টপিকঃ হৃদয়ের আলাপন

উহ, আর কতক্ষণ ।এইভাবে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকা যায় নাকি? জীবনটা তামা তামা হয়ে গেল ।আজই শেষ দেখা ।তারপর এই রিলেশন ব্রেকআপ ।ও আমাকে কি মনে করে? আমি ওর কথা মত নাচব? নাকি ওকে ছাড়া আমার জীবন চলবে না? ওর চেয়ে কত ভাল ভাল ছেলে আমার জন্য বসে আছে ।আর না ।তোর জন্য উষ্ণতার মনে আর জায়গা নাই ।যা, দূরে গিয়া মর ।

বসুন্ধরার সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছিল উষ্ণতা ।সোয়া চারটার শোতে ওর আর আবিরের একসাথে সিনেমা দেখার কথা ।এখন বাজে চারটা আট ।ও নিজে এসেছে পৌনে চারটার সময় ।অথচ আবিরের কোন খোঁজ নেই ।এভাবে কতক্ষণ অপেক্ষা করা যায়? উষ্ণতা রেগে মেগে অস্থির ।

সারাজীবন দেখে এসেছে ছেলেরা মেয়েদের জন্য ওয়েট করে ।দেখা করার জন্য ছেলেটা আসবে একঘন্টা আগে আর মেয়েটা আসবে আধাঘন্টা পরে এটাই অলিখিত সত্য ।খালি ওর বেলাই এটা হল না ।এখন পর্যন্ত প্রতিবারই ও আগে এসেছে আর আবির এসেছে দেরিতে ।এটা কোন কথা হল? মাঝে মাঝে মনে হয় ও ছেলে আর আবির মেয়ে হলেই ভাল হতো ।

চারটা তেরো ।সিনেমা শুরু হতে আর দুই মিনিট বাকি ।এমন সময়  মহাপুরুষকে দেখা গেল ।হেলতে দুলতে আসছেন তিনি ।আরে ব্যাটা, সিনেপ্লেক্স কি তোর বাপের? তাড়াতাড়ি আসতে পারিস না? এইভাবে হাঁটলে তো হলে ঢুকতে ঢুকতে সিনেমা শেষ হয়ে যাবে ।তখন কি বসে বসে তোর চেহারা দেখব? ছাগল কোথাকার ।আবিরকে আসতে দেখে মনে মনে বকতে থাকে উষ্ণতা ।কিন্তু ঐ মনে মনেই ।মুখে কিছু বলা হয় না ।ছেলেটার মুখের দিকে তাকালে মনটা কেন যেন এমনিতেই ভাল হয়ে যায় ওর ।


এইচএসসি পাস করে ভার্সিটিতে ভর্তি হল উষ্ণতা ।নতুন ক্লাস, নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ আর সবমিলিয়ে জীবনটাকেই নতুন করে উপলব্ধি করা ।ক্লাসের ফাঁকে মধুর ক্যান্টিনে আড্ডা, ঊর্মির নতুন বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে হাসাহাসি, দলবেধে সিনেমা দেখতে যাওয়া - কি নেই! ক্লাসেও মজা হতো খুব ।

আঠার বছর বয়সটা বড় বেশি রহস্যের ।কখন যে কিভাবে কার মনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে সেটা সে নিজেই বুঝতে পারে না ।উষ্ণতার জীবনেও আঠার এলো আর এই বয়সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা সে করে ফেললো একেবারে নিজের অজান্তেই ।উষ্ণতা প্রেমে পড়লো ।একেবারেই হঠাত্ করে ।

