১৪১

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

mshm50 লিখেছেন:

পৃথিবীটা  মানুষ পাঠানো হয়েছে, পরীক্ষা দেবার জন্য। ....

হুজুরদের এই কথাটা কোনোকালেই আমার হজম হয় নাই। কারণ এটা লজিকালি সৃষ্টিকর্তার অন্য ধারণাগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক। চাকুরীদাতা পরীক্ষা নেয় কারণ সঠিক লোক কে সেটা বেছে নিতে কারণ অনেকজন অচেনা অজানা চাকুরীপ্রার্থী থেকে সেটা জানার আর কোনো উপায় নাই। অনেক সময় খুব ভাল সিভি ওয়ালা লোককে পরীক্ষা ছাড়াই চাকুরী দেয় - কারণ রেফারেন্স, রেজাল্ট সব মিলিয়ে নির্ভরযোগ্য মনে হয় (যেমন, বাইরে পড়তে যাওয়ার সময়ে কাগজপত্র আর রেকমেন্ডেশন দেখেই সিলেকশন হয় বেশিরভাগ জায়গায়)। শিক্ষকগণ পরীক্ষা নেয়, কারণ কে কতটুকু শিখলো সেটা পরীক্ষা করার জন্য -- আর এই ফলাফলের ভিত্তিতে কর্মবাজারের উদ্যোক্তাগণ কাঙ্খিত মানের কর্মী বেছে নেয়। কারখানার QC বা কোয়ালিটি কন্ট্রোলে কোন মালটা খারাপ সেটা আলাদা করার জন্য পরীক্ষা করা হয় ... ... কারণ উৎপাদকও মেশিন থেকে বের হওয়া সবগুলো প্রোডাক্টের বেঠিক হওয়ার আনসার্টেনিটি জানেন না। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা তো সবজান্তা, তাঁর কোন লিমিটেশন নাই ... ... তিনি যদি সবই আগে থেকে জানেন তাহলে এই পরীক্ষা কেন?  roll

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪২

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

invarbrass লিখেছেন:

যতদূর জানি, আরবীতে "আমি"-র আরেকটু রেসপেক্টফুল, রয়াল ভার্সন হলো ঐ শব্দটা - এটাকে নির্দেশ করতে ইংরেজীতে We ব্যবহার করে (যেহেতু ইংরেজী/বাংলায় এর সরাসরি প্রতিশব্দ নেই)

হিন্দীতেও এই ব্যাপারটা আছে।

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৪৩

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

শামীম লিখেছেন:

তিনি যদি সবই আগে থেকে জানেন তাহলে এই পরীক্ষা কেন

এই বিষয়ে সাম্প্রতিক যে ব্যাখাটি পেয়েছি সেটা হল নিম্নরূপঃ
আল্লাহ তাল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছে কিন্তু তাকে তাঁর আদেশের বাইরের কোনো কাজ করার ক্ষমতা দেয়া হয়নি। এজন্য কোনো মানুষ চাইলেই আরেকজন মানুষকে খুন বা হত্যা করতে পারবে না যদি না আল্লাহ তাল্লাহ উনাকে খুন বা হত্যা করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এখন কথা হচ্ছে এই খুন বা হত্যা করার অনুমতি আল্লাহ তাল্লাহ কেন দিবেন আর যদি দিয়েই থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে পরকালে শাস্তির আদেশ কেন দিবেন। এই বিষয়ে কিছু জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতবাদ হচ্ছে, আল্লাহ তাল্লাহর স্বেচ্ছার ইচ্ছায় কোনো খুন বা হত্যা হয় না। যা হয় তা হচ্ছে, কিছু মানুষ আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে চায়। তারা ভুলে যায় যে তাদের এই কাজ এর জন্য পরকালে শাস্তির বিধান আছে। এমতাবস্থায় যখন আল্লাহ তাল্লাহ তাকে খুন বা হত্যা করার অনুমতি দেন তখন সেটা তিনি খুশি হয়ে দেন না বরং বিরাগভাজন হন। আর এই কারণেই আল্লাহ তাল্লাহ তাঁর নিয়মের বাইরে চলা ব্যক্তিদের পরকালে শাস্তি দিবেন। আর মানুষ কেন নিয়মের ব্যত্যয় করে? অবশ্যই শয়তানের পাল্লায় পড়ে।

১৪৪

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

সেভারাস লিখেছেন:
শামীম লিখেছেন:

তিনি যদি সবই আগে থেকে জানেন তাহলে এই পরীক্ষা কেন

এই বিষয়ে সাম্প্রতিক যে ব্যাখাটি পেয়েছি সেটা হল নিম্নরূপঃ
আল্লাহ তাল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছে কিন্তু তাকে তাঁর আদেশের বাইরের কোনো কাজ করার ক্ষমতা দেয়া হয়নি। এজন্য কোনো মানুষ চাইলেই আরেকজন মানুষকে খুন বা হত্যা করতে পারবে না যদি না আল্লাহ তাল্লাহ উনাকে খুন বা হত্যা করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এখন কথা হচ্ছে এই খুন বা হত্যা করার অনুমতি আল্লাহ তাল্লাহ কেন দিবেন আর যদি দিয়েই থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে পরকালে শাস্তির আদেশ কেন দিবেন। এই বিষয়ে কিছু জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতবাদ হচ্ছে, আল্লাহ তাল্লাহর স্বেচ্ছার ইচ্ছায় কোনো খুন বা হত্যা হয় না। যা হয় তা হচ্ছে, কিছু মানুষ আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে চায়। তারা ভুলে যায় যে তাদের এই কাজ এর জন্য পরকালে শাস্তির বিধান আছে। এমতাবস্থায় যখন আল্লাহ তাল্লাহ তাকে খুন বা হত্যা করার অনুমতি দেন তখন সেটা তিনি খুশি হয়ে দেন না বরং বিরাগভাজন হন। আর এই কারণেই আল্লাহ তাল্লাহ তাঁর নিয়মের বাইরে চলা ব্যক্তিদের পরকালে শাস্তি দিবেন। আর মানুষ কেন নিয়মের ব্যত্যয় করে? অবশ্যই শয়তানের পাল্লায় পড়ে।

এই ব্যাখ্যায় আপনি আসলেই সন্তুষ্ট? আমার কাছে প্রচুর পরষ্পর বিরোধী কথাবার্তা মনে হচ্ছে ... ...

কনসেপ্চুয়ালি আল্লাহ না চাইলে কেউ মারা যেতে পারে না। কাজেই খুনের উদ্দেশ্যে সব রকম কাজ করলেও আল্লাহ না চাইলে মারা যাবে না, যখন মারা যায় তখন অবশ্যই আল্লাহ চায় বলেই মারা যায় (মন্ত্রীর উক্তি ঠিকই ছিল -- আল্লার মাল আল্লায় নিছে ... )। আবার শুনি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না, কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় খুন করে ফেলে -- তার মানে অনুমতি দেয়াই আছে -------------------------------- চরম প্যাচাপেচি কাহিনী ... ... কয় মন্তব্য আগেই যে "সহজ বিধানের" কিছু একটা দেখেছিলাম সেটা তো মোটেই সহজ লাগতেছে না ... ... ।

ব্যাপার হল, আমরা আমাদের কল্পনা মিশিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে চিন্তা করি। আমাদের চিন্তা, ধ্যাণ ধারণা সেই কল্পিত সৃষ্টিকর্তার উপর আরোপ করি। অমুক করিলে আল্লাহ গোস্যা হবেন ... ... তমুক করিলে খুশি হবেন ---- আল্লাহ যে কী করবেন সেটা আমাদের চিন্তাধারায় আসার কথা না, আমরা আমাদের চিন্তাধারাটাকে আল্লাহর উপর আরোপ করে ওনার নামে বলে দিচ্ছি।

ছোটকালে ভাবতাম যদি কানাডা যাইতে পারি তাহলে সারাদিন খালি আইসক্রিম খাব। জানালা দিয়ে বাইরে গ্লাসে পানি আর কাঠি ধরবো আর জমে আইসক্রিম হয়ে যাবে। কিন্তু ঠান্ডায় যে কী অবস্থা হয় সেটা যে ওখানে থাকে সে-ই বুঝে। আমাকে তখন আরো ছোট কেউ যদি জিজ্ঞেস করে কানাডার লোকজন কেমন আইসক্রিম খায়, বা দাম কেমন -- তখন সেই ধারণা থেকে ভাব নিয়ে বলে দিতাম ---- "আ-র-রে কানাডায় আইসক্রিম খুবই সস্তা। খালি কাঠি ধরলেই আইসক্রিম হয়। চারদিকে বরফ আর বরফ -- এক মগ নিয়ে একটু সিরাপ ঢেলে নিলেই কুলফি হয়ে যায়।" হুজুরদের ব্যাখ্যাগুলোকেও আমার মাঝে মাঝেই তেমন সীমাবদ্ধ ধারণার আরোপিত জ্ঞান মনে হয়।

তাই যখন ওয়েদার ফোরকাস্টিং সম্পর্কে জানতো না তখন হুজুরদের ব্যাখ্যায় ঝড়, বৃষ্টি, সুনামি, অগ্নুৎপাত সৃষ্টিকর্তার গোস্যার ফল হয়ে যেত। মহামারী, কলেরা হত লানত্ - অথচ আমরা জানি অতি পূণ্যবানকেও যদি নির্দিষ্ট হাইজিনের বাইরে রাখা হয় তাহলে পানিবাহিত রোগ হবে। ইত্যাদি ...

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪৫

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

সেভারাস লিখেছেন:

এই বিষয়ে কিছু জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতবাদ হচ্ছে, আল্লাহ তাল্লাহর স্বেচ্ছার ইচ্ছায় কোনো খুন বা হত্যা হয় না। যা হয় তা হচ্ছে, কিছু মানুষ আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে চায়। তারা ভুলে যায় যে তাদের এই কাজ এর জন্য পরকালে শাস্তির বিধান আছে। এমতাবস্থায় যখন আল্লাহ তাল্লাহ তাকে খুন বা হত্যা করার অনুমতি দেন তখন সেটা তিনি খুশি হয়ে দেন না বরং বিরাগভাজন হন। আর এই কারণেই আল্লাহ তাল্লাহ তাঁর নিয়মের বাইরে চলা ব্যক্তিদের পরকালে শাস্তি দিবেন। আর মানুষ কেন নিয়মের ব্যত্যয় করে? অবশ্যই শয়তানের পাল্লায় পড়ে।

তাহলে আল্লাহকে সর্বশক্তিমান বলা হবে কেন ??

Life IS Neither TEMPEST, NOR A midsummer NIGHT'S DREAM, BUT A COMEDY OF Errors,
ENJOY AS U LIKE IT

১৪৬

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

অরিহন্ত লিখেছেন:

তাহলে আল্লাহকে সর্বশক্তিমান বলা হবে কেন ??

কারণ সর্বশক্তিমানকেই আল্লাহ বলা হচ্ছে।

১৪৭

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

vb_coder লিখেছেন:
অরিহন্ত লিখেছেন:

তাহলে আল্লাহকে সর্বশক্তিমান বলা হবে কেন ??

কারণ সর্বশক্তিমানকেই আল্লাহ বলা হচ্ছে।

  lol2 lol2 lol2 lol2 সুন্দর সুন্দর এক্সপ্লানেশন দেখা যায় আজকাল ফোরামে

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪৮

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

  lol2 lol2 lol2 lol2 সুন্দর সুন্দর এক্সপ্লানেশন দেখা যায় আজকাল ফোরামে

ধন্যবাদ। যদিও জানি খোঁচা মারছেন। big_smile

১৪৯

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

vb_coder লিখেছেন:
অরিহন্ত লিখেছেন:

তাহলে আল্লাহকে সর্বশক্তিমান বলা হবে কেন ??

কারণ সর্বশক্তিমানকেই আল্লাহ বলা হচ্ছে।

:::একজন আপনাকে প্রশ্ন করলো পানির অপর নাম জীবন কেন ?
আর আপনি উত্তর করলেন ::::~~ জীবনের অপর নাম পানি যে~~

আপনি সবসময় সিরিয়াস কোনো টপিকে হাসানোর চেস্টা করেন .........। এধরনের কোনো উত্তর  আপনার কাছে কতটা গ্রহন যোগ্য বলুনতো ভাই.....।

ভালোবাসা উষ্ণতা জাগায় বটে......
তবে এ কাজটি দ্রুততার সাথে করে ভদকা.......

১৫০

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

আল্লাহ বলেছেন আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে ভালবাসেন। মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আল্লাহ কেনো তাহলে মানুষকে আখিরাতে আগুনে নিক্ষেপ করবেন? দুনিয়াতে ২০ ভাগের মতো মুসলমান। বাকি সবাই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। এখন আল্লাহ কি শুধু এই ২০ ভাগের জন্য জান্নাত রেখেছেন, বাকি প্রায় ৮০ ভাগ কি জাহান্নামী? একজন মানুষ তার পরিবার থেকে প্রথম ধর্মীয় শিক্ষা পায়। তার পরিবার যদি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম পালন করে স্বাভাবিকভাবেই সেও ঐ ধর্মই পালন করবে। এখন এতে ঐ ব্যাক্তিটির দোষ কতটুকু? তাকে কি আল্লাহ কেয়ামতের দিন আগুনে নিক্ষেপ করবে?

যেহেতু আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুই হয় না তাই আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া দুনিয়ায় এত এত জাতিও তৈরী হতো না। তাই মনে হয় আল্লাহ কোরআনে বলেছেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে।

মুসলমানরা ধর্ম প্রচার করতে তাবলীগ জামাত করে। খ্রিষ্টানরা করে মিশনারী ক্যাম্প। সবাই নিজেদের ধর্মকেই সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায় এবং বিশ্বাস করে তার নিজের ধর্মই সবচেয়ে সেরা। আমি ইসলাম অনুসারী তাই আমার কাছে ইসলাম সেরা, বাকি সব বিকৃত। যে খ্রিষ্টান তার কাছে খ্রিষ্টানিটিই সেরা, বাকি সব বিকৃত। এই ধর্ম নিয়ে বিবাদ যুগে যুগে ছিলো। তাই বলেছিলাম এই দুই ধর্মের মানুষ যদি এক হতে পারতো তবে দুনিয়ার অর্ধেক ধর্মীয় বিবাদ শেষ হয়ে যেতো যেহেতু খ্রিষ্টান-মুসলমান মিলে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৫০ ভাগের বেশি।

আখিরাতে আল্লাহ কি করবেন সেটা আল্লাহর বিষয়। আমরা দুনিয়াতে ঠিকঠাক মতো থাকি। ভালো কাজ করি। অন্যকে সম্মান দিতে শিখি। নিজের মতের সাথে অন্যের মত মিললো না বলে ব্যক্তিগত আক্রমন, গালিগালাজ বন্ধ করি। কাকে আল্লাহ বেহেস্ত দিবেন আর কাকে জাহান্নামের আগুনে ফেলবেন সেটা তাঁর ব্যাপার।

১৫১

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

ধুর অনেক কিছু লিখেছিলাম কিন্তু  ব্রাউজার হ্যাং মারলো  waiting waiting waiting  মেজাজটা কেমন লাগে?  angry

এম. মেরাজ হোসেন
IQ: 113
http://www.iq-test.cc/badges/4774105_3724.png

১৫২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৫-১২-২০১২ ০৮:৪৫)

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

সেভারাস লিখেছেন:

এই বিষয়ে সাম্প্রতিক যে ব্যাখাটি পেয়েছি সেটা হল নিম্নরূপঃ
আল্লাহ তাল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছে কিন্তু তাকে তাঁর আদেশের বাইরের কোনো কাজ করার ক্ষমতা দেয়া হয়নি। এজন্য কোনো মানুষ চাইলেই আরেকজন মানুষকে খুন বা হত্যা করতে পারবে না যদি না আল্লাহ তাল্লাহ উনাকে খুন বা হত্যা করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এখন কথা হচ্ছে এই খুন বা হত্যা করার অনুমতি আল্লাহ তাল্লাহ কেন দিবেন আর যদি দিয়েই থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে পরকালে শাস্তির আদেশ কেন দিবেন। এই বিষয়ে কিছু জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতবাদ হচ্ছে, আল্লাহ তাল্লাহর স্বেচ্ছার ইচ্ছায় কোনো খুন বা হত্যা হয় না। যা হয় তা হচ্ছে, কিছু মানুষ আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে চায়। তারা ভুলে যায় যে তাদের এই কাজ এর জন্য পরকালে শাস্তির বিধান আছে। এমতাবস্থায় যখন আল্লাহ তাল্লাহ তাকে খুন বা হত্যা করার অনুমতি দেন তখন সেটা তিনি খুশি হয়ে দেন না বরং বিরাগভাজন হন। আর এই কারণেই আল্লাহ তাল্লাহ তাঁর নিয়মের বাইরে চলা ব্যক্তিদের পরকালে শাস্তি দিবেন। আর মানুষ কেন নিয়মের ব্যত্যয় করে? অবশ্যই শয়তানের পাল্লায় পড়ে।

এটা বেসিকালী "প্রবলেম অব ইভিল" (এখানে এবং এখানে সম্ভবত: PoE নিয়ে কিছু আলোচনা ছিলো, তবে এখন পোস্টগুলো খুঁজে পাচ্ছি না  worried )।

প্রবলেমটা বেশ পুরনো। হাজার হাজার বছর আগে বিলীন হয়ে যাওয়া ধর্ম/চিন্তাধারাগুলোও এই সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে। জানা ইতিহাসে, গ্রীক সভ্যতায় এই প্রশ্নটি প্রথম উত্থাপিত হয়েছিলো। (দার্শনিক এপিকিউরাসের একটি ছোট্ট কবিতায় প্রবলেমটি নিয়ে প্রথম চ্যালেন্জ পাওয়া যায়)

প্রশ্ন খুবই সরল: গড, যিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্ব-জ্ঞানী, পারফেক্টলী গুড, মোরাল, এথিকাল এবং লাভিং সত্বা, তিনি থাকতে জগৎে কেন এত অন্যায়, অবিচার, পাপ, অপরাধ, দু:খকষ্ট বিরাজমান?

প্রশ্ন স্ট্রেট-কাট হলেও উত্তরটা বেশ কঠিন। ওয়েল, প্রায় দুই/আড়াই হাজার বছর ধরে বিশ্বাসী এ্যাপোলোজিস্টরা এর যথাযথ উত্তর দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিভিন্নভাবে গড-কে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেছেন অনেক মণীষী। যেমন: মোরালী পার্ফেক্ট গডের রাজত্বে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি কেন হয় তার ব্যাখ্যা দেবার জন্য কিছু ধর্মে একটা সুপার-ন্যাচারাল এ্যান্টি-গড এন্টিটির জন্ম দিয়েছে।

ইবলিস, শয়তান, স্যাটান, লুসিফার - এই চাচা চৌধরীর জন্মই হয়েছে PoE কাউন্টার করার জন্য। ঈশ্বরের ডার্টি জবগুলো করার জন্য ডেভিল নামক সুপারন্যাচারাল ফোর্স ম্যানুফেকচার করা হয়েছিলো।

তবে এখানেও আরেক নতুন প্রবলেম - "শয়তান"-এর অস্তিত্বই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেন্জ। আল্টিমেটলী দেখা গেলো শয়তানের কন্সেপ্টও এই প্রবলেমটা সল্ভ করতে ব্যর্থ হলো - ঈশ্বর যদি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান হয়ে থাকেন তাহলে তিনি কি ইবলিস/লুসিফার সৃষ্টি করার সময় অবগত ছিলেন না এই "এ্যান্জেল" এক সময় তাঁর অবাধ্য হবে এবং বিভিন্ন অপরাধ, দুর্যোগ, অনিষ্ট ঘটিয়ে বেড়াবে? যদি জেনে থাকেন তাহলে হতে দিলেন কেন? অথবা, হতে দিলে এই ব্যাটার কাজকর্ম প্রতিহত করার ক্ষমতা কি তাঁর নেই? তাছাড়া, শয়তান দিয়ে ব্যাপক বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, ভূমিকম্প, ৎসুনামী এসব ব্যাখ্যা করা যায় না।

তবে এ্যাপোলোজিস্টদের মস্তিষ্ক থেমে নেই। প্রবলেমটি সলভ করার চেষ্টা এখনো তাঁরা চালিয়ে যাচ্ছেন। লেটেস্ট ভার্সন হলো - আপনি যেটি উল্লেখ করলেন সেটি - আলভিন প্লান্টিংগার "ফ্রী উইল ডিফেন্স"। এই ব্যাখ্যায় সমস্ত দায়ভার চাপানো হয়েছে মানুষের উপর। fwd মতে - ঈশ্বর মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দিয়েছেন। মানুষ শুভ কাজ করবে না পাপ কাজ করবে সেটা পুরোপুরিভাবে তার এবং একান্তই তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। একজন লোক ভালো কাজ করলে সবাই ঈশ্বরকে বাহবা দিতে পারেন; তবে সে খারাপ কাজ, অপরাধ করলে ঈশ্বরের কোনো দায়দায়িত্ব নেই।

তাহলে ফ্রী উইল তথা খারাপ কাজ করার ক্যাপাসিটি ঈশ্বর কেন মানুষকে দিলেন? (প্লান্টিংগার প্রচুর ভিডিও ইউটিউবে আছে। আগ্রহীরা দেখতে পারেন) কারণ ফ্রী উইল না থাকলে মানুষ একটা লিমিটেড চিন্তার রোবট জাতীয় বস্তুতে পরিণত হতো। গুগলের নতুন ড্রাইভারলেস কম্পিউটারাইযড গাড়ীগুলোতে কলিশন ডিটেক্টর আছে - আপনার গাড়ীর রেডার যদি কাছাকাছি রেডিয়াসের মধ্যে কোনো অবস্টেকল বা অন্য গাড়ী ডিটেক্ট করে তাহলে অটোমেটিক আপনার গাড়ীও গতি কমিয়ে বা ডিরেকশন পাল্টে তা এড়িয়ে যাবে। ফ্রী উইল না থাকলে মানুষও ঐরকম রোবট জাতীয় প্রাণী হতো - প্রথমত: সে কোনো অন্যায় কাজ করার চিন্তাও করতে পারতো না (which should have been a good thing  tongue ) আবার, না বুঝে কোনো কাজ করতে গেলে যদি অন্যের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে মানুষটি কাজটি করতে ব্যর্থ হতো। কাজটি ভার্চুয়ালী ইমপসিবল হতো তার জন্য, কোনো অবস্থাতেই কাজটি করা সম্ভব হতো না। মানুষ করতে চাইলেও ঈশ্বর (বা তাঁর এজেন্টরা) ঐ কাজটি প্রতিহত করে দিতেন।

এটা নিশ্চয়ই ভালো হতো না, কি বলেন?  hmm

(পিএস: স্বর্গ/নরকে কিন্তু অনন্তকালের জন্য আপনি ঐ স্বাধীন চিন্তা-রহিত ডাম্ব রোবটই বনে থাকবেন  tongue )

তবে এই ফ্রী উইল ডিফেন্সও ব্যাপক সমস্যাময়। বিভিন্ন দিক থেকে এটার অসারতা অনুধাবন করা যায়।

নিউরোসাইন্স যতই আগাচ্ছে ততই আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে আমাদের ব্রেইন একটা খুব জটিল কম্পিউটিং ডিভাইস। জাপানে একজন নিউরোসাইন্টিস্ট একজন মানুষ মনের মধ্যে কি চিন্তা করছে তা এমআরআই স্ক্যানারের সাহায্যে ডিটেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এমনকি লোকটি কি স্বপ্ন দেখছে সেটাও ডিটেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন (তবে এই টেকনোলজীটা খুবই লিমিটেড এখনো)। এছাড়া অন্যান্য নিউরোসাইন্স ল্যাবরেটরী টেস্টে দেখা গেছে ব্যক্তির আগেই ব্যক্তির ব্রেনের সাথে এ্যাটাচ করা কম্পিউটার জেনে যাচ্ছে লোকটি ভবিষ্যৎে কি করতে যাচ্ছে। এক্সপেরিমেন্টটি এরকম: অসংখ্য ইলেক্ট্রোড যুক্ত হেলমেট পরিয়ে দেয়া হলো আপনাকে - ইলেক্ট্রোডগুলো ব্রেনের ইলেক্ট্রিসিটি পরিমাপ করে আপনি কি চিন্তা করছেন তা আইডেন্টিফাই করতে পারে। এরপর হয়তো আপনার সামনে কম্পিউটার স্কৃণে দু'টো (বা আরো বেশি) বাটন দেখানো হলো - বাটনগুলো হুবহু একই সাইযের, কালারের এবং আকারের - শুধু পযিশণের হেরফের ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই। এদের মধ্যে যেকোনো একটি বাটন আপনাকে ক্লিক করতে বলা হলো। আপনার অন্তত: ২০০-৩০০ মাইক্রোসেকেন্ড আগেই রিসার্চাররা (ইলেক্ট্রোডগুলো রীড করতে থাকা কম্পিউটারের মাধ্যমে) জেনে যাচ্ছেন আপনি "ভবিষ্যৎে" তথা স্প্লিট সেকেন্ড পরে কোন বাটনটা ক্লিক করবেন। আপনার সাব-কনশাস ব্রেইন বিভিন্ন ক্যালকুলেশন করে একটা ডিসিশন মেইক করছে - আর ঐ ডিসিশনটা সাথে সাথে ইলেক্ট্রোডগুলো পিকআপ করে ফেলছে। অথচ তখনো ঐ "সিদ্ধান্ত" আপনার কনশাসনেসেই পৌছাঁতে পারে নি।

এছাড়া, মানুষের সব কাজ স্পেসিফিকালী ভালো বা খারাপ বলা যায় না। একটি থট এক্সপেরিমেন্ট: আপনি জনকল্যানের উদ্দেশ্যে এলাকায় একটি কূয়া খনন করে দিলেন। কিছুদিন পরে হয়তো পটল তুললেন tongue  ৫ বছর পর হয়তো ঐ কুয়ার পানি একজন প্রবল জ্বরাক্রান্ত রোগীর মাথায় ঢেলে সে যাত্রা তার প্রাণরক্ষা করা হলো। আবার ধরুন, আরো ৫ বছর পরে খেলতে গিয়ে একটি শিশু ঐ কুয়ায় পড়ে মারা গেলো। (কল্পনা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন - যে লোকটির প্রাণ রক্ষা পেলো সে হয়তো ভয়ংকর খুনী, আর যে শিশুটি মারা গেলো সে হয়তো বেঁচে থাকলে বড় সমাজসেবক হতো। আবার উল্টোটিও হতে পারে: গুডবয় রক্ষা পেলো, ব্যাডবয় অক্কা পেলো। ব্রুস উইলিসের looper মুভিটি দেখতে পারেন...  tongue )

যাহোক, একটা এ্যাকশন ভালো না খারাপ তার কোনো ক্লিয়ারকাট ক্রাইটেরিয়া নাই। (রাসপুটিন বিষয়ক এক থ্রেডে ক্যাওস থিওরী নিয়ে আলোচনা হয়েছিলো। হিমোফিলিয়ার বাহক একজন বৃটিশ প্রিন্সেসকে কিভাবে (টানাটানি করে  tongue ) ভারত পাকিস্তান/বাংলাদেশের জন্মের জন্য দায়ী করা যায় তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামিয়েছিলাম lol )

ইদানীং আমেরিকায় বেশ ঘনঘন ম্যাস মার্ডার ঘটছে। কয়েক মাস আগে অরোরা ম্যাসাকার (ডার্ক নাইট রাইজেস প্রিমিয়ার শো দেখতে গিয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু) ঘটার পর মিডিয়া বেশ ক্ষেপেছিলো - হোয়্যার ওয়াজ গড ইন অরোরা? এ্যাপোলোজিস্টরা ঐবার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ভুজুংভাজুং মেরে চালিয়ে দিয়েছিলো।

এইবার স্যান্ডী হুক ম্যাসাকারের জন্য তাঁরা বোধহয় রেডীই ছিলেন।  kidding

আবারও সেইম কোয়েশ্চেন: "হোয়্যার ওয়াজ গড ইন কানেক্টিকাট?"

ইউটিউবে সিএনএন-এর একটা ক্লিপে দেখলাম প্রেজেন্টার নিজেই কিন্চিৎ ক্ষেপেছে রেভারেন্ড ব্যারী ফীশারের উপর। এ্যাপোলোজিস্টরা ফতোয়া দিয়েছেন: আমেরিকার স্কুল-কলেজগুলো নাস্তিক বানানোর কারখানা হয়ে গেছে, ঐখানে বিবর্তন-ফিবর্তন শেখানো হচ্ছে, অথচ ক্রিয়েশনিজমের কোনো পাত্তাই নাই। অতএব সেখানে কোনো উল্টাপাল্টা হলে ঈশ্বরের দায় নেই।

God could have protected the victims of the CT school massacre, but didn’t because "He's a 'gentleman' who is not going to go where he is not wanted"

Calm... like a bomb.

