টপিকঃ নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

http://mag.alor-nishan.com/wp-content/uploads/cover-300x246.png
এক
প্রথম প্রকাশ এখানে
সবাই একসাথে মাঠে ক্রিকেট খেলছিলাম ।জমে উঠেছিল বেশ খেলাটা ।কিন্তু সেসময় ঘটল একটা ঘটনা ।হঠাত্ করেই একটা নীল ছায়া আমাদের সবাইকে ঘিরে ধরল ।আমি ভাল করে দেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না ।দু তিনবার চোখ কচলালাম ।এক রাশ নীলের ভেতর দিয়ে ঝাপসা ভাবে প্রকৃতিটাকে দেখা গেল ।হঠাত্ করেই নীল ছায়াটা চলে যেতে থাকল ।হুট করেই ।ঠিক যেমন ভাবে এসেছিল ঠিক তেমন করেই চলে যেতে থাকল ।একস� �য় ওটা চলে গেল ।ঠিক সূর্যটা বরাবর ।
আমি তন্বয় হয়ে তাকিয়ে ছিলাম ।সম্বিত্ ফিরে পেলাম শিলুর চিত্কারে ।
¤এই উলু কই ?
আমি দ্রুত তাকালাম চারদিক ।সত্যিই তো উলু গেল কই ? ও তো আমার পাশে দাড়িয়ে থাকা শিলুর পাশেই ছিল ।
দুই

উলুর বাড়ির কান্নাকাটি দু তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলল ।তারপর সবাই প্রায় ভুলে গেল উলুর নিখোজ হবারকাহিনী ।তবে আমাদের সাত আটজন বাদে উলুর নিখোজহবার সঠিক খবর কেউ জানেনি।আমরা আমাদের ছোট খেলার মাঠটা রাখতে বলেছিলাম যে উলু বাড়ি ফিরে আসছিল এরপরআর কিছু আমরা জানি না ।
মিথ্যা কথাটা এমন ভাবে বললাম যে কেউ না বিশ্বাস করে পারল না ।
উলু নিখোজ হবার চার সপ্তাহ পর আমরা খেলতে এলাম মাঠে ।তুমুল খেলা হলসেদিন ।ছ সাতটা ছয় হাকালাম আমি ।নিজের প্রতিভায় নিজেই অভিভূত হয়ে গেলাম ।আবার বল শুরু করল মিতুল ।বলটা স্টেম্পের অনেকে বাইরে ।দিলাম বারি ।
বলটা সাত আট হাত দূরে গিয়ে পড়ল ।মিতুল ছুটল বলটা আনতে ।আর এদিকে আমরাদৌড় দিলাম রান নিতে ।তৃতীয় রান নিয়ে থামলাম ।আর থেমেই থ হয়ে গেলাম ।শুধু আমি না ।সবাই ।সবারসামনে নীলছায়াটা বলসহ মিতুল কে উড়িয়ে সূর্যের দিকে নিয়ে গেল ।এমন সময় এখান দিয়ে যাচ্ছিল মিতুলের আকবর চাচা ।আমরা গিয়ে তাকে সব খুলে বলল ।চাচা গালে হাত দিয়ে কি যেন চিন্তা করতে লাগলেন ।
তিন

বিরাট জেরার মুখে পড়ে গেলাম আমরা ।সেকি জেরা!সকালের দাদুর কাছে দুপুরে মামার কাছে বিকেলে কাকুর কাছে আবার রাতের বেলায় ইয়া বড় পেট অলা পুলিশের কাছে ।সারাটা দিন কাটাল আমার এই করে করেই ।এরপর আবার ধমক তো দশ বারোটা খেলাম ই। সেদিন কেন বলিস নি হে? এ মস্ত বড় হয়ে গেছিস না?কি জাদরেল ছেলেরে পেটফুট কথা বেরোয় না ।
শেষমেষ ঘরকাপানো ধমকটা দিলেন পেট বড় পুলিশ টা , মিথ্যা কথার আর জায়গা পাসনা ?পোলাপান গুলা হুদ বেততমিজ ইত্যাদী ইত্যাদী…… ।
পুলিশ চলে যাবার পর হাফ ছেড়ে বাচলাম ওরে বাবারে মস্ত বড় একটা ফাড়া গেল ।
কিন্তু খাওয়ার টেবিলে খেতে গিয়ে বুঝলাম ফাড়া এখনো কাটেনি ।খেতে খেতে বাবার কড়া কড়া পুলিশের জেড়ার চেয়েও শক্ত কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হল ।বাবা হয়তো আমাকে আজ সারারাতই প্রশ্ন করতেন ।কিন্তু দেয়াল ঘড়িটা ঢঙ ঢঙ করে যখন জানান দিল রাতবারোটা তখন মা চেচিয়ে বললেন ,ওক এবার ছাড় !আজ সারটাদিন খুব কষ্টে গেছে ওর ।
এরপর বাবা খুব সহজ আর ছন্নছাড়া প্রশ্ন করলেন একটা ।বুঝলাম বাবা মাকে ভয় পান না এটা আমাকে বুঝাতে এই প্রশ্নটা করেছেন ।
চার

