টপিকঃ শাহবাগের পথে...

শাহবাগের পথে...

   ট্রেনটা ধীরে ধীরে থেমে গেলে নিলুফার আখতার জানালা দিয়ে মুখটা বাড়িয়ে দিলেন। যদিও নিশ্চিত না কাকে খুঁজছেন তবে কাউকে না কাউকে তো প্রত্যাশা করেই ফেলেছেন। বুড়ো বয়সের এই হয়েছে ঝামেলা – না চাইলেও যুক্তিহীন কিছু আবেগ এসে হানা দিয়ে ফেলে। এই নির্মম শহরে কে তাঁর জন্য প্রতীক্ষা করে থাকবে?

   সত্তুরোর্দ্ধ এই বৃদ্ধা একাই ভ্রমণ করছেন। আন্তঃনগর ট্রেনটিতে তাঁর আশেপাশের যাত্রীদের বেশ অবাকই করেছে। কেউ কেউ যেচে পড়ে কাহিনি জানার চেষ্টাও করেছে। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্বের যে একটা ভার আছে, তাতে উটকো সব কৌতূহল পরাজিত হয়ে গেছে। এমনিতেই বেশ হাসি খুশী। কিন্তু কী একটা যেন সম্ভ্রম আদায় করেই ছাড়ে!

‘কী খালাম্মা, নামবেন না? এসে গেছে তো!’
মোটাসোটা দুই বাচ্চার জননী মেয়েটা তাড়া দিলে সম্বিৎ ফিরে পান নিলুফার।
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ নামছি। কী কাণ্ড এসেই তো গেছে! তোমরা আবার দেশে গেলে আমার বাড়িতে আসবে, কেমন?’
‘আপনার জন্য কেউ কি আসবে? মনে হলো খুঁজছিলেন কাউকে?’
‘না, কে আবার আসবে? না, না কাউকে খুঁজছি না!’ শেষের কথাটা কি অভিমানের মত শোনাল?
‘দাঁড়ান, আপনার ব্যাগটা নামিয়ে দেই......’
‘তার দরকার হবে না। হালকা একটা ব্যাগ – আমিই পারবো। ধন্যবাদ তোমাকে!’
‘আসি তাহলে? খোদা হাফেজ। ঠিকানা দেয়া আছে। চলে আসেন একদিন। খুব খুশী হবো’

   মেয়েটা চলে গেলে বিষন্ন হয়ে যান নিলুফার। কেমন আপন করে নিলো অল্প ক’টা ঘন্টার ভেতর! শুধু তাঁর আপনজনদেরই কোনো পাত্তা নেই! অবশ্য কারো তো জানার কথা না। জানলেও কি আসাটা পছন্দ করতেন?

   এই ইট কাঠের শহরে থাকা তাঁর একমাত্র ছেলে ক’বেই পর হয়ে গেছে। মায়ের মন থেকে থেকে কেঁদে উঠলেও ছেলের অপরাধ তো আর মেনে নিতে পারেন না। একাত্তরের শহীদ পিতার সন্তান কিনা হাত মিলিয়েছে রাজাকারদের সাথে? ব্যবসা আর বিত্তবানের উচ্চ সামাজিক স্তরের উচ্চাকাংখা অন্ধ করে দিয়েছিলো শফিককে। এই লজ্জা লুকানোর কোনো জায়গা ছিলো না; আজও নেই! হয়তো তাঁরই দোষ – সঠিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে পারেন নি! কিন্তু স্মৃতি হাতড়ে এই ব্যর্থতার কোনো হদিশ বের করতে পারেন না। শফিক কেন যে এমন হয়ে গেলো!