ওদের ক্লাসেরই ছেলে ।উষ্ণতার সাথে ছেলেটার কখনও কথা হয় নি ।আসলে ওর সাথে কোন মেয়েরই কথা হয় নি ।ছেলেদের সাথেও খুব একটা কথাবার্তা বলে না ।চুপচাপ ক্লাস করে চলে যায় ।খুব যে ভাল মানের ছাত্র তাও না ।আরে ব্যাটা তুই ভাল ছাত্র না তাহলে এত ভাব ধরে থাকার কি দরকার? সবার সাথে কথাবার্তা বললে কি তোর প্রেসটিজ ক্ষয় হয়ে যাবে নাকি? গাধা কোথাকার ।অথচ ও এই ছেলের প্রেমে পড়লো ।কেন পড়লো? কি আছে ওর মধ্যে? নিজেকে প্রশ্ন করে কোন উত্তর পায় না উষ্ণতা ।


আবির ওর সামনে এসে দাঁড়ায় ।
:এতক্ষণে তোর আসার সময় হলো?
:আর বলিস না আমার তো আসার ইচ্ছাই ছিল না ।পরে ভাবলাম-
:কি ভাবলি?
:ভাবলাম একটা পাগলি আমার জন্য সিনেপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে এটা তো ঠিক না ।হাজার হলেও সমাজের একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমার কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে । 

এই হল আবির ।একটা মানুষ কিভাবে এত নিষ্ঠুর হয়? ও এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে সেজন্য দু একটা ভাল কথা বলবে তা না ।এই ছেলের সাথে ও আর মিশবে না ।শেষবারের মত শুধু এই সিনেমাটা দেখবে ।তারপর দুজনের রাস্তা আলাদা, একদম আলাদা ।
এই পাগলি, চল ।তোর জন্য মুভি দেখার দেরি হয়ে যাচ্ছে ।আবিরের ডাকে ঘোর ভাঙ্গে উষ্ণতার ।হলে ঢোকে ওরা ।

 
ভালবেসে তো ফেলল ।কিন্তু ভালবাসার মানুষটাকে ভালবাসার কথা জানাতেও তো হবে ।এইবার উষ্ণতা পড়ল বিপদে ।একটা ছেলেকে কিভাবে বলা যায়? সরাসরি গিয়ে প্রোপোজ করব? বলব, তুমি মোর জীবনের সাধনা ।জানু আই লাভ ইউ ।আরে ধ্যাত, তাই কখনও হয় নাকি ।আর ছেলেটাও এমন গাধা কিছুই বোঝে না ।ও যে নিজে থেকে গিয়ে কথা বলে, বারবার ওর খোঁজ নেয় এটা থেকেও তো কিছু অনুমান করতে পারে ।

বারবার চিন্তা ভাবনা করে অবশেষে প্রোপোজ করেই ফেলল উষ্ণতা ।আর অবাক কান্ড, ছেলেটা সেটা একসেপ্টও করল ।আবির নাকি ওর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই ওভাবে ওকে এড়িয়ে চলছিল ।
ভালই চলছে ওদের জীবন ।তবে আবির কিন্তু কথনও ওকে ভালবাসি বলে নি ।উষ্ণতাও ঐ একবারই বলেছিল ।দুজনের মাঝে খুনসুটিটাই জমে বেশি ।সারাদিনের ঝগড়ার মাঝে ভালবাসি কথাটা আর আলাদা করে বলার দরকার হয় না ।হাতে হাত রেখে নিঃস্তরঙ্গ জীবনের সবটুকু আনন্দ ভাগ করে নেয় হৃদয়ের ডালিতে ।


সিনেমা শেষ ।হল থেকে বের হল ওরা ।জীবনকে আবিষ্কার করার করার এই বয়সটা সত্যি সত্যি এক অবাক মুগ্ধতা আনে চোখেমুখে ।

Re: হৃদয়ের আলাপন

বা, খুব সুন্দর হয়েছে আপনার মিষ্টি প্রেমের গল্পটা ৷
আপনার উষ্ণতা দেখে না মানে  blushing আপনার গল্পের নায়িকা উষ্ণতা-কে দেখে একজনের কথা মনে পড়ে গেল..... কেন যে তাকে এমনভাবে প্রপোজ করে কোলে নিল না সে ৷ আপনার উষ্ণতার মত সবাই হয়তো নয় ৷

