সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন উদাসীন (১৮-০৩-২০১৩ ১৭:৩৪)

টপিকঃ ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

বিগত কয়েক বছর আমার দিন শুরু হয়, ভোরের আযান শুনতে শুনতে।  isee
অপেক্ষা করতে থাকি কখন ভোর হবে।
এই সময় পাখিদের কিচির-মিচির আর টুইট টুইট শব্দ গুলো মনে হয় যেন বলতে থাকে ; “এসো সূর্য্যি-মামা, সকাল হবার সময় হয়েছে। নিজের আলো দিয়ে আলোকিত কর এই কালো-কলুষিত ধরণী”।  ( এই লাইনটা স্কুলের কোন এক বাংলা পরীক্ষায় "কবি গুরুর বলেছেন" বলে লিখে দিয়ে আসছিলাম big_smile )

যাই হোক,
ভোরের সতেজ-মিষ্টি মন-ভুলানো মৃদু হাওয়া যখন শরীর ছুঁয়ে যায়, অদ্ভুত সেই ভালো লাগা। চোখ বন্ধ করে হারিয়ে যাওয়া যায় অনেক দূরে।

আজ আর বারান্দায় বসে থাকলাম না।
চাবি হাতে নিলাম, সেলফোন রেখে দিলাম বিছানার পাশে।
ভোরের আমেজ নষ্ট করতে ইচ্ছুক না আমি, এই সেলফোনের জন্যে। বাসার সবাই ঘুম, তাই আর কাউকে আর জাগালাম না। চিরকুটে লিখে গেলাম, 'পার্কে যাচ্ছি, ঘণ্টা-খানের মধ্যে চলে আসব'

বের হয়ে পড়লাম। আলো অনেকটাই ফুটে গেছে।
শীতের ভোরের মত লাগছিল। রাস্তা পার হতে হতে দেখি অনেকেই ভোরে জগিং করতে বের হয়েছে। অনেকের চেহারা চেনা-জানা কিন্তু নাম জানি না। এরা আমাদের আশেপাশেই থাকে। দূর থেকে অনেকেই আমাকে দেখেই চিন্তে পেরে মিষ্টি হাসি উপহার দিল। হাসির বিনিময় হাসি। ভালোই লাগল। smile

ধীরে ধীরে হাঁটতে-হাঁটতে, ভোরের ঠাণ্ডা আমেজটা গুলশান লেকের ধার দিয়ে উপভোগ করতে-করতে  পৌঁছে গেলাম নিকেতন পার্কে। কত মানুষ। বেশির ভাগই বয়স্ক।
অনেক পরিচিত-অপরিচিত মুখ দেখলাম। যারা পরিচিত তারা সব সময় এখানে আসেন হাঁটতে। এই সময় তাদের দেখা না গেলে বুঝতে হবে তাদের কিছু একটা হয়েছে।
পরিচিত কয়েক জনের সাথে কিছুক্ষন কথা বললাম। খোঁজ খবর নিলাম। তাদের সবার এক কথা 'আস না কেন এইখানে এখন?' আমি খালি হাসি  big_smile
তারপর জায়গা ছেড়ে ঘুরতে লাগলাম। পরে আপন মনেই বলতে লাগলাম, আসলেই তো কেন আসি নি?  thinking আগে তো সবসময় ভোরে হাঁটতে বের হতাম। ছাড়লাম কেন? মনে করতে পারলাম না কেন। whats_the_matter

মানুষের আনা-গোনা বেড়ে যাচ্ছে। খেয়াল করলাম সূর্যের তেজ বেড়ে গেছে এরি মধ্যে। কেন জানি বসে থাকতে ভালো লাগছিল না।  sad  আবার হাঁটা শুরু করলাম। পার্কের গেইট দিয়ে বের হয়ে ভাবতে লাগলাম কোথায়  যাওয়া যায়! thinking

একবার বামে, একবার ডানে তাকালাম।  waiting
হাতের বামে হেঁটে সোজা গেলেই বড় ভাইয়ের বাসা, সাত-সকালে গেলে ভাবী আমাকে দেখে ঘাবড়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। এমনিতে আমাকে ঘর থেকে ধাক্কা মেরেও বের করা যায় না, সেখানে সাত-সকালে তার ননদ হাজির!! ভাবী দুশ্চিন্তা আর ব্লাড-প্রেশার বাড়ায় লাভ নাই। tongue_smile tongue_smile
আবার আগের রাস্তায় হাঁটা দিলাম। নিজেকে নিজেই বলতে লাগলাম যেতে থাকি কত দূর যেতে পারি, সব সময় তো আর বের হওয়া হয় না।
আবার লেকের ধার দিয়ে হাঁটতে হাটঁতে মহাখালির রাস্তায় চলে আসলাম। মেইন রোডে উঠে গুলশান-১ এর দিকে হাটঁতে লাগলাম। হঠাৎ করেই যেন হাঁটার নেশায় ধরল আমাকে। সোজা কথা বাসায় এই মুহূর্তে ফেরার ইচ্ছা নাই।

