সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৫-১০-২০১২ ১২:৩৬)

টপিকঃ বাবুল আক্তার

ফেইসবুকে পেলাম এটা.... গত জুলাই/আগস্টে কেউ একজন লিখেছিলেন মেয়েলী নামের এক সাহসী রিয়েল লাইফ হিরোকে নিয়ে:

সময়টা ২০০৮ সালের মার্চ কিংবা এপ্রিলের কোন এক মধ্য দুপুর। অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টিংয়ের কারণে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের ফোন নম্বরগুলো ফোনবুকে সংরক্ষিত থাকে। হঠাৎ করেই ফোন আসে সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনারের সরকারী নম্বর থেকে। আমার জানামতে ঐ পদে কর্তব্যরত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক কিছুদিন আগে বদলী হয়েছেন এবং গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার আশিকুল
হক ভূঁইয়া বাড়তি দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফোন রিসিভ করেই তাই বললাম,“কী খবর আশিক ভাই, কিছু আছে নাকি?” ওপ্রান্তে অপরিচিত কণ্ঠ – “দাদা আমি আশিক নই, আমার নাম বাবুল আক্তার।কোতোয়ালীতে নতুন জয়েন করেছি।”
বাবুল আক্তার ! নামটা কেমন জানি গেঁয়ো টাইপের। তাছাড়া যেচে ফোন করলেন আমাকে। একটু অবাক আমি। কী চায় লোকটা? তবু একটু খুশি হওয়ার ভাব দেখিয়ে জানতে চাইলাম ফোন করার কারণ।

তিনি বললেন, “দাদা, আমি যেখানেই যাই, সাংবাদিকদের সাথে সম্পর্ক রেখে আমি কাজ করতে পছন্দ করি। কারণ আমাদের কাজ আর আপনাদের কাজ তো একই। আপনাদের কাছে অনেক খবর থাকে, যা পুলিশকে সাধারণত: দিতে চায় না পাবলিক। কয়েকদিন হলো আমি এখানে জয়েন করেছি। এ ক’দিন সাংবাদিকদের সম্পর্কে কিছু খবরাখবর নিয়েছি। শুনলাম আপনার কথা। আপনার দুটো লেখাও আমি পড়েছি। তাই ফোন দিলাম। এখানে যদ্দিন আছি, আপনার সাথে একটা সম্পর্ক রেখে কাজ করতে চাই।”
ফোন করায় যতটুকু অবাক হয়েছিলাম, তার পরের কথাগুলো শুনে সন্দেহ হলো। মানুষ তো তেমন সুবিধার নন। জয়েন করেই সাংবাদিককে ফোন করে সম্পর্ক রাখার কথা বলছে। তার মানে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা। নামটাও কেমন গেঁয়ো। সব মিলে তো মনে হচ্ছে বেশ সামারিবাজ অফিসার। এরপর আরো টুকটাক কথা বলে চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে তিনি লাইন কেটে দিলেন।

তার সম্পর্কে আরো খোঁজ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। দুই একজনের কাছে জানতে চাইলেও তারা ঠিক বলতে পারছেন না বাবুল আক্তার মানুষটা কেমন। সন্দেহটা আরো গাঢ় হলো। যা ভেবেছি ঠিক তাই। লোক তেমন সুবিধের নয়। তার সাথে আরো কয়েকবার ফোনে কথা হয়। প্রতিবারই অনুরোধ করেন থানায় চা খেতে যাওয়ার। যাওয়া হয়নি।

সপ্তাহখানেক পরের কথা। জামালখান মোড়ে একদল ছিনতাইকারী ছিনতাই করে পাশের বড় ড্রেনে নেমে পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে পুলিশের টিম। কিন্তু মোবাইল টিম আসার আগেই সেখানে পৌঁছে যান বাবুল আক্তার। নিজেই নেমে পড়েন ময়লা আবর্জনাপূর্ণ ড্রেনে। ধাওয়া করেন তাদের বহুদূর। ঘটনাটা তখন নগরীতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমিও আন্দোলিত হই সংবাদটা পেয়ে। কারণ আমাদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায়, নালা নর্দমায় একটা পাঁচশ টাকার নোটও যদি পড়ে যায়, নিজে তুলি না; চারপাশে দেখতে থাকি, টোকাই শ্রেণীর কোন ছেলেকে পাওয়া যায় কিনা। প্রয়োজনে তাকে বিশ টাকার কড়কড়ে একটা নোট দিয়ে ঐ পাঁচশ টাকার নোটটা তুলে নিই। ভাবি, যে মানুষটা নির্দেশ দিলে তিন থানার ওসি (কোতোয়ালী জোনের অন্তর্ভুক্ত তিনটি থানা কোতোয়ালী, খুলশী ও বাকলিয়া) ঐ নালায় নামতে বাধ্য, সেখানে তার মতো একজন সিনিয়র অফিসার নালায় নেমে পড়েছেন কর্তব্যের খাতিরে! অনুমান করতে কষ্ট হলো না তার দায়িত্ববোধ সম্পর্কে। মনে মনে অনুতপ্ত হলাম, তার সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্ম নিয়েছিল বলে।

বাবুল ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা তারপর থেকেই। কখন যে সম্পর্কটা এতোটা অন্তরঙ্গ হয়ে পড়েছে, জানি না। সিএমপিতে থাকাকালীন বিষয়টা এমন হয়ে পড়েছিল যে নগরীতে যা-ই ঘটুক না কেন, তার রহস্য ভেদ থেকে পুরো গ্রুপটাকে পাকড়াও করা পর্যন্ত যা-ই হোক তা হতো বাবুল ভাইয়ের নেতৃত্বে। আর তিনি কোন আসামী ধরতে কোন অভিযানে যাচ্ছেন, অভিযানে সফলতা কতটুকু আসলো, তা জানার অধিকার আদায় করে নিয়েছিলাম আমিসহ চট্টগ্রামের আর দুই একজন সাংবাদিক। পরিচয় পর্ব থেকে ততদিনে আমরা দুজন হৃদ্যতার কাছাকাছি চলে এসেছিলাম। আমার সাথে তার অলিখিত একটা চুক্তি ছিল যে অপরাধীদের নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করার আগে বা পরে আমি তাদের সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাতে চাই। কারণ আমি দেখেছি পুলিশ সামনে থাকলে অপরাধীরা অনেক সময় মারের ভয়ে কিছু কথা স্বীকার করে আবার সহযোগীদের সম্পর্কে বলতেও দ্বিধা করে। কিন্তু তাদের সাথে একান্তে সময় কাটানো গেলে খবরের অন্তরালের অনেক খবরও বেরিয়ে আসে। বলা বাহুল্য বাবুল ভাই আমাকে সে সুযোগটুকু করে দিতেন।

বাবুল ভাই ছিলেন কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার। অর্থাৎ কোতোয়ালী জোনের আন্ডারে থাকা কোতোয়ালী, খুলশী ও বাকলিয়া থানার সমস্যা দেখভালের দায়িত্ব ছিল তার। কিন্তু দেখেছি যেখানেই সমস্যা সেখানেই বাবুল আক্তার। সিএমপির বারো থানাতো আছেই, এও দেখেছি, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি এসে ধর্ণা দিচ্ছে তার কাছে। দেখেছি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, সীতাকুন্ড, চকরিয়া, মহেশখালী, সন্দ্বীপ এমনকি বরিশাল, পিরোজপুর , সিলেটের দুর্ধর্ষসব অপরাধীকে গ্রেফতার করে তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে খবর দিচ্ছেন। তার একটাই কথা ছিল কে ধরেছে তা তো দাদা বড় কথা নয়, তার চেয়ে বড় হলো সে ধরা পড়ায় সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে আছে কিনা।

চট্টগ্রাম জেলায় ডাকা তের তান্ডবে ঘুমাতে পারছে না সাধারণ মানুষ । খলিল ডাকাত তার নাম। এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে বাচ্চারা না ঘুমালে খলিলের নাম বলে ভয় দেখানো হতো। তাকে ধরার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের রাতের ঘুম হারাম। কিন্তু না, খলিলের চতুরতার কাছে বারবার পরাস্ত হতে হচ্ছিল তাদের। কারণটা ছিল খলিল একটা মোবাইল সীম দুবার ব্যবহার করতো না। তাছাড়া যখন যেখানে যতোক্ষণে যাওয়ার কথা থাকতো তার এক মিনিট আগে বা পরে হতো না। যেখানে ডাকাতি করতে যাবে তার অন্ততঃ তিন চারদিন আগে নির্দিষ্ট বাড়ির আশপাশ রেকি করে ম্যাপ তৈরি করে ফেলতো আসবে কোনদিকে, যাবে কোনদিকে, পুলিশ আসতে কতো সময় লাগতে পারে ইত্যাদি। হাটহাজারীতে এক বিয়ে বাড়িতে এ ধরনের একটি ডাকাতির ঘটনার পর গৃহকর্তা বাবুল আক্তারের নাম শুনে ছুটে আসেন কোতোয়ালী থানায়। বাবুল ভাই রাজী হন। তারপরের ঘটনা চট্টগ্রামবাসীর নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা। ধরা পড়ে একে একে খলিলসহ তার গ্রুপের নয় সদস্য । খলিল নিজেও অবাক হয়ে যায়। কারণ সে কখনো কল্পনাও করে নি, তার ছোটখাটো কিছু ভুল বাবুল আক্তারের কাছে অস্ত্র হয়ে ধরা দিতে পারে। এটিই প্রথম কিংবা একমাত্র ঘটনা নয়। চট্টগ্রামে একপর্যায়ে ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, গাড়ি কিংবা মোটর সাইকেল চোর কেউই নগরীর কোতোয়ালী জোনে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু তাতে খুব যে তাদের সুবিধা হয়েছে তা বলা যাবে না। কারণ এরপর দেখা গেল যেখানেই অপরাধ সেখানেই বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে যেতেন বাবুল আক্তার।