হঠাত্ রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ।আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম ।এখন তো ঘুম ভাঙ্গার কথা না ।এমনিতেই আমার ঘুম বেশ গাঢ় ।তাছাড়াসারাদিনের পরিশ্রম ।ঘুম তো ভাঙ্গার কথা না ।
লেপের নিচ থেকে হাত টেনে বের করলাম ।হাত ঘড়িটায় রেডিয়ামের আলোয় দেখে নিলাম তিনটা বাজে প্রায় ।আমি হাতটা লেপের ভিতর ঢুকিয়ে দিলাম ।ঠিক তখনই পট করে জানালার গরাদ টা খুলে গেল ।নীল রঙের একটা আলো মত ছায়া আমার রুম প্রবেশ করল ।আমি আবেশিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম ।ছায়াটা আমার চারদিকে ঘিরে ফেলল ।তারপর আমাকে ভাসিয়ে তুলল উপরে ।একদম উপরে ক্রমশ শুন্যের দিকে ।
মহাশুন্যের দিকে ।আমি নিচে আমার বাড়িটার দিকে তাকালাম ।ওটা আসতে আসতে ছোট হয়ে যাচ্ছে ।কিছুখন পর হাজারো বাড়ির ভিতর ওটা হারিয়ে গেল ।
উপরে চাঁদটার দিকে তাকালাম ।ওটা ক্রমশ বড় হচ্ছে ।প্রচন্ড বড় দেখা যাচ্ছে চাঁদটা ।কিছুক্ষণ আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলাম ।তারপর হঠাত্ চাঁদটাকে আর দেখতে পেলাম না । কেমন একটা ঠান্ডা আবেশ আমাকে জড়িয়ে ধরল ।যাএই শীতের মাঝেও আরামদায়ক ।আমি ঘুম চোখে শেষ বারে মত দেখে নিলাম সামনের দিকে ।দেখলাম সূর্যটা খুব দ্রুত বড় হচ্ছে ।তারপর তলিয়ে গেলাম গভির ঘুমের ঘোরে ।
কতখন ঘুমালাম ঠিক আমার মনে নেই ।আমার ঘুম ভাঙল একটা মিষ্টি গানের সুরে ।অদ্ভুত মন পাগল করা সুর ।আমি তখনো মহাশূন্য দিয়ে উড়ে চলেছি ।পিছনের দিকে তাকিয়ে কে গান গাইছে দেখার চেষ্টা করলাম ।কিন্তু দূরে একটা ছোট তার আর একরাশ কালো কালো শূন্য ছাড়া আর কিছুই দেখলাম ।গানটা তখনো চলছে ।অপরিচিত কিন্তু খুব পরিচিত সুর ।এ সুর যেন আমার জন্ম জন্মান্তরের চেনা ।সুরটা ক্রমশ আমার শরিরে আরামের পরশ বুলিয়ে যাচ্ছিল ।
এ গান আমাকে সব ভুলিয়ে দিচ্ছিল খনে খনে ।বার কি একটা সাদাকালো দৃশ্যপট ভেসে উঠছিল চোখের সামনে ।তারপর হারিয়ে গেল ।আমি বারবার হাতরাতে থাকি দৃশ্যগুলো পুনরায় দেখার জন্য ।এরজন্য আমি ভুলতে পারি সবকিছু ।এমন কি আমারবাসস্থান আমার পৃথীবিকেও।হঠাত্ করেই গানটা বন্ধ হয়ে গেল ।আরে! আরে !গানটাবন্ধ করল কে?কে করল বন্ধ?আমি প্রায় চেচিয়েই উঠলাম ।আমার মনে হচ্ছিল এই গান যদি এক মিনিটও না বাজে তবে আমি পাগল হয়ে যাব একদম বদ্ধ পাগল ।আমি ছটফট করতে লাগলাম গানটা শুনার জন্য । এমন সময় অদৃশ্য থেকে কে যেন বলল ,ভাল লাগছে গানটা?
কে কথা বলে কে ?কাওকে তো দেখছি না ।আমি ভয়ে জমে গেলাম ।এত ভয় পেলাম যে গানের কথাও ভূলে গেল ।
¤কে আপনি ? ভয়ের উপর কিছুটা সাহস ভর করে বললামআমি ।
¤আমি তোমাদের বন্ধু!অদৃশ্য থেকে আবার স্বরটা ।
স্বরটা আমার খুব চেনাচেনা লাগল ।আবার খুব অচেনাও মনে হল ?
আমি আর একটি প্রশ্ন করতে চাইলাম ঠিক সেসময় গানটা আবার বেজে উঠল ।আমার মুখের কথা মুখেই বিলিন হয়ে গেল ।ওটা আর বাইরে আসার ফুরসুত পেলনা ।গানের মাঝে আর নতুন কলি যোগ হল ।আশ্চর্য এই কলিটাগাওয়ার পর আমার প্রচন্ড ঘুম পেতে লাগল ।



