সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৫-১১-২০১২ ১০:০৪)

টপিকঃ ব্রেইন কেমিস্ট্রি

(এই থ্রেড থেকে অফ-টপিক আমদানীকৃত।)

রণ_এথিক্যাল হ্যাকার লিখেছেন:

রিসেপ্টর বা যে দেখছে তার অংশটা বা দৃশ্যটাকে নিয়ে তার ইন্টারপ্রিটেশন কেন যৌনতার দিকে যাবে সেটাই চিন্তার বিষয়।

বায়োলজী। প্রাণীদের ব্রেন ওভাবেই ওয়্যারিং করা (প্রাণী বলতে স্তন্যপায়ী, যৌণ-প্রজনন-কারীদের বোঝানো হচ্ছে)

ম্যামাল ব্রেইনে বেশ কয়েকটি লেয়ার আছে। বিবর্তনের বিভিন্ন পিরিয়ডে লেয়ারগুলো আবির্ভূত হয়েছিলো (triune brain থিওরী)। পূর্ববর্তী লেয়ারের উপর পরবর্তী লেয়ারটি জুড়ে বসেছে। নতুন লেয়ারটি নিজে বিভিন্ন ফীচার তো যোগ করেই, আবার পুর্ববর্তী ব্রেনের বিভিন্ন ফাংশন মডিফাই-ও করে।

সবচাইতে প্রাচীন লেয়ারটি হলো রেপটিলিয়ান ব্রেইন - সরীসৃপদের মধ্যে এই ব্রেনটি আছে। হার্ট রেট, শ্বাস-নি:শ্বাস, বিপাককৃয়া, শরীরের ব্যালেন্স ইত্যাদি মেইনটেনেন্সের কাজ করে। খুব বেসিক সিস্টেম। এই সিস্টেমটি আনুমানিক ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে ডেভেলপ করেছিলো।

এর পরের (মাঝের) লেয়ারটি হলো লিম্বিক ব্রেইন - বিবর্তনের পরবর্তী ধাপে এই সিস্টেমটি আবির্ভূত হয়েছে। এই ব্রেনের কাজ হলো বিভিন্ন বেসিক শারীরবৃত্তিক ফাংশন এবং ইমোশন রেগুলেট করা - হাংগার, স্লীপ, সেক্স এবং বিভিন্ন ইমোশন রেইজ, এ্যাগ্রেশন, ফিয়ার, লাভ ইত্যাদি মেইনটেইন করে। লিমবিক সিস্টেমের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাকচার হলো হাইপোথ্যালামাস, হিপ্পোক্যাম্পাস এবং এ্যামীগডালা:
http://i.imgur.com/4qeoB.png

মটর এবং আমন্ড বাদাম সাইযের প্যালিও-ম্যামালিয়ান স্ট্রাকচারগুলো আমাদের বেসিক আর্জ যেমন সেক্স ড্রাইভ নিয়ন্ত্রণ করে। (ব্রেনের "প্লেজার সেন্টার" এই লেয়ারেই অবস্থিত)

প্রতিটি "জীন" চায় নিজেকে propagate (বিস্তার) করতে। এ কারণে যখন ভিন্ন লিংগের কেউ যখন সামনে পড়ে, ব্রেনের প্রাথমিক একটি কাজই হয় mating eligibility & probability ইত্যাদি ফ্যাক্টর কনসিডার করা - নিজের অজান্তেই এটি হয়ে যায়, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুদৃষ্টি/কুচিন্তা করে না।

শামীম ভাইয়ের মত পরিস্থিতি আমারও হয়েছে বেশ কয়েকবার। দেশের বাইরে গেলে প্রথম প্রথম আকর্ষণীয় পোশাকধারীদের দিকে চোখ চলে যায় - এবং প্রতিবারই বিব্রত হয়ে লক্ষ করি পুরো রুমে কেবল আমিই হ্যাবলাকান্তের মত তাকিয়ে আছি, বাকী সবাই যারযার কাজে মগ্ন।

সর্বশেষ (তথা সর্বাপেক্ষা কমবয়সী) লেয়ার/ব্রেইন হলো নিওকর্টেক্স - এটা নীচের দুই ব্রেইনকে ডমিনেট করে (সিগনাল সাপ্রেস বা মডিফাই করে), এবং প্রাণীটিকে অনেক ফীচার/ফাংশন দান করে। ভাষা, এ্যাবস্ট্রাক্ট চিন্তা, আর্ট/কালচার, কল্পনাশক্তি, কৃয়েটিভিটি, কগনিশন, সেলফ-কনশাসনেস ইত্যাদি উচ্চতর মানসিক ফ্যাকাল্টীগুলো এই লেয়ারের বাসিন্দা।

ব্রেন-কে একটি ৩ তলা বাড়ীর সাথে কল্পনা করতে পারেন। ১ তলায় লিযার্ড ব্রেন, ২য় তলায় লিম্বিক এবং সবার উপরে নিও-কর্টেক্স। কেউ যদি ৩ তলায় যেতে চায় তাহলে বাড়ীতে ঢুকে ১ম ও ২য় তলা পেরিয়ে যেতে হবে। ভিজুয়াল স্টিমুলেশন কি কারণে প্রাথমিকভাবে সেক্সুয়াল পসিবিলিটি চিন্তা করে আশা করি ধরতে পারছেন। এছাড়া শুধু চোখে দেখলেই হয় না, বিপরীত লিংগের প্রাণীটির প্রক্সিমিটি বা কাছাকাছি অবস্থান থাকাও প্রয়োজন। অনেক দূরে কোনো আকর্ষণীয় ব্যক্তি/নারীকে দেখে আপনার লিম্বিক ব্রেন ইন্টারেস্টেড নাও হতে পারে, তবে সেই একই মানুষ যদি কাছাকাছি থাকে তাহলে আর রক্ষা নাই। এর কারণ হলো ফেরোমোন। ফেরোমোনের কেমিকেল মলিকিউল খুব র্যাপিডলী হাইপোথ্যালামাসকে এক্সাইট করে (মানুষের ফেরোমোন রিসেপ্টর থাকে নাকের ভেতর, এখান থেকে প্রচুর নার্ভ ফাইবার সরাসরি এ্যামীগডালা ও হাইপোথ্যালামাস দিয়ে পাস করেছে)

প্রশ্ন করতে পারেন, বিদেশী পুরুষরা যদি নির্লিপ্ত থাকতে পারে তাহলে শামীম/ব্রাসু ভাইয়ের দৃষ্টি/নাসিকা মোবারক এত কুৎসিত কেন?