গল্প-কবিতা - উদাসীন - http://udashingolpokobita.wordpress.com/
ছড়া - ছড়াবাজ - http://chhorabaz.wordpress.com/

Re: হৃদয়ের আলাপন

গল্পটা গল্পই মনে হল। ছোট গল্প লিখতে গিয়ে অনেক বিষয় খুব সহজে এড়িয়ে গেছেন। যেমন ছেলেটা যদি কারও সাথে কথাই না বলতো তাহলে মেয়েটির সাথে ওর পরিচয় কেমন করে হল? প্রপোজ কি সিনেমা হলেই করেছিল নাকি অন্য কোথাও- এটা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তারপর গল্পটি শেষ করা যেত শেষ থেকে দ্বিতীয় প্যারা দিয়েই। তা না করে আবার শেষ প্যারার উপস্থিতি একটু অদ্ভুত লেগেছে।

Re: হৃদয়ের আলাপন

খুনসুটিটুকু ভালৈ লাগলো। আরো লিখতে থাকুন।

Arun লিখেছেন:

আপনার উষ্ণতা দেখে না মানে  blushing আপনার গল্পের নায়িকা উষ্ণতা-কে দেখে একজনের কথা মনে পড়ে গেল..... কেন যে তাকে এমনভাবে প্রপোজ করে কোলে নিল না সে ৷ আপনার উষ্ণতার মত সবাই হয়তো নয় ৷

কার কথা মনে পড়লো?  tongue_smile

সেভারাস লিখেছেন:

গল্পটা গল্পই মনে হল। ছোট গল্প লিখতে গিয়ে অনেক বিষয় খুব সহজে এড়িয়ে গেছেন। যেমন ছেলেটা যদি কারও সাথে কথাই না বলতো তাহলে মেয়েটির সাথে ওর পরিচয় কেমন করে হল? প্রপোজ কি সিনেমা হলেই করেছিল নাকি অন্য কোথাও- এটা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তারপর গল্পটি শেষ করা যেত শেষ থেকে দ্বিতীয় প্যারা দিয়েই। তা না করে আবার শেষ প্যারার উপস্থিতি একটু অদ্ভুত লেগেছে।

চমৎকার বিশ্লেষণ, সেভারাস!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: হৃদয়ের আলাপন

সেভারাস লিখেছেন:

ছেলেটা যদি কারও সাথে কথাই না বলতো তাহলে মেয়েটির সাথে ওর পরিচয় কেমন করে হল?

ভার্সিটি হোক, কলেজ হোক ক্লাসে অনেকেই থাকেন যারা সবার সাথে খুব একটা কথাবার্তা বলেন না, নিজের কাজেই ব্যস্ত থাকেন ।আবিরও অনেকটা ঐ ধরণের ছেলে ।
একই ক্লাসে কথাবার্তা না হলেও সবাই সবাইকে চেনে ।কেননা টিচার অন্তত একটা ওরিয়েন্টেশন ক্লাস তো নেন ।আবির উষ্ণতাকে পছন্দ করেছে দূর থেকে অর্থাত্ কথা না বলেই ।আর উষ্ণতাও তাই ।আবির একটু প্যাসিভ স্বভাবের ছেলে আর মেয়েটা ফরোয়ার্ড ।এই দুজনকে নিয়েই গল্প ।

সেভারাস লিখেছেন:

প্রপোজ কি সিনেমা হলেই করেছিল নাকি অন্য কোথাও- এটা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে।

সিনেমা হলে যে প্রোপোজ করে নি সেটা তো গল্প থেকেই স্পষ্ট ।সিনেমা দেখার ঘটনাটা প্রোপোজ করার পরের এবং ওয়েট করার সময় উষ্ণতার ফ্ল্যাশব্যাকে এসেছে ভার্সিটির ঘটনাগুলো ।

সেভারাস লিখেছেন:

গল্পটি শেষ করা যেত শেষ থেকে দ্বিতীয় প্যারা দিয়েই। তা না করে আবার শেষ প্যারার উপস্থিতি একটু অদ্ভুত লেগেছে।

প্রত্যেকের স্বতন্ত্র একটা স্টাইল আছে ।সবার লেখায় একই ধাঁচ আশা করা বোধহয় উচিত নয় ।আর গল্পের মূল উপজীব্য কিন্তু ভালবাসা কিংবা প্রেমকাহিনী নয় ।আসল টার্গেট কিন্তু সূক্ষ্নভাবে আঠারো বছরে কৈশোর থেকে তারুণ্যে উত্তোরণের সময়টাতে মনের প্রবাহমানতাকে ইঙ্গিত করা ।এই বয়সটাতে মানুষ এমন অনেক ছেলেমানুষী করে যা অনেকসময়ই বিশ্বাস করা যায় না ।জীবনের সৌন্দর্য উপলব্ধির সময় কিন্তু এটাই ।এজন্য শেষ প্যারাটার দরকার ছিল ।

Re: হৃদয়ের আলাপন

১)

rupkotharkabbo লিখেছেন:

সিনেমা হলে যে প্রোপোজ করে নি সেটা তো গল্প থেকেই স্পষ্ট ।সিনেমা দেখার ঘটনাটা প্রোপোজ করার পরের এবং ওয়েট করার সময় উষ্ণতার ফ্ল্যাশব্যাকে এসেছে ভার্সিটির ঘটনাগুলো ।

আমি আপনার এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষন করছি। এর কারন হচ্ছে আপনি লিখেছেনঃ

rupkotharkabbo লিখেছেন:

এই পাগলি, চল ।তোর জন্য মুভি দেখার দেরি হয়ে যাচ্ছে ।আবিরের ডাকে ঘোর ভাঙ্গে উষ্ণতার ।হলে ঢোকে ওরা ।

অর্থাৎ সে তন্দ্রা থেকে উঠে বাস্তবে ফিরে আসে। এবং এর পরের লাইনেই লিখেছেনঃ

rupkotharkabbo লিখেছেন:

ভালবেসে তো ফেলল ।কিন্তু ভালবাসার মানুষটাকে ভালবাসার কথা জানাতেও তো হবে ।এইবার উষ্ণতা পড়ল বিপদে ।একটা ছেলেকে কিভাবে বলা যায়? সরাসরি গিয়ে প্রোপোজ করব? বলব, তুমি মোর জীবনের সাধনা ।জানু আই লাভ ইউ ।আরে ধ্যাত, তাই কখনও হয় নাকি ।আর ছেলেটাও এমন গাধা কিছুই বোঝে না ।ও যে নিজে থেকে গিয়ে কথা বলে, বারবার ওর খোঁজ নেয় এটা থেকেও তো কিছু অনুমান করতে পারে ।

অর্থাৎ যা হচ্ছে তা বর্তমানেই হচ্ছে মানে সিনেমা হলের ওখানেই। আরও লিখেছেনঃ

rupkotharkabbo লিখেছেন:

বারবার চিন্তা ভাবনা করে অবশেষে প্রোপোজ করেই ফেলল উষ্ণতা ।আর অবাক কান্ড, ছেলেটা সেটা একসেপ্টও করল ।আবির নাকি ওর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই ওভাবে ওকে এড়িয়ে চলছিল ।

এই অংশ পড়লেও মনে হয় সিনেমা হলে দেরী করে আসার কথাই এখানে বলা হচ্ছে। তাই বলা যায় যে কোথায় কিভাবে প্রপোজ করেছে তা আসলেই বর্তমান ভবিষ্যত আর অতীত এর প্যাঁচে পড়ে গেছে।

২) আপনার উচিত ছিল গল্পটি ছোট না করে অন্তত এই অংশটি মূল গল্পের সাথে জুড়ে দেয়াঃ

rupkotharkabbo লিখেছেন:

ভার্সিটি হোক, কলেজ হোক ক্লাসে অনেকেই থাকেন যারা সবার সাথে খুব একটা কথাবার্তা বলেন না, নিজের কাজেই ব্যস্ত থাকেন ।আবিরও অনেকটা ঐ ধরণের ছেলে ।
একই ক্লাসে কথাবার্তা না হলেও সবাই সবাইকে চেনে ।কেননা টিচার অন্তত একটা ওরিয়েন্টেশন ক্লাস তো নেন ।আবির উষ্ণতাকে পছন্দ করেছে দূর থেকে অর্থাত্ কথা না বলেই ।আর উষ্ণতাও তাই ।আবির একটু প্যাসিভ স্বভাবের ছেলে আর মেয়েটা ফরোয়ার্ড ।এই দুজনকে নিয়েই গল্প ।

৩)

rupkotharkabbo লিখেছেন:

প্রত্যেকের স্বতন্ত্র একটা স্টাইল আছে ।সবার লেখায় একই ধাঁচ আশা করা বোধহয় উচিত নয় ।আর গল্পের মূল উপজীব্য কিন্তু ভালবাসা কিংবা প্রেমকাহিনী নয় ।আসল টার্গেট কিন্তু সূক্ষ্নভাবে আঠারো বছরে কৈশোর থেকে তারুণ্যে উত্তোরণের সময়টাতে মনের প্রবাহমানতাকে ইঙ্গিত করা ।এই বয়সটাতে মানুষ এমন অনেক ছেলেমানুষী করে যা অনেকসময়ই বিশ্বাস করা যায় না ।জীবনের সৌন্দর্য উপলব্ধির সময় কিন্তু এটাই ।এজন্য শেষ প্যারাটার দরকার ছিল ।

আমি আবারও বলবো আপনার গল্পটি এক প্যারায় বর্তমান এক প্যারায় অতীত আর এক প্যারায় বর্তমান করতে করতে কখন কোথায় আছে তা তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। আপনি হয়তো মনে করেছিলেন যে এটা গল্পের প্রয়োজন, কিন্তু আমার কাছে তা অতিরিক্তই মনে হচ্ছে।

৪)

উদাসীন লিখেছেন:

চমৎকার বিশ্লেষণ, সেভারাস!

ধন্যবাদ!!!

Re: হৃদয়ের আলাপন

সেভারাস লিখেছেন:

অর্থাৎ সে তন্দ্রা থেকে উঠে বাস্তবে ফিরে আসে।

আমি বলেছি ঘোর ভাঙ্গার কথা ।খুব গভীরভাবে মানুষ যখন চিন্তা করে তখন কিন্তু চারপাশের দিকে খেয়াল থাকে না ।মেয়েটার চোখে ঐ অবস্থায় আগের ঘটনাগুলো ভাসছিল ।আবার অন্যভাবেও ব্যাখ্যা করা যায় যে, লেখক বর্তমানের ফাঁকে ফাঁকে অতীতের কথাগুলো তুলে আনছেন ।এটা নতুন কিছু না ।

সেভারাস লিখেছেন:

পরের লাইনেই লিখেছেন

পরের লাইনে না পরের প্যারায় লিখেছি ।প্রতিটা প্যারাই কিন্তু স্বতন্ত্র ।আপনার আসলে দেখা উচিত ছিল যিনি লিখেছেন তিনি কিভাবে গল্পটাকে চালাচ্ছেন ।তাহলে এত সমস্যা হত না ।গল্পে পরস্পর ধারাবাহিকতাহীন অনুচ্ছেদ কিন্তু একেবারে নতুন কিছু না ।এটা প্রায় এক দশক ধরে চলে আসছে ।এর আগেও থাকতে পারে আমার চোখে পড়ে নি ।

সেভারাস লিখেছেন:

যা হচ্ছে তা বর্তমানেই হচ্ছে মানে সিনেমা হলের ওখানেই।

ঐটাও ফ্ল্যাশব্যাকের অংশ ।সিনেমা হলের নয় ।একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন ।

সেভারাস লিখেছেন:

এই অংশ পড়লেও মনে হয় সিনেমা হলে দেরী করে আসার কথাই এখানে বলা হচ্ছে। তাই বলা যায় যে কোথায় কিভাবে প্রপোজ করেছে তা আসলেই বর্তমান ভবিষ্যত আর অতীত এর প্যাঁচে পড়ে গেছে।

এটার সাথে সিনেমা হলের কি সম্পর্ক তা আমি এখনো বুঝতে পারলাম না ।আমার গল্পে নায়িকা লাল শাড়ি আর নায়ক নীল জামা পড়েছিল কিনা সেটা (অর্থাত্ ঘটনা) গুরুত্বপূর্ণ না ।বরং তারা তাদের নিয়ে নিজে নিজে কি চিন্তাভাবনা করতো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ ।

সেভারাস লিখেছেন:

আপনার উচিত ছিল গল্পটি ছোট না করে অন্তত এই অংশটি মূল গল্পের সাথে জুড়ে দেয়া

যিনি কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়েছেন তিনি এটা এমনিতেই জানেন ।একজন ফোরামিকের কাছে এটুকু আশা করা কি অন্যায়? ছেলেটা প্যাসিভ আর মেয়েটা ফরোয়ার্ড এটা তো গল্প থেকেই স্পষ্ট ।

সেভারাস লিখেছেন:

আমি আবারও বলবো আপনার গল্পটি এক প্যারায় বর্তমান এক প্যারায় অতীত আর এক প্যারায় বর্তমান করতে করতে কখন কোথায় আছে তা তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। আপনি হয়তো মনে করেছিলেন যে এটা গল্পের প্রয়োজন, কিন্তু আমার কাছে তা অতিরিক্তই মনে হচ্ছে।

এটা স্বাভাবিক ব্যাপার যে একেক জন একেক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন ।আমি নিজে খুব সাধারণ একজন মানুষ ।তবে একজন বিখ্যাত লেখক বলেছেনঃ যে লোক অন্যের জন্য লেখে সে লেখক না ।লেখক হচ্ছে সেই লোক যে নিজের জন্য, নিজের সন্তুষ্টির জন্য লেখে ।
আর অতীত বর্তমানের ব্যাপারটা আগেই ব্যাখ্যা করেছি ।


যাই হোক, সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

Re: হৃদয়ের আলাপন

গল্প ভাল লাগলো।  clap
একটা কথা, যেহেতু ফোরামে দিচ্ছেন, সবারই বোধগম্য হোক এমনটা হলে বোধহয় ভাল হয়। আপনার আরও ভাল লেখার সামর্থ্য আছে বলেই আমার বিশ্বাস।
আর ইয়ে, অঃটঃ -  অপুর পরের পার্ট কি তাড়াতাড়ি পাব?

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

Re: হৃদয়ের আলাপন

rupkotharkabbo লিখেছেন:

যিনি কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়েছেন তিনি এটা এমনিতেই জানেন ।একজন ফোরামিকের কাছে এটুকু আশা করা কি অন্যায়? ছেলেটা প্যাসিভ আর মেয়েটা ফরোয়ার্ড এটা তো গল্প থেকেই স্পষ্ট ।

আমরা তো এও জানি যে প্রেমের ফল হচ্ছে বিয়ে। তাহলে তো এই পার্টটাও বাদ দিতে পারতেন। আমরা এও জানি একজন প্রপোজ করবেই। তো এই পার্টটাও বাদ দিতে পারতেন। আমরা জানি যে একজন অপেক্ষা করবে (যে নাকি সম্পর্কের দিক থেকে বেশি অনুভব করে)। তো এই পার্টটাও কি বাদ দিতে পারতেন না??? আমি শুধু এটাই বলেছি, ছোট গল্প বানাতে গিয়ে আপনি অনেক কিছুই বাদ দিয়ে গেছেন যা নাকি বাদ না দিলেও চলতো। আর বাদ যখন দিবেন তখন সেই বিষয়টি না নিয়ে আসলেও চলতো।

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন rupkotharkabbo (৩০-০১-২০১৩ ০৪:৫৫)

Re: হৃদয়ের আলাপন

সেভারাস লিখেছেন:

আমরা তো এও জানি যে প্রেমের ফল হচ্ছে বিয়ে। তাহলে তো এই পার্টটাও বাদ দিতে পারতেন। আমরা এও জানি একজন প্রপোজ করবেই। তো এই পার্টটাও বাদ দিতে পারতেন। আমরা জানি যে একজন অপেক্ষা করবে (যে নাকি সম্পর্কের দিক থেকে বেশি অনুভব করে)। তো এই পার্টটাও কি বাদ দিতে পারতেন না??? আমি শুধু এটাই বলেছি, ছোট গল্প বানাতে গিয়ে আপনি অনেক কিছুই বাদ দিয়ে গেছেন যা নাকি বাদ না দিলেও চলতো। আর বাদ যখন দিবেন তখন সেই বিষয়টি না নিয়ে আসলেও চলতো।

আমি কিভাবে লিখব সেটা তো আমার ব্যাপার ।আপনার সমস্যা হচ্ছে আপনি প্রথমে ধারাবাহিকতাটা বুঝতে পারেন নি ।সেটার দায় আমার না ।এখন যেটা বললেন সেটা সম্পূর্ণই অযথা তর্ক ।এবং এটা যে অযথা তর্ক সেটা আপনিও জানেন ।এ ধরণের কথার কোন জবাব আমি দেব না ।

যাপিত সময় লিখেছেন:

একটা কথা, যেহেতু ফোরামে দিচ্ছেন, সবারই বোধগম্য হোক এমনটা হলে বোধহয় ভাল হয়।

আপনার কথা ঠিক আছে ।আমি পরবর্তীতে আরও সচেতন হব ।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যে মানুষটার নামের পাশে প্রজন্মাচার্য, ৬৬৪৯ পোস্ট আর ২৪৯ সম্মাননা লেখা আছে তার কাছ থেকে আরও একটু মার্জিত আচরণ আশা করি ।ওনার পোস্ট আর সম্মাননাই প্রমাণ করে উনি প্রজন্মকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন ।এজন্য উনি অবশ্যই কৃতিত্বের দাবিদার ।যে মানুষ রেগুলার ফোরামে লেখালেখি করেন তিনি অন্যত্র (ব্লগ, ফোরাম কিংবা বই) প্রচুর পড়াশোনা করেন এটাই স্বাভাবিক ।অর্থাত্ সমসাময়িক লেখার স্টাইলগুলো নিয়ে ওনার ধারণা থাকবে ।কিন্তু তা যদি না থাকে সেটা তো আমার দোষ না ।আর যৌক্তিক সমালোচনা এক জিনিস আর নিজেকে সমালোচক প্রমাণ করার জন্য সমালোচনার চেষ্টা করা অন্য জিনিস ।উনি বুঝতে পারেন নি কারণ ওনাকে খুব কম সময়ে পোস্টটা পড়ে শেষ করতে হয়েছে ।কম সময়ে কারণ ওনাকে ফোরামের অন্যান্য লেখায় গিয়েও কমেন্ট করতে হবে ।তাড়াহুড়া করে পড়তে গিয়ে ওনার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে ।সেটার জন্য তো আমি দায়ী হতে পারি না ।প্রাসঙ্গিকভাবে বলিঃ যখন অপু লিখলাম তখন একজন কমেন্টে বললেন যে আপনি অমুক লেখক? আমি বললাম নাতো ।তিনি বললেন, তাহলে আপনার উচিত ছিল কৃতজ্ঞতা হিসেবে উনার নাম স্বীকার করা ।ফোরামে কারও লেখা শেয়ার করলে তার নাম উল্লেখ করতে হয় ।আমি যখন ভদ্রলোকের লেখার লিংক দিয়ে বললাম যে মিলিয়ে দেখেন এটা স্বতন্ত্র লেখা তখন উনি বললেন যে উনি আমার লেখার প্রথম লাইনের পরে বাকিটা পড়েনই নি ।(এখানে১৬ থেকে ১৯ নং মন্তব্য) ।এই হচ্ছে অবস্থা ।এখন একজন ফোরামিকের কাছে থেকে আরো একটু সচেতন ব্যবহার আশা করা কি আমার অন্যায়? আর তোর অংক আমি বুঝি না তাই অংক হয় নাই- এটাতো কোন যুক্তি হতে পারে না ।

ফোরামে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা উচিত নয় ।এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ।

১১

Re: হৃদয়ের আলাপন

rupkotharkabbo লিখেছেন:

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যে মানুষটার নামের পাশে প্রজন্মাচার্য, ৬৬৪৯ পোস্ট আর ২৪৯ সম্মাননা লেখা আছে তার কাছ থেকে আরও একটু মার্জিত আচরণ আশা করি ।

সেভারাসের পোস্টে কোথায় অমার্জিত আচরন তিনি করেছেন একটু দেখিয়ে দিন! আমারতো চোখে পড়ছে না! উনি যে সমালোচনা করেছেন তাতে স্পষ্টই বোঝা যায় ভালমত পড়ে বুঝেই তিনি মন্তব্য করেছেন। আপনাকে তো সমালোচনা মেনে নিতেই হবে, অতিরিক্ত আবেগ প্রবণ হয়ে যুক্তি খরচ করার মানে দেখিনা।

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

১২

Re: হৃদয়ের আলাপন

rupkotharkabbo লিখেছেন:

আমি কিভাবে লিখব সেটা তো আমার ব্যাপার ।আপনার সমস্যা হচ্ছে আপনি প্রথমে ধারাবাহিকতাটা বুঝতে পারেন নি ।সেটার দায় আমার না ।এখন যেটা বললেন সেটা সম্পূর্ণই অযথা তর্ক ।এবং এটা যে অযথা তর্ক সেটা আপনিও জানেন ।এ ধরণের কথার কোন জবাব আমি দেব না ।

আমি অযথা তর্কে যেতে চাচ্ছি না। আপনার গল্পের শুরু ভালো লেগেছিল বলেই পড়তে গিয়েছিলাম। কিন্তু ছন্দ প্রায় হারিয়ে ফেলছিলাম বর্তমান আর অতীত এর মধ্যে। তাই আমি এই টপিকে কমেন্ট করেছিলাম। আর আমার সব কমেন্ট ছিল গল্পকেন্দ্রিক। কিন্তু আপনি এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমনের মাধ্যমে নিচু পর্যায়ে চলে যাবেন জানলে আর কমেন্টই করতাম না। আমি একান্তই দুখিত।

যাপিত সময় লিখেছেন:
rupkotharkabbo লিখেছেন:

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যে মানুষটার নামের পাশে প্রজন্মাচার্য, ৬৬৪৯ পোস্ট আর ২৪৯ সম্মাননা লেখা আছে তার কাছ থেকে আরও একটু মার্জিত আচরণ আশা করি ।

সেভারাসের পোস্টে কোথায় অমার্জিত আচরন তিনি করেছেন একটু দেখিয়ে দিন! আমারতো চোখে পড়ছে না! উনি যে সমালোচনা করেছেন তাতে স্পষ্টই বোঝা যায় ভালমত পড়ে বুঝেই তিনি মন্তব্য করেছেন। আপনাকে তো সমালোচনা মেনে নিতেই হবে, অতিরিক্ত আবেগ প্রবণ হয়ে যুক্তি খরচ করার মানে দেখিনা।

আমি বুঝতে পারিনি যে উনি লেখা বিষয়ক আলোচনাকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

১৩

Re: হৃদয়ের আলাপন

সেভারাস লিখেছেন:

আপনি এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমনের মাধ্যমে নিচু পর্যায়ে চলে যাবেন জানলে আর কমেন্টই করতাম না।

যাই হোক আমি আমার ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে ক্ষমা চাইছি ।আশা করি ক্ষমা করবেন ।