টপিকঃ জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !


মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

From Prothom Alo

বেশ কিছুদিন আগের কথা। আমি আমার অফিসে যাচ্ছি, তখন বারান্দায় আমার দুজন ছাত্রের সঙ্গে দেখা হলো, তারা আমাকে কিছু বলল না কিন্তু তাদের দেখে আমার মনে হলো, তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা কি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাও?’ তারা মাথা নাড়ল, একজন কুণ্ঠিতভাবে আমার হাতে দুটি বই তুলে দিয়ে বলল, ‘স্যার, আপনাকে এই বই দুটি দিতে এসেছি।’ আমি বই দুটি নিলাম। বিজ্ঞানের ওপর চমৎকার দুটি বই, হাতে নিয়ে বললাম, ‘থ্যাংকু। সুন্দর পাবলিকেশন্স।’ তারপর বই দুটি খুললাম, ভেতরে লেখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
মুহূর্তে আমার সারা শরীর শক্ত হয়ে গেল। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আজ্ঞাবহ হয়ে এই দেশে যে ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, সে জন্য আমি তাদের কখনো ক্ষমা করিনি। আমি জেনেশুনে কখনো কোনো জামায়াতে ইসলামীর নেতার সঙ্গে হাত মেলাইনি। আমার যে আপনজনেরা মুক্তিযুদ্ধে মারা গিয়েছে, তাদের সম্মান দেখানোর জন্য এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমেরিকান এম্বাসির এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে যখন আবিষ্কার করেছি, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরও ডাকা হয়েছে, আমি সেখান থেকে উঠে চলে এসেছিলাম। আমি আমার এই বিশ্বাসের কথা কখনো গোপন রাখিনি। কাজেই এই দুজন ছাত্র সেটা জানে না, তা হতে পারে না।
আমি ছাত্রদের বই দুটি ফেরত দিয়ে অত্যন্ত কঠিন গলায় বললাম, ‘জামায়াতে ইসলামীকে আমি কোন চোখে দেখি, তোমরা জানো না? তোমরা সেই দলের মানুষ হয়ে তোমাদের সংগঠনের বই আমাকে উপহার দিতে এসেছ? তোমরা আমাকে চেনো না?’
ছাত্র দুটির চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় বদর বাহিনীর প্রধান হয়ে নিজামী আর মুজাহিদ কী করেছে, তাদের মনে করিয়ে দিলাম। গোলাম আযম যুদ্ধের সময় কী করেছে এবং বাংলাদেশের জন্মের পরও কীভাবে তারা বিরোধিতা করেছে, সেই কথা বললাম। আমার মতো শিক্ষকেরা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের তৈরি বদর বাহিনীর হাতে কীভাবে মারা গিয়েছে, সেই ঘটনাগুলো বলে তাদের কাছে জানতে চাইলাম, কম বয়সী তরুণ হওয়ার পরও তারা কেমন করে যুদ্ধাপরাধীদের একটা সংগঠনের সদস্য হতে পারল?
একজন ছাত্র দুর্বল গলায় বলল, ‘স্যার, আমরা তো জামায়াতে ইসলামী করি না। আমরা ছাত্রশিবির করি।’
অনেক দিন আগের কথা, জামায়াতে ইসলামী আর ছাত্রশিবিরের মধ্যে পার্থক্যটুকু নিয়ে আমি তাদের কী বলেছিলাম, আমার এখন মনে নেই। শুধু মনে আছে, ছাত্র দুটি মাথা নিচু করে আমার কাছ থেকে ফিরে গিয়েছিল।
নানা কারণে এই ঘটনার কথা আমি ভুলতে পারি না। আমি ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য লেখালেখি করি। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা একটি নতুন বাংলাদেশের সন্তান এবং তারা বড় হয়ে আমাদের দেশটাকে পাল্টে দেবে। আমি যখন সেই কথাটা তাদের বলি, আমার ধারণা, তারা আমার কথা বিশ্বাস করে। তাই তাদের অনেকেই আমার কাছে উৎসাহের কথা, অনুপ্রেরণা কিংবা স্বপ্নের কথা শুনতে আসে। শিবিরের এই দুটি ছেলে নিশ্চয়ই ভেবেছিল, তাদের এই চমৎকার বই দুটি আমাকে মুগ্ধ করবে, আমি উৎসাহসূচক কিছু বলব। অন্য দশজন তরুণের মতো তারাও এক ধরনের দাবি নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, কিন্তু আমি তাদের আশা পূরণ করতে পারিনি। আমার ভয়ংকর রকমের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে তারা নিশ্চয়ই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল—কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না।
আমি তাদের কথাগুলোও ভুলতে পারি না। তারা আমাকে বলেছিল যে তারা জামায়াতে ইসলামী করে না, তারা শিবির করে। তাহলে তারা কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে তারা জামায়াতে ইসলামী থেকে ভিন্ন? ১৯৭১ সালে এই দেশে জামায়াতে ইসলামী যে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড করেছে, যে অমানুষিক নির্যাতন করেছে, যে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড করেছে, সেগুলো তাদের কোনোভাবে স্পর্শ করে না?
এই দুজন ছাত্র ছাড়া আর কখনোই কোনো জামায়াত বা শিবিরকর্মী আমার কাছে কথা বলতে আসেনি, তাই আমি কোনো দিন হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাব না।