পাঁচ

Nc-2

হঠাত্ একটা আলোর ঝলকানিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ।
চোখ মেলে তাকালাম ।নীলছায়াটা আর আমাকে ঘিরে রেখেছে না ।আর আমি মহাশূন্যেও নেই ।আমি চারপাশে আবার চোখ বুলালাম ।একোন মায়ার রাজ্যে চলে এলাম আমি ।বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালাম ।কি সুন্দর ঝরনা চারদিকে ।জায়গাটা মনে হলে পাহাড়ের ভিতর কিংবা অন্যকিছুর ভিতর ।আরো আশ্চর্যের বিষয় এখানকার সূর্যটা নীল ।পানি নীল এমন কি আমি এতখন যে বিছানায় শুয়েছিলাম সব কিছু নীল ।শুধু একটা জিনিস নীল না ।আর ওটা হচ্ছে আকাশ ।গাঢ় হলুদ রঙের আকাশ ।তারমাঝে নীল সূর্যটাকে একটা দু রঙা ছবির মত মনে হচ্ছে ।কিন্তু কাওকে তো দেখছি ।এইসব যখন আছে তখন প্রাণী তো থাকবে ।আর কেউ না থাকলে আমাকে এখানে আনল কে ?আমি চারপাশে চোখ বুলালাম ভালো করে ।যদি কাওকে পাওয়া যায় !কিন্তু চোখ বুলিয়ে অবাক হয়ে গেলাম আরো বেশি ।একি !একি তাজ্জব ব্যাপার !একটা গাছও নেই কোথাও ।তবে স্পন্সের মত নরম কি যেন গজিয়ে আছে সারা মাঠ জুরে ।এগুলোর রঙ ও নীল ।
¤কিরে অভি ?
কে যেন পিছন থেকে আমাকে ডাকল ।স্বরটা আমার অনেক পরিচিত বলে মন হচ্ছে ।আমি দ্রুত পিছন ফিরে তাকালাম ।দেখলাম অবাক বিস্ময়ে মিতুল আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।ঠিক তখন ওর পিছনের ঝরনার পানি যেন ফুরে দুটো হাত বেরোলো ।
ওটা উলু ।উলু কিন্তু আমাকে দেখে মোটেও অবাক হলনা বরং ও মিটি মিটি করে হাসতে লাগল ।

ছয় .

এদিকে অভিদের বাড়িতে হুলস্থল কান্ড ।কি অবাক করা কান্ড ।ছেলেটা গেল কোথায় ।কেউ কেউ বললঃ যে বাঁদর নিশ্চয় পালিয়েছে । আবার কেউ বললঃ সেই ছায়াটায় হয়তো ধরে নিয়ে গেছে ।
কিছুখন পর পুলিশদের বকতে বকতে প্রবেশ বুড়ো ওঝা ।এসেই ঝাটা নিয়ে নানা রকম অঙ্গিভঙ্গি শুরু করল ।তারপর গুরু গাম্ভীর্য কন্ঠে বললেনঃ এ নিশ্চয় পাজি লক্ষিছাড়া ভুষন্ডিরচরের হালুয়া ভুতের কান্ড । কিন্তু ওনার কথা কেউ কানেই নিলনা ।ওনি রেগেমেগে অনেক ঘাটাঘাটি করে পাচশটা টাকা খসিয়ে তারপর চলে গেলেন ।
অভির মা বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিল ।আর অভির বাবা তার অবস্থা আরও খারাপ ।চেয়ারে পুলিশের কথায় জবাব নিচু স্বরে দিতে দিতে তিনি ভাবনা আর চিন্তার গহ্বরে হারিয়ে গেলেন ।ওনার খালি ঘুরে ফিরে একই কথা আসছে পর পর তিনটা ছেলে গেল কয় ?

সাত .

¤আমরাতো এখানে বেশ ভালোই আছি !নির্বিক ভাবে বলল উলু ।
¤হ্যা কিন্তু …
কি যেন বলতে গিয়ে আটকে গেল অভি ।
¤আবার কিন্তু কিরে ?
¤ঐ মা বাবার জন্য আর সবুজ পৃথিবীটার জন্য মনটা ভীশণ পুড়েরে ! বেদনাবিধুর কন্ঠে বলল অভি ।
¤হ্যা হ্যা আমারও ।অভির কথায় সহমত জানাল মিতুল ।
¤তোমাদের স্যার ডাকছেন !ওদের পিছন দিকে থেকে একটা যান্ত্রিক স্বর ভেসে এল ।
চমকে ওরা পাই করে পিছনের দিকে তাকাল ।

