সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (২২-১২-২০১২ ১৯:৪৪)

টপিকঃ ধর্মানুভূতির উপকথা

বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদ আমাদের গর্ব। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানতম প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক ও প্রাবন্ধিক। অধ্যাপক আজাদ এই প্রবন্ধটিকে নিজের বইয়ে সংকলিত করেন যে বইটির শিরোনামও ছিল ধর্মানুভূতির উপকথা।

———————————————————

একটি কথা প্রায়ই শোনা যায় আজকাল, কথাটি হচ্ছে ‘ধর্মানুভূতি’। কথাটি সাধারণত একলা উচ্চারিত হয় না, সাথে জড়িয়ে থাকে ‘আহত’ ও ‘আঘাত’ কথা দুটি; শোনা যায় ‘ধর্মানুভূতি আহত’ হওয়ার বা ‘ধর্মানুভূতিতে আঘাত’ লাগার কথা। আজকাল নিরন্তর আহত আর আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে মানষের একটি অসাধারণ অনুভূতি, যার নাম ধর্মানুভূতি । মানুষ খুবই কোমল স্পর্শকাতর জীব, তার রয়েছে ফুলের পাপড়ির মতো অজস্র অনুভূতি; স্বর্গচ্যুত মানুষেরা বাস করছে নরকের থেকেও নির্মম পৃথিবীতে, যেখানে নিষ্ঠুরতা আর অপবিত্রতা সীমাহীন; তাই তার বিচিত্র ধরনের কোমল অনুভূতি যে প্রতিমুহূর্তে আহত রক্তাক্ত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যখন সুদিন আসবে, সে আবার স্বর্গে ফিরে যাবে, তখন ওই বিশুদ্ধ জগতে সে পাবে বিশুদ্ধ শান্তি; সেখানে তার কোনো অনুভূতি আহত হবে না, ফুলের টোকাটিও লাগবে না তার কোনো শুদ্ধ অনুভূতির গায়ে। অনন্ত শান্তির মধ্যে সেখানে সে বিলাস করতে থাকবে। কিন্তু পৃথিবী অশুদ্ধ এলাকা, এখানে আহত হচ্ছে, আঘাত পাচ্ছে, রক্তাক্ত হচ্ছে তার নানা অনুভূতি- এটা খুবই বেদনার কথা; এবং সবচেয়ে আহত হচ্ছে একটি অনুভূতি, যেটি পুরোপুরি পৌরাণিক উপকথার মতো, তার নাম ধর্মানুভূতি। মানুষ বিশ্বকে অনুভব করে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে; ইন্দ্রিয়গুলো মানুষকে দেয় রূপ রস গন্ধ স্পর্শ শ্রুতির অনুভূতি; কিন্তু মানুষ, একমাত্র প্রতিভাবান প্রাণী মহাবিশ্বে, শুধু এ-পাঁচটি ইন্দ্রিয়েই সীমাবদ্ধ নয়, তার আছে অজস্র ইন্দ্রিয়াতীত ইন্দ্রিয়। তার আছে একটি ইন্দ্রিয়, যার নাম দিতে পারি সৌন্দর্যেন্দ্রিয়, যা দিয়ে সে অনুভব করে সৌন্দর্য; আছে একটি ইন্দ্রিয়, নাম দিতে পারি শিল্পেন্দ্রিয়, যা দিয়ে সে উপভোগ করে শিল্পকলা; এমন অনেক ইন্দ্রিয় রয়েছে তার, সেগুলোর মধ্যে এখন সবচেয়ে প্রখর প্রবল প্রচণ্ড হয়ে উঠেছে তার ধর্মেন্দ্রিয়, যা দিয়ে সে অনুভব করে ধর্ম, তার ভেতরে বিকশিত হয় ধর্মানুভূতি, এবং আজকের অধার্মিক বিশ্বে তার স্পর্শকাতর ধর্মানুভূতি আহত হয়, আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভোরবেলা থেকে ভোরবেলা। অন্য ইন্দ্রিয়গুলোকে পরাভূত ক’রে এখন এটিই হয়ে উঠেছে মানুষের প্রধান ইন্দ্রিয়; ধর্মেন্দ্রিয় সারাক্ষণ জেগে থাকে, তার চোখে ঘুম নেই; জেগে জেগে সে পাহারা দেয় ধর্মানুভূতিকে, মাঝেমাঝেই আহত হয়ে চিৎকার ক’রে ওঠে এবং বোধ করে প্রচণ্ড উত্তেজনা। এটা শিল্পানুভূতির মতো দুর্বল অনুভূতি নয় যে আহত হওয়ার যন্ত্রণা একলাই সহ্য করবে। এটা আহত হ’লে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ধর্মানুভূতির উত্তেজনা ও ক্ষিপ্ততায় এখন বিশ্ব কাঁপছে।


আহত বা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া সুখকর অনুভূতি নয়; শরীরে আঘাত পেলে আমরা চিৎকার ক’রে উঠি। শরীরের থেকেও মনোরম যে-সব ইন্দ্রিয় আছে আমাদের, সেগুলো আহত হ’লেও চিৎকার ক’রে ওঠার কথা; তবে সেগুলোর চিৎকারের স্বর আমরা শুনতে পাই না।

    আমার অজস্র অনুভূতি দিনরাত আহত হয়; পত্রপত্রিকায় গ্রন্থে গ্রন্থে নিকৃষ্ট শিল্পকলাহীন কবিতার মতো ছোটো বড়ো পংক্তির প্রাচুর্য দেখে আহত হয় আমার কাব্যানুভূতি, নিকৃষ্ট লঘু অপন্যাসের লোকপ্রিয়তা দেখে আঘাত পায় আমার উপন্যাসানুভূতি; রাজনীতিবিদদের অসততা ভণ্ডামোতে আহত হয় আমার রাজনীতিকানুভূতি; এবং আমার এমন অজস্র অনুভূতি নিরন্তর আহত রক্তাক্ত হয়, আমি ওগুলোর কোনো চিকিৎসা জানি না, ওগুলো নিয়ে আমি কোন জঙ্গলে কোন রাস্তায় চিৎকার করবো, তাও জানি না। রাষ্ট্র এগুলোকে অনাহত রাখার কোনো ব্যবস্থা করে নি, রাষ্ট্রের মনেই পড়ে নি এগুলোর কথা।