২.
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে, এই দীর্ঘ জীবনে আমি সবচেয়ে বিচিত্র, সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় কী দেখেছি। আমি এতটুকু দ্বিধা না করে বলব, সেটি হচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তার কারণ, যে বয়সটি হচ্ছে মাতৃভূমিকে ভালোবাসার বয়স, সেই বয়সে তারা ভালোবাসে দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকদের, যারা এই মাতৃভূমির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। যে বয়সে একজন তরুণের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা অনুপ্রাণিত হয় সেই মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের দিয়ে। যে বয়সে তাদের স্বপ্ন দেখার কথা দেশের বড় বড় লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, সাংবাদিককে নিয়ে, সেই বয়সে তারা আনুগত্য মেনে নিয়েছে সেই সব মানুষের, যারা আলবদর বাহিনী তৈরি করে একাত্তরে এই দেশের লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী আর সাংবাদিকদের হত্যা করেছে! যে বয়সে তাদের একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করার কথা, ষোলোই ডিসেম্বরে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার কথা, পয়লা বৈশাখে রাজপথে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা যে শুধু এই অবিশ্বাস্য আনন্দ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে রাখে তা নয়, তারা এগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। যে বয়সে তাদের মুক্তচিন্তা শেখার কথা, গান গাওয়ার কথা, নাটক করার কথা, আদর্শ নিয়ে ভাবালুতায় ডুবে যাওয়ার কথা, সেই সময় তারা ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতে শেখে, সাম্প্রদায়িক হতে শেখে, ধর্মান্ধ হতে শেখে। যে বয়সে ছেলে আর মেয়ের ভেতর সহজ ভালো লাগা ভালোবাসা জন্ম নেওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা সেই অনুভূতিগুলোকে অশ্রদ্ধা করতে শেখে—সে জন্য তারা কত দূর যেতে পারে, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি, সেই ভয়ংকর কাহিনি আমি কখনো কাউকে বলতেও পারব না!
যখন এই বাংলাদেশের সব মানুষ দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে, তখন ইসলামী ছাত্রশিবির নামে এই সংগঠনের হতভাগ্য তরুণদের পথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য। খবরের কাগজ খুললেই দেখতে পাই, এখনো দেশের আনাচকানাচ থেকে তাদের ধরে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। আমার খুব জানার ইচ্ছে করে যে নেতারা তাদের বুঝিয়েছে, রাস্তায় নেমে চোরাগোপ্তা হামলা করে পুলিশের গাড়ি পোড়াতে হবে, নিজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করতে হবে। সেই সব নেতা কি তাদের সন্তানদেরও পথে নামিয়েছে? আমি মোটামুটি নিশ্চিত, সেটি ঘটেনি। আমি আগেও দেখেছি, এই নেতারা যখন তাদের কর্মী বাহিনীকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়, তখন তাদের সন্তানেরা ইংরেজি মিডিয়াম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।
আমি অনেক চিন্তা করেছি, কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারিনি, কেমন করে বাংলাদেশের মতো রক্তস্নাত একটি দেশে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা নৃশংস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, সেখানে একজন মানুষ মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের ভালো না বেসে তাদের হত্যাকারীদের ভালোবাসতে পারে! আমার মনে আছে, আমি বহুকাল পরে যখন প্রথম এই দেশে ফিরে এসেছিলাম, তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটা মিছিল দেখে একধরনের অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তখন লক্ষ করেছিলাম, একজন ছাত্র তার হাতের ফাইল দিয়ে নিজের মুখটি ঢেকে রেখেছে, যেন আমি তার মুখটা দেখতে না পারি। আমার সামনে এই পরিচয় দিতে তার লজ্জা কিন্তু এই মিছিল থেকে তার বের হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই—এর চেয়ে দুঃখের ব্যাপার আর কী হতে পারে?
একজন ছাত্র কেমন করে শিবির করে, তার একটি উত্তর অবশ্য আমি একবার খুঁজে পেয়েছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র একবার আমাকে একটি এসএমএস করে জানিয়েছিল যে সে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, খুব ভালো ছাত্র এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার খুব ইচ্ছে। তার বিভাগীয় প্রধান জামায়াতে ইসলামীর লোক এবং তাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সে যদি শিবির না করে, তাহলে তাকে শিক্ষক হতে দেওয়া হবে না। সে জন্য সে শিবিরে যোগ দিয়েছে এবং এটি নিয়ে তার কোনো অহংকার নেই। সেই এসএমএসটিতে আমি একজন মেরুদণ্ডহীন অসহায় হতভাগা মানুষকে আবিষ্কার করেছিলাম। তার জন্য কোনো মমতা নয়, আমি করুণা অনুভব করেছিলাম। আমি ইচ্ছে করলেই সেই ছাত্রটিকে খুঁজে বের করতে পারতাম, তার নীতিহীন বিভাগীয় প্রধানের পরিচয় জানতে পারতাম কিন্তু আমি তার কিছুই করিনি—আমার রুচি হয়নি।
আমার মাঝেমধ্যে জানার ইচ্ছে করে, এ ধরনের কারণে কতজন তরুণ শিবিরে যোগ দিয়েছে—কোনো স্বপ্ন নয়, কোনো আদর্শ নয়, শুধু স্বার্থ, শুধু চাওয়া-পাওয়া। মাঝেমধ্যেই পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই, জামায়াতে ইসলামীর নাকি অনেক অর্থবিত্ত, তাদের অনেক ধরনের ব্যবসা। এই দলে যোগ দিলে নাকি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা হল দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই হলে সিট পাওয়া যায়। তারা কলেজ দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই কলেজে ভর্তি হওয়া যায়। পত্রপত্রিকায় দেখি, পরিচিতদের কাছে শুনি, তাদের দল নাকি অত্যন্ত সংগঠিত। আদর্শ ছাড়া কিংবা ভুল আদর্শের সংগঠন কি খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারে? দীর্ঘদিন মিলিটারির শাসনে থাকার কারণে মানুষ যখন বিভ্রান্ত ছিল, তখন এই দেশে জামায়াতে ইসলামীরা ইলেকশনে ৩০টার মতো সিট পেয়েছিল। (কী লজ্জা!) যখন দেশের মানুষ গণতন্ত্রের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে, একটু বুঝতে শুরু করেছে তখন তাদের সিটের সংখ্যা এক-দুইয়ে নেমে এসেছিল। উপায় না দেখে তখন তারা বিএনপির ঘাড়ে চড়ে বসেছে, আবার তারা গোটা ত্রিশেক সিট পেয়েছে, মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে। দেশের মানুষ যখন আবার সজাগ হয়েছে, তখন সিটের সংখ্যা আবার এক-দুইয়ে নেমে এসেছে। এখন তারা কার ঘাড়ে উঠবে। এই দেশে যদি নির্বাচন করেই শুধু ক্ষমতায় যাওয়া যায়, তাহলে তাদের জন্য কোন পথটুকু খোলা আছে। আমার খুব আশা ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশের মানুষের এত আগ্রহ, এত উত্তেজনা দেখে বিএনপি হয়তো যুদ্ধাপরাধীদের এই দলটিকে পরিত্যাগ করবে—তারা করেনি। আমি খুব আশাহত হয়েছি কিন্তু তাদের ছাত্রসংগঠন আমাকে আশাহত করেনি। তারা শিবিরের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়নি।
আমি রাজনীতি ভালো বুঝি না, আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কারও গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি একটা বিষয় খুব ভালো করে জানি, এই দেশে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে আর কেউ কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। পঁচাত্তর থেকে নব্বইয়ের সেই কালো সময় আমরা পার হয়ে এসেছি, আর কেউ কখনো এই দেশের মানুষকে সেই অন্ধকার জগতে ঠেলে পাঠাতে পারবে না। কাজেই যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে কেউ সুবিধে করতে পারবে না, বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের বিচার করে এই গ্লানিময় অধ্যায়কে চিরদিনের মতো সমাপ্ত করে দিতে হবে।