   ট্রেনটা আবার ছেড়ে দিয়েছে। বাস্তবে ফিরে আসেন নিলুফার। চশমার কাচটা শাড়ির আঁচল দিয়ে একটু ঘঁষে নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কত কী ভেবেছিলেন ছেলেকে নিয়ে। সেসব আজ চাওয়া-পাওয়ার ভাগাড়ে ঠাঁই নিয়েছে। চোখটা যেন ছলছল হয়ে যায়! আজ কী হয়েছে তাঁর? কেন এমন লাগছে? একটা মহান কাজের অংশীদার হতে এই বুড়ো বয়সে এতটা হ্যাপা সয়ে এসেছেন। এখন সেটাই ভাবা উচিত। এসব সিলি ব্যাপার নিয়ে পরে ভাবলেও চলবে! ব্যাগটা উঠিয়ে নিয়ে হাঁটতে থাকেন।

   হাঁটতে হাঁটতেই আবার ভাবতে থাকেন। আচ্ছা, শুনেছেন ওঁর নাকি একটা নাতি হয়েছে। দুর্ভাগ্যই বলতে হবে -হতভাগার মুখটাই দেখা হয়ে উঠলো না! কত বয়স হবে? বাইশ? না, চব্বিশ বোধহয়। এহ, তাহলে তো বেশ বড় হয়ে গেছে। সকল মান-অভিমান, ঘৃণা ছাড়িয়ে নাতিকে দেখার জন্য বুকটা কেমন মুচড়ে উঠলো হঠাত! এই শহরেই আছে অথচ দেখা হবে না কিংবা ওরা দেখা করতেই চাইবে না! নিজেকে হঠাত বড় নিঃস্ব মনে হতে থাকে। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে আত্মাভিমানের ফানুস ফুটো করে দেবে মনে হচ্ছে! দূর, কী সব ভাবছে?

   দূর থেকে সব খেয়াল করছিলো আরুষ। মণি আপার পাঠানো ছবি যদি সঠিক হয়ে থাকে, তবে উনিই হবেন। ডেঞ্জারাস বুড়ি! এতদূর একাই এসেছেন...বলে কিনা শাহবাগ যাবে! সাহস আছে বলতে হবে। একটা অদ্ভুত গর্বে বুকটা ভরে যায়। রক্ত ছলাত করে ওঠে...দাঁড়াও আসছি...

   হঠাত হাতের ব্যাগটা হাতছাড়া হয়ে গেলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান নিলুফার। প্রথমেই মাথায় আসেঃ এ শহর গুন্ডা বদমাইশে ভর্তি – ব্যাগটা কি ছিনতাই হয়ে গেলো? এই দিনে দুপুরে? অবশ্য পরক্ষণেই হেসে ফেললেন। কী আছে ওতে যে নিতে হবে – কয়েকটা শাড়ি ব্লাউস, জায়নামাজ, বই ইত্যাদি। কে নিলো তাকিয়ে দেখতেই ধাক্কা খেলেন – এ তো মোটেই ছিনতাইকারি মনে হচ্ছে না! বেশ হ্যান্সাম – মুখের আদল কি তাঁর নিজের মত অনেকটা? কী করে?

‘এই ছেলে, ব্যাগটা নিলে কেন, দিয়ে দাও বলছি!’
‘দিবো না, কী করবে? চিল্লালে চিল্লাও...তবে, ব্যাগটা আমিই বহন করবো’
‘মানে? কে তুমি?’
‘বুড়ি, তোমার চোখ একেবারেই গেছে! আমাকে দেখে কি মনে হচ্ছে না আয়না দেখছো  হা হা হা’
‘বেয়াদব কোথাকার! কী যা-তা বলছো?’
‘আহ, এত রাগ করতে হবে না...’ বলেই আরুষ ঝট করে জড়িয়ে ধরে নিলুফার আখতারকে।
‘দিদা, আমি আরুষ... রাগ করো না...একটু থাকি এভাবে কিছুক্ষণ? তুমি এত কঠিন কেন? আমাকে কি একবারও দেখতে ইচ্ছে হয় না?’