রাষ্ট্রের কি দায়িত্ব নয় আমার এসব অমূল্য অনুভূতিকে অনাহত রাখার সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেয়া? সবাই বলবে এটা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়, তাহলে তাকে খুলতে হবে একটি বিকট ‘অনুভূতি মন্ত্রণালয়’, যার কাজ হবে কোটি কোটি মানুষের কোটি কোটি অনুভূতির হিশেব নেয়া, সেগুলোর আহত হওয়ার সূত্র বের করা, এবং সেগুলোকে সব ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করা। আমার শিল্পানুভূতি সৌন্দর্যানুভূতি রাজনীতিকানুভূতি কাব্যানুভূতি প্রভৃতি পাহারা দেয়া রাষ্ট্রের কাজ নয়, কিন্তু এখন রাষ্ট্র এক উদ্ভট দায়িত্ব নিয়েছে, মনে করছে ধর্মানুভূতি পাহারা দেয়া তার কাজ; তাই রাষ্ট্র দেখে চলছে কোথায় আহত হচ্ছে কার ধর্মানুভূতি।

    আমার শিল্পানুভূতি সৌন্দর্যানুভূতি রাজনীতিকানুভূতি কাব্যানুভূতিকে কেনো রাষ্ট্র পাহারা দিচ্ছে না, কেনো আইন তৈরি করছে না এগুলোকে অনাহত রাখার? তার কারণ রাষ্ট্র শিল্পানুভূতি সৌন্দর্যানুভূতি প্রভৃতিতে বিশ্বাস করে না, শিল্পানুভূতি সৌন্দর্যানুভূতি হাস্যকর রাষ্ট্রের কাছে, বা রাষ্ট্র মনে করে শিল্পানুভূতি সৌন্দর্যানুভূতি ব্যক্তিগত ব্যাপার, তা যতোই আহত বা নিহত হোক, রাষ্ট্রের কিছুই করার নেই। কিন্তু ধর্মানুভূতি এমন তুচ্ছ হাস্যকর ব্যাপার নয়, তা অত্যন্ত গরুত্বপূর্ণ; রাষ্ট্র এতে বিশ্বাস করে, তাই রাষ্ট্র একে অক্ষত রাখার জন্যে ব্যগ্র।

কিন্তু ধর্মানুভূতি কী বস্তু, যাকে অনাহত অক্ষত রাখার জন্যে রাষ্ট্র এতো তৎপর? বিজ্ঞান, গত কয়েক শতাব্দীতে, এগিয়েছে অনেক, এবং মহাবিশ্বের রূপ এখন আমরা জানি বৈজ্ঞানিকভাবে, যাতে কোনো অলৌকিক পুরাণ নেই; তবু আজো পৃথিবীকে আবৃত ক’রে আছে পৌরাণিক সংস্কৃতি। আমরা মানসিকভাবে আজো বাস করছি পৌরাণিক বিশ্বেই, যে-বিশ্ব প্লাতো, আরিস্ততল, টলেমি ও বিভিন্ন পৌরাণিক বইয়ের। মহাবিশ্বের পৌরাণিক রূপ বদলে দিয়েছেন কোপারনিকাস কেপলার গ্যালিলিও নিউটন আইনস্টাইন, যার সাথে কোনো মিল নেই পৌরাণিক বইগুলোর বিশ্বের, তবে আমাদের কল্পজগতে তার কোনো স্থান নেই, আমাদের কল্পজগত জুড়ে আছে পৌরাণিক বিশ্ব। ওই বিশ্ব চলে পৌরাণিক বিশ্বাসের নিয়মে, যদিও তা সম্পূর্ণ অবাস্তব অবৈজ্ঞানিক বা ভুল ব’লে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের কল্পজগত ও বাস্তব জগতের মধ্যে চলছে বিরোধ; মানুষ এখন বাস করছে পুরাণ ও বিজ্ঞানের নিরন্তর বিরোধিতার মধ্যে। ধর্মের উদ্ভব ঘটেছিলো পৌরাণিক মানুষের বিস্ময়বোধ, ভয়, ও লোভ থেকে; তারা কল্পনা করেছিলো বহু দেবতা, বহু বিধাতা, এক সময় অসংখ্য দেবতায় তারা ভ’রে ফেলেছিলো আকাশমণ্ডলকে। ওই সব দেবতাকে তারা ধ্রুব ব’লে মনে করতো, যারা মানতো না ওই সব দেবতা, তাদের পীড়ন করা হতো। তারপর মানুষ উদ্ভাবন করতে থাকে নতুন নতুন দেবতা বা বিধাতা, আগের দেবতা বা বিধাতাদের অসত্য ব’লে বাতিল ক’রে দেয়, যদিও এক সময় তারাই পূজিত হতো চরম সত্য ব’লে। দেবতা বা বিধাতায় বিশ্বাস, তার পুজো-আরাধনা ধর্মের একটি বড়ো ব্যাপার; তারচেয়েও বড়ো ব্যাপার হচ্ছে ওই সব বিশ্বাস ও আনুষ্ঠানিতার মধ্য দিয়ে বিশেষ ধরনের সমাজকাঠামো তৈরি করা। তবে বিশেষ কোনো ধর্ম কোনো অবিনশ্বর ব্যাপার নয়; গত পাঁচ হাজার বছরে পৃথিবীতে কয়েক হাজার ধর্ম প্রস্তাবিত হয়েছে, অনেক ধর্ম কয়েক হাজার বছর ধ’রে প্রচলিত থেকে নতুন ধর্মের আক্রমণে লুপ্ত হয়ে গেছে।

    ধর্ম কি যুক্তি ও বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যর্পূন? ধার্মিকেরাই স্বীকার করেন যে যুক্তি দিয়ে ধর্ম চলে না, ধর্ম চলে যুক্তিরহিত অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে; ধর্মে কোনো প্রশ্ন নেই, নতুন কোনো উত্তর নেই; সব প্রশেড়বর উত্তর দেয়া হয়ে গেছে পুরোনো বইগুলোতে, সব সত্যের আকর হচ্ছে ওই বইগুলো।

তবে এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের বইয়ে বিশ্বাস করে না, সাধারণত প্রচণ্ড বিরোধিতা করে, এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষকে ধর্মহীন ব’লেই গণ্য করে; আর সব ধর্মের মানুষই মনে করে ধর্ম বিশ্বাসের ব্যাপার, সেখানে যুক্তি অচল। পৃথিবীতে সব কিছুই চলে যুক্তির সাহায্যে : গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন প্রভৃতি থেকে শরু ক’রে সব কিছুই চলে যুক্তির সাহায্যে, কোনো জ্ঞানই যুক্তি ছাড়া সম্ভব নয়, কোনো সত্যই যুক্তি ছাড়া উদ্ঘাটন করা যায় না। অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে আমরা ধান উৎপাদন করতে পারি না, বিশ্বাস দিয়ে আমরা গাড়ি চালাতে পারি না, বা খালের ওপর একটি বাঁশের সাঁকোও তৈরি করতে পারি না; কিন্তু বিশ্বাস দিয়ে আমরা একটি অসামান্য কাজ করতে পারি;- মৃত্যুর পর যেতে পারি চিরসুখের জগতে।

