সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন shamiul islam (০১-১২-২০১২ ০০:৪৬)

টপিকঃ নোবেল পুরষ্কার -২০১২ পর্বঃ চিকিৎসা বিজ্ঞান

নোবেল পুরষ্কার পৃথিবী নামক এই গ্রহের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরষ্কারের মধ্যে একটি । প্রত্যেক বছর যখন অক্টোবর মাস আসে তখন বিজ্ঞানের ছাত্র থেকে শুরু করে সাধারণ একজন মানুষও নোবেল কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকেন কে এই ভাগ্যবান ব্যক্তি।গত অক্টোবর মাসের ৮ তারিখে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নোবেল কমিটি এই বছর ‘চিকিৎসা বিজ্ঞান’ শাখায় নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করেন দুই জন মহান বিজ্ঞানীর নাম –ইয়ামানাকা এবং স্যার জন গার্ডন “স্টেম সেল” আবিষ্কারের জন্য ।তাঁরা দুই জনই পৃথক ভাবে এই স্টেম সেল আবিষ্কারের জন্য গুরত্তপুর্ন ভূমিকার রাখেন । ইয়ামানাকা সুর্য উদয়ের দেশ জাপানের কিয়টা  বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং অধ্যাপক । আর স্যার জন গার্ডন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী । তো আজ আমরা কি এই স্টেম সেল, যার জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া  ,তাঁর বিস্তারিত জানবো ।
স্টেম সেল কি ?
আমরা জানি জীব দেহের গঠনের ও কাজের এককের নাম হচ্ছে কোষ বা Cell । এই কোষ থেকেই জীব দেহ গঠিত হয় ।আর এই কোষ তৈরি হয় শুক্রাণু ( যেটা আসে পুরুষ প্রাণী থেকে )এবং ডিম্বাণু ( যেটা আসে স্ত্রী প্রাণী থকে ) -এই দুইটার মিলনের ফলে ।আর এই একটি কোষ বিভিন্ন কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেকগুলো কোষে পরিণত হয় ।আর এই অনেকগুলো কোষ মিলিত হয়ে বিভিন্ন অংগ-প্রতাংগে পরিণত হয় । কোনটা ত্বকে , কোনটা নাক , কান ইত্যাদি ।এই যে অনেকগুলো কোষ থেকে আমাদের শরীরের ত্বকের সৃষ্টি হল একে বলে প্রথমিক কোষ ।প্রাথমিক এই কোষগুলোর অপর নাম ভ্রুন কোষ বা এম্বয়ওনিক কোষ । এই ভ্রুন কোষকেই স্টেম সেল বলা হয় । এই স্টেম সেল বা  এম্বয়ওনিক কোষ থেকে অন্যান্য অঙ্গের সৃষ্টি হলেও ব্যাপারটি কিন্তু এতো সোজা না । বিভিন্ন বিজ্ঞানীগণ এই নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছিলেন । যেহেতু এম্বয়ওনিক কোষ বা স্টেম সেল থেকে আমরা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ পাই , তাই কোন ভাবে যদি আমরা একে সংশ্লেষ করতে পারি তা হলে আমরা নিজেরাই বিভিন্ন অঙ্গ বানাতে পারবো । বিজ্ঞানীদের এর পেছনে গবেষণার মূল কারন ছিল এটাই । অবশেষে সুদির্ঘ ৪০ বছর গবেষণার ফলস্বরূপ ঐ দুই জন বিজ্ঞানী এই মহান পুরুস্কারে ভূষিত হলেন । বিজ্ঞানী  জন গার্ডন কিভাবে দেহ কোষ থেকে স্টেম সেল বানানো যায় । সেই দুর্লভ ব্যাপারটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন । এই স্টেম সেল নিয়ে অন্যান্য বিজ্ঞানীগণ প্রচণ্ড রকমের আশাবাদী হন  এবং গবেষণায় মনোনিবেশ করেন । যেহেতু এই স্টেম সেল ব্যাপারটি একটু কঠিন তাই , কিভাবে খুব সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা যায় তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন । অবশেষে  জাপানের কিয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং অধ্যাপক ইয়ামানাকা অভুতপুর্ব সাফল্য লাভ করেন – যার কারনে এই বিশাল সম্মান । অধ্যাপক ইয়ামানাকা দেখান এই স্টেম সেল আমাদের শরীরের সাধারণ কোষের মাত্র ৪টি স্টেম সেল জিন  পরিবর্তন করে দিলেই তৈরি করা সম্ভব ।
স্টেম সেল এর ব্যবহারঃ
সাধারণত নোবেল পুরুস্কার দেয়া হয় বিজ্ঞানের ঐ সমস্ত আবিষ্কার যার দ্বারা মানুষের কল্যাণ সাধিত হয় । তা হলে আমাদের কি উপকার করবে এই স্টেম সেল ? অবাক হবেন না তো ? না, অবাক হওয়ার কিছু নেই । বিজ্ঞানের কাজই তো মানবকল্যাণ ( কিছু ক্ষেত্রে হয়ত ব্যতিক্রম দেখা যায় ,আর ব্যতিক্রম তো ব্যতিক্রমই ) । হ্যাঁ , এই স্টেম সেল এর মারাত্মক প্রয়োগ হচ্ছে –রোগ প্রতিরোধে এর মারাত্মক ব্যবহার । বিশেষ করে যে সমস্ত রোগ , যা মানুষের পক্ষে জয় করা সম্ভব হয়নি যেমনঃ এইডস ।হ্যাঁ, এক্ষেএে বিজ্ঞানীরা শতভাগ সফল হয়েছেন । মার্কিন নাগরিক টিমোথি  রে  ব্রাউন,বয়স ৪৬, এইডস রোগে আক্রান্ত ছিলেন । স্টেম সেল তাঁর শরীরে বসানোর প্রায় পাঁচ বছর পর শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ।২০০৬ সালে স্টেম সেল তাঁর শরীরে বসানো হয় । চিকিৎসক  ছিলেন ড. গেরো  হাটার  যিনি একজন জার্মানি ।হ্যাঁ , আমরা এখন এইডসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে পেরেছি ।মানুষ পারে না এমন কি আছে এই পৃথিবীতে ?
চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার নিয়ে আজ এ পর্যন্তই ।এ বছরের নোবেল পুরষ্কার সম্পর্কে জানতে ঢুঁ মারুন http://recent-inventions.lv2lvu.com/

আগামী পর্বে আমরা বিজ্ঞানের আরেক শাখা পদার্থ বিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরষ্কার নিয়ে জানবো ইনশাআল্লাহ্‌ ।  সবাই ভালো থাকুন ।

Re: নোবেল পুরষ্কার -২০১২ পর্বঃ চিকিৎসা বিজ্ঞান

মার্কিন নাগরিক টিমোথি  রে  ব্রাউন,বয়স ৪৬, এইডস রোগে আক্রান্ত ছিলেন । স্টেম সেল তাঁর শরীরে বসানোর প্রায় পাঁচ বছর পর শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ।২০০৬ সালে স্টেম সেল তাঁর শরীরে বসানো হয় । চিকিৎসক  ছিলেন ড. গেরো  হাটার  যিনি একজন জার্মানি ।হ্যাঁ , আমরা এখন এইডসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে পেরেছি ।

তালি এটা পবলিকের জন্য বানায় না কেন ?

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

Re: নোবেল পুরষ্কার -২০১২ পর্বঃ চিকিৎসা বিজ্ঞান

এটা নিয়ে দূর্দান্ত একটা পোস্ট আছে এখানে:
http://www.sachalayatan.com/anarjo_sangeet/46548

আসলে ড. গর্ডন সেই কত্ত আগে একটা ব্যাঙাচির লেজ থেকে কোষ নিয়ে সেগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে মিউটেশন করিয়েছিলেন। এবং এ থেকে অনেকগুলে ব্যাঙ জন্ম নিয়েছিলো। এর আগে পর্যন্ত ধারণ ছিলো যে স্টেম সেল শুধুমাত্র ভ্রুণ থেকে হতে পারে।

শিনয়া ইয়ামানাকা একজন সার্জন ছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে উনি খুবই বাজে সার্জন, কিন্তু ভালো গবেষক হতে চেয়েছিলেন। ১৯৫২ এর দিকে করা গর্ডনের পেপার পড়ে উনি খুবই উৎসাহিত হন। স্টেম সেলে একটা কোষে অনেকগুলো জিন থাকে। তারপর কোন কোষ হাড্ডিতে পরিণত হয়, কোনো কোষ রক্ত কণিকা হয়, কোনো কোষ হয় ধমনী, হৃৎপিন্ড ইত্যাদি। প্রতিটা কোষ পরীক্ষা করে জানা গেছে, জিনগুলোর মধ্যে প্রতিটাতে ভিন্ন ভিন্ন জিন বেশি সক্রিয় হয়ে বাকীগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে।

আগে ধারণা ছিলো এটা একটা একমূখী প্রক্রিয়া। অর্থাৎ একবার একটা স্টেম কোষ প্রোগ্রাম করা হয়ে গেলে সেটা আবার আগের প্রোগ্রামেবল অবস্থায় আসতে পারে না। তাই সবসময় কোন ভ্রুণ থেকে এই কোষ সংগ্রহ করতে হত।