   নিলুফার আখতার পাথর হয়ে যান। এ কি সত্যি? সত্যি সত্যি তাঁর আজকের ভাবনাটা বাস্তব হয়ে গেলো দেখি! আরুষ, আহ, আরুষ! আমার নাতি আরুষ! মনে হলোঃ বুকের ধু ধু শূন্যতায় পূর্ণতার পেঁজা তুলো পড়ছে! আরুষের হৃৎস্পন্দন মনে হলো কত দিনের চেনা! চোখে মমতার বান ডেকে গেলেও ধ্মকে উঠলেন,
‘সর দেখি! কী আদিখ্যেতা করতে লেগেছে! উহ, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না!’
আরুষ তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিয়ে উতকণ্ঠিত হয়ে ওঠে।
‘নিঃশ্বাস নিতে পারছো না? দিদা, পানি খাবে একটু?’
‘না, না আমি ঠিক আছি। আচ্ছা, তুই কি সত্যি সত্যিই আরুষ? চিনলি কীভাবে? আশ্চর্য!’
‘আগে কথা দাও কিছু বলবে না তাহলে বলবো...’

   এই বয়সে বেশি কৌতূহল চেপে রাখার শক্তি নেই নিলুফার আখতারের। তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে যান। তখন আরুষ ওর হ্যান্ডসেটে মণির একটা ই-মেল দেখায়। সেখানে একটা ফটোগ্রাফ দেখা যায় – সেটা নিশ্চিতভাবে নিলুফার আখতার –এর। শাহবাগে নিলুফারের ভ্রমণ নিয়ে উতকণ্ঠা আর কিছু অনুরোধ কিংবা আদেশ!  রাগতে গিয়ে কোনো এক অজানা কারণে রাগতে পারেন না। এই যে ভালোলাগছে এটা কীভাবে নির্লজ্জের মত অস্বীকার করেন?

   নিলুফার আরুষের মুখটা দু’হাতে নিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। অস্ফুটে বলেন, ‘আরুষ, আমার আরুষ! কে বললো তোকে দেখতে ইচ্ছে করে না? সবসময়ই তোদের কথা ভাবি রে ভাই। বুঝবি না, এ তুই বুঝবি না!’
‘বুঝিয়ে দাও। বুঝিয়ে দিলেই বুঝবো। আমি আর ছোট নেই, বুঝলে? সব বুঝি!’
‘বাব্বাহ, বিরাট হয়ে গেছিস দেখি। হাতে-পায়ে বাড়লেই মানুষ বড় হয় না রে...মনে বেড়েছিস কিনা দেখতে হবে। বাদ দে... ব্যাগ যে নিলি...তা কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’
‘কোথায় আবার? বাসায় চলো’
‘সে সম্ভব না। ঐ ইতিহাস আমি এখন কী করে বোঝাই তোকে? আর আমি তো তোদের বাসায় থাকতে আসিনি। চেতনা আমাকে এই বয়সে এতদূর টেনে এনেছে। আমাকে শাহবাগ টানছে। শুনেছি এবং টিভিতে দেখেছিও – সব স্তরের মানুষেরা একাত্ম হয়েছে। এই গণজাগরণের কালে আমি কি ঘরে বসে থাকতে পারি? তোর দাদুকে হারিয়েছি একাত্তরে...এখন সময় সেই হায়েনাদের বিচারের... অবশ্য জানি না তোকে বলে লাভ কী? তোর বাবা হয়তো তোকে উল্টোটাই শিখিয়েছে!’