একটা বানর আকৃতির অদ্ভূত প্রাণী যেন প্রায় ঝরনার জল ফোড়েই বেড়িয়ে এল ।
উলু বলল ,যাও আসছি ।
উলুর কথা শুনে মনে হল প্রাণীটাকে ও চেনে ।
আমি একরাশ প্রশ্ন সিক্ত চেহাড়া নিয়ে উলুর দিকে তাকিয়ে রইলাম ।উলু মৃদু মৃদু তখনো হেসে চলেছে ।
।।সাত ।।
প্রায় সারাদিনই অভিদের বাড়িতে বিজ্ঞানী,সাংবাদিক ,আত্নীয় স্বজনদের ভীর লেগেই রয়েছে ।অভির মা তো কেঁদে কেঁটে চোখের জলই শুকিয়ে ফেলেছেন ।অভির বাবার চোখের কোনে কালো কালো কালি পড়ে গেছে ।চিন্তায় চিন্তায় এক সপ্তাহের ভেতরেই যেন তার বয় দশ বছরবেড়ে গেছে ।আর প্যারালাইসিসে পঙ্গু হয়েযাওয়া অভির দাদীও থেমে নেই ।একটু পর পরই শোকে মাতম করে উঠছেন বুক চাপরেচাপরে ,আমার ভাই কই গেলরে…।কেডা আর কইব দাদু গল্পশুনাও …ও দাদু রাজার সেইকিচ্ছাটা কও ।
ওনার দিকে কেউ সহানুভুতির দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন আবার কেউ বিরুক্তির ।
।।আট।।
উলু বলনা ..!প্রায় অনুনয় বিনয় করতে লাগলাম আমি ।ভীষন পাজী আর হার হিরহিরে ছেলে ।
আবার কেমন শয়তানের মত হাসছে ।
কতখন থেকে প্রশ্ন করছি ঐ বানর মতন প্রাণীটা ওকে আড়ালে নিয়ে কি বলল ? কিছুতেই বলছেনা ।আমার ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল ।
প্রায় চেচিয়েই বললাম,শয়তান বলবি না ?আর অমনি ধাম করে একটা চড় পড়ল গালে।বসা থেকে একটু দূরে ছিটকে পড়লাম ।
ব্যাথায় ককিয়েও উঠলাম ।দেখলাম উলু বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে
।।দশ ।।

nillpahar
আমি তখনো বুঝতে পারছিলাম না আমাকে কে চড় দিল ।চোখ একবার চারদিকে ঘুড়িয়ে নিলাম ।উলু ছাড়া কাওকে দেখতে পেলাম না ।তাহলে কিউলুই চড় মারল ..?না তা তো হতে পারেনা ।ওতো আমার সামনেই ছিল ।হাত উঠাতেও দেখলাম না ।তাছারা ওর চোখেও আমার মতো অবাক বিস্ময় ।
ঠিক এই সময় অদৃশ্য হতে একটা স্বর ভেসে এল ।
¤আমি দুঃখিত জনাব আপনাকেআঘাত করার জন্য ।
¤কে …কে !আমি ব্যাথায় কুকাতে কুকাতেই বললাম ।
মনে হল না আমার কথা অদৃশ্য চড়দাতার কানে গেল ।ওনি ওনার আপন গতিতেই বলতে লাগলেনঃ আপনি যে গালি দিয়েছিলেন এতে মানবজাতির অপমান হয় ,আর আমরা যেহেতু মানব জাতির বন্ধু তাতে আমাদেরও অপমান ।
আমি চারদিকে আবার চোখ ঘুরিয়ে নিলাম ।নাহ্ চড়দাতাকে দেখা গেলনা ।
শুধু কাচভাঙা স্বরে শব্দ ভেসে আসছিল তখনো , আমাদেরএই নালাভি গ্রহের নিয়মানুসারে তথা নীলতারাগ্যালাক্সির নিয়মানুসারে কেও আমাদের অপমান সূচক কথা বললে আঘাতকরা আমাদের কাজ ।তবু মাফ করবেন ।কারন আমরা এই কাজের জন্য নীলাভরদারের কাছ থেকে অর্থ পাই তাই ওনার সাথে বিশ্বাস না করার কারনই
এই আঘাত করা ।
অদৃশ্য স্বরটা থেমে গেল ।উলু উঠে আমার কাছে এসে হাত ধরল ।ওর চোখ ছলছল ।অন্যসময় হলে হাতটা সরিয়ে নিতাম কিন্তু পাছে আরও একটা চড় গালে পড়ে তাইকিছু বললাম না ।
।।এগারো।।
অভি নিখোঁজ হবার একমাস প্রায় গড়াতেই চলল ।এতে উত্সাহের কিছুটা ভাটা পড়ল সবার ।তবে আর ছেলে যাতে ঐ সর্বনাশা নীলছায়ার কবলে না পড়ে তাঁর জন্য সর্তকতার অবকাশ রইল না ।
অভির মা ও নিজেকে কিছু গোছিয়ে নিয়েছেন অভির বাবার গুছিয়ে নেওয়ার কিছুদিন পরপরই ।তবে অভির দাদু কয়েকদিন পর পরই বুক চাপড়ে কেঁদে কেঁদে একাকার হোন ।
অভির দাদুর কান্নায় চোখ ভিজে আসে অভির বাবা মায়েরও ।
।।বারো।।
আমি ,মিতুল ,আর উলু খেতে বসে অবাক হয়ে গেলাম ।ভুলকথা ওরা অবাক হলনা অবাক হলাম আমি ।সব সুস্বাদ্য খাবার দাবার ।আমি খাবারে হাত দিতে যাব এমন সময় খসখসে গলায় কে যেন বলল,একি খোকা একটু সবুর কর ।
তাকিয়ে দেখলাম দরজা পার হয়ে একজন সাদা দাঁড়ী ওয়ালা জোব্বা পড়া একজন লোক প্রবেশ করল ।

জোব্বা পড়া লোক অদ্ভুত ।অদ্ভুত তাঁর আচরনও ।মুখটাতে তাকালেই কেমন শ্রদ্ধা জমে উঠে ।হয়তো সাদা সাদা দাড়িগুলোর জন্যই ।আর সবচেয়ে অবাক করার কথা হচ্ছে এলোকটা হুবহ মানুষের মত ।
দুই হাত ,দুই পা ,নাক,মুখ সব হুবহ মানুষ ।শুধু একটা জিনিস একটু অন্যরকম ।
চোখ দুটো ।চোখের মনিদুটো ।গাঢ় নীল মনি ।যেন ও দুটোর মধ্যে নীল রঙ্গের বাল্ব জেলে দিয়েছে কেউ ।
: এক মিনিট একটু দেড়ি কর খোকা ।
দ্বিতীয় বারের মত কথাটা বলল লোকটা ।একদম মানুষের গলা ।কোন যান্ত্রীকতা নেই ।
একটু একটু করে ঘরে প্রবেশ করল লোকটা ।
একটা নীলাভ আলোর ভরে গেলঘরটা ।
কেমন ঠান্ডা একটা অনুভুতি হচ্ছে এখন ।

লোকটা ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করল ।সেই সাথে নীল ছায়া আর ঠান্ডা আবেশটাও আরেকটু বেশি করে জেঁকে ধরল আমাদের ।
কেমন পরিচিত ঠেকল ব্যাপারটা ।কোথায় যেন ঠিক এমনই একটা ব্যপার ঘটেছিল আমার সাথে ।মনে পড়ছেনা এখন ।
সামনের নীল রঙ্গের গোল টেবিলের বাম দিকের অদ্ভুত আসনটায় বসে পড়ল লোকটা ।
একটা হাত রাখল টেবিলে ।
মুঠোবদ্ধ হয়ে আছে হাতটা ।
হাতের আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে ঠিকরে বেরুচ্ছে আলো।গাঢ় নীল আলো ।

==তের==

খক খক করে বাজে রকম একটা শব্দ করল লোকটা ।
ঠিক যেন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য কাঁশল ।
সবাই ওনার দিকে তাকালাম ।
খেয়াল করলাম ঘরের প্রত্যেকটা প্রাণীর দৃষ্টি ওনার উপর নিবন্ধ ।
এমনকি রোবট মত যন্ত্র দুটোরও;যারা এতখন খাবার পরিবেশন করার ক্ষেত্রে নিয়োজিত ছিল ।
: পৃথিবী থেকে আগত অতিথীদের আমার পক্ষ থেকে স্বাগতম ।
বেশ সুন্দর করে কথা শুরু করল লোকটা ।অনর্গল কথা নয়।একটু থেমে থেমে সময় নিয়েস্পষ্ট উচ্চারনের কথা ।
: আমি খুবই দুঃখিত যে তোমাদের এভাবে ধরে আনার জন্য ।আর এতদিন তোমাদেরকে রহস্যের ভেতর রাখার জন্য ।
তোমাদের আজকে সব খুলে বলা হবে ।এই রহস্যে আজ একটা কুল খুঁজে পাবে তোমরা ।
এতটুকু বলে থামলেন লোকটা ।সমস্ত ঘর জুড়ে পিনপতন নিরবতা ।একটা শ্বাসের শব্দও নেই কোথাও ।
আমাদের তিনজনের মত সবাই গোগ্রাসে শুনে চলেছেন লোকটার কথা ।
কে এলোক ?
তার প্রতি সবার এত আগ্রহ কেন ?
তাছাড়া আমাদের কেনইবা পৃথিবী থেকে ধরে আনল ?
কয়েকটা প্রশ্ন বেশ করে খোচাতে শুরু করল মগজে ।
দীর্ঘ ১ মিনিট পর লোকটা আবার মুখ খোলল ।
: পৃথিবী থেকে আগত অতিথীদের বলছি ।তোমাদের এই গ্রহে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে ।
আশা করি আমাদের সেই উদ্দেশ্য সফল করতে তোমরা আমাকে সহায়তা করবে ।
লোকটা একবার করে আমাদের দিকে তাকাল ।
আমরা তিনজনও মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম ।
হয়তো সবাই একই স্বরে প্রশ্ন করতে চাইলাম কি সে উদ্দেশ্য ?
: আমাদের উদ্দেশ্য বলার আগে তোমাদের আমাদের এই গ্রহ সম্পর্কে কিছু বলা দরকার ।
লোকটি বলা শুরু করল ।