১৫৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন problogger99 (২৫-১২-২০১২ ১১:২৭)

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

ওমর আল জাবির ভাইয়ের ২টা লেখা আছে কেউ পড়ে দেখতে পারেনঃ

আল্লাহ কেন এরকম করলো? আল্লাহ থাকতে এসব হয় কিভাবে? পর্ব ১

সত্যিই যদি আল্লাহ থাকে তাহলে পৃথিবীতে এতো দুঃখ, কষ্ট কেন? পর্ব ২

আমার ব্যাক্তিগত ধারনা আমরা মানুষরা কেবল অতীত আর বর্তমান জানি ভবিষ্যত জানি না। তাই কিসে ভাল কিসে মন্দ তা বুঝা আমাদের সক্ষমতার বাহিরে। এ প্রসংগে খাজা খিজির (আঃ) আর মুসা (আঃ) এর কাহিনীটি উল্লেখ করা যায়। এ ঘটনা থেকে আপাত দেখতে খারাপ অনেক কিছুর ভবিষ্যত যে ভাল কিছু হতে পারে তা বুঝা যায়।

খাজা খিজির (আঃ) ভবিষ্যত জানতেন। তিনি আবে হায়াত এর পানি পান করায় কেয়ামত পর্যন্ত বেচে থাকবেন। যাই হোক মুসা (আঃ) একবার তার সাথে ঘুরতে বের হলেন। যাত্রাপথে খাজা খিজির (আঃ) ৩টি খারাপ কাজ করলেন। পরে মুসা (আঃ) ব্যাখ্যা দাবী করলে খাজা খিজির (আঃ) এভাবে ব্যাখ্যা দিলেন-

"প্রথম ঘটনাঃ- ঘটনাক্রমে এক নৌকা এসে গেলে তারা নৌকায় আরহণের ব্যপারে কথাবার্তা বলল। মাঝিরা হযরত খিজির (আঃ) কে চিনে ফেলল এবং কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদেরকে নৌকায় তুলে নিল। নৌকায় চড়েই খিজির (আঃ) কুড়ালের সাহায্যে নৌকার একটি তক্তা খুলে ফেলল। এতে হযরত মুসা (আঃ) (স্থীর থাকতে পারল না-) বললঃ তারা কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই আমাদেরকে নৌকায় তুলে নিল। আপনি কি এরই প্রতিদানে তাদের নৌকা ভেঙে দিলেন যাতে সবাই ডুবে যায়? এতে আপনি অতি মন্দ কাজ করলেন। খিজির (আঃ) বললঃ আমি পূর্বেই বলেছি আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না। তখন মুসা (আঃ) ওযর পেশ করে বললঃ আমি আমার ওয়াদার কথা ভূলে গিয়েছিলাম। আপনি আমার প্রতি রুষ্ট হবেন না।

২য় ঘটনাঃ- অতঃপর তারা নৌকা থেকে নেমে সমুদ্রের কূল ধরে চলতে লাগল। হঠাৎ খিজির (আঃ) একটি বালককে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলতে দেখে ডেকে এনে, বালকটির মাথা স্বহস্থে, দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল। বালকটি মরে গেল। মুসা (আঃ) বললঃ আপনি একটি নিষ্পাপ প্রানকে বিনা অপরাধে হত্যা করেছেন। এ যে বিরাট গুনাহের কাজ করলেন। খিজির (আঃ) বললঃ আমি তো পূর্বেই বলেছিলাম আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না। মুসা (আঃ) দেখলেন, এঘটনাটা পূর্বের চেয়ে গুরুতর। তাই বললঃ এরপর যদি কোন প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে পৃথক করে দেবেন। আমার ওযর আপত্তি চুড়ান্ত হয়ে গেছে।

৩য় ঘটনাঃ- অতঃপর আবার চলতে শুরু করল। এবং এক গ্রামের উপর দিয়ে যাওয়া সময় তারা গ্রাম বাসীদের কাছে খাবার চাইল। ওরা সরাসরি অস্বীকার করল। হযরত খিজির (আঃ) এই গ্রামের একটি প্রাচীরকে পতনোন্মুখ দেখতে পেল। তিনি প্রাচীরটি সোজা করে দিল। মুসা (আঃ) বিস্মিত হয়ে বললঃ আমরা তাদের কাছে খাবার চাইলে তারা অস্বীকার করল অথচ আপনি তাদের এতবড় কাজ করে দিলেন; আপনি ইচ্ছা করলে তাদের থেকে পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন।

এরপর খিজির (আঃ) উপরোক্ত ঘটনার স্বরুপ বললঃ"

"প্রথম ঘটনার স্বরুপঃ- ঐনৌকাটি ছিল দরিদ্র এক পরিবারের। তারা ছিল দশ ভাই। তাদের পাঁচ ভাই ছিল বিকলাঙ্গ। আর পাঁচ ভাইয়ে মেহনত, মুজুরী করে সবার জীবিকা উপার্জন করত। নদীতে নৌকা চালিয়ে ভাড়া উপার্জনই ছিল তাদের মুজুরী। আসল কথা হল নৌকাটা যেদিকে যাচ্ছিল, সেখানে একজন জালেম বাদশাহ, এই পথে চলাচলকারী সব নৌকা ছিনিয়ে নিত। হযরত খিজির (আঃ) এই কারনে নৌকার তক্তা ভেঙ্গে দেন, এবং তাতে জোড়া লাগিয়ে দেন। যাতে জালেম বাদশাহর লোকেরা ভাঙ্গা দেখে নৌকাটি ছেড়ে দেয়। এবং দরিদ্র পরিবারটি বিপদের হাত থেকে বেঁচে যায়।

২য় ঘটনার স্বরুপঃ- খিজির (আঃ) যে বালকটিকে হত্যা করেন, তার স্বরুপ এভাবে বর্নণা করেন যে, বালকটির প্রকৃতিতে কুফর ও অবধ্যতা নিহিত ছিল। তার পিতা মাতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ লোক। হযরত খিজির (আঃ) বললঃ আমার আশংকা ছিল যে, বালকটি বড় হয়ে সৎকর্মপরায়ণ পিতা-মাতাকে বিব্রত করবে এবং কষ্ট দেবে। সে কুফরে লিপ্ত হয়ে পিতা-মাতার জন্যে ফেৎনা হয়ে দাড়াবে এবং তার ভালবাসায় পিতা-মাতার ঈমানও বিপন্ন হয়ে পড়বে। এজন্যে আমি ইচ্ছা করলাম যে, আল্লাহ তা’য়ালা এই সৎকর্মপরায়ণ পিতা-মাতাকে এছেলের পরিবর্তে তার চাইতে উত্তম সন্তান দান করুক, যার কাজকর্ম ও চরিত্র হবে পবিত্র এবং সে পিতা-মাতার হকও পূর্ণ করবে।

৩য় ঘটনার স্বরুপঃ- হযরত খিজির (আঃ) এর মাধ্যমে এতিম বালকদের জন্যে রক্ষিত গুপ্তধনের হেফাজতে এজন্য করা হয়েছিল যে, তাদের পিতা মাতাগণ সৎকর্মপরায়ণ আল্লাহর প্রিয় বান্দা ছিলেন। তাই আল্লাহ তা’য়ালা তাদের সন্তানদের উপকারার্থে এই ব্যবস্থা করেন। মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির বলেনঃ আল্লাহ তা’য়ালা এক বান্দার সৎপরায়ণের কারনে তাঁর পরবর্তী সন্তান-সন্তুতি, বর্শধর ও প্রতিবেশীদের হেফাজতে রাখেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ)সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, মূসা (আঃ) যদি আরও কিছুক্ষন ধৈর্য ধরতে পারত, তবে আরও কিছু জানা যেত। মূলত আল্লাহ তা’য়ালার এইরুপ ইচ্ছা ছিল, তাই হল।"

answering-islam টাইপের সাইট এর লেখাগুলো পড়ে পড়ে মুসলাম থেকে নাস্তিক হবার আগে পালটা যুক্তিগুলো জানতে ভিজিট করুন http://www.islamic-awareness.org/আশা রাখি মুসলমান হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে মনের সন্দেহ দূর হবে ইনশাল্লাহ।

১৫৪

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

@problogger99
এই ঘটনা তো ভাই আগেও পড়েছি, কিন্তু কথা হল ভবিষ্যতে কি হবে তা ভেবে একটা বালককে নৃশংসভাবে হত্যা করা কি ধর্মের সচরাচর নিয়মের সাথে কন্ট্রাডিক্টরি না? এই টাইপের ইন্সিডেন্স কোন যুক্তি দিয়ে বুঝানো সম্ভব? থিঙ্ক নিউট্রালি, প্লিজ।

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

১৫৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মাহমুদ রাব্বি (২৫-১২-২০১২ ১২:৪৩)

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

২য় ঘটনার স্বরুপঃ- খিজির (আঃ) যে বালকটিকে হত্যা করেন, তার স্বরুপ এভাবে বর্নণা করেন যে, বালকটির প্রকৃতিতে কুফর ও অবধ্যতা নিহিত ছিল। তার পিতা মাতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ লোক। হযরত খিজির (আঃ) বললঃ আমার আশংকা ছিল যে, বালকটি বড় হয়ে সৎকর্মপরায়ণ পিতা-মাতাকে বিব্রত করবে এবং কষ্ট দেবে। সে কুফরে লিপ্ত হয়ে পিতা-মাতার জন্যে ফেৎনা হয়ে দাড়াবে এবং তার ভালবাসায় পিতা-মাতার ঈমানও বিপন্ন হয়ে পড়বে। এজন্যে আমি ইচ্ছা করলাম যে, আল্লাহ তা’য়ালা এই সৎকর্মপরায়ণ পিতা-মাতাকে এছেলের পরিবর্তে তার চাইতে উত্তম সন্তান দান করুক, যার কাজকর্ম ও চরিত্র হবে পবিত্র এবং সে পিতা-মাতার হকও পূর্ণ করবে।

এইটা কোন ধরনের আজগুবি ব্যাখ্যা? একটা বালককে শিরচ্ছেদ করে হত্যা করার অপরাধে খাজা খিজিরের শাস্তি হওয়া উচিত ছিলো। আল্লাহ ছাড়া কেউ ভবিষ্যত জানে না। খাজা খিজির একটা কচি বালককে হত্যা করে কি সুন্দর যুক্তি দিচ্ছে সে নাকি বড় হয়ে খারাপ হয়ে যেতে পারে তাই এখন তাকে হত্যা করো। কি জঘন্য ঘটনা এইটা।  donttell

১৫৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (২৫-১২-২০১২ ১২:৪৯)

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

তবে শুধু অসহায় মানুষদেরই যে সবসময় দোষ তা নয়। মানুষ তার স্বার্থপর রাজনৈতিক নিয়ম দিয়ে আল্লাহর দেওয়া পৃথিবীকে ‘দেশ’ নামের ১৯৬টা ভাগে ভাগ করে এবং ‘ভিসা’ নামের একটি ব্যবস্থা করে এমন ব্যবস্থা করে রেখেছে যে গরিব অসহায় মানুষগুলোকে ভুমিকম্প, সুনামি প্রবণ এলাকাগুলোতে অসহায় ভাবে বন্দি থাকতে হবেই।

লেখক এখানে ভিসা পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন কিন্তু ভিসা পদ্ধতি না থাকলে কি হবে সেটা মনে হয়না ভেবে দেখেছেন.. লেখক বলেছেন আফ্রিকার দেশ গুলো সবচেয়ে রিসোর্সফুল প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে তাহলে তারা আবার কি করে অসহায় অবস্থায় বন্দী আছে??

“মুসলমানরা কেন আজকে সবচেয়ে দুর্বল, পশ্চাদপদ, নিপীড়িত জাতি?”

ধরুন আপনি আপনার মেয়েকে আমেরিকাতে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালেন পড়ার জন্য। কয়েক দিন পর সে ক্যাম্পাসে ধর্ষিত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফেরত আসলো। আপনি কি তারপরেও বলবেন পশ্চিমা দেশগুলো উন্নত জাতি?

তাই নাকি? এজন্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি গুলোতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী ফরেন মানুষ জন পড়তে আসে..  tongue এবং টপ ক্লাস সব স্কুল গুলা দুঃখ জনক ভাবে আমেরিকাতেই sad যেই ক্যম্পাসে মেয়ে ধর্ষণ হয় (লেখকের কথা অনুযায়ী, যদিও লেখক অনেক গুলা লিংক এবং পরিসংখ্যন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যলয়ের সাইট গুলো থেকেই কোট করেছেন) সেই ক্যম্পাসের স্টুডেন্টরাই পৃথিবীর সব জটিল রোগ নিয়ে গবেষনা করে সেগুলোর প্রতিকার বের করছে এবং লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের (ইনক্লুডিং নামাজ এবং ইবাদতে মগ্ন থাকা আলেম ওলামা) ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করছেন.. smile

আপনি একটা জাতিকে শুধুই তার অর্থনীতি আর প্রযুক্তি দিয়ে বিচার করলে তো হবে না। তাদের নৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক দিকগুলো তো দেখতে হবে।

রাজনৈতিক দিক দেখে কোন ভাবে পশ্চিমা দেশগুলোকে তিনি খারাপ বললেন বুঝলাম না..

সেগুলো হল সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ইরান, লিবিয়া ইত্যাদি। সেগুলোর একটাও দুর্বল, পশ্চাদপদ, নিপীড়িত জাতি নয়।

এ ব্যপারে আমরা আর কিছু না বলি! 

এখানে আল্লাহ বার বার বলেছেন, তিনি হচ্ছেন পরম করুণাময়, নিরন্তর করুণাময় প্রভু। তিনি মানুষের মত অল্প করুণাময়, মাঝে মাঝে করুণাময় নন। আল্লাহ কিন্তু শুধুই বলতে পারতেন “তিনি পরম করুণাময়”, ব্যাস। কিন্তু একজন পরম করুণাময় কিন্তু সবসময় করুণা নাও দেখাতে পারেন। তিনি সকালে করুণা দেখালেন, রাতে আর দেখালেন না। কিন্তু না, তিনি নিরন্তর করুণাময়, তিনি প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে করুণা করছেন।

এবার দেখি করুণাময় দয়ালু সত্বার রচিত কিছু বানী

[Lahab 111:1] May both the hands of Abu Lahab be destroyed – and they are destroyed!

[Lahab 111:2] His wealth did not benefit him in the least, nor did whatever he earned.

[Lahab 111:3] He will soon enter the flaming fire.

[Lahab 111:4] And so will his wife; carrying a bundle of firewood on her head.

[Lahab 111:5] A rope made from palm fibre around her neck!

এখনও বেচারাকে কোটি কোটি মানুষ কার্স করেই যাচ্ছে করূনাময়ের আদেশে, না জানি হিটলারের কথা উনি টের পেলে কতো বড়ো সূরা নাজিল করতেন  tongue

হিটলার প্রায় ছয় লাখ মানুষ মেরে গেছে। তাকে যদি ছয় লাখ বার আগুনে ঝলসানো হয় তাহলে কি তাকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে? যতদিন পর্যন্ত মানুষ বেঁচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত হিটলারের এই গণহত্যার কারণে যেই ক্ষতিটা হয়ে গেছে, তাকে তার জন্য ছয় লাখ বার আগুনে ঝলসালেও কিছুই হবে না। তাকে ছয় কোটি বার ফুটন্ত পানিতে চুবালেও সেই ছয় লক্ষ মানুষের পরিবারের কষ্টের সমান কষ্ট দেওয়া হবে না। সেই ছয় লক্ষ মানুষ যে কয়েক কোটি মানুষকে জন্ম দিতে পারতো, তার উসুল হবে না।

 

এখানে ডেফিনিটলি লেখকের মেডিক্যল রেফারেন্স টানা উচিত ছিলো.. অল্প বয়সে সেকচুয়ালি একটিভ হওয়ার সাথে বিকলাংগ শিশুর রিলেইশনটা কি?

তারপর থেকে তার বাথরুমে গোসল করতে আধাঘণ্টার বেশি সময় লাগা শুরু হল, সে তার ঘরের দরজা লক করে থাকা শুরু করলো, বন্ধুর বাসায় গিয়ে রাতে দেরি করে ফেরা শুরু হল, নানা কারণে দিনে রাতে যখন তখন বাসার বাইরে যাওয়া আসা আরম্ভ হল। এখান থেকে শুরু হল তার পতন। একসময় সে বিয়ে করলো এবং তার দীর্ঘ দিনের বদভ্যাসের ফলে শারীরিক সমস্যার কারণে বিকলাঙ্গ, না হয় অসুস্থ সন্তানের জন্ম দিল।

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫৭

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

@pro
ঘটনাগুলো ছোট কালে শুনেছি। আল্লাহ যেহেতু সব জানেন কে কি করবে তাহলে দুনিয়াতে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে লাভ কি ?

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৫৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শামীম (২৫-১২-২০১২ ১৩:০১)

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

problogger99 লিখেছেন:

২য় ঘটনার স্বরুপঃ- খিজির (আঃ) যে বালকটিকে হত্যা করেন, তার স্বরুপ এভাবে বর্নণা করেন যে, বালকটির প্রকৃতিতে কুফর ও অবধ্যতা নিহিত ছিল। তার পিতা মাতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ লোক। হযরত খিজির (আঃ) বললঃ আমার আশংকা ছিল যে, বালকটি বড় হয়ে সৎকর্মপরায়ণ পিতা-মাতাকে বিব্রত করবে এবং কষ্ট দেবে। সে কুফরে লিপ্ত হয়ে পিতা-মাতার জন্যে ফেৎনা হয়ে দাড়াবে এবং তার ভালবাসায় পিতা-মাতার ঈমানও বিপন্ন হয়ে পড়বে। এজন্যে আমি ইচ্ছা করলাম যে, আল্লাহ তা’য়ালা এই সৎকর্মপরায়ণ পিতা-মাতাকে এছেলের পরিবর্তে তার চাইতে উত্তম সন্তান দান করুক, যার কাজকর্ম ও চরিত্র হবে পবিত্র এবং সে পিতা-মাতার হকও পূর্ণ করবে।

৩য় ঘটনার স্বরুপঃ- হযরত খিজির (আঃ) এর মাধ্যমে এতিম বালকদের জন্যে রক্ষিত গুপ্তধনের হেফাজতে এজন্য করা হয়েছিল যে, তাদের পিতা মাতাগণ সৎকর্মপরায়ণ আল্লাহর প্রিয় বান্দা ছিলেন। তাই আল্লাহ তা’য়ালা তাদের সন্তানদের উপকারার্থে এই ব্যবস্থা করেন। মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির বলেনঃ আল্লাহ তা’য়ালা এক বান্দার সৎপরায়ণের কারনে তাঁর পরবর্তী সন্তান-সন্তুতি, বর্শধর ও প্রতিবেশীদের হেফাজতে রাখেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ)সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, মূসা (আঃ) যদি আরও কিছুক্ষন ধৈর্য ধরতে পারত, তবে আরও কিছু জানা যেত। মূলত আল্লাহ তা’য়ালার এইরুপ ইচ্ছা ছিল, তাই হল।"

আমি আগে থেকেই জানতাম। তবে এখানে পড়ে আরো কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় নজরে আসলো --

প্রথমবার একজন সন্তান হয়েছিলো যে খারাপ হবে বলে সংশয় হচ্ছিলো! - ফলে অনেক বড় হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হল। পরের বার আল্লাহর ইচ্ছায় আরেকজন সন্তান হবে যে সৎপথে চলবে। প্রথম সন্তানও তো আল্লাহর ইচ্ছায়ই হয়েছিলো; আল্লাহর ইচ্ছা ব্যাতিরেকে ঐ বালক কোনো পথ বেছে নিতে পারে কি?! প্রথম সন্তান যদি ফ্রী-উইল অনুযায়ী অসৎপথে যেতে পারে তাহলে তো পরের সন্তানও একই পথের পথিক হতে পারেন (--- তাইলে এখানেও একটা প্যাঁচ দেখা যাচ্ছে!) roll

অন্য ঘটনায় (হেলে পড়া দেয়াল ঠেলে তোলা)  দেয়াল হেলে পড়াও আল্লাহর ইচ্ছা ব্যাতিরেকে হয়নি। তবে এখানে কেন আল্লাহ ঐ দেয়ালকে হেলিয়েছিলেন, নাকি ওটা হেলানো অবস্থাতেই বানানো হয়েছিলো, নাকি মানুষের কর্মকান্ডের ফলে এমন অবস্থা হয়েছিলো যে ওটাকে হেলতে না দিয়ে আর উপায় ছিলো না (!) তার ব্যাখ্যা হযরত খিজির (আঃ) দেননি বলেই কৌতুহল জন্মায়।

যা হোক, ঘটনাগুলো কার্যকারণের সম্পর্ক বোঝানোর জন্য দারুন শিক্ষামূলক - এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই।  smile

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

@pro
ঘটনাগুলো ছোট কালে শুনেছি। আল্লাহ যেহেতু সব জানেন কে কি করবে তাহলে দুনিয়াতে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে লাভ কি ?