    মানুষের শুধু একটি এলাকাই আছে, যেখানে যুক্তি চলে না; সেটি খুবই ভিন্ন রকম এলাকা, সেখানকার সব সত্য লাভ করা যায় অযুক্তি আর অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে। মানুষের এই অন্ধ বিশ্বাসই অভিহিত হয়ে থাকে ধর্মানুভূতি নামে।

মানুষের ধর্মানুভূতিগুলো অভিন্ন নয়, যেহেতু ধর্ম একটি নয়; অজস্র ধর্মবিশ্বাসে পৃথিবী বিব্রত। একেক ধর্মের মানুষের ধর্মানুভূতি একেক রকম, আবার একই ধর্মের ভেতরে রয়েছে বহু উপগোত্র, এবং বিভিন্ন উপগোত্রের ধর্মানুভূতি বিভিন্ন। প্রতিটি ধর্মেই দেখা যায় সাধারণ বিশ্বাসীরা ধর্মের মূলকথাগুলো ঠিকমতো জানে না, তারা ধর্মে সংযোজিত করে নানা নতুন বিশ্বাস, যেগুলোর সাথে ধর্মের মূল বিশ্বাসগুলোর সম্পর্ক নেই। অজস্র ব্যাপার জড়ো হয়ে মানুষের মনে সৃষ্টি হয় এক ধরনের যুক্তিরহিত বোধ, যাকে বলা হয় ধর্মানুভূতি। এই ধর্মানুভূতিই আহত হয়, এর গায়েই সাধারণত আঘাত লাগে।

    ধর্মানুভূতিতে যে আঘাত লেগেছে, তা যে আহত হয়েছে, তা বোঝার ও পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই। অযৌক্তিক ব্যাপারকে যুক্তির সাহায্যে পরিমাপ করা যায় না। বিভিন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র এখন যেভাবে চলছে, তাতে প্রতিটি ধার্মিকের ধর্মানুভূতি প্রতিমুহূর্তেই আহত হ’তে পারে, এবং হচ্ছে ।


পৃথিবীতে সম্ভবত এখন বিশুদ্ধ ধার্মিক নেই, থাকলে তাদের ধর্মানুভূতি খুবই আহত হতো। যেমন, মন্দির দেখে আহত হ’তে পারে একজন ধার্মিক মুসলমানের ধর্মানুভূতি, কেননা তার বিশ্বাসের জগতে মন্দির থাকতে পারে না; আবার মসজিদ দেখে আহত হ’তে পারে একজন ধার্মিক হিন্দুর ধর্মানুভূতি, কেননা তার বিশ্বাসে মসজিদ অবাঞ্ছিত। একজন খাঁটি মুসলমান যদি দাবি করে যে মন্দির দেখে তার ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে, তাই মন্দিরটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে, তখন রাষ্ট্র কী করবে; একজন খাঁটি হিন্দু যদি দাবি করে যে মসজিদ দেখে তার ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে, তখন কী করবে রাষ্ট্র? খাঁটি ধার্মিকের কোমল ধর্মানুভূতি আহত হ’তে পারে প্রতিমুহূর্তেই; টেলিভিশন, সিনেমা, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের, সংসদে নারীদের দেখে আহত হ’তে পারে তার ধর্মানুভূতি, এবং সে এসব নিষিদ্ধ করার জন্যে আবেদন জানাতে পারে। পৃথিবী ও গ্রহগুলো ঘোরে সূর্যকে কেন্দ্র ক’রে, মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাগর্জনের ফলে, সেটি হঠাৎ সৃষ্টি হয় নি, হয়েছে আজ থেকে এক হাজার থেকে পনেরশ কোটি বছর আগে, তারপর থেকে সম্প্রসারিত হয়ে চলছে, সূর্য আর গ্রহগুলো উদ্ভূত হয়েছে সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে, মানুষ স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে পৃথিবীতে আসেসনি, বিবর্তনের ফলে বিকশিত হয়েছে বিশ থেকে চলি−শ লক্ষ বছর আগে, পাহাড়গুলো পেরেক নয় ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক সত্য বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়;- এগুলোতে প্রচণ্ডভাবে আহত হ’তে পারে ধার্মিকদের ধর্মানুভূতি, তারা এগুলো নিষিদ্ধ করার জন্যে দাবি জানাতে পারে। তখন রাষ্ট্র কী করবে? রাষ্ট্র কি নিষিদ্ধ করবে বিজ্ঞান? তারপর ধর্মানুভূতি যেহেতু সম্পটর্ণরূপে অযৌক্তিক, তাই তা কতোটা আহত হলো, তা পরিমাপ করার উপায় নেই। যুক্তি দিয়ে অযুক্তিকে মাপা যায় না।