ঘরজুড়ে চুপচাপ । কেউ একটু শব্দও করছেনা। সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছি লোকটার কথা।
: আমি মানুষ!
প্রথম কথাতেই চমকে উঠলাম। এ মানুষ! এলিয়েন নয়?
তাহলে এরা পৃথিবীর বাইরে কেন?
লোকটি একটু থামল। একবার করে আমাদের দিকে তাকাল।
তারপর আবার বলা শুরু করল ..
: সেটা প্রায় ১০০বছর আগের কথা। বিজ্ঞানী আশরাফ হায়দার বেশ নাম ডাক।
আশরাফ হায়দার নামটা কোথায় যেন শুনেছি।হ্যা মনে পড়েছে। বিজ্ঞান বইয়ে পড়েছিলাম। বিখ্যাত বিজ্ঞানি। ইনিই প্রথম এলিয়েনদের মানুষের সামনে নিয়ে আসেন।
তবে সেটা একবারই ছিল। প্রেজেন্টেশনের পর লাপাত্তা হয়ে যান উনি। এরপর আর কোন এলিয়েন পৃথিবীতে দেখা যায়নি।
: হুম! তোমার চিন্তা ঠিক আছে।
চমকে উঠলাম আমি। আমি কি চিন্তা করছি লোকটা জানল কি করে??
আমার হতবিহম্বল মুখ লোকটার দৃষ্টি এড়াল না। একটু মুচকি হাসলেন তিনি।
: থট রিডিং। আমার এ ক্ষমতা জন্মগতভাবেই আছে।
রহস্য ফাস করলেন যেন ।
: যাহোক যে কথা বলছিলাম, বিজ্ঞানী আশরাফ হায়দার আর ওনার আমলের আরেক বিখ্যাত বিজ্ঞানি আসিফ মহিউদ্দিন ওনাকে একদিন এলিয়েন রহস্য উদঘাটনের চ্যালেঞ্জ করে বসেন।

জানা কথা আমার।
: হ্যা আমি পড়েছি। সেই চ্যালেঞ্জ তো গ্রহন করেছিলেনও আশরাফ হায়দার। সেইমত ওনি এলিয়েন রহস্য উদঘাটনও করেছিলেন।
এই প্রথম কথা বললাম আমি। সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হল আমার দিকে।
একটু যেন লজ্জাও পেয়ে গেলাম।

: সবাইকে এলিয়েন দেখিয়ে একদিন তিনি এলিয়েনসুদ্ধ লাপাত্তা হয়ে গেলেন তাই তো?

আবার সবার দৃষ্টি ঘুরে গেল অদ্ভুত লোকটার দিকে। লজ্জার বদলে আমাকে আবার ঘিরে ধরল কৌতুহল। প্রচন্ড কৌতুহল।
কৌতুহল মিতুল আর উলুর চোখেও।
যেন একসাথে গ্রোগাসে সব কথা গিলে ফেলতে চায় ওরা।
মাথাটা ঝিন ঝিন করে উঠল আমার। হাজারো রহস্য একটার পর একটা ঘিট বাঁধছে মগজে।
লোকটার দিকে আবার মুখ তুলে তাকালাম।
: তারপর!
ওনার মুখ দেখেই বুঝতে পারলাম, পরে কাহিনী ওনার জানা।

: তারপর ওনি রহস্য হয়ে গেলেন তোমাদের পৃথিবীর মানুষের কাছে।
: ওনি তাহলে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন? সত্যিই কি ওনাকে এলিয়েনরা ধরে নিয়ে গিয়েছিল?
কৌতুহল দমাতে  না পেরে মিতুল বলে উঠল।
অদ্ভূত লোকটার মুখটা একটু উজ্জল হয়ে গেল।মাথা এপাশ ওপাশ করলেন।
: না।
: না? তাহলে। উনি কি মৃত্যু পর্যন্ত পৃথিবীতেই ছিলেন। সকলের চোখের আড়ালে? লুকিয়ে?
বলল উলু।
মাথা নেড়ে ওকে সম্মতি জানালাম আমি আর মিতুল। তারপর উত্তরের জন্য লোকটার দিকে তাকালাম।
এবারও উনি মাথা নাড়লেন।
: না ।
: তাহলে?
একটু মুচকি হাসলেন ওনি ।তারপর হাতটা বাতাসে তলোয়ার চালানোর পথ করে চালালেন।
একটু ঘুর্নি বাতাসের মত তৈরী হল ওখানে। একটু পরেই ঘুর্নির ভেতর দিয়ে লাঠি ভর করে বেরিয়ে এলেন এক বৃদ্ধ। চোখে চশমা।
দেখে তিনজনেই চমকে উঠলাম। বিজ্ঞানি আশরাফ হায়দার এখনও বেঁচে আছেন!

বাতাসের চক্রটা উধাও হয়ে গেল। লাঠিতে ভর করে বৃদ্ধ বিজ্ঞানী একটা চেয়ারে এসে বসলেন।
মিটিমিটি করে হাসলেন উনি।
: তোমরা নিশ্চয় আমাকে দেখে অবাক হচ্ছ??
অবাক যে হয়েছি তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
একটু থামলেন বৃদ্ধ। তারপর আবার বলা শুরু করলেন।
: আসলে কি জান? আমি এলিয়েন আবিষ্কার এখনও করতে পারিনি!!
দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল কথাটার সাথে।
: তাহলে!
প্রায় একসাথে বলে উঠলাম তিনজন।
: নিশ্চয় অবাক হচ্ছ। আসলে সেদিন এই অন্যায়টুকু করা ছাড়া আমার কোন উপায় ছিলনা।
গভীর বেদনা ফুটে উঠল বৃদ্ধ বিজ্ঞানীর চোখে।

আবারও কতগুলো প্রশ্ন খোঁচাতে শুরু করে আমাকে। এলিয়েন যদি নাই-ই আবিষ্কার করে থাকেন তবে উনি সবাইকে দেখালেন কি?
তাছাড়া উনি এত বছর বেঁচেই রইলেন কি করে?

: আসলে শয়তানটার জন্যই আমাকে এটা করতে হয়েছে।
বিড়বিড় করলেন তিনি। তারপর আমাদের দিকে তাকালেন।

: আসিফ মহিউদ্দিনের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে আমি একটানা তিনমাস অনাহারে অর্ধাহারে গবেষণা চালিয়ে যাই। কিন্তু….
কোনে কুল-কিনারা করতে পারলাম না আমি। এদিকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে আমার। তাই একদিন সীদ্ধান্তটা নিয়ে নিলাম।

একটু থামলেন বিজ্ঞানী। দুই হাতে ধরে থাকা লাঠিটা একপাশে রেখে চেয়ারে জুত করে বসলেন।
চশমাটা খুলে একবার শার্টে মুছে নিলেন।
তারপর আবার বলতে শুরু করলেন।
: তখন আমার হাতে ছিল ৬ মাসের মত সময়। ঐ সময়টাকে আমি কাজে লাগালাম নকল এলিয়েন তৈরীতে। মানুষের ভ্রুনকেই একটা বিশেষ প্রক্রিয়ায় বির্তন  ঘটিয়ে তৈরী করলাম নকল এলিয়েন। আর তাই-ই আমি প্রেজেন্টেশনে দেখালাম।
থামলেন বিজ্ঞানী।
: আর তা যাতে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা পরিক্ষা করে নকল তা বুঝতে না পারে এজন্য পালিয়ে এলেন এখানে? কিন্তু.. এখানের খোঁজ আপনি পেলেনই বা কি করে? আর এলেনই বা কি করে? এত বছর বেঁচেই রইলেন কি করে?

http://mag.alor-nishan.com/wp-content/uploads/Nc-5-300x246.png

: মূলত এই গ্রহটা আবিষ্কার করে এর বায়ূমন্ডল প্রাণীদের উপযোগী দেখেই আমি ভেবে নিয়েছিলাম এখানে প্রাণী আছে। এলিয়েন আছে। গোপনে গবেষণা চালিয়ে একটা এখানে আসার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলাম। তবে, তৈরী করলাম অদ্ভুত একটা যন্ত্র। যেটার সুর মানুষের বয়সকে স্থির করে দেয়।

: তারমানে?
জিজ্ঞাসু ভঙ্গিতে বলে উঠল উলু।
: মানে খুব সোজা। মূলত এখানে প্রচলিত যানে আসতে গেলে প্রায় হাজার বছর লেগে যাবে। তাই এক অদ্ভুত উপায়ে এখানে আসি। প্রথমে আমার ঐ যন্ত্র দিয়ে মানুষের বয়সকে স্থির করে ফেলি। তারপর এখানে আসি। এতে হাজার বছর লেগে যায় কিন্তু এর প্রভাবে পৃথিবী কিংবা মানুষের দেহের উপর পড়েনা।
: ঠিক কিভাবে?
: মূলত এই মেশিনটা একইসাথে টাইম মেশিনের কাজও করে থাকে। প্রথমে এটা তোমাকে সৃষ্টির আদিকালে নিয়ে যাবে। যখন মহাকাশ পুঞ্জিভূত ছিল।
তারপর এটা ডিটেক্ট করে ঠিক কোন জায়গাটা থেকে এই গ্রহটার সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে তোমাকে নিয়ে যাবে এবং অতিদ্রুত কাল পরিবর্তনের মাধ্যমে তোমাকে বর্তমানে নিয়ে আসবে।

: তাহলে একই পদ্ধতিতে আপনার বয়সও স্থির করে রেখেছেন।
: নাহ! এটা শুধু অতীতেই বর্তমান।
একটু মুচকি হাসলেন তিনি। আসলে এই গ্রহের আবহাওয়াই আমাকে দীর্ঘ জীবন দান করেছে।
যেমনটা তোমাদের হয়েছে!