রাস্তায় মানুষের ভীড় বাড়ছে, অল্প কিছু গাড়ি চলছে। 
বড় বড় বাস গুলো আজ খালি। বাস গুলো দেখতে জানি ক্যামন ক্যামন লাগল  tongue_smile মানে,
লোক জন ঠাসা-ঠাসি করা দেখেতে দেখেতে এই চোখ গুলো অভ্যস্থ, এই জন্য মনে হয় "ক্যামন ক্যামন" জানি লাগল। আজ বাস কাউন্টার গুলোতে অন্যদিনের মত তেমন ভীড় নেই, খালিই বলা চলে।

আশে-পাশের মানুষজন আর বিল্ডিং গুলো দেখতে দেখতে কতদূর আসলাম আগে টের পাইনি। ট্র্যাফিক সিগন্যাল পর্যন্ত এসে বুঝলাম আমি গুলশান-২ এর চত্বরের সামনে। surprised
আরেক একটু সামনে আর একটা পার্কে। কাছাকাছি চলে এসেছি।
অবাকই হলাম ভার্সিটি যাবার সময় এক রাস্তা হেঁটে গেলেও তো আমার মনে হয় জান শেষ হয়ে যায়। আর এখন......  tongue_smile tongue_smile

হাতের দিকে তাকালাম সময় দেখার জন্য, দেখি ঘড়ি নাই।  angry
আমার মনে নাই যে আমি ঘড়ি পরি না মনে হয় অনেক বছর। tongue তার উপর মনে পড়ল সেলফোনও ঘরে।  neutral সময় দেখার উপায় নাই। আমার সময় জানা দরকার।  hairpull

দেখলাম পাশে  দাঁডিয়ে থাকা এক ভদ্রলোককে (অভদ্র ও হতে পারে hmm , যাই হোক) তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কয়টা বাজে। বলল সেও নাকি ঘড়ি পরে না। hmm বললাম সেলফোন দেখেন! বলে সময় ভুল সেটাতে।  angry angry (খুব বলতে মনে চাইল, ফোনটাকের ঠাণ্ডা পানিতে ডুবায় রাখবেন।আর সময় দেখে কী হবে!!!  hairpull )

আন্দাজ করে নিলাম, খুব বেশি হলে মাত্র দেড় ঘন্টার মত গেছে। সিগন্যাল পার হলাম। গেলাম পার্ক পর্যন্ত। এই পার্কে এত আসছি অথচ আমি নাম জানি না। hmm


এই পার্কের মজা হল প্রচুর গাছ-পালা।
এই ইট-কাঠের শহরে গাছ-পালা ঘেরা পার্ক দেখা মানে বিশাল ব্যাপার। আমার কাছে তো অন্তত তাই। আগামী ১৫-২০ বছরে এই ঢাকা শহরে গাছ নামক উদ্ভিদ থাকবে নাকি তা আমার সন্দেহ।
পাশেই নার্সারি। নানান রকম চারা গাছ। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। ফুলের গন্ধে জায়গা টা মো-মো করছে।
এই পার্কের মাঝে ছোট একটা ব্রিজ এর মত আছে। এটার উপরে উঠলেই মনে হয় ইয়া-বড় ব্রিজে দাঁড়ায় আছি।  wink কল্পনা করতে তো আর পয়সা লাগে না । তাই আরকি... big_smile  wink

ভেতরের দিকে কিছু বসার জায়গা আছে। আমার এইখানে গাছ দেখতে দেখতে হাঁটতে ভালো লাগে। আর অনেক নিরিবিলি বলে বেশি ভাল লাগে। এখানে বেশির ভাগ সময় মহিলারা সকাল-সন্ধ্যায় হাঁটাহাটি করেতে আসেন। সকাল দিকে, বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে এখানেই আসেন। কাছেই অনেকগুলো স্কুল আছে। অনেক ভাবীদের সাথে এখানেই পরিচয়।