পাহাড়ের চূড়া থেকে কী দেখা যায় সেটা যেমন পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার অভিজ্ঞতা ব্যতিত পাহাড়ের গোড়া থেকে বোঝার কথা না ঠিক তেমনিই আল্লাহ কেন কী করেন সেটা মানুষের বোঝার কথা না (ইন দ্যাট কেইস, তাকে আল্লাহর পজিশনে গিয়ে বুঝতে হবে, বলেন নাউজুবিল্লাহ্)। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হুজুরদের ব্যাখ্যাগুলো তাঁদের নিজেদের কল্পনার প্রজেক্শন হয়।
তবে মনে কৌতুহল জাগলে সেটার গ্রহনযোগ্য উত্তরও এক সময় খুঁজে পাওয়ার কথা।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (২৫-১২-২০১২ ১৩:০৩)

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

বরং এক ধরণের প্রতিশোধ নেবার মনোভাব থেকে – “আমার সাথে ঝগড়া করেছ? দাঁড়াও, আমি এখন বেশি করে পর্ণ দেখে, ফেইসবুকে আমার বয়ফ্রেন্ড/গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে ফ্লার্ট করে তোমাকে মজা দেখাচ্ছি” – এই মনে করে আপনি পাপে ডুবে গেলেন।

সাইকোলোজির ভাষায় এটাকে বলে প্রজেকশন মেকানিজম , বি অনেস্ট ঝগড়া হলে যে কারো মনে এসব করার চিন্তা আসে আগে শুনি নাই এমনকি জানতামও না.. এটাই মনে হয় সেকচুয়ালী একটিভ না থাকার ফল!!!!! 

অশ্লীল কাজে একাধিক মানুষের সময়ের অপচয়।
    অশ্লীল কাজে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয়।
    অশ্লীল কাজে পারিবারিক সম্পদের অপচয়, যা আপনার পরিবারের সদস্যদের হক।

এত সব অন্যায়ে অভিযুক্ত করে আপনাকে যদি লক্ষ বার অতি উত্তপ্ত পানিতে চুবিয়ে ঝলসানো হয়, তাহলে কি বেশি শাস্তি দেওয়া হবে?

ডিপ ডাউন, লেখক মেনশন করতে ভুলে গেছেন বিদ্যুৎ খরচ করে অনলাইনে আমেরিকানদের প্রডাক্ট ইউজ করে সেগুলা প্রমোট করাতে সাহায্য করে আমেরিকার সম্পদ বৃদ্ধি ফলাফল আমেরিকার সামরিক বাজেটে কন্ট্রিবিউট করা যার ফলে অধিক হারে মুসলমান হত্যা এটার শাস্তি কি?

বিঃদ্রঃ  তৃতীয় পর্ব লেখার মত কোন বড় ধরণের সমস্যা পাচ্ছিনা। যদি চান তৃতীয় পর্ব হোক, তাহলে এই দুই পর্বের বাইরে জটিল কিছু সমস্যা পাঠান।

তৃতীয় পর্ব না লিখে প্রজন্মে আসতে বলুন একটু গল্প করি ভাইয়ের সাথে.. যাই হোক.. উনার একটা প্যারা মনে ধরছে এবং লজিস্টিক মনে হইছে

এবার পূর্ব নির্ধারিত ভাগ্যের একটা উদাহরণ দেই। ধরুন আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গাড়িতে করে যাচ্ছেন। আপনি একটা রাস্তার মোড়ে এসে দেখলেন একটা রাস্তা বায়ে গেছে, আরেকটা ডানে গেছে। আপনি বায়ের রাস্তা নিলেন এবং চট্টগ্রামের বদলে সিলেটে গিয়ে পৌঁছালেন। এখন যারা রাস্তা বানিয়েছে - বিআরটিএ, তারা ভালো করেই জানে কোন রাস্তায় গেলে মানুষ কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছাবে। প্রত্যেকটা রাস্তার মোড়ে গিয়ে কোন দিকে ঘুরলে মানুষ কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছাবে তারা তা সবই জানে। তার মানে এই না যে আপনি সিলেটে গিয়ে পৌঁছাবেন তা পূর্ব নির্ধারিত, কারণ বিআরটিএ ইতিমধ্যেই জানে রাস্তাগুলো সিলেটে গেছে। আপনি আপনার জীবনে যত মোড় নিবেন, তার প্রত্যেকটির পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ জানেন কারণ জীবনের রাস্তার প্রতিটা মোড় তাঁরই বানানো।

আর বাকি সব এক্সপ্লানেশন সামারী করলে

তুই বুঝবিনা উনি কি চান চুপ থাক

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন problogger99 (২৫-১২-২০১২ ১৩:২০)

Re: বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ...

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

@pro
ঘটনাগুলো ছোট কালে শুনেছি। আল্লাহ যেহেতু সব জানেন কে কি করবে তাহলে দুনিয়াতে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে লাভ কি ?

ধর্ম নিয়ে বির্তক করার মতো নুন্যতম জ্ঞ্যান যোগ্যতা কিছুই নাই। তবে নিজে যেভাবে চিন্তা করি তা হোল আমাদের সবাইকে কম বেশী জ্ঞ্যান বুদ্ধি দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা কবে কি দোয়া করব, কয় গ্লাস পানি খাব তা আল্লাহ জানেন -তার পক্ষে জানাই স্বাভাবিক কিন্তু আমরা জানি না। আমরা যদি আল্লাহকে স্রষ্টা হিসেবে ধরেই নেই তবে আমাদের সারা জীবনে কি করব না করব তা আল্লাহর জানা থাকা অস্বাভাবিক না। আল্লাহ যেহেতু সবাইকে যোগ্যতা দিয়েই পাঠিয়েছেন তাই সেই অনুযায়ী আমাদের শাস্তি হবে বা পুরষ্কার পাব। এখানেই যোগত্যার পুরষ্কার। আর সম্ভবত মুসলিম শরীফে পড়েছিলাম দুনিয়ার মানুষদের পাপ পূন্যের হিসেবের পর সবার বেহেশত আর জাহান্নামের ব্যাবস্থা হয়ে যাবার পর পুনরায় নতুন প্রানী সৃষ্টি হবে। এভাবেই চলতে থাকবে সব কিছু।

আরেকটা ব্যাপার হোল প্রজন্ম ফোরামে ধর্ম নিয়ে ডিটেলস আলোচনা করতে পারবেন এমন আস্তিক নেই বললেই চলে। এ কারনে প্রতিটি আলোচনা পুরোই একপেশে হয়ে যায়। এ কারনে invarbrass ভাই যখন সদালাপে একাউন্ট করলেন আগ্রহী হলাম অনেক প্রানবন্ত কিছু আলোচনা পড়তে পারব ভেবে। কিন্তু invarbrass ভাই বিবর্তনবাদ সহ এতো এতো ভাল টপিক থাকতে কেন যে ফালতু একটা টপিকে আলোচনা শুরু করে আর এগুলেন না বুঝতে পারলাম না। আর অনুরোধ করায় সদালপের ইমরান ভাই দুই একটা পোষ্ট করেছিলেন। উনি নিজের ব্যাক্তিগত লাইফে জব না পাওয়া নিয়ে এতো হতাশ যে অনলাইন থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

invarbrass ভাইয়ের কাছে আবারো অনুরোধ সদালাপের বিজ্ঞান নিয়ে লেখা পোষ্টগুলোতে অনুগ্রহ করে কমেন্ট করুন। আপনার মাধ্যমে অনেক অনেক কিছু জানতে পারব।

answering-islam টাইপের সাইট এর লেখাগুলো পড়ে পড়ে মুসলাম থেকে নাস্তিক হবার আগে পালটা যুক্তিগুলো জানতে ভিজিট করুন http://www.islamic-awareness.org/আশা রাখি মুসলমান হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে মনের সন্দেহ দূর হবে ইনশাল্লাহ।