প্রফেসর ইয়ামানাকা ভাবলেন, একটা ভ্রুণ থেকে কোষ সংগ্রহ মানে একটা প্রাণকে বিনাশ করা। বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে ইতিমধ্যেই প্রোগ্রাম করা কোনো কোষকে ফরম্যাট করে আবার প্রোগ্রাম ইনস্টল করা -- যা সম্ভব নয় ভাবা হত। কিন্তু সেই গর্ডনের পেপার পড়ে উনি বুঝতে পারলেন এটা সম্ভব - গর্ডন সাহেবও এটা জানতেন না। উনি পরীক্ষা করেছিলেন, কিন্তু ব্যাখ্যা ও প্রমাণ দিতে পারেন নাই সম্ভবত। ইয়ামানাকা সেনসেই তখন এনালাইসিস শুরু করলেন। জিনগুলো পরীক্ষা করে বুঝতে পারলেন ২৪টা জিন আছে যেগুলো এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তারপর পারমুটেশন কম্বিনেশন। প্রতিটা জিন সাধারন কোষের দ্রবনে আলাদা আলাদা করে স্থাপন করা হয়, আরেকটাতে সবগুলো ২৪টাই দেয়া হয়। দেখা যায় যেটাতে সবগুলো দেয়া হয়েছিলো সেটা বাদে কোনোটাতেই স্টেমসেল উৎপন্ন হয়নি। এরপর আরেক ব্যাচ এক্সপেরিমেন্ট বসিয়ে সেটার ২৪টা সেটের প্রতিটা স্যাম্পলে ২৩টা করে জিন দেয়া হল -- প্রতিটা স্যাম্পলেই ভিন্ন একটা বাদ। ফলাফল দেখে যেটা বাদ দিলেও পরিবর্তন হয় সেটা আসলে দরকার নাই। এভাবে ৪টা জিন আলাদা করলেন উনারা। এবং পরে পরীক্ষা করে দেখেছেন ওগুলোই আসল সূত্র। এখন স্টেম সেল বানানোর জন্য ভ্রুণ হত্যার দরকার নাই। গত ৪ বছরে ওনার রিসার্চ পেপার ৫০০০বারের বেশি সাইটেশন হয়েছে যা সম্ভবত বিশ্বরেকর্ড।

মেডিকেল সায়েন্সে একটা টেকনোলজি অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সেটাতে নোবেল দেয়া হয়। আর এটা আবিষ্কারের ৫ বছরেই উনি পেলেন (গত বছরও নির্বাচিতদের প্যানেলে ছিলেন)। কারণ এটা মেডিকেল সায়েন্সে একটা যুগান্তকারী দরজা খুলে দিয়েছে ... কিভাবে?

ধরুন আলঝেইমার রোগীর মাথার ভেতরে কোষের স্ট্রাকচারে কী সমস্যা সেটা কিন্তু স্ক্যান করে বোঝা যায় না। আবার রোগীর ক্ষতি না করে মাথার ঐরকম জায়গা থেকে কোষ নিয়ে এসেও পরীক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এই টেকনোলজির ফলে এখন আলঝেইমার রোগীর হাত থেকে একটা কোষ নিয়ে সেটাতে সেই চারটা জিন দিয়ে সেই কোষকে স্টেম সেল বানিয়ে ফেলা যায়। তারপর সেই স্টেম সেলে বিভিন্ন জিন বা কৌশল প্রয়োগ করে সেটাকে নার্ভ সেল হওয়ার প্রোগ্রাম করা হল + গ্রোথ হরমোন। এতে দুই সপ্তাহেই ব্রেনের নার্ভের মত নার্ভ তৈরী হয়ে গেল। তারপর সেই সেল মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করে দেখা গেল আসলেই এই রোগীর কোষের নিউক্লিয়াসের প্যাটার্ন সুস্থ মানুষের চেয়ে ভিন্ন।

এখন বিশেষ কোনো ড্রাগ দিলে এটা ঠিক হবে কি না তা রোগীর উপর এক্সপেরিমেন্ট না করে, এখানেই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঔষধ গবেষণায় এটা তাই যুগান্তকারী একটা আবিষ্কার।
এছাড়া বিভিন্ন দূর্ঘটনায় বা অসুখে নষ্ট হয়ে যাওয়া অঙ্গ বা অর্গানকে ভাল কোষ --> স্টেম সেল --> সেই কোষ বানিয়ে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। ইতিমধ্যেই চোখের রেটিনা ইত্যাদিতে এটা সফল প্রয়োগ হয়েছে। সামনে অঙ্গহানী ঘটলেও নতুন অঙ্গ গজানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকগণ (টিকটিকির লেজের মত কিংবা স্পাইডারম্যাড থ্রিডির ভিলেনের মত)।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত