টপিকঃ মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

হাইকোর্টের সামনের কদম ফোয়ারার পাশে স্তম্ভটা কিসের, কেন এই স্তম্ভটা, এ প্রশ্ন কি মনে জেগেছে কখনো? নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের পর স্বাধীন হয়েছে দেশ। আদর্শ-চেতনা বিষয়গুলো তখনোআজকের মতো খেলো হয়ে যায়নি; বরং জীবন্ত, উদ্বেল। আমাদের সমসাময়িকই স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে প্রতিবেশী ভিয়েতনামের বিপ্লবী সরকার, ৫৪ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে শুধু সশস্ত্র সংগ্রামেরই ৩২ বছর। প্রতিপক্ষও চেনা, আমদের স্বাধীনতার বিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে তাদের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ তখন পর্যন্ত দেয়নি। কিছুদিন ধরে এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল ছাত্র ইউনিয়ন। ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি। ছাত্র ইউনিয়ন ও ডাকসু’র যৌথনেতৃত্বে একটি দীর্ঘমিছিল গুলিস্তান হয়েহাই কোর্টের মোড়ে এসেছে মাত্র। বর্তমান প্রেসক্লাবের অপর পাশের বিল্ডিংয়ে তখনমার্কিন তথ্য কেন্দ্র। শান্তিপূর্ণ মিছিলে হঠাৎ পুলিশের মুহুর্মুহু গুলি। স্বাধীন দেশে প্রথম শহীদ হন ছাত্র নেতা মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদের, আহত হনঅনেকেই। তারপর দেশব্যাপী এ হত্যার বিচার ও ভিয়েতনামের স্বাধীনতার স্বীকৃতিসহ ৭ দাবিতেপরের দিন সর্বাত্মক  হরতাল পালিত হয়। তুমুল আন্দোলনের ফলেবঙ্গবন্ধু সরকার ১৫ জানুয়ারি ভিয়েতনামের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয় মার্কিন তথ্য অফিস। শহীদের স্মরণে গড়ে তোলা হয় সাম্রাজ্যবাদবিরোধীসংহতি স্তম্ভ।
তারপর থেকে এই দিনটিকে আমাদের দেশেসাম্রাজ্যবাদবিরোধীসংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ এর ৪০ বছর। ভিয়েতনামের লাখো শহীদের সঙ্গে বাংলাদেশের এই দুই বীরের রক্তে ১৯৭৭ সালে বিশ্বের মানচিত্রে উদিত হয় আরো একটি স্বাধীন দেশ। এ ঘটনা জানার পর১৯৯৯ সালে ভিয়েতনাম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মতিউল ও কাদেরকে তাদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা দেয়। এখন তাদের কাছে ছাত্র ইউনিয়ন-মতিউল-কাদের-বাংলাদেশ খুব কাছাকাছি কয়েকটি নাম। আজকের দিনে যখন যুবসমাজ গৌরবের নিজস্ব ইতিহাস-সংস্কৃতি বিসর্জন দিয়ে ‘থার্টিফার্স্টনাইট’ উদযাপনের মতো ভিন্ন সংস্কৃতি চর্চায় মত্ত হয়, তখনোভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ এইশহীদদের স্মরণের মাধ্যমে সাম্যের নতুন বিশ্ব গড়ার শপথ নেয়। তারা আমাদের গর্ব, চেতনার বাতিঘর। অনেকের স্মৃতির মনিকোঠায় তানা না থাকলেও ইতিহাসের পাতায় এই নামগুলো জ্বলজ্বল করছে। গভীর শ্রদ্ধায়তাদের স্মরণ করি।
এই শহীদদের যারা ভুলে গেছেন তারা নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করছেন। আসুন চেতনা ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলে বীরদের সম্মান জানাই সব সময়।
সংগ্রহীত : মানবকণ্ঠ

Re: মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

আনকোরা নতুন তথ্য দিলেন। ধন্যবাদ।

এক জীবনই সম্পূর্ন নয়।..

My e-mail address

Re: মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

এই তথ্যটা  প্রথম পড়ে আমিও অবাক হয়েছিলাম

Re: মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

বাবু ভাই এর কারনে আজকে এই তথ্য জানতে পারলাম । তাকে অনেক ধন্যবাদ ।
আসলে আমরা আমাদের সত্যিকারের বীরদের সম্মান করতে জানিনা ।
এই হত্যা কান্ডের বিচার কি হবে ?

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

আবদুল্লাহ আল রিফাত লিখেছেন:

বাবু ভাই এর কারনে আজকে এই তথ্য জানতে পারলাম । তাকে অনেক ধন্যবাদ ।
আসলে আমরা আমাদের সত্যিকারের বীরদের সম্মান করতে জানিনা ।
এই হত্যা কান্ডের বিচার কি হবে ?

বিচার করবে কার আমরা তো প্রভু  ভক্ত লোক।

Re: মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

মানব কন্ঠের প্রতিবেদন যে ঠিক তার কোনো প্রমান কি আছে?

Re: মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

সেভারাস লিখেছেন:

মানব কন্ঠের প্রতিবেদন যে ঠিক তার কোনো প্রমান কি আছে?

প্রমাণ হিসেবে আপাততঃ কালের কন্ঠ'র প্রতিবেদন খুঁজে পেলাম-

সারা দেশে গতকাল শুক্রবার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে। ১৯৭৩ সালের এ দিনে ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে ডাকসু ও ছাত্র ইউনিয়নের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছাত্রনেতা শহীদ হন। সেই থেকে দিনটি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
গতকাল সকালে রাজধানীর কদম ফোয়ারায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি স্মারক স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। এতে ১৯৭৩ সালে মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া সারা দেশে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।...

You'll never reach your destination if you stop and throw stones at every dog that barks.

Re: মতিউল ও কাদের: চেতনার বাতিঘর (বাংলার ইতিহাস)

সেভারাস লিখেছেন:

মানব কন্ঠের প্রতিবেদন যে ঠিক তার কোনো প্রমান কি আছে?

ভাই জান আপনি যে ভয়ঙ্কর মানুষ এটা আগেই জানি, মোবাইল থেকে টপিক করি তাই লিংক দিতে গেলে সম্পাদনা করতে হয় প্রজন্ম ফোরামে সবসময় opera mini দিয়ে সম্পাদনা করা যায় না সুতরাং ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছি।
প্রমাণ দেখেন