কোনো পৌরাণিক বিশ্বাস বা ভাবাদর্শ পোষণ, লালন, সংরক্ষণ কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব? রাষ্ট্র যদি কোনো ভাবাদর্শ চাপিয়ে দেয় তার অধিবাসীদের ওপর, তাহলে তা হবে ভাবাদর্শগত স্বৈরাচার। সব ধরনের ভাবাদর্শই সন্দেহজনক ও পীড়নমূলক, আর পৌরাণিক ভাবাদর্শগুলো শুধু পীড়নমূলকই নয়, সেগুলো মানুষকে ক’রে রাখে অন্ধ, তার মননশীলতাকে ব্যাহত ক’রে তাকে বিকশিত হ’তে দেয় না। জ্ঞানের যে-বিকাশ ঘটেছে গত কয়েক শো বছরে, তা সহজে ঘটে নি; পৌরাণিক ভাবাদর্শগুলো পদেপদে বাধা দিয়েছে জ্ঞানের বিকাশে; বহু জ্ঞানীকে পীড়ন করেছে, পৌরাণিক ভাবাদর্শবাদীরা হত্যা করেছে বহু জ্ঞানীকে। পরে দেখা গেছে জ্ঞানীরাই ছিলেন ঠিক পথে, ভুল ছিলো পৌরাণিক ভাবাদর্শ, কিন্তু তা ছিলো শক্তিমান ও নির্মম। পৌরণিক ভাবাদর্শের যদিও কোনোই বাস্তব ভূমিকা নেই মানুষের জীবনে, তবু তা আজো শক্তিমান হয়ে আছে রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর পাহারায়। জ্ঞানীর জ্ঞানের থেকে রাষ্ট্রের কাছে বেশি মূল্যবান হয়ে আছে অন্ধের ভুল বিশ্বাস। আজকের বিজ্ঞানের যুগেও পৌরাণিক বিশ্বাসগুলোকে প্রবল ক’রে তোলা হচ্ছে, মাতিয়ে তোলা হচ্ছে মানুষকে পৌরাণিক বিশ্বাস দিয়ে; এবং পরিহাসের বিষয় হচ্ছে অসামান্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোই ব্যবহৃত হচ্ছে পৌরাণিক বিশ্বাসগুলোর প্রচারে। পৌরাণিক বিশ্বাসগুলোর পক্ষে যে-কোনো অসত্য প্রচার করা যায়, এবং প্রচার করা হচ্ছে নিয়মিত, কিন্তু চরম সত্যও বলা যায় না, যা বিৎ›দ্ধে যায় পৌরাণিক বিশ্বাসের। আজকাল বই, পত্রপত্রিকা, বেতার ও টেলিভিশনে নিরন্তর প্রচারিত হচ্ছে পৌরাণিক বিশ্বাস, যার কোনো যুক্তিগত ভিত্তি নেই, যেগুলোর অধিকাংশই হাস্যকর নিরর্থক কথা; কিন্তু পৌরাণিক বিশ্বাসের বিপক্ষে একটি কথাও বলা যায় না বেতার ও টেলিভিশনে।

    জ্ঞানের বিকাশের অর্থই হচ্ছে পুরোনো পৌরাণিক বিশ্বাসগুলোকে আহত করা, শুধু আহত নয় সেগুলোকে সম্পূর্ণ বাতিল করা; কিন্তু রাষ্ট্রগুলো জ্ঞানের সুবিধাগুলো নিচ্ছে, কিন্তু পরিহার করছে তার চেতনাকে, এবং পোষণ ও পালন ক’রে চলছে পৌরাণিক বিশ্বাস।

মানুষ কোনো ধর্ম বা ধর্মানুভূতি নিয়ে জন্ম নেয় না; কিন্তু জন্মের পরই তার ওপর সক্রিয় হয়ে ওঠে পরিবারের ধর্ম বা ধর্মানুভূতি, এবং সে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় পরিবারের ধর্মগোষ্ঠিতে। মাবাবা, আত্মীয়স্বজন, এলাকা, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠ্যপুস্তক, পত্রপত্রিকা, রাষ্ট্রযন্ত্র তার ভেতরে ঢোকাতে থাকে ধর্ম ও ধর্মানুভূতি, পুলিশের মতো পাহারা দিতে থাকে তাকে, এবং তার মননশীলতাকে নষ্ট ক’রে সেখানে বিকাশ ঘটাতে থাকে যুক্তিহীনতা। সে যে-ধর্মের সদস্য সেটি যদি হয় রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষিত ধর্ম, তাহলে তার ধর্মানুভূতি উগ্র থেকে উগ্র হয়ে উঠতে থাকে। একটি প্রশ্ন ওঠে মাঝেমাঝেই যে যারা শিক্ষিত, জ্ঞানের বিভিন্ন এলাকায় যাদের অনেকেই অর্জন করেছে সাফল্য, তারা কেনো ধর্মের মতো অযৌক্তিক বিশ্বাস পোষণ করে? তারা যে ধর্মবিশ্বাস পোষণ করে, এটাকেই মনে কর হয় ধর্মের সঠিকত্বের প্রমাণ। কিন্তু এটা কোনো প্রমাণ নয়। এ-ধরনের শিক্ষিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিরাও জন্ম নেয় বিশেষ পরিবারে, বাল্যকালে তাদের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় ভয় ও লোভ, তা থেকে তারা কখনো মুক্ত হ’তে পারে না; তারা যুক্তি ও অযুক্তির বিরোধিতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করে। তারা বিরোধিতাটা বুঝতেও পারে না, কেননা মানুষ এমন অদ্ভুত প্রাণী, যে একই সাথে পোষণ করতে পারে পরষ্পরবিরোধী চেতনা। ধর্ম যে শুধু পারলৌকিক অনন্ত সুখের লোভ দেখায়, তাই নয়; বাস্তব জগতেও নানা সুবিধা দেয়। প্রথা মেনে নিলে সুবিধা অনেক, না মানলে বিপদ অনেক। তাই সে ইহজাগতিক ও পরজাগতিক দু-রকম সুবিধার কাছে আত্মসমর্পণ করে। তাই শিক্ষিত, এমনকি বিখ্যাত মানুষদের ধর্মানুরাগও ধর্মের অভ্রান্ততার প্রমাণ নয়। ধর্ম যেহেতু ভালো ব’লে স্বীকৃত, তাই আশা করতে পারি যে ধার্মিক মানুষেরা সৎ মানুষ হবে; কিন্তু আমরা কি নিয়মিত দেখি না ধার্মিকদের শোচনীয় অসততা?


    বাঙলাদেশ এখন একটি প্রবল ধার্মিক দেশ; প্রার্থনালয়ে দেশ ছেয়ে গেছে, চারপাশ উপচে পড়ছে ধার্মিকে, উদ্দাম নাচগানের মধ্যে টেলিভিশন ব্যস্ত থাকছে ধর্মপ্রচারে, নেতানেত্রীরা তীর্থযাত্রার পর তীর্থযাত্রা করছেন, দিকে দিকে চলছে ধর্মের অলৌকিক উদ্দীপনা; তাই বাঙলাদেশ ভ’রে ওঠার কথা সততায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ব্যাপক অসততা, অতুলনীয় দুর্নীতি, সীমাহীন ধর্ষণপীড়ন। ধর্ম ও সততা হওয়া উচিত ছিলো সমানুপাতিক; কিন্তু দেখা যচ্ছে ধর্ম, ও অসততা, দুর্নীতি, ধর্ষণপীড়ন হয়ে উঠেছে সমানুপাতিক। তাহলে ধর্মানুভূতি কী দিচ্ছে আমাদের শুধু একরাশ অযৌক্তিক বিশ্বাস ছাড়া?