    আরুষ চুপ করে থাকে। কিছু বলে না। মনে ক্ষোভের ঝড় বইতে থাকে। শফিক আহমেদের বেঈমানির জলে আরুষ যেন একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ! শফিক শুধু নিজের আখের গোছাতেই সময় পার করেছেন। আরুষের প্রতি নজর দেবার সময় হয়ে ওঠে নি তাঁর। এটাই হয়তো বিপরীতে হিত হয়েছে। আরুষ নিজের সত্তাকে, নিজের মূলকে, নিজের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাসকে চিনতে, ভালোবাসতে শিখেছে। আরুষের মা-ও সাহস যুগিয়ে গেছেন। সায়রা আহমেদকে অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয়েছে। তিনি তাঁর না করতে পারা উচিত কাজগুলো আরুষকে দিয়ে করিয়ে একধরণের প্রায়শ্চিত্ত করতে চান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভালোভাবেই সঞ্চারিত করেছেন আরুষের মধ্যে। বুঝতে শিখলে ধীরে ধীরে দ্বন্দ্ব দানা বাঁধতে থাকে। আরুষ আঘাত করতে থাকে শফিক আহমেদকে। আরুষ এখন একটা স্রেফ দুরারোগ্য মাথাব্যথার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে শফিকের কাছে।

   কিন্তু আরুষ অত কিছু বলে না। কেবল বলে, ‘তুমি যা ভাবছো তা সত্য নয়, দিদা। আমি অমানুষ হয়ে যাই নি... খবর তো কিছু রাখো নি! তোমরা মা-ছেলে কেবল নিজের মতামতের অমিল নিয়ে এত মশগুল যে আমরা যে কেউ আছি, সেটা খেয়াল করেও দেখোনি কোনোদিন!’

হঠাত একটা রিনরিনে কণ্ঠ বেজে ওঠে।

‘ওফ, এসব রাখো তো, আরুষ। উনি অনেকদূর জার্নি করে এসেছেন, বিশ্রাম দরকার। কারো বাসায় যেতে হবে না; দিদা, আপনি আমাদের বাসায় চলেন তো!’

   নিলুফার এবং আরুষ – দু’জনেই মুখ ঘুরিয়ে তাকায়। মায়া মায়া টানা টানা চোখের শ্যামলা বর্ণের অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ের মুখে বিরক্তি খেলা করছে। বাসন্তি রংয়ের শাড়িটা তার তন্বী শরীরে মানিয়েছেও বেশ! মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেলেন নিলুফার। চোখ নাচিয়ে বলেন, 
‘আরুষ, কে রে এটা? এই যে মেয়ে কী নাম তোমার? তোমাদের বাড়িতে কেন যাবো বলো তো?’
‘আ...আমি শ্রেয়া। আরুষের বন্ধু। দিদা বলে ডেকেছি...গেলেনইবা। কেন আপত্তি আছে?’
‘অবশ্যই আপত্তি আছে। ভালো করে না জেনে কীভাবে বলি?’
‘দিদা, দেখতো পরিচয়ই করিয়ে দেই নি তোমাদের। ও আমাদের ইউনিতে পড়ে। দুই বছর জুনিয়ার। আমরা ভালো বন্ধু। বেশি ভাবতে হবে না...চলো তবে ওদের ওখানেই যাই...’  ফাঁপরে পড়েছে আরুষ।
‘হুম, বন্ধু তাই না? খুব ভালো বন্ধু? বুঝতে পেরেছি – আর বলতে হবে না’ অর্থবোধক একটা হাসি হাসতে থাকেন নিলুফার।
‘বেশি বুইঝোনা বুড়ি! তাড়াতাড়ি চলো’ আমতা আমতা হাসতে থাকে আরুষ। শ্রেয়াও তাড়া দেয়। কিন্তু  নিলুফার তাতে সায় দেন না।
‘আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে না। আমি তোদের মত ভেজাল খেয়ে বড় হই নি। এইটুক জার্নিতে আমার কিছুই হয় নি। আমাকে শাহবাগে নিয়ে চল। আমার আর তর সইছে না’
‘এখনই যাবে? তুমি তো দেখছি সুপারউম্যান!’
‘হ্যাঁ, এখনই যাবো। বেশি বকবক না করে একটা ট্যাক্সি ডাক’

   রাস্তাগুলো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এ শহর তো নিলুফারের অজানা নয়। যৌবনের কত স্মৃতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এর অলিগলিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রাবস্থার কথা মনে পড়ে যায়। রোকেয়া হল, ঢাবি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, কাজি নজরুলের সমাধি, পাবলিক লাইব্রেরি ইত্যাদি পেরিয়ে গেলে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন নিলুফার।

   অবশেষে শাহবাগ চত্বরের কাছাকাছি এসে থামে ওরা। নেমে পড়ে সবাই। লোকে লোকারণ্য। সবার চোখেমুখে একটা অদ্ভুত দীপ্তি! সর্বস্তরের মানুষ এসে ভিড় করেছে। সবার এক দাবী – যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চাই! মুহুর্মুহু শ্লোগানে প্রকম্পিত চারপাশ। প্রাণের গভীর থেকে উঠে আসা এ চাওয়া। এ চাওয়ার কোনো দল নেই, বর্ণ নেই, ধর্ম নেই – বাঁধ ভাঙ্গা তারুণ্যের মিলন মেলায় সমাবেত সবাই!

   নিলুফার আখতার সহসাই উদ্দীপ্ত বোধ করেন। সমস্ত ক্লান্তি নিমেষে উবে যায়। এই দাবীর বিশালতায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অনর্গল অশ্রু গড়াতে থাকে। যা অনেক আগেই করা উচিত ছিলো, কিন্তু তাঁরা করতে পারেননি। প্রবীণদের এই ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে অসম সাহসী আপোসহীন কিছু তরুণ পথ দেখাচ্ছেন। বলছেন সময় এসেছে এবার। রুখে দাঁড়াও সবাই। স্বাধীনতার শত্রুদের খতমের এখনই উপযুক্ত সময়। সকলের এক দাবি – বিচার চাই যুদ্ধাপরাধির!

   নিলুফারের কান্না বাড়তে থাকে। ঝাপসা চোখ আঁচল দিয়ে মুছতে মুছতে নিজের স্বামীর কথা মনে পড়ে যায়। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সেই বিভীষিকা কি ভুলবার মত! আরুষ আর শ্রেয়া খুব কাছে এসে দাঁড়ায়। আরুষ মমতা ভরে একটা হাত রাখে নিলুফারের কাঁধে।

‘আর কেঁদো না, দিদা! বিচার আমরা করবই করবো! তোমার ছেলে বেঈমান হতে পারে, কিন্তু তোমার নাতি তা নয়। স্বাধীনতার চেতনা তোমার মত আমিও ধারণ করি। শুরু থেকেই আছি এখানে। থাকবো যতদিন পারি। বিচার আমরা এই মাটিতেই করবো। নইলে সব শহীদের রক্ত বৃথা যাবে যে!’

   নিলুফার কিছু বলেন না। কেবল চেয়ে থাকেন এক দৃষ্টে আরুষের দিকে। আরুষ মানে হলো গিয়ে প্রথম সূর্য কিরণ। আরুষের তেজোদীপ্ত মুখের পেশিগুলোর দিকে তাকিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধেন নিলুফার। একটা বহুদশকের ভুলের ইতি টানবার যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, সেই আশাটির নবতর উষ্ণতায় তিরতির কাঁপতে থাকে তাঁর চোখের পাতা।

জয়তু শাহবাগ!!   

--------------------------------------------------------------------------------------------------
উদাসীন

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: শাহবাগের পথে...

হ্যাটস অফ এন্ড স্যেলুট।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: শাহবাগের পথে...

গল্পের বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু মন্তব্য করলাম না....
কিন্তু মণি আপার সম্বন্ধে কিছু জানার আগ্রহ ছিল আরকি...... কিছুই তো বললেন না তাঁর সম্পর্কে.....

গল্প-কবিতা - উদাসীন - http://udashingolpokobita.wordpress.com/
ছড়া - ছড়াবাজ - http://chhorabaz.wordpress.com/

Re: শাহবাগের পথে...

