সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (০৩-১২-২০১২ ২৩:৫৭) শেয়ার

টপিকঃ গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

পূর্বেঃ গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিটিক্লাবের মাঠে এসে পৌছায় মাহাদী। ভিতরে ঢুকে একপাশে ঘাসের উপর পা ছড়িয়ে বসে থাকে। সবে মাত্র প্রথম বিভাগের একটা ম্যাচ শেষ হয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচ। সারা দেশ ক্রিকেট নিয়ে পাগল, কিন্তু মাহাদীর ক্রিকেট নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ নেই। মাঝে মাঝে শুধু বাংলাদেশের খেলা হলে দেখে। হাসানের জন্যে অপেক্ষা করতে করতে আধাশোয়া হয়ে পরে মাহাদী। একবার ভাবে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করে হাসানকে যে ওর আসতে আর কতক্ষণ লাগবে। পর মুহূর্তেই সে চিন্তা বাতিল করে দেয়। যখন আসবে আসুক। ওর তো আর কোন তাড়া নেই। এসব চিন্তা করতে করতেই হঠাত পেটের উপর একটা ভারী ব্যাগ-প্যাক উড়ে এসে পড়ে। কিছুটা হতচকিত হয়ে দেখে যে, পাশে হাসান যে কখন এসে দাড়িয়েছে খেয়ালই করেনি। হাসানের দিকে তাকাতেই ও দাত বের করে হেসে বলে ওঠে,
-    কিরে ব্যাটা? আছিস কেমন?
-    হম্ম, ভালো।
-    খবর কি?
-    ভালো। একবারতো বললামই।
-    একবারওতো জিজ্ঞেস করলি না যে আমি কেমন আছি।
-    তোর আগের চাইতে মোটা শরীর আর অপেক্ষাকৃত ফর্শা গায়ের রঙ দেখে ধরে নিয়েছি যে তুই ভালো আছিস।
-    আগের মতই মীন আর ফানি আছিস এখনো দেখা যায়।
-    হবে হয়তো। তুই কি এইসব চিটচ্যাট করার জন্যে এখানে ডেকে নিয়ে এসেছিস।
-    ওয়ো ওয়ো...... সরি। ভুলেই গিয়েছিলাম। আমিতো অ্যাংরী ইয়াং ফ্যাট-অ্যাস ম্যাডীর সাথে কথা বলছি, যার সাথে খালি টু দি পয়েন্টে কথা বলতে হয়।
মাহাদী কিছু বলে না। বিরক্ত হয়ে চুপচাপ অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। হাসান খানিকটা দম নিয়ে রাগ চাপার চেষ্টা করে। রাগটা একটু কমলে আবার বলা শুরু করে, 
-    তোর জন্যে একটা কাজের অফার আছে। করবি?
-    তোর কেন মনে হচ্ছে যে একটা চাকুরীর জন্যে আমি মারা যাচ্ছি। আমার লাইফ নিয়ে এত দারদে ডিসকো দেখাতে হবে না।
-    এইটাই...... এইটাই তোর সমস্যা। তুই সবাইকে তোর প্রতিপক্ষ ভাবিস।
-    এইসব প্যাচাল শুনতে ভালো লাগছে না। হোয়াট এভার ইউর অফার ইজ, জাস্ট গো টু হেল উইথ দ্যাট।
এ কথা বলেই মাহাদী উঠে দাঁড়ায়। তারপর হনহন করে হাটতে থাকে মাঠ থেকে বের হয়ে যাওয়ার গেটের দিকে। ঠিক সেই সময় পিছন থেকে হাসান বলে ওঠে,
-    ফুলহ্যামের ইয়ুথ স্কোয়াড আসছে মাস ছয়েক পর। দে উইল প্লে এ গেম এগেইন্সট আ লোকাল টিম অফ আন্ডার-প্রিভিলিজড টিনেজারস।
হাসানের বলা বাক্য দুটি শুনে মুহূর্তের জন্যে থমকে দাঁড়ায় মাহাদী। মাথাটা না ঘুরিয়েই জবাব দেয়,
-    তো আমি কি করবো?
-    আই ওয়ান্ট ইউ টু ম্যানেজ দ্যাট টিম।
-    বাই হাসান।
মাহাদী বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে আবার হাটা শুরু করে। কয়েক কদম যাবার পরেই পিছনে আবার হাসানের গলা শুনতে পায়,
-    হেই ম্যাডী। আই অ্যাম সরি ম্যান। চার বছর আগের সেই ঘটনা তুই এখনো কেন ধরে রাখসিস?