ধর্মানুভূতি কোনো নীরিহ ব্যাপার নয়, তা বেশ উগ্র; এবং এর শিকার অসৎ কপট দুর্নীতিপরায়ণ মানুষেরা নয়, এর শিকার সৎ ও জ্ঞানীরা; এর শিকার হচ্ছে জ্ঞান। জ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ চলছে কয়েক সহস্রক ধ’রে, উৎপীড়িত হ’তে হ’তে জয়ী হচ্ছে জ্ঞান, বদলে দিচ্ছে পৃথিবীকে; তবু আজো পৗরাণিক বিশ্বাসগুলো আধিপত্য করছে, পীড়ন ক’রে চলছে জ্ঞানকে। ধর্মানুভূতির আধিপত্যের জন্যে কোনো গুণ বা যুক্তির দরকার পড়ে না, প্রথা ও পুরোনো বই যোগায় তার শক্তি, আর ওই শক্তিকে সে প্রয়োগ করতে পারে নিরঙ্কুশভাবে। উগ্র অন্ধ ধর্মানুভূতি বিস্তারের পেছনে কাজ করে দারিদ্র্য, অশিক্ষা, দুর্নীতি ও রাজনীতি। দরিদ্রের শিক্ষালাভের সুযোগ নেই, তাই জ্ঞানের সব এলাকাই তার অজানা; তার জ্ঞানহীন মনের ভেতর প্রতিবেশ সহজেই সংক্রামিত করে অযুক্তি ও অপবিশ্বাস; আর তাতে সে খুঁজে পায় শান্তি ও শক্তি। তার কিছু নেই ব’লে তার সাথে থাকে এক অলৌকিক মহাশক্তি, যা তাকে বাস্তবে কিছু দেয় না, কিন্তু মানসিকভাবে সবল ক’রে রাখে। দুর্নীতি ধর্মের পক্ষে কাজ করে; দুর্নীতিপরায়ণ মানুষেরা নিজেদের অপরাধ ঢেকে রাখার জন্যে জাগিয়ে তোলে ধর্মীয় উগ্রতা। তাই সমাজে যতো দুর্নীতি বাড়ে ততো বাড়ে ধর্ম। রাজনীতিবিদেরাও ব্যবহার করে ধর্মকে; তারা দেখতে পায় ক্ষমতায় যাওয়ার সহজ উপায় ধর্মের উদ্দীপনা সৃষ্টি; তাদের কল্যাণ করতে হয় না মানুষের, বিকাশ ঘটাতে হয় না সমাজের- এগুলো কঠিন কাজ; সবচেয়ে সহজ হচ্ছে ধর্মকে ব্যবহার ক’রে ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকা। কিন্তু এতে সমাজ নষ্ট থেকে নষ্টতর হ’তে থাকে, যা এখন ঘটছে বাঙলাদেশে। রাষ্ট্রকে মুক্ত হওয়া দরকার পৌরাণিক আবেগ থেকে, কেননা পৌরাণিক আবেগ গত কয়েক সহস্রকে মানুষের কল্যাণ বিশেষ করে নি, ক্ষতিই করেছে বেশি; এবং আজো ক্ষতি ক’রে চলছে।

hit like thunder and disappear like smoke

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

ধরে নিলাম ধর্ম মিথ্যা , সেহেতু আমার  দুইটা প্রশ্ন

১, বিগ ব্যাং এর জন্য ম্যাসিভ ম্যাটার এলো কোথা থেকে ? ( যেহেতু বিজ্ঞান বলছে কোন কিছু এমনি এমনি হয়না , কারন লাগে। কে বা কারা এই ম্যাটার এন্টি মেটার এনে দিয়েছে যেন বিগ ব্যাং হতে পারে। বিগ ব্যাং করে এত কিছু হল সাথে এলাম আমরা। যারা বা যিনি বিগ ব্যাং ঘটিয়েছেন তারে তার লাভ কি ?)

২, মারা যাবার পর কি হবে ( ধর্ম যেহেতু বাদ সেহেতু বিজ্ঞান হিসেবে আমাদের বিনাশের পর কি ঘটবে , ব্যাক্টেরিয়া আমাদের পচাবে গলাবে এগুলো নয়। আপনার বিসসাস এবং বস্তুত কি হতে পারে সেটা লিখুন )

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

আমি ধর্মে বিশ্বাস করি একথা বললেই একজন ধার্মিক হয়ে যায় না। কেউ ধার্মিক কিনা তা প্রকাশ পায় তার আচরনে। ধর্মে বাই ডিফল্ট কিছু নাই। এগুলি কষ্ট করে অর্জন করতে হয়।

আমাদের দেশে প্রচুর ধর্মবাজ মানুষ আছে। প্রকৃত ধার্মিক নাই। এজন্যই দেশের এ অবস্থা।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

আজাদ স্যারের চমৎকার একটি লেখা। ধর্ম ও মহাবিশ্ব নিয়ে স্যারের একটা বই আছে "মহাবিশ্ব" নামে। এটা আমার অন্যতম পছন্দের বই। পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি ভাল লাগবে।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (২৩-১২-২০১২ ০৯:২৩)

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

সময় নিয়ে পড়িলাম.. বেশ ক্রুয়েল সত্য!!!!!!!
ভাইচা, যদি রিসাইকেলড হয়ে ফিরে আসো আরেক প্ল্যনেটে আরেক রূপে সেটা কেমন এক্সাইটিং হবে? কোনো শক্তিরই বিনাশ নেই.. সুতরাং ...

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (২৩-১২-২০১২ ১১:৩৮)

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

ভাইচা, যদি রিসাইকেলড হয়ে ফিরে আসো আরেক প্ল্যনেটে আরেক রূপে সেটা কেমন এক্সাইটিং হবে? কোনো শক্তিরই বিনাশ নেই

এটা তো ভাবনা। নিরেট সত্য না । নিরেট সত্য কি ? বিজ্ঞানকে জিজ্ঞেস করলে এর উত্তর আসবে- মারা যাবার পর কি হবে সেটা এখনো আবিস্ক্রিত হয় নি ।

ওয়েল । বিজ্ঞান আজ যেটা যানে না সেটা অসসিকার করে । মানুষ ১০০ বছর যেনেছে মস্তিক্ক হল রক্ত পাম্প করার যন্ত্র। আমি এমেরিকা দেখি নি। তাই বলে সেটার অস্তিত্ত অসসিকার করতে পারবো না। সত্যি বলতে বিজ্ঞান মাত্র জন্ম নিলো ( আধুনিক মানুষ ১ লক্ষ বছর টিকে থাকলে বিজ্ঞান এখনো লেদা বাচ্চা)