৩.
আমার এই লেখাটি তোমরা যারা শিবির করো, তাদের জন্য। আমি জানি, এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন একটি কাজ—আমার এই লেখাটি তোমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না এবং তোমরা যারা পড়ছ তারা আমার এই লেখায় বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে এর মধ্যে নানা ধরনের যুক্তি দাঁড় করিয়েছ। শুধু তা-ই নয়, তোমাদের প্রিয় জায়গা—ইন্টারনেটে সম্ভবত এই লেখার বিরুদ্ধে বিশাল একটা প্রচারণা শুরু হবে। কিন্তু তবু আমার মনে হয়েছে, আমার এই কাজটুকু করা উচিত, তোমাদের কখনো যে সত্য কথাগুলো বলা হয়নি, আমার সেটা বলা উচিত।
তোমাদের কাছে আমার প্রথম যে প্রশ্ন সেটি হচ্ছে, তোমরা কি জানো আবুল আলা মওদুদী নামে যে মানুষটির চিন্তাধারার ওপর নির্ভর করে জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনৈতিক দলটি গড়ে উঠেছে, সেই মানুষটিকে মানুষ হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল (যদিও সেটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি)। তোমরা কি জানো জামায়াতে ইসলামী ইসলাম প্রচারের দল নয়, এটি রাজনৈতিক দল এবং এটি সব সময় ভুল রাজনীতি করে এসেছে? এই উপমহাদেশে যখন ব্রিটিশদের বিদেয় করে পাকিস্তান সৃষ্টি করার আন্দোলন হয়েছে, তখন তারা সেই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। আবার যখন এই দেশে পাকিস্তান নামের দানবকে পরাস্ত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে? এখন যখন মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ করে থাকা দেশদ্রোহীদের বিচার করা হচ্ছে, তখন আবার জামায়াতে ইসলামী সেই সত্যকে অস্বীকার করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে—সেটি ঘটেছে তোমাদের চোখের সামনে এবং তোমরা খুব ভালো করে জানো, সেখানে তোমাদের হূদয়হীনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আমার ধারণা, তোমরা যারা শিবির করো, তারা সম্ভবত কখনোই খোলা মন নিয়ে এই দেশের ইতিহাস সম্পর্কে বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলো না। তোমরা সব সময়ই নিজেদের সঙ্গে নিজেরা কথা বলো, একে অন্যকে উৎসাহ দাও, একে অন্যের ওপর নির্ভর করো কিন্তু তোমাদের দলের বাইরের মানুষেরা তোমাদের সম্পর্কে কী ভাবে, কখনোই তার খোঁজ নাওনি। যদি খোঁজ নিতে, তাহলে হয়তো তোমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ছবি দেখতে পেতে। তোমরা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করতে, তোমাদের যেভাবে যা কিছু শেখানো হয়েছে, তার সবকিছু সত্যি নয়। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, এই দেশের অজস্র সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেলের মধ্যে তোমাদের দলের দু-একটি পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়া অন্য কোথাও তোমাদের সম্পর্কে একটিও ভালো কথা ছাপা হয় না। কিছুদিন থেকে গাড়ি ভাঙচুর বা পুলিশকে আক্রমণ করার যে নতুন কর্মকাণ্ড শুরু করেছ, সেটি করে তোমরা যে নিজেরাই বিপদগ্রস্ত হতে শুরু করেছ, সেটা কি লক্ষ করেছ? আজ রাতেই আমি খবরে জানতে পারলাম, সাধারণ মানুষ তোমাদের ধাওয়া করছে, তোমাদের আক্রমণ করছে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এটি ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকবে। তোমরা নিজেদের জন্য যে জীবন বেছে নিয়েছ, তার মধ্যে কি বিন্দুমাত্র মর্যাদা আছে? আত্মতুষ্টি আছে?
আজ থেকে কয়েক যুগ আগেও এই পৃথিবী যে রকম ছিল, এখন সেই পৃথিবী নেই। এই পৃথিবী অনেক পাল্টে গেছে। নতুন পৃথিবী তালেবান বা লস্কর-ই-তাইয়েবার পৃথিবী নয়। জামায়াতে ইসলামী বা শিবসেনার পৃথিবীও নয়। নতুন পৃথিবী হচ্ছে মুক্তচিন্তার পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক একটা পৃথিবী। এই নতুন পৃথিবীর মানুষেরা অসাধারণ, তারা একে অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে শিখেছে, একে অন্যের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে শিখেছে, একে অন্যের চিন্তাকে মূল্য দিতে শিখেছে। এই নতুন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে কোনো বিভাজন নেই। দেশ-জাতির সীমারেখা পর্যন্ত ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে।
তাই এই নতুন পৃথিবীতে যখন কেউ ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিভাজন করে রাজনীতি করতে চায়, পৃথিবীর মানুষ তখন তাকে পরিত্যাগ করে। জামায়াতে ইসলামীর মতো বা শিবসেনার মতো রাজনৈতিক দল তাই হচ্ছে বাতিল হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দল—নতুন পৃথিবীতে এই দলগুলোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
আমি জানি, যদিও আমি এই লেখাটি লিখেছি যারা শিবির করে তাদের উদ্দেশে কিন্তু তারা আসলে আমার একটি কথাও বিশ্বাস করবে না। যদি বিশ্বাস করেও ফেলে, তার পরও তাদের কিছু করার থাকবে না। এ ধরনের রাজনৈতিক দল যখন তৈরি করা হয়, তখন অনেক লোভ দেখিয়ে দলে টানা হয়। কিন্তু দলে যোগ দিয়ে যদি মোহভঙ্গও হয়, তবু তারা আর দল থেকে বের হতে পারে না। অভিশপ্ত প্রেতাত্মার মতো এক অন্যকে আঁকড়ে ধরে টিকে থাকতে হয়।
যারা এখনো শিবিরে যোগ দেয়নি, তারা হয়তো এই লেখাটি পড়ে একটুখানি ভাববে। যখন তাকে এই দলে যোগ দেওয়ার কথা বলবে, হয়তো তারা একটিবার চিন্তা করবে, আমাদের এই ভালোবাসার দেশটিকে যারা টুঁটি চেপে হত্যা করতে চেয়েছিল, আমি কেন সেই দলে যোগ দেব? দেশকে যখন ভালোবাসার কথা, তখন কেন আমি দেশের সঙ্গে বেইমানি করব?
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার তীব্র আনন্দ যারা উপভোগ করেনি, যারা ভবিষ্যতেও কোনো দিন অনুভব করতে পারবে না, আমি সেসব হতভাগ্য মানুষের জন্য গভীর করুণা অনুভব করি।

সত্যি বলতে ভয় পাওয়াটা আমাকে জয় করতেই হবে !!!