বাহ! বেশ লাগল গল্পটা। clap

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: শাহবাগের পথে...

এরকম কিছু একটাই আপনার কাছ থেকে আশা করছিলাম।
গল্পটা আমার মায়ের কথা মনে করিয়ে দিল। মা ছোট ভাইটিকে নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
আমি যা করতে পারিনি মা-ই তা করে দেখালেন! এমন মায়ের জন্য সত্যিই আমি গর্বিত।

বেদনাদায়ি, তবুও দিনান্তে যে তোমায় ভালবাসি!

Re: শাহবাগের পথে...

বড় সময়োপযোগী গল্প। আপনাকে ধন্যবাদ। চমৎকার লিখেছেন...

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

Re: শাহবাগের পথে...

অসাধারণ। খুব ভাল লাগল।

Re: শাহবাগের পথে...

চমৎকার লিখেছেন ভাই। আমি বাস্তবতার নির্মম প্যাসকেলে অতিষ্ট হয়ে কল্পনার ভাষা আর এত সহজ-সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারিনা তাই অনেক কিছু লিখবো-লিখবো করেও লেখা হয়ে ওঠেনা  sad
আমার নানী এখনো আমাদের সাথেই থাকেন এবং আমার যেহেতু আজকালকার জমানার লক্ষ্মী ছেলেদের মতন কোন গার্লফ্রেন্ড নাই কাজেই তিনিই আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। প্রতিদিনের নানারকমের হাবিজাবি কাজের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো নানীর হাতে বানানো আদা অথবা লেবু দিয়ে রঙ চা খাওয়া, তার সাথে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে(উনি এসব বিষয়ে খুবই জ্ঞানী  cool ) আজাইড়া গল্প করা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় ঢুলতে ঢুলতে ঘুমিয়ে পড়লে বারবার তাকে জাগিয়ে দেয়া। কিন্তু নানী প্রায় দেড় মাস হল ঢাকায় নেই জামালপুরে খালার বাসায় গেছেন। এই সময়ের মধ্যে ফোনে তার সাথে তেমন কোন কথা হয়নি শুধু ব্লগার রাজীব হায়দারের মৃত্যুর দিন তিনি কাঁদো-কাঁদো গলায় আমাকে ফোন করে বলেছেন- "ভাইয়া তুমি শাহবাগে আন্দোলন করতেছো জেনে আমরা এখানে খুব খুশি হইছি, কিন্তু ওদেরকে নাকি এখন ধরে ধরে মারতেছে তাই সাবধানে থাইকো বেশি অচেনা মানুষের সাথে মিশোনা ইন্টারনেটে উল্টাপাল্টা কিছু লিখোনা আর রাস্তাঘাটে গন্ডগোলের মধ্যে পইড়োনা।"  roll

যাইহোক এতকিছু লিখলাম কারণ মুখে না বললেও মনে-মনে এই দেড় মাসে অন্য যেকোন মানুষের চেয়ে আমি আমার নানীকে সবচেয়ে বেশি মিস করছি, আশি বছরের বেশি সময় ধরে নিজের সব আবেগ-অভিযোগ বিসর্জন দিয়ে আপন সন্তান-সন্ততি-নাতি-নাতনী-আত্মীয়স্বজন-পাড়াপ্রতিবেশিকে নিরলস সেবা করে আসা এই বুড়ি পৃথিবীর মাটিতে আর কতদিন বেঁচে থাকবেন তা আমি জানিনা এবং তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলে আমার জীবন-যাপন প্রক্রিয়া কেমন হবে তা আমি এই মূহুর্তে কল্পনাও করতে চাইনা।। brokenheart

অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ
ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল শ ষ স হ ক্ষ ড় ঢ় য়
ৎ ং ঃ ঁ

আলোকিত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: শাহবাগের পথে...

অসাধারন লিখেছেন ।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

১০

Re: শাহবাগের পথে...

@ আলোকিত ভাই: আপনার লেখা পড়ে দারুণ লাগলো।

কিন্তু আপনার আগের লেখা গুলির সাথে বর্তমান লেখাগুলির কোথাও যেন পার্থক্য আছে। নাকি আপনি অন্য লোক? isee

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১১

Re: শাহবাগের পথে...

সবাইকে ধন্যবাদ  hug

আসলে একটা তাগিদ থেকে লেখা। এতদূরে বসে আমার কী-ইবা করার আছে? তাই আমি আমার মত করে একটু অবদান রাখতে চাইলাম। আর আমার অবদান হয় একটা কবিতা নয়তো একটা গল্প। কবিতা হবে না - আমার টাইপ আলাদা। অতএব, একটা গল্পই লিখলাম smile

@অড়ুনদা, মণি আপা একটা গৌণ চরিত্র। বেশি কিছু বলবার নাই। তবে, মনে হচ্ছে মণি নিয়ে আপনার গোপন কোনো কাহিনি আছে wink
@অংকিতা, আপনার মায়ের জন্য আমার অশেষ শ্রদ্ধা রইল। উনাকে আমার সালাম জানাবেন।
@আলোকিত, নানির জন্য আমার ভালোবাসা রইল। উনার মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করলো। আমার এ গল্প তাহলে শুধুই একটা গল্প নয়! খুব ভালো লাগলো জেনে clap

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: শাহবাগের পথে...

আরণ্যক লিখেছেন:

নাকি আপনি অন্য লোক?

হা হা প গে

১৩

Re: শাহবাগের পথে...

আরণ্যক লিখেছেন:

কিন্তু আপনার আগের লেখা গুলির সাথে বর্তমান লেখাগুলির কোথাও যেন পার্থক্য আছে। নাকি আপনি অন্য লোক? isee

ভাই আমাকে যখন যে পাত্রে রাখা হয় তখন সেই পাত্রের আকার ধারণ করার প্রচেষ্টা করি। isee মোঘল আমলে আমি গরু ছিলাম কিন্তু এখন দেখি এনারা আমাকে ভাঁড় বানিয়ে দিয়েছে...  roll তাই হালকা ভাঁড়ামি করার চেষ্টা নিচ্ছি আরকি!  blushing hehe

অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ
ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল শ ষ স হ ক্ষ ড় ঢ় য়
ৎ ং ঃ ঁ

আলোকিত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১৪

Re: শাহবাগের পথে...

কিছু বলার নাই, অসাধারণ গল্প clap clap

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: শাহবাগের পথে...

thumbs_up thumbs_up চুম্র চুম্র উদা দা , বেফুক  clap

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

১৬

Re: শাহবাগের পথে...

দারুন লিখেছেন উদা দা
আমার আবার অন্য সমস্যা , আমি এই ধরনের লেখা লেখতে পারি না,  লেখতে গেলে সেটা না হয় গল্প ,ছোট গল্প বা উপন্যাস। তিনের মাঝখানে এসে থেমে যায়।আমার এক বন্ধু আমার এই ধরনের লেখার এক নাম দিয়েছে  ' জগাখিচুরি '

মানুষ মাত্রই মরন শীল , কিন্ত নশ্বর নয় ।।

১৭

Re: শাহবাগের পথে...

অসাধারণ একটি ছোটো গল্প,

১৮

Re: শাহবাগের পথে...

গল্পটি পড়ে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। প্রতিটা রাজাকারের ঘরে যদি একটি করে আরুষ জন্ম নিতো তাহলে রাজাকারদের বিচারের জন্য আজ এত আন্দোলন করতে হতোনা।

১৯

Re: শাহবাগের পথে...

দারুন লিখেছেন।

রেটিং ৭/১০

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

২০

Re: শাহবাগের পথে...

sondor laglo.