: মানে?
: আসলে এই গ্রহের আবহাওয়ায় মানুষ প্রায় ২ থেকে ৩শ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

আরেকটা প্রশ্ন খেলে গেল মগজে। সেই অদ্ভুত লোকটার দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন করলাম,
: ইনি কে?
এবারও মুচকি হাসলেন বিজ্ঞানি।
: আমি ভেবেছিল ইতিমধ্যেই তোমরা বুঝে যাবে!

এবার ভাল করে অদ্ভুত লোকটার দিকে তাকালাম। মিতুল আর উলুর দিকে তাকালাম।
তাহলে? তাহলে? এই সেই নকল এলিয়েন?
হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে গেল প্রানীটার মুখ।
: ঠিক ধরেছ তোমরা।
হেসে উঠল প্রাণীটা। হেসে উঠলেন বিজ্ঞানী। যান্ত্রিক হাসি ছড়িয়ে পড়ল রোবট দুটোর মুখেও।

সব রহস্যের সুরাহা তো হল। তবু আরেকটা রহস্যের প্যাঁচ যেন কুড়ে খাচ্ছে আমাকে। আমাদের এখানে আনা হয়েছে কেন?

: তাহলে আমাদের এখানে ধরে আনা হল কেন?
প্রশ্ন ছুড়েই বসল মিতুল।
: হুম! ভাল প্রশ্ন। এখন শোন তাহলে তোমাদের কেন ধরে আনা হল।
বলতে শুরু করলেন বিজ্ঞানী।
: আসলে আমার জীবনের অধিকাংশই পৃথিবীতে কেঁটে গেছে। আর মনে হয়না বেশিদিন বাঁচতে পারব। কিন্তু আমার গবেষনা নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত।
যদিও, রোবো ১ আর ২ আর হোমিলেন আছে!

হোমিলেন কথাটা বলার সময় ইশারা করে নকল এলিয়েনটাকে দেখালেন।
তারমানে এটা নাম, হোমিলেন।

http://mag.alor-nishan.com/wp-content/uploads/nc-300x225.jpg

: তাও প্রজেক্টাকে সামনে এগিয়ে নিতে মানুষের খুব প্রয়োজন।
আর আমি তোমাদেরকে সমস্ত রিসার্চ সমেত পৃথিবীতে পাঠাব যাতে তোমরা তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে দিতে পার।

পরিশিষ্ট
এরপর বেশ কয়েকটা দিন আজব গ্রহটা ঘুরে দেখলাম আমরা।
সাথে সর্বক্ষন রইল হোমিলেন।
একে একে ঘনিয়ে এল বিদায়ের পালা। অশ্রুসজল চোখে বিদায় দিলেন বিজ্ঞানী আশরাফ হায়দার। ধীরপায়ে এসে যানে বসলাম। মৃদ্যু গুঞ্জন করে উঠল ওটা।
ভূ পৃষ্ট ছেড়ে উপরে উঠে চললাম।
তারপর একটা নীল ছায়া ঘিরে ধরল আমাদের। এগিয়ে নিয়ে গেল পৃথিবীর পথে। সামনে আমাদের অনেক কিছু করার আছে.. নকল এলিয়েন নয় আসল এলিয়েন খুঁজে বের করতেই হবে আমাদের।
অদ্ভুত সুরটা বেজে উঠল কোথাও। অদৃশ্য হোমিলেন ভেসে যাচ্ছে আমাদের সাথে। একটা অদ্ভুত অনুভুতি ছেকে ধরল আমাকে আর আমি একরাশ চিন্তা সমেত তলিয়ে গেলাম অদ্ভুত এক না ঘুম না জাগরনের রাজ্যে।
http://mag.alor-nishan.com/wp-content/uploads/the-End-300x106.png

Re: নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

অস্থিররকম ভালো হয়েছে। smile ভাই চালিয়ে যান আপনি। অসাধারন একটি সাইন্স ফিকশন পড়লাম।

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প হয়েছে।

এই গরমে স্বাক্ষর আর কি দিমু........

Re: নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

তৌফিক ইমাম লিখেছেন:

অস্থিররকম ভালো হয়েছে। smile ভাই চালিয়ে যান আপনি। অসাধারন একটি সাইন্স ফিকশন পড়লাম।

ধন্যবাদ smile smile

আশরাফুল আলম লিখেছেন:

অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প হয়েছে।

smile smile smile

Re: নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

এক কথায়, অসাধারণ

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

গল্প ভালই হইছে

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

Re: নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

গল্পটা দারুন লাগল big_smile

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: নীল ছায়া(সম্পূর্ন)

এতো বড় লিখা দেখলে ভয় লাগে তবুও একটু পড়লাম ভালো লাগলো এখন পুরাটাই পড়তে হবে  dream