এবারে ঘুরে দাঁড়ায় মাহাদী। এগিয়ে যায় হাসানের দিকে। তারপর আস্তে আস্তে বলে,
-    আমি কিছু ধরে রাখি নাই। সব ছেড়ে দিয়েছি।
-    সেটাইতো সমস্যা। তুই সব ছেড়ে দিয়েছিস। আমাদের সাথে কথা বলা, ক্যাম্পাসে আসা, ফেসবুক। সবকিছু। তোকে কতবার আর সরি বলবো বল? এবারতো মাফ করে দে ইয়ার। সেদিন মাথা গরম ছিলো জন্যে একটু বেশি বলে ফেলেছিলাম।
-    নাহ। যেটা সত্য সেটাই বলেছিলি। মাফ চাওয়ার কিছু নাই।
-    তুই আবারও ঘাউরামি শুরু করলি। সেদিন ফাইনালে হারার পরে মাথা ঠিক ছিলো না ইয়ার। দোষটা তোর স্ট্র্যাটেজির ছিলো না। জাস্ট......সেদিন আমাদের দিনটা খারাপ ছিলো। তুই আমার দেখা বেস্ট ম্যানেজার। আমাদের ডিপার্টমেন্ট কখনোই যে টুর্নামেন্টের সেকেন্ড রাউন্ডেই যেতে পারে নাই, সেই টিমকে তুই ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলি। ম্যাডী ইয়ার......খুব ফ্রাস্ট্রেটেড ছিলাম। আই অ্যাম সরি।
-    ইটস ওকে হাসান। আমি ঠিক আছি। ভালো থাক।
আবারও হাটা ধরে মাহাদী। পিছন থেকে আবারও হাসানের গলা শোনা যায়,
-    ইটস নট ওকে। ঐ দিনের ঝগড়া তোকে এলোমেলো করে দিয়েছে। ঐ টিমের সবাই আমরা সেটা জানি। আমরা ঐদিন থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে আসছি যাতে তোর জন্যে কিছু করা যায়।
-    আমিতো বলি নাই তোদের কিছু করার জন্যে।
-    হ্যা, করিস নাই। তুই আমাদের আর বন্ধু না ভাবলেও, আমরা তোকে অনেক মিস করি। উই লাভ ইউ ম্যান এন্ড উই নো ইউ। আমরা জানি, তুই এসব চাকরী-বাকরী করে শান্তি পাবি না। তুই সেটাই করবি যেটা তোর অন্তর চায়। আর আমরা জানি সেটা কি।
-    তাই? সেটা কি?
-    ফুটবল। ইউর লাইফ ইজ ইন দ্যাট এইট ইঞ্চ ডায়ামিটার ম্যান। ফুটুর-ফাটুর চাপাবাজি করে যখন ফুলহ্যামের সফরের লিয়াজো অফিসার হয়ে গেলাম, তখন তোর কথা মাথায় রেখেই যে লোকাল টিমের সাথে ওরা ফ্রেন্ডলী ম্যাচ খেলবে, সেটার ম্যানেজার হিসেবে তোর নামটা হালাল করিয়ে নিয়েছি। 
-    আমার কোন কোচিং সার্টিফিকেট নাই।
-    জানি। কিন্তু এটাও জানি যে, সার্টিফিকেট ছাড়া বিশ্বের সেরা কোচ তুই। অন্তত আমার কাছে।
-    হ্যা, তোর কাছে। তাদের কাছে না। চাপাবাজি কম করে কর।
-    আসলে এটা একটা ক্ষয়রাতি ম্যাচ ওদের কাছে। আমাদের মত গরীর দেশের ফুটবলের উন্নয়নে লোক-দেখানো ম্যাচ আরকি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, তুই এই ম্যাচের চেহারা বদলায় দিতে পারবি।
হাসানের কথার আর কোন জবাব দেয় না মাহাদী। আবারও হাটা শুরু করে। মাহাদীর গোয়ার্তুমী দেখে হাসান কিছুটা রেগে পিছন থেকে চিৎকার করে বলে ওঠে,
-    তুই হচ্ছিস একটা জিন্দা লাশ। খালি শরীর আছে, সেটাতে কোন প্রাণ নাই। একটা সেলফিস ফ্যাট-অ্যাস......
মাহাদী একটু থেমে, হাসানের কথা শেষ হবার আগেই, মাথাটা হালকা ঘুরিয়ে বলে ওঠে,
-    শওকত কাবাবে যাচ্ছি। তুই যাবি? পেট খালি থাকলে আমি আবার কিছু চিন্তা করতে পারি না। এখন খেতে হবে। কারণ, আই হ্যাভ আ টিম টু মেক।
[চলবে]

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

আউ - বিশাল ব্যপার , বেচারা শেষ পর্যন্ত রাজী হল মনে হচ্ছে ...

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

বাহ্‌, বেশ নাটকীয় হচ্ছে...

গর্ব এবং আশায় ভরা বুক! কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত, সমুন্নত শির!
আমি তুমি সবাই মিলে এক, একই লাল সবুজের কোলে সবার নীড়।

শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

আউ - বিশাল ব্যপার , বেচারা শেষ পর্যন্ত রাজী হল মনে হচ্ছে ...


হাসান যেভাবে চীনা জোকের মত ধরেছে, না রাজী হয়ে উপায় আছে?

যাপিত সময় লিখেছেন:

বাহ্‌, বেশ নাটকীয় হচ্ছে...


ধন্যবাদ।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

ক্রিকেটের এই জয়জয়কারের দিনে এ নিয়ে কী নিয়ে এলেন, কাউয়া ভাই? ফুটবল তো মানুষে ভুলে গেছে প্রায়। তবুও গল্পটা জমবে মনে হয়। আপনি রম্য নিয়ে এত চিন্তা করবেন না। সিরিয়াস গল্পেও কিঞ্চিত রম্যের স্বাদ থাকা দোষনীয় কিছু নয়। ইন ফ্যাক্ট, এটা একধরণের মাত্রা এনে দেয় - পাঠককে ধরে রাখতেও তো হবে, নাকি? smile ভালো হয়েছে এ পর্বটিও।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

উদাসীন লিখেছেন:

ক্রিকেটের এই জয়জয়কারের দিনে এ নিয়ে কী নিয়ে এলেন, কাউয়া ভাই? ফুটবল তো মানুষে ভুলে গেছে প্রায়। তবুও গল্পটা জমবে মনে হয়। আপনি রম্য নিয়ে এত চিন্তা করবেন না। সিরিয়াস গল্পেও কিঞ্চিত রম্যের স্বাদ থাকা দোষনীয় কিছু নয়। ইন ফ্যাক্ট, এটা একধরণের মাত্রা এনে দেয় - পাঠককে ধরে রাখতেও তো হবে, নাকি? smile ভালো হয়েছে এ পর্বটিও।

ধন্যবাদ উদাসীনদা। ঠিকই বলেছেন। দেশে চারিদিকে  ক্রিকেটের জয়জয়কার। কিন্তু এখনও কিছু মানুষ মধ্যরাত পর্যন্ত জেগে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের খেলা দেখে। জার্ড মুলারকে ছাড়িয়ে যেতে মেসির কয় গোল লাগবে, সেসব ইনফো তাদের নখদর্পনে। এই গল্পটা সেসব মানুষদের জন্যে।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

Sundor hocche

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

আবদুল্লাহ আল রিফাত লিখেছেন:

Sundor hocche


ধন্যবাদ।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (০৬-১২-২০১২ ০০:৩৯) শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

ফুটবল আমার খুব প্রিয় খেলা। ক্রিকেট তেমন ভালো লাগে না (স্কুলে থাকতে সব সময় ওপেনিং ফিল্ডার ছিলাম বলেই হয়তো  tongue_smile ) দারুন লাগছ আপনার এই সিরিয়াস আত্মজৈবনিক গল্প।

hit like thunder and disappear like smoke

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (০৬-১২-২০১২ ১০:২৭) শেয়ার

Re: গোলকের ব্যাস আট ইঞ্চি, পর্ব-২

@m0N লিখেছেন:

ফুটবল আমার খুব প্রিয় খেলা। ক্রিকেট তেমন ভালো লাগে না (স্কুলে থাকতে সব সময় ওপেনিং ফিল্ডার ছিলাম বলেই হয়তো  tongue_smile ) দারুন লাগছ আপনার এই সিরিয়াস আত্মজৈবনিক গল্প।


ধন্যবাদ। ফুটবল আমারও খুব প্রিয় খেলা। অবশ্য ক্রিকেট খেলতে পারতাম অল্পস্বল্প। ফুটবল একেবারেই পারতাম না। যদিও ক্রিকেটে আমাকে কেউ সহজে উপরের দিকে ব্যাটিং এ নামাতো না। কারণ ব্যাটিং এ নামলেই আমার উপর জাভেদ ওমর আর গাভাস্কারের ভুত একসাথে ভর করতো। রান করতে পারতাম না। আউটও হতে পারতাম না। দশ-পনের ওভারের ম্যাচগুলোতে তাই ব্যাটিং করার চান্সই পেতাম না sad

@কোথাও কেউ নেইঃ ধন্যবাদ আপনাকে। নীরবে সন্মাননা দিয়ে প্রস্থান করেন কেন? দুকলম লিখে যাবেন। ভালো লাগবে।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(