হয়ত বিজ্ঞান একদিন আবিস্কার করবে অনেক কিছু । কিন্তু যাই করুক না কেন। আমাদের স্রস্টা আছে এটা এখনই স্পস্ট। হয়ত বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে স্রস্টার অস্তিত্ত আরো প্রবল হবে। স্রস্টা থাকলে তার দেয়া রুলসও থাকবে। সেই রুলস তিনি জনে জনে কল দিয়ে দিয়েও বলতে পারেন আবার বেছে বেছে কতিপয় মানুষের কাছেও দিতে পারেন অন্যদের দেয়ার জন্য। ( মিনিমাম একটা ধরম কিন্তু তবে ট্রু হতেই হয়)

রাখুন। কেউ একটা টপিক খুলুন। আমাদের কোন কোন স্রস্টা নাই এটার সাপেক্ষে/বিপক্ষে প্রমানাদি লিখা যেতে পারে। আশা করি সেখানে কোন ধরম টানা হবে না। শুধুই স্রস্টা নিয়ে।


বানান ভুলের জন্য দুক্ষিত

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

মরে গিয়ে ব্যাটা এখন ঠ্যালা বুঝতাসে  big_smile

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

ওউ আচ্ছা এই বই লেখার কারনেই মৃত্যু বরন করতে হয়েছে। জানতামনা  thinking

এম. মেরাজ হোসেন
IQ: 113
http://www.iq-test.cc/badges/4774105_3724.png

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

ফারহান খান লিখেছেন:

হয়ত বিজ্ঞান একদিন আবিস্কার করবে অনেক কিছু । কিন্তু যাই করুক না কেন। আমাদের ক স্রস্টা আছে এটা এখনই স্পস্ট। হয়ত বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে স্রস্টার অস্তিত্ত আরো প্রবল হবে। স্রস্টা থাকলে তার দেয়া রুলসও থাকবে।

এথিয়েস্ট গননার সাইট তো বলে অন্য কথা ভাইচা.. এক্সিসটেন্স তো দিন দিন মাইক্রো, অপটিক ফাইবারের মধ্য দিয়ে ডিমিনিশ হয়ে যাচ্ছে  neutral

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

লোকটাকে কি বিভৎসভাবেই না হত্যা করা হলো।  dontsee

১১

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

ধার্মিক আর ধর্মান্ধ দুটি ভিন্ন ধারনা...আজাদ স্যারকে যারা প্রকাশ্যে কুপিয়েছিলো তাদের আর যাই হোক ধার্মিক বলা যায়না, এদের ধর্মান্ধ বলতে হবে, ধর্মকে এরা ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে। শুধুমাত্র ভিন্নমত পোষন করার কারনে কাউকে মেরে ফেলতে হবে এটা কোন প্রকৃত ধার্মিকের আচরণ হতে পারে কি?

মুক্ত অভি'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (২৩-১২-২০১২ ১২:৫৪)

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

মুক্ত অভি লিখেছেন:

ধার্মিক আর ধর্মান্ধ দুটি ভিন্ন ধারনা...আজাদ স্যারকে যারা প্রকাশ্যে কুপিয়েছিলো তাদের আর যাই হোক ধার্মিক বলা যায়না, এদের ধর্মান্ধ বলতে হবে, ধর্মকে এরা ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে। শুধুমাত্র ভিন্নমত পোষন করার কারনে কাউকে মেরে ফেলতে হবে এটা কোন প্রকৃত ধার্মিকের আচরণ হতে পারে কি?

এজন্যই ডকিন্স, চার্লস, হিচেন্স, টোয়েইন, রাসেল, নীটশে এদের মতো মেধা এরকম ফ্যনাটিকলি মেলেভলেন্ট (malevolent) দেশের (মেজ্যরিটি) আসে পাসেও জন্মান নেই

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (২৩-১২-২০১২ ১৩:২৬)

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

মাহমুদ রাব্বি লিখেছেন:

লোকটাকে কি বিভৎসভাবেই না হত্যা করা হলো।  dontsee

স্যারকে কুপিয়েছিলো ধর্মান্ধরা বাংলা একাডেমীর উল্টোদিকের ফুটপাতে। সেদিন বইমেলাতে গিয়েছিলাম। আমি ঐ জায়গা দিয়েই হেটে গিয়েছিলাম টিএসসির দিকে। তার আধা ঘন্টা পরের ঘটনা সেটা। তবে উনি সেবার গুরুতর আহত হন। যতদুর জানি, পরবর্তীতে (কয়েক মাস পরে) বিদেশে (জার্মানী সম্ভবত) অবস্থানকালে উনি মারা যান।

উইকিতেও পেয়ে গেলাম ঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Humayun_Azad

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (২৪-১২-২০১২ ০৮:৪০)

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

ফারহান খান লিখেছেন:

বিগ ব্যাং এর জন্য ম্যাসিভ ম্যাটার এলো কোথা থেকে ? ( যেহেতু বিজ্ঞান বলছে কোন কিছু এমনি এমনি হয়না , কারন লাগে। কে বা কারা এই ম্যাটার এন্টি মেটার এনে দিয়েছে যেন বিগ ব্যাং হতে পারে। বিগ ব্যাং করে এত কিছু হল সাথে এলাম আমরা। যারা বা যিনি বিগ ব্যাং ঘটিয়েছেন তারে তার লাভ কি ?)

জ্ঞানের জটিলতা মাপনে যদি ০ থেকে ১০০ স্কেল করি যেমন e=mc^2 জটিলতা মাত্রা ৫, এফটিএল ইঞ্জিন জটিলতা ১০, মাস্টারী অফ স্পেস/টাইম/ম্যাটার জটিলতা ২০.... এই স্কেলে "বিগ ব্যাং এর পেছনের রহস্য" হবে জটিলতা মাত্রা ৯০+

বিগ ব্যাং নিয়ে প্রশ্নের "নিশ্চিত" জবাব পাওয়ার অনেক আগেরই ঈশ্বর প্রশ্নের নিশ্চত জবাব পাওয়া যাবে। আমারদের জ্ঞানের এই পর্যায়ে আমার শুধু নির্বোদ স্পেকুলেশনই করতে পারি।

ধরুন আমাদের কাছে আছে ০
এটাকে নিন্মরুপে বর্ধিত করি।
= 0
= 9 - 9
= x^2 + 6x + 9 - x^2 - 6x - 9
= (x+3)^2 .... so on

পয়েন্ট হল এই যে শুন্য থেকে জটিল ইকুয়েশন তৈরী করতে পারেন। ইকুয়েশনে ম্যাথামেটিকেল রুল প্রয়োগ করেত পারেন যোগ/বিয়োগ/ এলজাবরিক/ক্যালকুলাস ফরমুলা.... পুরো ইকুয়েশন একসাথে ইভালুয়েড করলে এখোন শুন্য আসবে কিন্তু ইকুয়েশনের একটা পার্টের দিকে নজর দিলে দেখতে পারবেন জটিল সব খেলা।