আজ যেহেতু ছুটির দিন। তেমন কেউকে দেখলাম না।
তবে কয়েকজন ভাবীদের পেলাম। উনাদের পিচ্চিগুলো আমার ভাতিজার সাথেই পরে, সেই সুবাদে তাদের আমি চিনি। অনেক দিন পর এইপার্কে আমাকে দেখে তারা খুব অবাক। আজ অবাক দিবস।  mad । ডাক দিলেন তারা, আমিও গেলাম। সেই খোঁজ খবর আদান-প্রদান করলাম। উনাদের জগিং শেষ আগেই। এখন সবাই গল্প করছেন।
আজ দেখলাম  ভাবীরা তাদের বিচ্ছু পাটিদের নিয়ে আসছেন। ওরাই সাত-সকালে সারা পার্ক লাফা-লাফি, চিল্লা-চিল্লি করে বেড়াছে  yahoo । এই জিনিস তো আর রোজ হয়না তাদের। যা মনে হচ্ছে তাই করছে। আগামী দুইদিন ছুটি, পুরাই পার্টি মুড সবার।  big_smile

তারা ভাবী সাথে অনেক দিন পর কথা বলে ভালো লাগল। উনি আমাদের সামনের এপার্টমেন্টে থাকেন। কিন্তু দেখা সাক্ষাত তেমন হয় না। পিচ্চি গুলো নিচে খেলতে নামলে আমি দেখি। উনার পিচ্চি মেয়ে আমাকে জোড়ায় ধরে বলে, “আন্টি, আম্মুকে বলনা একটা আইসক্রিম কিনে দিতে” surprised
  nailbiting এই রে!!! আমি গেসি এইবার!!!!  nailbiting
এই পিচ্চির যতদূর জানি ঠাণ্ডার সমস্যা আছে। আমি বললাম সকালে আইসক্রিম খাওয়া ঠিক না।  কথাটা বলতে আমার নিজের অনেক কষ্ট হচ্ছিল। hmm কারন আমি নিজে এইটার পাগল।
পিচ্চি গাল ফুলায় ফেলল donttell।  বুঝতে পারছি মেজাজ বিগড়ে গেছে। পিচ্চি গুলো আবদারের একটা অদ্ভুত ধরন আছে, যার কারনে তাদের না করাটা একটু মুশকিল বটে।  worried
পিচ্চি কথার মার-প্যাচে আমি পটে গেছি। ভাবীও বুঝল আজ আমার মাফ নাই। টাকা হাতে দিয়ে বলল কি্নে আনো। পিচ্চিতো ওইখানেই মনে হয় দুই-তিনটা ডিগ-বাজি দিল খুশির চোটে।  yahoo yahoo এমনে।

পিচ্চির হাত ধরে কথা বলতে বলতে পার্কের বাইরে আসলাম যদি কোন আইসক্রিম ওয়ালাকে পাওয়া যায়।  পেলাম না। সায়মার মন খারাপ হয়ে গেল। বললাম আর একটু সামনে দেখি। একটু সামনে যেতেই পেয়ে গেলাম আইস ক্রিম।
দুটা ইগলুর কাপ কিনলাম, ওর হাতে দিতেই সে ছুটে গেল পার্কের ভেতরে। আমিও টাকা বুঝায় দিয়ে ভেরতে গেলাম।

'তারা' ভাবীকে ভাংতি টাকা ফেরত দিতে দিতে বললাম ফোন থাকলে একটু দিন বাসায় কল দিব। ভাবী দিল ফোন।
কল করলাম আম্মুকে। আম্মা, যেই টের পেল আমি, রামধমক মারা শুরু  notlistening
আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে;আম্মুর ধমকাধমকি থামার পর আমিও বললাম "আমি বাসার ত্রি-সীমায় নাই। ধানমণ্ডিতে এখন  angry। কল করবা না এই নাম্বারে  angry। এটা বাইরের নাম্বার। ফিরতে দেরী হবে।" ব্যাস দিলাম লাইন কেটে। ফুরফুরা মেজাজের বারটা নিজেই বাজাইলাম পন্ডিতি করে কলটা দিতে গিয়ে  hmm

যাই হোক, ভাবীকে ফোন ফেরত দিতে দিতে বললাম  পিচ্চিটাকে দেখে  আসি তারপর বাসায় যাব।
ভাবী হেসেই খুন। হাসতে পারেন বটে।  hmm
বলেন, "ব্যপার না। না বলে আসছ মনে হয় এই জন্য চিন্তা করছেন তোমার মা।"
আমি শুকনা একটা হাসি দিয়ে বললাম, "বাসার কাছেই আসছি ভাবী। খুব বেশি হলে ১৫ মিনিটের রাস্তার দূরুত্বে, রিক্সায় গেলে আরও কম। এই কাজটা ভাইয়া যখন করত তাকে কোনদিন বকে নাই, যত নিয়ম সব আমাদের জন্য। মেয়ে এই জন্য। আর কতদিন!!!! জবাব দিতে হবে?"
ভাবী আর কিছু বলেন না চোখের ইশারায় সান্তনা দিলেন। neutral