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

আপনার নিজের মন্তব্য কই ?

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

আবারও স্যারের দুর্দান্ত একটা লেখা। ভালো শেয়ার thumbs_up

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন obakfahad (০৭-১২-২০১২ ১০:১৯)

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

আবদুল্লাহ আল রিফাত লিখেছেন:

আপনার নিজের মন্তব্য কই ?

ভাই আমি মনে করি আমি নিজে একজন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ । স্যার যেগুলা বলেছেন সেগুলাই আমার মন্তব্য , আমার মনের কথা ।  তবে আমি মনে করি পুলিশ দের একটা ধাক্কা দেওয়া উচিত । কয়েকদিন আগে আমার ল্যাপটপ ব্যাগ সিএনজি তে রেখে বাসায় চলে গিয়েছিলাম । থানায় সাধারন ডাইরি করতে গিযেছি সেইকারনে । করলাম । তারপর বলে ৫০০ টাকা দিয়ে যান । সকাল বে ঘুম ভান্গিয়েছি তাই ।  whats_the_matter । যদিও সব পুলিশ রা খারাপ না । তবে আমার নিজের প্রথম কাজে face করা পুলিশ টাই যেহেতু অমন বের হল সেহেতু .......

তবে আমি মানি জামাত কে জারা সাপোর্ট করে তারা সুস্থ মস্তিস্কের না । আল্লাহ আমাদের এভাবে নি:সংসহ হতে বলেন নাই ।

আর , আমি কিভাবে তাদের কে বিস্বাস করি যারা ৭১ এ লাখো প্রান এর ঝরে জাওয়ার জন্য দায়ি ?

সত্যি বলতে ভয় পাওয়াটা আমাকে জয় করতেই হবে !!!

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

না আমি বলছিনা আপনার পোস্টটি খারাফ বা এজাতীয় । আমি আসলে বলতে চেয়েছি এধরনের পোস্ট করার সময় নিজের মন্তব্যটাও দেয়া উচিত । ধন্যবাদ

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

খুবই ভাল লেখা। আজ সকালেই পড়লাম।

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

আবদুল্লাহ আল রিফাত লিখেছেন:

না আমি বলছিনা আপনার পোস্টটি খারাফ বা এজাতীয় । আমি আসলে বলতে চেয়েছি এধরনের পোস্ট করার সময় নিজের মন্তব্যটাও দেয়া উচিত । ধন্যবাদ

আমি শুধু ensure করতে চেয়েছি যাতে কারো নজর না এরায় ।

সত্যি বলতে ভয় পাওয়াটা আমাকে জয় করতেই হবে !!!

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

চমৎকার লেখা!  thumbs_up

Calm... like a bomb.

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

পড়লুম , বরাবরের মত আরেকটা লেখা ।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন প্যারিস (০৭-১২-২০১২ ১৩:২৮)

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

তার কারণ, যে বয়সটি হচ্ছে মাতৃভূমিকে ভালোবাসার বয়স, সেই বয়সে তারা ভালোবাসে দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকদের, যারা এই মাতৃভূমির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। যে বয়সে একজন তরুণের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা অনুপ্রাণিত হয় সেই মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের দিয়ে।

অসাধারন লেখা, শেয়ার করায় ধন্যবাদ।

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

চোখটা আটকে গেল , ফোরামে  ঢুকেই আজ এমন একটা লেখা দেখে হাত নিশপিশ করছে আমার । শিবির আর জামাতিদের নিয়া আমি পুরাই কনফুসের মধ্যে আছি । গতকাইল ও একজন এর সাথে ঝগড়া করছি টানা ৪ ঘণ্টা চেটিং এ । তারপর অফিসে শেষে বাসায় না গিয়া আগে উনারে বাইর কইরা আবার কতক্ষন বাকবিতন্ডা চলছিল । শেষে কি হইলো আমাকে বলা হইলো আমি আওয়ামীলীগ ।

পড়শু একজন ছেলে ( আমার ই পরিচিত ) ফেবুতে হরতাল উপলক্ষে বলছেন - রক্তের সাগরে ভাসিয়ে দেবো তোমায় ............( ডট গুলো তে বর্তমান সরকার এর নাম ছিল ) । তো যাই হোক আমি উনার সাথে যেহেতু ফ্রেন্ড লিস্টে নাই ফেবুতে সো আরেকটা বন্ধুর পাস দিয়ে ঢুকেই বিসমিল্লাহ তেই দিয়া দিলাম বয়ান , উত্তরে তিনি কি বলেছেন জানেন - " ভাই আজকের নামাজ পড়ছিলেন " ।

কন তো কেমুন লাগে ? প্রতিটা পিচাশের ঘরে পিচাশ আর জালিমের ঘরে জালিম গুলো যখন আলাপে না পারে তখন ই শুরু করে দেয় ইসলামি বয়ান , জিদ্দে কতক্ষন দিছিলাম বাট পরে সে সবগুলো মুছে দিয়েছে । ঐ ছেলে সেই ব্যাংকে যদি টিকে থাকে তা হলে তার একমাত্র কারন হচ্ছে স্যারের লেখা এইটার কারনে -

আমার মাঝেমধ্যে জানার ইচ্ছে করে, এ ধরনের কারণে কতজন তরুণ শিবিরে যোগ দিয়েছে—কোনো স্বপ্ন নয়, কোনো আদর্শ নয়, শুধু স্বার্থ, শুধু চাওয়া-পাওয়া। মাঝেমধ্যেই পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই, জামায়াতে ইসলামীর নাকি অনেক অর্থবিত্ত, তাদের অনেক ধরনের ব্যবসা। এই দলে যোগ দিলে নাকি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা হল দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই হলে সিট পাওয়া যায়। তারা কলেজ দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই কলেজে ভর্তি হওয়া যায়

এখানে বলে রাখা ভালো আমি বিগত কয়েকদিন ধরেই একটা জিনিসে পুরাই কনফিউসনে ভুগছে আর সেটা হচ্ছে - আমি কোন দল সাপোর্ট করব ?

এখানের একটি ব্যাংকের শাখার সাথে পুরোপুরিই জড়িত বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক । যাই হোক যেমনেই হোক সেখানে আমি একটা একাউন্ট করছি , এবং সেই সাথে উনাদের বিভিন্ন ইভেন্টে ও যোগ দিয়েছি । অনেক কিছুই ফানি লাগছে । আমি যদি নতুন নব্য কিছু ভাই বেরাদ্রার কে রিকোয়েস্ট করব যে - আন্দাজে কাউরে শিবির বা জামাতি বলার আগে আগে দেখেন ঐ শিবির কারে কয় বুঝে কি না  tongue tongue । বেশিরভাগ পিপলস ( ঐ খানের কর্মরত ) ভাইগন শিবির করে যাস্ট গদি টা টিকিয়ে রাখার জন্য আর আমার যেহেতু মুখ ভাল না তাই কোন ও কথা কইতা কাউরে ছাড় দেই না  angry angry । এদের নিজের দলের কর্মী সারাদিন সাথি সাথি করতে করতে বেহুশ বাট তেনারাই বুঝে না ক্যান তিনি শিবির করছেন , যাস্ট নিজের জব বা চাকরী টা না হারানোর জন্য । তোগো কফালে উস্টা  angry angry । বর্তমানে তো উনাদের সাথে তর্কে পারিই না , যেহেতু এখানে মাইর দেওয়ার রেওয়াজ নাই তাই উনাদের দুইটা কুয়েচ্চেন এর কাছে আমি বরাবর ই কাঁচা -

১/ দেলোয়ার হোসেন সাইদী কে কেন যুদ্ধাপরাধী বলা হইলো ?
২/ ভাই আইজ নামাজ পড়ছেন

আজব  angry angry angry angry angry angry angry angry

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

১২

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

দারুন কিছু পড়লাম

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৩

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

ছাগুরা অলরেডী একশনে। হা হা হা। নিচের লেখাটা একটু আগে দেখে শেয়ার না করে পারলাম না lol

প্রথম আলোতে জাফর ইকবাল স্যারের আজকের লিখা প্রসঙ্গেঃ

মুক্ত মনেই পড়ুনঃ

কোন পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল শিবিরকে ভাল বলেনাঃ

যুগে যুগে যারাই ইসলাম প্রচার করেছে সমাজে প্রতিষ্ঠিত জাহেলী শক্তি বা তাদের দোসররা ইসলামের প্রচারকদের কখনো ভাল বলেনি। এখনকার মতই মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। চালিয়েছে নির্যাতন নিষ্পেষণ। ইসলামী ছাত্র শিবির ইসলামী মুল্যবোধে বিশ্বাসী একটি দল। এদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। জাহেলিয়াতের বা বর্তমান সেকুলারিজমের সাথে ইসলামী শক্তির এই সংঘর্ষ চিরন্তন। বরং এ বিরোধীতাই প্রমান করে ওরা সঠিক পথেই রয়েছে। স্যার, শুধু সেকুলারিজমের বা পাশ্চাত্যের ইতিহাস না পড়ে ইসলামের প্রচার এবং বিকাশের ইতিহাসও একটু পড়ুন।

মাওলানা মওদূদীর ফাসীর আদেশ হয়েছিলঃ

স্যার, ফাঁসির আদেশ হয়াটাই স্বাভাবিক। বরং না হয়াটাই অস্বাভাবিক ছিল।ইসলামের কথা বলার অপরাধে ইব্রাহীম (আঃ)কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। মৃত্যুর মুখোমখি হতে হয়েছে ঈসা (আঃ), মুসা (আঃ)থেকে শুরু করে যুগে যুগে ইসলাম ধর্মের সব প্রচারকদেরকেই। বাতিল শক্তির একই ধরনের নির্যাতনের মুখোমখি হয়ে কাউকে জীবন দিতে হয়েছে, আবার আল্লাহর ইচ্ছায় কেউবা বেচে গেছেন। হোসনে মোবারক মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড এর শহীদ হাসান আল বান্না আর সাইয়্যেদ কুতুব শহীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ওরা রাজাকার ছিল বলে নয়।ওরা কোন মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছিল বলে নয়। ইসলামের কথা বলার কারনেই।

অন্যের ধর্ম, সংস্কৃতি এবং চিন্তাকে মুল্য দেয়াঃ

স্যার, ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা যা অন্য ধর্ম, অন্য সংস্কৃতি, এবং অন্যদের চিন্তাকে মুল্য দিতে শিখায়। সেকুলারিজম, কম্যুনিজম, লিবারেলিজম এবং হিউমেনিজমনসহ সকল মতবাদেই কিছু না কিছু ঘাটতি আছে। ইসলামই একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন বিধান যা মানবতাবাদ, সাম্যবাদ, উদারতাবাদ, সহ সকল মতবাদের ভাল চিন্তা-চেতনাকে ধারন করে।এখানে নারীর, অধিকার, শ্রমিকের অধিকার থেকে শুরু করে গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকারের নিশ্চিয়তা দেয়। ইসলামই মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখায়, সম্মান করতে শিখায়। শিখায় ভালবাসতে। সেই সাথে অন্যায় অবিচারের বিরুব্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। যে প্রতিরোধ সংগ্রামকে আপনারা সন্ত্রাস বলে চালিয়ে দিতে চান। চালিয়ে দিতে চান অন্যের প্রতি সহিংসতা হিসেবে।

বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকাওঃ

হ্যাঁ স্যার, বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকালে আমরা দেখি সমাজতন্ত্র আতুড় ঘরেই মারা গেছে। চীনে যা চলছে তা হচ্ছে পুঁজিবাদী সমাজতন্ত্র। আর পুজিবাদের করুন পরিণতি ইউরোপ- আমেরিকার দিকে তাকালেই বুঝা যায়।পুজিতান্ত্রিক ইউরোপের অনেক দেশ দেউলিয়া হতে চলেছে। মুখতুবড়ে পড়ছে গনতন্ত্রের পশ্চিমা মডেল। আরব বসন্তের হাওয়া লেগেছে মিশর, তুরস্ক, ইয়েমেন, তিউনিশিয়া এবং লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। আপনারা জেগে ঘুমান বলেই বিশ্বমঞ্চের এসব পরিবর্তন দেখতে পান না।বর্তমান বিশ্বে ইসলামের জোয়ার বইছে। আপনি যে আদর্শ ধারন এবং প্রচার করেন তার নয়। তা আজ ক্ষয়িষ্ণু। পরাজয়ের পূর্বে শেষ চেষ্টায় লিপ্ত।

খোলামনঃ

স্যার শিবিরের ছেলেরা খোলামন নিয়েই সব কিছু পড়ে। তারা সমাজতন্ত্র, পুঁজিতন্ত্র, সাম্যবাদ, নারীবাদ, মানবতাবাদ, পশ্চিমা গণতন্ত্রসহ সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক মতবাদগুলো পড়ে। সবকিছু পড়ার পর উত্তম জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকেই বেছে নেয়। না বুঝে, না শুনে নয়। বুঝে শুনে ইসলামের পথে পা বাড়ায় বলেই এরা পথ চূ্ত হয় না। সক্রিয় না থাকলেও সমর্থন হারায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখলঃ

স্যার, শিবির বৈধ ছাত্রদের নিয়ে সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী। যেসব হলগুলোতে শিবিরের আধিক্য রয়েছে সেসব হলগুলোতে মদ, জুয়া, ফেনসিডিল, গাজা, হিরোইন আর নারীর আসর বসে না। ঐসব হলগুলো থেকে চাঁদাবাজি, মাস্তানী, ছিনতাই, ভর্তি বানিজ্য, টেন্ডারবাজী এসব কর্মকাণ্ড চলে না। অন্য ছাত্র সংঘঠনগুলোর মত ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেরা খুনোখুনিতে লিপ্ত হয় না বলে পড়ালেখার পরিবেশ ভাল থাকে। শিবিরের সংস্পর্শে এসে অনেক ছাত্রই কোরআন হাদিস পড়ে। নামাজ পড়ে। চলে ইসলামের পথে। এ জন্যই আপনাদের এত মাথা ব্যথা।

ব্যবসা-বানিজ্য ও চাকরি বাকরিঃ

সততা, নিষ্ঠা আর আন্তরিকতা আছে বলেই জনগণ এদের বিশ্বাস করে। তাই তাদের ব্যবসা বানিজ্যে এত উন্নতি যা আপনাদের চক্ষুশুল। ইসলামী ব্যাংকের কথাই বলি। এমনকি অমুসলিমরাও এখানে টাকা জমা রাখে। কারন এরা জানে এদের টাকা এখান থেকে হাওয়া হবে না।

যোগ্য এবং মেধাবী বলেই শিবিরের ছেলেরা শত প্রতিকূলতার মাঝেও চাকরি পায়। কারও দয়া দাক্ষিন্যে নয়। ব্যবসা-বানিজে এদের উন্নতিও সেই মেধা, যোগ্যতা আর সততার কারনে।

স্যার কুরআন হাদিস পড়ুন, ইসলামকে বুঝার চেস্টা করুন।তরুণ সমাজকে পথভ্রষ্ট করার চেস্টা করবেন না। এতদিনে সফল হতে পারেননি। শিবির বেড়েছে, কমেনি। আজ যদি আওয়ামীলীগ আর আপনি ইসলামের কথা বলেন তাহলে ওরা আপনার পেছনে লাইন ধরবে। এধের কাছে দল আর ব্যক্তি আসল নয়। ইসলামটাই আসল, এটাই শেষ কথা।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jemsbond (০৭-১২-২০১২ ১৩:৫২)

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

সততা, নিষ্ঠা আর আন্তরিকতা আছে বলেই জনগণ এদের বিশ্বাস করে। তাই তাদের ব্যবসা বানিজ্যে এত উন্নতি যা আপনাদের চক্ষুশুল। ইসলামী ব্যাংকের কথাই বলি। এমনকি অমুসলিমরাও এখানে টাকা জমা রাখে। কারন এরা জানে এদের টাকা এখান থেকে হাওয়া হবে না।

যোগ্য এবং মেধাবী বলেই শিবিরের ছেলেরা শত প্রতিকূলতার মাঝেও চাকরি পায়। কারও দয়া দাক্ষিন্যে নয়। ব্যবসা-বানিজে এদের উন্নতিও সেই মেধা, যোগ্যতা আর সততার কারনে।

কেডা কইছে এই কতা , নিজের চোক্ষে দেখা আবুল ও চাকুরী পায় একটা ব্যাংকে যাস্ট শিবির করি বলে আর আমরা লেখাপড়া কইরা মনে হয় গারবেজ  angry angry । আপনি কিছু কন নাই কাক ভাই ?

আয় হায় রে গেছিলাম , কিন্তু লগ ইনই তো নেয় না  । প্রথম আলুর উপর এমনেই মেজাজ বিলা হইয়া আছিলো sad

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

১৫

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

একটা জিনিস খেয়াল করলে দেখা যায় এরা অত্যন্ত সংগবদ্ধ । এর যতই অন্য দলের সংগে মারামারি করুক কিন্তু নিজেদের মধ্যে মারামারি করেনা । এই সংগবদ্ধতাই এদের এত শক্তিশালী হওয়ার মূল কারণ ।

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০৭-১২-২০১২ ১৪:২২)

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

ছাগুরা অলরেডী একশনে। হা হা হা। নিচের লেখাটা একটু আগে দেখে শেয়ার না করে পারলাম না lol

প্রথম আলোতে জাফর ইকবাল স্যারের আজকের লিখা প্রসঙ্গেঃ
...বাতিল শক্তির একই ধরনের নির্যাতনের মুখোমখি হয়ে কাউকে জীবন দিতে হয়েছে, আবার আল্লাহর ইচ্ছায় কেউবা বেচে গেছেন। হোসনে মোবারক মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড এর শহীদ হাসান আল বান্না আর সাইয়্যেদ কুতুব শহীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ওরা রাজাকার ছিল বলে নয়।ওরা কোন মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছিল বলে নয়। ইসলামের কথা বলার কারনেই।

অন্যের ধর্ম, সংস্কৃতি এবং চিন্তাকে মুল্য দেয়াঃ

স্যার, ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা যা অন্য ধর্ম, অন্য সংস্কৃতি, এবং অন্যদের চিন্তাকে মুল্য দিতে শিখায়। সেকুলারিজম, কম্যুনিজম, লিবারেলিজম এবং হিউমেনিজমনসহ সকল মতবাদেই কিছু না কিছু ঘাটতি আছে।

মিশরের ব্রাদারহুড এবং সহমর্মিতা সম্পর্কিত আন্ডারলাইনড বাক্য দু'খানা পড়ে হাসি পেয়ে গেলো।
গত মাসের খবরে নিশ্চয়ই মুরগান গোহারী নামটি সযত্নে নজর এড়িয়ে গিয়েছিলো:
http://i.imgur.com/W8mBI.jpg
‘Destroy the idols,’ Egyptian jihadist calls for removal of Sphinx, Pyramids
Extremist calls for destruction of Egyptian antiquities
Murgan Salem al-Gohary, Egyptian Jihadist, Wants Pyramids And Sphinx Destroyed

সত্যি সত্যিই এমন কিছু হলে অবাক হবো না। নতুন ইজিপ্ট সরকারের একজন মন্ত্রীও গত বছর স্ফিংক্সকে চাদর দিয়ে ঢেকে রাখার প্রস্তাব করেছিলেন - ঐ নারী-সদৃশ সিংহী মূর্তিটি নাকি একটি এম্ব্যারেসমেন্ট (লিংক পাচ্ছি না)।

বিবাহবহির্ভূতভাবে জন্ম নেয়া সন্তানকে কটাক্ষ করতে বাংলায় একটি শব্দ আছে। কিন্তু যারা নিজেদের প্রাচীন সভ্যতা, পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য এবং জাতীগত পরিচয় নিয়ে অস্বস্তি এবং বিবমিষা বোধ করে - এদেরকে লেবেল করার মত শব্দ কোনো ভাষাতেই নেই বোধ করি।

তালিবানরা বামিয়ানে করেছে। মিশরই বাদ যাবে কেন? জয়তু হাসান আল-বান্নার ইসলামিক রেভুলুশন!

Calm... like a bomb.

১৭

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

আমাদের দাওয়াত দিতে এসেছিল ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে । বলে কিনা শোষন বিহীন সমাজ না করতে পারলে লেখা পড়া করে কি লাভ  notlistening কলেজের বড় ভাই তাই কিছু বলতে পারিনি  angry
এবার ঈদের পর থেকে এই পর্যন্ত ওরা তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে । ওরা নাকি ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছে সরকারের বিপক্ষে  hehe

  Tenacity - Focus - Discipline - Repetition

   Sabbir's Blog 

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (০৭-১২-২০১২ ১৬:২৬)

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

দূর্দন্ত শেয়ার।  thumbs_up

বিবাহবহির্ভূতভাবে জন্ম নেয়া সন্তানকে কটাক্ষ করতে বাংলায় একটি শব্দ আছে। কিন্তু যারা নিজেদের প্রাচীন সভ্যতা, পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য এবং জাতীগত পরিচয় নিয়ে অস্বস্তি এবং বিবমিষা বোধ করে - এদেরকে লেবেল করার মত শব্দ কোনো ভাষাতেই নেই বোধ করি।

@ ইনভারব্রাস একদম ঠিক কথাটা বলেছেন।  thumbs_up

যাই হোক জাফর স্যার খুব সম্ভবত অরণ্যে রোদন করলেন।

hit like thunder and disappear like smoke

১৯

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

ধর্মকে মুলা হিসেবে ঝুলিয়ে এদের ব্রেইন ধিরে ধিরে ওয়াশ করে ফেলা হয় । একটা সময় বের হবার উপায় থাকে না। কারন এদের দেয়া জীবন বিধান (!) অনুযায়ী চলে চলে একসময় একজন কর্মী আবিষ্কার করে তার আর কিছুই করার নাই । এতদিনের বাঁধাধরা গন্ডি পেরোনোর আর সাহস হয় না তাদের।

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২০

Re: জাফর ইকবাল লিখেছেন : তোমরা যারা শিবির কর !

জাফর ইকবালের “তোমরা যারা শিবির করো” বনাম এক যুবকের “তোমরা যারা জাফর ইকবালকে পছন্দ করো”।
*********************************************
বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহিম

স্যার আমি জানি আমার এই লেখা হয়তো আপনার কাছে পৌঁছবেনা, পৌঁছলেও হয়তো পড়ে দেখার সময় আপনার হবে না। তারপরেও লিখলাম যেন আপনার অন্ধ অনুসারীরা আপনাকে অনুসরণ করার আগে,আপনার কথাগুলো, আপনার চিন্তাগুলো মেনে নেয়ার আগে একটু চিন্তা করেন।

স্যার প্রথমেই বলে রাখি আমি কোন শিবির কর্মী না বা জামাতের কেউ না। তারপরেও আপনার "তোমরা যারা শিবির করো" লেখাটির উত্তর দিতে বসলাম কারণ আপনার এই লেখার কিছু কিছু বিষয় এতই নিচু মানের মূর্খের মতো মনে হয়েছে যে একজন রিক্সাওয়ালাও আপনার চেয়ে এই বিষয়গুলোতে ভালো বুঝে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি ছাত্র শিবিরের ছেলেদের নিয়ে অনেক হতাশার কথা প্রকাশ করেছেন অনেকটা লোক দেখানো কপট ভালোবাসার মত। হয়তো অনেকেই আপনার এই কপট চরিত্রটি বুঝে উঠতে পারবেনা কারণ আপনি হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ ধূর্ত অমানুষ (অমানুষ বললাম কারণ যে তার সৃষ্টিকর্তাকে চিনেনা আমি তাঁকে অমানুষই বলি)। ছাত্র শিবিরের ছেলেদের নিয়ে আপনার যে হতাশা তা কিন্তু এই জন্যে নয় যে তারা যুদ্ধাপরাধী জামাতের আনুগত্য মেনে নিয়েছে বরং তারা যে ইসলামকে পছন্দ করে বা ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে চায় এই জন্যেই আপনার এত হতাশা। কারণ আমি কোনদিন আপনাকে ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের ছেলেদের নিয়ে আক্ষেপ করতে দেখিনাই কারণ তারা সন্ত্রাসী করুক,চাঁদাবাজি করুক আর ধর্ষণের সেঞ্চুরি করুক বা আর যাই করুক না কেন অন্তত তারা মৌলবাদী না, তারা ইসলাম মানেনা। তারা ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহরা আর মেয়েদের ওড়না টেনে নিয়ে গেলেও আপনি তাঁদের নিয়ে অনেক আশাবাদী ,আপনি তাঁদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন কারণ তারা আর যাই করুক না কেন তারা অন্তত ইসলামের ধার ধারেনা, নৈতিকতার ধার ধারেনা। আমি ভালো করেই জানি আপনার কাছে ছাত্র শিবির, হিযবুত তাহরীর বা তাবলীগ, এমনকি কোন দল না করা ইসলামপন্থী ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ইসলামপন্থী সবাই আপনার কাছে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ, সেকেলে এবং উগ্রবাদী। আপনার যত হতাশা সকল ইসলামপন্তী ছেলেমেয়েদের নিয়েই। আপনার এই চরিত্রটা এখন আর কোন সচেতন মানুষের অজানা নয়। আপনি নিজেকে খুব মুক্তমনা দাবী করেন করেন কিন্তু আপনি নিজেকে নিয়ে কখনো একবার ভেবে দেখেননি যে আপনি কত বড় সঙ্কীর্নমনা, কত বড় সেকেলে। আপনি আপনার লেখায় লিখেছেন যে ছেলেমেয়েরা যেন এই তরুণ বয়সে এইসব ধর্ম কর্ম বাদ দিয়ে মুক্তমনা হয়, অসাপ্রদায়িক হয়, রবীন্দ্রসংগীত শোনে আরও কত কি? তবে সবচেয়ে ভয়াবহ যেটা বলছেন সেটা হল আপনি চান এই বয়সে তরুণ ও যুবক ছেলেরা মেয়েদের সাথে প্রেম করবে!! ঘুরে বেড়াবে!!আড্ডা দিবে এবং মাঝে মাঝে সইতে না পেরে লিটনের ফ্লাটে যাবে। স্যার এবার আপনাকে কিছু কড়া কথা বলবো। স্যার আপনি যেমন মুক্তিযুদ্ধের সকল হত্যাকাণ্ডের জন্যে জামাত ও ছাত্রসংগকে দায়ী করেন ঠিক এমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী বাংলাদেশে যতগুলো ধর্ষণ হয়েছে, বয়ফ্রেন্ডের দ্বারা যতগুলো মেয়ের সেক্স ভিডিও বের হয়েছে, যতগুলো ছেলেমেয়ে প্রেমঘটিত বিষয়ে আত্মহত্যা করেছে, এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছে তার সবগুলোর জন্যে দায়ী হচ্ছেন আপনি, আপনার মত পরগাছা বুদ্ধিজীবিরা আর আপনার এবং অশ্লীলতার প্রচারক প্রথম আলো গংরা। কারণ আপনি, আপনার মত কুবুদ্ধিজীবিরা এবং প্রথম আলো গংরা এইসব মতবাদ ও অশ্লীলতার ধারক, বাহক এবং প্রচারক। স্যার আমার খুব জানতে মন চায় আপনার মেয়ে যদি কোন ছেলের সাথে প্রেম করে সেক্স করে তারপর ছেলেটি সেই সেক্স ভিডিও বাজারে ছেড়ে দেয় তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আমি জানি আপনি বলবেন প্রেম করাটা, প্রেম করে সেক্স করাটা কোন অপরাধ নয় কিন্তু ভিডিও করাটা, তারপর প্রেম ভেঙ্গে গেলেই সেই ভিডিও বাজারজাত করাটা অন্যায়, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা। এমনকি আপনি তখন আপনার মেয়ের সাফাই গাইতেও ভুলবেন না, বলবেন আপনার মেয়ে কোন ভুল করেনি, আপনার মেয়ে ছেলেটিকে বিশ্বাস করেছে, বিশ্বাস করে ভালোবেসে বিছানায় গিয়েছে। স্যার আপনাদের মত জাফর ইকবালদের কারণেই আজকের এই পৃথিবীতে এত অশান্তি, এত সন্ত্রাস, এত চাঁদাবাজি, এত নোংরামি। আপনাদের মতো জাফর ইকবালদের কারণেই এই পৃথিবীটা সুস্থ মানুষদের জন্যে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আপনাদের মত জাফর ইকাবালদের কারণেই পৃথিবীটা অনৈতিকতায় ভরে গেছে, আপনাদের মত জাফর ইকবালদের কারণেই একজন মা তার মেয়েকে বাহিরে পাঠিয়ে শঙ্কিত থাকে কখন না জানি তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয় কারণ আপনাদের মত জাফর ইকবালরা ধর্ষণ মতবাদের প্রচারক, নৈতিকতাহীন মতবাদের প্রচারক। স্যার মনে করিয়েন না আপনাদের এইসব কর্মের জন্যে কোন হিসেব বা জবাবদিহিতা করতে হবে না। ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি দিয়ে এই পৃথিবীর কাঠগড়া পাড়ি দিতে পারলেও আখিরাতের কাঠগড়া কখনোই পাড়ি দিতে পারবেন না যতদিন না বেঁচে থাকতে এইসব কাজের জন্যে তওবা করে পরম করুণাময়ের পথে ফিরে আসেন। স্যার শেষ করার আগে আপনার সাথে সুর মিলিয়ে আমিও কিছু কথা বলতে চাই-

“কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করে এই ছোট্ট জীবনে সবচেয়ে বিচিত্র, সবচেয়ে অবিশ্বাস কি দেখেছ আমি অবশ্যই বলবো জাফর ইকাবালদের দেখেছি, দেখেছি তাঁদের অনুসারীদের। তার কারণ, যে জীবনটি হচ্ছে একটা পরীক্ষা ক্ষেত্র, রবের ইবাদত করে কাটানোর সময় সেই সময়ে তারা কি করে সেই রবের অকৃতজ্ঞতায় কাটায়, ইসলাম বিরোধিতায় কাটায়। যে সময়টাতে তাঁদের হাতে থাকার কথা আল কোরআন, আল হাদিস, আল্লাহ্‌ রাসুলের জীবনী সেই সময়টাতে কি করে তারা রাসেল, আরজ আলী মাতাব্বর আর নৈতিকতাহীন প্রেমের উপন্যাস পড়ে কাটায়। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন জাফর ইকবালদের হাতে, তাঁদের অনুসারীদের হাতে এইসব বইয়ের পরিবর্তে থাকবে আল কোরআন, আল হাদিস আর আল্লাহ্‌ রাসুলের জীবনী। আমার সেই স্বপ্ন যেন আল্লাহ্‌ তায়ালা বাস্তবে পরিণত করেন এই দোয়া রেখেই আমার এই লেখা শেষ করছি।” তবে শেষ করার আগে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের উদৃতি দিয়ে শেষ করতে চাই। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ-

“আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবেঃ হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা আদৌ দেয়াই না হতো এবং আমার হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম তাহলে কতই না ভালো হতো। হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো! আজ আমার অর্থ সম্পদও কোন কাজে আসলো না। আমার সকল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিও বরবাদ হয়ে গেল।”– সুরা আল হাক্কাহঃ ২৫-২৯

বিঃদ্রঃ আমার ইসলাম প্রিয় ভাইদেরকে বলবো যদি খুব বেশী সমস্যা না হয় তাহলে এই লেখাটি শেয়ার করতে ভুলবেন না কারণ আমি চাই সকল জাফর ইকবাল প্রেমীদের কাছে যেন এই লেখাটা পৌঁছে, তারা যেন একটু নতুনভাবে চিন্তা করার প্রয়াস পায়।

সামু থিকা পাওয়া

Gentlemen, you can't fight in here, this is the war room!