তার সাথে অন্তরঙ্গভাবে মেশার সুযোগে দেখেছি, বাবুল ভাই অর্থ কিংবা উপঢৌকনের হাতছানি কত অবলীলায় উপেক্ষা করেছেন। টেরিবাজার ব্যবসায়ি সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মান্নান ভাইয়ের কাছে একটা গল্প শুনেছিলাম। তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরো বেড়ে গিয়েছিল সেটি শুনে। পর্দার কাপড় কিনতে ভাবীকে নিয়ে টেরিবাজার গেছেন বাবুল ভাই। দোকানদার কী করবে না কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। বাবুল ভাই পর্দার কাপড় দেখাতে বললেন। দোকানদার সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির পর্দার (গজ সাড়ে সাতশ টাকা) কাপড় দেখালেন। বাবুল ভাই হেসে তার সীমাবদ্ধতার কথা দোকানদারকে জানালেন। এও বললেন, এত দামী পর্দা কেনা মানে বেতনের পুরোটাই চলে যাবে। দোকানদার নাছোরবান্দা। তিনি এটাই দেবেন এবং টাকা নেবেন না। বাবুল ভাই নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। পরে দোকানদারের অনুরোধে তিনি পর্দার কাপড় নিলেন, তবে শর্ত একটাই কিস্তিতে পরিশোধ করে দেবেন এবং তা-ই করলেন তিনি।

জেলখানায় অপরাধীদের কাছে ‘বাবুল আক্তার’ নামটি আতঙ্কের প্রতিশব্দ। নতুন কেউ চট্টগ্রাম জেলখানায় ঢুকলে যদি জানা যেত যে সে বাবুল আক্তারের কাছে ধরা পড়েছে তবে বন্দীদের মধ্যে তার অন্যরকম কদর হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো তার হাতে ধরা পড়েছে, এমন অনেক আসামী জেল থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে তাকে সালাম করতে থানায় এসেছে। পরবর্তীতে তারাই তার সোর্সের ভূমিকা নিয়ে ধরিয়ে দিত অপরাধীদের।

তার উপর সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা আছে বলেই আমি মনে করি তিনি আজো বেঁচে আছেন। তাকে হাত দুয়েক সামনে থেকে গুলি করা হয়েছিল একবার । কিন্তু ট্রিগার চাপলেও গুলি আটকে যায়। দশ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার নাটক সাজিয়ে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদকের হাতে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু নাম গোপন করে এক ব্যক্তি তাকে আগে থেকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন বলে তিনি বেঁচে যান। চেষ্টা হয়েছিল তাকে দলীয় ক্যাডার পরিচয় দিয়ে সরকারের কাছে তার ইমেজ ক্ষুন্ন করার। তাও ব্যর্থ হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় ষড়যন্ত্রকারীরা। তাঁকে বদলী করা হয় হাটহাজারী রেঞ্জে। এ কথাও শোনা গিয়েছিল যে তার বদলীর সংবাদ পেয়ে জেলখানায় অপরাধীরা মিষ্টি মুখ করেছিলেন।

আমরা বিশেষ করে সাংবাদিকরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না, তার মতো একজন ক্ষুরধার চৌকষ কর্মকর্তার এমন করুণ পরিণতি। তিনি নির্বিকার। তার কথা , ‘আমাকে কোথায় দেবে, তা ডিপার্টমেন্টের ব্যাপার। আমি এখানে থাকলেও যা করতাম, যেখানে যাবো সেখানেও একই কাজ করবো। পুরো বাংলাদেশ আমার কাছে এক; কোন তফাৎ নেই।” চলে গেলেন তিনি হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হয়ে। সেখানেও তিনি পাল্টালেন না। ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’ কথাটার সার্থক রূপায়ন দেখেছি তার মধ্যে। হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও ভুজপুরের অনেকেই বাবুল ভাইয়ের জন্য মন্দিরে পূজো দেয়া, মানত করা কিংবা মসজিদে মিলাদ পড়াতে দেখেছি। দুর্ধর্ষ খলিল ডাকাত বাবুল ভাইয়ের হাতে ধরা পড়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন তাকে, যে তার এলাকায় খলিল ডাকাতি করে আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, তার সে চেষ্টার বাস্তবায়ন হয়নি। আর কখনো হবেও না। কারণ সে এখন জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে চলে গেছে ওপারে। তা অনুপস্থিতিতে মাথা চেড়ে উঠার চেষ্টা করেছিল আরেক দুর্ধর্ষ ডাকাত কাদের। কিন্তু বিধি বাম। তাকেও চলে যেতে হয়েছে খলিলের কাছে। এভাবে উত্তর চট্টগ্রামের ত্রাস খ্যাত ওসমান ওরফে কিলার ওসমান কিংবা শেয়াখতের অপরাধ জীবন থেমে গেছে তার কারণেই। এদের মৃত্যুর পর তাদের লাশ রাস্তায় গড়াগড়ি খেয়েছে, লাশের উপর থুথুর বৃষ্টি বয়েছে আর বাবুল ভাই সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিচ্ছেন একটু একটু করে। তারপরের বিষয় তো ইতিহাস। তার বদলীর কথা উঠলেই সাধারণ মানুষ দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, মানববন্ধন করে, আর পুলিশ বিভাগ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হন।

শুধুমাত্র অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়তো এমন আত্মার টান তিনি অনুভব করতে পারতেন না। তাঁর ভেতর মনুষ্যত্ববোধ ছিল বলেই তিনি এমন জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। দুটো উদাহরণ দিই। ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়াকালীন এক গরীব স্কুল ছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ কবে দেয় তার বাবা মা। অথচ সে ঐ স্কুলের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী। কী করা যায়? শিক্ষক বাবুল ভাইকে বিষয়টি জানান। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি এতটাই গরীব যে স্কুল ড্রেস সেলাই করার সামর্থ্য তার নেই, পাঠ্যপুস্তকসহ আনুষঙ্গিক খরচ তো দূরের কথা। বাবুল ভাই এলাকার দুজন বিত্তশালী ব্যবসায়িকে ডেকে বিষয়টি জানালেন। বাবুল আক্তার কোন একটা প্রয়োজনে তাদের ডেকেছেন, এটাই তাদের জন্য বড় ব্যাপার। দেখা গেল স্কুল ড্রেস সেলাই করে দেয়া শুধু নয়, এসএসসি পর্যন্ত তার লেখাপড়ার খরচ চালাতেও সানন্দে রাজী তাঁরা।

দ্বিতীয় ঘটনাটা বলি। হাটহাজারীতেই অর্থাভাবে চুরি করতো এক যুবক। ধরা পড়ার পর সে বাবুল ভাইকে খুলে বলে তার অপরাধ জীবনের আদ্যোপান্ত। বাবুল ভাই জেল থেকে মুক্ত হয়ে তার সাথে দেখা করতে বললেন। একদিন সে ঠিক হাজির হলো। বাবুল ভাই তাকে কিছু টাকা দিয়ে আখ মাড়াইয়ের মেশিন কিনে দেন একটা। যুবক থ। বুঝতে পারছে না, এটা আদৌ সম্ভব কিনা। প্রথম দিন সে দেড় হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছে। তা থেকে একটাকাও খরচ না করে নিয়ে এলো বাবুল ভাইয়ের কাছে। বললো, “স্যার আমার উপার্জনের প্রথম টাকা আপনার নিতেই হবে। বাবুল ভাই ফিরিয়ে দিলেন তাকে। ক’দিন পর আবার এলা সে। বলো “স্যার দাঁড়ানো অবস্থায় পা দেখা যায় এমন কোন ছবি পাইনি আপনার। আমি ক্যামেরাম্যান আনছি। একটা ছবি তুলতে দিয়েন। অতঃপর ছবি তোলা হলো। তার পরের কাহিনী …। যুবকটি বাবুল ভাইয়ের ছবিটা বাঁধিয়ে তার ঘরের দরোজার সামনে ঝুলিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন ব্যবসা শুরুর আগে ঐ ছবিতে বাবুল ভাইয়ের পায়ে সালাম করে ব্যবসা শুরু করে। এ ঘটনাটা যখন ভাবি, চোখে জল নেমে আসে। এ ধরনের মানুষের জন্য বিক্ষোভ হবে, সমাবেশ হবে, মানববন্ধন হবে; এটাতো খুব স্বাভাবিক। তার প্রথম দিককার দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা বলি।

২০০৭ সালের ১৮ মে। নরসিংদীর ভেলানগরে দেশ কাঁপানো একটি ঘটনা ঘটে। একই বাড়ির ৬ সদস্যকে কে বা কারা খুন করে। ঘটনার ৪ দিন পর লাশের পচা গন্ধে এলাকার মানুষ জানতে পারে বিষয়টি। সি মার্ডার’ হিসেবে পরিচিতি পায় ঘটনাটি। বাবুল আকতার তখন র‌্যাবে কর্মরত। নরসিংদী তার কর্মক্ষেত্র নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি চান নরসিংদীর ঘটনা নিয়ে কাজ করার। দিনের পর দিন রাতের পর রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে থাকেন বিষয়টি নিয়ে। অবশেষে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে বিরু নামে একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তিনি। বিরুকে ধরার জন্য তাকে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ হয়ে সিলেট ঘুরে ভৈরব আসতে হয়েছে। ভ্রমণ করতে হয়েছে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ। তার এ কর্মদক্ষতার জন্য তৎকালীন তত্ববাবধায়ক সরকার কর্তৃক তিনি প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল-সেবায় ভূষিত হন। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা থেকে স্কুলশিক্ষিকা তানিয়াকে কুয়াকাটায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে স্বামী তাকে ভাড়াটে খুনী দিয়ে খুন করায়। ভাড়াটে খুনী ছিল একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ড্রাইভার। শুধু এটুকু তথ্যের ওপর ভর করে খুনীকে ধরতে সক্ষম হন তিনি। খুনিকে ধরতে ঢাকা শহরের প্রতিটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে দিনের পর দিন ধরণা দিয়ে নিজের পরিচয় আড়াল করে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিন মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে ওই খুনিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তিনি।

সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বলেই অল্প সময়ের এ চাকরিজীবনে তিনি একবার পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ’বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল-বিপিএম [সাহসিকতা], দু’বার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক [পিপিএম], একবার আইজি ব্যাজ ও চারবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন। শেষ বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পরিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন পুলিশের মহাপরিদর্শক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘স্যার আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে সাহসী অফিসার।” প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে পিঠ চাপড়ে দিলেন তার।

বাবুল ভাই সম্প্রতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে উন্নীত হয়েছেন। এ খবর শোনার পর সারা দেশেই তাকে নিজ জেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য লবিং শুরু হয়ে যায়। স্বীকার করতে দোষ নেই, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)তে আনার জন্য আমরাও চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সফল হইনি। তিনি চলে গেছেন সমুদ্র পাড়ে, কক্সবাজার সদর জেলায়। তাকে বিদায় দেয়ার দিন কাঁদছে হাটহাজারীর মানুষ, কাঁদছেন বাবুল আক্তার। ক’দিন আগেও ফেসবুকের মাধ্যমে জানালেন তিনি সাগরপাড়ে গিয়েও মনটা বিশাল হয়নি এখনো, পাহাড়ের জন্য মন টানছে।

বাবুল ভাই-র এ টানটা অব্যাহত থাকুক। খুব স্বার্থপরের মতো শোনালো না, কথাটা? কী করবো বলেন, আমরা যে এমনই। না পেতে পেতে মনটাও কেমন জানি সংকীর্ণ হয়ে গেছে। বন্ধুত্বের টানটা এভাবে আগে যে অনুভব করিনি। দূরে গেলেই বুঝি টানটা এমন টানটান হয়ে পড়ে।

http://i.imgur.com/Wypcy.jpg
এখান থেকে কপি-পেস্ট

Calm... like a bomb.

Re: বাবুল আক্তার

কয়েকদিন আগে আমিও দেখেছিলাম। ঘটনা সত্য হলে তো...... clap clap

Re: বাবুল আক্তার

চেহেরাবই এ আগে আমি পড়ছিলাম, তবে চেহরা বইকে অনেকে গুজব বই বলে থাকে , তাই  খবরটা হজমে প্রবলেম হচ্ছে।

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বাবুল আক্তার

এই জাতীয় খবর পড়লে মনে হয় কোন ধরণের পাবলিসিটি স্টান্ট। দুর্ণীতিগ্রস্হ সিস্টেমে এই জাতের মানুষগুলোর টিকে থাকা এক কথায় অসম্ভব। কারণ বাবুল সাহেব সততা করতে গেলে তার অসৎ সহকর্মীদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবেন এটাই স্বাভাবিক। সহকর্মী সমস্যায় পড়লে হায়ারার্কি ধরে আরও অনেকের সমস্যা হবে। ফলে বাবুল সাহেব এত দিন বেঁচে আছেন এটা এক কথায় অসম্ভব। অথবা অসম্ভব তার নিষ্ঠা আর সততা। কোনটা সত্য জানি না।

কত কি শিখতে ইচ্ছা করে। এখনও শেখা হলো না কিছুই।

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বাবুল আক্তার

আবার নুতন করে ভাবতে শেখাল

roll

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৫-১০-২০১২ ১৮:৫০)

Re: বাবুল আক্তার

microqatar লিখেছেন:

চেহেরাবই এ আগে আমি পড়ছিলাম, তবে চেহরা বইকে অনেকে গুজব বই বলে থাকে , তাই  খবরটা হজমে প্রবলেম হচ্ছে।

না এটা পুরোপুরি গুজব না। আমিও প্রথমবার পড়ার পরে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলাম (চট্টগ্রামে থেকেও তাঁর নাম কোনোদিন শুনি নি), পরে গুগল করে নিশ্চিৎ হই। ইনি সাহসিকতার জন্য বেশ কয়েকবার পুরস্কৃত হয়েছিলেন। জানুরারীর একটি খবর:

কর্মরত অবস্থায় বীরত্বপূর্ণ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে মূল্যায়িত করা হয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের। দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)। এ বাহিনীর সবচেয়ে চৌকস, কর্মদক্ষ ও মেধাবী সদস্যই পান এ পদক। নিজের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতায় সেই পদক পরপর তিনবারই লাভ করেছেন বাবুল আক্তার। বাবুল আক্তার বর্তমানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। তার কর্মস্থল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে।
অপরাধ দমনে ধারাবাহিক সাফল্য এবং কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এএসপি বাবুল আক্তার এ বছর লাভ করেন পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম। এর আগের দু'বছর তিনি লাভ করেন রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)। পাঁচ বছরের চাকরি জীবনে তার তিনবার পদক পাওয়া পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে একটি মাইলফলক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পদক নেন বাবুল আক্তার। তার সঙ্গে আরও দুই পুলিশ সদস্য মরণোত্তর পদক পেয়েছেন। ওই দুই কর্মকর্তা হলেন ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান এবং অন্যজন বরিশালের এপিবিএন সদস্য মামুনুর রশিদ। সম্প্রতি চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন ঘটনার জন্ম দিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলেও ব্যতিক্রম ছিলেন বাবুল আক্তার। দায়িত্ব পালনের জন্য স্থান নয়, ব্যক্তি-মানসিকতাই গুরুত্বপূর্ণ_ সেটিই প্রমাণ করেছেন তিনি। তাই হাটহাজারীর মানুষের কাছে জনপ্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল। অতি কৌশলী অপরাধীও বাবুল আক্তারের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি। নারীবেশী পুরুষ চোর রোকসানা ওরফে কবীরসহ তার হাতে ধরা পড়েছে দুইশ'র বেশি চোর, ডাকাত, খুনি, অটোরিকশা চোর, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্তরা। গত বছর বছর হাটহাজারীতে দুর্ধর্ষ ১১ ডাকাত গ্রেফতার ও অসংখ্য অস্ত্র উদ্ধার করেন এই সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা।
বিপিএম পদক লাভের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বাবুল আক্তার বলেন, 'পুরস্কারের জন্য কাজ করি না। তবে কাজ করে পুরস্কার পেলে দায়িত্ব ও কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।'

সমকাল
পিএস: দু'টো লেখার লেখক একই ব্যক্তি (অন্তত: লেখার স্টাইল এবং স্তুতীবাক্য দেখে তাই মনে হচ্ছে)

এছাড়া, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে তাঁকে নিয়ে বেশ কিছু খবর রয়েছে। (সবগুলো খবরের কনটেন্ট প্রায় একই - বোঝাই যাচ্ছে এগুলো প্রেসরিলিজ ধরণের ম্যানুফেকচারড খবর)
আরো আছে কালের কন্ঠে এবং ইন্টারভিউ

আর সম্প্রতি এসপি বাবুল আক্তার রামু কান্ডের একজন হোতাকে গ্রেফতার করে নিউজে এসেছেন।

cslraju লিখেছেন:

এই জাতীয় খবর পড়লে মনে হয় কোন ধরণের পাবলিসিটি স্টান্ট। দুর্ণীতিগ্রস্হ সিস্টেমে এই জাতের মানুষগুলোর টিকে থাকা এক কথায় অসম্ভব। কারণ বাবুল সাহেব সততা করতে গেলে তার অসৎ সহকর্মীদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবেন এটাই স্বাভাবিক। সহকর্মী সমস্যায় পড়লে হায়ারার্কি ধরে আরও অনেকের সমস্যা হবে। ফলে বাবুল সাহেব এত দিন বেঁচে আছেন এটা এক কথায় অসম্ভব। অথবা অসম্ভব তার নিষ্ঠা আর সততা। কোনটা সত্য জানি না।

বাবুল আক্তার বেশ প্রচার প্রেমিক বোঝাই যাচ্ছে, নার্সিসিস্টিক প্রবণতা তাঁর মাঝে একটু বেশিই আছে মনে হচ্ছে। লাইমলাইটে থাকতে পছন্দ করেন। সাংবাদিকদের সাথে পারস্পরিক পিঠচুলকানীর ব্যবস্থা করে নিয়েছেন (ঐ অংশটুকু পড়ার সময় LA Confidential মুভিটা মনে পড়ে গিয়েছিলো  wink )

তবে যতদূর মনে হচ্ছে, তিনি কিছু না কিছু অবদান রাখছেন। (হতে পারে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি) তবুও দুর্নিতী আর অকর্মার ঢেঁকিতে ভরপুর পুলিস ফোর্সের দু একজন সিংঘাম বা চুলবুল পান্ডে কাজ করে একটু শোরগোল তুললে এমন কি ক্ষতি?

(অবশ্য তাঁর পুরস্কারের প্রায় সবই মনে হয় বর্তমান সরকারের আমলে... রাজনৈতিক স্টান্টবাজীও হতে পারে)

কর্ণেল গুলজারের পর আমাদের সশস্ত্র বাহিনীগুলোতে বেশ কিছু রোল মডেল খুব বেশি দরকার হয়ে পড়েছে।

We need heroes... and more heroes...

Why do we need heroes?
A society without heroes is one that produces small, selfish characters preoccupied with comfort and security, advancement, promotion and self-interest, and who will not live or die for something greater than themselves.

The Hero Project
"We have all kinds of potentials but each of us sees our potential that are most meaningful or worthy or development. Each one of us, when we choose which kind of excellence or excellences that matter most to us, we then find heroes who represent that kind of excellence."

"We largely define our ideals by the heroes we choose, and our ideals — things like courage, honor, and justice — largely define us. Our heroes are symbols for us of all the qualities we would like to possess and all the ambitions we would like to satisfy."

এটা ঠিক, গ্রাউন্ড ব্রেকিং তেমন বিরাট কিছু বাবুল আকতার করেন নি... তবে তাঁকে দেখে যদি সহকর্মীরা উদ্বুদ্ধ হয়, অথবা কোনো সাহসী, নীতিবান তরুণ যদি স্পৃহা খুঁজে পায় - বোধ করি লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই...

Calm... like a bomb.

Re: বাবুল আক্তার

(অবশ্য তাঁর পুরস্কারের প্রায় সবই মনে হয় বর্তমান সরকারের আমলে... রাজনৈতিক স্টান্টবাজীও হতে পারে)

এই লেখাটার কারণেই সংশয়ী মন নিশ্চিন্ত হতে পারল না। nailbiting

এটা ঠিক, গ্রাউন্ড ব্রেকিং তেমন বিরাট কিছু বাবুল আকতার করেন নি... তবে তাঁকে দেখে যদি সহকর্মীরা উদ্বুদ্ধ হয়, অথবা কোনো সাহসী, নীতিবান তরুণ যদি স্পৃহা খুঁজে পায় - বোধ করি লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই...

সব সময়ই দেশে ফরাসী বিপ্লবের মত কিছু ঘটবে আশা করি।কিন্তু বরাবরই পাঁকের মধ্য আটকে থাকা দেশের গতি প্রকৃতিতে আপনমনে গজরানো ছাড়া কিছু করার থাকে না।যদিও খবরটা সংশয়ের উর্ধ্বে নয় তাও কোথায় যেন আশার আলো দেখতে পেলাম। dream

hit like thunder and disappear like smoke

Re: বাবুল আক্তার

অনেক দিন পরে এতো বড় কোন লেখা পড়লাম

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বাবুল আক্তার

আসলি সিংঘাম clap নিকটাত্মীয় আছে পুলিশে।কি পরিমাণ প্রেসারে থাকতে হয় পুলিশে, সেটা আমি জানি। তারপরও বাবুল সাহেব যেসব কাজ করেছেন তা আসলেই প্রশংসার যোগ্য। সাংঘাতিকদের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার স্ট্র্যাটেজিটাও বেশ ভালো thumbs_up চাল্লু সিংঘাম cool

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১০

Re: বাবুল আক্তার

খবর সত্যি হলে স্যালুট এই অফিসার এর জন্য।  clap। ব্রাসু ভাইকে ধন্যবাদ খবরটি শেয়ার করার জন্য  smile

জ্ঞান হোক উম্মুক্ত

১১

Re: বাবুল আক্তার

ভাল লাগল। smile

invarbrass লিখেছেন:

তবে তাঁকে দেখে যদি সহকর্মীরা উদ্বুদ্ধ হয়, অথবা কোনো সাহসী, নীতিবান তরুণ যদি স্পৃহা খুঁজে পায় - বোধ করি লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই...

সহমত। smile

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (০৫-০৬-২০১৬ ১২:০৬)

Re: বাবুল আক্তার

crying crying crying crying crying crying crying crying

এমন ভালো মানুষের স্ত্রী কে আজকে জঙ্গী/সন্ত্রাসীদের হাতে হত্যার শিকার হলো। বাংলাদেশে সৎ মানুষের কোন দাম নাই sad

চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে (৪০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার সকাল সাতটার দিকে বাসা থেকে ৩০০ গজ দূরত্বে নগরের পাঁচলাইশ থানার জিইসি মোড়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে গিয়েছিলেন তিনি।

জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এসপির সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এই দুর্বৃত্তরাও মোটরসাইকেলে করে এসেছিল।

নগরের ও আর নিজাম আবাসিক এলাকার ‘ইক্যুটি সেনটিয়াম’ নামের একটি বাড়ির সপ্তম তলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন বাবুল আক্তার। বাসায় তাঁর স্ত্রী, ছেলে আকতার মাহমুদ মাহির, মেয়ে তাবাসসুম তাজনীন ও গৃহকর্মী ফাতেমা আক্তার ছিলেন।

আজ সকাল সাড়ে সাতটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জিইসি মোড় এলাকায় রাস্তায় পড়ে আছে বাবুল আক্তারের স্ত্রীর মরদেহ। পরনে কালো বোরকা। মাথায় হিজাব। লাশটিকে ঘিরে আছে লোকজন।


সকাল পৌনে আটটায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে চারপাশে ঘিরে রাখেন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহারসহ নগর ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পর সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মিতশ্রী বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, নিহত মাহমুদার মাথার বাঁ পাশে একটি ও শরীরে একটি গুলি লেগেছে। এ ছাড়া সেখান থেকে অব্যবহৃত তিনটি বুলেট উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ৭.৬৫ বোর পিস্তলের গুলি হতে পারে। হত্যাকারীরা খুব কাছ থেকে গুলি করেছে। আলামত সংগ্রহ শেষে সকাল সাড়ে আটটায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।

একই তথ্য জানালেন পিবিআই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত এবং তিনটি অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে আসা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ জানান, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবুল আক্তারের স্ত্রী বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে তাঁর ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে জিইসি মোড়ে আসছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে এসে তিন যুবক প্রথমে বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে ধাক্কা দেয়। এরপর তাদের একজন তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি করে গোলপাহাড়ের দিকে চলে যায়। চলে যাওয়ায় সময় তারা একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এগুলো থেকে ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থলে আসা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার মো. ইকবাল বাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কে বা কারা কী জন্য এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। বাবুল আক্তার যেহেতু জঙ্গিদের গ্রেপ্তার ও অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন, সে জন্য জঙ্গিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। সব কটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’

এ দিকে আজ সকাল নয়টায় ঘটনাস্থলের পাশে বাবুল আক্তারের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ছেলে আকতার মাহমুদ কাঁদছে আর বলছে, ‘আম্মু কোথায়? আম্মু কোথায়?’ আর নির্বাক হয়ে আছে তার ছোট বোন তাবাসসুম।

ঘটনাস্থলে পড়ে আছে মাহমুদা খানমের লাশ। হলুদ ফিতা দিয়ে চারদিক ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবিটি সকালে তোলা। ছবি: সৌরভ দাশবাসার গৃহকর্মী ফাতেমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকালে আকতার মাহমুদকে স্কুলবাসে তুলে দিতে সকাল পৌনে সাতটায় বের হন মাহমুদা খানম। বাসার দারোয়ান আবদুস সাত্তার সাতটার দিকে বাসায় খবর দেন মাহমুদাকে কে বা কারা গুলি করেছে।

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম। ছবিটি অ্যালবাম থেকে নেওয়া।দারোয়ান আবদুস সাত্তার জানান, বাসার সামনে জিই সিমোড়-গোলপাহাড় সড়কের জিইসি মোড়ে বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে কে বা কারা গুলি করেছে—লোকজনের কাছ থেকে এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি দেখতে পান, রাস্তায় বোরকা পরা অবস্থায় পড়ে আছেন বাবুল আক্তারের স্ত্রী। আর আকতার মাহমুদের পুরো শরীর রক্তে ভেজা। মাহমুদা খানমকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করলে লোকজন জানান, তিনি মারা গেছেন। পরে তিনি আকতার মাহমুদকে বাসায় নিয়ে আসেন।
সম্প্রতি পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বাবুল আক্তার গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে যোগদান করেন। তাঁকে নতুন কোনো জায়গায় পদায়ন করা হয়নি। এর আগে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী অসুস্থ, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে—এমন খবর পেয়ে তিনি হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছান। এসেই তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে স্ত্রীকে খুঁজতে থাকেন। সবার কাছে জানতে চাইছিলেন, তাঁর স্ত্রীর কী হয়েছে। ২০০৭ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।

বেলা ১১টায় হাসপাতালে আসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না; নিরপরাধ কাউকে খুন করা। এটি দিয়ে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করো হয়েছে। জনগণ ও প্রশাসন মিলে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে বাবুল আক্তারকে অনেকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার যেন এখানেই শেষ হয়। তিনি আশা করেন, অচিরেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/a … F%E0%A6%BE

১৩

Re: বাবুল আক্তার

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

তিনি আশা করেন, অচিরেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

তারপর? আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে  angry

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (০৫-০৬-২০১৬ ২২:৪৪)

Re: বাবুল আক্তার

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

তারপর? আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে

সেই ভয় নাই। এই কেসে কেউ ধরা খেলে ডাইরেক্ট ক্রসফায়ারে যাবে।

১৫

Re: বাবুল আক্তার

http://www.sheershanewsbd.com/2016/06/06/130628

১৬

Re: বাবুল আক্তার

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত করেছেন আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/a … 2%E0%A6%B6

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: বাবুল আক্তার

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত করেছেন আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/a … 2%E0%A6%B6

অসম্ভব কিছু না!
আজকাল তো মোসাদের গোয়েন্দারা ষড়যন্ত্রমূলক মিটিংএর পর ফটোসেশন করে ফেসবুকে ছবিও আপলোড করে  lol

১৮

Re: বাবুল আক্তার

চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন মিতু হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । গ্রেফতারকৃতের নাম আবু নাসের গুন্নু (৪০)।http://www.sheershanewsbd.com/2016/06/08/130882

১৯

Re: বাবুল আক্তার

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমত উল্লাহ এমপি’র নেতৃত্বে কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর গুলশানে পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেছে।, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমত উল্লাহ এমপি বলেন, সম্প্রতি যেসব হত্যাকাণ্ডঘটছে, সেই হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের আইএসআই ও ইসরায়েলের মোসাদ ষড়যন্ত্র করছে। দেশে নানা ধরনের এই ষড়যন্ত্রের কারণেই এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে।

এসময় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম  উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদ খান বলেন, এটা একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল।

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২৫-০৬-২০১৬ ১৭:৪১)

Re: বাবুল আক্তার

মাথা নষ্ট ম্যান !!! বসুন্ধরা গ্রুপের দুই মিডিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিন ও banglanews24.com দাবী করছে যে,পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজে পরিকল্পনা করে স্ত্রীকে হত্যা করিয়েছেন বাবুল আক্তার

আপটেডঃ এখন এই দুই মিডিয়া তাদের খবর মুছে দিয়েছে। তাই আমিও নীচের খবর মুছে দিলাম। না হলে দেখা যাবে তথ্য প্রযুক্তি আইনে আমাকেই ধরেছে

আগের নিউজ মুছে দিয়েছে banglanews24.com
http://www.banglanews24.com/cat/news/49 … 4.facebook

বাংলাদেশ প্রতিদিন http://www.bd-pratidin.com/city-news/2016/06/25/153459