কিছু দূর যেতেই সায়মাকে দেখলাম। hmm আমি এতক্ষনে বুঝলাম সে আইসক্রিমের জন্য কেন এত তেলমাখাছিল আমাকে  angry। আমাকে পেয়ে পুরা সুযোগটা কাজে লাগালো। hmm
তার সাথে আরেক পিচ্চি ছিল, রায়হান প্রায় সায়মার বয়সী। সোমা ভাবীর ছেলে। big_smile উনি আমাদের সামনের এপার্টমেন্টে থাকেন। সায়মাদের পাশের বাসা।
আগেও দেখছি রায়হান আর সায়মা; ফেভিকলের মত এক সাথে চিপকায় থাকতে। আর সুযোগ পেলেই রায়হান সায়মার সাথে ঝগড়া করত। tongue সেই ঝগড়া মারামারি পর্যন্ত যেত অনেক সময়। কিন্তু কথা বলা বন্ধ থাকবে না। tongue আবার কিভাবে কিভাবে জানি ভাব হয়ে যেত।  mail

একটা গাছের আড়ালে দূর থেকে দাঁড়ায় দাঁড়ায় ওদের কান্ড দেখতে লাগলাম। এক-এক জনের চেহারা ভঙ্গি গুলো না দেখলে বুঝানো সম্ভব না ব্যপারটা কতটা উপভোগ করার মত।  tongue
যা বুঝলাম রায়হানের কোন কারনে আবার রাগ উঠছে সায়মার উপর। আর সায়মা চেষ্টা করছে রায়হানকে মানানোর।   tongue

ঘটনার প্রেক্ষাপটঃ
রায়হান একটা বেঞ্চ এর উপর বসা। একটু দূরে হলেও কথা ভালোই শোনা যাচ্ছি; সায়মা পাশে থেকে আইস-ক্রিম সাধছে। আর বলছে;

সায়মাঃ নেস না তোর আইস ক্রিম। গলে যাচ্ছে তো!!!
রায়হানঃ তোর আইস ক্রিম তুই খা!  angry
সায়মাঃ (তার নাকের সামনে কাপ নাড়াতে নাড়াতে বলছে) না খেলে আমি আন্টিকে (আমাকে) দিয়ে দিব কিন্তু!!!!  neutral
রায়হানঃ (আর আড়চোখে আইসক্রিম এর কাপের দিকে তাকায় বলে) যাহ্‌! দে গিয়া! খাব না। মারামারি করবা আবার আইস ক্রিম দিবা!!!!
সায়মাঃ আচ্ছা আর মারব না, তুইও আর মারবি না। তুই চিমটি না দিলে তোকে আমি মারতাম না।  tongue_smile
রায়হানঃ আমি তো...!!!! হুহ!!!! angry (রাগ দেখায় মুখ ফিরায় নিল) 

ওদের আরও কিছুক্ষন মজার মজার কথার তর্কাতর্কী চলল। big_smile big_smile
তারপর হটাৎ দুইজনই চুপ  tongue_smile। এরা চুপ মানে এদের মাথায় কিছু একটা চলতেছে। আর সায়মা চুপ মানে,
ঝড়ের আগে বিপদ সঙ্কেত।  nailbiting
 
এক পর্যায় সায়মার খুব রাগ উঠে গেল, ওর চোখ ছলছল করছে। আমি তার চেহারা ভঙ্গি দেখে বুঝলাম।
আইস-ক্রিমের কপালের আজ দুঃখ আছে  tongue_smile ।  সে বারবার কাপের দিকে তাকাছিল। hehe
আর এইদিকে রায়হানের মেজাজ প্রায়ই ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। সে আইসক্রিম নেবে। এটাও বুঝে গেছি। কারন সেও বারবার তাকাছে ওই দিকে।  hehe

বিধি-বাম-ডান সবমিশে একাকার; রায়হান আইস ক্রিমের কাপে হাত বাড়ালো, কিন্তু নেবার আগেই সায়মা ছোঁ মেরে আইসক্রিমের কাপ নিয়ে নিল, কাপের কভার খুলেই আর দেরী করেনি, সাথে সাথে রায়হানের মাথায় আইসক্রিম সব ঢেলে দিল  surprised ।  কাপ নিয়ে রায়হানের হাতে ধরায় দিল  tongue_smile । আর দৌড় দিয়ে চলে গেল একটা গাছের আড়ালে।  (আমার কাছে সব সিনেমার ট্রায়াল ভার্সন এর মত লাগছিল  lol  lol)

আমি খেয়াল করলাম সায়মার গাল বেয়ে টপটপ পানি পড়তেছে। ব্যাস এইবার শুরু হইসে আসল কান্না cry
রায়হানকে দেখলাম ভেবাচেকা খেয়ে গেল। মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিল। এত দ্রুত ঘটনা ঘটে গেল যে সেও মনের হয় বুঝতে পারছিল কি করবে tongue  (পিচ্চি গুলো কাঁদলে অনেক কিউট লাগে, মায়াও লাগে big_smile )

রায়হান কি জানি কিছুক্ষন ভাবল। পরে বেঞ্চ এর উপর রাখা আর একটা কাপ নিয়ে সায়মার কাছে গেল। সায়মা ওকে কাছে যেতে দেখেই বলে, “এই কাছে আসবি তো মাইর দিব”। tongue 
রায়হান ওইখানে দাঁড়ায় ওকে অনেকবার স্যরি বলে। তাতে খুব একটা লাভ হৈয়ছে বলে আমার মনে হয় না শেষ-এ বলল,  “তুই কান্তে পারস!!! আমি তো এটা আগে জানতাম না। কান্নাকাটি কবে শিখলি!”  tongue_smile tongue_smile

সায়মা কান্না জড়ান চোখেই রাগরাগ ভাবে রায়হানের দিকে তাকালো। (আমার দেখা বাচ্চাদের শ্রেষ্ঠ ভঙ্গি big_smile )
পরে রায়হান বলে, "হইসে আর কাঁদিস না... তোর নাক কালো হয়ে গেছে কান্তে কান্তে" hmm ( আমি বুঝলাম না নাক লাল হতে পারে কালো!!!!!:/ )

বলা মাত্রই সায়মা নাকে হাত দিল। তারপর হটাৎ ফিক করে হেসে দিল। wink
রায়হান পরে ওই একটা কাপ আগায় দিয়ে বলল “নে তোর আইসক্রিম। আমারটা তো আমার মাথা খেল। শেয়ার করবি এখন?!”   big_smile big_smile
ভাব হয়ে গেছে। ঝগড়া শেষ। wink

আমার দিকের মুখ করে ওরা ছিল বলে পুরো ব্যাপারটা উপভোগ করছি। big_smile big_smile

ওদের আইসক্রিম শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি আড়ালেই ছিলাম। খুব বেশি দূরে ছিলাম না। আমি আসতে আসতে ওদের কাছাকাছি গেলাম। আমি আর বলি নাই এতক্ষন  যা হইসে সব দেখেছি।   

রায়হানকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কি রে, এইঅবস্থা কেন? আইস ক্রিম কি মনস্টার হয়ে হামলা করসে?'
সাথে সাথে উত্তর, “না আন্টি ওই কিছু ছেলেরা খেলতে খেলতে ধাক্কা দিসে, তো মাথায় লেগে গেসে” , বলেই রায়হান সায়মার দিকে আড়-চোখে ইশারা করছে; চোখ টিপে আর মাথা নেড়ে; যাতে সে কিছু না বলে। tongue   tongue
আমার এত হাসি পাচ্ছিল, কষ্ট করে সামাল দিলাম hehe

পরে ওদের কে নিয়ে গেলাম ওদের মা-দের কাছে। সোমা ভাবী তো অবাক ছেলে এই অবস্থা দেখে। tongue রায়হান আমাকে যা বলল তাই তার মাকেও বলল। big_smile tongue  আমিও তার কথার সুর মিলালাম।
বন্ধুত্বের একটা দাম আছে না!!!! wink সায়মা একদম চুপচাপ। কোনায় দাঁড়ায় আসে যেন কিচ্ছু জানে না।

পরে কী আর। আমার আজকের মত পার্কে ভ্রমণ শেষ। তাদের বিদায় জানায় আমি আমার বাসার দিকে রওয়ানা হলাম।
সূর্যের কড়কড়া তেজের ভেতরে সারা রাস্তা এই পিচ্চি গুলোর কথা ভাবছিলাম আর আপন মনে হাসছিলাম। 

ছোটবেলার কতনা মজার মজার মুহূর্ত আছে আমাদের সবার। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব কেমন জানি ফিকে হয়ে যায়......

স্মৃতি গুলো থেকে থেকে অনেক নাড়া দেয়।

(১৭/০৩/২০১৩)

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

বাচ্চাদের কাহিনীতে সবচেয়ে বেশি মজা পাইলাম big_smile আপনার হাতের লেখা আর লেখার স্টাইল দুইটাই বেশ ভাল, তবে বানানের প্রতি আরেকটু যত্নবান হউন smile

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

আমার আবার ক্লাশ ওয়ানে এ ভর্তি হওয়া লাগবে। sad  এই বানান এর জন্য। থাঙ্কু ভাইয়া...
মাঝে মাঝে একটু ওয়ার্নিং দিয়েন। বানান কি বেশি ভুল হইয়েছে? sad কই যাই আমি।  cry

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

ভাল লিখেছেন।  clap

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

আমিত ভাইয়া, আর একবার যদি কষ্ট করে পড়ে দেখতেন!!! বানান বসে বসে ঠিক করলাম। sad দেখেন তো এবার ঠিক আছে নাকি? sad


ইলিয়াস ভাইয়া, কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। smile কিন্তু অনেক বানান ভুল ছিল।   neutral

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

@ Jol Kona, আরে এত কষ্ট করে বানান ঠিক করার কি দরকার ছিল (আমাকে আবার কষ্ট করে পড়তে হবে কিনা tongue_smile )। আমি সাধারনত কারো বানান ভূলের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলিনা, কারণ আমি নিজেই বানান ভূলের মাস্টের tongue যাই হোক বলেই যখন ফেলেছি, তাই আপনার টপিক আবারো একবার পড়লাম। আগের চেয়ে ভাল, তবে......
"ফুলের গন্ধে জায়গা টা মো-মো করছে"- এখানে মো-মো এর জায়গায় "মৌ-মৌ" হবে
টপিকের শিরোনাম "ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অন্তঃ পর" - এখানে অন্তঃ পর এর জায়গায় মনে হয় "অতঃপর" হবে dream

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

big_smile big_smile thank u ভাইয়া big_smile big_smile কষ্ট করে দেখার জন্য আর ............... এই ওয়ার্ড গুলো আবার ছুটে গেল কি ভাবে? sad ......... আমার দেখি আবার প্লে-গ্রুপ এ ভর্তি হতে হবে :'(

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

চমৎকার লিখেছেন , বিশেষ করে পিচ্ছিগুলারটা ...

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১৮-০৩-২০১৩ ১৩:৫২)

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

উপভোগ্য লেখা।

ম্যালা দুর হাঁটছেন দেখা যায়! কই নিকেতন পার্ক আর কৈ গুলশান পার্ক -- প্রায় ৪ কিলোমিটার। সব মিলায় ৮ কিলোমিটার! ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদারে হাঁটতে আসলেই খুব মজা লগে।

একটা জায়গায় খটকা আছে -- গুলশান লেকের পাশ দিয়ে হেঁটে নিকেতন পার্কে পৌঁছিয়েছেন? নাকি বনানী লেক?
এখানে ক্লিক

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (১৮-০৩-২০১৩ ১৪:০৭)

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

Jol Kona লিখেছেন:

big_smile big_smile thank u ভাইয়া big_smile big_smile কষ্ট করে দেখার জন্য আর ............... এই ওয়ার্ড গুলো আবার ছুটে গেল কি ভাবে? sad ......... আমার দেখি আবার প্লে-গ্রুপ এ ভর্তি হতে হবে :'(

আমার স্পেলিং ও জঘণ্য ইভেন অনেক ভালো রাইটার আছেন যাদের স্পেলিং ভালনা খুব একটা সেজন্য পিছিয়ে থাকা চলবে না লিখে যান   thumbs_up আপনার লেখনী ভালো ছড়া টড়াও লিখেন নাকি? কেমন যেন একটা amusing touch throughout গ্রেইট জব!!!

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন টমাটিনো (১৮-০৩-২০১৩ ১৪:০১)

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

সকাল বেলাই পড়েছি কিন্তু অলসতার কারনে কমেন্ট করতে পারিনি । Mac এ বাংলা লিখতে গেলে..  brokenheart
ভালো লিখেছেন এবং খুব মজা পেয়েছি । আসলে ফোরামে এমন ধরনের লেখা খুব মিস করেছি ।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

এমিউজিং টাচ থ্রুআউট গ্রেইট জব

ইয়ে. মানে.. ভাই.. একটু বাংলা.... mail tongue

  Tenacity - Focus - Discipline - Repetition

   Sabbir's Blog 

১২

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

টমাটিনো লিখেছেন:

সকাল বেলাই পড়েছি কিন্তু অলসতার কারনে কমেন্ট করতে পারিনি । Mac এ বাংলা লিখতে গেলে..  brokenheart
ভালো লিখেছেন এবং খুব মজা পেয়েছি । আসলে ফোরামে এমন ধরনের লেখা খুব মিস করেছি ।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

এমিউজিং টাচ থ্রুআউট গ্রেইট জব

ইয়ে. মানে.. ভাই.. একটু বাংলা.... mail tongue

বাংলায় লিখতাম পুরো লেখাটায় কেমন যেন মজাদার ভাব? বা রসালো ছোঁয়া? দুইটাই কেমন যেন শোনায় তাই ভাল অল্টারনেইটিভ আমার জন্য যা লিখেছিলাম তাই

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৩

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

বাহ! দারুন লিখেছো জল কনা  clap clap
আরো লিখ আর লিখতেই থাকো অবিরত  mail
বহু কষ্টে চোঁখের পানি মুছতে মুছতে থেমে থেমে পড়লাম , এতো ইমো ব্যাবহার না করাই ভাল জলকনা।
আমি আবার কানা মানুষতো পড়তে অনেক কষ্ট হয়।।

মানুষ মাত্রই মরন শীল , কিন্ত নশ্বর নয় ।।

১৪

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

অমিত ০০৭ লিখেছেন:

বাচ্চাদের কাহিনীতে সবচেয়ে বেশি মজা পাইলাম big_smile আপনার হাতের লেখা আর লেখার স্টাইল দুইটাই বেশ ভাল, তবে বানানের প্রতি আরেকটু যত্নবান হউন smile

omi apnar comment ta te lekhikar proti shroddha chilo.. kowshole onar vulgulor kotha bolechen. amio edhoroner kowshol bakker proti shorddhashil.......... onekei dekha zay comment koren shudhu vul gulo niye but post ti shomporke kichu bolen na eta amar kache thik mone hoy na.........

jolkona apnar likhati valo legeche ...........

btw: phonetic kaj korche na tai banglay likhte parchi na.

ভালোবাসা উষ্ণতা জাগায় বটে......
তবে এ কাজটি দ্রুততার সাথে করে ভদকা.......

১৫

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

ভোর বিহানে পার্কে পার্কে ঘূর্ণিপাক খাইয়া অবশেষে বারোটা বাজাইয়া যখন ক্লান্ত পদে জল কইন্যা অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলেন , তখন মা জননী ক্ষিপ্ত হইয়া যাহা কহিয়াছিলেন , তাহা শুনিবার বাসনা জাগিতেছে ! অন্তঃপর কি হইল গো ? !!

জানি আছো হাত-ছোঁয়া নাগালে
তবুও কী দুর্লঙ্ঘ দূরে!

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

কন্টেন্ট দেখি এখন পিচ পারফেক্ট! tongue পরে উপরে এডিটরের নাম দেখলাম  smile

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

আচ্ছা, বাচ্চা দুটির বয়স কত ছিলো? এ তো সেইরকম ব্যাপার hehe আহ, ভালোবাসা মনে হয় এরকমই হয় blushing বাচ্চা, জোয়ান, বুড়ো - সব মিথ্যাতে মজে রয়  kidding tongue_smile
আপনার লেখার ধরণটা সুন্দর thumbs_up লেখায় ধরে রাখার একটা ব্যাপার আছে। আরো লিখুন।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (১৮-০৩-২০১৩ ২১:৩৩)

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

উদাসীন ভাইয়া, অনেক অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কষ্ট করে আমার এত গুলো বানান ঠিক করার জন্য।  dontsee
রায়হানের ৭, সায়মা ৬


পরিবেশ প্রকৌশল, "একটা জায়গায় খটকা আছে -- গুলশান লেকের পাশ দিয়ে হেঁটে নিকেতন পার্কে
পৌঁছিয়েছেন? নাকি বনানী লেক?" 
thinking thinking thinking confused confused confused
যেহেতু এই লেকটা বনানী ক্রস করে নিকেতন গেছে............ তো এটা বানানী লেক হবে।  neutral আবার মিস্টেক। surprised  আমার বাসা পাশের লেক এর নাম ও দেখি  আমি জানি না surprised ... sad


আহমাদ মুজতবা, big_smile ............ আমি ছড়া লিখতে পারি না। sad   কিন্তু এই সায়মা পারে অনেক সুন্দর সুন্দর ছড়া।     

টমাটিনো,, ইলিয়াস, সাইফুল_বিডি smile smile smile ধন্যবাদ

রহস্য মানব, ব্যাপারটা মাথায় রাখলাম। smile

কোথাও কেউ নেই, ভাইয়া ...... aaaaa......aaaaaa...... no jhorga ...plz........  hmm  vhul na dhoray dele bujbo kamne amr vhul gulo kothay? sad eta to valo.... khali valo comment dele hobe !!!! tongue amr bangla typinge somosha ase ... likhe likte asha kore thik hoye jabe.. tongue ..apnake obolce.. amr likhay vhul thakle oboshi obshoi bolben... smile ......sober shojogita chai........ shathe thakben... smile



জামিল মণ্ডল, আমার ছোট ভাইয়া (আমার আগের জন) থাকাতে আম্মা কিছু বলে ্নাই yahoo  yahoo বেঁচে গেছি

১৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jemsbond (১৯-০৩-২০১৩ ১৪:২৮)

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

খুব ই ভাল লিখেছেন , সকালে বিছানায় শুয়ে শুয়ে লেখাটা পড়েছিলাম কাল । কিন্তু কমেন্টাইতে ভুলে গেছি  tongue_smile । যাই হোক মূল কথায় আসা যাক , পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো । আমি ও এমনি সকালে চলে যেতাম রমনায় । ঘুরে ঘুরে বেড়িয়ে পরে ফিরে আসতাম ২ টেকার হালুয়া পরটা খেতে খেতে  big_smile

ভোরের আমেজ নষ্ট করতে ইচ্ছুক না আমি, এই সেলফোনের জন্যে। বাসার সবাই ঘুম, তাই আর কাউকে আর জাগালাম না। চিরকুটে লিখে গেলাম, 'পার্কে যাচ্ছি, ঘণ্টা-খানের মধ্যে চলে আসব'

এভাবে কোন ছেলের হাত ধরে চলে যাবার আগে লিখে রাইখেন - মা চলে যাচ্ছি ২/৩ মাস এর মধ্যেই ফিরে আসবো  tongue tongue

চিরকুট এর লেখাটি পরে আমার আম্মুর কথা মনে পড়ে গেলো । আমার আম্মুর সাথে আমার ঝগড়া হইলে আম্মুর সাথে আমি কথা বলা বন্ধ করে দিতাম , আম্মু ও কথা কইতো না । ঐ সময় রাতে আমি প্রায়ই না খেয়ে ঘুমিয়ে যেতাম । আম্মু অনেক হুমকি ধামকি দিয়ে শেষে আদর করে ও ডাকতেন বাট আমি একেবারেই গোয়ার টাইপ ছিলাম । গেডি একটা বেহা কইরা কইতাম " খাইতাম না , উহুউ " ।

আম্মু বলতেন - " না খা , আমার কি । অসুখে পড়লে মাইর মাইর । ( কথা গুলো এখন ও অনেকেই বলেন  wink  )


সকালে আম্মু ভাতের প্লেটের উফর ছোট্ট চিরকুটে ( চিরকুটটা আসলে আমার বাংলা খাতার শেষের পেজের লাস্টের কুনা দিয়ে ছিড়া )  চোখের ভ্রু তে দেয় যে এক ধরনের পেন্সিল সেটা দিয়ে গোডা গোডা হরফে লিখে রাখতেন -
-
-
ভাত খাইয়া ভাল মানুষের মতন পড়তে বসবি  sad sad

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (১৯-০৩-২০১৩ ১৮:১৪)

Re: ভোর বেলায় পার্কে পার্কে ভ্রমণ, অতঃপর......

Jemsbond আঙ্কেল

"আম্মু বলতেন - " না খা , আমার কি । অসুখে পড়লে মাইর মাইর । ( কথা গুলো এখন ও অনেকেই বলেন  wink  )"


আমার আম্মাও একটা কথা বলে প্রায়ই; আমরা ভাই-বোন রাগ করলে অথবা আব্বা আম্মার মধুর ঝগড়ার পর খাবার সময় হইলে wink , "রাগ হইসে ভালো হইসে। কিন্তু ভাতের লগে রাগ কিসের!!! ভাত রাগ করলে কিন্তু গলা দিয়া পরে ভাত নামবো না।"  wink 

ব্যাস, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় tongue ব্যাপার টা তাই।  একটু পিড়া-পিড়ি করলেই হইসে রাগ ঠুস। tongue
তো সকালে রাগা-রাগি হইলে দুপুরে খাবার টেবিলে সব ঠিক, আবার বিকালে রাগা-রাগি হইলে রাতের খাবার টেবিলে সব ঠিক। 

Moral of the Story হইলো big_smile big_smile খাবার এমন একটা জিনিস যা দিয়ে দুনিয়ার আধা কাজ উধার করা যায়  hug

আপনার স্টোরি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ smile smile