আগেই বলা হয়েছে, হায়ার লেয়ারটি ওভাররাইড করতে পারে লোয়ার ব্রেন-কে। প্রয়োজন হলে নিওম্যামালিয়ান সিস্টেম (নিওকর্টেক্স) অবদমন করতে পারে প্যালিওম্যামালিয়ান সিস্টেম (লিম্বিক ব্রেন)-কে।

বিদেশী পুরুষদের নিওকর্টেক্স স্বল্পবসনাদের দেখে অভ্যস্ত - ওভার-এক্সপোজার হতে হতে এক পর্যায়ে তাদের সাপ্রেশন মেকানিজমটি বেশ জোরদার হয়ে গেছে। তার মানে এই না যে তারা "লক্ষ" করে না, "লক্ষ" ঠিকই করে, তবে আমাদের মত এত বেশি মনোযোগ ব্যয় করে না (আর পর্যাপ্ত মনোযোগ দিলেও ওটা লুকিয়ে রাখতে ওদের নিওকর্টেক্স ওস্তাদ বনে গেছে  hmm )

উদাহরণ স্বরূপ - বাংলাদেশের মুসলিমরা পশু বলিদানে মোটামুটি ডিসেন্সিটাইজড হয়ে গেছে। কোরবানীর সকালে যদি কোনো ইউরোপীয়ান বা জাপানীজ লোককে ধরে আনা হয় - সে রক্তপাত, জবাই ইত্যাদি দেখে ঐখানেই শকে চলে যাবে। আর আমরা চোখের পলকও ফেলিনা...  hmm

                            
                                                                 .---.
                                                                /  .  \
                                                               |\_/|   |
                                                               |   |  /|
    .----------------------------------------------------------------' |
   /  .-.                                                              |
  |  /   \                                                             |
  | |\_.  |                                                            |
  |\|  | /|                                                            |
  | `---' |                                                            |
  |       |                                                            | 
  |       |                                                           /
  |       |----------------------------------------------------------'
  \       |
   \     /                         
    `---'

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

ব্রাশু ভাই ভালোবাসা কোন পার্ট মেইনটেইন করে ব্যাপারটা মনে হয়না এখনও কনফার্মড হইছে। তবে এখানে যে আমাদের এম,এইচ,সি প্রোটিণেরও একটা গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে সেটা আগে জানতাম না। বেশ ইন্টারেস্টিং ব্যাপার।

ডোপামিন, অক্সিটোসিন এবং PEA হরমোন (এটার পুরো ফর্মটা ভুলে গেছি - গুগল করেন tongue )

আপডেট: PEA = beta-phenylethylamine

সবগুলোর মেকানিজম একই - ব্রেনের pleasure সিস্টেমকে এ্যাক্টিভেট করা

ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার প্রোটিন - এটাকে ডাকা হয় reward (পুরস্কার) প্রোটিন নামেও। কোনো কাজে সফল হলে, কোনো নতুন জিনিস ভালোভাবে শিখে নিতে পারলে, অন্যকে সাহায্য করলে, পরীক্ষায় পাস করলে ইত্যাদি বা দৈনন্দিন/সাধারণ আনণ্দদায়ক কাজগুলো করলে (food, music, sex) একটা "ভালো লাগার" অনুভূতি জন্মায়। এই গুড ফীলিং, সেল্ফ কনফিডেন্স অনুভূতির মূল প্রোমোটার হলো ডোপামিন। প্রাণীর জীবনধারণের পক্ষে সহায়ক এসব কাজগুলো সম্পন্ন করলে ব্রেণে ডোপামিন ফ্লাডিং হয়। বিলিয়ন বছরের বিবর্তন এই প্রাকৃতিক পুরস্কার প্রথাকে পারফেক্ট করেছে। এই ধরণের কাজগুলো (যেমন ফুড, সেক্স) প্রাণীর সার্ভাইভালের জন্য বেনিফিশিয়াল।

তবে দেহের বাইরে থেকেও ডোপামিনার্জিক সিস্টেম ম্যানিপুলেট করা যায়। বেশ কিছু কেমিকেল আছে ব্রেনে ডোপামিন লেভেল বুস্ট করে।

হেরোইন, কোকেন, মরফিন ইত্যাদি ড্রাগ খুব এক্সটৃমলী ডোপামিন সিস্টেম কন্ট্রোল করে। এসব ড্রাগ যখন কেউ প্রথমবার নেয়, খুব ভালো অনুভব করে - আবারও নিতে ইচ্ছা করে। এভাবে খুব সহজেই এ্যাডিক্টেড হয়ে যায়। রিইনফোর্সমেন্ট চলতেই থাকে। এক পর্যায়ে লোকটির জন্য ড্রাগ উইথড্র করা রীতিমত যুদ্ধসম হয়ে পড়ে।

আরেক লেভেলের কেমিকেল আছে যেগুলো হালকাভাবে ডোপামিন সিস্টেমকে স্টিমুলেট করে - ক্যাফেন, নিকোটিন, গাঁজা (ক্যানাবিস/মারিহুয়ানা), এ্যালকোহল ইত্যাদি। অর্থাৎ, চা/কফি, সিগারেট, মদ এগুলোও মাইল্ডলী এ্যাডিকটিভ।

যতদূর মনে পড়ে হেরোইন, কোকেন, ক্যাফেন, নিকোটিন, এ্যালকোহল এগুলো সবার ফুল নিউরাল পাথওয়ে ম্যাপিং করেছেন নিউরোসাইন্টিস্টরা। সবগুলোর মেকানিজমই প্রায় সেইম - ব্রেনের pleasure/reward সেন্টারকে স্টিমুলেট করা। আগের পোস্টে লিমবিক সিসটেমের উল্লেখ আছে - যতদূর মনে পড়ে ব্রেনের ডোপামিন সিস্টেমতা লিম্বিক ব্রেনটাকে প্রাইমারীলি ইনভল্ভ করে (আমার নিউরোএ্যানাটমী জ্ঞান এখন প্রায় যিরো  worried )

হুমমম,  thinking come to think of it... ইংলিশের dope শব্দটিও মনে হচ্ছে ডোপামিন থেকে এসেছে  big_smile

পী হরমোন হলো প্রেম-পীরিতির আসল সিক্রেট মলিকিউল। নতুন বিয়ে বা প্রেমের প্রাথমিক পর্যায়ে পী হরমোনের বন্যা বয়ে যায় ব্রেনে - পছন্দের মানুষটিকে তাই সারাক্ষণ পাশে রাখতে মন চায়, সর্বক্ষণ চোখের সামনে দেখতে ইচ্ছা করে, স্পর্শ করতে ভালো লাগে ইত্যাদি। পী হরমোন এ্যাট ওয়ার্ক। বাসনার রসায়ন।  tongue

সবাই জানি রিলেশনশীপের এই স্টেজটাকে "ইনফ্যাচুয়েশন" বলে। অপর পার্টনারের ভুল/ভ্রান্তি/অন্যায়, মুদ্রাদোষ ইত্যাদি চোখে পড়ে না। "ওকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা"...

তবে ব্রেন পী হরমোন প্রোডাকশন বেশিদিন মেনটেন করতে পারে না। কিছুদিন পরেই পী হরমোন কমতে কমতে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। রিলেশনশীপ বজায় থাকলে মোটামুটি ৬ মাস পর্যন্ত পী হরমোন ম্যানুফেকচার করে ব্রেন (গিভ অর টেক আ ফিউ উইকস)।

এর পরে রিলেশন ম্যাচিউর স্টেজে যায়। ইনফ্যাচুয়েশন আউট, রিয়েলাইজেশন ইন।  wink পার্টনারের ভুল-ত্রুটিগুলো এখন চোখে পড়বে। পার্টনার ছেড়ে চলে গেলেও আর জীবন-মরণ সমস্যা না।

তাহমিদ ভ্রাতা মনে হয়ে এই সাইকেলের বিশদ বিবরণ দিতে পারবেন।  tongue

অক্সিটোসিন হরমোন এই স্টেজে কিক করে (আসলে প্রথম থেকেই ছিলো - পী-র দৌরাত্বে কিন্চিৎ চাপা পড়ে থাকে)। পার্টনারের সাথে একটা "কানেক্টেড ফীলিং" মেনটেন করে হরমোনটা। অক্সিটোসিন হরমোন পার্টনারদের মধ্যে বন্ডিং প্রোমোট করে, পার্টনারদের মধ্যে বিশ্বাস, আস্থা গড়ে তোলে। বোরিং, বাট স্টেবল রিলেশন বজায় রাখে এই হরমোনটি (তাই cuddle hormone নামেও ডাকা হয় এটাকে)।

অক্সিটোসিনের আরেকটি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার - এটা "ওরগ্যাযম" প্রোমোট করে। লিবিডো বাড়িয়ে দেয়। অলরেডী অক্সিটোসিন ন্যাসাল স্প্রে-র ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে - দিনে ২ বার স্প্রে নিলে নাকি ভায়াগ্রার চাইতেও ব্লকবাস্টার এফেক্ট পাওয়া যায় tongue (এবং সাইড-এফেক্টও নেই) সম্ভবত: অল্পদিনেই অক্সিটোসিন স্প্রে বাজারে চলে আসবে...

এছাড়া আরো কিছু হরমোন আছে... যেমন প্রোল্যাক্টিন হরমোন - এটাও বন্ডিং, রিলেশন শীপে ভূমিকা রাখে (মূলত: মা-শিশুর গভীর বন্ধন মেনটেন করে অক্সিটোসিন-প্রোল্যাক্টিন হরমোন দু'টো)

এখানে অবশ্য হরমোনগুলোর শুধুমাত্র সোশাল এবং সেক্সুয়াল এ্যাসপেক্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে হরমোনগুলোর প্রভাব এগুলোতেই সীমাবদ্ধ না - পা থেকে মাথা পর্যন্ত প্রায় সব শারীরবৃত্তীয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক ভূমিকা আছে এদের।

মানুষ (এবং অন্যান্য এ্যানিমেল) যে একটি খুব কম্পলিকেটেড, খুব সফিস্টিকেটেড, উঁচু দরের "বায়ো-রোবট" তা বোঝা যায় এসব কেমিকেল থেকে। যথাযথ কমান্ড দিয়ে রোবোটকে যা ইচ্ছা করানো যায়। একজন সিভিয়ারলী ড্রাগ-এ্যাডিক্টেড মানুষকে দিয়েও যেকোনো ঘৃণ্য পাপ কাজ করানো যায় সহজে; চুরি-চামারী, প্রস্টিটিউশন এমনকি হত্যা-খুন - যদি আপনার হাতে থাকে বিশেষ কিছু প্রোটিন মলিকিউল।  neutral

অন্যদিকে পী/অক্সিটোসিন/প্রোল্যাক্টিন ইত্যাদি হরমোন রিমুভ করুন - একশ ঐশ্বরিয়া, দুইশ ক্যাট্রিনা, তিনশ ব্র্যাড পিট এনে আপনার সাথে জোড়া লাগিয়ে দিলেও কিচ্ছু হবে না। নাথিং।  hmm

অক্সিটোসিন/প্রোলাক্টিন লেভেলের কমতি হলে এ ধরণের ঘটনাও ঘটতে পারে।

সাইন্সের এই reductionist ব্যাপারস্যাপারগুলো অবশ্য অনেকের ভালো লাগবে না... সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত থেকে অন্য সব এ্যানিমেলের মত গ্লোরীফাইড বায়ো-ফীডব্যাক মেশিনে টেনে নামানো হজম নাও হতে পারে।  roll

যাকগে, এ্যাডিকশন অর নো-এ্যাডিকশন... আমরা বেশিরভাগ মানুষই কিছু না কিছু ইল্যুশনে মজে থাকতে পছন্দ করি। tongue

পিএস: ব্রেন্ট স্টার্টনের নীচের ছবিটি এই বছর বৃটিশ ফটোজার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড জিতেছে। এক রাশান সিভিয়ারলী ড্রাগ-এ্যাডিক্টেড, সিংগল মাদার এবং প্রসটিটিউটের পোর্ট্রেট:
আপডেট: ছবিটি কিন্চিৎ খোলামেলা হলেও অশ্লীল না - তবে বেশ শকিং, এবং প্যাথেটিক। তাই এমবেড না করে ফটোটির লিংক দিলাম (ওয়ার্নিং: ডিস্টারবিং ইমেজ)
ফটোটি আমার কাছে ড্রাগ এ্যাডিকশনের আল্টিমেট প্রাইস বিষয়ে সিম্বোলিক ইমেজ মনে হয়েছিলো... a picture can say a thousand words...

Calm... like a bomb.

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

দারুণ! যা দেওয়ার ওখানেই দিয়ে দিছিলাম।  wink

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

অসাধারন টপিক।

অঃটঃ ভাই, আপনি এত বিষয়ে পড়াশুনার সময় পান কই? আমি তো যাই করতে যাই, দেখি সময় নাই।

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

অসাধারন টপিক। মস্তিষ্ক বিষয়ক অনেক জ্ঞান লাভ করলাম।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

এন্টেনার উপর দিয়া গেলো...

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১৩-১১-২০১২ ২১:১৫)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

invarbrass লিখেছেন:

ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার প্রোটিন - এটাকে ডাকা হয় reward (পুরস্কার) প্রোটিন নামেও

আমি জানতাম এই কাজটা করে সেরোটোনিন  worried এতোদিনে ডোপ শব্দটার মর্ম জানা হল  tongue

এসব বিষয়ে বেশী জানলে সবকিছু সাদা মাটা হয়ে যায়। নিওকর্টেক্সের কতৃত্য যত সীমিত থাকবে আদিম আনন্দ উপভোগ তত বেশী উপভোগ করা যাবে। মেট্রিক্সের সাইফারে উক্তিটা নিশ্চই মনে আছে

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

সদস্য_১ লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার প্রোটিন - এটাকে ডাকা হয় reward (পুরস্কার) প্রোটিন নামেও

আমি জানতাম এই কাজটা করে সেরোটোনিন  worried এতোদিনে ডোপ শব্দটার মর্ম জানা হল  tongue

এসব বিষয়ে বেশী জানলে সবকিছু সাদা মাটা হয়ে যায়। নিওকর্টেক্সের কতৃত্য যত সীমিত থাকবে আদিম আনন্দ উপভোগ তত বেশী উপভোগ করা যাবে। মেট্রিক্সের সাইফারে উক্তিটা নিশ্চই মনে আছে

সেরোটোনিন মূলত: মুড রেগুলেশন, মেমরী/লার্নিং, ক্ষিধে, হজম, ঘুম এসব রেগুলেট করে। ডোপামিনও সেরোটোনিনের প্রায় সব কাজই করে - এবং আরো অনেক এক্সট্রা ডিউটি পালন করে। ডোপামিন পিওরলী ব্রেন কেমিকেল। মজার ব্যাপার - সেরোটোনিনের ৮০-৯০%-ই থাকে GI ট্র্যাক্ট বা পরিপাক তন্ত্রে।

ঠিকই ধরেছেন - সেরোটোনিন বাদ পড়ে গেছিলো। দু'টো নিউরোট্রান্সমিটারই "হ্যাপিনেস" প্রোমোট করে। হেরোইন, কোকেন ডোপামিন বুস্ট করে, আর এলএসডি, mdma, সিলাসাইবিন (ম্যাজিক মাশরুম) সেরোটোনিন লেভেল বাড়ায়।

Calm... like a bomb.

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

কোলেস্টরল টাও বেশ কাজের জিনিষ। কিন্তু এটা কি হরমোন না অন্য কিছু তা বলতে পারছি না। যতদুর জানি কাজে উদ্দীপনা যোগায়। কারও "তেল" বেশি মানে আসলে তার কোলেস্টরল বেশি। ইনভার ভাই  বিস্তারিত বলতে পারবেন।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (১৩-১১-২০১২ ২৩:০৭)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

দুইটা পার্ট নিয়েই বিশাল কমেন্ট করতে মন চাচ্ছে। এরকম মিটি পোস্ট আরো চাই ব্রেইণ রিলেটেড। দেখি আমিও সময় পেলে হালকা পাতলা কন্ট্রিবিউট করবো। ভাবছি নিউরোলজী নিয়া রিসার্চ করলে কেমন হয়!

ইনভার ভাই একটা অতি জঘণ্য ডোপামিন Mimicking/provoking ড্রাগ বাদ দিয়েছেন। সেটা হলো মেথ। এই মেথের মতো জঘণ্য ব্রেইণ এফেক্টিং ড্রাগ মনে হয় না আর পৃথিবীতে আছে। এটা নিয়া বিশাল একটা টপিকও লেখছিলাম কোনো কারণে টপিক টা আর পোস্ট করা হয় নাই। মেথ আসলে ব্রেইণে ডোপামিনের যে ফ্লাড ঘটায় সেই ফ্লাডে টানা ২ দিন ফিলিংসে থাকে মানুষ। এই বিশ্রী প্রকৃতির ড্রাগ প্রতিরোধ করার জন্য কতো কিছু করছে ডি,টি,এ কিন্তু কে শুনে কার কথা জায়গায় জায়গায় ব্যংগের ছাতার মতো মানুষ মেথ ল্যব বানাইতেছে। এমন একটা ড্রাগ এত সহজে উৎপাদন করা যায় ভাবতেও অসহ্য লাগে।  ghusi

যাই হোক আমি আসলে এম,এইচ,সি প্রোটিণের ব্যাপারে একটু জানতে চাইছিলাম আপনি মনে হয় মিস করে গেছেন।  Mesmerizing/intoxicating স্মেলের আইডিয়া আর কি যেখান থেকে এসেছে।

আমাদের শরীরে দুই ধরণের এম,এইচ,সি প্রোটিণ আছে

MHC I & MHC II

বলতে গেলে এই প্রোটিণের কাজ খুবই সোজা। এরাই মূলত আমাদের শরীরের "Self" ভার্সাস "Non-self" আইডেনিটির মধ্যে সীলমোহর বসায় বলতে পারেন। আরেকটু বিস্তারিত বলতে গেলে। আমাদের শরীরের প্রত্যেকটা মলিকিউলের এমন একটা জেনেটিক বৈশিষ্ট্য থাকে যেটার কারণে আমরা বুঝতে পারি যে এটা শুধু আমার শরীরের অংশ। আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে কার্যক্ষম রাখার জন্য এর বৈশিষ্ট্য বলে শেষ করার মতো না। শুধু একবার ভাবুন কি হতো যদি একটা ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া মলিকিউলকে যদি নিজের বন্ধু বলে আমরা শরীরের ভিতর ইমব্রেইস করে নিতাম। এখানে উল্লেখ্য যে আমাদের শরীরে ডেইলি ওয়ার্ল্ড ওয়ার এক থেকে শুরু করে দশ পর্যন্ত সব চলতে থাকে যা আমরা টের পাইনা। এই ইনভলন্টারী যুদ্ধে আমরা নিহত করি কোটি কোটি শত্রূ। যারা কোনো মতে আমাদের শরীরে বংশবৃদ্ধি করতে পারলে ক্যান্সার থেকে শুরু করে ভয়াবহ যে কোনো রোগ আমাদের খুব সহজেই এটাক করতে পারে। যাই হোক আসল কথা হলো এই যে আমাদের পুরো একটা ন্যাচরাল এবং ভয়ংকর এফিশিয়েন্ট একটা ইমিউন সিস্টেম সেই সিস্টেমে MHC প্রোটিণ হলো একটা হটডগ বান। যেটা নিজের মধ্যে টার্কি, হ্যম, চিকেন সসেজ রেখে বাকিদের প্রদর্শন করে "লুক হোয়াট আই ফাউন্ড"। এর মধ্যে ফরেন কাউকে প্রদর্শন করলেই হইছে আমাদের ইমিউন সিস্টেম সাথে সাথে একটিভেট হয়ে যায় এবং তার কাজ শুরু করে।

এই MHC প্রোটিণের ঘোরাফেরা আমাদের সেবাশিয়াস গ্ল্যন্ড বা ঘর্মগ্রন্থিতেও। সুতরাং, কারও ঘামের গন্ধের মাধ্যমে বা শরীরের গন্ধের মাধ্যমে আমরা অনেকটাই তার আইডেনিটি আন্দাজ করতে পারি। জেনেটিক্যলী, আমাদের টেন্ডেন্সি হলো ডিফরেন্ট MHC প্রোটিণ বাহী লোকদের প্রতি আকর্ষণ প্রদর্শন করা। এজন্য আমরা আমাদের টাইপ MHC প্রোটিণ বাহীদের সাথে এক ধরণের সম্পর্ক মেইনটেইন করি এবং ডিফরেন্ট MHC প্রোটিণ বাহীদের সাথে আরেক ধরণের। ইউজুয়ালী আমাদের ফ্যমিলি বন্ড বা ফ্যমিলি রিলেটেড যাদের কাছে আমরা সিকিউর ফিল করি যে কোনো সিচুয়েশনে এর অন্যতম কারণ এই প্রোটিণ।

একইভাবে আমাদের ভালোবাসার কেমিস্ট্রিতেও আমরা পছন্দ করি ডিফরেন্ট MHC প্রোটিণ বাহীদের এটা হলো ভিন্ন ধরণের এট্রাকশন  wink এজন্য কারো সাথে দেখা হলে আমাদের মনে হয় কি যেন পরিচিত ঠেকছে এই মেয়েটার ব্যাপারে (ছেলে পার্সপেক্টিভে বলছি)। এবং এভাবেই আস্তে আস্তে আমাদের ট্রাস্ট গড়ে উঠে একটা ফিলিংসের মাধ্যমে এবং কেমিস্ট্রি আরো দৃঢ় হয়। রিসার্চে পাওয়া গেছে যে এরেনজ ম্যরেজে সফলতার root আছে এর অবদান...যত diverse দুইজনের MHC তত স্ট্রং তাদের বন্ড। আরেক রিসার্চে ছেলেদের ঘামের গন্ধ শুকে এক দল মেয়েকে তাদের চ্যুজ করতে বলা হয়  tongue_smile সেখানেও অনেকটা প্রমাণিত হয় এর বিশেষত্ব। এমনকি স্ট্রিপ ক্লাবেও ছেলেরা বেছে বেছে lap-dance নেয় এবং যার থেকে নেয় ঘুরে ফিরে তার থেকেই বার বার নেবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় যদিও তার সাথে আরো অনেক অপশনস একই সময়ে বিদ্যমান থাকে  tongue

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

নিউক্লিয়াস একুবেন্স কি হাপ্রোথালামাসের কি কোন সম্পর্ক আছে কি?মানুষ কখন বায়ো রোবট,ক্রিতৃমভাবে ঐ ক্যামিক্যালের এদিক সেদিক করিয়ে রোবটের মতো নিয়ন্ত্রন করা যাবে,বিষয়টা কি এমন?

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

১১

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

ইনভার ভাই একটা অতি জঘণ্য ডোপামিন Mimicking/provoking ড্রাগ বাদ দিয়েছেন। সেটা হলো মেথ।

lol
এই সপ্তাহে Breaking Bad দেখা শুরু করলাম.. এর আগে মেথ এর নামও শুনিনি। ইষ্টে এটার প্রকোপ বোধহয় কম!

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৪-১১-২০১২ ১১:০১)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

@মুজতবা: ধন্যবাদ ইনফরমেটিভ বিশাল পোস্টের জন্য!  thumbs_up  ইমিউনোলজী পড়ার সময় MHC ঠোটস্থ মুখস্থ করতে হয়েছিলো  hairpull
তবে ইম্যুনোগ্লোবিউলিনগুলো যে সোশাল বন্ডিং-ও মিডিয়েট করে এটা এই প্রথম জানলাম! লং (এবং শর্ট) টার্ম রিলেশনশীপে MHC-র ভূমিকা আসলেই আশ্চর্য্যজনক!

হিস্টোকম্প্যাটিবিলিটি প্রোটিন সম্ভবত: ৩ ধরণের  thinking ক্লাস ৩ MHC সম্ভবত: ১ আর ২-র মতই।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

ইনভার ভাই একটা অতি জঘণ্য ডোপামিন Mimicking/provoking ড্রাগ বাদ দিয়েছেন। সেটা হলো মেথ।

তা বটে। মেথ বাদ পড়াটা অন্যায় হয়েছে। মেথ্যামফেটামিনের ফার্মাকলজী সম্পর্কে আইডিয়া কম - তবে এটা সম্ভবত: ডোপামিন, সেরোটোনিন, নরএ্যাড্রিনালিন ইত্যাদি সব নিউরোট্রান্সমিটারকে এফেক্ট করে - তাই এর এফিকেসী খুব বেশি।

সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ আছে। মেথ সম্ভবত: প্রথম বানিয়েছিলো জাপানীজরা। ২য় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসী সোলজাররা ব্যাপকহারে মেথ্যামফেটামিন ব্যবহার করতো। ইন ফ্যাক্ট, হিটলার নিজেও মেথ নিতেন। এমনকি জার্মানদের দেখাদেখি বৃটিশ সৈণ্যরাও মেথ ইউজ করতো। মেথ্যামফেটামিন নিলে টানা কয়েকদিন না ঘুমিয়ে কাটানো যায়, ফ্যাটিগ/ক্লান্তি থাকে না, মনোযোগও বৃদ্ধি পায়। এসব সুবিধার কারণে যুদ্ধ শেষ হবার পরে বিভিন্ন স্ট্রেসফুল পেশার লোকেরা যেমন মেডিকেল, ল, এন্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টরা ব্যবহার করতো। তবে পরে রিসার্চে বেরিয়ে আসে মেথের লং-টার্ম খারাপ ইফেক্ট।

সদস্য_১ লিখেছেন:

lol
এই সপ্তাহে Breaking Bad দেখা শুরু করলাম.. এর আগে মেথ এর নামও শুনিনি। ইষ্টে এটার প্রকোপ বোধহয় কম!

শুনেছেন ঠিকই। মেথ্যাম্ফিটামিন বা মেথ-এর আরো কিছু স্ট্রীট নেম হলো স্পীড, কৃস্টাল, এ্যাম্প, ইউফোরিয়া ইত্যাদি (এখানে বিরাট লিস্টি আছে)। এসপেশালী স্পীড, কৃস্টাল নামগুলো তো বেশ কয়েক দশক ধরেই পপুলার। ৯০-র বেশ কিছু ফিল্মে স্পীডের রেফারেন্স পেয়েছিলাম... গ্রে'য এ্যানাটমী (নামটা সঠিক কিনা মনে পড়ছে না) নামে একটা মুভি ছিলো - একজন ফাঁকিবাজ মেডিকেল স্টুডেন্ট নিয়ে কাহিনী, মূল চরিত্রের এক হাই-এ্যাচীভিং ক্লাসমেট শেষমেষ ইউনিভার্সিটি থেকেই এক্সপেলড হয় কারণ সে মেথ ইউজ করে সারাদিন পড়াশোনা করতো.... মুন্নাভাই এমবিবিএস, ৩ ইডিয়টসের কাহিনীর অংশবিশেষ এই মুভি থেকে নিয়েছিলো....

বাংলাদেশের মানুষও মেথের সাথে বহুল পরিচিত - কুখ্যাত "ইয়া-বা" হলো মেথ্যাম্ফিটামিণ + ক্যাফেন মিক্সচারের থাই নাম।

মেডিকেল ফিল্ডে মেথ বেশ কমনলী ব্যবহার করা হয়। আমেরিকায় এডিএইচডি, ওবেসিটির ট্রীটমেন্টে মেথ্যামফেটামিন ইউজ করে। সর্দিকাশির নেসাল স্প্রে-তেও মেথ থাকে, এ্যাযমার জন্য একটা ইনহেলারেও মেথ্যামফেটামিন ব্যবহার করে। তবে ওষুধে অবশ্য মেথ্যামফেটামিনের নন-এ্যাডিক্টিভ ফর্ম ব্যবহার করে।

মেথ ম্যানুফেকচার করা তূলনামূলকভাবে সহজ। কৃষকদের ব্যবহৃত এ্যামোনিয়া ফার্টিলাইজার থেকে নাকি সহজেই মেথ তৈরী করা যায়, ছোটোখাটো কেমিস্ট্রি ল্যাবেই নাকি মেথ তৈরী করা যায়....

কোলেস্টরল টাও বেশ কাজের জিনিষ। কিন্তু এটা কি হরমোন না অন্য কিছু তা বলতে পারছি না। যতদুর জানি কাজে উদ্দীপনা যোগায়। কারও "তেল" বেশি মানে আসলে তার কোলেস্টরল বেশি। ইনভার ভাই  বিস্তারিত বলতে পারবেন।

মুডের ওপর কোলেস্টেরলের প্রভাব সম্পর্কে জানিনা। তবে এইচডিএল কোলেস্টেরল ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

এছাড়া দুই ধরণের EFA (essential fatty acid) আছে - এগুলো মানবদেহে তৈরী হয় না। খাবার (বাদাম, তেল, সব্জী) থেকে সংগ্রহ করতে হয়। EFA-র অভাব হলে শরীরে প্রচুর সমস্যা হয়। এর মধ্যে কিছু সাইকোলজীকাল সিম্পটম হলো: ডিপ্রেশন, সুইসাইডাল টেনডেন্সী ইত্যাদি। ভিটামিন এফ, Omega-3, Omega-6 ফ্যাটী এ্যাসিডের জেলাটিন ক্যাপসুল লাজ ফার্মা জাতীয় বড় ফার্মেসীর দোকান এবং সুপারমার্কেটে পাবেন।

Calm... like a bomb.

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (১৪-১১-২০১২ ১১:০২)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

সদস্য_১ লিখেছেন:
আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

ইনভার ভাই একটা অতি জঘণ্য ডোপামিন Mimicking/provoking ড্রাগ বাদ দিয়েছেন। সেটা হলো মেথ।

lol
এই সপ্তাহে Breaking Bad দেখা শুরু করলাম.. এর আগে মেথ এর নামও শুনিনি। ইষ্টে এটার প্রকোপ বোধহয় কম!

  ঠিক বলেছেন ওড়্যগন সহ ঐ সাইডের স্টেইট গুলাতে এর প্রকোপ অনেক অনেক বেশী..  neutral তবে ইষ্টে এসিড, মলি এগুলা মনে হয় মেথের মত ইউজড হয়।

ইনভার ভাই, ইয়েস ট্রু দ্যট। মেথ শুধু ডোপামিন রিলিজ ম্যনিপুলেট করে অলমোস্ট ১২ টাইমস বাড়ায় দেয়। এজন্য একবার নেয়া মানেই  ghusi

হুম পিবিএস এর ডকুমেন্টরীতে তাই দেখেছিলাম যে এশিয়াতে মেথের ট্যবলেট ভার্সন কিভাবে সেক্স পেশায় জড়িত লোকজন দ্বারা ব্যপক ভাবে ইউজড হয়। টেরিবল! আর আমাদের দেশের ইয়াবার মার্কেট তো মনে হয় দিনে দিনে ফুলে উঠছে। কোনো উদ্যোগেই এইসব সিরিয়াস ড্রাগ বন্ধ করতে পারছে না। আমার মনে আগামী কয়েক বছরে এক্সপনেনশ্যলী বেড়ে যাবে।

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মামুন.pb (১৪-১১-২০১২ ১৫:২৬)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

সম্ভবত এনডরফিনের বিষয়টা বাদ পড়েছে।নিউক্লিয়াস একুবেন্স কি হাইপ্রোথালামাসের কি কোন সম্পর্ক আছে কি এবং nucleus accumbens কি হাইপ্রোথেলামাসের অংশ?

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

১৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৪-১১-২০১২ ২০:০৮)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

মামুন.pb লিখেছেন:

সম্ভবত এনডরফিনের বিষয়টা বাদ পড়েছে।নিউক্লিয়াস একুবেন্স কি হাইপ্রোথালামাসের কি কোন সম্পর্ক আছে কি এবং nucleus accumbens কি হাইপ্রোথেলামাসের অংশ?

এন্ডরফিন মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে তৈরী হয়। এন্ডরফিন শারীরিক ব্যাথা-অনুভূতি দমন করে। এছাড়া ইউফোরিয়া টাইপ সেনসেশন জাগিয়ে তোলে। এন্ডরফিন কৃত্রিম ভার্সন হলো মরফিন। এক সময় মরফিনও এ্যাবিউজ করা হতো। আমাদের দেশে ক্যান্সার, এ্যাক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য কষ্টদায়ক রোগের রোগীদের প্রচন্ড যন্ত্রণা লাঘব করার জন্য মরফিন ব্যবহার হয়। মরফিন ডোজিং করা একটু ঝামেলার কাজ অবশ্য - রুগী এ্যাডিক্টেড হয়ে যায়...  neutral

এ্যাকামবেন্স নিউক্লিয়াস (nacc) হাইপোথালামাস বা এ্যামীগডালার অংশ না - তবে সবগুলো স্ট্রাকচারই খুব কাছাকাছি। ছবি দেখলে পরিষ্কার হবে:
হাইপোথ্যালামাস:
http://i.imgur.com/HOxBY.jpg
নিউক্লিয়াস এ্যাকাম্বেন্স:
http://i.imgur.com/DMPO7.jpg

এ্যাকচুয়াল fMRI স্ক্যান:
http://i.imgur.com/UU0ik.jpg
স্ক্যানটা হার্ডকোর গ্যাম্বলার, ড্রাগ এ্যাবিউজার (এবং অন্যান্য এ্যাডিক্টদের) ব্রেন থেকে। এ্যাডিকশনের কাজটি (ড্রাগস, গ্যাম্বলিং, ড্রিংকিং ইত্যাদি) করতে দেওয়ার পরপরই ব্রেন স্ক্যান করা হয়েছে। দেখুন ঐ এ্যাডিকটিভ কাজটি করার পর nacc জোরালোভাবে এ্যাক্টিভেট হয়েছে - ব্যক্তিটির ব্রেনের রিওয়ার্ড সেন্টার তাকে আনন্দ দিচ্ছে।

এটা একজন সাইকোপ্যাথ (সিরিয়াল রেপিস্ট/কিলার)-এর ব্রেইন স্ক্যান:
http://i.imgur.com/meN58.jpg
মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।  donttell

মানুষ কখন বায়ো রোবট,ক্রিতৃমভাবে ঐ ক্যামিক্যালের এদিক সেদিক করিয়ে রোবটের মতো নিয়ন্ত্রন করা যাবে,বিষয়টা কি এমন?

হ্যাঁ, করা যায়। ব্রেনে সরাসরি লো ভোল্টেজের ইলেক্ট্রিক ইমপাল্স পাঠিয়ে অনেক কিছুই করা যায়।

এথিকাল এবং মেডিকো-লীগাল ইস্যুর কারণে হিউম্যান ব্রেন নিয়ে গবেষণা হয় না। তবে ঈঁদুর, গিনিপিগদের উপরে প্রচুর সাইবারনেটিক্স রিসার্চ হচ্ছে। নীচে র্যাট ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস:
http://i.imgur.com/YkbZj.jpg
http://i.imgur.com/dsZ7A.jpg
কম্পিউটারে জয়স্টিক ঘুরিয়ে ঈদুঁরগুলোর মুভমেন্ট ইচ্ছামত কন্ট্রোল করতে পারেন গবেষকরা। ইদুঁরটি হয়তো ডানে যেতে চায়, রিসার্চাররা যথাযথ জায়গায় ইলেক্ট্রিসিটি বার্স্ট করে তাকে বাম দিকে যেতে বাধ্য করেন - এবং সম্ভবত: ইদুঁরটি নিজেও পরিবর্তনটা টের পায় না। ভাবুন, ঐ ব্রেইন-মেশিনটা যদি মানুষের মাথায় লাগানো হয়...

লাগানো হয়েছে অবশ্য....

ড: মাইকেল পারসিংগারের কাজগুলো আমার কাছে ভীষণ ইন্টারেস্টিং লাগে। "গড হেলমেট" নামে একটি এক্সপেরিমেন্টাল ডিভাইস তিনি তৈরী করেছিলেন কয়েক বছর আগে। হেলমেটটিতে ইলেক্ট্রোড লাগানো আছে - কর্টেক্সের কিছু নির্দিষ্ট অন্চলে ইলেকট্রিক ইমপাল্স পাঠায় হেলমেটটা। হেলমেটটা পরলে একটা স্পিরিচুয়াল অনুভূতি হয় বেশিরভাগ মানুষেরই। যারা ধার্মিক, তারা ঈশ্বরের অনুভূতি ফীল করেন রূমের মধ্যে। বুদ্ধিস্ট মংকরা কোনো সুপারন্যাচারাল সত্বার প্রেজেন্স অনুভব করেন। এমনকি এ্যাথিইস্টরাও একটা স্পিরিচুয়াল অনুভূতি অনুভব করেন (ব্যতিক্রম: রিচার্ড ডকিন্স  tongue )

এছাড়া একটা নতুন কেমিকেল নিয়ে বেশ কিছু ডকুমেন্টারী দেখলাম - এক ক্যানাডিয়ান গবেষক একটা ড্রাগ পেয়েছেন যেটা মেমরী ইরেজ করতে পারে। তবে ড্রাগটা সম্ভবত: কোনো কালেই আলোর মুখ দেখবে না - প্রচন্ড রকমের বিতর্কিত ড্রাগ। প্রিয়জনের মৃত্যু বা কোনো ভয়ানক দুর্ঘটনার পর পেইনফুল মেমরীর সাথে কিভাবে কোপ করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন - ওটা করতে গিয়েই কেমিকেলটা আবিষ্কার করেন।

Calm... like a bomb.

১৬

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

এহেম!ব্রাসু ভাই দেখি আমাকে লাইমলাইটে এনে দিলেন।ঐ প্রশ্নটা কিন্তু আসলে শামীম ভাইয়ের।লেখার জন্য। thumbs_up

seeming is being

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (১৫-১১-২০১২ ০৪:৩৪)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

টপিকের শিরোনাম ব্রেইণ করে দেয়া হোক "ব্রেণ" পড়তে অকওয়ার্ড লাগছে

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

মেথ নিয়ে একটা ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম ডিসকভারী চ্যানেলে। ডকুমেন্টারীর শুরুই নিচের লাইনগুলো দিয়ে

আমরা প্রায়সই শুনি এক লোক ৪০/৫০ বছর ধরে হুইট সেবন করছে বা এক ৩০/৩৫ বছর ধরে এলকোহলিক কিন্তু কখনো শুনি না একজন লোক ১০ বছর ধরে মেথ সেবন করছে। কারন কেউ ১০ বছর মেথ সেবন করতে পারবে না, তার আগেই মারা যাবে।

কোন একটা বইয়ে যেন পড়েছিলাম, ইয়াবা হচ্ছে ক্রিস্টাল মেথ। এ তথ্যের সত্যতা কতটুকু?

১৯

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

আগন্তুক মিলন লিখেছেন:

মেথ নিয়ে একটা ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম ডিসকভারী চ্যানেলে। ডকুমেন্টারীর শুরুই নিচের লাইনগুলো দিয়ে

আমরা প্রায়সই শুনি এক লোক ৪০/৫০ বছর ধরে হুইট সেবন করছে বা এক ৩০/৩৫ বছর ধরে এলকোহলিক কিন্তু কখনো শুনি না একজন লোক ১০ বছর ধরে মেথ সেবন করছে। কারন কেউ ১০ বছর মেথ সেবন করতে পারবে না, তার আগেই মারা যাবে।

কোন একটা বইয়ে যেন পড়েছিলাম, ইয়াবা হচ্ছে ক্রিস্টাল মেথ। এ তথ্যের সত্যতা কতটুকু?

 

হুইট দিয়ে যদি ম্যরিউয়ানা বুঝিয়ে থাকেন তাহলে বলতে হবে এটা আসলে হার্ড ড্রাগের ক্যাটাগরীতে যায় না। সবাই টুকটাক উইডের সাথে জড়িত একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। না ইয়াবা ক্রিস্টাল মেথ না। ইন ফ্যক্ট ইয়াবার পুরোটা মেথও না। এখানে আরো কিছু ডিফরেন্ট স্টিমুলেটর থাকে ব্রাশু ভাই যা বলেছেন। ক্রিস্টাল মেথ হলো বেইসিকলী ম্যক্সিকান স্টাফ। আমেরিকান ল্যবগুলোতেও বেয়ারলী এটা তৈরী হয়  hmm

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রাব্বি হোসেন (১৫-১১-২০১২ ১৩:২৮)

Re: ব্রেইন কেমিস্ট্রি

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

আর আমাদের দেশের ইয়াবার মার্কেট তো মনে হয় দিনে দিনে ফুলে উঠছে। কোনো উদ্যোগেই এইসব সিরিয়াস ড্রাগ বন্ধ করতে পারছে না। আমার মনে আগামী কয়েক বছরে এক্সপনেনশ্যলী বেড়ে যাবে।

ইয়াবার ব্যাবহার আমাদের দেশে চরম আকারে বেড়ে উঠছে। আমার পাশের বাসার ক্লাস এইট / নাইনে পড়া ছেলেটা এই ইয়াবায় এডিক্টেড। এই কারনে তার ভাই এখন তাকে ঘর থেকে বের হতেই দেয়না । ছেলেটা চরম আকারে ব্রিলিয়ান্ট ছিল। neutral

রাব্বি হোসেন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত