেন কিনা। আপনি এখন যে কথা বলছেন, আ্যাডমিনিস্ট্রেশান যদি এই কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়, তবে ধর্ষকপক্ষের উকিল ঠিকই কোনও না কোনও আইনের ফাঁক দিয়ে প্রমাণ করে দেবে ধর্ষিতা অশালীন পোষাক পরেছিলেন বা অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন। অশালীন শব্দটা খুব স্থূল। ঠিক কোন লিমিট পেরোলে শালীন থেকে অশালীন হবে সেটা ডিফাইন করা যায়না। আইনের ভাষা এরকম দ্ব্যর্থবোধক নয়, অত্যন্ত ক্লীয়ার থাকা জরুরি।

সৌদির প্রসঙ্গ যেহেতু আসল‌ো, তাহলে বলি, সেখানে একটা বিপরীত লজিক কাজ করে। সৌদিতে ধর্ষকের কঠোর শাস্তি হয়। কিন্তু ধর্ষণের রিপোর্ট জমা পড়ে অনেক কম। কারণ সেখানে ধর্ষিতাকেও শাস্তি দেওয়া হয় পাথর বা চাবুক মেরে। ২০০ ঘা চাবুক খাওয়ার পর একজন সুস্থ সবল পুরুষের পক্ষেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আর ধর্ষিতা মেয়েটি কী করে বাঁচবে?!

Qatif rape case সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখুন। প্রচুর তথ্য পাবেন নেটে। একজন টীনএজার মেয়ে সাতজনের দ্বারা গণধর্ষিত হওয়ার পর যখন রিপোর্ট করতে গেছিলো, তখন বোধহয় সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি তাকেও চাবুক খেতে হবে। এবং তার জন্য নির্ধারিত চাবুকের ঘায়ের সংখ্যা তার একজন ধর্ষকের থেকে সংখ্যায় বেশী হবে।

এমন পরিস্থিতিতে কয়জন ধর্ষণের রিপোর্ট লেখাবে সেটাই হল প্রশ্ন। কোনও বাবা-মা চাইবেন না তার ধর্ষিতা মেয়েটি চাবুক খেয়ে মারা যাক। সুতরাং বিচারের দাবী না তোলাই শ্রেয় গণ্য হয়।

যাহোক, আইনের ব্যাপারটায় ফিরে আসি। ভারতের ক্ষেত্রে ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের ফাঁকফোঁকর গলেও কতরকম ভাবে ধর্ষক ছাড়া পেয়ে যেতে পারে তার অনেকগুলি কেস সিনারিও উদাহরণ সমেত তৈরি করেছিলেন আমার এক শিক্ষকপ্রতিম ব্যক্তি, তিনি কলকাতা হাইকোর্টে বেসরকারী প্র্যাকটিশ করতেন। সেসব রিসার্চ অবশ্য কোথাও পাবলিশ করেননি। ওনার নিজস্ব নীতি ছিল যে এসব তথ্যাদি প্রকাশ করা মানে ক্রিমিনাল লইয়ারদের হাতে ধর্ষকদের ডিফেন্ড করার অস্ত্র তুলে দেওয়া। ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান এসব দেশগুলির সংবিধান অনেকটাই axiomatic, সুতরাং সবসময়েই উভয়সঙ্কটে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। যদিও তার মধ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ লুপহোল সাম্প্রতিক সংশোধনীতে ব্লক করা হয়েছে। আশা করা যায় বাকিগুলোও হবে।

"No ship should go down without her captain."

১৩

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

গেমার ম্যান লিখেছেন:

যদি ছেলেদের মত মেয়েদের পাওয়ার থাকতো তাহলে মেয়েরাই আমাদের রেপ করতো yahoo yahoo yahoo yahoo

কি কয়!!!!  surprised surprised surprised

last.fm
ল্যাও ঠ্যালা !!

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মেরাজ০৭ (২৬-০৩-২০১৩ ১৮:১৩)

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

তন্ময় আমিন লিখেছেন:
গেমার ম্যান লিখেছেন:

যদি ছেলেদের মত মেয়েদের পাওয়ার থাকতো তাহলে মেয়েরাই আমাদের রেপ করতো yahoo yahoo yahoo yahoo

কি কয়!!!!  surprised surprised surprised

পোলা রেপড হইতে চায়.....  waiting
জেলে গেলে তোমাকে রেপ করে দিবে একেবারে.....

এম. মেরাজ হোসেন
IQ: 113
http://www.iq-test.cc/badges/4774105_3724.png

১৫

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

ঘুমন্ত সজীব লিখেছেন:

এই জন্যই সৌদি আরবে ধর্ষণের হার অন্যান্য সব দেশের তুলনায় কম। আর অবশেষে ভারতেও এর শাস্তি করা হল মৃত্যু দণ্ড

আপনি এই তথ্য কোথায় পেলেন একটু জানাবেন?

১৬

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

এন্টি রেপ কন্ডম ব্যবহার করলে ২//৩টি ইন্সিডেন্টের পর জানাজানি হবে যে এমন জিনিস আছে। স্বভাবত এই খবর ধর্ষকদের কানে যেতেও সময় লাগবে না sad  ধর্ষকতো চোখ কান বন্ধ করে ধর্ষন করেনা সে এটা কিকৃত ইনজয়মেন্ট হিসেবেই নেয় তাই এটা সে দেখবে না বা চোখ এরিয়ে যাবে এমন সম্ভবনা কম  ফলে এটা কতটা ফলপ্রষু হবে ভাবার অবকাশ আছে।

আই স ডেভিলের মত ধর্ষকের হাতে পড়লে দেখা যাবে সে এন্টিরেপ কন্ডম উল্টিয়ে সেটা দিয়েই ধর্ষন করেছে sick sick
বুঝতেই পারছেন এই এন্টিরেপ কন্ডম উল্টিয়ে ব্যবহার করলে কি হতে পারে। ভিক্টিমের যাই হোক ধর্ষক যে বিকৃত সুখ পাবে সন্দেহ নেই।

আমার মতে কঠোর আইনের বিকল্প নেই। আর আইনের এইসব ফাক ফোকর বন্ধ করতে হবে thinking

১৭

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

সেভারাস লিখেছেন:
ঘুমন্ত সজীব লিখেছেন:

এই জন্যই সৌদি আরবে ধর্ষণের হার অন্যান্য সব দেশের তুলনায় কম। আর অবশেষে ভারতেও এর শাস্তি করা হল মৃত্যু দণ্ড

আপনি এই তথ্য কোথায় পেলেন একটু জানাবেন?

সৌদি আরবে ধর্ষণের হার জেনেছি জাকির নায়েকের একটি ভিডিও লেকচার থেকে। লেকচার টি সম্ভবত "ইসলামে নারীর অধিকার" অথবা "WEAR বা পরিধান" থেকে। সঠিক ভাবে বলতে পারছিনা না। কারন অনেক আগে ভিডিও টি আমি দেখেছি।

ভারতেও ধর্ষণের শাস্তি করা হল মৃত্যু দণ্ড, এইটার লিঙ্ক আমি আগেই দিয়েছি, প্রথম আলো

১৮

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

ঘুমন্ত সজীব লিখেছেন:
সেভারাস লিখেছেন:

আপনি এই তথ্য কোথায় পেলেন একটু জানাবেন?

সৌদি আরবে ধর্ষণের হার জেনেছি জাকির নায়েকের একটি ভিডিও লেকচার থেকে। লেকচার টি সম্ভবত "ইসলামে নারীর অধিকার" অথবা "WEAR বা পরিধান" থেকে। সঠিক ভাবে বলতে পারছিনা না। কারন অনেক আগে ভিডিও টি আমি দেখেছি।

জাকির নায়েকের মুখের কথা থেকে রেফারেন্স দেয়া ঠিক না। আর অনেক রেপ সংঘটিত হচ্ছে যা শালীন আর অশালীনের সাথে সম্পর্কিত  না। সেগুলো ধর্মীয় অনুশাসন দিয়ে তো দুর করা সম্ভব না।

সালেহ আহমদ'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

হৃদয়১ লিখেছেন:

সৌদির প্রসঙ্গ যেহেতু আসল‌ো, তাহলে বলি, সেখানে একটা বিপরীত লজিক কাজ করে। সৌদিতে ধর্ষকের কঠোর শাস্তি হয়। কিন্তু ধর্ষণের রিপোর্ট জমা পড়ে অনেক কম। কারণ সেখানে ধর্ষিতাকেও শাস্তি দেওয়া হয় পাথর বা চাবুক মেরে। ২০০ ঘা চাবুক খাওয়ার পর একজন সুস্থ সবল পুরুষের পক্ষেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আর ধর্ষিতা মেয়েটি কী করে বাঁচবে?!

আপনার দেওয়া লিঙ্ক থেকে খবরটা পড়লাম, তবে এই টাইপের বিচার ইসলাম বিরোধী।

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সাফায়েত (২৭-০৩-২০১৩ ১১:২৬)

Re: আমাদের নৈতিকতা এবং ধর্ষণ

সালেহ আহমদ লিখেছেন:
ঘুমন্ত সজীব লিখেছেন:

সৌদি আরবে ধর্ষণের হার জেনেছি জাকির নায়েকের একটি ভিডিও লেকচার থেকে। লেকচার টি সম্ভবত "ইসলামে নারীর অধিকার" অথবা "WEAR বা পরিধান" থেকে। সঠিক ভাবে বলতে পারছিনা না। কারন অনেক আগে ভিডিও টি আমি দেখেছি।

জাকির নায়েকের মুখের কথা থেকে রেফারেন্স দেয়া ঠিক না। আর অনেক রেপ সংঘটিত হচ্ছে যা শালীন আর অশালীনের সাথে সম্পর্কিত  না। সেগুলো ধর্মীয় অনুশাসন দিয়ে তো দুর করা সম্ভব না।

আমি যদি প্রথম আলোর রেফারেন্স দিতে পারি তাহলে জাকির নায়েকের মুখের কথা থেকে রেফারেন্স দিতে সমস্যা কোথায়।
আপনি এইটা তো অস্বীকার করতে পারবেন না যে,

প্রথম আলো পড়ে সাধারণত বাংলাদেশের লোকজন। কিন্তু জাকির নায়েকের ভিডিও লেকচার শুনে সারা পৃথিবীর লোক।

প্রথম আলো তার পেপারে যা লিখে তার জন্য প্রথম আলোর সম্পাদক কে মানুষের সামনে সরাসরি তার লেখার জন্য জবাবদিহি করতে দেখিনি। কিন্তু জাকির নায়েক লেকচারে মুখে যা বলে তার জন্য লেকচারের পর তাকে প্রশ্ন উত্তরের মুখমুখি হতে হয়।

আর আপনার দ্বিতীয় কথাটির সাথে আমি আংশিক (০২%) একমত। আপনি মনে হয় আমার লেখাটি ভালমত পড়েননি। আপনার জন্য
পবিত্র কোরআন এর ২৪ নম্বর সূরা আন্-নূর এর ৩০ ও ৩১ নম্বর আয়াতের  বাংলা অনুবাদটির স্ক্রিনশট নিচে দেওয়া হল।

http://i.imgur.com/eS5Nwm5.jpg

দয়া করে মিলিয়ে নিবেন. . .।

আপনি হয়ত বলবেন, "তাহলে সৌদি আরবে কেন ধর্ষণ হয়?"
এখন আমার প্রশ্ন আপনার (সালেহ আহমদ ভাই) কাছে, "আল্লাহ্‌ তো সবই জানেন। তার পরেও কেন তিনি আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন?"
যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন আশা করি।