বিগ ব্যাং থেকে মহা বিশ্বের সৃষ্টিও কেও এই দৃষ্টিকোন থেকে দেখতে পারেন। ধরি, বিগ ব্যাং এর পর সমান সংখ্যক ম্যাটার এবং এন্টাই ম্যা্টার সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাটার- এন্টাই ম্যাটার কে একত্রিত করলে... ভ্যানিশ! আগের মত শুন্য। কিন্তু বিগ ব্যাং এর  এক্সপ্লোশন ইউনিফর্ম ছিল না। ফলে সৃষ্টি হওয়া স্পেসের এক দিকে ম্যাটার কিছু বেশী ছিল অন্য দিকে এন্টাই ম্যাটার কিছু বেশী। ফলে ম্যাটার এন্টাই ম্যাটার এনাইলেশন থেকে কিছু ম্যাটার এন্টাই ম্যাটার রয়ে যায়। সেই ক্ষুদ্র রয়ে যাওয়া অংশ দিয়েই আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টি। কে জানে ব্রহ্মান্ডের সকল ম্যাটার এন্টাই ম্যাটার এনার্জি- ডার্ক এনার্জি একত্রিত  করলে এখনো হয়তো ০ ই আসবে!

১৫

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

লেখক হুমায়ুন আজাদ এর কোন লেখা এই প্রথম পড়লাম  donttell । সুন্দর লিখেছেন।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-০১-২০১৩ ১২:১৮)

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

জ্যঁ বারত্রঁ রাসেলের দু'টো চমৎকার উক্তি পেয়ে গেলাম সচলে:

Religion is based, I think, primarily and mainly upon fear. It is partly the terror of the unknown, and partly the wish to feel that you have a kind of elder brother who will stand by you in all your troubles and disputes. Fear is the basis of the whole thing- fear of the mysterious, fear of defeat, fear of death....

Science can help us to get over this craven fear in which mankind has lived for so many generations. Science can teach us, and I think our own hearts can teach us, no longer to look round for imaginary supports, no longer to invent allies in the sky, but rather to look to our own efforts here below to make this world a fit place to live in, instead of the sort of place that the Churches in all these centuries have made it.

The whole conception of God is a conception derived from the ancient Oriental despotism. It is a conception quite unworthy of free men. When you hear people in church debasing themselves and saying that they are miserable sinners, and all the rest of it, it seems contemptible and not worthy of self-respecting human beings. We ought to stand up and look the world frankly in the face. We ought to make the best we can of the world, and if it is not so good as we wish, after all it will still be better than what these others have made of it in all these ages. A good world needs knowledge, kindliness, and courage; it does not need a regretful hankering after the past, or a fettering of the free intelligence by the words uttered long ago by ignorant men.

বোল্ড করা অংশটুকু পড়ে চিন্তার খোরাক পেয়েছিলাম। মানবজাতীর প্রতি খৃস্টান ধর্মের (টেকনিকালী রোমান ক্যাথলিক চার্চ এর "প্রচলনকর্তা") একটি উপহার হলো - ধার্মিকদের মানসিকতার মধ্যে গিল্টী, ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স গড়ে দেয়া। জুডেও-খৃস্টান লাইনের পরবর্তী সংস্করণ ইসলামেও এই মাইন্ড-কন্ট্রোল টেকনিক অবলম্বন করে নিয়েছে। কারণ সাইকোলজিকাল ডিভাইসটা অত্যন্ত কার্যকরী।

ধর্মগুরুদের ভাবখানা এমন যে পৃথিবীতে আমাদের জন্মগ্রহণ করাটাই বিরাট পাপকর্ম হয়ে গেছে। উঠতে বসতে আমরা পাপ করে চলেছি। শয়নে জাগরণে শুধু পাপ আর পাপ। ডানে গেলেও পাপ, বাঁয়ে গেলেও পাপ। বেডরুমেও পাপ, বাথরুমেও পাপ। বুদ্ধি হবার পর থেকেই মানুষ গলা পর্যন্ত পাপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর এই পাপিষ্ঠদের জন্য বরাদ্দ আছে অনন্তকালব্যাপী নারকীয় শাস্তি। জীবিত থাকা অবস্থায় প্রতি মুহুর্তে পাপ করে গেলেও একটি মানুষ বড়জোর কত বছর পাপ করতে পারে? গড়ে ৬০-৮০ বছর? অর্গানাইযড ধর্মগুলো অবশ্য হিসাবকিতাবের ধার ধারে না, ৭০/৮০ বছর কৃতকর্মের জন্য চিরকাল ধরে নরকের শাস্তি ভোগ করতে হবেই।  neutral

দেশে এবং বিদেশে কিছু চার্চের সারমন শোনার সৌভাগ্য হয়েছিলো। বড় ধর্মগুলো অসংখ্য দিক দিয়ে ভিন্ন এবং সাংঘর্ষিক হলেও একটা দিকে এদের অদ্ভূত মিল - জুমা/ঈদের নামাজের মোনাযাতে ইমাম যেমন আল্লাহর কাছে পাপক্ষালণ করার জন্য আকুলিববিকুলি কোরে ঝরঝর করে কেঁদে দিতে পারেন, তেমনি সানডে প্যাস্টরও ইনিয়েবিনিয়ে নরকের দরজা থেকে রেহাই পাবার জন্য একটাই মোক্ষম দাওয়াই বাতলে দিতে পারেন। আমার কোম্পানীর কারমিনা-নাক্স-ভমিকা খরিদ করুন - সাথে ডিভাইন ফ্যান্টাসী কিংডমের ফৃ টিকেট বোনাস পান!  cool

৩/৪ দিন আগে স্বর্গ-নরক নিয়ে একটি ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম। যদিও ডকু-টা খৃস্টান এ্যাংগল থেকে তৈরী, তবে ওখানে দেখিয়েছে কিভাবে রোমান সাম্রাজ্য পতন হবার পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিলো রোমান ক্যাথলিক চার্চ, এবং কিভাবে তারা ম্যাস মাইন্ডকন্ট্রোল করে লাইমলাইটে ফিরে এসেছে। সাম্রাজ্যের পতন এবং পলিটিকাল প্রভাব বিরাটভাবে হ্রাস পাবার কারণে সাধারণ ইউরোপীয়রা চার্চ বিমুখ হয়ে পড়ছিলো। আর ঠিক এহেন সংকটময় (চার্চের জন্য) পিরিয়ডেই ধর্মবিদরা নরক সম্পর্কে বেশ কিছু প্র্যাকটিকাল "জ্ঞান" লাভ করে ফেললেন। নরকের বিধ্বংসী আগুন, ফুটন্ত তেল, রোড রোলার জাতীয় মেশিনে মানুষকে পিষ্ট করা, ভয়ানক জন্তুজানোয়ার - হঠাৎ করে এত টর্চারিং ডিভাইস/মেকানিজম "রাতারাতি আবিষ্কার" হয়ে গেলো। আর চার্চও মহাসমারোহে রোম-খাড়া করা, ভয়াল ভয়ানক কেচ্ছা কাহিনী বিক্রয় করা আরম্ভ করলো। ইমিডিয়েট রেজাল্ট!  big_smile চার্চের ব্যাংক ব্যালেন্স আবারও ফুলেফেঁপে উঠতে লাগলো - আগের চাইতেও কয়েকগুণ হারে। রোমান এমপায়ারের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন আর নেই রোমান ক্যাথোলিক চার্চের, এখন সে নিজেই নিজের রুটি-রুজীর বন্দোবস্ত করতে সক্ষম। গরীব বর্গা চাষী গণি মিয়া ইয ব্যাক অন ট্র্যাক - টু ফাস্ট মানী... এ্যান্ড হি ইয কিকিং এ্যাস এভরীহয়ের! big_smile

ইউরোপের বেরাদারগণ একখানা মোক্ষম মগজ-ধোলাই টেকনিক আবিষ্কার করে ফেললো, আরবী/মধ-এশীয়রাই বা বসে থাকবে কেন?

Ctrl+C, Ctrl+V
আগুন, কাঁটা, গলিত সীসা, ফুটন্ত তেল? কপিড এ্যান্ড পেস্টেড! cool
নরক থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়? কপিড এ্যান্ড পেস্টেড!  cool  cool

একদিক দিয়ে, চার্চ-মসজিদ-মন্দির গুলো হাসপাতালের মত - এক প্রতিষ্ঠান শারিরীক রোগের চিকিৎসা করে, অন্যটি কাল্পনিক মানসিক রোগ লাঘবের দাবী করে। পার্থক্য - হাসপাতালগুলোকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয় কখন মানুষ রোগাক্রান্ত হবে এবং ওখানে ভর্তি হবে। আর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেই উদ্যোগ নিয়ে সাইকোলোজিকাল ফিয়ার ফ্যাকটরী চালনা করে; বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রবল ভয়ভীতি, ফোবিয়া, উদ্বেগ, ইনফিরিওরিটি কম্পলেক্স তথা মানসিক রোগব্যাধী ছড়িয়ে দেয় - কারণ ওসব সিম্পটমের স্বঘোষিত "চিকিৎসক" সে নিজেই। কাল্পনিক অনন্তর ডিজনীল্যান্ড এবং আবু-ঘ্রেইব প্রিজন - দু'টোরই ট্রাভেল এ্যাজেন্ট সে একাই। টিকেট যেদিকেই সেল হোক, আখেরে লাভবান হবে একজনই।  wink

তবে অবস্থার পরিবর্তন আসছে (এবং তা বেশ দ্রুতই আসছে বলে মনে হচ্ছে)।

দ্যা এইজ অব সায়েন্স ইয হিয়ার। এ্যান্ড দ্যা এইজ অব রিলিজন ইয...  donttell
(অবশ্য ওসব সিস্টেমগুলোও বিবর্তিত হতে বাধ্য হচ্ছে - আদ্যিকালের পাদ্রী/মোল্লাদের গেইম ওভার, এখন লাইমলাইটে উঠে আসছেন দীনেশ ডি'সুযা, যাকির নাইকদের মত বিগব্যাং, কসমোলজী, এভোলিউশন, কোয়ান্টাম ফিযিক্স ইত্যাদি দামী দামী শব্দ-উচ্চারণকারী নিউ এইজ ধর্ম প্রচারকেরা)

রিচার্ড ফাইনম্যান:

God was invented to explain mystery. God is always invented to explain those things that you do not understand. Now, when you finally discover how something works, you get some laws which you're taking away from God; you don't need him anymore.

Calm... like a bomb.

১৭

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

ইনভার্ব্রাস ভাইজান,  thumbs_up
একদম নাকের ওপর...

পোস্টটার জন্য আমন ভাইকে অনেক ধন্যবাদ...

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

১৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১০-০১-২০১৩ ১৬:২৯)

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

পিএস: স্বর্গ-নরক বিষয়ক ডকুমেন্টারীটি এখানে পাবেন।
(এছাড়া এটাও ডাউনলোড লিস্টে আছে  tongue )

Calm... like a bomb.

১৯

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

@invarbrass
আপনার সম্মাননার অবস্থা কিন্তু ইভিল  lol lol lol
666
সাবধানে থাকিয়েন।

২০

Re: ধর্মানুভূতির উপকথা

ফারহান খান লিখেছেন:

হয়ত বিজ্ঞান একদিন আবিস্কার করবে অনেক কিছু । কিন্তু যাই করুক না কেন। আমাদের স্রস্টা আছে এটা এখনই স্পস্ট। হয়ত বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে স্রস্টার অস্তিত্ত আরো প্রবল হবে। স্রস্টা থাকলে তার দেয়া রুলসও থাকবে। সেই রুলস তিনি জনে জনে কল দিয়ে দিয়েও বলতে পারেন আবার বেছে বেছে কতিপয় মানুষের কাছেও দিতে পারেন অন্যদের দেয়ার জন্য। ( মিনিমাম একটা ধরম কিন্তু তবে ট্রু হতেই হয়)

রাখুন। কেউ একটা টপিক খুলুন। আমাদের কোন কোন স্রস্টা নাই এটার সাপেক্ষে/বিপক্ষে প্রমানাদি লিখা যেতে পারে। আশা করি সেখানে কোন ধরম টানা হবে না। শুধুই স্রস্টা নিয়ে।

ঠিক এমনটাই লিখেছিলাম কয়েকদিন আগে যেমনটি আপনি চেয়েছেন ।এখানে দেখুন:
http://forum.projanmo.com/topic40772.html

ম্যাচের কাঠি নিজেও জানেনা যে তার মধ্যে আগুন আছে।
আমরা প্রত্যেকেই ম্যাচের কাঠির মতো।
আগুনটা বের করতে শুধু একটা ঘষা দরকার।